নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি মানুষকে আহবান করে, সৎকাজ করে এবং বলে, ‘আমি তো আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম)’ তার অপেক্ষা কথায় উত্তম আর কোন্ ব্যক্তি (৪১ : ৩৩)

ইসলাম হাউস

তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়।আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন।তিনি কাউকে জন্ম দেন না, আর তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি।তাঁর সমকক্ষ কেউ নয়।

ইসলাম হাউস › বিস্তারিত পোস্টঃ

হজে প্রদত্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফাতাওয়া

৩০ শে অক্টোবর, ২০২৫ সকাল ৮:৫৬


হজে প্রদত্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফাতাওয়া

সাঈদ আব্দুল কাদির বাশানফার
ভূমিকা

সকল প্রশংসার হকদার একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা, যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন শুধু তার ইবাদত করার জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক মুহাম্মাদ, তার পরিবার, তার সকল সাথী ও তাদের অনুসারীদের ওপর।
অতঃপর আমরা সাক্ষ্য দেই যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, অর্থাৎ ইবাদত বলতে যা বুঝায় তার হকদার আল্লাহ তা‘আলা, আমরা বিনা মাধ্যমে সকল ইবাদত তাকে সোপর্দ করব, এটাই তাওহীদ। আমরা আরো সাক্ষ্য দেই যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর নবী ও রাসূল, অর্থাৎ ইবাদতের অর্থ, সময়, পরিমাণ, পদ্ধতি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি-অসন্তুষ্টি যাবতীয় বিষয় আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে গ্রহণ করব, এটাই রিসালাতকে মেনে নেওয়া।
আল্লাহ তা‘আলা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করার নির্দেশ প্রদান করে বলেন:
﴿أَطِيعُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُواْ ٱلرَّسُولَۖ فَإِن تَوَلَّوۡاْ فَإِنَّمَا عَلَيۡهِ مَا حُمِّلَ وَعَلَيۡكُم مَّا حُمِّلۡتُمۡۖ وَإِن تُطِيعُوهُ تَهۡتَدُواْ﴾ [النور: ٥٤]
“তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর ও রাসূলের আনুগত্য কর। তারপর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে সে শুধু তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য দায়ী এবং তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরা দায়ী। আর যদি তোমরা তার আনুগত্য কর তবে তোমরা হিদায়াতপ্রাপ্ত হবে”। [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৫৪]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “আমার প্রত্যেক উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে তবে অস্বীকারকারী ব্যতীত, সাহাবীগণ জিজ্ঞাসা করেন অস্বীকারকারী কে? তিনি বলেন: যে আমার আনুগত্য করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে আমার অবাধ্য হবে সেই অস্বীকারকারী”।
হজ ইসলামের পঞ্চম রুকন ও মহান এক ইবাদত। আমরা যদি আল্লাহর জন্য হজ সম্পাদন করি তাওহীদের দাবি পূরণ হবে, আর হজের যাবতীয় আমল যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ মোতাবেক আঞ্জাম দেই রিসালতের দাবি পূরণ হবে। বিদায় হজে সাহাবীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখে হজ পালন করেন, তবুও কারো থেকে ভুল সংঘটিত হয়, কেউ সমস্যার সম্মুখীন হলে তার শরাণাপন্ন হন। তিনি তাদেরকে যে সংশোধনী ও সমাধান দিয়েছেন এখানে তাই আমরা অনুবাদ করে পেশ করছি, যা সংগ্রহ করেছেন সাঈদ ইবন আব্দুল কাদির বাশানফার “আল-মুগনি ফি ফিকহিল হাজ ওয়াল উমরাহ” গ্রন্থের শেষে।
