নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শব্দকবিতা : শব্দেই দৃশ্য, শব্দেই অনুভূতি \n\[email protected]

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই

দুঃখের কবিতাই শ্রেষ্ঠ কবিতা। ভালোবাসা হলো দুঃখ, এক ঘরে কবিতা ও নারী।

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই › বিস্তারিত পোস্টঃ

স্বরলিপি দেয়ানেয়া || কালজয়ী রোমান্টিক ছায়াছবির সেরা রোমান্টিক গান || নিজেকে উত্তম কুমার বা রাজ্জাক বানানোর সহজ পন্থা

২৯ শে জুন, ২০২০ রাত ১২:৪২

আজ বাংলাদেশের ছায়াছবি ‘স্বরলিপি’ ও ভারতের ছায়াছবি ‘দেয়া নেয়া’র কয়েকটি গান শেয়ার করবো, যেগুলো গান হিসাবে কালজয়ী, এবং রোমান্টিকতায় সেরা। এই গান এবং ছবির কিছু বিশেষত্ব আছে, যা এই পোস্ট পড়ার পর বোঝা যাবে এবং সবাই অবাক এবং চমৎকৃত হবেন বলে আশা করছি। এ গানগুলো শোনার আগে ছবি দুটোর গল্পটা শোনা যাক। এগুলো খুব পুরোনো ছবি, অনেকেই হয়ত দেখেছেন, তাই কাহিনি অসম্পূর্ণ রাখছি না। পুরোনো বই কিংবা পুরোনো ছায়াছবির রিভিউতে কাহিনি অসম্পূর্ণ রাখা হলে ওগুলো পড়তে আমার বিরক্ত লাগে। সাম্প্রতিক কোনো এক অতি পুরাতন বইয়ের রিভিউ পোস্টে অনুরোধ করার পরও কোনো একজন রহস্যটা খুলে বলেন নি বলে বড্ড অভিমানে মেজাজটা তিরিক্ষি হয়ে আছে। যাই হোক, এই গল্প পড়ার পর ছবিটা না দেখলেও চলবে। আর যদি দেখেনও, মজা আরো বেশি পাবেন বলেই আমি মনে করি।



ছবিসূত্র : ছায়াছবি 'দেয়া নেয়া' থেকে নিজস্ব স্ক্রিনশট

চলুন, গল্প শুনি।

রাজ্জাকের বাবা একজন বিরাট শিল্পপতি। নিজের কাজে সহায়তা করার জন্য বাবা রাজ্জাককে তার অফিসে নিয়োগ দিয়েছেন। কিন্তু রাজ্জাক অফিশিয়াল কামকাজ বন্ধ করে সারাক্ষণ গানের পেছনে লেগে থাকেন এবং বাবার অগোচরে সঙ্গীত জগতে নাম করতে থাকেন; একসময় একজন সঙ্গীত পরিচালকও হয়ে ওঠেন। দুটো গান রেকর্ড করার জন্য তড়িঘড়ি করে ঢাকা যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে থাকেন রাজ্জাক। বাবার ভয়ে বাবাকে না বলেই লা লা লা না না না সুরে গুনগুন করতে করতে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথে বাবার সামনে পড়েন। ব্যাঘ্রমূর্তি বাবাকে দেখে রজ্জাক ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যান। এ সময়ে বাবা-পুত্রের মধ্যে বেশকিছু উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়, যার উপর ভিত্তি করে রাজ্জাকের জীবন অন্যদিকে মোড় নেয়। যথারীতি, অসহায়া জননী বাবা-ছেলে দুজনকেই শান্ত করার যথাসাধ্য চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
গম্ভীর ও রাগত স্বরে বাবা জিজ্ঞাসা করেন, ‘কোথায় যাওয়া হচ্ছে?’
মাননীয় স্পিকার বনে যাওয়া রাজ্জাক আমতা আমতা করে কোনোমতে জবাব দেন, ‘ঢাকায়’।
বাবা কঠিন সুরে বলেন, ‘পড়ে যেও।‘ তারপর সামনে যেতে যেতে রাজ্জাককে বলেন, ‘এদিকে এসো।‘ এরপর ঘুরে দাঁড়িয়ে বলেন, ‘ব্রিফকেসটা রাখো’।
ব্রিফকেসটা নীচে রাখার পর বাবা জিজ্ঞাসা করেন, ‘অফিসে যাও নি কেন?’
- ‘একটু কাজ ছিল।‘
- ‘হেল উইথ ইয়োর কাজ!’ বাবা গর্জে ওঠেন।
- ‘এফএনএফ ব্র্যান্ডের বাজেটটা আজ হ্যান্ড ওভার করার কথা ছিল। করোনি কেন?’ তারপর বাবা তার পকেট থেকে একগাঁদা কাগজ বের করতে করতে বলেন, ‘আমার অফিসের কাগজগুলো তোমার বাঁদরামো করার জন্য নয়। এসব হিজিবিজি করে রেখেছ। এগুলো কী?’ বলেই কাগজের গাঁদা রাজ্জাকের দিকে ছুঁড়ে মারেন। রাজ্জাক দক্ষ ফিল্ডারের মতো ক্যাচ তুলে নেন। রাজ্জাক পাতাগুলো দেখে কাঁপা স্বরে বলেন, ‘স্বরলিপি!’ কথা শেষ হওয়ার আগেই বাবা ধমকে ওঠেন, ‘ড্যাম ইয়োর স্বরলিপি!’
রাজ্জাকের মা ভয়ার্ত স্বরে স্বামীকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘কী হয়েছে? আমাকে বলো।‘
বাবা বলেন, ‘তোমার এই গুণধর ছেলের জন্য আজ আমার নেট ১ লাখ টাকা লস হয়ে গেল।‘ ক্ষিপ্ত স্বরে রাজ্জাকের উদ্দেশে বাবা বলতে থাকেন, ‘একটা টাকা রোজগার করার নামগন্ধ নেই, টাকা নষ্ট করতে লজ্জা করে না তোমার?’
রাজ্জাক একটু সাহসী হয়ে ওঠেন। কণ্ঠে সামান্য জিদ এনে বলেন, ‘ঐসব টাকা রোজগারের ফন্দি ফিকির আমার মাথায় আসে না।‘
বাবা পালটা জিজ্ঞাসা করেন, ‘ফূর্তি করে ঘুরে বেড়িয়ে টাকা নষ্ট করার খুব ফন্দি ফিকির মাথায় আসে, না?’
- ‘আমি ফূর্তি করে ঘুরে বেড়াই নি। আমার গানের রেকর্ডিং ছিল।‘
- ‘রেকর্ডিং?’ বাবা আশ্চর্য হন। ‘কীসের রেকর্ডিং?’
- ‘গানের!’
- ‘গান!!’ বাবা ধিক্কার দিয়ে ওঠেন, ‘তুমি গান করো? কোনো ভদ্রলোক নিজের কাজকম্ম ফেলে রেখে গান করতে পারে? ছিঃ! তোমাকে আমার নিজের ছেলে বলে ভাবতেও আই ফিল অ্যাশেইম্‌ড।'
- ‘বাবা!!’ রাজ্জাকের গলায় আর্ত স্বর ফুটে ওঠে।
বাবার কণ্ঠে গান সম্পর্কে অবজ্ঞা প্রকাশ পেতে থাকে, ‘গান! গান হলো ভিখিরির ভিক্ষা আদায়ের ফিকির। মায়ে তাড়ানো বাপে খেদানো রংবাজ বেকার ছোকরাদের সময় কাটানোর ফন্দি।‘
- ‘গান সম্বন্ধে আপনার এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।‘ বাবার কথায় আহত স্বরে রাজ্জাক বলেন।
- ‘নৌ। আই অ্যাম সেন্ট পার্সেন্ট রাইট।‘
রাজ্জাক একটু চড়া সুরে বলেন, ‘সারাজীবন লোহালক্কড় ঘেঁটে আর টাকা রোজগারের ফন্দি ফিকির করে গান বুঝবার মতো মনের অবস্থা আপনার নেই।‘
- ‘বাপের মুখের উপর এসব বড়ো বড়ো কথা বলার আগে বাপের শেলটারটি ছেড়ে দিয়ে বাইরে গিয়ে কিছু করে দেখাও।‘ বাবা দাঁত কটমটিয়ে বলেন।
- ‘ডু ইয়্যু মিন ইট?’ রাজ্জাক বলেন।
- ‘ইয়েস। আই মিন হোয়াট আই সে।‘ বাবার উত্তর।
- ‘বেশ! আমি প্রমাণ করবো আপনার এ ধারণা ভুল। গান যারা গায় তারা শিল্পী। তারা ভিখিরিও নয়, রংবাজ বেকারও নয়। এ আমার জীবনের প্রতি, আমার সাধনার প্রতি মস্ত বড়ো অপমান। এত বড়ো অপমান সহ্য করে এ বাড়িতে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব না।‘
এই বলে ব্রিফকেইস হাতে নিয়ে হড়হড় করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান রাজ্জাক। তার মা পেছন থেকে ‘খোকা খোকা’ বলে অনেক ডাকাডাকি করলেন, কিন্তু একগুঁয়ে রাজ্জাক আর পেছনে ফিরে তাকালেন না।

