নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সময় সীমাহীন

হুমায়রা হারুন

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব শুধু প্রযুক্তিতে নয়, বরং মননের বিনিময়ে। ব্লগে যোগাযোগের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠত্বেরই প্রকাশ ঘটে। আপনি যখন লেখেন, মন্তব্য করেন, কিংবা অন্যের ভাবনা পড়েন — আপনি তখন মানব প্রজাতির মননে অংশ গ্রহন করেন।

হুমায়রা হারুন › বিস্তারিত পোস্টঃ

কথোপকথন – ৩

১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


পূর্ব কথাঃ গ্রেইস- রা সাড়ে তিনফুট থেকে চারফুট দীর্ঘ, ছোট খাটো, পাতলা গড়ন বিশিষ্ট এলিয়েন। চোখগুলো খুব বড়, নাক দৃশ্যমান নয়, ত্বক ছাই বর্ণের, অমসৃণ এবং কুঁচকানো।উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন। পুরোই টেলিপ্যাথিক। প্রজননে অক্ষম। প্রজাতি প্রায় বিলুপ্তির পথে। টিকে থাকার জন্য ফিরে এসেছে অতীতে তাদের পূর্ব পুরুষের সাথে সংকর উৎপন্ন করে নতুন প্রজাতি সৃষ্টি করতে।

প্রজেক্টের নাম- প্রজেক্ট ব্লু বুক।
মার্চ ১৯৫২ হতে ডিসেম্বর ১৯৬৯ পর্যন্ত প্রজেক্ট ব্লু বুক –এর অধীনে ufo নিয়ে বিশদ গবেষণা করা হয়েছে। ৯ই জুন ১৯৬৪ সালে এই প্রজেক্ট থেকে গ্রেইস –এর সাথে কথোপকথন প্রকাশিত হয়। মাহাবিশ্বের সৃষ্টি রহস্য, জাগতিক সময় ও আমাদের জগতে প্রাণের উদ্ভব কিভাবে হয়েছে সে বিষয়ে গ্রেইসের সাথে কথোপকথন অন্তর্ভুক্ত করা হলো।
পর্ব -১
কথোপকথনের বিষয়বস্তু –প্রাণ কি, জীবন কি। জগতের সৃষ্টি।
প্রশ্নকর্তার প্রথম প্রশ্ন ছিল,
- কোথা হতে এসেছ? উৎস কি? কোন গ্রহ থেকে ?
-পৃথিবী থেকে।
- কিন্তু তুমি বলেছ, তুমি হাজার হাজার বছর আলোকবর্ষের পথ অতিক্রম করে এসেছ।কিভাবে সম্ভব? [এ কি সত্যি সম্ভব? আর এই পৃথিবী থেকেই যদি আসে তাহলে এত পথ পাড়ি দেবার প্রয়োজন কেন?]
- হ্যা সম্ভব। আমি এই পৃথিবীরই বাসিন্দা,কিন্তু তোমাদের ভবিষ্যত সময়য় কাল থেকে থেকে।সময় ভ্রমন করা মানে স্থানও ভ্রমন করা।
‘to travel in time is the travel in space. Offset spatial divergence’
[অর্থাৎ সময়ের সাথে ভ্রমন করতে গিয়ে পূর্ব অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্য স্থানে পৌঁছানো। এক্ষেত্রে অবস্থানের স্থানাংকের (location -এর) পরিবর্তন ঘটে, যাকে গণিতের ভাষায় বিচ্যুতি (divergence) বলে।গ্রেইস ঠিক এই গাণিতিক শব্দটি ব্যবহার করেছে।কথোপকথনের সকল পর্যায়ে গ্রেইস কোন কথ্য ভাষা ব্যবহার করেনি।যদিও তারা প্রজাতি হিসাবে টেলিপ্যাথিক, কিন্তু আমাদের সাথে কথোপকথের জন্য ভাষা শিখেছে এবং বাকযন্ত্র ব্যবহার করে উচ্চারণ করে কথা বলাও শিখেছে।]
প্রশ্নকর্তা তার স্বল্প জ্ঞানে যা কুলায় তা দিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন যে,
- আমি কি ভবিষ্যত থেকে আগত ভীনগ্রহী এলিয়ানের সাথে কথা বলছি?
