| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অতন্দ্র সাখাওয়াত
তন্দ্রাকুমারী একটি কাল্পনিক চরিত্র যার সন্ধানে আছি নিশিদিন!!
সবকিছুই চুম্বন পাবার যোগ্য,
এমনকি ঘৃণায় যা এড়িয়ে যাই।
বিরুদ্ধ বিপ্লব মনে হয় সবকিছু —
ঘরের দরজা, জানালা, পর্দা।
যারা বন্দি করে আমার চারদিক,
তাদের হাতেই তো মুক্তির বীজ।
একগুচ্ছ ফলবতী ঘাসের শীষ
এটম বোমার চেয়ে শক্তিশালী।
একটি...
ছিন্ন চিরকুটে অস্পষ্ট অক্ষরে লেখা —
"একবারই আমরা ঘুমাই
শুধু একবার।
সেই একবারের আয়োজনে
জেগে রই সারাটা জীবন!"
চেনা কথাকেই মনে হলো
অচেনার পটভূমি।
একটু দূরেই দশটি ভোঁতা পেন্সিল।
ঘষে ঘষে যা মিহি করা হয়েছে,
তারপর ফেলে দেওয়া হয়েছে...
হে মৃত্যুহীন কবি,
কোন এক কোমল রাতে
তোমার সাথে পায়ে পায়ে
চলতে চাই হাজার বছর।
তারপর তুমি
মিলিয়ে যাবে তারার মাঝে —
তখন আমি লিখবো
তোমার না-লেখা পঙ্ক্তিমালা
কোন এক পূর্ণিমাতে।
হয়তো প্রথম পঙ্ক্তি হবে —
"সে তোমাকে ভালোবাসতো।"
তারপর সমুদ্রের...
এই পৃথিবীতে আলো-অন্ধকার ছাড়াও
একটি জগৎ আছে—
তার সমুদ্রের তলদেশ থেকে বৃষ্টির ধারা
আকাশে গিয়ে ঝরে,
যেখানে মৃত ছাতার দল উড়ে চলে যায়
পৃথিবীর জন্মের দিকে।
ঘুম-জাগরণের সংযোগস্থলে সেখানে গিয়ে
চুম্বকে ভেজা পাখি দেখি;
সেখানে বাতাসের ফুসফুসে ডুবে...
প্রশ্ন করছি বারবার আঘাতে আঘাত,
কিন্তু শুনি শুধু দাড় টানার প্রতিধ্বনি;
কে যায় কোথায় এ বৈশাখী সন্ধ্যায়?
স্যাটেলাইটে আসে ঝড়ের পূর্বাভাস।
আমি কি ঝরা পাতার মতো ফুরিয়েছি?
অগণিত সংযোগ তামার তারের মতো—
আমার দেহবিন্দুর প্রতিটি রন্ধ্রে...
দিন আসে, দিন যায় নিরবে নিভৃতে,
চোখের সামনে সবকিছু ভেঙে পড়ে।
কী আছে করার এই হিমেল শতাব্দীতে?
রাতে ঘুমের ঘোরে — ভাঙনের শব্দ শুনি
পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ স্থান থেকে,
যেখানে বস্তুহীন অন্তরীণ বেদনা
একাকীত্বের প্রেমে মগ্ন হয়ে...
তরমুজ জেগে উঠছে,
তার বোঁটায় চৈত্রের দহন।
ভেতরে ফোঁটায় ফোঁটায় মধুর বিস্ফোরণ,
বাহিরে শুষ্ক ত্বকে ঝরে পড়ছে অকাল শ্রাবণ।
হৃদয়ে তার ছন্দের দ্বন্দ্ব ফুটছে,
দ্বন্দ্বের মাঝে মহাকালের অসীম স্পন্দন।
এক মহাকাশ থেকে অন্য মহাকাশে ছুটছে
উন্নত শিরে...
জন্মেই দেখি কী বিশাল লাইনে দাঁড়ানো,
তার শেষেই দাঁড়াতে হয়েছে আমাকে।
অপেক্ষাতেই জীবন কাটে চিরদিন,
অপেক্ষাতেই মৃত্যুর বীজটা লুকানো।
কখনো অপেক্ষার শুরু নারী থেকে,
কখনো ডাক্তার, শিক্ষক বা উকিল —
লাইনের সামনে চলে আসার কী আগ্রহ!
