নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শব্দকবিতা : শব্দেই দৃশ্য, শব্দেই অনুভূতি \n\[email protected]

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই

দুঃখের কবিতাই শ্রেষ্ঠ কবিতা। ভালোবাসা হলো দুঃখ, এক ঘরে কবিতা ও নারী।

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই › বিস্তারিত পোস্টঃ

আমার ‘অন্তরবাসিনী’ উপন্যাসের নায়িকাকে নিয়ে আরেকটি গল্প

১১ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৯:৪২

যে মেয়েকে নিয়ে ‘অন্তরবাসিনী’ উপন্যাসটি লিখেছিলাম, তার নাম ভুলে গেছি। এ গল্প শেষ করার আগে তার নাম মনে পড়বে কিনা জানি না। গল্পের খাতিরে ওর নাম ‘অ’ ধরে নিচ্ছি।
বইটি লেখার পর বহুদিন চলে যায়। হঠাৎ একদিন মনে পড়ে, হায়, যাকে নিয়ে একটা বই লেখা হয়ে গেল, জীবদ্দশায় সেই মেয়েটি জানতেই পারলো না সে একটা ‘জীবন্ত ইতিহাস’! আমার এমন একটা ইচ্ছে মনের ভেতর প্রবলতর হলো- মেয়েটার হাতে বইটা তুলে দিয়ে তাকে চমকে দেব; এতে সে না জানি কত খুশি ও চমৎকৃত হবে, আর তাতে আমিও যে প্রচণ্ড আনন্দ পাব, তা বলাই বাহুল্য।



‘অন্তরবাসিনী’ উপন্যাসে মেয়েটির নাম ‘জুঁই’। ওটা একটা গল্প হওয়ায় স্বাভাবিক নিয়মেই বাস্তব নামটি পালটে দেয়া হয়েছিল। এ নিয়ে আলাপ হচ্ছিল একদিন আফরোজার সাথে। আফরোজা জোর দিয়ে বলে, বাস্তবেও মেয়েটির নাম ‘জুঁই’ ছিল এবং সে বেগম আয়েশা গার্লস পাইলট হাইস্কুলের ফার্স্ট গার্ল ছিল, ওদের বাড়ি পালামগঞ্জ। আমি ততোধিক জোর দিয়ে বলি যে, মেয়েটা ছিল নারিশা গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রী, ওদের বাড়ি মেঘুলা ছিল। আফরোজার সাথে আমার বিতর্ক শেষ পর্যন্ত বিতণ্ডায় পরিণত হয়- সে বলে, তোদের মধ্যে আগে থেকেই জমজমাট প্রেম ছিল। পরে মেয়েটা তোকে ‘রিজেক্ট’ করেছিল। সেই রিজেকশনের রিভেঞ্জ নেয়ার উদ্দেশ্যেই এতদিন পর এই বই লিখেছিস। ক্রোধে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে যাই।

উপন্যাসটি লিখেছিলাম ঘটনা ঘটবার প্রায় বিশ বছর পর। যদিও এটাকে ‘ঘটনা’ বলছি, আদতে এটা কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনা জাতীয় কোনোকিছু নয়। স্কুলজীবনের শেষ ধাপে গিয়ে, এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার সময় ‘অ’র সাথে আমার একটা ‘সম্পর্ক’র মতো সৃষ্টি হয়েছিল; এই ‘সম্পর্ক’ ব্যাপারটা নিয়েও আমার নিজের মনেই অনেক দ্বিধাগ্রস্ততা রয়েছে, অর্থাৎ আমি নিশ্চিত নই আমাদের মধ্যে সত্যিকারেই কোনো ‘সম্পর্ক’র মতো কিছু সৃষ্টি হয়েছিল কিনা। আমি শুধু জানতে পেরেছিলাম, শাহজাহানের কাছ থেকে আমার কবিতার খাতাটা ‘অ’র হাতে পৌঁছুবার পর আমার তারুণ্যমুখর কবিতার প্রতি ওর কিছু মুগ্ধতা জন্মেছিল।

আমার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু শাহজানের প্রত্যক্ষ ভূমিকায় এই সম্পর্ক সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল। কিন্তু ‘অ’-কে এক কপি বই দেয়ার কথা শাহজাহানকে বলতে খুব সঙ্কোচ বোধ হলো। সে কী ভেবে বসে, সেটাই ছিল সঙ্কোচের বড়ো কারণ।

একটা মেয়ের সাথে আপনার পরিচয় হলো, দু-একদিন দেখাসাক্ষাৎ হলো, স্বল্প আলাপ হলো। আপনার সাথে ‘সম্পর্ক’ সৃষ্টি হওয়ার মতো কিছু একটা ঘটে গেলে এ থেকেই তার আভাস পেয়ে যাবেন। ‘অ’ আর আমার মধ্যকার মনের দূরত্ব বা ঘনত্ব বোধগম্যতার অতীত ছিল। ওর সাথে পরিচয় হবার পর পরীক্ষা চলাকালে আর মাত্র একদিন সামনাসামনি দেখা হয়েছিল, কিন্তু কোনো কথা হয় নি; অথচ, এই অল্প সময়ের মাঝখানে সে আমার ব্যাপারে আমার বন্ধুদের সাথে অনেক আলাপ করেছে; সেই আলাপের পরিধি এত ব্যাপক ও বিস্তৃত ছিল যে, এ কথা আমার বন্ধুরা, বিশেষত শাহজাহান যখন আমাকে শোনাতো, মনে হতো ‘অ’ আমার প্রতি অনেক অনেক ‘আগ্রহী’ হয়ে উঠেছে।
আমাদের দুজনের গ্রাম ছিল দু’দিকে; আমাদের পরীক্ষা হয়েছিল ভিন্ন এক গ্রামে - জয়পাড়া। পরীক্ষা শেষে আমরা যার যার গ্রামে চলে গেলাম। কিন্তু কাকতালীয়ভাবে মাঝে মাঝেই বন্ধুদের সাথে আমি ওদের গ্রামে গিয়ে পৌঁছুতাম। আরো কাকতালীয় ব্যাপার ছিল এই যে- কেমন করে যেন ‘অ’র সাথে আমার দেখা হয়ে যেত। কিন্তু আমরা কখনো মুখোমুখী হতে পারি নি। হয়ত গ্রামে একটা মেলা হচ্ছে, কিংবা জারিগানের আসর; আমার চোখ চারদিকে ‘অ’-কেই খুঁজতো, এবং হঠাৎ একসময় আবিষ্কার করতাম- জটলার কোনো এক কোনা থেকে অনেক বান্ধবীকে নিয়ে সে এবং তারা একসাথে আমি এবং আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। চোখাচোখি হতেই ওরা একযোগে উধাও হয়ে যেত। কালে আমার অবস্থা এমন হলো, আমি যদি কোনো ভিনগ্রহেও যেয়ে উঠতাম, আমার চোখ চারদিকে শুধু ‘অ’-কেই খুঁজতো।
‘অ’র সাথে সর্বশেষ দেখা হয়েছিল শিমুলিয়া গ্রামে। আমার আরেক সহপাঠী ফরিদ আমাকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল। আমরা চইচই করে সারাটাদিন সারাগ্রাম ঘুরে বেড়ালাম। দুপুরে কফিলদের বাড়িতে গিয়ে ভাত খেলাম। বিকালে শুভ আর খায়েরও আমাদের সাথে এসে মিলিত হলো। ওরা সবাই আমার সহপাঠী; সবাই কলকল খলখল করতে করতে হাঁটছিল, কিন্তু আমার মন খুব উস্‌খুশ করছিল- হায়, ‘অ’-কে আজ দেখতে পেলাম না, বা ‘অ’র সাথে আজ দেখাই হলো না! ঠিক এমন সময় একদঙ্গল মেয়ে দৌড়ে রাস্তা পার হচ্ছিল। বাতাসে ওদের ওড়না উড়ছিল। বেণির মাথায় গোল করে পাকানো লালফিতার ফুল দুলছিল। আমি ওদের উড়ন্ত ওড়না আর ফুলবেণির এপাশ-ওপাশ দোলখাওয়া দেখছিলাম। ছুটতে ছুটতে হঠাৎ যে-মেয়েটি মুখে হাসি ছড়িয়ে একঝলক পেছন-ফিরে তাকালো, সে ছিল ‘অ’ এবং আমার হৃদয় বিদীর্ণ করে মুহূর্তেই সে হাস্যচ্ছন্দে সখীদের সাথে বাড়ির আড়ালে হারিয়ে গেল। তারপর শিমুলিয়া গ্রামে আর যাওয়া হয় নি। ‘অ’র অনেক খোঁজ নিয়েছি। কেউ আমাকে জানায় নি ‘অ’ ভালো নেই, ‘অ’ আমাকে অনেক খুঁজেছে, ‘অ’ আমার জন্য কাঁদতে কাঁদতে চক্ষু লাল করেছে। অনেকদিন পার হয়ে গেলে, দীর্ঘ ১৭ বছর পর যেদিন শাহজাহানের সাথে দেখা হলো, ওকে জড়িয়ে ধরে অনেকক্ষণ মনের উষ্ণতা আর নিগূঢ় ভালোবাসা বিনিময় করলাম, আর বারংবার ওর শরীরে আমার হৃদ্‌স্পন্দন ছড়িয়ে জানতে চাইলাম, শাহজাহান, তুই আমাকে শুধু এটুকু বল- স্বামীর ঘরে গিয়েও, সন্তানের জননী হওয়ার পরও, আমাকে ভেবে ভেবে আজও ‘অ’ চোখের জল ফেলে, যেমন আমি নিজেও স্ত্রীর চোখের দিকে তাকিয়ে শুধু ‘অ’-কে খুঁজতে থাকি।




