নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, ইলেক্ট্রিক্যাল এবং ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতক। মতিঝিল আইডিয়াল, ঢাকা কলেজ, বুয়েট এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র।প্রকৌশলী, টেলিকমিউনিকেশন এক্সপার্ট। সমাজিক সংযোগঃ বাংলাদেশের বিভিন্ন সেক্টরের কাঠামোগত সংস্কার, দুর্নীতি।

এক নিরুদ্দেশ পথিক

সমাজের প্রতিটি ছোট বড় সমস্যার প্রকৃতি নির্ধারণ করা, আমাদের আচার ব্যবহার, সমাজের প্রচলিত কৃষ্টি কালচার, সৃষ্টিশীলতা, চারিত্রিক উদারতা এবং বক্রতা, অপরাধ প্রবৃত্তি, অপরাধ সঙ্ঘঠনের ধাঁচ ইত্যাদির স্থানীয় জ্ঞানের আলোকে সমাজের সমস্যার সমাধান বাতলে দেয়াই অগ্রসর নাগরিকের দায়িত্ব। বাংলাদেশে দুর্নীতি রোধ, প্রাতিষ্ঠানিক শুদ্ধিকরন এবং টেকনোলজির কার্যকরীতার সাথে স্থানীয় অপরাধের জ্ঞান কে সমন্বয় ঘটিয়ে দেশের ছোট বড় সমস্যা সমাধান এর জন্য লিখা লিখি করি। আমার নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি আছে কিন্তু দলীয় সীমাবদ্ধতা নেই বলেই মনে করি, চোর কে চোর বলার সৎ সাহস আমার আছে বলেই বিশ্বাস করি। রাষ্ট্রের অনৈতিক কাঠামোকে এবং দুর্নীতিবাজদের সবাইকে তীক্ষ্ণ ভাবে চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করি। রাষ্ট্র কে চ্যালেঞ্জ করতে চাই প্রতিটি অক্ষমতার আর অজ্ঞতার জন্য, তবে আঘাত নয়। ব্যক্তিগত ভাবে নাগরিকের জীবনমান উন্নয়ন কে দেশের ঐক্যের ভিত্তিমূল মনে করি। ডাটাবেইজ এবং টেকনোলজি বেইজড পলিসি দিয়ে সমস্যা সমাধানের প্রোপজাল দেবার চেষ্টা করি। আমি মূলত সাস্টেইন এবল ডেভেলপমেন্ট (টেকসই উন্নয়ন) এর নিরিখে- অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ডিজাইন ত্রুটি, কৃষি শিক্ষা খাতে কারিগরি ব্যবস্থাপনা ভিত্তিক সংস্কার, জলবায়ু পরিবর্তন, মাইক্রো ইকনমিক ব্যাপার গুলো, ফিনান্সিয়াল মাইগ্রেশন এইসব ক্রিটিক্যাল ব্যাপার নিয়ে লিখার চেষ্টা করি। মাঝে মাঝে চোরকে চোর বলার জন্য দুর্নিতি নিয়ে লিখি। পেশাঃ প্রকৌশলী, টেকনিক্যাল আর্কিটেক্ট, ভোডাফোন।

এক নিরুদ্দেশ পথিক › বিস্তারিত পোস্টঃ

বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজের উপাচার্য নিজেকেই নিয়োগের ক্ষমতা দিতে হবে

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:৪৬

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দলবাজ, দলীয় নিয়োগ প্রাপ্ত। প্রায় সবার বিরুদ্ধেই কম বেশি দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগ রয়েছে। দলীয় গণ্ডীর বাইরে এই মুহুর্তে দেশের কোন সম্মানিত ও সজ্জন শিক্ষাবিদ একটি বিশ্ববিদ্যালয়েরও উপাযার্চ পদ অলংকৃত করছেন না। প্রায় প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে হয় শিক্ষাগত নাহয় পরিচালনাগত অচলাবস্থা কমবেশি বিরাজমান। দলবাজ প্রশাসন গুলো অপব্যবস্থাপনা জাত অচলাবস্থা, আর্থিক ও নিয়োগ জালিয়াতি এবং শিক্ষাদানের ফাঁকি গুলো জারি রেখে শিক্ষালয়ে শুধু অজ্ঞানতার অন্ধকারকেই বর্ধিত করে চলেছে। দলীয় ছাত্ররাজনীতির মারমুখী পান্ডাদের যোগসাজশে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালনা ও উন্নয়ন বরাদ্দ লুটে নেয়াই দলীয় উপাচার্য, উপাচার্য অনুগত তোষামুদে দলবাজ শিক্ষকদের মূল কাজ হয়ে উঠেছে। ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতির ক্ষমতালিপ্সু কলঙ্কিত হাত ধরে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো শুধুই অপরাধ তৈরির স্থান হিসেবে অবির্ভুত হয়েছে।

