নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি বিপ্লবী ধারায় লিখতে পছন্দ করি। এটাই আমার প্যাশন।

গিলগামেশের দরবার

সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র গবেষক (দক্ষীন চীন সাগর)

গিলগামেশের দরবার › বিস্তারিত পোস্টঃ

স্পেস রিসার্চে বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার থেকে ১০০০ বছর পিছিয়ে

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:২৩


ইন্ডিয়ার স্পেস রিসার্চের ইতিহাস খুব বেশি দিনের না। জওহরলাল নেহেরু ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ইনকোস্পার ( Indian National Committee for Space Research (INCOSPAR)। সেই প্রতিষ্ঠানই পরে নাম পালটে হয়ে যায় ইসরো (ISRO)। যা এখন বহু পুরাতন স্পেস রিসার্চ প্রতিষ্ঠান যেমন আমেরিকার নাসা (NASA), রাশিয়ার রসকমস (ROSCOSMOS) এর সাথে টিক্কা দেয়ার চেষ্টা করছে। ইন্ডিয়ার ইসরো, নাসার মঙ্গল মিশনের চেয়ে কমপক্ষে ৫০ গুন কম খরচে এবং একবারের চেষ্টায়ই মঙ্গল অভিযান করেছে। যা সারা বিশ্বের কাছে একেবারেই তাক লাগানো একটা ব্যাপার ছিল। ২০১৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর যখন ইন্ডিয়ার পাঠানো "দ্যা মাঙ্গলিয়ান" মঙ্গলের অরবিটে ঢোকে তখন নাসার মঙ্গল মিশন "কিউওরিসিটি" তাকে "নামাস্তে" বলে চিয়ার্স করেছিল। সারা পৃথিবী জেনে গেছিল ভারতের এই সাফল্যের কথা। আমি নিজেও চিয়ার্স করেছিলাম। আমি ইসরোকে কনগ্রাচুলেট করেছিলাম। এর মধ্যেই ইসরো (Indian Space Research Organisation) (ISRO) ৮২ টা স্পেস ক্রাফট মিশন, ৫৪টা লউঞ্জ মিশন, ৭৯ টা বিদেশি স্যাটেলাইট, ৮টা স্টুডেন্ট গবেষণা স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে। সাফল্যের ঝুড়িতে আজ আবার নতুন একটা ইতিহাস যুক্ত হয়েছে তাদের।

২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬, সকাল ৯ঃ ১২ মিনিটে ইসরো সিঙ্গেল ফ্লাইটে ৮টা স্যাটেলাইট লউঞ্জ করে বিশ্বকে আবার তাক লাগিয়েছে। সবচেয়ে অবাক করা ব্যাপার হলো এই ৮টা স্যাটেলাইট তারা দুটো ভিন্ন অরবিটে প্লেস করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। যার ভিতর SCATSAT-1 নামক আবহাওয়া পর্যবেক্ষনের জন্য, PRATHAM টা মুম্বাইয়ের আই আই টির (IIT) জন্য, PISAT বেঙ্গালুর ইউনিভার্সিটির জন্য, আলজেরিয়ার জন্য তিনটি (LSAT-1B, 2B and 1N) কানাডার জন্য একটি (NLS-19) এবং আমেরিকার জন্য একটি (Pathfinder-1) স্যাটেলাইট ছিল। একই ফ্লাইটে দুটো ভিন্ন অরবিটে ৮ টা স্যাটেলাইট পাঠানো ইতিহাস সৃষ্টি করার মতই ব্যাপার। ইসরোর বর্তমান যে অবস্থা তাতে এই সংস্থা বুলেট গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আরো যাবে।

অন্যদিকে আমাদের বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট প্রজেক্টটা এখনো মহাকাশের চেহারা দেখতে পায়নি। আমাদের নামে মাত্র একটা স্পেস রিসার্চ সংস্থা আছে। স্পারসো (SPARSO)। এই সংস্থা আবার বিভিন্ন দেশের থেকে টাকা দিয়ে কিনে আনা স্যাটেলাইট ইমেজ ব্যবহার করে অবহাওয়া ও অন্যান্য ব্যাপারে প্রিডিকশন করে থাকে। যাতে করে সরকারের কোটি কোটি টাকা নষ্ট হয়। বঙ্গবন্ধু ১ লউঞ্জ হলে হয়ত এই টাকা গুলা বাঁচবে। কিন্তু ভারতের ইসরোর মত কার্যক্ষম স্পেস রিসার্চ প্রতিষ্ঠা না করতে পারলে হয়ত অনেক গবেষণা থেকে আমরা পিছিয়ে থাকব। আমাদের দেশই যখন একটা স্যাটেলাইটের মালিক হতে পারল না তখন ভারতের আই আই টি (IIT) বা বেঙ্গালুর ইউনিভার্সিটি একটা করে স্যাটেলাইটের মালিক। ভাবুন তো একবার, আমাদের দেশীয় ছাত্র আর আই আই টি (IIT) বা বেঙ্গালুর ইউনিভার্সিটির ছাত্র কি একই মানের শিখবে? দৃষ্টি ভঙ্গি কি এক হবে? কলিজা কি ওদের মত বড় হবে?