রাজ্জাক ঢাকা যাওয়ার পথে বন্ধুসুলভ বড়ো ভাই ও কবি-গীতিকার আনোয়ার হোসেনের সাথে দেখা করে যান। আনোয়ার হোসেন যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগী। তার কলমের খোঁচায় বাংলা গান আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এই আনোয়ার হোসেনের গান গেয়েই রাজ্জাক এত উপরে উঠে এসেছেন। কোনোমতেই গান লেখা ছাড়া যাবে না, এই অনুরোধ রেখে রাজ্জাক ঢাকা চলে যান।

ঢাকায় এসে আনোয়ার ও আশীষ কুমার লৌহ দম্পতির বাসায় ওঠেন রাজ্জাক। এরা দুজনই রাজ্জাকের ক্লাসমেট। ছাত্রজীবনে রাজ্জাক আর আনোয়ারা একসাথে স্টেজে গান গাইতেন। এই তিনজনের প্রাণখোলা রোমান্টিকতাপূর্ণ বন্ধুত্ব দর্শকদের অনেক আনন্দ দেয়।

আশীষ কুমার লৌহ একজন গাড়ির মেকানিক্স। তার একটা গ্যারেজ আছে। একদিন রাজ্জাক বন্ধু লৌহের সাথে গ্যারেজে ছিলেন। তার নিজেরও একটা গাড়ি ছিল, ছবির শুরুতে ক্রেডিট লাইন দেখানোর সময় স্ক্রিনে দেখা যায়। তার গাড়িঘোড়ার কলকব্জার উপর ভালো জ্ঞান আছে ধরে নেয়া যায়। তো, সেই গ্যারেজে কাজ করার সময় জনৈক ড্রাইভার দৌড়ে এসে জানায়, পথিমধ্যে তার মালিকের গাড়িটা নষ্ট হয়ে গেছে। রাজ্জাককে মেকানিক্‌স ভেবে তাকে পেঁচাইয়া ধইরা বলে, ‘আইজ আপনার কোনো কথাই শুনবো না। আপনাকে যাইতেই হবে ঐ গাড়ি সাইরা দেওনের লাইগা।‘ তারপর রাজ্জাকরে সাইকেলে কইরা নিয়া যায়। গাড়ির কাছে যাওয়ার পর রাজ্জাক দেখেন, সুন্দরী ববিতা গাড়িতে বসা, আর গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে আছে ববিতার নানা।
‘গাড়ি সারতে পারবা তো? নাকি পার্টস চুরিটুরি কইরা নিয়া যাইবা?’ রাজ্জাকের উদ্দেশে এরকম অপমানজনক ও অবজ্ঞাসূচক কথা বলতে থাকেন সুন্দরী যৌবনবতী ববিতা। কিন্তু, এই অবজ্ঞাকে থোরাই কেয়ার করেন রাজ্জাক। কনফিডেন্সের সাথে গাড়ি ঠিক করে ফেলেন, ড্রাইভিং সিটে বসে স্টার্ট দিয়ে ববিবতাকে নিয়ে ভোঁ দৌড়!
না, ওটা টেস্টিং ছিল।
মেকানিক্স হিসাবে রাজ্জাকের পারফরমেন্সে ববিতার নানা মুগ্ধ। তাকে চাকরির অফার দিয়ে পরের দিন আসতে বলেন। রাজ্জাকও সুন্দরী ববিতাকে দেখে মনে মনে একটা রোমান্টিক রহস্যগেইম খেলার প্ল্যান করেন। এ সময় রাজ্জাক তার নিজের নাম ‘হৃদয় হরণ’ বলে জানান।
পরের দিন বাসায় এসে হৃদয় হরণ তাজ্জব! জনাবা ববিতা অত্যন্ত সঙ্গীতামোদী এক যুবতী বটেন। হৃদয় হরণ সবচাইতে বেশি অবাক হলেন, যখন দেখলেন জনাবা ববিতা পিয়ানোতে যে গানটি তুলেছেন, সেটি স্বয়ং রাজ্জাক ভাইয়ের হিট হওয়া গান। কথাচ্ছলে নানা হৃদয় হরণকে জানিয়ে দিলেন, বিখ্যাত গায়ক রাজ্জাক ভাই হলেন ববিতা ম্যাডামের মোস্ট ফেভারিট সিঙ্গার।

এরপর কাহিনি ঘনীভূত হতে থাকে। ববিতা ম্যাডাম নায়করাজ রাজ্জাকের সাক্ষাৎ লাভের জন্য অনেক চেষ্টা তদবির করেও ব্যর্থ হন। আর হৃদয় হরণ? সে হইল গিয়া টেপা-টেপির বাপ। কিছুদিন পর পর মনিবের কাছ থেকে ছুটি নিয়া পরিবারের কাছে যান শ্রান্তি বিনোদনের জন্য। আসলে ব্যাপারটা হলো, যখন তার রেডিওতে গানের প্রোগ্রাম থাকে, তখন ক্যাজুয়াল লিভ বা সি লিভ নিয়া রেডিও স্টেশনে যান রাজ্জাক। রেডিওতে গান গাওয়ার সময় ববিতা তার এক বান্ধবীসহ গলাগলি ধরে একসাথে রেডিওর লাইভ গান শুনতে থাকেন। ঐ সময়ে টিভিতে গানের প্রোগ্রাম লাইভ দেখানোর সুযোগ ছিল না বলে ববিতা সরাসরি রাজ্জাককে টিভিতে দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
ববিতা ম্যাডামের অবস্থা খুব কাহিল; রাজ্জাক ভাইয়ের প্রেমে হাবুডুবু খেতে খেতে তার মরে যাওয়ার মতো অবস্থা। কোনোভাবেই দেখা মিলছে না প্রিয়তম সঙ্গীতশিল্পী রাজ্জাকের।

সেই সুবর্ণ সুযোগ একদিন এসে গেল। কীভাবে? সেটাই বলছি।

রাজ্জাকের বন্ধু যক্ষ্মাক্রান্ত আনোয়ার হোসেনের অবস্থা খুব খারাপ। তার চিকিৎসার খরচ যোগানোর জন্য একটা কনসার্টের আয়োজন করা হলো। এই প্রথমবারের মতো রাজ্জাক জনসমক্ষে আসবেন। এই খবরে ববিতার আর হুঁশ থাকে না।
ঐদিকে হৃদয় হরণ বেটা কী করেছে, জানেন? সে হঠাৎ বাড়ি থেকে হাওয়া। কেউ জানে না সে কোথায় গেছে। এ ব্যাপারটায় ম্যাডাম ববিতা হৃদয় হরণের উপর যারপরনাই ক্ষুব্ধ। বাড়ির ড্রাইভার এত স্টুপিড হইলে কি চলে?