এমতাবস্থায় আমরা দেখতে পাচ্ছি আন্তর্জাতিক পরিসরের প্রথম এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের কোন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান হয়নি। লন্ডনভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ক সাময়িকী টাইমস হায়ার এডুকেশন প্রতি বছর সারাবিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যে র‍্যাংকিং প্রকাশ করে তাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান এক হাজারের পরে থেকেছে। সাময়িকীটির বরাত দিয়ে বিবিসি'তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সারাবিশ্ব থেকে ৯২টি দেশের ১৩শ' বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবারের তালিকায়। তাতে একমাত্র বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই স্থান হয়েছে। ২০১৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ছিলো ছয়শ' থেকে আটশ'র মধ্যে। কিন্তু এর বছর দুই পরেই এটির অবস্থান নেমে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা মানের এই ক্রম অধঃপতন ভীতি জাগানিয়া। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিচালনা অপব্যবস্থাপনা, ক্ষমতাবলয়ের মদতপুস্ট ছাত্র সঙ্ঘঠনের একের পর এক কেলেঙ্কারি, প্রশাসনের আর্থিক দুর্নীতি ও নিয়োগ জালিয়াতি এবং শিক্ষা বাণিজ্যিকিকরণের ঝোঁক সব মিলে মানের এই অধোগতি বিচ্ছন্ন কিছু নয়।

শিক্ষাঙ্গনে তেলবাজ ও লুটেরা দলীয় প্রসাশক নিয়োগ দিয়ে, নোংরা শিক্ষক রাজনীতি পুষে বিশ্বিবিদ্যালয়ের ফান্ড লুট করার, বিশ্ববিদ্যালয়কে একক সরকারি নিয়ন্ত্রণে রাখার অপচেষ্টা গুলো এখনই থামাতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজের উপাচার্য নিজেকে নিয়োগের ক্ষমতা দিতে হবে, যেখানে শ্রেণীকক্ষে প্রদত্ত লেকচারের গুণগত মান, শিক্ষাদান পদ্ধতির মান, ছাত্র ছাত্রী কর্তৃক শিক্ষক মূল্যায়নে প্রাপ্ত স্কোরের গড়, গবেষণা গত অর্জন, আন্তর্জাতিক জার্নাল প্রকাশ, আন্তর্জাতিক গবেষণা স্বীকৃতি ইত্যাদি প্রাধান্য পাবে। এই বহুবিধ স্কোরিং একজন সম্মানিত ও নিবেদিত শিক্ষককে উপাচার্য হতে এগিয়ে রাখবে। ফলে গভীরভাবে শিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থাপনায় সংযুক্ত ও নিমগ্ন শিক্ষক উপচার্য হতে উঠতে পারবেন। নিয়োগ ও পদায়নে গবেষণাকে প্রাধান্য দিলে দলীয় লেজুড়বৃত্তির সংস্কৃতি উপড়ে ফেলা সহজতর হবে। উপাচার্য পদটিকে রোলিং হতে হবে এবং সিনিয়রিটি ভিত্তিক স্কোরিং নির্ভর পদায়নকে প্রাধান্য দিতে হবে। দলীয় নিয়োগের লাগাম টেনে ধরে তা পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।