‘অ’-র কথা তো ভুলেই গিয়েছিলাম; কিন্তু শাহজাহানের সাথে আড্ডায় বসলে স্কুলের আম্রবাগানে টগবগে দুপুর নেমে আসে, যেখানে আমরা সহপাঠীরা আজও, অনন্তকাল ধরে আড্ডার আসর গেড়ে বসে আছি, অদূরে কাঁঠালবাগের ছায়ায় মেয়েরা আমাদের দিকে বার বার ফিরে ফিরে চায়, আর মুচকি হাসিতে আমাদের প্রাণ ছিঁড়ে ফালি ফালি করে। আমি কোনোকালেই কোনো আড্ডার মধ্যমণি হতে পারি নি। কফিলের মুখে কথার তুবড়ি ফোটে। খায়েরের গল্পে আড্ডা জীবন্ত হয়ে ওঠে। আমি শুধু শুনি, মনের সাধ মিটিয়ে ওদের আড্ডা উপভোগ করি। ‘অ’র কথা অনেক আগেই ভুলে গিয়েছি। শাহজাহান জম্পেশ গল্প শুরু করে। ও সবার কথা বলে। শাহনাজ ওর মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে; পারুল বিয়ে করিয়েছে ছেলেকে; করিম নানা হয়েছে সবার আগে; নয়ন আর শায়লার বিয়েটা শেষ পর্যন্ত টিকলো না- আহা, কত না মধুর ছিল ওদের প্রেম। আমি অধীর উন্মুখ থাকি- এ বুঝি শাহজাহান ‘অ’র কথাটাও তুলবে। কিন্তু শাহজাহান শেষ পর্যন্ত ওর নিজের প্রেমকাহিনি বলতে শুরু করে। দীর্ঘক্ষণ আবেগ মিশিয়ে গল্প বলার পর সে সান্ত্বনার সুরে বলে, ‘প্রেমিকা হিসাবে মেয়েরা যত সেরা, বিয়ের পর ততখানিই নিরামিষ, রোমান্সের একফোঁটাও থাকে না, রসকষ সব শুকাইয়া যায়। এটা দাও, ওটা দাও, সেটা নাই কেন? খালি ডিমান্ড আর ডিমান্ড। সারাদিন চেঁচামেচি। শুকনা কাঠ। তক্তা। বুঝলি?’
আমি আর আগ্রহ চেপে রাখতে পারি না। বলি, ‘আচ্ছা, অযুতির কথা বল।’ কথাটা বলেই আমি চমকে উঠি- কী করে হঠাৎ ‘অযুতি’ নামটা মনে পড়ে গেল!
শাহজাহান মাথা উঁচু করে জিজ্ঞাসু চোখে আমার দিকে তাকায়।
আমি মুখ মলিন করে হাসি। ও জিজ্ঞাসা করে, ‘অযুতি যেন কোনটা?’
‘আরে ঐ যে, তোদের পাড়ার মেয়ে। সেই মেয়েটা। ঐ যে…’
শাহজাহানের চোখ আরো সরু হলে আমি বলি, ‘অযুতি কি জানে, ওরে নিয়া আমি একটা মস্ত উপন্যাস লিখে ফেলেছি? ‘অন্তরবাসিনী’ যার নাম?’
শাহজাহানের হুঁশ হয়। ও অট্টহাসি দিয়ে ওঠে। অনর্গল হাসতে হাসতে বলে, ‘আমারে আর হাসাইস নারে পাগল। হাসতে হাসতে আমি মইরা গেলাম। আমারে ধর ধর। আমি হাসতে হাসতে মইরা গেলাম।’ তারপর একটু দম নিয়ে বলে, ‘ব্যবসা বাণিজ্য, জমিজমা নিয়া ও এখন মহাব্যস্ত। ফুইল্যা ডোল হইয়া গেছে। হাঁটলে মনে হয় একটা হাতি হাঁইটা যাইতেছে। মুখ ভইরা খালি পান চিবায়। কথা বলতে গেলে পানের পিক ছুইটা আসে আমাদের শরীরে। বইটই পড়ার কি বেল আছে অযুতির? ও এখন সংসারের পাক্কা গিন্নী।’
আমি একটু বিমর্ষ ও উদাস হয়ে পড়ি। অযুতির উঠতি যৌবনের একটা সুন্দর ছবি এতদিন আমার চোখে ভাসতো। একটা হালকাপাতলা শ্যামলাবর্ণ মেয়ে, যে নেচে নেচে ছোটে, খিল খিল করে হাসে, যার হাসিতে পৃথিবীর বুক ভরে ওঠে, যার চুলের গন্ধে বাতাস মূর্ছা যায়, সে-মেয়ে আজীবন প্রেমিকা হয়েই থাকবে যে-কোনো প্রেমাকাঙ্ক্ষী যুবকের বুকে। তার বয়স বাড়তে পারে না, অগোছালো, ভারী শরীরে নিতম্ব দুলিয়ে যত্রতত্র পানের পিক ফেলা বেরসিকা হৃদয়হীনা হতে পারে না অযুতি।
‘ধূর, কী কস?’ আমি শাহজাহানের কথা অবিশ্বাসের সুরে উড়িয়ে দিতে চাই।
ও স্বর একটু নামিয়ে বলে, ‘কথা মিথ্যা না। একদম গ্যাছে অযুতি। মানুষের টাকাপয়সা মাইরাধইরা এখন একটা টপ ক্রিমিনাল হইয়া গেছে। কবে যে ক্রস ফায়ারে খতম কইরা দেয়, বলা যায় না।’
আমি চমকে উঠি। ‘হায় হায়! একী সর্বনাশ! এতখানি? আমার বিশ্বাস হয় না রে! অসম্ভব!’
শাহজাহান ‘হুহ্’ বলে একটুকরো শব্দ করে, যার অর্থ অত্যন্ত অস্পষ্ট।
অযুতির ব্যাপারে শাহজাহান হয়ত অনেকখানি বাড়িয়েই বলে থাকবে। ওর এই বাড়িয়ে বলার কারণ আমার কাছে গোপন কোনো রহস্য মনে হয় না। অযুতির প্রতি আমার একটা বাড়তি আগ্রহ বা আকর্ষণ সৃষ্টি হোক, যার ফলে একটা অশুভ পরিণতি নেমে আসুক আমার বা অযুতির সংসারে, শাহজাহান নিশ্চয়ই এটা চায় না। এ ছাড়া আর কোনো কারণ আমি খুঁজে পাই না। এমনও না যে, অযুতির সাথে স্বয়ং শাহজাহানেরই একটা অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, ও চায় না আমার আকস্মিক অভ্যুদয়ে তাতে ছেদ পড়ুক। ও কখনোই এ ধাঁচের কেউ নয়।
আমার ধারণা যে মিথ্যা নয় তা বুঝতে পেলাম আরেকদিন, যখন শাহজাহানকে বললাম, ‘চল, অযুতিকে একদিন দেখতে যাব। ওর হাতে ‘অন্তরবাসিনী’ না দিয়া আমি শান্তি পাচ্ছি না।’
শাহজাহান খুব শান্ত স্বরেই বললো, ‘তুই যেই অযুতিরে নিয়া উপন্যাস লিখেছিস, আজ তারে দেখলে খুব কষ্ট পাবি। মনে হবে বই লেখাটাই একটা বিরাট অপচয় হইয়া গেছে। ওরে দেখলে ওর দিকে ফিরাও তাকাবি না। মেয়েরা বুইড়া হইলে এমনই হইয়া যায়।’ তারপর আমারে সান্ত্বনা দিয়ে বলে, ‘আমি জানি তোর মনের মধ্যে সেই ১৬ বছরের একজন অযুতি বাস করে। খামাখা একটা সত্যকে কবর দিতে চাস কেন?’ শাহজাহানের শেষ কথাটা আমার কানের কুহরে অজস্রবার প্রতিধ্বনিত হতে থাকলো- ‘খামাখা একটা সত্যকে কবর দিতে চাস কেন? খামাখা একটা সত্যকে কবর দিতে চাস কেন?’