কারো জন্য ফাতওয়ার অনুবাদ যথেষ্ট, কিন্তু এমন অনেক রয়েছে যাদের জন্য অনুবাদ যথেষ্ট নয়, তাই অস্পষ্ট কতক বিষয় স্পষ্ট করার জন্য টিকার সাহায্য গ্রহণ করেছি, যা থেকে পাঠকবর্গ ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন, ইনশাআল্লাহ। প্রশ্নোত্তর আকারে হওয়ায় সহজবোধ্য এবং অনায়াসে স্মৃতিতে ধারণযোগ্য হবে অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফাতওয়ার পর ইমামদের মাযহাব ও মতবাদ জানার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত কি-না সেটা যাচাই করা। ইমামগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করেই ইমাম হয়েছেন, ইমামগণকে সম্মান করব, কিন্তু তারা ভুলের ঊর্ধ্বে নয়, তাদের বিশুদ্ধটা গ্রহণ করব ও ভুলটা ত্যাগ করব এটাই কুরআন ও সুন্নাহর নীতি ও নির্দেশ। কোনো মাযহাব বা ইমামের কথায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফাতওয়া ও আদর্শকে ত্যাগ করা সুন্নাহর সাথে বিদ্রোহ করার শামিল, যার পরিণতি ভয়াবহ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿فَلۡيَحۡذَرِ ٱلَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنۡ أَمۡرِهِۦٓ أَن تُصِيبَهُمۡ فِتۡنَةٌ أَوۡ يُصِيبَهُمۡ عَذَابٌ أَلِيمٌ﴾ [النور: ٦٣]
“অতএব যারা তার নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন তাদের ওপর বিপর্যয় নেমে আসা অথবা যন্ত্রণাদায়ক আযাব পৌঁছার ভয় করে”। [সূরা আন-নূর, আয়াত: ৬৩]
বর্তমান আমাদের বিপর্যয় ও ফেতনার কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিরুদ্ধাচরণ করা। অতএব নির্দিষ্ট ইমাম ও মাযহাবকে আদর্শ না মেনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আদর্শ মানাই মুক্তির একমাত্র পথ। কারণ, প্রত্যেক ইমাম বা মাযহাব কোনো না কোনো ক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ বিচ্যুত হয়েছে, মুসলিম জাতি সেই ভুল ও বিচ্যুতি আঁকড়ে ধরেই একাধিক দল ও মাযহাবে বিভক্ত। ইমামগণ তাদের ইখলাস ও ইজতিহাদ দ্বারা সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সক্ষম হলে দু’টি সাওয়াব পান, অন্যথায় একটি সাওয়াব লাভ করেন। আমাদের চেষ্টা হবে তাদের সঠিক সিদ্ধান্ত মানা ও আদবের সাথে ভুলটা প্রত্যাখ্যান করা, তবে আমরা সঠিক পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবো। আল্লাহ তাওফিক দান করুন।
অনুবাদক

ফাতওয়া: ১. আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো কোন আমল সবচেয়ে উত্তম? তিনি বলেন:
«إِيمَانٌ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ» قِيلَ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: «جِهَادٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ» قِيلَ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: «حَجٌّ مَبْرُورٌ».
“আল্লাহ ও তার রাসূলের ওপর ঈমান”। বলা হলো অতঃপর কী? তিনি বললেন: “আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা”। বলা হলো অতঃপর কি? তিনি বললেন: “মাবরুর হজ” ।
ফাতওয়া: ২. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন:
يَا رَسُولَ اللَّهِ، نَرَى الْجِهَادَ أَفْضَلَ الْعَمَلِ، أَفَلَا نُجَاهِدُ؟، قَالَ: «لَا، لَكنَّ أَفْضَلَ الْجِهَادِ حَجٌّ مَبْرُورٌ».
“হে আল্লাহর রাসূল, আমরা তো জিহাদকে সর্বোত্তম আমল জ্ঞান করি, আমরা কি জিহাদ করবো না? তিনি বললেন: না, তোমাদের জন্য উত্তম জিহাদ মাবরুর হজ”।
ফাতওয়া: ৩. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করি:
«يَا رَسُولَ اللَّهِ، عَلَى النِّسَاءِ جِهَادٌ ؟ قَالَ: «نَعَمْ، عَلَيْهِنَّ جِهَادٌ لَا قِتَالَ فِيهِ، الْحَجُّ وَالْعُمْرَةُ».