অডিটোরিয়াম কানায় কানায় ভর্তি। রাজ্জাককে খুব কাছে থেকে সামনাসামনি দেখার জন্য একেবারে প্রথম সারি ফ্রন্ট স্টলে গিয়ে বসেছেন সুন্দরী সেলিব্রেটি কালজয়ী নায়িকা ববিতা। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বাজছে। পর্দা ফাঁক হচ্ছে ধীরে ধীরে। ঐ তো প্রিয়তম গায়ক রাজ্জাক ভাই ধীরে ধীরে হেঁটে আসছেন মাইক্রোফোন স্ট্যান্ডের দিকে।
কিন্তু একি! একি! ববিতা চমকে লাফিয়ে উঠেন।
হৃদয় হরণ! হৃদয় হরণ কেন স্টেজে, মাইক্রোফোনের পেছনে? সখীরা অশান্ত ববিতার হাত ধরে বসিয়ে শান্ত করায়।
হৃদয় হরণ গান গেয়ে উঠলেন তার হৃদয় হরণ করা সুরে। এই গান শুনতে শুনতেই ববিতা ম্যাডাম সমস্ত রহস্য বুঝে ফেলেন। হরণ! দাঁড়াও! আজকে বাড়িতে আইসা লও। নিজেরে টেপাটেপির বাপ বলার আর জায়গা পাও না! আজকে তোমার একদিন কী আমার একদিন!

ঐদিকে ঘটনা বহুদূর এগিয়েছে। রাজ্জাকের বাবা রাজ্জাকের খোঁজে পুলিশ লাগিয়েছেন। পুলিশ একদিন ফোন করে রাজ্জাকের বাবাকে জানান, যে শিল্পী আজ গান গাইবেন, তার চেহারা আপনার পুলা রাজ্জাকের মতো। এ কথা শুনে রাজ্জাকের বাবা আর মা দুজনে ঢাকায় এসে ওঠেন তাদের বাল্যবন্ধুর বাসায়। বাল্যবন্ধুটা কে, নিশ্চয়ই বুঝেছেন! বাল্যবন্ধু হলো ববিতার নানা।
তো, রহস্য উন্মোচিত হলো। নায়ক-নায়িকা, তাদের বন্ধু, নানা, বাবা-মা একসাথে হওয়ার পর অনেক রোমান্টিকতার মধ্য দিয়ে রাজ্জাক-ববিতার প্রেম বিয়েতে গড়ায়।

এই যে এতক্ষণ যে ছবিটি দেখলেন, এটা বাংলাদেশের ছায়াছবি ১৯৭০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘স্বরলিপি’র গল্প। ঠিক এই গল্পের মধ্যে রাজ্জাকের জায়গায় উত্তম কুমার এবং ববিতার জায়গায় লাবণ্যময়ী তনুজার নাম বসিয়ে দিন; ঢাকার জায়গায় কলকাতা। অন্যান্য নামগুলো ফিলার হিসাবে যদুমধু দিয়া পূরণ করে নিলে যে গল্পটি পাবেন, সেটি হলো ১৯৬৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কলকাতার ছায়াছবি ‘দেয়া নেয়া’।

দুটি ছবির কাহিনি অভিন্ন তো বটেই, কোথাও কোথাও ডায়লগগুলোও হুবহু এক পাওয়া যায়। চিত্রায়নের সিকোয়েন্সও অভিন্ন। আমার জানা নাই, ‘স্বরলিপি’ কলকাতার ‘দেয়া নেয়া’র নকল ছবি, নাকি কপিরাইটপ্রাপ্ত ছবি। আইএমডিবি’র তথ্যে এটা পাওয়া যায় নি। কারো জানা থাকলে প্লিজ জানাবেন।

এখানে রাজ্জাকের গাওয়া প্রথম গানটি দেখুন- গানেরি খাতায় স্বরলিপি লিখে - রেডিওতে গায়কের নাম ঘোষণা করা হচ্ছে। অন্যত্র, উত্তম কুমার গাইলেন জীবন খাতার প্রতি পাতায়। স্টাইল অভিন্ন। তনুজার জীবন খাতার প্রতি পাতায় এবং ববিতার গানেরি খাতায় স্বরলিপি লিখে লিখেও একইভাবে চিত্রায়ন করা হয়েছে, অর্থাৎ স্টাইল অভিন্ন। এই গানগুলো মজা করে যাতে দেখতে পারেন, সেজন্য শেয়ার করলাম নীচে। সব শেষে আছে রুনা লায়লা ও আরতি মুখোপাধ্যায়ের গানের অংশকে একসাথে করে বানানো ভিডিও, যাতে কন্ঠ অদল-বদল করা হয়েছে (রিমিক্সিং)।

উল্লেখ্য, এই ছবির "গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে" গানটি দিয়েই বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে প্রথম নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন রুনা লায়লা। গানটি রেকর্ডকালীন সময়ে রুনা পাকিস্তানে বসবাস করতেন এবং গানটি লাহোরে রেকর্ড করা হয়।

স্বরলিপি’র ভালো প্রিন্ট ইউটিউবে নাই। সেই তুলনায় ‘দেয়া নেয়া’র প্রিন্ট অনেকগুণ ভালো। এই ঘরেন্টাইন কালে ছবিদুটো অবশ্যই দেখবেন। মেয়েরা নিজেদের ববিতা বা তনুজা ভাববেন কিনা জানি না, তবে, ছেলেরা নিজেকে নায়করাজ উত্তম কুমার বা মহানায়ক রাজ্জাক অবশ্যই ভাববেন, সে ব্যাপারে সন্দেহ নাই :)

এক্ষণে, কেউ যদি আমার মতো গানের পাগল হইয়া থাকেন, ব্যবসা-বাণিজ্য-চাকরি-বাকরিতে মন নাই (যদিও আমাকে গায়ে খেটে চাকরি করেই খেতে হচ্ছে), বাবার অগাধ সম্পত্তিকে বৃদ্ধাঙুল দেখিয়ে নিজের কোটি টাকার ব্যাংক ব্যালেন্স নিয়া ঢাকা শহরে উঠতে পারেন। কিছুদিন ম্যাকানিক্সের কাজ করতে করতে গাড়িওয়ালা কাউকে পেয়ে যাবেন; তখন ড্রাইভারের চাকরি নিয়া ঢেমাঢেমির বাবা সাইজা বাকি অংশ মহানায়ক রাজ্জাকের মতো চালাইয়া গেলেই আপনি সাকসেস।


গানেরি খাতায় স্বরলিপি লিখে - মাহমুদুন্নবী


জীবন খাতার প্রতি পাতায় - শ্যামল মিত্র


গানেরি খাতায় স্বরলিপি লিখে - রুনা লায়লা


জীবন খাতার প্রতি পাতায় - আরতি মুখোপাধ্যায়


জীবন পাতার পাতার প্রতি খাতায় - গানেরি খাতায় স্বরলিপি লিখে - রুনা লায়লা - আরতি মুখোপাধ্যায় ও শ্যামল মিত্র



মন্তব্য ৫০ টি রেটিং +৭/-০

মন্তব্য (৫০) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে জুন, ২০২০ রাত ১২:৫৪

শায়মা বলেছেন: সবচেয়ে সুন্দর গানেরও খাতায় স্বরলিপি লিখে .......