উত্তরে সে বলেছে,
- না। আমরা ভীনগ্রহী কোন প্রাণী নই। আমারা তোমাদেরই উত্তরসুরী।
- তাহলে ভবিষ্যত থেকে এখানে এসে কি করছ?[মানে এখন এই ‘সময়ে’ কি করছ?]
- (তোমাদের) পর্যবেক্ষণ করছি।নিউক্লিয়ার যুদ্ধের পর যখন সব প্রমাণ, সাক্ষ্য ধ্বংস হয়ে গেছে তখন থেকে পর্যবেক্ষণ করছি। সেই যুদ্ধে সামান্য সঙ্গখ্যক মানুষ বাঁচতে পেরেছিল।তারাই ছিল আমাদের পূর্ব পুরুষদের কয়েকজন। তখন থেকেই আমাদের পর্যবেক্ষণ শুরু।
- বুঝলাম। এখন বল আমরা কিভাবে তোমাদের ‘সময়’– কে বুঝব?
- তোমরা বুঝবার ক্ষমতা রাখো না। তোমরা অনুধাবনে সক্ষম নও। এমনকি আমাদের আমাদের সময়ে আমাদের আবিষ্কারগুলো সত্যতা গ্রহণ করে উপলব্ধি করবার সেই যোগ্যতা এখনো তোমাদের হয়নি।
- একটু বিশদ্ ভাবে বুঝিয়ে দাও।
- মহাবিশ্বের উৎপত্তি হয়েছে প্রকৃতি থেকে।তোমরা যাকে তথাকথিত ‘জীবন’ নামে অভিহিত কর, সেই জীবনের ‘অর্থ’ বোঝার সক্ষমতা তোমাদের নেই। জীবনের প্রকৃতি, স্বভাব, বৈশিষ্ট্য বোঝার মত মানসিক সক্ষমতা তোমাদের নেই।
- কি বলতে চাইছ? জীবনের ‘অর্থ’ নাকি জীবনের বৈশিষ্ট্য/ জীবনের প্রকৃতি?
- অর্থ (Meaning)হচ্ছে কোন কিছুর সাথে জুড়ে দেয়া একটা ধারণা। আর প্রকৃতি /বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বস্তুগত বাস্তবতা।
‘Meaning is something ascribed.
Nature is objective Reality.’
[গ্রেইস –এর বিশ্লেষণধর্মী উত্তর শুনে পাঠকরা নিশ্চয়ই দু’বার ভাববেন বিষয়বস্তুর প্রতি তাদের ধারণার গভীরতা সম্পর্কে।] প্রশ্নকর্তার পরবর্তী প্রশ্ন ছিল,
- সুতরাং তোমরা জান, এই মহাবিশ্ব কি ভাবে সৃষ্টি হয়েছে? ইশ্বর কি তা-ও জানো?
- হ্যা জানি। we evolved past the need for superstition.
