নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি মানুষকে আহবান করে, সৎকাজ করে এবং বলে, ‘আমি তো আত্মসমর্পণকারী (মুসলিম)’ তার অপেক্ষা কথায় উত্তম আর কোন্ ব্যক্তি (৪১ : ৩৩)

ইসলাম হাউস

তিনিই আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয়।আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন।তিনি কাউকে জন্ম দেন না, আর তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি।তাঁর সমকক্ষ কেউ নয়।

ইসলাম হাউস › বিস্তারিত পোস্টঃ

‘হিযবুল্লাহ’ সম্পর্কে কী জানেন? ২

২৯ শে নভেম্বর, ২০২৫ দুপুর ২:২৯


হিযবুল্লাহ কি কখনো আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছে?
হিযবুল্লাহ লেবাননে যুদ্ধ করতেই রাজি, সে কখনো লেবাননের সীমা অতিক্রম করে না, কখনো করবেও না। আকিদা যেরূপই হোক প্রত্যেক লেবাননির (খৃষ্টান, মারূনী, দুরযী, অথবা অন্য যে কোনো আকীদা অবলম্বীই হোক না কেন, তার) সাথে তাদের বন্ধুত্ব, যদি সে হিযবুল্লাহর লক্ষ্যের অনুসারী হয় বা তাদের সাথে একাত্ম প্রকাশ করে। অতএব যার আদর্শ এরূপ, তার আমল কখনো ইসলামি জিহাদ হতে পারে না, তার যুদ্ধ কখনো আল্লাহর কালিমাকে বুলন্দ করার জন্য নয়। আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি এসে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেন, হে আল্লাহর রাসূল, কেউ গণিমতের সম্পদের জন্য জিহাদ করে, কেউ স্মরণীয় হয়ে থাকার জন্য জিহাদ করে, কেউ তার অবস্থান জানানোর জন্য জিহাদ করে, তাদের মধ্যে কে আল্লাহর রাস্তায় [জিহাদ করে]? তিনি বললেন:
«من قاتل لتكون كلمة الله هي العليا فهو في سبيل الله».
“আল্লাহর কালিমাকে বুলন্দ করার জন্য যে জিহাদ করে সেই আল্লাহর রাস্তায় [জিহাদ করে]”। ইবনে হাজার আল-‘আসকালানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন: “এখানে আল্লাহর কালিমা দ্বারা উদ্দেশ্য ইসলামের দিকে আল্লাহর আহ্বান”।
আমরা দেখলাম, হিযবুল্লাহ যে দাওয়াতের জন্য যুদ্ধ করে তার নির্যাস হচ্ছে লেবাননের সীমানা। দ্বিতীয়ত রাফেযীদের আকিদা সমন্বিত করা। সে শুধু লেবাননের জমিনের জন্য যুদ্ধ করে না, বরং শিয়া আকিদা প্রতিষ্ঠিত করা ও শিয়া অঞ্চলে তার বাস্তবায়ন করাও তার উদ্দেশ্য। হিযবুল্লাহ যদি তার কাজকে জিহাদ গণ্য করে, তাহলে যখন আহমদ ইয়াসিন ও আব্দুল আযীয রানতিসিকে হত্যা করা হল, তখন কেন সে কোনো উচ্চবাচ্য করেনি, কেন একটি মিসাইল ইয়াহূদীদের দিকে নিক্ষেপ করেনি!!
অধিকৃত ফিলিস্তিন, যেখানে রয়েছে মুসলিমদের সর্বপ্রথম কেবলা বায়তুল মুকাদ্দাস, সেই পবিত্র ভূমিকে মুক্ত করার জিহাদের তুলনায় ইরান ও সিরিয়ার উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে যুদ্ধ করাই অধিক উত্তম হিযবুল্লাহর নিকট?!