২৯ শে জুন, ২০২০ রাত ১:০৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: প্রথম গানেই রুনা লায়লা তখনকার প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিলেন।

২| ২৯ শে জুন, ২০২০ রাত ১:০৯

নেওয়াজ আলি বলেছেন: অনন্য, অপূর্ব  l বিমোহিত  ।

২৯ শে জুন, ২০২০ রাত ১:১১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: এই গভীর রাত্রিতে আপনাকে ব্লগে উপস্থিত দেখে আমিও বিমোহিত। কমেন্টে মুগ্ধ। ধন্যবাদ নেওয়াজ আলি ভাই।

৩| ২৯ শে জুন, ২০২০ রাত ১:১৮

কল্পদ্রুম বলেছেন: "গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে' গানটা কেন জানি ছোটবেলাতেই ভালো লেগে গেছিলো।বিটিভি শুনে।ঐ বয়সে রোমান্টিসিজম বা লিরিক্সের গভীরতা বুঝতাম না।সুরটাই কানে লেগেছিলো।দেয়া নেয়া সিনেমাটা কেবল রোমান্টিসিজম নয় রোমান্টিক কমেডি সিনেমা হিসেবেও অসাধারণ।তনুজার হাসি খুব সুন্দর।দেয়া নেয়া সিনেমার "আমি চেয়ে চেয়ে দেখি সারাদিন" গানটাও পছন্দের।ইউটিউবে তালপাতার সেপাই নামের একটি চ্যানেলে এই গানটা কাভার করেছে।আমার কাছে ভালো লেগেছে।

২৯ শে জুন, ২০২০ সকাল ১০:২৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: 'গানেরি খাতায়' একটা ভালো লাগার মতো গানই। রুনা লায়লার সেরা গানের একটা তো অবশ্যই, সেরা বাংলা গানের মধ্যেও এটা একটা স্থান করে নিয়েছে।

'দেয়া নেয়া'র ব্যাপারে 'রোমান্টিক কমেডি' কথাটা ভালো লেগেছে। এটা সত্যিই তাই।

তালপাতার সেপাই ভালো কাভার করেছে।

৪| ২৯ শে জুন, ২০২০ রাত ১:৪৩

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




নায়ক রাজ রাজ্জাক একজনই ছিলেন। এই দেশে আর কেউ কখনো নায়ক রাজ হতে পারবেন না।
তবে নায়ক রাজের প্রচুর মুভি আছে খুবই পেইনফুল। - মানুষের জ্ঞান বলে যে একটি বিষয় আছে তা ছিলো সিনেমায় অনুপস্থিত। নায়ক রাজ সিনেমায় এমন কোনো কষ্টের কাজ নেই যা তিনি করেন নি, অথবা এমনও হতে পারে বাংলা সিনেমার নায়কগণ ঠেলাগাড়ি ঠেলে আনন্দ পান! ঠেলাগাড়ি, ইট পাথর ভাঙ্গা থেকে শুরু করে রিক্সা, বেবী (থ্রি ষ্ট্রোক) ট্রাক, সাইকেল চালনা সহ ফেরি করে সবজি বিক্রি, কারখানার নিম্ন শ্রেণীর শ্রমিক, কন্সট্রাকশন শ্রমিক - কোন কাজ তিনি করেন নি, আমজাদ হোসেন সাহেব বেঁচে থাকলে জিগ্যাসা করা যেতো।

১। বেকুবের মতো নায়িকার বাবার পেট থেকে ছুরি টেনে খুলে অসংখ্যবার আসামী হয়েছেন - নায়ক রাজ! - না আমি খুন করিনি? ছুরিতে হাতের ছাপ সহ চার চার জন সাক্ষী ও সয়ং নায়ীকা দেখেছেন রাজ্জাকের হাতে রক্তাত্ব ছুরি! - তারপরও না আমি খুন করিনি!

২। চালচুলোহীন, চাকরিবিহীন অবস্থায় অসংখ্য বড়ঘরের সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করেছেন - নায়ক রাজ।
৩। অন্ধগ্রাম থেকে ঢা্কা এসে ঢাকার আধুনিক পুরান জিন্স গুন্ডাদের রাস্তায় মেরে ভুত বানিয়েছেন অসংখ্যবার - নায়ক রাজ।
৪। আত্মীয়পরিজন দ্বারা প্রতারিত হয়ে কোটিপতি রাজ্জাক ৫০ বস্তা ধারণ করে ঠেলাগাড়ি চালিয়েছেন অসংখ্যবার - নায়ক রাজ। (বস্তার ভেতরে থাকে বস্তার সাইজ পলিথিন ব্যাগ, পলিথিন ব্যাগে থাকে বাতাস)
৫। সৎ মায়ের অসম্ভব যন্ত্রনাতেও সৎ মাকে আপন মায়ের চেয়ে বেশী সম্মান করে নায়িকার জীবন বিপন্ন করেছেন অসংখ্যবার - নায়ক রাজ।

নায়ক রাজ রাজ্জাকের জন্য রইলো অনেক অনেক ভালোবাসা ও দোয়া।

২৯ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১২:১০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: কমেন্ট পড়ে হাসি এবং কান্নায় আমার হৃদয় ভরিয়া উঠিল। দুটোর সংমিশ্রিত ইমোর অভাব বোধ করিলাম

অথবা এমনও হতে পারে বাংলা সিনেমার নায়কগণ ঠেলাগাড়ি ঠেলে আনন্দ পান!
হাসতে হাসতে শ্যাষ হইয়া যাওয়ার মতো অবস্থা। কোনো একটা ছবিতে বৃদ্ধ রাজ্জাক ভাইকে গরমে ঘেমে ঠেলাগাড়ি টানার দৃশ্য এখনো আমার চোখে ভাসছে

বেকুবের মতো নায়িকার বাবার পেট থেকে ছুরি টেনে খুলে অসংখ্যবার আসামী হয়েছেন - নায়ক রাজ! এটাও খুব খাসা বলেছেন। তবে, এ ধরনের চিত্র আমাদের এ উপমহাদেশে বাংলা-হিন্দি সব ছবিতেই কমন :) গল্পে একটু গোঁজামিল দিয়ে সাসপেন্স ও ক্লাইমেক্স বাড়ানোর চেষ্টা আর কী।

সুপারডুপার একটা কমেন্ট প্রিয় ঠাকুর মাহমুদ ভাই। বাংলা সিনেমা সম্পর্কেও যে আপনার অগাধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা আছে, এ কমেন্ট থেকে তা প্রমাণিত।
শুভেচ্ছা রইল


৫| ২৯ শে জুন, ২০২০ রাত ২:১৭

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: রাজ্জাক স্ত্রী ও পুত্র বাপ্পারাজ সহ কলকাতা থেকে ঢাকায় চলে আসেন দাংগার কারণে। তিনি তার অভিনয় জীবন শুরুর আগে ঢাকাতে ক্যামেরার পিছনে কাজ করেছেন সহকারী পরিচালক হিসাবে। উত্তম কুমারের আসল নাম অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায়। তনুজার মেয়ে হোল বম্বের নায়িকা কাজল। ববিতার পুরো নাম ফরিদা আক্তার পপি। নায়িকা সুচন্দা ও চম্পা হল ববিতার আপন বোন। নায়ক রিয়াজ তার চাচাত ভাই। ববিতা হলেন জহির রায়হানের শ্যালিকা।

২৯ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১২:২৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: অনেক অজানা তথ্য জানানোর জন্য ধন্যবাদ। ববিতাদের সম্পর্কে অবশ্য আগেই জানতাম। এদের তিনবোনকে নিয়া একটা ছবি করা হয়েছিল, তিন কন্যা এক ছবি, চন্দা, চম্পা, ববি। ছবির নাম তিন কন্যা। চম্পার ড্যাশিং আবির্ভাব ছিল ঐ ছবির মধ্য দিয়ে। নায়ক রিয়াজ তার চাচাত ভাই - এটা আজ জানলাম।

আমাদের ছোটোবেলায় চিত্রালী ও পূর্বাণী নামক দুটো সিনে পত্রিকা ছিল। আমি ওগুলোর জন্য খুব পাগল ছিলাম, যদিও আমার জন্য সেগুলো সহজলভ্য ছিল না। আমার পড়ার ঘরে দেয়ালে অনেক ছবি টাঙানো ছিল। এগুলোকে তখন প্রাইড মনে করতাম :)

আপনার কাছে বিনীত প্রশ্ন : সাড়ে চুয়াত্তর নামটা কি ছবি থেকে নিয়েছেন? নাকি অন্যকোনো ভাবে?

ব্লগে বিভিন্ন জায়গায় আপনার বিদগ্ধ আলোচনা ও মন্তব্যগুলো আমার ভালো লাগছে।

ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

৬| ২৯ শে জুন, ২০২০ রাত ৩:২৭

জগতারন বলেছেন:
ব্লগার সড়েচুয়াত্তুর নতুন প্রজন্মের হয়েও চলচ্চিত্র জগতের অনেক খবরই রাখেন দেখছি।

২৯ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১২:৩৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: তিনি অবশ্য নিজেকে নতুন এবং পুরাতন প্রজন্মের মাঝামাঝি বলে দাবি করছেন। তবে, ছবির ব্যাপারে তার জ্ঞান সত্যিই প্রশংসনীয়।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

৭| ২৯ শে জুন, ২০২০ ভোর ৫:৪৪

আজাদ প্রোডাক্টস বলেছেন: আহা কি দিন ছিল!