না এক মানের হবে না। একটা দেশ যখন এগিয়ে যায় তার সবচেয়ে বড় ঘাটতি থাকে রিসার্চে। ইন্ডিয়া সেটা বুঝেছে। তাই ইন্ডিয়া তার রিসার্চ বাজেট বাড়িয়েছে। ২০১৫ সালে ইন্ডিয়ার রিসার্চ বাজেটই ছিল ৬৬.৫ বিলিয়ন ডলার। যা আমার দেশের বার্ষিক বাজেটের চেয়েও বেশি। এই অর্থ আগামী বছরে হয়ত আরো বাড়বে। এবং আগামীতে আরো বাড়তেই থাকবে। আমাদের দেশে স্পেস রিসার্চ তো দূরে থাক সাধারন এগ্রিকালচার রিসার্চের জন্যই বরাদ্দ পাওয়া অনেক কষ্টের ব্যাপার। আমার কেন জানি মনে হয় আমরা ইন্ডিয়ার থেকে রিসার্চে ১০০০ বছর পিছিয়ে আছি। তাই মাঝে মাঝে মনে হয় ইন্ডিয়া যখন বৃহস্পতিতে মানুষবাহী মিশন পাঠাবে তখন আমরা হয়ত বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট বা অন্যান্য রিসার্চ রিলেটেড টেকনোলজির জন্য বিশ্বের দুয়ারে দুয়ারে হাত পেতে বেড়াবো।

কনগ্রাচুলেশন ইসরো।

ছবিগুলা ইসরোর ওয়েবপেজ থেকে নেয়া।

তথ্যসূত্রঃ
লউঞ্জ নিউজ ১
লউঞ্জ নিউজ ২
লউঞ্জ নিউজ ৩
লউঞ্জ নিউজ ৪
ইন্ডিয়ার মারস মিশন
ইসরো
স্পেস এজেন্সির লিস্ট
ইন্ডিয়ার রিসার্চ বাজেট

মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:১৩

চাঁদগাজী বলেছেন:



সোমালিয়া বাংলাদেশ থেকে ২০০০ বছর পেছনে

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:১৫

গিলগামেশের দরবার বলেছেন: ভাই কথা হচ্ছে বাংলাদেশ আর ভারতকে নিয়ে। সোমালিয়া আসলো কইত্তে?

২| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:৫৯

মনোটোনাস মনোলগ বলেছেন: বাংলাদেশ গবেষণা বা উচ্চশিক্ষার যেকোনো দিক থেকেই ভারত থেকে পিছিয়ে । খুব জেনারেলি বললে, বেশির ভাগ দিকেই পিছিয়ে । ISRO এর সাফল্য প্রশংসনীয় বটে, কিন্তু তুলনামূলক আলোচনায় কেন বাংলাদেশ এলো, আর কেন বাংলাদেশ ১০০০ বছর পিছিয়ে থাকাটাও এখানে প্রাসংগিক, সেটা পরিষ্কার হলো না । তাই আপনার পোস্ট টাইটেলটা মিস লিডিং । আপনি বরং বলতে পারতেন, ISRO এর সাফল্য বাংলাদেশের জন্য অণুকরণীয়, ইত্যাদি ইত্যাদি ।

পোস্টের প্রসংগে - SPARSO নিয়ে এক প্রজেক্টের কাজে হালকা ঘাটাঘাটি করা হয়েছিল । ডাচ স্যাটেলাইট ডেটা উনাদের ব্যাবহার করার ব্যাপারে একটা প্রোপোজাল ছিল। এক মিটিংয়ে উনাদের সিনিয়র এক লোক বলেছিলেন বর্তমান যে ডেটা আছে সেটাই উনারা ভালোভাবে কাজে লাগাতে পারছেন না বা ক্যাপাবিলিটি নেই । কথা হচ্ছে উচ্চশিক্ষা প্রতিষঠানের মান না বাড়ালে বা রিসার্চার তৈরী হওয়ার অবকাঠামো তৈরী না করলে স্পেস দূরে থাক নিজস্ব ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিও গড়ে উঠবে না ।

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১:০৯

গিলগামেশের দরবার বলেছেন: ১০০০ বছর পিছিয়ে কেন বললাম? আমাদের যত টেকনোলজি আছে তা বিভিন্ন দেশ থেকে ধার করা। ভারত যেখানে সত্তর এর দশক থেকেই স্পেস ইনভেশন করা শুরু করেছে সেখানে আমরা এখনো বঙ্গবন্ধু-১ পাঠাতে বছরের পর বছর সময় ক্ষেপন করছি। নিজের টেকনোলোজি তো বহুত দূর ক্যা বাত! আর ভারতের সাথে বাংলাদেশের তুলনা করিনি শুধু আমাদের দৈন্যতা টা বললাম।