আমি এরকম গল্প শুনেছি- প্রেমে ব্যর্থ একজন পুরুষ বয়সের শেষ প্রান্তে গিয়ে বহুকাল আগে হারানো প্রেমিকাকে একনজর দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়েন। অনেক শ্রম বিসর্জনের পর প্রেমিকার সন্ধান পান। একদিন সেই প্রেমিকার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন তিনি। প্রেমিকাকে দেখার ইচ্ছে প্রবল হলেও চক্ষুলজ্জার কারণে মুখ ফুটে কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করতে পারেন না। তিনি যৌবন কালের মতো প্রেমিকার বাসার চারপাশে বার কয়েক ঘুরলেন, তারপর সামনের মুদি দোকানের বেঞ্চিতে বসে সময় কাটালেন। মাঝে মাঝে বাড়ি থেকে বউঝিরা বের হয়, বয়োবৃদ্ধ মহিলারাও কেউ কেউ এদিকে আসলেন-গেলেন, কিন্তু পুরোনো প্রেমিকার দেখা মেলে না কিছুতেই। বেলা শেষে বিষণ্ণ বদনে ফিরতি পথে রওনা হলেন পুরুষপ্রেমিক। তখন নাতির হাত ধরে কূঁজো হয়ে লাঠিতে ভর করে খুটখুট শব্দে ও-পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল তার হারিয়ে যাওয়া বিগতযৌবনা প্রেমিকা, যার সাথে তার চোখাচোখি হলো, কিন্তু ঘুণাক্ষরেও কেউ টের পেলেন না, একদিন তারা উন্মত্ত প্রেমিকপ্রেমিকা ছিলেন- পরস্পরকে না পেয়ে যাদের বুক ভেঙে চৌচির হয়ে গিয়েছিল।



অযুতির চেহারাটা ভারি মিষ্টি। মিষ্টি একটা পাখির মতো সে একডাল থেকে আরেকডালে ছুটে যায়। প্রজাপতির মতো রঙিন ও ঝলমলে ওড়না বাতাসে উড়িয়ে সে দৌড়ে চলে। আমি নেশাগ্রস্তের মতো অযুতির দিকে তাকিয়ে থাকি। আমার চোখ নড়ে না। অযুতি আজও এমনি। আমি কেবলই ভাবতে থাকি।
শাহজাহানকে আর তোয়াক্কা করি না, সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি আমি নিজ হাতে অযুতিকে ‘অন্তরবাসিনী’ তুলে দেব। ওর বিস্ময়াভিভূত মুখ দেখে আমিও বিস্মিত হতে চাই- এর চেয়ে বড়ো আনন্দ আর কিছু নেই।
একদিন আফরোজাকে নিয়ে অযুতির উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হই। আমার হাতে সুন্দর মোড়কে বাঁধাই করা দুটি ‘অন্তরবাসিনী’। কীজন্য দু’কপি নিচ্ছি, সেটা আমি নিজেও জানি না। হতে পারে- এককপি অযুতির হাতে দেবার পর সে হয়ত দ্বিতীয় কপিটি চাইবে অন্য কাউকে গিফট করার জন্য। তাকে নিয়ে একটা বই লেখা হয়েছে, এ কথা খুব কাছের মানুষকে জানানোয় অনেক গর্ব হবে তার।