[আমরা কুসংস্কারের উর্ধ্বে উঠে জ্ঞান আহরণের অন্বেষণে এগিয়ে গিয়েছে।জীবনে চলার পথে ইশ্বরের ধারণা, প্রাচীন ধর্মীয় কাহিনী যেখানে প্রয়োজন হয়, সেসব কুসংস্কার ছাড়াই আমরা এগিয়ে যেতে পেরেছি। তোমাদের এই সময়ে তোমরা এসবের মাঝে আবদ্ধ আছ। আমাদের সময়ে আমরা মিথ, কল্পকাহিনী, পুরাণ, রূপকথা থেকে মুক্ত। এসব কেন্দ্র করে আমাদের জীবন বহমান নয়।
- আরেকটু বিশদ বল। তোমার জ্ঞান দিয়ে আমায় আলোকিত কর।আমাদের মৃত্যুর পর কি হয়? [মানে প্রশ্নকর্তা বুঝাতে চাইছে, মৃত্যুর পর আত্মার কি হয়।] উত্তরটা ছিল এমন,
- মৃত্যু ধারণাটা তোমাদের মানস প্রসূত।মৃত্যু বলে কিছু নেই। কারণ মৃত্যু হওয়া/ শেষ হয়ে যাওয়া এসব ধারণাগুলো প্রকৃতিতে নেই।তুমি প্রতিটা মুহূর্ত অনুভব করে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করছ তা-ই জীবন। আমি, সে, তারা -আমরা সকলেই প্রতিটা মূহূর্ত থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করছি।[সেটা হতে পারে দেহের মাঝে উপস্থিত থেকে বা দেহের বাইরে থেকে।] অভিজ্ঞতা গ্রহণের ক্ষেত্রে একজন থেকে আরেকজনের মাঝে পার্থক্য আছে। এই পার্থক্যটুকু তোমাদের কাছে ‘মৃত্যু’ নামে পরিচিত।[মৃত ব্যাক্তি দেহের মাঝে নাই কিন্তু সেও অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে এগুচ্ছে।সে নেই এমন ধারণ অমূলক।]
প্রশ্নকর্তা তখন বললেন,
- তাহলে সোজাসাপ্টা বলা যায় মৃত্যু বলে কিছু নেই? আমার পরস্পর পরস্পরের জীবনকেই অনুভব করে চলছি?
- অনেকটা তাই। যেভাবে বুঝেছ তেমনই।
[সময় যেহেতু কম, প্রশ্নকর্তা এ বিষয়ে আর আগালেন না। গ্রেইস খুব অসুস্থ ও দুর্বল বোধ করছিল।তাকে ইলেকট্রিক শকের মত কিছু দিয়ে জাগ্রত রাখা হচ্ছিল, যেন তার কাছ থেকে সামান্য যতটুকু সম্ভব ততটুকু তথ্য নেয়া যায়। তাকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করার বিদ্যা পৃথিবীর মানুষের জানা নেই।তাই এই সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে তাকে আবারো প্রশ্ন করা হলো,
- এই জগৎ কিভাবে তৈরী হয়েছে?কেন আমাদের জন্যই এ জগৎ, এতো নিখুঁত ভাবে তৈরী হয়েছে?
- সৃষ্টির মাঝে অসংখ্য জগৎ রয়েছে। অসীম সংখ্যক। প্রতিটির ভৌত ধর্ম ভিন্ন ভিন্ন, এবং সকল জগত প্রাণের ধারকও নয়। প্রাণকে ধারণ করতে পারে না। আমরা বর্তমান মানে আমরা যে আছি এর কারণ আমাদের জগৎ আমাদের ধারণ করতে পারে।
- তাহলে নিউক্লিয়ার যুদ্ধ বাঁধিয়ে আমরা আমাদের ধ্বংস করি কেন?
- কারণ, তোমরা মতবাদ (dogma) নিয়ে চল। তোমরা মতবাদে বিশ্বাসী। মতবাদ হলো নির্দিষ্ট কিছু নীতি।তোমরা ঐ সকল নীতির ওপর গভীর বিশ্বাস স্থাপন করে আছ। রাজনোইতিক ও ধর্মীয় dogma.(Political and Religious dogma.) এই মতবাদ ভিত্তিক বিশ্বাস তোমাদের সকল সংঘর্ষের মূল কারণ।এই কারণে বিংশ শতকে তোমরা গণবিধ্বংসী মরণাস্ত্র ব্যবহার করার সুযোগ পাবা। আr তাতে করেই তোমাদের মানব প্রজাতি সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংস হয়ে যাবে।
- আরেকটা শেষ প্রশ্ন। নৈতিকতা কি?কিসের ওপর ভিত্তি করে তোমাদের নৈতিকতা, নীতিবোধ প্রতিষ্ঠিত?
- সহানুভূতি আর প্রমানের ওপর ভিত্তি করে।

পর্ব -২
কথোপকথনের বিষয়বস্তু - বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের সৃষ্টি।
প্রথম পর্ব শেষ হবার পর আবারো কিছু সময় ক্ষেপণ করে গ্রেইসকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, সে কথা বলার মত অবস্থায় আছে কি না। প্রশ্নকর্তার প্রশ্ন ছিল,
-তুমি বলছ যে, তুমি আমাদের ভবিষ্যত সময় থেকে এসেছ।বিবর্তন হয়ে ক্রমান্বয়ে তোমরা এমন রূপ ধারণ করেছ। তোমরা মানবজাতির উত্তরসূরি, কিন্তু রূপান্তরিত হয়ে আলাদা ভাবে বিবর্তিত এক নতুন প্রজাতি। তাহলে কিভাবে বুঝব যে তোমরা মানবজাতির উত্তরসূরি?