এই দেখুন হিযবুল্লাহর সেক্রেটারি জেনারেল হাসান নাসরুল্লাহ বলেন: “ইয়াহূদীদের সাথে তাদের যুদ্ধ আকিদাগত বিষয় নয়, দু’জন ইসরাইলি সৈনিক অপহরণ করার অপরাধে ইসরাইল যখন লেবাননের উপর ৩৪-দিন যুদ্ধের বাজার গরম রেখে লেবাননের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে, তখন হিযবুল্লাহর সেক্রেটারি জেনারেল হাসান নাসরুল্লাহ এক টিভি সাক্ষাতকারে বলে, যা ২৭/০৭/২০০৬ই. সালে লেবাননের New TV চ্যানেল প্রচার করেছে: “যদি জানতাম দু’জন ইসরাইলি সৈন্য অপহরণ করার ফলে লেবাননের এ পরিমাণ ক্ষতি হবে, তাহলে কখনো তার নির্দেশ দিতাম না। সে আরো বলে: দু’জন সৈন্য অপহরণ করার ফলে যে ক্ষতি হয়েছে, হিযবুল্লাহ তার একভাগেরও আশঙ্কা করেনি। কারণ যুদ্ধের ইতিহাসে এ পরিমাণ ক্ষতি কখনো হয়নি। হাসান নাসরুল্লাহ আরো বলে: হিযবুল্লাহ দ্বিতীয়বার কখনো ইসরাইলের সাথে যুদ্ধে জড়াবে না”।
এ ঘোষণার মাধ্যমে হাসান নাসরুল্লাহ প্রমাণ করল, সে জয়ী নয়, বরং পরাজয়ী। যারা হাসান নাসরুল্লাহকে বাহবা দেয় ও তাকে হিরো বানানোর চেষ্টা করে, তাদের গালে এটা বড় চপেটাঘাতও বটে।
এ হচ্ছে শিয়া মতবাদের নীতি, তার প্রত্যেক কাজ শুধু ব্যক্তি ও জাতি স্বার্থের জন্য, মুসলিম উম্মাহর জন্য নয়, বরং তাদের স্বার্থের জন্য মুসলিম উম্মার স্বার্থ ধ্বংস করার প্রয়োজন হলে তাতেও তারা রাজি। তাই ড. আলি আব্দুল বাকি বলেছেন: “আমি দেখেছি যে, শিয়াদের কর্মকাণ্ড হোক তা ইরানে অথবা ইরাকে অথবা আফগানিস্তানে অথবা যে কোনো জায়গায়, তা একমাত্র জাতিগত স্বার্থের জন্যই, মুসলিম উম্মাহর খিদমত ও তার স্বার্থ হাসিল কখনো উদ্দেশ্য নয়। তার উদ্দেশ্য হচ্ছে সংকীর্ণ জাতিগত, যদিও তা সমগ্র মুসলিম উম্মার বিপরীত হয়”।

হিযবুল্লাহ ও আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ
একটি জিজ্ঞাসা: হিযবুল্লাহ কি দখলকৃত কোনো ইসলামি রাষ্ট্র যেমন ফিলিস্তিন অথবা অধিকৃত অন্য কোনো মুসলিম রাষ্ট্র স্বাধীন করার চেষ্টা করে কিংবা তার জন্য যুদ্ধ করে?