আমরা ভেতরে উত্তেজনা। আমার কল্পনাবিলাসী চোখে অযুতি যদিও তার সেই আগের জায়গাটিতেই স্থির রয়েছে, তবু আমি মনকে প্রস্তুত রাখলাম গল্পের প্রেমিকার চাইতেও অপ্রত্যাশিত কিছু মোকাবেলা করার জন্য। আমি জানি না, কেন এই অন্তিম বেলায় আমার এ নেশা হলো অযুতিকে খুঁজে বের করার; অযুতির হাতে এ বইটা তুলে দিলে এর মূল্যই বা কতখানি বাড়বে, তা আমি জানি না; কিংবা অযুতির মুগ্ধতা দেখে আমার যে-তৃপ্তি ঘটবে, সেই তৃপ্তিরই বা কী মূল্য আছে, তাও আমি ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। কিন্তু আমি প্রাণপণে চাইছি এ বইটি অযুতির হাতের একটু স্পর্শ পাক। বইটি হাতে নিয়ে অযুতি একবার আমার চোখে তাকিয়ে থাকুক, এক মুহূর্তের জন্য, দেখুক, একবার যে-ভালোবাসার জন্ম হয়, তা শত আগুনে জ্বলতে জ্বলতে অনিঃশেষে অফুরন্ত হয়; অনেক অনেক ভালোবাসার গভীরে তা ঢাকা পড়ে গেলেও কখনো নির্বাপিত হয় না।
আমরা অযুতির বাড়িমুখে যেতে থাকি। টুকিটাকি কথা বলি। চারদিকের প্রকৃতি দেখি। প্রকৃতি বদলে যায়। সবকিছু বদলে যায় প্রতিদিন। মানুষ বদলায়। বদলে যায় মানুষের মন। ২৭ বছর চলে গেছে। আজ কেন যেন মনে হচ্ছে, অযুতিকে দেখার প্রথম দিন থেকেই আমার মনের নিভৃত একটা কোণে সে গভীর একটা স্থান দখল করে নিয়েছিল। বয়স থমকে থাকে না; যৌবন এবং রূপও চিরস্থায়ী নয়। আমরা বদলে গেছি। অযুতিও আগের অযুতি নেই। আমি এই বর্তমানের অযুতির সামনে গিয়েই দাঁড়াবো। ওর ঝলসে যাওয়া রূপ ভেদ করে অন্তরের কুঠরিতে যে শাশ্বত সৌন্দর্য ফুটে আছে- আমার মন বাড়িয়ে সেই সৌন্দর্যকে ছোঁব।




বাড়িতে যাওয়ার পর অবিকল অযুতির মতো দেখতে দুটো মেয়ে আমাদের সামনে এসে দাঁড়ালো। আমাদের বুঝতে সময় লাগলো না যে এরা দুজন অযুতিরই গর্ভজাত কন্যা। ওদের মিষ্টি হাসিতে ঘর ছেয়ে গেল। কথাবার্তা চলতে চলতেই ওরা সবচাইতে কষ্টের সংবাদটি জানালো, ওদের মা আর বেঁচে নেই, বছর তিনেক হলো মারা গেছেন। সহসাই আমাদের মন বেদনায় ভারী হয়ে ওঠে। বেশ কিছুক্ষণ আমাদের মধ্যে কোনো কথা হয় না। মেয়ে দুটোর মুখও কালো হতে থাকে।
আরো কিছু সময় পরে আমরা উঠে পড়ি। ওরা দুজন রাস্তা পর্যন্ত এগিয়ে দেয় আমাদের। বিদায় নিয়ে পথে যেতে যেতে আমরা বার কয়েক ফিরে তাকাই। হঠাৎ আমি ঘুরে দাঁড়াই। ওরা তখনো আমাদের দিকে তাকিয়ে ছিল। আমি এগিয়ে আসি ওদের সামনে। আমার সাইড ব্যাগ খুলি। আসার সময় দুটো টবলারেন চকোলেট কিনেছিলাম অযুতির বাচ্চাদের জন্য, দিতে ভুলে গিয়েছিলাম। চকোলেট দুটো বের করে ওদের দুজনের হাতে দিই। আমার ‘অন্তরবাসিনী’ অন্তরেই থেকে যায়। ওদের হাতে এ বই দিতে ইচ্ছে হচ্ছিল না। কেন ইচ্ছে হচ্ছিল না তার কোনো ব্যাখ্যাও নেই আপাতত।
আমি ওদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিই। আদরের একটা ভাষা আছে। ওদের চোখ ভিজে উঠলো সেই ভাষার স্পর্শে। হয়ত আমারও চোখ ফেটে পানি গড়িয়ে পড়বে এখনই, তার আগেই উলটো ঘুরে আমি হাঁটতে থাকি। একবার শুনলাম ওরা বলছে- ‘মামা, আবার আসবেন।’ আমি পেছনে না তাকিয়েই হাত নাড়িয়ে ওদের কথার জবাব দিই, তারপর আফরোজাকে নিয়ে বাসস্ট্যান্ডের দিকে হাঁটতে থাকি।




২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি কলকাতার বেল ভিউ হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৮২ বছর বয়সে সুচিত্রা সেন মৃত্যুবরণ করেন। তার আগে ১৯৭৮ সালে সুদীর্ঘ ২৫ বছর অভিনয়ের পর তিনি চলচ্চিত্র থেকে অবসর গ্রহণ করেছিলেন। এর পর তিনি লোকচক্ষু থেকে আত্মগোপন করেন এবং রামকৃষ্ণ মিশনের সেবায় ব্রতী হন। ২০০৫ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারের জন্য সুচিত্রা সেন মনোনীত হয়েছিলেন, কিন্তু ভারতের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে সশরীরে পুরস্কার নিতে তাঁকে দিল্লী যেতে হবে। তিনি ঘর থেকে মানুষের সামনে বের হন নি এবং দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারও গ্রহণ করেন নি। সাত পাকে বাঁধা, সাগরিকা, বিপাশা, পথে হলো দেরী, সাড়ে চুয়াত্তর, দেবদাস, চাওয়া পাওয়াসহ অজস্র ছায়াছবিতে অভিনয় করে সুচিত্রা সেন আমাদের হৃদয়ে একটা চিরস্থায়ী রূপ ধারণ করে আছেন। ৮২ বছর বয়সে দেখতে কেমন হয়েছিলেন তিনি, আমরা জানি না। তিনি তাঁর অগণিত ভক্তহৃদয়ের রক্তক্ষরণের কথা ভেবেই হয়ত জনসাধারণ্যে বেরিয়ে নিজের ক্ষয়ে যাওয়া রূপ আর বুড়িয়ে পড়া যৌবন প্রকাশ করতে চান নি। সাগরিকা বা সাড়েচুয়াত্তরে যেমন দেখেছি সুচিত্রা সেনকে, তিনি আজও তেমনি হাস্যোজ্বল রোমান্টিকতাময়, চিরকাল তেমনি অটুট থাকবেন।

অযুতির সাথে আমার দেখা হলো না। অযুতির সাথে আর দেখা হবেও না কোনোদিন। অযুতি বুড়িয়ে গেছে, পান খেয়ে বিদ্‌ঘুটে করে রাখে মুখ- শাহজাহানের এ কথা আমি বিশ্বাস করতে চাই না। আমি চোখ বুজলেই আজও দেখতে পাই, কবিতার মতো স্নিগ্ধ লাবণ্যময়ী একটা মেয়ে গোধূলির রাঙা আঁধারীতে হাত নেড়ে নেড়ে আমাকে বলছে, আচ্ছা, কীভাবে এত ভালো কবিতা লেখেন, বলুন তো?


৬ এপ্রিল ২০১৯



অন্তরবাসিনী, উপন্যাস, একুশে বইমেলা ২০০৪, ডাউনলোড লিংক

মন্তব্য ৪৮ টি রেটিং +১০/-০

মন্তব্য (৪৮) মন্তব্য লিখুন

১| ১১ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৯:৪৪

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন:
সুন্দর তো ।
ভালো লাগার মতো কথামালা।

১১ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৯:৫৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধন্যবাদ সাজ্জাদ ভাই। শুভেচ্ছা।

২| ১১ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১০:১১

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: আবেগময় লেখা। বিশেষ করে শেষের দিকে আমার মনটা ভারি হয়ে উঠেছিল।

১১ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১০:১৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধন্যবাদ আবুহেনা ভাই।

৩| ১১ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১০:১৮

চাঁদগাজী বলেছেন:


আপনার উপন্যাসের পটভুমি, নাকি আপনার জীবনের আসল ঘটনা?

