নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আনকোরা ব্লগার।

মুস্তাফা অনিক

আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্য মারা যাবো ছোট ঘাসফুলের জন্যে ... একটি টলোমলো শিশিরবিন্দুর জন্যে .. আমি হয়তো মারা যাবো চৈত্রের বাতাসে উড়ে যাওয়া একটি পাঁপড়ির জন্যে ! একফোঁটা বৃষ্টির জন্যে ... আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্যেই মারা যাবো - দোয়েলের শিসের জন্যে ... শিশুর গালের একটি টোলের জন্যে ! আমি হয়তো মারা যাবো কারো চোখের মণিতে গেঁথে থাকা একবিন্দু অশ্রুর জন্যে ... একফোঁটা রৌদ্রের জন্যে ... আমি সম্ভবতখুব ছোট্ট কিছুর জন্যে মারা যাবো - এক কণা জ্যোৎস্নার জন্যে ... এক টুকরো মেঘের জন্যে ... এক ফোঁটা সবুজের জন্যে ! আমি সম্ভবত খুব ছোট্ট কিছুর জন্যে মারা যাবো - খুব ছোট একটি স্বপ্নের জন্যে ! খুব ছোট দুঃখের জন্যে ! আমি হয়তো মারা যাবো কারো ঘুমের ভেতরে একটি ছোটো দীর্ঘশ্বাসের জন্যে ... অথবা একফোঁটা সৌন্দর্যের জন্যে ................

মুস্তাফা অনিক › বিস্তারিত পোস্টঃ

ফ্রেন্ড পলিটিক্স ইন অ্যা ক্যাম্পাস!

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৩:৫৩

পাঁচ'শ টাকার একটা নোটের গল্প শোনাই আপনাদের। ক্যাফেটেরিয়া থেকে বের হওয়া মাত্রই শাওন ভাইয়ের সাথে দেখা। তিনি যদিও আমার বছর দু'য়েকের সিনিয়র কিন্তু চলাফেরায় ফ্রেন্ডের মতই। দেখলাম তার পিছু পিছু তিনজন মেয়ে হাটছে। হাবভাব দেখে বুঝলাম তিনজনই ভার্সিটিতে নতুন। শাওন ভাই বললেন চল ঝুপড়ির দিকে যাই। গেলাম তার পিছু পিছু......



মেয়ে তিনটা না থাকলে অন্য সময়ের মত তিনি হয়ত শুধু ছোলা-মুড়ি দিয়েই বিদেয় করতেন আমাকে। অনেক অনুনয় বিনয় করলে বড় জোর হয়ত আরও এককাপ চা যোগ হতো এরসাথে। কিন্তু আজ একটু ব্যতিক্রম হল। শাওন ভাই স্যান্ডউইচ,বার্গার,সমুচা আর পেপসির অর্ডার দিলেন,মনে ব্যাপক ফুর্তি জাগল। :D

এ ফাঁকে পরিচিত হলাম তিন আগুন্তুক এর সাথে। যে একটু বেশি বকবক করছিলো তার নাম রূম্পা,প্রথম বর্ষ নৃ-বিজ্ঞান। মোটা করে যে বসে আছে আর চোখে চশমা জানতে পারলাম সে ইলোরা। ভর্তি হয়েছে বোটানি তে...তৃতীয় জনের পরিচয় পেয়ে মনটা বোধহয় একটু খারাপই হল। লম্বা ছিপছিপে মেয়েটির চোখে মুখে যেন নেশা নেশা ভাব। চাহনী অনেকটা জুলিয়া রবার্টসের মত...কিন্তু এত্তকিছু থাকার পরও খারাপ লাগছিল আসলে মেয়েটা ঢাকার লালমাটিয়া কলেজে পড়ে...ভার্সিটিতে এসেছে ওর কাজিন ইলোরার সাথে বেড়াতে। :(