এ প্রশ্নের উত্তর: না, তারা কখনো মুসলিমদের জন্য যুদ্ধ করে না। শিয়া দ্বাদশ ইমামিয়ার নিকট জিহাদ নেই, যাবত তাদের দ্বাদশ ইমাম অদৃশ্য জগত থেকে বের না হয়। এটাই তাদের বিশ্বাস। তাদের কিতাবের ভাষা দেখুন: “ইমামের ঝাণ্ডার পূর্বে যে ঝাণ্ডাই উত্তোলন করা হবে, সেই ঝাণ্ডাধারী হবে তাগুত”। অদৃশ্য জগত থেকে ইমাম বের হয়ে ইয়াহূদী ও নাসারাদের সাথে সন্ধি করবেন, আলে-দাউদের (ইয়াহূদীদের) বিধান মতে ফয়সালা করবেন, কাবা ধ্বংস করবেন, আহলে-সুন্নাহকে হত্যা করবেন, কারণ তারা শিয়া ইমামিয়াদের দুশমন। তাদের মৌলিক কিতাবসমূহের ভাষা এরূপ! আবু বকর ও ওমরকে বের করে তাদের শূলীতে চড়াবেন, অতঃপর তাদেরকে জ্বালিয়ে দিবেন।
হিযবুল্লাহর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি নাঈম কাসেম এ সম্পর্কে বলেন: “সামরিক যুদ্ধ যেহেতু শত্রুদের সাথে হয়, যা আমাদের এ কিতাবের মূল বিষয়, তাই বিষয়টি আমরা বিশেষভাবে উল্লেখ করছি। ফকিহগণ জিহাদকে দু’ভাগে ভাগ করেছেন:
১. প্রাথমিক জিহাদ: যেমন মুসলিমরা অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হল ও তাদের ভূমিতে প্রবেশ করল, যার সাথে অধিকৃত ভূমি পুনঃ উদ্ধার করা কিংবা কোনো জুলমের প্রতিশোধ গ্রহণের সম্পর্ক নেই, এটাকে প্রাথমিক জিহাদ বলা হয়। এ জাতীয় যুদ্ধ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অথবা নিষ্পাপ ইমামের সাথে সম্পৃক্ত, এ জমানায় যেহেতু ইমাম মাহদি অদৃশ্য, তাই আমাদের উপর তা জরুরি নয়।
২. প্রতিরক্ষামূলক জিহাদ: মুসলিমদের ভূমি যদি দখলদারি কিংবা উপনিবেশের স্বীকার হয়, তাহলে নিজের ভূমি ও স্বীয় জাতিকে রক্ষার স্বার্থে জিহাদ করা বৈধ, বরং ওয়াজিব”।
অতঃপর তিনি ৫১-নং পৃষ্ঠায় বলেন: “জ্ঞাতব্য যে, জিহাদের সিদ্ধান্ত নিবেন প্রধান নেতা ফকিহ [বর্তমান ইরানি সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা], তিনি প্রতিরক্ষামূলক জিহাদের পরিস্থিতি চিন্তা করবেন। তিনিই প্রতিরোধের নীতি ও তার নিয়ম বাতলে দিবেন। কারণ রক্তের বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ, জিহাদ জরুরি কি-না, কিংবা তার উদ্দেশ্য কি, ইত্যাদি বিষয়ে নিশ্চিত না হয়ে যোদ্ধাদেরকে যুদ্ধের ময়দানে ঠেলে দেওয়া কোনো প্রকার বৈধ নয়”।
অতএব আমাদের নিকট স্পষ্ট হল যে, হিযবুল্লাহ ও তার প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ টিভিতে যে শ্লোগান দেয়, যেখানে সে মসজিদে আকসা ও তার পবিত্র ভূমিকে মুক্ত করার দৃঢ় অভিপ্রায় ব্যক্ত করে, যেমন সে বলে: ‘হে আকসা আমরা আসছি’, অথবা বলে: ‘চলো চলো কুদস চলো’ ইত্যাদির তার ভ্যালকিবাজি ও সবৈর্ব মিথ্যা। এ কথার প্রমাণ খোদ হাসান নাসরুল্লাহর বাণী, কোনো এক সাক্ষাতকারে তার নিকট ফিলিস্তিন সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তখন সে ফিলিস্তিনিদের বলে: “যখন তোমরা আমাদের প্রয়োজন বোধ করবে, আমরা তোমাদের সাথে আছি, এটাই যথেষ্ট”! কারণ, দ্বাদশ ইমামিয়ার আকিদা হচ্ছে, অদৃশ্য ইমামের আগমনের আগে কোনো জিহাদ নেই।
পাঠক লক্ষ্য করুন, তাদের নিকট আত্মরক্ষার জিহাদও নেই, যদি ক্ষমতার কেন্দ্র ফকিহ (খোমেনি/খামেনী) তার অনুমোদন না দেয়! সুতরাং হিযবুল্লাহর কোনো সদস্য কোনো কর্মকাণ্ডই করার ক্ষমতা রাখে না যতক্ষণ না কেন্দ্রীয় ফকীহ (খামেনী) সেটার অনুমতি না দেয়। অতঃপর সামনের বর্ণনাগুলো দেখুন, তাহলে জানতে পারবেন রাফেযী কাকে বলা হয়, তারা সত্যিই কি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে?