১১ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১০:৪৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ চাঁদগাজী ভাই।

৪| ১১ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১১:০৫

ডার্ক ম্যান বলেছেন: শেষের দিকে এসে খারাপ লাগলো । আপনার বন্ধু মৃত্যুর খবর জানতো কিন্তু আপনাকে জানাতে চায় নি । আপনার সাথে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকলে ভাল হত , আপনি আমাকে নিয়েও কিছু গল্প কবিতা উপন্যাস লিখতেন । হুমায়ূন যেমন তাঁর চারপাশের মানুষদের নিয়ে লিখেছেন , আপনিও তেমন লিখে চলেছেন ।
যদি আমার ভুল না হয়ে থাকে , অভিনেত্রী চঞ্চলা চঞ্চুকে নিয়ে আপনি বিনিময়ে ঈশ্বর নামক কবিতা লিখেছিলেন ।

১১ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১১:২৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: লেখকের চারপাশে গল্পের ক্যারেকটাররা ঘোরাঘুরি করে। গল্পের উপাদানও ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। আমার প্রথম দিকের গল্পগুলোর মূল চরিত্র ছিল আমার ক্লাসমেট ও বন্ধুবান্ধবরা। আমার হাইস্কুল জীবনের বন্ধুদের নিয়েই পুরো 'অন্তরবাসিনী'। আমার ফ্রেন্ডলিস্টে আছে আব্দুল করিম, ও হলো আমার প্রধান চরিত্র। শাহজাহান মিয়া নামে আরেকজনকে দেখবেন খুব রেগুলার। সেও আরেকটা প্রধান চরিত্র। ঐ সার্কেলের বাইরে আছে বাল্যকালের আরেকটা গ্রুপ। একটা ব্লগার গ্রুপও আছে কিন্তু :) তবে, এর বাইরে বেরোবার চেষ্টা করেছি, যেগুলো 'কালের চিহ্ন'তে আছে।

একটা ক্যারেকটার লেখকের অজান্তেই মনে ঢুকে যায়। তার কথাগুলো সংলাপে চলে আসে। আমার ক্ষেত্রে অহরহ এমন হয়।

হ্যাঁ, আপনি আমার বন্ধু সার্কেলের কেউ হলে অবশ্যই আমার লেখায় আসতেন। ঐরকম গুণ আছে বলেই আসতেন, যেমন করিম, শাহজাহান, ইমরান, শাহনাজ (খ্যাতির লাগিয়াতে নায়লা)।

হ্যাঁ, তাকে নিয়ে একটা কবিতা আছে।

ধন্যবাদ সৈকত ভাই।

৫| ১১ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১১:০৯

রাজীব নুর বলেছেন: অন্তরবাসিনী আমার পড়া হয়নি। পড়া উচিত ছিলো আরো আগেই। বইটা আমি সংগ্রহ করবো। অথবা আপনার কাছে বেশি থাকলে এক কপি আমাকে দিতে পারেন।

১১ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১১:৩৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আমার ইনবক্সে আপনার ইমেইল্টা পাঠিয়ে দিয়েন। আপনার কাছে আমার কোনো বই থাকা খুব আনন্দের ও গর্বের।

৬| ১১ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১১:১১

চাঁদগাজী বলেছেন:



লেখক বলেছেন, " প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ চাঁদগাজী ভাই। "

-প্রশ্ন পড়লেন, প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ দিলেন; উত্তর লিখতে কয়েকদিনের প্রস্তুতি লাগবে?

১১ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১১:৪৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: প্রিয় চাঁদগাজী ভাই, আপনার সাথে একটু মজা করলাম। ক্ষমা কইরেন প্লিজ।

যে-কোনো প্রশ্নের ডাইরেক্ট এবং টু দ্য পয়েন্ট উত্তর চান সবাই। এটা না পেলে আপনি সন্তুষ্ট থাকেন কিনা, তা একটু পরখ করে দেখলাম। আপনিও সরাসরি জবাব চান তাহলে :) এটা মনে রাখবেন প্লিজ। কেউ প্রশ্ন করলে তার উত্তর দেয়াটা প্রয়োজন।

আমার এটা একটা গল্প, বইয়ের পটভূমিকা এবং কিছু সত্যকাহিনির সংমিশ্রণ। আমার উত্তরে খুশি হলেন কিনা জানি না, কিন্তু আমার উত্তর এটাই।

ধন্যবাদ আবার আসার জন্য। আবার আসবেন। শুভেচ্ছা।

৭| ১১ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১১:১২

ঢুকিচেপা বলেছেন: শুরুটা ভালই ছিল কিন্তু শেষে মনটা খারাপ হয়ে গেল।

কয়েকটা লাইনের অনুভূতি আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে-
“নাতির হাত ধরে কূঁজো হয়ে লাঠিতে ভর করে খুটখুট শব্দে ও-পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল তার হারিয়ে যাওয়া বিগতযৌবনা প্রেমিকা, যার সাথে তার চোখাচোখি হলো, কিন্তু ঘুণাক্ষরেও কেউ টের পেলেন না, একদিন তারা উন্মত্ত প্রেমিকপ্রেমিকা ছিলেন- পরস্পরকে না পেয়ে যাদের বুক ভেঙে চৌচির হয়ে গিয়েছিল।”

“আমি প্রাণপণে চাইছি এ বইটি অযুতির হাতের একটু স্পর্শ পাক। বইটি হাতে নিয়ে অযুতি একবার আমার চোখে তাকিয়ে থাকুক, এক মুহূর্তের জন্য, দেখুক, একবার যে-ভালোবাসার জন্ম হয়, তা শত আগুনে জ্বলতে জ্বলতে অনিঃশেষে অফুরন্ত হয়; অনেক অনেক ভালোবাসার গভীরে তা ঢাকা পড়ে গেলেও কখনো নির্বাপিত হয় না।”

ধন্যবাদ।

১২ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:০১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: আপনার উদ্ধৃতি দেখে আমি বিস্মিত ও অভিভূত হয়েছি। ৪/৫টা জায়গা আছে, যেগুলো এ গল্পের প্রাণ, এ দুটো সেগুলোর মধ্যে প্রধান।

ধন্যবাদ ঢুকিচেপা।

৮| ১১ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১১:৩৯

সাড়ে চুয়াত্তর বলেছেন: আপনি নিজের নামে ব্লগে নেই কেন? আপনি যেহেতু সাহিত্য চর্চা করেন এটা তো আপনার জন্য ভালো হতো মনে হয়।

১২ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:০৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: স্বনামে ছিলাম এবং আছি। দেখি, একদিন যেতে হবে ওখানে শীঘ্রই। ধন্যবাদ বিষয়টার গুরুত্ব বোঝার জন্য।

৯| ১১ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১১:৪৮

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: অনেক কিছু লিখবো বলে পড়ার শুরু থেকে মনস্থির করেছিলাম।কিন্তু শেষে এসে ভাষা হারিয়ে ফেললাম।‌মনটা বিষণ্ণতায় ভরে গেল।
শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা নিয়েন ভাইজান।

১২ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:০৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: গল্প পড়ার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ পদাতিক চৌধুরী ভাই। শুভেচ্ছা।

১০| ১২ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:১৯

চাঁদগাজী বলেছেন:


উত্তর ঠিক আছে।

১২ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:২৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধন্যবাদ চাঁদগাজী ভাই।

১১| ১২ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:২১

লরুজন বলেছেন: উনি কোথায়? পোস্টে উনার ১০টা কমেন্ট চাই চাই চাই

১২ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:২৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: কার কথা বললেন?