-আমরা মানব জাতিরই উত্তরসূরি।বিবর্তিত হতে হতে আমরা আর প্রজননে সক্ষম নই।তাই আমরা নতুন প্রজাতি।
-তাহলে ইংরেজীতে কথা বল কিভাবে?
এরপর দীর্ঘক্ষণ নীরব ছিল সেই গ্রেইস। এরকম বোকার মতো প্রশ্ন শুনে হয়তোবা অবাক হয়ে গিয়েছিল। তাকে ভয় দেখিয়ে প্রশ্নকর্তা তখন বলল,
-আমার কথার উত্তর দাও। নাহলে আবারো বিষাক্ত (স্কাপোলামিন /হায়সিন) ওষুধ প্রয়োগ করব।বুঝেছ কি বলছি? এবার বল, তোমরা ইংরেজী ভাষা কিভাবে বোঝ?
-তোমাদের প্রজাতিকে বুঝতে হলে এই ভাষা জানা আবশ্যক।
-সেজন্য ইংরেজী ভাষাকেই বেছে নিলে? তোমাদের তো ভীষণ বুদ্ধি।
-তা বলতে পারো।
-তোমরা দাবী কর যে তোমরা বিশ্ব ব্রহ্মান্ডের সৃষ্টি সম্পর্কে জানো।যদিও এর ব্যাখ্যা এখন পর্যন্ত দাও নি। আমি আবারো জানতে চাই এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ড কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে?
-এই সৃষ্টি রহস্য বুঝবার বা অনুধাবন করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। সত্যকে গ্রহণ করবার মত উপযুক্ত তোমরা নও।
-আমার প্রশ্নের উত্তর দাও।
[এখানে প্রশ্নকর্তার ধরণ দেখে একটা বিষয় স্পষ্ট যে, প্রশ্নকর্তা এই ভীনগ্রহী প্রানীটির প্রতি বেশ রূঢ় আচরণ করেছিল। গ্রেইস তার অসুস্থ শরীর নিয়ে আটক অবস্থায় আছে। তার ওপর বিষাক্ত ওষুধের প্রয়োগ হয়েছে । সে যতটুকু পেরেছে উত্তর দেবার চেষ্টা করেছে সে বলেছে,
-বিশ্ব ব্রহ্মান্ড তো সৃষ্টি হয়নি।এটা কিছু থেকেই সৃষ্ট নয়।
-কিছু থেকে সৃষ্ট না হলে তার অস্তিত্ব থাকতে পারে না। তুমি তো কিছু না থেকে সৃষ্টি করতে পার না।
- এই ধারণাটাই ভুল।কিছু থাকতে হবে এরকম ভাবাটাই ভুল।[আদিতে কিছু আছে এবং তা থেকে সৃষ্ট হয়, এই ধারণাটি ভুল। ‘কিছু থেকে উতপত্তি হয়’ এই ধারণা তখনই আসে, যখন আমরা ভাবি আদি বলে কিছু আছে। কিন্তু এই ‘আদি– অন্ত’ধারণা যেখানে এক্সিস্ট করে না সেখানে অসীম কিছু বিদ্যমান যা থাকার কোন হিসাব সময় দিয়ে করা যায় না। infinite existence. যেই থাকার কোণ শেষ এই, কোন শুরুও ছিল না। আর সে কারণেই কোন ‘স্রষ্টা’র হাত থেকে এই বিশ্ব ব্রহ্মান্ড গড়ে আসেনি। তাই এই ‘এক্সিস্ট’ করাটা বা এই ‘উপস্থিতি’র কোন স্রষ্টা নেই।সে তার স্বকীয় মহিমায় বিদ্যমান।[খুব সম্ভবত এখানে কোন কিছুর উপস্থিতি বলতে বুঝিয়েছে শক্তির উপস্থিতি বা শক্তি থেকে উদ্ভুত চেতনার উপস্থিতি।অর্থাৎ বিশ্ব ব্রহ্মান্ড সৃষ্টির আগে ছিল শুধুই চেতনা বা ‘কনসাশনেস -‘বোধ’। এই চেতনা কোথাও থেকে সৃষ্ট নয়। চেতনা সব সময়ই বিদ্যমান। চেতনা তার স্ব-ইচ্ছায় প্রনোদিত হয়ে তার সত্তার (ক্ষুদ্রাংশের)রূপান্তর ঘটিয়ে এক পর্যায়ে 3D রিয়্যালিটি তে প্রকাশিত (manifest) হয়েছে। এই স্তরে আমরা বস্তুকে স্পর্শ করে অনুভব করি, চোখ দিয়ে দর্শন করি। তাপ, চাপ অনুভব করি। শব্দ শ্রবণ করি।