আবু আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: “আমাদের আহলে বাইত থেকে কেউ বের হয়নি, হবেও না, যতক্ষণ না মাহদি জুলম প্রতিহত অথবা কোনো হক উদ্ধারের জন্য বের হবেন, এর ব্যতিক্রম হলে অবশ্যই তাকে খেসারত দিতে হবে, তার যুদ্ধ আমাদের প্রতি ও আমাদের দলের প্রতি মানুষের বিদ্বেষকে বাড়িয়ে দিবে”।
২০০০ই. সালে ‘বিনতে জাবিল’ এলাকা হতে ইসরাইলিদের হটে যাওয়ার পর হাসান নাসরুল্লাহ ১০০-হাজার দক্ষিনাঞ্চলীয় যোদ্ধার সামনে ঘোষণা দেন যে, হিযবুল্লাহ কখনো কুদসকে মুক্ত করার জন্য ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না!
একই সূত্রে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান রুহানি বলেন: “দক্ষিণ লেবাননের শাব‘আ কৃষি ভূমি হতে ইসরাইলের চলে যাওয়ার পর হিযবুল্লাহর প্রতিরোধ আন্দোলন অব্যাহত রাখার কোনো বৈধতা নেই। তার কারণ হিসেবে তিনি বলেন: হিযবুল্লাহর প্রতিরোধ শুধু লেবাননি ভূমির জন্যই নির্দিষ্ট”।
আমাদের প্রশ্ন: ফিলিস্তিনের বিষয়টি কোথায়, হিযবুল্লাহ যা দখলদার ইয়াহূদীদের থেকে মুক্ত করার ঘোষণা দেয়!
অতএব শিয়া মতবাদে এমন কোনো পরিকল্পনা নেই, যার মধ্যে অধিকৃত ভূমি মুক্ত করা কিংবা দখলদার প্রতিরোধ করার কথা রয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমূদ আহমাদীনাজাদ বলেছে: “ইরান কোনো বহিঃরাষ্ট্রের জন্য হুমকি নয়, এমন কি ইয়াহূদী রাষ্ট্রের জন্যও নয়!!


হিযবুল্লাহ ও ইসরাইলের মধ্যে গোপন চুক্তি
ইসরাইলের গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন: “ইসরাইল ও লেবাননি শিয়াদের মাঝে নিরাপত্তাপূর্ণ অঞ্চলের কোনো শর্ত নেই। তাই ইসরাইল শিয়াদের স্বার্থের প্রতি যত্নশীল, সেখানে অবস্থানরত ফিলিস্তিনি, যারা মূলত হামাস বা জিহাদ এর সদস্য, তাদের অস্তিত্ব নিঃশেষ করা বিষয়ে হিযবুল্লাহর সাথে ইসরাইলের এক ধরণে চুক্তি হয়ে গেছে”।
এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, লেবাননি হিযবুল্লাহ ও ইসরাইলের মাঝে গোপন চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, যা স্বীকার করেছে হিযবুল্লাহর সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল সুবহি তুফাইলি , তিনি বলেন: “নিশ্চয় হিযবুল্লাহ ইসরাইলের বর্ডার পাহারাদার”।