“হে আল্লাহর রাসূল, নারীদের ওপর কি জিহাদ আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তাদের ওপর জিহাদ আছে, তাতে মারামারি নেই, হজ ও উমরা” ।
ফাতওয়া: ৪. জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, আমি ভীরু ও দুর্বল। তিনি তাকে বলেন: এমন জিহাদের দিকে অগ্রসর হও যেখানে ক্ষমতা প্রদর্শন নেই, আর তা হলো হজ”। ফাতওয়া: ৫. আবু বকর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করেন, কোন হজ উত্তম? তিনি বলেন:
«الْعَجُّ وَالثَّجُّ»
“আজ্জু ও সাজ্জু”। তিরমিযী বলেনে হাদীসটি গরীব। আজ্জু অর্থ উচ্চস্বরে তালবিয়াহ পাঠ করা, আর সাজ্জু অর্থ কুরবানি করা।
ফাতওয়া: ৬. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো, কিসে হজ ফরয করে? তিনি বললেন: “সম্বল ও সওয়ারী”। হাদীসটি ইমাম তিরমিযী ইবন উমার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন হাসান।
ফাতওয়া: ৭. জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমার স্ত্রী হজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছে, এ দিকে আমার নামও অমুক অমুক যুদ্ধে লিখা হয়েছে? তিনি বললেন: “যাও, তোমার স্ত্রীর সাথে হজ কর”। ইবন আব্বাস থেকে বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেন।
ফাতওয়া: ৮. জনৈক নারী সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো, যার স্বামী ও সম্পদ রয়েছে কিন্তু স্বামী তাকে হজের অনুমতি দেয় না? তিনি বললেন: “স্বামীর অনুমতি ব্যতীত তার যাত্রা করার সুযোগ নেই”।
ফাতওয়া: ৯. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো ওমরা কি ওয়াজিব? তিনি বললেন: “না, তবে ওমরা উত্তম”।
ফাতওয়া: ১০. জনৈক নারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, আপনার সাথে হজ করার সমতুল্য কি? তিনি বললেন: “রমযানে ওমরা করা” ।
ফাতওয়া: ১১. উম্মে মা‘কাল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমার ওপর হজ ফরয। আবু মা‘কালের একটি উট আছে। তখন আবু মা‘কাল বললেন, সে সত্য বলেছে, আমি তা সদকা করে আল্লাহর রাস্তায় দিয়ে দিয়েছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু মা‘কালকে বললেন: “তুমি উটটি তাকে দিয়ে দাও যেন সে তার ওপর হজ করতে পারে, কারণ সেটাও আল্লাহর রাস্তায়”। আবু মা‘কাল তাকে উট দিয়ে দেন। সে আবার বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমি নারী, আমার বয়স বেড়ে গেছে এবং আমি অসুস্থ হয়ে পড়ছি। এমন কোনো আমল আছে যা হজের মোকাবেলায় হবে? তিনি বললেন: “রমযানের ওমরা হজের মোকাবেলায় যথেষ্ট”।
ফাতওয়া: ১২. ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জনৈক নারী তার এক বাচ্চাকে উঁচিয়ে বলেন, হে আল্লাহর রাসূল, তার কি হজ আছে? তিনি বলেন:
«نَعَمْ وَلَكِ أَجْرٌ ».
“হ্যাঁ, তবে সাওয়াব তোমার”। ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
ফাতওয়া: ১৩. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা খুতবায় বলেন: “হে লোক সকল, আল্লাহ তোমাদের ওপর হজ ফরয করেছেন, অতএব তোমরা হজ কর”। জনৈক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল প্রত্যেক বছর? তিনি বললেন:
«لو قلت: نعم لوجبت! ولما استطعتم! ثم قال: ذروني ما تركتكم».