কখনো...
ও যখন খোলা চুলে দাঁড়ালো ওখানে,
দূর থেকে এই দিকে হঠাৎ তাকালো,
ওর চোখে পড়ে রোদ তীব্র ঝাঁঝালো,
মনটা মৃদু কাঁপে অজানা টানে।
মৃত্যু ডাকছে যেন ভীষণ ঘ্রাণে,
এত বেশি উষ্ণতা সহনীয় বলো!
নিজেকে প্রশ্ন করি,...
তোমার বোধের সাইক্লোন
তোমার উদ্দাম চলে যাওয়া
আমায় নিঃস্ব করেছে বারবার।
বুকের খাঁচায় গোলাপি ঘ্রাণ নেই
তবু সারাক্ষণ অনুভবে ভাসে—
অন্ধকারে ম্লান মুখ তোমার।
আমাদের অবাধ্য শারীরিক স্পৃহা
দৃষ্টির যত ইন্দ্রজাল ভেঙ্গে-চুরে
পরস্পরকে আহ্বান চুম্বকীয় টানে
সারা রাত...
পৃথিবীর সব আলো তোমায় কেন্দ্র করে
ঘুরতে থাকে ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায়-
তোমার ছায়া পড়ে আমার উপর;
তোমার শরীরের ছায়া,
তোমার ছায়ার শরীর,
আমাকে বেঁধে রাখে তোমার আয়নায়।
আমার ভীত কম্পমান হাত
শুধু তোমার হাত খোঁজে।
তোমার কোমল সত্ত্বায়...
বন্ধ দরজার দিকে তাকাই
যেন কবিতার বইয়ের পচ্ছদ,
দরজা খুললেই বিপুল বিশ্ব-
অসীম এক কবিতার বিস্তার
দেখা যাবে একটু পরেই।
আমি সন্তপর্ণে দরজা খুলি,
গৃহত্যাগী হবার মত জোছনা
ডাকছে আমাকে তীর্যক শোক।
তারপর নগ্ন পায়ে বের হই
প্রবেশ করি...
ব্যর্থ বুকে ব্যথার অর্বাচীন বিন্যাস,
দ্বিধাহীন অশ্রুর সমন্বিত চাষবাস।
দ্যর্থহীন আহ্বান পূর্ণ চাঁদের তলে,
ওয়েসিস থেকে ক্যাকটাস বনে
ঘুরে ফেরা অপ্রয়োজনীয় কথা।
শরীরের অনুভূতিরা ভোঁতা নয়—
দু-ধারী তলোয়ারের মতো তীক্ষ্ণ।
সংবেদনের অভিধান ভুলে ভরা,
সঙ্গী বানাবার পথটা কণ্টকিত।
অন্ধকারে...
চেতনার দেয়াল ভেঙে অন্ধ সে
ছুটে বেড়ায় পাহাড়ে পাহাড়ে
বৃদ্ধ দাড় কাকের মত নিশ্চুপ-
অথচ কত কথা শিরায় শিরায়।
মাটির চাদরে ঢাকা পৃথিবীর লজ্জা
শিরদাড়াবিহীন বিমূর্ত উৎসবে মগ্ন
পৌষের ইঁদুরের মতো দৌড় মারে
চোখ তার আকাশের...
নিরব আঁধারে পড়ে মনে
মহান মৃত্যু—একাকীত্ব।
প্যারাডক্সের শিকল ভেঙে
একটি সামাজিক শরীর
নির্মোহ এগিয়ে চলে।
দিঘল চুলে বেহুলা নেচে যায়,
গলায় ঝুলন্ত ক্রুশ,
হঠাৎ ডুবে যায় সালাতে,
ভাসমান ত্রিপিটকের সুর,
আবার অন্য মত—
সমন্বিত শরীর চলছে
গন্তব্য একটাই;
হাহাকার জাগানো পথ!
সে পারবেই-
ডিঙোতে...
©somewhere in net ltd.