সুবহি তুফাইলি আরো বলেন: “নব্বইয়ে দশকে ইরানের রাজনৈতিক ময়দানে ব্যাপক পরিবর্তন আরম্ভ হয়, প্রথমবার হয় জুলাই ১৯৯৩ই. সালে, অতঃপর হয় এপ্রিল ১৯৯৬ই. সালে। তখন ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রীর উপস্থিতিতে এ সিদ্ধান্ত হয় যে, ইয়াহূদীরা ফিলিস্তিনে নির্বিঘ্নে বাস করতে পারবে। তখন থেকে ইয়াহূদীরা লেবাননে অবস্থিত তাদের সৈন্যবাহিনী প্রত্যাহার করা আরম্ভ করে, কারণ এ সমঝোতায় সিদ্ধান্ত হয় যে ফিলিস্তিনি জিহাদি গ্রুপগুলো নিঃশেষ করা হবে, আর হিযবুল্লাহ লেবাননের সীমান্তে অবস্থান করবে।
অতঃপর তিনি বলেন: আমি বলতে চাই যে, এপ্রিলের সমঝোতার ভিত্তিতে (ইসলামি) প্রতিরোধ আন্দোলন (হিযবুল্লাহ) মূলত সীমান্ত প্রহরী বনে গেছে।
তাই ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে শিয়াদের স্বার্থ সুরক্ষার জিম্মাদার, যেন তারা ইসরাইলের উপর আক্রমণকারীদের [সুন্নিদের] প্রতিরোধ করে ইসরাইলের উত্তর সীমান্তকে হিফাজত করে।
২৩/৫/১৯৮৫ই. তারিখে ‘জেরুজালেম পোস্ট’ পত্রিকায় এসেছে: দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের স্বার্থ ভুলে যাওয়া ঠিক হবে না, যা হিযবুল্লাহ ও ইসরাইলের উপর নির্ভরশীল। অত্র এলাকাকে অবশ্যই ইসরাইল বিরোধী যে কোনো আশঙ্কা থেকে মুক্ত করা জরুরি... এখন সময় এসেছে, ‘আমাল’ সংগঠনের উপর এ দায়িত্ব ন্যস্ত করার এটাই ইসরাইলের মোক্ষম সময়।
এ কথার স্বীকৃতি স্বরূপ তাওফিক মাদিনি বলেন: “আমাল সংগঠন’ দায়িত্বে নিয়েছে যে, দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে যারা ইসরাইলে সশস্ত্র হামলার জন্য অগ্রসর হবে, কিংবা ইসরাইল অধিকৃত ফিলিস্তিনের উত্তর সীমান্তে স্থাপিত ইসরাইলি কলোনীতে হামলা করবে, তাদেরকে তারা (শিয়ারা) প্রতিরোধ করবে”।
এ বিষয়টি হিযবুল্লাহর সাবেক আমির সুবহি তুফাইলিও স্বীকার করেছেন, যেমন তিনি বলেন: “হিযবুল্লাহ ইসরাইলি সীমান্তের প্রহরী বনে গেছে। এ কথার সত্যতা যে যাচাই করতে চায়, সে যেন অস্ত্র হাতে সীমান্তের দিকে অগ্রসর হয় এবং ইয়াহূদী শত্রুদের বিপক্ষে দাঁড়ায়, তাহলে অবশ্যই দেখা যাবে যে, হিযবুল্লাহ কিভাবে সশস্ত্র যোদ্ধাদের প্রতিহত করে!