“আমি যদি বলি হ্যাঁ, অবশ্যই ওয়াজিব হয়ে যাবে, কিন্তু তোমরা আদায়ে সক্ষম হবে না”। অতঃপর তিনি বলেন: “আমি যে ব্যাপারে তোমাদেরকে ছাড় দিয়ে রাখি সে ব্যাপারে তোমরা আমাকে চুপ থাকতে দাও...”। আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে ইমাম মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
ফাতওয়া: ১৪. সাহাবী আকরা ইবন হাবিস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন: হজ প্রতি বছর ফরয না একবার? তিনি বললেন, বরং একবার, যে বেশি করবে নফল হবে”। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু সূত্রে আবু দাউদ হাদীসটি বর্ণনা করেন।
ফাতওয়া: ১৫. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খাসআম গোত্রীয় জনৈক নারী জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল, বান্দার ওপর আল্লাহর ফরয হজ আমার বাবাকে বার্ধক্য অবস্থায় পেয়েছে, তিনি বাহনের উপর বসতে পারেন না, আমি কি তার পক্ষ থেকে হজ করব? তিনি বললেন: “হ্যাঁ”। ইবন আব্বাস বলেন, এটা ছিল বিদায় হজের ঘটনা।
ফাতওয়া: ১৬. আবু রাযীন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমার বাবা বৃদ্ধ, তিনি হজ, ওমরা ও সফর করতে পারেন না? তিনি বললেন: “তোমার বাবার পক্ষ থেকে তুমি হজ ও ওমরা কর”।
ফাতওয়া: ১৭. জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, আমার বোন মান্নত করেছিল হজ করবে, কিন্তু সে মারা গেছে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “যদি তার ওপর ঋণ থাকত তুমি কি পরিশোধ করতে”? সে বলল: হ্যাঁ, তিনি বললেন: “আল্লাহর ঋণও আদায় কর, তিনি পাওনার অধিক হকদার”। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুমা থেকে বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
ফাতওয়া: ১৮. জনৈক নারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, আমার মা মারা গেছে কিন্তু সে হজ করে নি, তার পক্ষ থেকে আমি কি হজ করব? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তার পক্ষ থেকে হজ কর”। বুরাইদাহ থেকে ইমাম তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
ফাতওয়া: ১৯. জুহাইনাহ গোত্রীয় জনৈক নারী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, আমার মা হজ করার মান্নত করেছেন, কিন্তু তিনি হজ করার পূর্বে মারা গেছেন, তার পক্ষ থেকে আমি কি হজ করব? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তার পক্ষ থেকে হজ কর। তুমি কি ভেবেছ যদি তোমার মায়ের ওপর ঋণ থাকত তুমি পরিশোধ করতে? আল্লাহর হকও পরিশোধ কর, তিনি পাওনার অধিক হকদার”। ইবন আব্বাস থেকে বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
ফাতওয়া: ২০. জনৈক নারী নিজের বাবা সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, বাবা মারা গেছে কিন্তু হজ করে নি? তিনি বললেন: “তোমার বাবার পক্ষ থেকে হজ কর”। ইবন আব্বাস থেকে নাসাঈ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
ফাতওয়া: ২১. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে বলতে শুনেন, শুবরুমার পক্ষ থেকে লাব্বাইক। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেন, “তোমার পক্ষ থেকে হজ করেছো?” সে বলল: না, তিনি বললেন: “আগে তোমার পক্ষ থেকে হজ কর, অতঃপর শুবরুমার পক্ষ থেকে হজ কর” ।
