নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি হাসান সাখাওয়াত..

তন্দ্রাকুমারী

তন্দ্রাকুমারী একটি কাল্পনিক চরিত্র যার সন্ধানে আছি নিশিদিন!!

তন্দ্রাকুমারী › বিস্তারিত পোস্টঃ

কথার কথা

১৯ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৪:৩৫

কথাগুলো আমার কথা ছিল না। ছিল প্রচণ্ড শক্তিশালী বুদ্ধিমান এক সত্ত্বার। কথাগুলোতে স্পন্দন ছিল, আলোড়ন তুলেছিল হৃদয়ের আনাচে কানাচে। কিন্তু হায়! যদিও কথাগুলোতে সব ছিল, কিন্তু যার কথা থাকার কথা, সে ছিল না।

আমরা সবাই সৌভাগ্যের দাস। কখনোই আমরা মেনে নিতে চাই না দুর্ভাগ্যের কৃষ্ণ কঠোর নিয়তিকে! এর কারণ কী স্রষ্টার প্রতি নিজেদের আস্থাহীনতা নয়? স্রষ্টাকে কিভাবে আমরা আমাদের ক্ষুদ্র জ্ঞানে আকৃষ্ট করতে পারি? আমরাতো পারি কেবল এই অনন্ত কালচক্রে সাঁতার কেটে যেতে। বারবার ডুবে যাবার পরও ভেসে থাকার নির্লজ্জ অভিনয় করতে থাকি আমরা। আমরা যে শেষ পর্যন্ত ডুবে যাবো-সে চিহ্ন আমরা রাখতে চাই না আমাদের ভেসে থাকা সময়ে। আমরা যখন ভাসি, তখন ভেসে থাকার আনন্দকেই শুধু আবগাহন করি। আমরা ডুবতে থাকি পুনরায় ভেসে উঠবার আকাংখ্যা নিয়ে। এ আকাংখ্যা এতটাই অযৌক্তিক যে- তার কাছে হার মানে আমাদের ভালোবাসা, প্রেম ইত্যাদি বিচিত্র সব অনুভূতি। আমরা হাসতে থাকি যমুনার জলের মতো খলবলিয়ে। যদিও সে হাসির মধ্যে নেই কোন প্রাণশক্তি। আমাদের জীবন যেন শুধু অনুকরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এ যে আত্মহত্যা! মৃত্যুর আগেই কাফনের কাপড় পরিধান করার আহবান।

আবার আমরা আমাদের হৃদয়কে কি প্রস্ফুটিত করতে পারবো? এ পৃথিবীর ফুসফুস আজ ভারাক্রান্ত। এ মহাজগতের শিরা-উপশিরায় আজ পচন ধরেছে। কাল যমুনার অনুকরণ আমাদের করতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে। এসবের শেষ কোথায়? জাহান্নামের গর্তের মধ্যে নিজেদের স্পন্দনকে আবিষ্কার করছি আমরা বারে বারে। আর সেসব স্পন্দন থেকেই কথাগুলো বেরিয়ে আসছে, ছড়িয়ে পড়ছে, আঘাত করছে! সব শেষে আমরা যে কোথায় পৌঁছাতে চাই, তা জানা নাই। কী প্রমাণ করতে চাই আমরা? কেন আমরা এতটা বেখবর?

পৃথিবীর তথ্য ভাণ্ডারগুলো বারবার উল্টে পাল্টে যাচ্ছে। একবার সেগুলো সাজানো হচ্ছে, আবার সেগুলো এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। এ খেলার শেষ কোথায়, আমরা জানি না! চারিদিকে কী ভীষণ দুঃসময়! তারপরও আমরা শুধু পালিয়ে বেড়াচ্ছি। এক গলি থেকে অপর গলিতে। আমাদের অনুভূতিতে কেন নেই কোন গাঢ়তা, নেই প্রাণ, নেই বন্ধন? আছে শুধু নিরন্তর বিচ্ছিন্নতা। এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়া, বাঁচবার নেই অন্য কোন পথ! আমাদের পিঠ আর দেয়াল একসাথে সংযুক্ত হয়েছে। এ আস্থাহীনতা আর সহ্য হচ্ছে না আমাদের। যদি একা লড়ে যেতে হয় শত কোটি শক্তির বিরুদ্ধে, তবে আমরা লড়ে যাব। লড়াই না করলে আমাদের পাগুলো শক্তিশালী হবে না। আমাদের লড়াই করতে হবে মিথ্যা, মৃত্যু আর অসহ্য যন্ত্রণার বিরুদ্ধে। আমরা শুধু ভালোবাসার জন্য এই পৃথিবীতে এসছি।