২৯ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১২:৪১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: এই প্রজন্মের দিনটাও কম না। বলা যায়, আরো বেশি অ্যাডভাঞ্চারাস। তাদের হাতে যে অ্যান্ড্রয়েড আছে, থ্রি-ডি মুভি, ইউটিউব, নেটফ্লিক্স, গেইমসহ যা আছে, সেই তুলনায় আমাদের কিছুই ছিল না, যদিও তাতে আমাদের উত্তেজনার কমতি ছিল না একটুও

কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ।

৮| ২৯ শে জুন, ২০২০ ভোর ৬:০৯

ইসিয়াক বলেছেন:


অসম্ভব সুন্দর একটা পোস্ট। আর গানগুলোর কথা কি বলবো। আমার সবসময় প্রিয়। এরকম গান আর হবে না। যেমন কথা তেমন সুর আর তেমনই উপস্থাপন। রাজ্জাক,উত্তম কুমার, ববিতা আমার সবসময়ের জন্য ফেভারিট। ববিতার ছবি রিলিজ হলে শ্যামলী , আনন্দ, বলাকায় কতদিন হেটে চলে গেছি পোস্টারে ববিতাকে কেমন লাগছে দেখার জন্য। হলে ছবি দেখতাম না, তিনঘন্টা সময় কোথায় ছিলাম তার উত্তর বাসায় দিতে পারবো না বলে। নিলক্ষেত থেকে বই কিনে বাড়ি ফিরতাম।তাও আবার পায়ে হেঁটে।
শুভকামনা খলিল ভাই।

২৯ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১:০৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: হলে ছবি দেখতাম না, তিনঘন্টা সময় কোথায় ছিলাম তার উত্তর বাসায় দিতে পারবো না বলে। :) :) :) এইটা ভালো বলছেন। আমি আমার বন্ধুদের মতো পাকনা ছিলাম না। সিনেমা দেখতে হবে, এটা মাস্ট। বাড়ি থেকে একবার বের হইতে পারলেই হইল :) কিন্তু ফিরে আসার আগেই জানাজানি হইয়া যাইত আমি কই গেছি। কিছুক্ষণ মুখ বন্ধ করে বকাবকি শুনতাম, তারপর পরের ছবি আবার কবে মুক্তি পাবে, সেই আশায় উত্তেজনাময় দিন গুনতে থাকতাম। ছায়াছবি দেখার মতো আনন্দ আর উত্তেজনা এত বেশি ছিল যে, অন্য এমন আর খুব কম ইভেন্টই ছিল।

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ইসিয়াক ভাই।

৯| ২৯ শে জুন, ২০২০ সকাল ১১:৪৯

রাজীব নুর বলেছেন: পোষ্ট টি উপভোগ করলাম।
আমার মা আজও বসে বসে সারাদিন রাজ্জাকের মুভি গুলো দেখেন।

২৯ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১:০৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: পোস্টটি উপভোগ করেছেন জেনে ভালো লাগলো নায়করাজ রাজীব ভাই। আপনার মায়ের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম রইল। শুভেচ্ছা।

১০| ২৯ শে জুন, ২০২০ সকাল ১১:৫৮

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: @ জগতারন ভাইঃ আমার কাছে old is gold. আমি আসলে এখন নতুন আর পুরানোর মাঝামাঝি প্রজন্মে আছি। তবে নতুন প্রজন্ম খুব স্মার্ট। আমার মা বাবা এগুলির খুব ভক্ত ছিল তাই তাদের সাথে থেকে জানার আগ্রহ হয়েছে। ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

২৯ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১:০৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আপনার কথাটাই আমি তাকে উত্তরে বলে দিয়েছি। ধন্যবাদ আপনাকে।

১১| ২৯ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১২:২৩

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: ভাইডি করলেন কি?
সিনেমা পড়ায়া ছাড়লেন ;) হা হা হা

সারাজীবন জানলাম সিনেমা দেহন যায়! আইজ জানাইলেন সিনেমা পড়ন ও যায় :P
=p~ =p~ =p~

দারুন সাজিয়েছেন। আর আগে মনে হয় কপিরাইট নিয়া অত মাতামাতি ছিল না।
নইলে এমন হুবহু হয় কি করে!!!!!!!!!


পোষ্টে++++

২৯ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১:১৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: হ্যাঁ তাইতো, সিনেমা পড়াইয়া ছাড়লাম বটে :)

যায়যায়দিন এবং সাপ্তাহিক বিচিত্রা ছায়াছবির উপর নিয়মিত প্রতিবেদন ছাপতো। ওটা আমার খুব ফেভারিট ছিল। কোনো ছবি আগেই দেখে ফেললে আমার মতামতের সাথে রিপোর্টারের মতামত মিলে গেলে খুব আনন্দ হতো। তবে, ছবির গোঁজামিল, গাঁজাখুরি, অশ্লীলতা ইত্যাদি দিকগুলো ঐ রিপোর্টে উঠে আসতো। তেমনি, ভালো ছবির ব্যাপারে থাকতো কিছু প্রশংসা। এ প্রতিবেদন থেকেও অনেক ছবি দেখার আগ্রহ বা অনাগ্রহ সৃষ্টি হতো।

একটা ইন্টারেস্টিং কথা বলি। ২০০৪/৫-এর দিকে একবার আমি প্ল্যান করলাম, ১০/১৫টা সেরা বাংলা ছবির কাহিনি নিয়ে একটা বই লিখবো। কিন্তু, মৌলিক লেখার তাগিদে ওই প্ল্যানটা আর বাস্তবায়ন করতে পারি নাই।

আর আগে মনে হয় কপিরাইট নিয়া অত মাতামাতি ছিল না। মনে হয় তাই হবে। পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেও হয়ত এসব হয়ে থাকবে। আমি আরো কিছু বাংলা ছবি দেখেছি, যেগুলো ভারতীয় গল্পের অনুকরণে বানানো। আর এখন তো এগুলো খুব ন্যাকেড হয়ে গেছে। তেলেগু বা হিন্দি ছবির কোনো ফাইটিং দৃশ্য দেখিয়ে নায়ক বলে দেন, আমার এই ছবিতে ঠিক ঐরকম একটা ফাইট করাইবেন। গল্পের সাথে তা মিললো কিনা তা ব্যাপার না :)

হিউমারাস কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ নিন প্রিয় বিদ্রোহী ভৃগু

১২| ২৯ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১২:৫৪

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: সোনাবীজ ভাই সাড়ে চুয়াত্তর সিনেমাটা ভালো লেগেছিল তাই এরকম নাম নিলাম। ব্লগে বিভিন্ন মন মানসিকতার মানুষ থাকে তারপরও মন্তব্য করে যাচ্ছি যা আমি বিশ্বাস করি। আপনার ( এবং আরও কয়েক জনের) পুরান লেখাগুলি আমি পড়া শুরু করব ভাবছি। ভালো থাকবেন।

২৯ শে জুন, ২০২০ দুপুর ১:১৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমিও অবশ্য সেটাই ভেবেছিলাম, ছবি থেকেই নিকনেইমটা নিয়েছেন।

ব্লগে বিভিন্ন মন মানসিকতার মানুষ থাকে তারপরও মন্তব্য করে যাচ্ছি যা আমি বিশ্বাস করি। নিজের বিশ্বাসের উপর আস্থা রেখে বিশুদ্ধতার দিকে এগিয়ে চলবেন, এই কামনা করি।

আবার এসে উত্তর/মতামত জানানোর জন্য ধন্যবাদ।

১৩| ২৯ শে জুন, ২০২০ রাত ১০:৪১

পদ্ম পুকুর বলেছেন: পুরো লেখা পড়ে একটা শব্দ ঘটে আটকে গেলো- ঘরেন্টাইন=p~ =p~ =p~
প্রায় একযুগ আগে আমার একটা লেখার শেষে ব্লগার নুশেরা একটা শুব্দ যোগ করেছিলো - শুভ ঘুরান্টি; নুশেরা বলেছিলো শব্দটার আবিষ্কারক ব্লগার বাফড়া।