ফাতওয়া: ২২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাহাবী উকবাহ জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমার বোন মান্নত করেছে খালি পায়ে হেঁটে বায়তুল্লাহ যাবে? তিনি বলেন: “সে যেন হেঁটে ও বাহনে চড়ে বায়তুল্লাহ যায়” ।
ফাতওয়া: ২৩. আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জনৈক নারী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়, যে খালি পায়ে ও খালি মাথায় হেঁটে বায়তুল্লাহ গমন করার মান্নত করেছে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নির্দেশ দেন: “সওয়ার হও, মাথায় কাপড় পরিধান কর এবং তিন দিন সিয়াম রাখ” ।
ফাতওয়া: ২৪. জনৈক নারী সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়, যে হেঁটে বায়তুল্লাহ যাওয়ার মান্নত করেছে, তিনি বলেন: “আল্লাহ তার হাঁটার মুখাপেক্ষী নয়, তাকে নির্দেশ কর যেন সওয়ার হয়”। আবু হুরায়রা সূত্রে তিরমিযী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ফাতওয়া: ২৫. জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমার বোন হেঁটে বায়তুল্লাহ গমন করার মান্নত করেছে অথবা বলেছেন: হেঁটে হজ করার মান্নত করেছে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “তোমার বোনের কষ্ট দিয়ে আল্লাহ কিছুই করবেন না, সে যেন সওয়ার হয়ে হজ করে এবং তার কসমের কাফফারা দেয়”। ইবনে আব্বাস থেকে আবু দাউদ হাদীসটি বর্ণনা করেন ।
ফাতওয়া: ২৬. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে দেখেন উট হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তাকে তিনি বলেন: “তার ওপর সওয়ার হও”। সে বলল এটা বুদনাহ (কুরবানির উট)। তিনি বলেন: “তার ওপর সওয়ার হও”।
ফাতওয়া: ২৭. জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, আমি হজের সফরে (বাহন) ভাড়া দেই, মানুষেরা বলে তোমার হজ নেই? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিছুক্ষণ চুপ থাকলেন কোনো উত্তর দিলেন না, অতঃপর নাযিল হলো:
﴿لَيۡسَ عَلَيۡكُمۡ جُنَاحٌ أَن تَبۡتَغُواْ فَضۡلٗا مِّن رَّبِّكُمۡۚ ١٩٨ ﴾ [البقرة: ١٩٨]
“তোমাদের ওপর সমস্যা নেই যে, তোমরা তোমাদের রবের অনুগ্রহ অনুসন্ধান করবে”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৯৮] অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নিকট লোক পাঠিয়ে আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন এবং বললেন তোমার হজ আছে” ।
ফাতওয়া: ২৮. জনৈক সাহাবী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল আমরা কোত্থেকে ইহরাম বাঁধবো? তিনি বলেন: মদিনাবাসীরা যুল হুলাইফা থেকে, শামবাসীরা জুহফাহ থেকে, নাজদবাসীরা কারন থেকে ও ইয়ামানবাসীরা ইয়ালামলাম থেকে”। তিরমিযী ইবন উমার থেকে হাদীসটি বর্ণনা শেষে বলেন, হাসান ও সহীহ।
ফাতওয়া: ২৯. জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, মুহরিম কি পরিধান করবে? তিনি বললেন: জামা, পাগড়ী, পায়জামা, মাথা ঢাকা যায় এমন বড় কোর্তা ও চামড়ার মোজা পরবে না, যদি জুতোর ব্যবস্থা না হয় মোজা পরবে, তবে টাখনুর নীচ থেকে তা কেটে নিবে”।
ফাতওয়া: ৩০. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খোযা‘আ গোত্রের নাজিয়া জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল, যেসব হাদি অচল হয়ে যায় কি করব? তিনি বললেন: “জবেহ কর, অতঃপর তার পা রক্তে চুবিয়ে দাও এবং মানুষ ও তার মাঝ থেকে সরে দাঁড়াও, যেন তারা তা খেয়ে নেয়”।