শিক্ষকদের কুৎসিত ক্ষমতালিপ্সু রাজনীতি বহাল রেখে, ছাত্রদের দলীয় লেজুড়বৃত্তিক নিয়ন্ত্রণে রাখার ঘৃণ্য খোলস না বদলালে কোন অর্জনই আর ধরা দিবে না। আজকে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে কোন ধরনের গবেষণা না করেই লোকে অধ্যাপক বনে যাচ্ছেন। একদিকে মেধাহীন ছাত্র দলীয় বিবেচনায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাচ্ছে, অপরদিকে নিয়োগ পরবর্তিতে পাচ্ছে গবেষণাহীন প্রমোশন। এভাবে কোন বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না।


আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলো মানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরি করতে নিদারুণ ভাবে ব্যর্থ। ফলে বেশ কিছু মানবসম্পদ বিভাগে চাকুরির বাজার চাহিদা থাকলেও উচ্চ নম্বরধারী বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকগণ সেসব পদে কাজ করার যোগ্যতা রাখেন না, একদিকে শিক্ষা মান ও শিক্ষক মান উভয়ের নিচুতার কারণে অন্যদিকে শিক্ষার কনটেন্টে পশ্চাৎ পদতার কারণে, শিক্ষার কন্টেন্টের সাথে ইন্ডাস্ট্রির হিউম্যান রিসোর্স ও স্কিল সেট ডিমান্ডের সমন্বয়হীনতার কারণে। ফলে প্রচুর বিদেশী নাগরিক দেশের অভ্যন্তরীণ চাকুরির বাজারে প্রবেশ করছেন যেখানে দেশেরই ৪৭ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত বেকার পড়ে থাকছেন।

বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের সাথে দেশের মানুষের সমস্যা ও সংকট সমাধানের, দেশের সম্পদ ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার, বহুবিধ ইন্ডাস্ট্রির কারিগরি উতকর্ষ বুঝার এবং ইন্ডাস্ট্রির সমস্যা সমাধানের হেতু তৈরির কোন সম্পর্ক নেই। যারা এই সম্পর্ক গুলো তৈরি করে সংকট সমাধান এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবেন, সে শিক্ষকেরাই শিক্ষা ও গবেষণা কাজ পাশ কাটিয়ে কুৎসিত দলীয় লেজুড়বৃত্তি করে গবেষণা ছাড়াই পদ পদবি বাগাতে ব্যস্ত, বিশ্বিবদ্যালয়ের ফান্ড হাতাতে ব্যস্ত। ফলে ক্লাসে তারা মান সম্পন্ন শিক্ষাদানে ব্যর্থ। ইনারা বছরের পর বছর গাল গল্প করে শ্রেণীকক্ষে সময় ক্ষেপণ করেন, নিন্মমান ও পশ্চাৎপদ সিলেবাস পড়িয়ে, বার বারের পুনরাবৃত্ত কাট কপি পেস্ট মানহীন গবেষণা করিয়ে, লেকচার নিবার প্রাক প্রস্তুতিহীনতায় থেকে যুগ যুগের পুরানো চোথা পড়িয়ে দিন পার করছেন। এভাবে শ্রেণীশিক্ষা দান চলতে পারে না।

ফলে সময় হয়েছে ইন্ডাস্ট্রি স্কিলের চাহিদা কেন্দ্রিক বিষয়বস্তু ও কোর্স কারিকুলাম সাজানোর। সময় হয়েছে বাধ্যতামূলক শ্রেণীশিক্ষক মূল্যায়ন চালু করার, সময় হয়েছে বহিরাগত শিক্ষক দিয়ে প্রশ্ন পত্র তৈরি করার, সময় হয়েছে দৈবচয়নে বহিরাগত শিক্ষক দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করার। সময় হয়েছে শ্রেণীকক্ষ পাঠদানকে ভিডিও'র আওতায় এনে ক্লাস লেকচারের মান যাচাই করার। শিক্ষকদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক যে কোন পদায়নে এই স্কোরগুলোকে সমন্বিত করে তবেই এডমিনিস্ট্রেশন প্রসেস, প্রশাসনের পদায়ন এবং নিয়োগ ব্যবস্থা সাজাতে হবে। অর্থাৎ আমাদের শিক্ষকদেরকে কম্ফোর্ট জোন থেকে বের করে আনতে হবে এবং অধিক পরিমাণে শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত করার স্থায়ী প্রক্রিয়া তৈরি করতে হবে যাতে তারা শিক্ষার সাথে সম্পর্কহীন দলীয় লেজুড়বৃত্তি করা সুযোগ না পান এবং দরকারও না পড়ে।

পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজের উপাচার্য নিজেকেই নিয়োগের একক ক্ষমতা দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্বশাসিত, ফলে উপাচার্য শুধু নয়, আচার্য নিয়োগও বিশ্ববিদ্যালয়ের এখতিয়ার ভুক্ত হওয়া উচিৎ। কেন এবং কোন শিক্ষাগত যোগ্যতায় একাডেমিক শিক্ষাদানের পদ্ধতিতে অযাচাইকৃত যোগ্যতার, শিক্ষা ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পর্কহীন একজন রাজনৈতিক নেতা একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হবেন? আচার্য দলীয় বলে কেন্দ্রীভূত অনৈতিক ক্ষমতা কাঠামো দলীয় উপাচার্যও খোঁজে এবং বরাবর এই দলীয় নিয়ন্ত্রণের পথেই উপাচার্য নিয়োগ দেয়। এই দলীয় নিয়োগ বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের অশিক্ষা, কুশিক্ষা, নিন্মমান শিক্ষা, গবেষণাহীনতা, অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তাহীনতা ও সার্বিক অচলাবস্থার জন্য দায়ী। কেননা এই পদ্ধতিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় নিয়ন্ত্রণ ও দলীয় লুটতরাজ নির্বিঘ্ন থাকে। বিপরীতে আমরা চাই স্বনামধন্য, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মানিত দেশী বিদেশী শিক্ষাবিদদের উপাচার্য এমনকি আচার্য হবার পথ উন্মুক্ত করে দেয়া হোক।

দেশে বহু বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে। বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় নিজের উপাচার্য নিজে নিয়োগের একক ক্ষমতার চর্চা শুরু করতে পারলে প্রকৌশল ও কারিগরি, লিবারেল আর্টস কিংবা বিজনেস ডোমেইনের আন্তর্জাতিক দিকপাল, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন একাডেমিশয়ান, প্রযুক্তিবিদ, প্রকৌশলী, এমিরেটাস অধ্যাপক, নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত বিজ্ঞানী, শিক্ষক, অর্থনীতিবিদ কিংবা আন্তর্জাতিক ভাবে স্বনামধন্য শিক্ষালয়ের সাবেক উপচার্যদের বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দানের পথ সুগম হবে। এতে করে শিক্ষালয়ে গুণগত মান (এক্সিলেন্স) আসার একটা পথ তৈরি হবে। লাল নীল সাদা বেগুনী বর্ণের কুৎসিত শিক্ষক রাজনীতি করা কথিত শিক্ষাবিদেরা উপাচার্য হয়ে কিছুই দিতে পারছেন না, বরং উনারা পাপাচার্যই থেকে যাচ্ছেন, এবং সর্বক্ষেত্রে নিদারুণ ভাবে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে না আসছে ভালো র‍্যাংকিং, না পাচ্ছে আমাদের ছেলে মেয়েরা দলীয় নির্যাতন থেকে মুক্তি। অন্যদিকে শিক্ষা ব্যবস্থাগত বিষয়গুলো হয়ে উঠছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়।

ইতিহাস অতীতের জ্ঞান ব্যবস্থাপনা ও জ্ঞান পুনঃ উৎপাদনের পাশাপাশি বর্তমানের ও ভবিষ্যতের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক কারিগরি জ্ঞান ও উতকর্ষ, আধুনিক শিল্প ও বাজার ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক ও টেকসই সমাজ ব্যবস্থাপনার সমস্যাবলীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমন্বিতভাবে সংযুক্ত করার মত যোগ্যতা সম্পন্ন প্রশাসক বা উপাচার্য দরকার আমাদের শিক্ষালয় গুলোতে। আমাদের আর উপাচার্য নামক দলীয় পান্ডা'র প্রয়োজন নেই।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +৫/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১৬

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: দারুন বিশ্লেষনী লেখায় ভাললাগা!