শুনেছি অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে প্রতিবছর কিছু নতুন শব্দ যোগ হয়। বাংলা একাডেমিকে এ রকম উদ্যোগ নেয়ার জন্য ব্লগের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো যেতে পারে।

লেখা নিয়ে আমার কিছু কওন লাগবো না, গুণীজনেরা উপ্রেই বলছেন।

২৯ শে জুন, ২০২০ রাত ১০:৫৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: 'ঘরেন্টাইন' শব্দটা আমার এক ফ্রেন্ডের দেয়া, আমাদের একটা ভাইবার গ্রুপে। কোয়ারেন্টাইন তো মূলত ঘরেন্টাইনই, শব্দটাও সহজে উচ্চারণযোগ্য :) তাই আর কোয়ারেন না, ঘরেন্টাইনই হবে এখন থেকে। এটা অবশ্য আমি আগে থেকেই ইউজ করে আসছি :)

অক্সফোর্ডের মতো বাংলা অভিধানেও হয়। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া। ডিজিটালাইজেশনের পর শব্দের উৎপত্তি হয়েছে অনেক বেশি, বিশেষ করে ব্লগ এবং ফেইসবুকে। খোমা, মুখবই, এবং কে জানে 'ঘরেন্টাইন'ও চলে আসতে পারে :)

হ্যাঁ, লেখা নিয়ে উপরে বিদগ্ধ জনেরা অনেক বিশেষজ্ঞ মতামত দিয়ে পোস্টকে সমৃদ্ধ করেছেন। আপনিও পোস্টে কিছু নতুন মাত্রা যোগ করে গেলেন

সব কথার জন্য অনেক ধন্যবাদ প্রিয় পদ্ম পুকুর

১৪| ৩০ শে জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩৩

আহমেদ জী এস বলেছেন: সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই ,




গান নিয়ে এ আপনার প্যাশন বোঝাই যায়!
দেয়া গানগুলি অনেক কন্ঠেই গাওয়া হয়েছে যেমনটা আপনি উল্লেখ করেছেন।

দেয়া নেয়া ছবির গান " গানে ভুবন ভরিয়ে দেবে ..." গানটির কথা লিখলেন না কেন ?

৩০ শে জুন, ২০২০ রাত ৯:২৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: গানে ভুবন ভরিয়ে দেবে - একটা অসাধারণ গান। অডিটোরিয়ানে এই গানটা গাওয়ার মধ্যে দিয়েই তনুজা ভাবী চিনে ফেলেন যে, তার ড্রাইভার হৃদয় হরণ আর কেউ নন, ছদ্মবেশী অভিজিৎ চৌধুরী, যার প্রেমে তিনি দিওয়ানা।

ছবি দুটোর প্রতিটা সিকোয়েন্সে যেমন অসম্ভব অভিন্নতা রয়েছে, গানের কথাগুলোতেও রয়েছে সেরকম মিল। 'গানে ভুবন ভরিয়ে দেবে একটি পাখি'র (দেয়া নেয়া) বিপরীতে স্বরলিপি ছবিতে গাওয়া হয় 'এক অন্তবিহীন স্বপ্ন ছিল গানে ভুবন ভরিয়ে দিব।' দুটো গানের লিরিক্স নিচে দেয়া হলো। স্বরলিপিতে গীতিকার ও সুরকার যথাক্রমে গাজী মাজহারুল আনোয়ার ও সুবল দাস। দেয়া নেয়াতে গীতিকার ও সুরকার যথাক্রমে গৌরী প্রসন্ন মজুমদার ও শ্যামল মিত্র। লিরিকের শেষে গান দুটো দেখুন।

এক অন্তবিহীন স্বপ্ন ছিল
গানে ভুবন ভরিয়ে দেব-
ব্যর্থ আশার এই তিক্ত দাহন
ভাবি নি তো আমি পাব।।

এই কণ্ঠে নিয়ে সুরেরই জ্বালা
আমি তো চলেছি ফিরে-
কোনোদিন আর গাইবো না গান
তোমাদের আসর ঘিরে।
পাষাণে আমার লিখো না এ নাম
যখন আমি চলে যাবো।।

এই গানের মেলায় কুড়িয়েছিলাম
কত না জয়েরই মালা,
বিদায় বেলায় এলো আবার
অশ্রু ঝরার পালা।
সকল ব্যথার প্রদীপ জ্বেলে
আড়াল হয়ে দূরে যাব।।

কত প্রাণ ঝরে যায় নীরবে__
তারে আর মনে রেখে কী হবে?
মনে রেখো শুধু শেষ গান।

**

গানে ভুবন ভরিয়ে দেবে ভেবেছিল একটি পাখী
হঠাৎ বুকে বিঁধল যে তীর স্বপ্ন দেখা হল ফাঁকি
তাই গান শোনাতে হায় কণ্ঠ কেঁপে যায়

তারে হাসিমুখে যেতে দাও শেষবার শুনে নাও
মনে রেখো মনে রেখো তার এই শেষ গান।
গানে ভুবন ভরিয়ে দেবে ভেবেছিল একটি পাখী
হঠাৎ বুকে বিঁধল যে তীর স্বপ্ন দেখা হল ফাঁকি

যার গান শুনে একদিন কণ্ঠে পরালে মালা
আজ তোমাদের সভা হতে তার বিদায় নেবার পালা
ঝড়ে কত তারা আলোকে মনে রাখে বলো কে?
ঝড়ে কত তারা আলোকে মনে রাখে বলো কে?
ছিল কত সুখ বুকে তার জানিবে না কেহ আর
মনে রেখো মনে রেখো তার এই শেষ গান ।।

৩০ শে জুন, ২০২০ রাত ৯:৫৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: গানে ভুবন ভরিয়ে দেবে - দেয়া নেয়া


৩০ শে জুন, ২০২০ রাত ৯:৫৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: এক অন্তবিহীন স্বপ্ন ছিল গানে ভুবন ভরিয়ে দিব - স্বরলিপি

১৫| ৩০ শে জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৪৩

মিরোরডডল বলেছেন:



কপিরাইট না ধুলো , সহজ কথ্য বাংলা ভাষায় এটাকে বলে চুরি করা ।
ডিরেক্টর চোর নজরুল ইসলাম আর স্ক্রিপ্ট রাইটার চোর নাজনিন আহমেদ ।
দুটো মুভি দেখা হয়েছিল । অনেক আগে স্বরলিপি টিভিতে দেখেছিলাম আর লাস্ট ইয়ারে ইউটিউবে দেয়ানেয়া দেখে আমি অবাক হয়ে চেক করে জেনেছিলাম যে এটা অনেক পুরনো । বাংলাদেশে পরে করেছে । কোথাও কোন মেনশন নেই কপিরাইট অথবা কাহিনী অবলম্বনে । মনে হয় মামা বাড়ীর আবদার । শুধু যে অন্ধ অনুকরণ তাই না , কেমন করে নিজের নামটা বসিয়ে দেয় রাইটার হিসেবে । এখানে তাদের কোন ক্রেডিটই নেই । নির্লজ্জ ।
স্যরি টু সে বাট দেটস হাউ দে আর !