১২| ১২ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:৩৫

নেওয়াজ আলি বলেছেন: আমার প্রথম বই সূর্যমুখী এবং সময়ের শেষ সংলাপ। ৯২/৯৩ সালে যখন কলেজে পড়ি তখন বের করি। তারপর আর হয়নি । ভাবছি দুইটা গল্পের বই করবো । তবে কবে জানি না।

১২ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৫৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ২০২১-এ বইমেলা কীভাবে আয়োজন করা হবে, তা জানা নেই। আদৌ হবে কিনা সেটা নিয়েও বিস্তর সন্দেহ আছে। তবে, বই বের করার ইচ্ছে থাকলে এখনই প্রস্তুতি নিয়ে নিন।

১৩| ১২ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১:২৯

মিরোরডডল বলেছেন:

আমার চোখ চারদিকে ‘অ’ -কেই খুঁজতো

১২ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৮:৫৭

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: কালে আমার অবস্থা এমন হলো, আমি যদি কোনো ভিনগ্রহেও যেয়ে উঠতাম, আমার চোখ চারদিকে শুধু ‘অ’-কেই খুঁজতো।

১৪| ১২ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১:৩৩

শায়মা বলেছেন: ভাইয়া সব গল্প এমন করে লেখো.. বাপরে........ :(

১২ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৯:০১

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধন্যবাদ আপু। সত্যিই খুব অনুপ্রাণিত।

১৫| ১২ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১:৫৮

কল্পদ্রুম বলেছেন: একসময়ের চোখ টেরা করে দেওয়া সুন্দরী মধ্য বয়সে যেতে যেতে সেরকম আর থাকেন এমন নজীর কম বলে মনে হয়।বরং উল্টোটা বেশি হয় বোধ হয়।একসময় যাকে পূর্ণিমা মনে হতো,পরে থাকে রিনা খান ভেবে ভয় লাগে।জীবনের প্রতিটা বয়সের সৌন্দর্যকে ধারণ করেছেন এমন সুন্দরি নারীর সংখ্যা খুব কম।শেষের দিকে মন খারাপ হলো।

১২ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৯:১৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: রূপের স্থায়িত্ব নিয়ে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন, যার সাথে আমার মত মিলে যায়। আমাদের তৃতীয় বিশ্বে সচরাচর এমনই হয়ে থাকে। অনুন্নত/স্বল্পোন্নত আর্থ-সামাজিক অবস্থাই এর জন্য প্রধানত দায়ী বলে মনে হয়। তবে, জীবনযাত্রার মান আগের তুলনায় অনেক ভালো বর্তমানে। এর স্থায়িত্বও বেড়েছে বহুগুণ। ছোটোবেলায় একটা প্রবাদ শুনতাম, বাঙালি নারী, কুড়িতেই বুড়ি। তখন বুঝতাম না, কিন্তু যখন বুঝলাম তখন লজ্জা ও ঘৃণা দুটোই হতো। এখন মেয়েদের বিয়ে হয় ২৫/২৬-এর পর।

আমাদের দুজন ক্লাসমেট ছিল। তারা নানি হইয়া গেছে :) কিন্তু এখনো দেখলে ভুল হতে পারে, তারা হয়ত কলেজ-ভার্সিটিতে পড়ে :)

গল্প পড়ার জন্য ধন্যবাদ কল্পদ্রুম।

১৬| ১২ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৩:১৮

সোহানী বলেছেন: অজুতিদের কখনই খুঁজতে হয় না কবি ভাই। আপনার বন্ধু শাহজান ঠিক কাজটিই করেছিল। আপনার স্বপ্নকে ধরে রাখার চেস্টা করেছিল।

১২ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৯:১৫

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: শাহজাহান খুব বুদ্ধিমান। বুদ্ধিমান মানুষরা ঠিক কথাই বলে।

পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ আপু।

১৭| ১২ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১০:৫৯

মুক্তা নীল বলেছেন:
ভাই ,
অযুতী'র প্রতি ভালোবাসাটা কি একতরফা ছিলো ?
এক ঝলক একটু দেখার জন্য কত দূর আসা যাওয়া করা
নানান বাহানা এটাই হয়তো ছিলো প্রকৃত ভালোবাসা ।
যার কারণে আজকে অন্তর্বাহিনী বইটির সৃষ্টি হয়েছে ।
মানুষ মরণশীল কিন্তু তাই বলে উনি এত তাড়াতাড়ি চলে
গেলেন এটা ভেবেই দুঃখ লাগছে।

১২ ই জুলাই, ২০২০ দুপুর ১২:৩৮

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: অযুতী'র প্রতি ভালোবাসাটা কি একতরফা ছিলো? এটা আপু সত্যিই আমার জানা নাই। আমার পক্ষ থেকেও কোনো ভালোবাসা ছিল কিনা, বলা কঠিন। তবে, আপনার এ কথাটা বিশ্লেষণ করলে অনেক কিছুই বেরিয়ে আসে - এক ঝলক একটু দেখার জন্য কত দূর আসা যাওয়া করা
নানান বাহানা এটাই হয়তো ছিলো প্রকৃত ভালোবাসা। যার কারণে আজকে অন্তর্বাসিনী বইটির সৃষ্টি হয়েছে।


গল্পটি খুঁটিয়ে পড়েছেন দেখে ভালো লাগলো। অনেক ধন্যবাদ আপু।

১৮| ১২ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৮:২৪

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
গল্পটি সুন্দর।

১২ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৮:৩০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ধন্যবাদ মাইদুল ভাই। শুভেচ্ছা।

১৯| ১২ ই জুলাই, ২০২০ রাত ৯:০০

আহমেদ জী এস বলেছেন: সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই,




অন্তরের কথাই বলেছেন।
আসলে ত্রিশ টপকে গেলে মেয়েদের শরীর ইস্তিরি না-করা শাড়ীর মতো হয়ে আসে। তবে সময় যতোই কারো বয়েসী শরীরের আস্তরণ খসাক না কেন মনের আলমারী থেকে তার ছবি ইস্তিরি করা নিভাজ শাড়ির মতোই বেড়িয়ে আসে।

সূচিত্রা সেনের কথা টেনে এই যে গল্পটার ভিত গাড়লেন, তেমনি বর্তমানের বম্বের রেখাকে টেনে অন্তরবাসিনীকে আবার নতুন ভাবে উপস্থাপন করে আরেকটি গল্প লিখলে কেমন হয় !