কিন্তু সমস্যাটা যে গোড়াতেই। যাকে বলে গোড়ায় গলদ! আমাদের অনেতিক রাজনীতিই যে সব সমস্যার মূল!

যে রাজনীতি দেশের জন্য, মানুষের জন্য, কল্যানের জন্য তার মৃত্যু হয়েছে। একজন বিপ্লবী ছাড়া আর এ অচলাবস্থা থেকে উত্তরণ বোধকরি অসম্ভব। সাদা দল নীল দল লালদলের চর্ছার মাঝে কোনভাবেই বুজী শিক্ষাঙ্গনকে রক্ষা করা যাবে না।

পুরো ঢেলে সাজানোর সময় এসেছে। নিজেদের ভাল মন্দ্য ন্যায় অন্যায়কে আবার ডিফাইন করার সময় এসেছে।
প্রতিহংসা প্রতিশোধের নোংরা রাজনীতি ছেড়ে, ঘৃনা আর ক্ষমতার অপব্যবহারের রাজনীতি ছেড়ে,
কল্যানরাষ্ট্রের চেতনায়, সুস্থ সুন্দর স্বাভাবিক মনুষ্যত্বের বিকাশে মানবতাবাদী রাজনীতির এক প্রলয়ংকরী ঝড় এলেই বোধ করি বদলাবে পঁচে গলে যাওয়া কাঠামো।

কারণ আপনার সময়োপযোগী ভাবনাকে ধারন করার শিক্ষাটুকুই যে নীতি নির্ধারকদের নেই!!!



২| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:২২

সোহানী বলেছেন: পাড়ার মাস্তানদের বেলায় দূর্নীতি চোর লুটেরা শব্দগুলো তবুও সহ্য করা যায়। কিন্তুু  বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো স্থানে এ শব্দগুলো মারাত্মক হতাশার।

লিখায় সহমত।

৩| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:২২

কিরমানী লিটন বলেছেন: উপাচার্য এখন পাপাচার্য.....

৪| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৩৯

ফারুক আহাম্মেদ বলেছেন: পর্যবেক্ষন ভালো।

৫| ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৪৫

করুণাধারা বলেছেন: বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজের উপাচার্য নিজেকেই নিয়োগের একক ক্ষমতা দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্বশাসিত, ফলে উপাচার্য শুধু নয়, আচার্য নিয়োগও বিশ্ববিদ্যালয়ের এখতিয়ার ভুক্ত হওয়া উচিৎ। কেন এবং কোন শিক্ষাগত যোগ্যতায় একাডেমিক শিক্ষাদানের পদ্ধতিতে অযাচাইকৃত যোগ্যতার, শিক্ষা ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পর্কহীন একজন রাজনৈতিক নেতা একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য হবেন? আচার্য দলীয় বলে কেন্দ্রীভূত অনৈতিক ক্ষমতা কাঠামো দলীয় উপাচার্যও খোঁজে এবং বরাবর এই দলীয় নিয়ন্ত্রণের পথেই উপাচার্য নিয়োগ দেয়। এই দলীয় নিয়োগ বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের অশিক্ষা, কুশিক্ষা, নিন্মমান শিক্ষা, গবেষণাহীনতা, অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তাহীনতা ও সার্বিক অচলাবস্থার জন্য দায়ী। কেননা এই পদ্ধতিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় নিয়ন্ত্রণ ও দলীয় লুটতরাজ নির্বিঘ্ন থাকে। বিপরীতে আমরা চাই স্বনামধন্য, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মানিত দেশী বিদেশী শিক্ষাবিদদের উপাচার্য এমনকি আচার্য হবার পথ উন্মুক্ত করে দেয়া হোক।

আপনার সাথে একমত, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় যখন হয় রাজনীতি চর্চার স্থান, গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়, তখন এমন প্রার্থনা ফলপ্রসূ হবার সম্ভাবনা খুবই কম।