5D, 7D থেকে শুরু করে আরো উচ্চ ডাইমেনশানে ভৌত গুণাবলী পাল্টে যায়। সেখানে দেহ এবং তার পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের প্রয়োজন হয় না। পদার্থ তখন পার্থিব অবস্থা থেকে অপার্থিব অবস্থায় প্রকাশিত হয়। মানুষের বোধ, চেতনাগত অবস্থায় (শরীরবিহীন অবস্থায়) বিদ্যমান থাকে। চেতনা –র প্রকাশ বিদ্যমানতা অসীম এবং ‘সময়’-এর উর্ধ্বে। এই বোধ পূর্ব থেকেই ছিল। সবসময় –ই থাকবে।]
কথোপকথনের এক পর্যায়ে প্রশ্নকর্তা বললেন,
-কিন্তু তুমি তো (কোন একসময়ে) বলেছিলে জগৎ সমূহ সৃষ্টির এক আদি অবস্থা আছে। তার একটি মৌলিক রূপ রয়েছে।
-হ্যা বলেছি। ব্যাপারটা এমন যে, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সত্তার সমন্বয়ে এই মহাবিশ্ব বিরাজ করে।তোমাদের ভাষায় , তোমাদের চিন্তার ব্যাপ্তিতে এর ব্যাখ্যা দেয়া কঠিন।
-তাহলে বিশ্ব ব্রহ্মান্ড কি অলৌকিক ভাবে গঠিত হয়েছে?[অর্থাৎ গ্রেইসের কথা অনুযায়ী বিশ্ব ব্রহ্মান্ড কেউ সৃষ্টি করেনি?]
-বিশ্ব ব্রহ্মান্ড অলৌকিক ভাবে নয় স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে গঠিত হয়েছে।এটা অস্তিত্বের চিরন্তন ধারায় একটা অবশ্যম্ভাবী ঘটনা।‘The universe is a spontaneous event and inevitable within the eternity of existence.’ [event মানে যা ঘটে থাকে। কোন একটি ঘটনা।কিন্তু এমন যে সে পূর্বে ছিল। এখন ঘটছে না। আমাদের টাইম স্পেস রিয়্যালিটির পরিপ্রেক্ষিতে ইভেন্ট-কে বুঝে নিতে হবে যে, একটি ঘটনা যা ঘটে। পূর্বে ঘটেছিল বা ভবিষ্যতে ঘটবে এমন নয়। higher realm- এ সময় exist করে না। higher realm, টাইম-স্পেস দ্বারা গঠিত নয়।সুতরাং event মানে বর্তমান একটা অবস্থা যা, বর্তমান কালে ঘটে চলছে। আমাদের চিন্তার গন্ডী 3D reality দ্বারা আবদ্ধ। সুতরাং চেতনা হতে প্রকাশিত ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশকে কোন ইভেন্ট হিসাবে বুঝতে আমাদের পক্ষে (3D reality –র গন্ডী পেরিয়ে) বুঝতে দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।] গ্রেইস আরো বলেছে,
- অসীম সংখ্যার বিশ্ব থাকলেও তারা সকলে প্রাণ ধারণের উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে পারে না। তোমাদের এই বিশ্বই প্রাণের ধারক হিসাবে প্রকাশিত হয়েছে। তাই তোমরা exist কর।অন্য বিশ্বে অন্য ধরণের সৃষ্টি আছে। তারাও (এক ও অভিন্ন) চেতনার অন্যরকম বহিঃপ্রকাশ।কিন্তু এসব তোমাদের বোধগম্যের উর্ধ্বে। [তাই আমরা যাকে life বলি, প্রাণ বলি, গ্রেইস তাকে so called life বলেছে। তখন প্রশ্ন কর্তা তাকে আর প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করে জিজ্ঞাসা করেছে,]
- আমাদের বিশ্বে ‘প্রাণ’ কি তাহলে হঠাৎ করে প্রকাশিত হলো?