ফাতওয়া: ৩১. আসমা বিনতে উমাইস জুল হুলাইফা পৌঁছে যখন বাচ্চা প্রসব করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন কি করব? তিনি বলেন: “গোসল কর, কাপড় বেঁধে নাও অতঃপর হজের তালবিয়া পাঠ কর”। ইমাম মুসলিম বর্ণিত জাবের এর হাদীসের অংশ বিশেষ।
ফাতওয়া: ৩২. সুরাকাহ ইবন মালিক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের ওমরা, অপর বর্ণনায় এসেছে: আমাদের মুত‘আহ (তামাত্তু) এ বছরের জন্য না সর্বদার জন্য? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক হাতের আঙ্গুলসমূহ অপর হাতের আঙ্গুলে দাখিল করে বলেন: “ওমরা হজের মধ্যে প্রবেশ করেছে এ বছরের জন্য নয়, বরং সর্বদার জন্য”। এটা ছিল মারওয়া পাহাড়ের উপর। ইমাম মুসলিম বর্ণিত জাবের এর হাদীসের অংশ বিশেষ।
ফাতওয়া: ৩৩. আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু যখন ইয়ামান থেকে আগমন করেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করেন: “কিভাবে তালবিয়াহ পাঠ করেছো?” তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহর তালবিয়ার মতো তালবিয়া পাঠ করেছি। তিনি বললেন: “আমার সাথে হাদি রয়েছে তাই তুমি হালাল হবে না”। ইমাম মুসলিম বর্ণিত জাবের এর হাদীসের অংশ বিশেষ।
ফাতওয়া: ৩৪. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু মুসা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেন: “কীভাবে তালবিয়াহ পাঠ করেছো?” আবু মুসা বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তালবিয়ার মত তালবিয়া পাঠ করেছি। তিনি বললেন: “তুমি কি হাদি নিয়ে এসেছো?” আবু মুসা বলেন: না, তিনি বললেন: “তুমি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ কর, সাফা ও মারওয়ার সাঈ কর এবং হালাল হয়ে যাও”। মুসলিম বর্ণিত জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর হাদীসের অংশ বিশেষ।
ফাতওয়া: ৩৫. সুরাকাহ ইবন মালিক মিদলাজি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, -তখন তারা উসফান নামক স্থানে ছিলেন- হে আল্লাহর রাসূল, আমাদেরকে তাদের মত বুঝিয়ে বলুন, যারা আজকে জন্মগ্রহণ করেছে, অতঃপর তিনি বলেন: “আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের এই হজে ওমরা দাখিল করে দিয়েছেন। অতএব তোমরা যখন মক্কায় আস, তোমাদের থেকে যে বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সাঈ করবে হালাল হয়ে যাবে, তবে যার সাথে হাদি থাকবে সে ব্যতীত”।
ফাতওয়া: ৩৬. জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল, আতর মাখা সুগন্ধিময় জুব্বা পড়ে যে ওমরার ইহরাম বেঁধেছে তার সম্পর্কে কী বলেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “আতর, যা তোমার শরীরে রয়েছে ধুয়ে ফেল, আর জুব্বা খুলে ফেল, অতঃপর হজে যেরূপ কর ওমরাতেও সেরূপ কর”। ইয়ালা ইবন উমাইয়া থেকে বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
ফাতওয়া: ৩৭. ধুবা‘আহ বিনতে যুবায়ের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি হজ করতে চাই কিন্তু অসুস্থ? তিনি বললেন: হজ কর ও শর্ত কর, যেখানে আমাকে বাধাগ্রস্ত করা হয় সেখানে আমি থেমে যাবো”। আয়েশা সূত্রে বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেন।
ফাতওয়া: ৩৮. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয় মুহরিম কোনো কোনো প্রাণী হত্যা করতে পারবে? তিনি বললেন: “সাপ, বিচ্ছু ও ইঁদুর, কাক ঢিল ছুড়ে তাড়িয়ে দিবে হত্যা করবে না, আর কামড়ানো কুকুর ও চিল। আবু দাউদ ও অন্যান্য মুহাদ্দিস আবু সা‘ঈদ থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