কারণ, যারা সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করেছে, তারা এখন জেলেখানায় বন্দি। হিযবুল্লাহ যোদ্ধারা তাদেরকে বন্দি করেছে”।
“হিযবুল্লাহর উপর ইসরাইলের হামলা না করার কারণ তার শক্তি ও সামরিক বল নয়, তার পশ্চাতে মূল কারণ হচ্ছে হিযবুল্লাহ যদি দক্ষিণ লেবানন থেকে সরে যায়, তাহলে তার জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হবে সুন্নিরা, যা ইসরাইল কখনো চায় না। ইসরাইল-হিযবুল্লাহ সম্পর্কের সুন্দর ব্যাখ্যা: “ইসরাইলের স্বার্থ হচ্ছে হিযবুল্লাহর টিকে থাকা এবং হিযবুল্লাহর স্বার্থ হচ্ছে ইসরাইলের টিকে থাকা”।
[তবে, এ কথাও ঠিক যে, হিযবুল্লাহ একটি সুগঠিত দল এবং তার সাথে মাঝে-সাজে ইসরাইলের সংঘর্ষ বেঁধে যায়। যা সাধারণত যে কোনো দু’টি ক্ষমতাধর কাছাকাছি থাকলে ঘটেই থাকে।]
সুতরা শিয়াদের কর্মকাণ্ড, যদিও কোনো কোনো সময় ইয়াহূদী-আমেরিকান স্বার্থের জন্য মাথা ব্যথার কারণ হয়, তবুও এটি একটি মজবুত সুশৃংখল প্রজেক্ট; যা উভয়ের মধ্যে সহযোগিতা কিংবা সমঝোতাকে অস্বীকার করে না। বরং কখনও কখনও তা সহেযাগিতার প্রতিই বেশি ধাবিত হতে দেখা যায়। যেমনটি ইরান কর্তৃক ঘটেছে ইরাক ও আফগানিস্তানের ব্যাপারে (শিয়ারা সেখানে) আমেরিকাকে সাহায্য করেছে। অনুরূপ দক্ষিণ লেবানন থেকে সুন্নী মুজাহিদদের হটাতে ইসরাইলকে সাহায্য করেছে হিযবুল্লাহ।
তবে এটি সবচেয়ে সত্য যে, সুন্নিদের কর্মকাণ্ড আমেরিকা-ইসরাইলের জন্য অসহ্যকর, তাই সেখানে তাদের সাথে সহযোগিতা বা সমঝোতা অথবা দরকষাকষির বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। তার উদাহরণ অনেক, প্রথম উদাহরণ আফগানিস্তানের তালেবান এবং শেষ উদাহরণ ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাগণ, তাদের উভয়ের মাঝে তৃতীয় উদাহরণ হল ইরাকে আমেরিকার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণকারী সুন্নিরা। আমেরিকা ও ইসরাইল তাদেরকে বরদাশত করতে প্রস্তুত নয়, কারণ সুন্নিরা নাকে খত দিয়ে কোনো বিষয় মেনে নিতে রাজি নয়, তাই শিয়ারা ইরাক, আফগানিস্তান ও ইসরাইল যেখানে সুযোগ পেয়েছে আমেরিকা ও ইসরাইলের হয়ে সুন্নিদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।


হিযবুল্লাহ কার বন্ধু ?
এতে সন্দেহ নই যে, শিয়া রাফেযী হিযবুল্লাহর প্রথম বন্ধুত্ব ইরান, দ্বিতীয় বন্ধু সমাজতান্ত্রিক শাসক সিরিয়ার নুসাইরিগণ। «الراصد» ম্যাগাজিনে ولاء الشيعة لمن “শিয়াদের বন্ধুত্ব কার জন্য”? শিরোনামে একটি প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে, তাতে লেখক বলেন:
১. খোমেনি শাসনের ছায়াতলে সকল শিয়াকে একত্র করার জন্য ইরান হিযবুল্লাহ প্রতিষ্ঠা করে। হিযবুল্লাহর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল নায়িম কাসেম বলেন: “মুমিনদের একটি দলের অন্তরে বিলায়াতুল ফকিহ থিউরিকে বাস্তব রূপ দেওয়া এবং সকল মুসলিম উম্মাহকে তার অধীনে সমবেত করা জরুরি, যার থেকে কোনো দেশ ও সম্প্রদায় যেন বাদ না থাকে। এ থিউরি নিয়ে লেবানন থেকে নয় সদস্যের একটি জামাত খোমেনির নিকট ইরান গমন করেন এবং তারা হিযবুল্লাহ নামের সংগঠন প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা পেশ করেন, খোমেনি তাদেরকে সমর্থন করেন ও তাদের জন্য বরকতের দোয়া করেন”।
২. ১৪/৮/১৯৯৫ই. তারিখে «الشراع» ম্যাগাজিন ড. গাসসান ইজ্জির রচিত حزب الله (পৃ.৩৪) গ্রন্থের সূত্রে উল্লেখ করে: হিযবুল্লাহর নেতৃত্বে দু’জন ইরানি সদস্য রয়েছে!