যতই ওরা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করুক এই ভালোবাসাকে- তা সবেগে ওদের দিকে এগিয়ে আসবে। তখন আমরা ওদের গলা ধাক্কা দেব। আমাদের সর্বশক্তি আমরা প্রয়োগ করবো। ছিন্ন-ভিন্ন করে ফেলবো ঐ শক্ত দেয়াল। আমরা দেয়াল নয়, সেতু গড়তে আগ্রহী। দেয়ালের পাষাণ স্তর আমরা ভেঙে ফেলবো। যেখানে পূর্বে আঘাত করা হয়েছিল, সেখানেই বারবার আঘাত করতে থাকব। আমরা জানি এ দেয়াল কতটা শক্ত। এ দেয়ালের সাথে পেরে ওঠিনি আমরা ইতিপূর্বে। হয়তো এখনো পারবো না। কিন্তু আঘাত আমরা করতেই থাকবো। আমরা আঘাত করব আমাদের হৃদয় দিয়ে- আমাদের হাত দিয়ে, আমাদের পা দিয়ে, আমাদের মাথা দিয়ে। আমরা জানি, অবশ্যই আমরা রক্তাক্ত হবো। রক্তে ভিজে যাবে আমাদের সর্বাঙ্গ। আমাদের আত্মা। তারপর খাদ্যের অভাবে আমাদের দেহ যদি গলে পচে সার হয়ে যায় তবে সে সার থেকে গোলাপ-বেলি-জবা-জুঁই-শাপলা-শালুক ফুটবে। সেই শোভা উদ্দীপ্ত করবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে। এভাবে প্রজন্মের পরে প্রজন্ম ধরে চলতে থাকবে ইস্পাত কঠিন সেই দেয়াল ভাঙার সংগ্রাম। ওই দেয়ালের কিছু ভাঙা অংশের মাঝে আমরা খুঁজে পবো আমাদের পরবর্তী কর্মপরিকল্পনার রসদ। আমরা ভাঙতে থাকবো- যতক্ষণ না ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো হবে জাহান্নামের গর্ত থেকে ওঠে আসা ঐ দেয়ালের ভিত্তি- ওই দেয়াল নির্মাতাদের হাড়গুলো। ঐ হাড়ের প্রতিটি কণা আমরা মহাকাশে ছুঁড়ে মারবো। ওগুলো হারিয়ে যাবে ব্ল্যাক হোলের মতো কোন এক গহ্বরের অতলে। আর কখনো সেগুলো আমাদের বিরক্ত করতে পারবে না।

এরপর আমরা দেয়ালটাকে এক সময় ভেঙে ফেলবো। দেয়ালের ওপাশে থাকবে একটি শীতল জলের প্রবাহ। আমরা সেখানে স্নান করব। তারপর আমাদের শরীর স্নিগ্ধ ঝর্ণার মতো প্রবাহিত হবে। মহাবিশ্ব হবে পেতাত্মা শূন্য। কেউ কারো প্রতি কোন অশোভন ইঙ্গিত করবে না। আমরা সকলে মিলে সেই প্রবাহকে বইতে দিতে চাইবো। কিন্তু আমাদের কাজ তখনো শেষ হয়নি! আমাদের তখন দরকার পড়বে একটা ব্রিজ। সেই ব্রিজের এ পাশে আমি, আর ও পাশে তুমি। যেন এ পাশে পৃথিবী আর ও পাশে জান্নাত। যেন জান্নাত থেকে সুগন্ধ এসে ভরিয়ে দিচ্ছে পৃথিবীর আত্মা। সেদিন আর প্রয়োজন হবে না, সেই প্রচণ্ড শক্তিশালী বুদ্ধিমান সত্ত্বার থেকে ধার করা কোন কথার। আমরাই একে অন্যের কথা হবো। আমাদের প্রতিটি কথায় শুধু আমাদের কথা থাকবে। কোন অন্ধত্ব আর চটুলতা থাকবে না দুজনের মনে। আমরা ব্রিজের এ পাশের মানুষেরা ও পাশের মানুষদের জড়িয়ে থাকবো। প্রচণ্ড আবেগ ঝড়ে পড়বে আমাদের দু’চোখ বেয়ে। সে আবেগে আকাশটা স্তম্ভিত হয়ে পড়বে।

মন্তব্য ৯ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৯) মন্তব্য লিখুন

১| ১৯ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৫:০১

রাজীব নুর বলেছেন: "ঈশ্বর আমাদিগকে দয়া করিয়াই বিস্মরণ শক্তি দিয়াছেন"
---রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

১৯ শে জুন, ২০২০ বিকাল ৫:২৫

তন্দ্রাকুমারী বলেছেন: সত্যই বলিয়াছেন কবিগুরু

২| ১৯ শে জুন, ২০২০ রাত ৮:৫৭

নুরুলইসলা০৬০৪ বলেছেন: সপ্ন দেখার জন্য শক্তি চাই,দেখানোর জন্য চাই কলমের জোর।

২০ শে জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫৮

তন্দ্রাকুমারী বলেছেন: পাশে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

৩| ১৯ শে জুন, ২০২০ রাত ৯:৩২

নেওয়াজ আলি বলেছেন: জয় হোক কলমের

২০ শে জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫৯

তন্দ্রাকুমারী বলেছেন: স্বপ্ন দেখবো বলে........

৪| ২০ শে জুন, ২০২০ সকাল ৮:১৬

বিজন রয় বলেছেন: মহাবিশ্ব কখনো পাপশূন্য হবে না বলে আামর বিশ্বাস।

২০ শে জুন, ২০২০ সন্ধ্যা ৭:০০

তন্দ্রাকুমারী বলেছেন: সে আপনার বিশ্বাস না ধারণা ????

৫| ০৩ রা আগস্ট, ২০২০ বিকাল ৪:১৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: কী বলেছেন, বোঝা মুশকিল, কিন্তু কথাগুলোর মাঝে যেন আশার আলোর ছটা দেখতে পাচ্ছি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.