খাওয়া শেষে শাওন ভাই পাঁচ'শ টাকার নোটটা বের করলেন। সকালে কার মুখ দেখে বের হয়েছিলাম কে জানে,ভাগ্যটা খারাপই ছিল ওইদিন। কারন ওইদিন ঝুপড়ির কোনও দোকানেই ৫০০টাকার নোটটার ভাংতি ছিল না। অগত্যা বিলটা আমিই পরিশোধ করলাম। বিল পরিশোধের পর মনটা এতোটা খারাপ হতো না যদি না গতকাল শাওন ভাই ঠিক এই একই নোটটা দেখিয়েই একনম্বর গেট থেকে শাহ আমানত হল পর্যন্ত রিকশা ভাড়াটাও না হাতাতেন আমার কাছ থেকে! :|

যাহোক,দ্বিতীয় বারের মতও শাওন ভাই বেঁচে গেলেন বুদ্ধি খাটিয়ে।

কিন্তু কথায় আছে চোরের দশদিন গেরস্থের একদিন! তৃতীয়বারের মতও উনি রক্ষা পেতে পারতেন কিন্তু সামান্য ভুলের জন্যই হিসেবটা উল্টো হয়ে গিয়েছিল।

একই দৃশ্য! শুধু স্থানটা ঝুপড়ির পরিবর্তে ষ্টেশন চত্বর। এবং যথারীতি শাওন ভাইয়ের সেই প্রথম বর্ষে পড়ুয়া ছোটবোনরা আর সাথে আমার কয়েক ফ্রেন্ড মিলে আট কি নয়জন হবে। সেদিনকার মতই কলা,কেক, স্যান্ডউইচ আর পেপসি। বলা চলে হুলুস্থুল খাওয়া দাওয়া। ১.৩০ এর ট্রেনটা ছেড়ে যাবে একটু পরেই,হাবভাবে বোঝা গেলো আজকের বিলটা উনি দিবেনই।



আমাকে বললেন, অনিক তুই একটু বোস আমি কটেজে সামান্য কিছু কাজ পড়ে আছে-সেরে আসি।

কি আর বলবো,শাওন ভাই যে সেই একটুর জন্য গেলেন আর কোন খবর নেই তার। একটু আগে কেক কোক খেয়ে ফুর্তি করেছিল যারা-তারাও সবাই চলে গেছে ট্রেনে। আর আমি? ইচ্ছা থাকলেও উঠা যাচ্ছিল না এত্ত বড় বিল পরিশোধের ভয়ে। বেচারা মোবাইলও রিসিভ করছেনা...

উনি যে কটেজে গেছেন সেখান থেকে পরিচিত একজনকে আসতে দেখলাম। জিজ্ঞেস করতেই বলল শাওন ভাইকে দেখে এসেছে কটেজে ঘুমিয়ে থাকতে। আশপাশে তাকালাম......অতঃপর আবিষ্কার করলাম আমার ঠোঁটের কোনে ছোট্ট একটা হাসি। আনন্দে শরীরটা হালকা হল কিছুটা...কি হয়েছিল সেদিন???

আসলে শাওন ভাই কটেজে যাওয়ার আগে তার সদ্য কেনা "এয়ারমেট"টেবিলফ্যানটা রাখতে দিয়েছিলেন আমাকে...উনি ফ্যানটা সাথে নিতে ভুলে গিয়েছিলেন বোধহয়। নিশ্চিন্তে উঠে দাঁড়ালাম আমি। দোকানদারকে বললাম, এই তাহের...শাওন ভাইয়ের ফ্যানটা ভেতরে যত্ন করে রেখে দে। উনি কটেজে গেছেন,এসেই বিলটা দিয়ে দিবেন। :P

সুযোগ বারবার আসেনা মানুষের জীবনে। বারবার একে কাজেও লাগানো যায়না। সুতরাং আসার সময় আরও একটা পেপসি খেয়ে আর সাথে দুটো চিপস নিয়ে ট্রেনের পথে পা বাড়ালাম আমি............ :D

মন্তব্য ২ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৪:১৫

মাহফুজার রহমান বলেছেন: কেউ দেখে শেখে কেউ ঠকে...শেখাটাই গুরুত্তপূর্ণ.. =p~ :P

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ বিকাল ৪:২১

মুস্তাফা অনিক বলেছেন: আলহামদুলিল্লাহ্‌ শেখার চ্যাপ্টারটা শেষ করেছি অবশেষে....... :D

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.