স্পেস রিসার্চের ব্যাপারে আমাদের যেহেতু অভিজ্ঞতা কম তাই বাংলাদেশী নাগরিক কিন্তু এই ব্যাপারে পড়াশোনা করেছে এমন লোকদের দেশে আনা যেতে পারে। যদি তারা আসতে চায়। তারপর তাদের পরামর্শক্রমে সব ধরনের অবকাঠামো সহ সকল জিনিস ইনস্টল করা যেতে পারে। আর আমরা এখন যেটা করি সেটার উদাহরন হলো- ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার।

৩| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:০০

CamEye বলেছেন: ভালো লাগলো!

এ বিষয়ে আমার লেখাটা পড়তে পারেন Click This Link

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ২:১৯

গিলগামেশের দরবার বলেছেন: প্লেসার! পড়েছি।

৪| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:০৫

মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেছেন: মনোটোনাসের মন্তব্যের সাথে একমত। বাংলাদেশের সাথে ভারতের এভাবে সরাসরি তুলনা করার কি খুব দরকার আছে?

আচ্ছা, সিংগাপুরের কি অবস্থা? ওদের স্পেস রিসার্চ কতদূর এগিয়েছে?

প্রশ্নটা এজন্য করলাম, যে আমাদের প্রায়োরিটিও বুঝতে হবে। আমরা আরো অনেক হাই প্রায়োরিটি জায়গাগুলোতে উন্নতি করতি পারছি না, সেখানে মংগল গ্রহে বা অন্য কোন ছায়াপথে একটা স্পেস শীপ পাঠিয়ে আমাদের দেশের জন্য কতটুকু লাভজনক হবে??

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১:১৩

গিলগামেশের দরবার বলেছেন: আপনার প্রশ্নের উত্তর আমি দেব না। আপনি আগের পোষ্টের #CamEye এর পোস্ট টা পড়ে দেখতে পারেন। আশাকরি উত্তর পেয়ে যাবেন। আমার কথা গুলাই কেমন যেন সুন্দর করে লিখে দিয়েছেন ভদ্রলোকটা।

সিংগাপুর দেশটা এত ছোট যে তাদের অনেক গুলা বানিজ্যিক ও রিসার্চ স্যাটেলাইট থাকা সত্ত্বেও কোন লউঞ্জ স্টেশন নাই।

লিংকটা- Click This Link

৫| ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৯:১৩

চাঁদগাজী বলেছেন:



সোমালিয়ার নাম বলে নিজের জাতিকে একটু উপরে নিলাম, না হয়, নিজেও তো বেকুবদের দলে পড়ে যাচ্ছি

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৫৭

গিলগামেশের দরবার বলেছেন: ভাই আপনার প্রতিটা কথাই যেন মজার খনি। শুধু মাইনিংটা ঠিকঠাক করতে পারলেই হলো।

৬| ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৩৮

আদর্শ সৈনিক বলেছেন: রিসার্চ তো সব নাসা করে, বাকিরা নামে চলে। ইন্ডিয়ানদেড় জাতীয়তাবাদ প্রবল। কাজ করে ৫ টাকার আর নাম ফুটায় ৫০০ টাকার।

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৫৮

গিলগামেশের দরবার বলেছেন: তাও তো কিছু করে দেখিয়েছে। আমরা কি করেছি? ধার?

৭| ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৩:৩৯

CamEye বলেছেন: আদর্শ সৈনিক বলেছেন: রিসার্চ তো সব নাসা করে, বাকিরা নামে চলে। ইন্ডিয়ানদেড় জাতীয়তাবাদ প্রবল। কাজ করে ৫ টাকার আর নাম ফুটায় ৫০০ টাকার।

আপনার কথার ভিত্তি কি?

৮| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:১২

রেজা এম বলেছেন: ভাই চুপ করেন :D

এহন হিন্দি রিসার্চ চলতাসে B-)

৯| ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: ইনিডয়ানেদর টয়েলট ব্যাবহার করার জন্য মিডিয়ায় প্রচার চালােত হয়!!!!


আমাদের ঘরে ঘরে টয়লেট আরো এক যুগ আগে থেকেই আছে!! ;)

ইনিডয়ানেদর আগে হাত ধুয়ে আসতে বলুন :P

তুলনামূলক আলোচনা আর ক্রিটিসাইজ করে দেশকে ছোট দেখানো ভিন্ন!!
নিজের ভেতর দেশেপ্রম আনুন- ইনডিয়া কেন সারা বিশ্বে তাক লাগানোর মতো মেধা বাংলাদেশে আছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.