৩০ শে জুন, ২০২০ রাত ১০:১১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: 'স্বরলিপি' ছবিটা আমিও বিটিভি আমলে বিটিভিতে দেখেছিলাম। রোমান্টিকতায় আপ্লুত হয়ে মহানায়ক রাজ্জাক হয়ে ববিতার ড্রাইভার হওয়ার খুব ইচ্ছে হচ্ছিল। 'গানেরি খাতায় স্বরলিপি লিখে' গানটার সাথে তো ছোটোবেলা থেকেই পরিচিত। গান শুনে প্রথমেই আমার মনে হয়েছিল, ছবির নাম হবে 'স্বরলিপি', যদিও তখনো শিউর ছিলাম না স্বরলিপি নামে কোনো ছায়াছবি ছিল কিনা :) অবশ্য স্বরলিপি সম্পর্কেও কোনো আইডিয়া ছিল না, ধারণা করেছিলাম - গানের কথাই হবে :) ঐ সময়ে কেবল কবিতা ভাইরাস আমার শরীরে অ্যাটাক করা শুরু করেছে :)

দেয়া নেয়া দেখেছি ইউটিউবে। এটা দেখে আমি তাজ্জব হয়ে গেছি। হুবহু একই রকম ভাবে দুটো ছবি কীভাবে বানালো তারা? 'স্বরলিপি' ছবি খুঁজে সেখানে একটা কমেন্টও লিখলাম এ নিয়ে। সেই কমেন্ট এতদিন সেখানে জীবিত থাকার কথা না :(

ডুলু ঠিকই বলেছেন, এগুলো নকল না, চুরি

১৬| ৩০ শে জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫২

মিরোরডডল বলেছেন:



ডেফিনেটলি দেয়ানেয়া ভালো লেগেছে যেহেতু ওটা অরিজিনাল মুভি। আর তাছাড়া তনুজা সেই সময়ের আমার সবচেয়ে প্রিয় নায়িকা । সে যেমন সুন্দরী তেমনি এট্রাক্টিভ । কোনো এক্সট্রা ভাব নেয়না, তাই ভালো লাগে ।
আর উত্তম কুমার, তারতো আছেই ভুবন ভুলানো হাসি ।

গান অবশ্য আমাদের বাংলাদেশের গানের খাতায় স্বরলিপি এটাই সুন্দর ।

৩০ শে জুন, ২০২০ রাত ১০:২৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমাদের দেশের ছবিগুলোর সবচাইতে বড়ো নেগেটিভ সাইডটা হলো ছবির প্রিন্ট। 'দূরদেশ' বাংলা ভার্সনে কিছুই বোঝা যায় না, কিন্তু হিন্দি ভার্সন কত ঝকঝকে আর চকচকে!

স্বরলিপি নকল বা চুরি করা ছবি হলেও রাজ্জাক, ববিতা, আশীষ কুমার ও আনোয়ারা দারুণ অভিনয় করেছেন। আনোয়ারার সাথে রাজ্জাকের যে নির্মল খুনসুটি দেখানো হয়েছে, এ অংশটা দেয়া নেয়ার চাইতে অনেক বেশি ভালো লেগেছে আমার। তনুজা'র জীবন খাতার প্রতি পাতায় ২ মিনিটের গানে অভিনয় যে-কোনো যুবকের মনকে পাগল করে দিবে। ববিতার 'গানেরি খাতায়' গানের অভিনয়েও অনেক অনেক রোমান্টিকতা সৃষ্টি করে। দুটোই আবেদনময় তবে, মাত্রা আলাদা।

রুনা লায়লার গানেরি খাতায় অসম্ভব প্রিয় একটি গান। সেই তুলনায় 'জীবন পাতার প্রতি খাতায়' অতটা খ্যাতি পায় নি বলেই আমার ধারণা।

১৭| ৩০ শে জুন, ২০২০ রাত ৮:১৫

শের শায়রী বলেছেন: এই ছবিগুলো দেখা। ইন ফ্যাক্ট এখনো আমি শুধু ইংরেজি আর বাংলা হারানো দিনের ছায়াছবি এবং কিছু অল্প সিলেক্টেড বাংলা ছবি দেখি। আমাদের সময় বিনোদন বলতে তো শুধু এই সবই ছিল। আর রুনা লায়লার কথা কি বলব, শোনা কথা, ভারতীয়রা নাকি এক সময় বলছিলো তোমরা গঙ্গার পানি নাও আমাদের রুনা লায়লা দাও।

বাই দ্যা ওয়ে সোনাবীজ ভাই একটা লেখা লিখতে শুরু করছি সুর লয় তাল রাগের ওপর আপনাকে উদ্দেশ্য করে। লেখাটা আগাচ্ছে না সময়ের অভাবে, তবে ঠিকই শেষ করে ফেলব শিঘ্রী। যদিও এ ব্যাপারে আমার জ্ঞান অতি স্বল্প। তাই লিখে পোষ্ট দেবার পর আপনার সহায়তা চাইব।

পোষ্টে ভালো লাগা জানবেন।

৩০ শে জুন, ২০২০ রাত ১০:৩২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ভারতীয়রা নাকি এক সময় বলছিলো তোমরা গঙ্গার পানি নাও আমাদের রুনা লায়লা দাও। ছোটোবেলা থেকেই এটা শুনে আসছি। গত বছর খানেকের মধ্যে কোনো একজায়গায় পড়লাম - ঘটনা সত্য।

পুরোনো দিনের ছবিগুলো এখনো আমাকে খুব টানে। কিন্তু আমাদের ছবিগুলো ভালোমতো প্রিজার্ভ করা হয় না। উপরে অলরেডি উল্লেখ করেছি, অন্যান্য দেশের ছবিগুলোর প্রিন্ট কত ক্লিন! অথচ আমাদের ছবি দেখে মনে হয় ৫৬ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে তৈরি :(

বাই দ্যা ওয়ে সোনাবীজ ভাই একটা লেখা লিখতে শুরু করছি সুর লয় তাল রাগের ওপর আপনাকে উদ্দেশ্য করে। দিলেন তো ভয় ধরাইয় :( যাই হোক, আমাকে উদ্দেশ্য করে লিখলেও ওটা নিশ্চয়ই আপনার মৌলিক কোনো রচনাই হবে, যা আপনার ক্রেডিটে নতুন একটা স্কোর যোগ করবে।

ধন্যবাদ শের শায়রী ভাই। ভালো থাকবেন।

১৮| ৩০ শে জুন, ২০২০ রাত ১০:৪৭

মিরোরডডল বলেছেন:



ছোটবেলায় ধুলোটা ইঁচড়ে পাকা ছিল । আই ক্যান সি :)

ইউ আর রাইট । চুরি না হলে স্বরলিপি একটা ভালো রোম্যান্টিক কমেডি ।

বর্তমান সময়ের একজন চোর নাট্যকার শিহাব শাহিন । ইংলিশ মুভি থেকে প্লট চুরি করে নাটক করে আর সুন্দর করে লেখে রচনায় শিহাব শাহিন । এরা ধরেই নেয় , দর্শক ঘাস খায় । এখানেও তাই, যে জানবেনা এটা চুরি তার কাছে খুব সুন্দর নাটক মনে হবে । ভালো ভালো আর্টিস্ট নিয়ে ভালো নির্মাণ । Love actually এটা একটা দারুণ রোম্যান্টিক কমেডি । অনেকবার দেখেছি । শিহাব ওটা চুরি করেছে কিন্তু মজার বিষয় লভ সিনগুলো ওরকম করতে পারেনি আফটার অল টিভি নাটকে কেমন করে ওরকম করবে । ওখানে একটু ধরা খেয়েছে বেচারা :)

০১ লা জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ইঁচড়ে পাকা? নাহ! ছোটোবেলা থেকে এখনো আমি খুবই নিরীহ এবং গোবেচারা। বোঝেন না, মেয়েরা আমাকে পেটাতো :( মনে পড়লে এখনো কান্না পায়

অফ লেইট, রিয়ালাইজেশন হলো- এর একটা পজিটিভ দিক আছে। সংস্কৃতি ও মানসিকতা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ট্রান্সফার করে। একটা গল্প বা কবিতা, লেখক নিজের মতো করে লেখেন, পাঠক তার মতো করে বোঝেন। বুদ্ধিমান পাঠক তা থেকে সেরা নির্যাস বের করে নেন। স্বরলিপির ব্যাপারেই দেখুন, এটা যে চুরি করা ছবি, তা জানার আগে এ নিয়ে আমরা কত আলোচনা প্রশংসা বর্ষণ করেছি, তাই না? এ সত্যটা তো আর সবাই জানে না। যারা জানেন না, তারা ঠিকই এর আনন্দটুকু পাচ্ছেন।

