| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
৩ বেলা খেতে পারার ইচ্ছায়, একটু স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টায় দিদিমণিরা ছুটে যায় গার্মেন্টসে। বছর খানেক আগেও যাদের মাসিক বেতন ছিল ১৬৫০ টাকা, পরিবর্তিত কাঠামোতে বর্তমানেএকজন শ্রমিকের বেতন ৩১৫০ টাকা মাত্র।
আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন এই দিদিমণিরা মাসে যা বেতন পান, তা আপনার লাইফ স্টাইলের তুলনায় কতটুকু?
১. আপনি যদি নিয়মিত ধূমপান করে থাকেন তাহলে এইচা-বিড়ি বাবদ আপনি মাসে প্রায় ৩০০০ (১০০*৩০) টাকা (+/-) খরচ করেন।
২. আপনার ব্র্যান্ডের শার্ট / প্যান্ট/ জুতার বা মেয়েদের ক্ষেত্রে একটি ড্রেসের মূল্য।
৩. প্রিয় জনকে যে গিফট দেন সেটার মূল্য।
৪. একজন গার্মেন্টস মালিক ,কর্মকর্তা কিংবা আপনার এক রাতের পানাহারের বিল দিয়ে কত জন দিদিমনির মাস চলে যায়?
৫. কারও মাসিক মোবাইল বিল এর সমান বা বেশী।
৬. আপনার ব্যবহৃত পারফিউম এর দাম এর চেয়ে বেশী হতে পার.
৭. বন্ধুদের মাঝে আড্ডায় প্রতি মাসে যে খরচ করেন সেটা দিয়ে দিদিমণির সংসার একটি মাস দিব্বি চলে যায়।
অতএব বুঝাই যাচ্ছে, আপনার ,আমার কাছে এদের জীবনের কি ই বা মূল্য আছে!
তাজরিন গার্মেন্টস এর মালিককে বাঁচানোর জন্য বলাহয়, এভাবে উদ্যোক্তাদের ধরে বিচার করলে দেশের গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।
পত্রিকা রিপোর্ট করে কিংবা অর্থমন্ত্রী বা ব্যবসায়ী সংগঠন ব্রিফ দেয় যে, আমরা এতএত ডলার কামাই করে ফেলছি। কাজ করে কারা, বঞ্ছিত হয় কারা, আর ফায়দা লুটে কারা? সকল সরকারের সময় এটাই হয়ে আসছে এবং হবেও। ৯২১ জনের ও বেশী মৃতদেহ পাওয়া গেসে, এখনও নিখোঁজ আছে অনেকেই। অথচ এদের নিয়ে রাজনীতিশুরু হয়ে গেসে।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এতোগুলো মানুষ বাঁচানো "বাবু " কে বাঁচাতে পারি না। আরও যে ক'জন বাবু আছেন, তাদের বাঁচানোর কোন পরিকল্পনাও নাই আমাদের। মিডিয়া আমাদের যা বুঝায় তাই বুঝি, যা খেতে বলে সেটাই খাই। যখন কাঁদতে বলে কাঁদি, হাঁসতে বললে হাঁসি।
রানার বিরুদ্ধে মামালায় যে অভিযোগুলো আনা হয়েছে তাতে তার প্রাপ্য সাঁজা দেয়া যাবে না। হয়তো সর্বোচ্চ ৫/৭ বছর জেল হতে পারে। প্রথমেই তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দেয়া হায় নাই। ২ দিন আগে এক শ্রমিকের বউ হত্যা মামলা করে রানার বিরুদ্ধে (এই মামলার বিস্তারিত জানতে পারি নাই)। হাজার খানেক মানুষ মারার পরেও রানাদের সাঁজা দিতে আমাদের লুকোচুরি। যারা এই রকম শত শত রানা তৈরি করে, সেই হারামীদের কোন কালেই শাস্তি হয় না। সেই গং "জং" দের শাস্তি হয় না। সব সময়ই তারা রাজনৈতিক শেল্টার পেয়ে যায়, পাবেও।
আর,দেশে কিছু মাল আছে যারা সারা বছর শ্রমিকের অধিকার নিয়ে বুলিছাড়ে, অথচ কোনদিন দেখি নাই এই কমোরেডদের এদের পাশে গিয়ে দাড়াতে, এদের অধিকার নিয়ে আন্দোলন করতে (বিদেশের দালালী না!!)। অতএব আমি, আপ্নি,এরা ... সবাই মহা চুতিয়া।
..............................................................................
দিদিমণি, দিদিমণি
সেলাই দিদিমণি
ছল ছল চোখে, সেই দিদিমণি।।
উদয়-অস্ত খাট তুমি,ঝরাও দেহের ঘাম
মহাজন দেয় কি তোমার ঘামের সঠিক দাম? (-দিদিমণি,নগরবাউল)
©somewhere in net ltd.