১৩ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৯:৩০

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন:
হ্যাঁ, আপনিও সুন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ কথা তুলে ধরেছেন। বাহ্যিক রূপটা তেমন গুরুত্ব বহন করে না, যদি ভেতরের অন্তরে কোনো রোমান্টিকতা না থাকে। একজন মনশীল নারীর বয়স যতই হোক না, তার শরীরে যতই ভাঁজ পড়ুক না কেন, বয়েসী শরীরের আস্তরণ খসাক না কেন মনের আলমারী থেকে তার ছবি ইস্তিরি করা নিভাজ শাড়ির মতোই বেড়িয়ে আসে। এ বিষয়টা অবশ্য চিরন্তন এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্যই প্রযোজ্য।

সূচিত্রা সেনের কথা টেনে এই যে গল্পটার ভিত গাড়লেন, তেমনি বর্তমানের বম্বের রেখাকে টেনে অন্তরবাসিনীকে আবার নতুন ভাবে উপস্থাপন করে আরেকটি গল্প লিখলে কেমন হয়! হাহাহা। ভালো বলেছেন খুব। তাহলে বৃদ্ধ বয়সে আরেকটা প্রেম করতে হবে, এরপর চিরযৌবনা ও চিরআবেদনময়ী রেখাকে আনতে হবে উপমা হিসাবে :)

সুন্দর ও রসাত্মক কমেন্টের জন্য অনেক ধন্যবাদ প্রিয় আহমেদ জী এস ভাই।

২০| ১২ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১০:৫৭

রাজীব নুর বলেছেন: জ্বী মেইল এড্রেস পেয়ে যাবেন।

১৩ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৯:৩২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: ভুলে ই-মেইল অ্যাড্রেস চেয়েছিলাম রাজীব ভাই :( ইনবক্সে আপনার বাসার ঠিকানা/কুরিয়ার পাঠানোর ঠিকানা মোবাইলসহ দেবেন প্লিজ। আমি বই কুরিয়ার করে পাঠিয়ে দেব। কুরিয়ার এখন চালু আছে কিনা জানি না, তবে, চালু থাকলে এখনই, অন্যথায় চালু হওয়ামাত্রই পাঠিয়ে দেব। ধন্যবাদ।

২১| ১৩ ই জুলাই, ২০২০ রাত ১২:৩৫

অপু তানভীর বলেছেন: আপনার অন্তরবাসিনীকে নিয়ে লেখা গল্পটা পড়লাম । হারানো ভালোবাসার মানুষটিকে একবার দেখার জন্য মনের ভেতরে যে অদ্ভুত বাসনা সৃষ্টি হয় সেটার কোন ব্যাখ্যা মানুষের কাছে থাকে না । যদি অন্তরবাসিনীর সাথে পরে দেখা হয়ে যেত তাহলে আসলে কি হত? কেমন অনুভূতি হত সেটা জানার একটা আগ্রহ রয়ে গেল আমার । এমন কি পড়ার মধ্যেও এই ভাবছিলাম যে যখন দেখা হবে তখন সেই অনুভূতি আপনি কিভাবে বর্ণনা করবেন ! সঠিক ভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হত না সম্ভবত !

গল্প ভাল লাগলো । সেই সাথে বই ডাউনলোড করে নিলাম । দেখা যাক পড়ে কেমন লাগে !

১৩ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ৯:৪৪

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: যদি অন্তরবাসিনীর সাথে পরে দেখা হয়ে যেত তাহলে আসলে কি হত? খুব সুন্দর একটা প্রশ্ন এবং গুরুত্বপূর্ণ একটা দিক। গল্পের মূল রহস্য বা মাধুর্য এই প্রশ্ন বা এ প্রশ্নের উত্তরের মধ্যে লুকিয়ে আছে। এটার একটা ইঙ্গিত গল্পের মধ্যে কিন্তু আছে। গল্পের ভেতরে একটা গল্পের কথা বলা হয়েছে - তখন নাতির হাত ধরে কূঁজো হয়ে লাঠিতে ভর করে খুটখুট শব্দে ও-পথ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল তার হারিয়ে যাওয়া বিগতযৌবনা প্রেমিকা, যার সাথে তার চোখাচোখি হলো, কিন্তু ঘুণাক্ষরেও কেউ টের পেলেন না, একদিন তারা উন্মত্ত প্রেমিকপ্রেমিকা ছিলেন- পরস্পরকে না পেয়ে যাদের বুক ভেঙে চৌচির হয়ে গিয়েছিল। প্রাক্তন প্রেমিকাকে দেখার জন্য এই যে এত উত্তেজনা, বুকের ভেতরে অবিরাম অসহ্য ছটফটানি, তা হয়ত মুহূর্তেই চুপসে যেত, এতদিন ধরে বুকের ভেতর আটকে রাখা উদ্দামতা হয়ত নিমিষেই নিভে যেত। এর উলটোটাও হতে পারতো অবশ্য। পরস্পরের সাক্ষাৎ ঘটায় এতদিনের জ্বলত আগুন হয়ত শান্ত হতো। একটা তৃপ্তি নিয়ে বাকি জীবনটা চলার জন্য মানসিক শক্তি পেত।

এমন কি পড়ার মধ্যেও এই ভাবছিলাম যে যখন দেখা হবে তখন সেই অনুভূতি আপনি কিভাবে বর্ণনা করবেন ! সঠিক ভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব হত না সম্ভবত ! অনুমান ঠিক আছে।

অনেক ধন্যবাদ অপু তানভীর, গল্পটা পড়ার জন্য।

২২| ১৩ ই জুলাই, ২০২০ সকাল ১০:২৫

পদ্ম পুকুর বলেছেন: কলকাতার চন্দ্রিল ভট্টাচার্য খুব সুন্দর কতা বলেন, এক বক্তব্যে তিনি বলছিলেন- বাঙালি শিল্পসাহিত্য একটা লেঙ্গিবাচক যায়গায় দাঁড়িয়ে আছে। মানে বহুদিন আগে একটা মেয়েকে ভালোবাসার কথা বলতে চেয়েছিলো, কিন্তু বলতে পারেনি। বললে কি হতো; সেটাই বাঙালি ভেবে যায় ৬০, ৭০, ৮৫ বছর পর্যন্ত। এবং তা নিয়ে লিখলেই সে লেখা হৃদয় ছুঁয়ে যায়.....

প্রথম কয়েক লাইন পড়ার পর চন্দ্রিলের ওই বক্তব্যকে মনে রেখেই বাকিটুকু পড়ছিলাম। কিন্তু ক্রমেই মনে হলো, লেখাটা ওই ক্ষুদ্র গণ্ডিতে আবদ্ধ রাখা যাচ্ছে না, বরং কেমন একটা অর্ক-অনিমেষ-মাধবীলতার কালপুরুষের মত একটা সুররিয়ালিজম এসে ভর করছে। অগত্যা প্রিয়পোস্টে।

তবে আফরোজা ভাবীর সাথে তর্কটা খুবই উপভোগ্য হয়েছে... :`>

১৪ ই জুলাই, ২০২০ বিকাল ৫:৩৯

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: যদিও আমার লেখাকে চন্দ্রিল বর্ণিত ক্ষুদ্র গণ্ডি অতিক্রমকারী লেখা বলেছেন, কিন্তু মোটের উপর তাঁর কথাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 'নস্টালজিয়া' আমাদের একটি অতি প্রিয় শব্দ, আমরা খুব ঘন ঘন নস্টালজিক হতে চাই। বিগত প্রেমিকা কিংবা হতে-পারতো-প্রেমিকার কথা উঠলে আমরা খুব বেদনাকাতর হই, ওগুলো লিখেও খুব তৃপ্তি পাই, মনের বেদনা রিলিভ করি, পাঠক হিসাবে তা পড়ে বেদনার্ত হই। Our sweetest songs are those that tell of saddest thought.