- এই বিশ্বে? অবশ্যই। হঠাৎ করেই হলো। কারণ এই বিশ্বই একমাত্র প্রাণ ধারণে সক্ষম একটা বিশ্ব, যার বহিঃপ্রকাশ হঠাত-ই হয়েছে। তবে ‘জীবন’ ভৌত অবস্থার-ই একটা অবশ্যম্ভাবী আত্মপ্রকাশ। ‘In this universe, life as you call it, is an inevitable consequence of the Universes’ physical properties.’
[3D রিয়্যালিটি তে /বাস্তবতায় আমরা পঞ্চ ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুধাবন করতে পারি। এই বাস্তবতার ভৌত অবস্থাকে অনুধাবন করতে পারার নামই জীবন। অন্য বাস্তবতায় এবং অন্য ডাইমেনশানে ভৌত অবস্থা অন্য রকম। সেই অবস্থায় যে অস্তিত্ব বিদ্যমান তাদের ইন্দ্রিয়ের কাজ সে অনুযায়ী ক্রিয়াশীল।]
প্রশ্নকর্তা বললেন,
-অর্থাৎ নির্দিষ্ট কোন নিয়ম ছাড়া উদ্দেশ্যহীন, এলোপাথাড়ি ভাবে আমরা মানুষেরা সৃষ্টি হয়ে গিয়েছি?
-হ্যা। অনেকটা দৈব ভাবে সৃষ্ট বলা যেতে পারে। তোমরা থাক কি, না থাক তা দিয়ে তোমাদের বিশ্বের কিছুই যায় আসে না। কারণ এই বিশ্বের অভ্যন্তরে যতগুলো জগৎ আছে তারা যে কোন সময়ে চারপাশের কত ধরণের এলোমেলো ঘটনা ঘটে সেগুলো দ্বারা ধংস হয়ে যেতে পারে। যেমন সুপার নোভার বিস্ফোরণে, সূর্য থেকে নির্গত সৌর রশ্মির বিকিরণে, উল্কার পতনে, গ্রহাণুর সংঘর্ষে।কিন্তু এতে কি তোমাদের চারপাশের জগতের কিছু যায় আসে? আর যদি নাই-ই যায় আসে, তাহলে কি বলা যায় না, তোমাদের জীবন একটা উদ্দেশহীন হঠাৎ সৃষ্টি। সেজন্যই বলি, তোমাদের সৃষ্টির পিছনে যে সত্য (বাস্তবতা) লুক্কায়িত আছে, সেই সত্যকে গ্রহণ করবার মতো মানসিক ক্ষমতা তোমাদের নেই।
গ্রেইসের বক্তব্য অনুসারে প্রশ্নকর্তা এই পর্বের আলোচনায় এবার উপসংহার টানতে চাইলেন।তিনি বেশ গভীর চিন্তা করে ফেলেছেন ইতোমধ্যে। তাই বললেন,
- আমাদের জগৎ যদি আমাদের প্রতি নিরুত্তাপই থাকে তাহলে তো আমরা শুধু এলোপাথাড়ি এক সৃষ্টি শুধু নয়, তার থেকেও অনেক বেশী রকমের উদ্দেশ্যহীন, আকস্মিক, কাকতালীয় এক সৃষ্টি! তাহলে এই জগৎ তো অর্থহীন। সেক্ষেত্রে বেঁচে থাকারই বা অর্থ কি? কোন অর্থ নেই।
- অর্থ আছে।অর্থ বলতে বুঝায় তোমার চেতনা দ্বারা তুমি কি বুঝ।‘অর্থ’ তোমার চিন্তার মাঝে অবস্থান করে। তোমরা মানুষেরা, অর্থ –কে কল্পনা কর। যা কল্পনা কর তাকে রহস্যময়, অলৌকিক, গোপনীয় পরিকল্পনা মনে করে নিজেকে ভুল ধারণায় পরিচালিত কর। প্রকৃতপক্ষে ‘অর্থ’ বলতে তা বোঝায় না। ‘Your species conjures meaning but operates under the false belief that meaning is the mystical plan. It is not.