ম‍্যাক স‍্যারকে নিয়ে আপনি যে পোস্ট দিয়েছিলেন, তাতে প্রকাশ পেয়েছিল শিক্ষকের প্রতি আপনার গভীর ভালোবাসা এবং শ্রদ্ধা। আপনি আপনার সকল শিক্ষকদেরকেই কি এমন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার চোখে দেখেন? ব‍্যর্থ ভিসিদের ছবির সাথে ডঃ সাইফুল ইসলামের ছবি না দেখে প্রশ্নটা মনে এল। উত্তর না দিলেও চলবে।

ভবিষ্যতেও আপনার থেকে এমন মননশীল পোস্ট পাবার অপেক্ষায় থাকলাম। শুভকামনা থাকলো।

১৩ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:২০

এক নিরুদ্দেশ পথিক বলেছেন: আপনি আপনার সকল শিক্ষকদেরকেই কি এমন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার চোখে দেখেন? ব‍্যর্থ ভিসিদের ছবির সাথে ডঃ সাইফুল ইসলামের ছবি না দেখে প্রশ্নটা মনে এল।

কিছুটা লজ্জিত বটে! বুয়েট ভিসির ছবি থাকা উচিৎ ছিল ছবিতে।

সকল শিক্ষকদেরকেই সাধারণ ভাবে সম্মান করি। তবে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার যায়গা সবার জন্য নেই। অযোগ্য শিক্ষকের ক্লাসেও আমার বেশ অনীহা ছিল।
ম্যাক সারকে নিয়ে লিখার ৩টি প্যারা টেনে আনছি-
কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ ট্রেন্ডের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার কোর্স কারিকুলাম ডাইনামিক করা ও সেভাবে বিভাগ ও সাবজেক্ট বিন্যস্ত করা, ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাকে ইন্ডাস্ট্রির সংযোগ দেয়া, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষায় থিসিসের পরিসর বাড়ানো, রিসার্চ বেইজ উচ্চমান করা, শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর মত বহু কাজের চিন্তা ও চর্চা করেছেন প্রফেসর ডঃ মোহাম্মদ আলী চৌধুরী। শিক্ষকদের কম্ফোর্ট জোন থেকে বের করে এনে নিবেদিত করার প্রচেষ্টা যেখানে দেশের আমলাতান্ত্রিক শিক্ষা প্রশাসন, অলস ও ফাঁকিবাজ শিক্ষকদের দ্বারাই ব্যহত হয়েছে সেখানে একজন শিক্ষক হয়েও প্রফেসর চৌধুরী আক্ষরিক অর্থেই বছরের পর বছর ফজর থেকে এশা এশা পর্যন্ত সময় দিয়ে গেছেন শিক্ষার্থীদের, লেকচার প্রিপারেশনে, ওয়ান টু ওয়ান টপিক এক্সপ্লানেশনে, থিসিস নির্ধারণ ও গবেষণা সহায়তায়, ছাত্র ছাত্রীদের পোষ্ট গ্র্যাড শিক্ষার পেপার ওয়ার্ক তৈরি ও স্কলারশিপ প্রাপ্তিতে, ক্যারিয়ার মেন্টরিং এবং ইইই'র বিভাগীয় উতকর্ষ আনয়নের নিরন্তর চেষ্টায়। সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের সমস্যা সমাধানের অপেক্ষায় নিজ অফিসে পড়ে থেকেছেন গভীর রাত অবধি, আপ্যায়নের ব্যবস্থা সহ। গতানুগতিক এবং মুখস্ত লেকচার নেয়ার বিপরীতে স্বীকৃত মেধা (সিকি শতাব্দী আগে শ্রেষ্ঠ গবেষণাপত্রের জন্য আইইইইর পুরস্কার পেয়েছিলেন) ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার জ্ঞানভান্ডার থাকার পরেও এই শিক্ষাবিদ প্রিপারেশনহীন ক্লাসে নিয়েছেন বলে যানা যায়নি। ফলে তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশলের বিভাগের সবচেয়ে ফাঁকিবাজ ছাত্রটিও স্যারের ক্লাস মিসের চিন্তা করেনি, বরং একই ক্লাস অন্য সেকশনের সাথে উপর্যুপরি করেছে, ফলে স্যারকে কখনও রোল কল করতে হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে পেশাজীবী হয়ে পড়া সাবেক ছাত্রদেরও কারিগরি জিজ্ঞাসার উত্তর দিয়েছেন অফলাইনে ও অনলাইনে।