আপনার সুররিয়ালিজম শব্দটায় আমি চমকে উঠলাম এবং অবাকও হলাম। যদিও সুররিয়াল গল্প হিসাবে লিখি নাই, তবে লেখার পর এখন মনে হচ্ছে একটা খাঁটি ও সার্থক সুররিয়াল গল্প লিখে ফেলেছি!

প্রিয় পোস্টে নেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

আর হ্যাঁ, আরেকটা বিষয় আপনি তুলে এনেছেন লাস্ট লাইনে, যেটি আমি নিজেই খুব উপভোগ করেছি, যদিও এখানে একটা বিরাট রহস্য আছে :) সেটিই বরং এটাকে সুররিয়াল আরো গাঢ় করে তুলেছে।

সুন্দর কমেন্টের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ প্রিয় পদ্ম পুকুর।

২৩| ১৬ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০৩

ডি মুন বলেছেন:
ইন্টারেস্টিং গল্প।

আবেগের ঘনঘটা পুরো লেখাটা জুড়ে। প্রেম তো আবেগেরই বহিঃপ্রকাশ।
একটা ব্যাপার চোখে লাগছে, তা হলো গল্পটাতে অযুথির সাথে লেখকের সম্পর্কের তেমন বিশেষ কোনো ঘটনা বা দীর্ঘ সম্পর্কের টানাপোড়েনের উল্লেখ নেই যা নিয়ে উপন্যাস লেখা যেতে পারে। তাহলে তাকে নিয়ে উপন্যাস লেখার গ্রাউন্ডটা তেমন শক্তভাবে তো দাড়াচ্ছে না।

এনিওয়ে, গল্পটা পড়ে ভালো লাগলো। আর এটা সত্যি যে নারীর সাথে রোম্যান্টিক প্রেমের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে মিলনের আকাঙ্ক্ষা, যৌনতা। সুতরাং পুরুষ তার আকাঙ্ক্ষিত নারীকে সবসময় যৌবনবতীই দেখতে চাইবে, এটা স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে।

ধন্যবাদ



১৬ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:১৩

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: খুব গঠনমূলক কিছু কথা বলেছেন ডি মুন ভাই। এজন্য অজস্র ধন্যবাদ। 'অন্তরবাসিনী' নামে আমার একটা উপন্যাস আছে। আবেগের ঘনঘটা সেই উপন্যাসেই বর্ণনা করা হয়েছে। ওটাকে উপলক্ষ করে এবং সত্যিকার একটা বাসনাকে পুজি করে এ গল্পটা, যাতে একটা চিরন্তন বার্তাও লুকানো রয়েছে।

আচ্ছা, তবুও, আবেগের ঘনঘটার ব্যাপারে পোস্টের অংশ দেখুন :

উপন্যাসটি লিখেছিলাম ঘটনা ঘটবার প্রায় বিশ বছর পর। যদিও এটাকে ‘ঘটনা’ বলছি, আদতে এটা কোনো ঘটনা বা দুর্ঘটনা জাতীয় কোনোকিছু নয়। স্কুলজীবনের শেষ ধাপে গিয়ে, এসএসসি পরীক্ষা দেয়ার সময় ‘অ’র সাথে আমার একটা ‘সম্পর্ক’র মতো সৃষ্টি হয়েছিল; এই ‘সম্পর্ক’ ব্যাপারটা নিয়েও আমার নিজের মনেই অনেক দ্বিধাগ্রস্ততা রয়েছে, অর্থাৎ আমি নিশ্চিত নই আমাদের মধ্যে সত্যিকারেই কোনো ‘সম্পর্ক’র মতো কিছু সৃষ্টি হয়েছিল কিনা। আমি শুধু জানতে পেরেছিলাম, শাহজাহানের কাছ থেকে আমার কবিতার খাতাটা ‘অ’র হাতে পৌঁছুবার পর আমার তারুণ্যমুখর কবিতার প্রতি ওর কিছু মুগ্ধতা জন্মেছিল।
এই সামান্য ঘটনা থেকেই বৃহৎ একটা প্রেমের উন্মেষ ঘটেছিল, উপন্যাসটা লেখা হয়েছে যার উপর ভিত্তি করে। পোস্টের নীচে অবশ্য লিংক রয়েছে।

এটা সত্যি যে নারীর সাথে রোম্যান্টিক প্রেমের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে মিলনের আকাঙ্ক্ষা, যৌনতা। সুতরাং পুরুষ তার আকাঙ্ক্ষিত নারীকে সবসময় যৌবনবতীই দেখতে চাইবে, এটা স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। খুব সুন্দর বলেছেন।

সুন্দর একটা কমেন্টের জন্য আবারো ধন্যবাদ ডি মুন ভাই।

২৪| ১৬ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:২৩

ডি মুন বলেছেন:
সেটা দেখেছি সোনাবীজ ভাই। লিংকও দেখেছি।

আমি একটা জেনারেল অবজারভেশান দিলাম আর কি। কারো তারুণ্যমুখর কবিতার প্রতি মুগ্ধতা জন্মালে, তাকে নিয়ে উপন্যাস লিখে ফেলাটা আমার মতো আনাড়ি পাঠকের কাছে হুট করে খটকার মতো লেগেছে, যেখানে আর স্ট্রং কোনো ক্লু নেই এবং লেখক নিজেই অনেকটা কনফিউজড (সাররিয়াল কিছু বোঝাতেও চাইতে পারেন এভাবে, নট শিউর!)। আইমিন, এটাকে একটা স্বতন্ত্র গল্প হিসেবে দাঁড় করাতে গেলে যেটুকু পাঠক হিসেবে আমার কাছে ইম্পর্ট্যান্ট মনে হয়েছে, সেটার অনুপস্থিতির কথা বলছিলাম আর কি।

এনিওয়ে, বেশ বুঝতে পারছি, পাঠক হিসেবে খুব একটা ভালো বা মনোযোগী নই আমি।
তাছাড়া গল্পটা বুঝতে হয়তো উপন্যাসের পূর্বপাঠ জরুরী।

ধন্যবাদ

১৬ ই জুলাই, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:৫২

সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই বলেছেন: পাঠক হিসাবে আপনি শুধু মনোযোগীই না, অনেক চিন্তাশীল। আপনি আমার মনের কথাটাই ধরেছেন। এটা নিয়ে অনেক ভাবনাচিন্তাও করেছি, ঠিক এই পয়েন্টাতেই- প্রেমের ইস্যুটা শক্তিশালী না হলে গল্পের ভিত মজবুত হবে কিনা। তো, ওটাতে বেশ চিন্তার কাজ এখনো বাকি রয়ে গেছে। আপাতত এটা ভেবে এখানেই রেখেছি যে,গল্পের ক্লু এখানে সব ভেদ করে দিলে মূল উপন্যাসের রহস্যও আর অবশিষ্ট থাকে না। তাই ওটাকে যতখানি উহ্য রেখে যতখানি রহস্যময় করা যায় এ গল্পটা, উদ্দেশ্য ছিল এটাই।

আপনার মতো পাঠক পেলে লেখার ত্রুটি গুলো খুঁজে পাওয়া যায়।

অনেক ধন্যবাদ আবার আসার জন্য।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.