গ্রেইস তারপর বলেছে, অর্থ মানে হলো, যা তুমি ভাব/ যা তুমি বুঝ/যা তুমি সৃষ্টি কর। Meaning is what you make.

পর্ব -৩
কথোপকথনের বিষয়বস্তু –সময়ের সংজ্ঞা।
সময় (Time) বলতে কি বুঝায়।
পরবর্তী কথোপকথন হয়েছে Time নিয়ে। পূর্বেই বলেছি আটককৃত এই গ্রেইসের সাথে প্রশ্নকর্তা বেশ তাচ্ছিল্যের স্বরে, উদ্ধত ভঙ্গিমায়, রূঢ় কন্ঠে তার আচরণের বহিঃপ্রকাশ দেখিয়েছেন।তার প্রশ্ন ছিল,
-সময় নিয়ে কথা বলতে চাই। তুমি কি জান সময় কাকে বলে?
উত্তরে গ্রেইস বললো,
- সময় হলো self winding mechanism. [অর্থাৎ স্বয়ংক্রিয় ভাবে আবর্তনশীল একটা ব্যবস্থা।]
আরো বলেছে, সময় হলো Perpetual rotor. [চিরকাল ধরে অবর্তিত হবার প্রক্রিয়া।অথবা বলা যায় চিরস্থায়ী আবর্তনের একপ্রকার কৌশল বা ব্যবস্থা। বা বলা যায় চিরস্থায়ী ভাবে ঘূর্ণায়মান এক প্রক্রিয়া। কোন কাজ বা কোন ঘটনা 3D রিয়্যালিটিতে কিভাবে বাস্তব রূপ নেবে, সেটি বুঝানো হয় সময় দিয়ে।]
সময়ের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে আরো বলেছে,
সময় হলো one of the most intricate and exquisite creation of man.[সময় হলো, মানুষ কর্তৃক সৃষ্ট সবচেয়ে জটিল এবং অসাধারণ সৃষ্টি সমূহের একটি সৃষ্টি।
-তাহলে এত জটিল একটা বিষয়ের জন্য তো একটা সৃষ্টিকর্তা প্রয়োজন, তাই না? আমাকে বিস্তারিত বলো। আমাকে বলো যে, এত জটিল কৌশল ব্যবস্থা কিভাবে স্রষ্টা ছাড়া অস্তিত্ব লাভে সক্ষম ? [মানে বিদ্যমান থাকা সম্ভব?]
- বললাম তো। তোমরা এ বিষয়ে বুঝবার মতো মানসিক ভাবে উপযুক্ত নও এবং সত্যটাকে মেনে নিতেও সক্ষম নও।
-তাহলে বলো, এই আমি কিভাবে অস্তিত্ব নিয়ে বেঁচে আছি স্রষ্টার হাত ছাড়া?
-বেঁচে আছ কারণ তুমি আছ, তাই তুমি বেঁচে আছ । তুমি আছ বলেই তুমি অস্তিত্ব অনুভব কর। তুমিই তোমার অস্তিত্ব। তুমি সব সময় বিদ্যমান। যদি তা না হতো, তাহলে তোমার এই ‘থাকা’–টা হতো না।এই মহাবিশ্বে যতগুলো জগৎ আছে তার প্রায় সবগুলোই বিশৃংখলায় পূর্ণ। শুধু তোমাদের জগতটা কাকতালীয় ভাবে (বা আকস্মিক ভাবে) বলতে পার, এই ধরণের স্থিতিশীল গ্রহকে ধারণ করছে। এখানে প্রানের সঞ্চার ঘটলে তাকে টিকিয়ে রাখার উপযুক্ততা এই গ্রহের আছে।
- এ রকম গ্রহ আমাদের জগতে আরো আছে?