আজ অবধি বাংলাদেশে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত কোন স্তরের শ্রেণী শিক্ষাকেই আনন্দঘন করে ছাত্র ছাত্রীর কাছে উপস্থাপন করা যায়নি, সেখানে এই প্রফেসরের পদাঙ্ক কিভাবে শিক্ষালয়ে অনুসরণ করা হবে তা নিয়ে ভাবা দরকার। অনন্ত প্রেরণার এই উৎসকে আমরা একটি ভবন কিংবা একটি ল্যাব কিংবা একটি সড়কের নামকরণের মধ্য দিয়ে স্মরণ করতে পারি তবে তা হবে নিতান্তই লোক দেখানো। আমাদের দরকার ছিল স্যার এর উচ্চ মান জ্ঞান ভান্ডারকে "রিপ্রডিউস" করে রাখা। অর্থাৎ আমাদের ছাত্রদের বুঝার ক্যাপাবিলিটি ও কমন গ্যাপ গুলোকে সামনে রেখে আমাদের মেধা ব্যবস্থাপনাকে উচ্চ মান করতে স্যারকে দিয়ে মাতৃভাষা বাংলা ও কর্মসংস্থানের ভাষা ইংরেজিতে ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডোমেইনে প্রচুর টেক্সট বই লিখিয়ে নেয়া, পারিশ্রমিক সহ। ক্লাস গুলোর অডিও ভিজুয়াল রেকর্ড রাখার প্রয়োজন ছিল। যদি কারো কাছে তা থেকে থাকে তাহলে সেগুলো ডকুমেন্টেড ও আর্কাইভ করে রাখা দরকার। এখনও বিভিন্ন ডোমেইনে এই রকম যারা বেঁচে আছেন তাঁদের উৎসাহ দেয়া ও রিপ্রডিউস করে জ্ঞান ধরে রাখার একটা চেষ্টা হওয়া চাই। চাই সেসব বই ছাপানোর জন্য ফান্ড তৈরির ব্যবস্থা করা। এই কাজটি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলা একাডমি কিংবা ব্যানবেইস কিংবা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের করার কথা। দুর্ভাগ্য যে, আমরা কোন দূরদর্শী রাষ্ট্রীয় ইন্সটিটুশন পাইনি।

দুর্বিত্তায়িত মেধাহীন শিক্ষক নিয়োগ, দুর্বিনীতি অপ রাজনৈতিক প্রভাব, দখল সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্ভর মারমূখী ছাত্র রাজনীতি, দলীয় লেজুড়বৃত্তির শিক্ষক রাজনীতি, গবেষণাহীন, ইন্ডাস্ট্রি সংশ্লিষ্টতা হীন শিক্ষা মডেল, শিক্ষা বাণিজ্যিকিকরণ, বেপারোয়া প্রশ্ন ফাঁস ও উত্তরপত্র যাচাইয়ের সহনীয় পাশমূখী মডেলের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রফেসর ডঃ মোহাম্মদ আলির চৌধুরীর মত উচ্চ মান শিক্ষক প্রডিউস করার ক্যাপাবিলিটি রাখে না। শিক্ষায় মেধা, মান ও মনন বলতে যা কিছু রয়েছে সেসবের সৃষ্টিতে এই শিক্ষা ব্যবস্থা নিদারুণ ভাবে অযোগ্য ও ব্যর্থ। তাই যে যে ডোমেইনে এখনও ভালো'রা জীবিত আছেন তাঁদের জ্ঞান রিপ্রডিউস করে রাখা কর্তব্য।
শিক্ষা ব্যবস্থা কিভাবে প্রফেসর মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর মত মান ও মননের নিবেদিত শিক্ষক তৈরি করতে পারবে, সেইরকম একটি মেধা ব্যবস্থাপনার একটা শুভ চিন্তার সূচনা দরকার নেতৃত্ব ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে এবং শিক্ষা প্রশাসনে স্তরে স্তরে। তবেই স্যারের মহৎ প্রাণের নিবেদন সর্বজনের তরে অর্থবহ করে তোলা যাবে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.