শিহাব শাহিন একজন নাট্যকার নাম শুনেছি। হয়ত নাটকও দেখেছি, কিন্তু স্পেসিফিক্যালি তার কোনো নাটকের নাম মনে পড়ে না।

তার নকল করা দু একটা নাটকের নাম বলুন জানা থাকলে

১৯| ০১ লা জুলাই, ২০২০ দুপুর ২:৩৫

মাহমুদ রহমান (মাহমুদ) বলেছেন: । তেলেগু বা হিন্দি ছবির কোনো ফাইটিং দৃশ্য দেখিয়ে নায়ক বলে দেন, আমার এই ছবিতে ঠিক ঐরকম একটা ফাইট করাইবেন। গল্পের সাথে তা মিললো কিনা তা ব্যাপার না
- হাহাহাহ।
আপনার পোষ্ট পড়তে পড়তে নানা জায়গায় হাসলাম।
সিনেমা আসলি বা কাচলি যাই হোক তখনকার ছবিতে গান হত দারুণ,জবাব নেই।স্বরলিপি গানটি আমার খুব পছন্দের।
ববিতাও পছন্দের।
গানগুলো আমাদের সম্পদ হয়ে থাকবে।আগেকার দিনের গুণী শিল্পীরাও আর নেই,উনাদের বিকল্পও আসেনি।
চমৎকার পোষ্টটির জন্য ধন্যবাদ প্রিয় ছাই ভাই।

০১ লা জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন:
সিনেমা আসলি বা কাচলি যাই হোক তখনকার ছবিতে গান হত দারুণ,জবাব নেই। খাঁটি কথা এবং অনেক মূল্যবান কথা। সিনেমা হল থেকে বের হয়ে বাড়ি ফেরার পথে দল বেঁধে সমস্বরে ঐ ছবির গান গাইতাম বন্ধুরা। আড্ডায়ও ছবির গল্প নিয়ে আলোচনা করতাম, গলাগলি ধরে গান গাইতাম। মাইকে বাজতো সেই গান।

আব্দুল হাদি, রুনা লায়লা, সাবিনা ইয়াসমিন, সুবীর নন্দী, আব্দুল জব্বার, মাহমুদুন্নবী - এদের গানগুলো ছিল আমাদের প্রাণ।

কিছু চটুল গান যে ছিল না তা না। তবে, কালের ছাকুনিতে চটুল গানগুলো চালুনির ফাঁক দিয়ে পড়ে গিয়ে হারিয়ে গেছে, ভালো গানগুলো রয়ে গেছে।

আগেকার দিনের গুণী শিল্পীরাও আর নেই,উনাদের বিকল্পও আসেনি।
এটাও চরম সত্য একটা কথা। আগের শিল্পীদের কোনো বিকল্প আমরা দেখছি না। রুনা লায়লা বা সাবিনা ইয়াসমিনের ধারেকাছে যেতে পারে, এমন শিল্পী নেই।

তবে, অন্য একটা দিক আছে। বর্তমান প্রজন্মের ভালো লাগার সাথে আমাদের ভালো লাগার পার্থক্য অনেক। আমার বাসায়ই সেটা দেখতে পাচ্ছি। কাজেই, ওদের জন্য রুনা, সাবিনাদের অ্যাবসেন্সে লাভ, না ক্ষতি হলো এটা ওদের ভাবাবে না। ওরা ওদের প্রজন্মকে নিয়ে খুশিই।

মূল্যবান কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ মাহমুদ ভাই

২০| ০১ লা জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৩২

মিরোরডডল বলেছেন: হ্যাঁ ধুলো অবশ্যই পরে খুঁজে দিবো । যেমন আরেকজন বিপাশা হায়াত । তার কাছ থেকে এটা খুবই অপ্রত্যাশিত ছিল । জুলিয়া রবার্টসের ‘Notting Hill’ অনুকরনে তারিন আর অপূর্বকে নিয়ে নাটক করে লিখেছে রচনা বিপাশা হায়াত । কোথাও বলেনি যে ছায়া অবলম্বনে অথবা অনুকরনে । এই বিষয়টা অদ্ভুত লাগে । নাটকের নাম মনে নেই । খুঁজে দিবো পরে কখনও ।

০১ লা জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: বিপাসা হায়াতের কিছু নাটক আমি দেখেছি। ওগুলো ভালো ছিল। কিন্তু, সেগুলো যদি নকল গল্প হয়ে থাকে তাহলে তো ব্যাপারটা তিনি ঠিক করেন নি। অরিজিন্যাল প্রডিউসারের ক্রেডিট দিলে তার ক্রেডিট কমতো না, কিন্তু এসব লোকে জানার প্রতি তার প্রতি মানুষের ইম্প্রেশনই তো নষ্ট হয়ে গেল। ক্ষতিটা তারই হলো।

২১| ০১ লা জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০২

মিরোরডডল বলেছেন:



নকল একবারই পেয়েছিলাম । তৌকির বা বিপাশা এদের নাটক লাইক করি ।
বিশেষ করে তৌকিরের ডিরেকশনে করা নাটক গুলো সুন্দর ।

০৩ রা জুলাই, ২০২০ রাত ১১:০৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: হ্যাঁ, নাটকের ডিরেক্টর হিসাবে তৌকির খুব ভালো। আবুল হায়াত, বিপাশা, তৌকির- এই সিন্ডিকেট বেশকিছু ভালো নাটক উপহার দিয়েছিলেন। আমি অবশ্য নকল আসল বের করতে পারি নাই। নকল একটা ঘৃণ্য কাজ।

২২| ০২ রা জুলাই, ২০২০ সকাল ১১:৫৭

মিরোরডডল বলেছেন:




বলেছিলাম পরে খুঁজে দিবো । তাই ধুলোকে দিয়ে গেলাম ।
এটা অরিজিনাল মুভি লিংক , পুরো মুভি অনালাইনে নেই , ওটা ধুলোকে খুঁজে নিতে হবে । দেখতে হবে কিন্তু ।

রোম্যান্টিক কমেডি ড্রামা মুভি Love Actually



এটা হচ্ছে চোর শিহাব শাহিনের নাটক । কমপ্লিটলি চুরি ।

০৩ রা জুলাই, ২০২০ রাত ১১:০৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: 'প্রেম' পোস্টে ২৫ নং উত্তর দ্রষ্টব্য :)

নাটকের ১ঃ২২ঃ১৮ সেকেন্ডে লেখা আছে 'লাভ অ্যাকচুয়ালি'র ছায়া অবলম্বনে। ক্রেডিট লাইনের শুরুতেই এটা লেখা উচিত ছিল।

২৩| ০৪ ঠা জুলাই, ২০২০ রাত ২:৪২

মিরোরডডল বলেছেন:



থ্যাংকস ধুলোকে, ছায়া অবলম্বনে কথাটা মাইক্রোস্পোকের মাধ্যমে খুঁজে বের করার জন্য বাট ইটস নট এনাফ । ধুলো যদি এই ডিসকাশন না করে নাটক দেখতো, হয়তো কখনোই ওই ওয়ার্ডিংটা চোখে পড়তো না । তখন ফুল ক্রেডিট শিহাবের কাছে যেতো ।

আর ছায়া অবলম্বনে যখন বলা হয়, তখন নিজেরও কিছু অ্যাড করতে হয় ।
কিন্তু এইটা শুরু থেকে শেষ নিজের কিছুই নেই । প্রতিটা দৃশ্য কপি এক্সসেপ্ট প্যাশিং অর লাভ মেকিং :(

০৫ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৪৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: এটা ঠিক, বলে না দিলে এটা মৌলিক নাটক হিসাবেই ট্রিট করতাম।

২৪| ০৭ ই জুলাই, ২০২০ রাত ২:৩০

মিরাজ মুস্তাফা বলেছেন: খুব ভালো লাগলো আপনার লেখা। RASHTRAKUTAS

০৭ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১১:০৬

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: পোস্ট ভালো লেগেছে জেনে আনন্দিত। কিন্তু RASHTRAKUTAS লেখার কারণ কী? অন্য পোস্টেও দেখলাম। একটু যদি বলতেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.