ফাতওয়া: ৩৯. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাফসা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা জিজ্ঞেস করেন, মানুষদের কি হলো হালাল হয়েছে অথচ আপনি হালাল হন নি? তিনি বলেন: “আমি হাদিকে মালা পরিয়েছি ও মাথায় সুগন্ধি মেখে ইহরাম বেঁধেছি, অতএব হাদি নহর না করে হালাল হবো না”।
ফাতওয়া: ৪০. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা ঋতুমতী হলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট জানতে চান, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: “হাজি সাহেবগণ যা করে তুমি তাই কর, তবে পবিত্র হওয়ার আগ পর্যন্ত বায়তুল্লাহর তাওয়াফ কর না”।
ফাতওয়া: ৪১. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হয়, সাফিয়াহ বিনতে হুয়াই তাওয়াফে ইফাদা শেষে ঋতুমতী হয়েছে? তিনি বলেন: “তাহলে সে রওয়ানা করুক”।
ফাতওয়া: ৪২. আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন হজ্জে আকবর কোন দিন, তিনি বলেন: “নহরের দিন”।
ফাতওয়া: ৪৩. জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, হাজি কে? তিনি বলেন: “এলোমেলো চুল ও অপরিপাটি শরীর সম্পন্ন ব্যক্তি”। সে বলল, কোন হজ উত্তম? তিনি বলেন: “উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ করা ও কুরবানি করা”। সে বলল: “(হজ করার) রাস্তা (তথা সামর্থ্য) কী? তিনি বলেন: “সম্বল ও সওয়ারী”। তিরমিযী ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন ।
ফাতওয়া: ৪৪. আবু কাতাদাহ নিজের শিকার করা এক প্রাণী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন, যা তার সাথীরা ইহরাম অবস্থায় ভক্ষণ করেছে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: তোমাদের সাথে তার গোস্ত আছে? তিনি একটি বাহু এগিয়ে দেন, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহরাম অবস্থায় খান”।
ফাতওয়া: ৪৫. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কা‘ব ইবন আজরাহকে উকুনের কষ্ট থেকে বাচার জন্য ইহরাম অবস্থায় মাথামুণ্ডন করার ফতোয়া দেন, “তার পরিবর্তে সে একটি বকরি দম দিবে, অথবা ছয়জন মিসকিনকে খাবার দিবে অথবা তিন দিন সিয়াম রাখবে”।
ফাতওয়া: ৪৬. আবু হারিস ইবন বিলাল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল, হজ ভাঙ্গা আমাদের জন্য খাস, না আমাদের পরবর্তীদের জন্যও? তিনি বলেন: “তোমাদের জন্য খাস”।
ফাতওয়া: ৪৭. উরওয়াহ ইবন মিদরাস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, হে আল্লাহর রাসূল, আমি জাবালে তাঈ থেকে এসেছি। আমার সওয়ারীকে দুর্বল ও আমার নফসকে আমি ক্লান্ত করে ফেলেছি। আল্লাহর কসম কোনো পাহাড় বাদ নেই যেখানে আমি ওকুফ করি নি, আমার কি হজ আছে? তিনি বলেন: “যে আমাদের এই (ফজরের) সালাতে হাযির হয়েছে ও প্রস্থান করা পর্যন্ত আমাদের সাথে থেকেছে, তার আগে দিন বা রাতে ‘আরাফার ময়দানে হাযির হয়েছে, তার হজ পূর্ণ হলো এবং সে ময়লা দূর করল”।
ফাতওয়া: ৪৮. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নজদের কতক লোক জিজ্ঞেস করল, তখন তিনি আরাফায় ছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল, হজ কি? “তিনি একজন ঘোষণাকারীকে ঘোষণা করার নির্দেশ দিলেন যে, আরাফাই হজ। (১০ তারিখের, মুযদালিফার) রাতে যে ফজর উদয় হওয়ার আগে আরাফায় পৌঁছল সে হজ পেল। মিনার দিন তিনটি, যে দু’দিনে দ্রুত করল তার পাপ নেই, আর যে তিন দিন দেরী করল তারও পাপ নেই” ।