-ট্রিলিয়ন সংখ্যক আছে।
- তাহলে কাকতালীয় ভাবে কি করে প্রাণের অস্তিত্ব পৃথিবীতে আছে?
-কাকতালীয় ঠিক নয়। সঠিক ভাবে বললে বলা যায়, টিকে থাকার সম্ভবনা আছে তাই আছে। প্রাণ সঞ্চারের সম্ভবনা আছে তাই আছে। পরিসংখ্যনগত ভাবে সফল হওয়ার সম্ভাবনা (statistical likelihood)বেশী, তাই টিকে আচে।
ধরে নিলাম ট্রিলিয়ন সংখ্যক জগতে প্রাণের অস্তিত্ব প্রকাশিত হবার সম্ভবনা ট্রিলিয়ন সংখ্যক। কিন্তু কোথাও তা ঘটেনি। শুধু এই গ্রহেই প্রাণের সঞ্চার ঘটেছে। সে কারণেই পৃথিবী নামক গ্রহটি এত অসাধারণ, এতো গুরুত্ব পূর্ণ।ধরো, ট্রিলিয়ন সংখ্যক সম্ভবনার মাঝে একটি সম্ভবনা হলো তোমাদের অস্তিত্ব।অস্তিত্ব প্রকাশের পর অণবিক সমন্বয় ঘটে তা ভাগে ভাগে বিভক্ত হয়ে নিঃশেষ হয়ে যাবার সময় তার একটি অনুলিপি রেখে যায়। এটাই ছিল তোমাদের প্রাণের উৎসের প্রথম পর্যায়।[অর্থাৎ জীন তৈরী হচ্ছে]। অবশেষে তোমাদের জীবনের শুরু।[অর্থাৎ DNA গঠনের প্রারম্ভিক পর্যায় উত্তীর্ণ।]
প্রশ্নকর্তা তখন জানতে চাইলেন,
- আনবিক সংযোগের এই সমন্বয় সাধন কেন বিশেষ ধরণের (একটি অনন্য সাধারণ) ঘটনা?
- দুটো বৈশিষ্ট্যের কারণে।আণবিক মিশ্রণ, প্রতিলিপি তৈরী করতে পারে। এবং (জীনগত) পরিবর্তন সাধন করতে পারে। যদি এই পরিবর্তন দুর্বল হয় তাহলে তার অস্তিত্ব থাকে না। [অর্থাৎ জীন দুর্বল হলে সে আর অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারে না।] পরিবর্তন শক্তিশালী হলে তার বিকাশে সমৃদ্ধি আসে।উন্নতি সাধিত হয়। সামনের দিকে এগিয়ে চলে। জীন গত পরিবর্তন শক্তিশালী হয়ে সূক্ষ্ম (প্রথম ধাপে) আণুবীক্ষণিক জীবে রূপান্তরিত হয়।আরো পরিবর্তনের মাধ্যমে জটিল গঠণ লাভ করে বিকশিত হতে থাকে। ঐরকম হাজারো লক্ষের মাঝে একটা সম্ভাব্য ফলাফল হলে তোমরা। [হাজারো লক্ষের অণবিক সজ্জার ফলে উদ্ভুত একটা ফলাফল তোমরা।]হাজারো লক্ষের মাঝে একটা উত্তরসূরি তোমরা। যদি এই ঘটনার সূত্রপাত না হতো, তোমাদের এই বেঁচে থাকা, মানে তথাকথিত এই জীবনের উৎপত্তি হতো না। তোমরা হাজারো লক্ষ সম্ভবনার মাঝে একটা সফল সম্ভবনা। সেজন্যই তোমরা, তোমাদের অস্তিত্ব, তোমাদের গ্রহ, তোমাদের জগৎ -সব কিছুই এত অসাধারণ।

০৯/০৮/২০২৬

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

রাজীব নুর বলেছেন: এজন্যই বলে, মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.