ফাতওয়া: ৪৯. সাথীগণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আপনার ছায়ার জন্য মিনায় কি আমরা তাঁবু টাঙাবো? তিনি বলেন: “না, মিনায় যেখানে যে আগে পৌঁছবে সেটাই তার জায়গা”।
ফাতওয়া: ৫০. মিনার দিনগুলোতে হাজীদের পানি পান করানোর উদ্দেশ্যে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু যখন মক্কায় থাকার অনুমতি প্রার্থনা করেন, তিনি তাকে অনুমতি দেন।
ফাতওয়া: ৫১. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা হিজর সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন? তিনি বলেন: হিজর কাবার অংশ”। বুখারী ও মুসলিম। তিরমিযীর বর্ণনায়, আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা বলেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমি বায়তুল্লায় সালাত আদায় করার মান্নত করেছি? তিনি বলেন: “হিজরে সালাত আদায় কর, কারণ হিজর বায়তুল্লাহর অংশ”।
ফাতওয়া: ৫২. উম্মে সালামাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সমস্যার কথা জানান, তিনি বলেন: “তুমি সওয়ার হয়ে মানুষের পাশ দিয়ে তাওয়াফ কর”।
ফাতওয়া: ৫৩. জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, আমি বুঝতে পারিনি ফলে হাদি জবেহ করার পূর্বে মাথা মুণ্ডন করেছি? তিনি বলেন: “জবেহ কর কোনো সমস্যা নেই”। অপর ব্যক্তি জিজ্ঞেস করেন, আমি বুঝতে পারিনি রমি করার পূর্বে জবেহ করেছি? তিনি বলেন: “রমি কর কোনো সমস্যা নেই”। আব্দুল্লাহ ইবন আমর থেকে বুখারী ও মুসলিম হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
ফাতওয়া: ৫৪. জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, জবেহ করার পূর্বে আমি মাথামুণ্ডন করেছি? তিনি বলেন: যবেহ কর কোনো সমস্যা নেই”। সে বলল: সন্ধ্যা হওয়ার পর আমি রমি করেছি? তিনি বলেন: “কোনো সমস্যা নেই”। ইবন আব্বাস থেকে বুখারী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
ফাতওয়া: ৫৫. জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল, তাওয়াফ করার পূর্বে আমি সা‘ঈ করেছি? তিনি বলেন: “কোনো সমস্যা নেই”। উসামাহ ইবন শারীক থেকে আবু দাউদ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।
ফাতওয়া: ৫৬. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করেন, আমি ঋণী, আমার ওপর কি হজ ফরয? তিনি বলেন: “তোমার ঋণ আদায় কর”। ইবনুল আসির রহ. ‘জামেউল উসুল’ গ্রন্থে আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তার সনদ বলেন নি।
ফাতওয়া: ৫৭. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেন: মানুষেরা হজ ও ওমরা দু’টি নিয়ে বাড়ি ফিরছে, আমি শুধু হজ নিয়ে বাড়ি ফিরছি? তিনি আব্দুর রহমান ইবন আবু বকরকে তার সাথে তানঈম যেতে বলেন, সেখান থেকে তিনি হজের পর ওমরা করেন”।
সমাপ্ত

নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমরা আমার থেকে হজের কর্মকাণ্ড শিখে নাও, কারণ হতে পারে আমি এ বছরের পর তোমাদের সাথে সাক্ষাত করতে পারবো না, সে কারণে সাহাবায়ে কিরাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করে যাবতীয় বিষয় জেনে নিতে সচেষ্ট ছিলেন। এ প্রবন্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক প্রদত্ত ফতোয়াসমূহ জমা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে হজের অনেক মাসআলা জানা যাবে।




মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.