৩. হাসান নাসরুল্লাহ হিযবুল্লাহর প্রধান এবং লেবাননে শিয়া নেতৃবৃন্দের একজন হওয়া সত্যেও কিভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির প্রতিনিধি হন। একাধিক ছবিতে প্রকাশ যে, হাসান নাসরুল্লাহ লেবাননের অপর নেতা মুহাম্মদ হুসাইন ফাদলুল্লার উপস্থিতিতে খামেনির হাতে চুমু খাচ্ছেন।
যদি লেবানন ও ইরান যুদ্ধ বাঁধে, যার পূর্বাভাস বর্তমান আকাশে দেখা যাচ্ছে, তাহলে নাসরুল্লাহ এবং তার পশ্চাতে হিযবুল্লাহ ও শিয়ারা কার পক্ষাবলম্বন করবে, লেবানন না ইরান?
৪. পূর্বে দেখেছি, যখন ‘হরকতে আমাল’ ও হিযবুল্লাহর নেতৃত্ব নিয়ে সংঘাত বেঁধেছে, তারা ইরান থেকে ফয়সালা নিয়েছে।
৫. ‘হরকতে আমাল’ ১৯৮২ই. সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ৪র্থ সম্মেলনে ঘোষণা করে: ‘আমাল’ ইরানি ইসলামি বিপ্লবের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
৬. হিযবুল্লাহ খোমেনির ‘বিলায়াতুল ফকিহ’ থিউরির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে ইরানি গবেষক ড. মাসউদ আসাদ আল্লাহি স্বীয় রচনা«الإسلاميون في مجتمع تعددي» গ্রন্থে (পৃ.৩২১) বলেন: “বিলাওয়াতুল ফকিহ হিসেবে খোমেনির নেতৃত্ব নির্দিষ্ট ভূখণ্ড অথবা নির্দিষ্ট সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়, সুতরাং এ নেতৃত্ব বাস্তবায়নের পথে যে কোনো বাধা বা সীমানা নির্ধারণ অবৈধ বলে বিবেচিত হবে। তাই লেবাননের হিযবুল্লাহ বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারিত হিযবুল্লাহর অংশ হয়ে কাজ করছে... এসব মন্তব্য থেকে প্রকাশ পায় যে, হিযবুল্লাহ ওলীয়ে ফকীহ (খোমেনী/খামেনী) বা ইরানের যে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে প্রস্তুত”।


মুসলিম বিশ্বের আহলে-সুন্নাহ ও হিযবুল্লাহর সম্পর্ক
আমরা পূর্বে বলেছি, হিযবুল্লাহ আহলে-সুন্নাহর সাথে তাকিয়্যাহর আড়ালে কাজ করে। মুসলিমদের উদ্দেশ্য করে সে পুষ্পময় বক্তৃতা প্রদান করে, তার বক্তৃতায় ফিলিস্তিন ও মসজিদে আকসা মুক্ত করার শ্লোগান থাকে, যেন শ্রোতাগণ মনে করেন: তারা ইয়াহূদী অধিকৃত মুসলিম ভূমি উদ্ধারের জন্য আজই রওয়ানা করছে। তাদের এ বক্তৃতায় হামাস ও জিহাদে ইসলামির অনেক নেতা ধোঁকা খেয়েছেন। ফিলিস্তিন মুক্ত করার দাবিতে কেউ হিযবুল্লাহর সাথে ঐকমত্য পোষণ করলেও ইরানের সাথে সম্পৃক্ত হিযবুল্লাহ কখনো তাকে গ্রহণ করে না, যতক্ষণ না আরো নিচে না নামে, যেমন খোমেনির প্রশংসা করা, অথবা ইরানি সরকারের প্রশংসা করা, তবেই প্রতারিত আহলে-সুন্নাহ হয়তো ‘হিযবুল্লাহ লেবানন’ থেকে বাহ্যত উপকার হাসিলে সক্ষম হবে। হিযবুল্লাহ লেবানন ব্যতীত অন্য কোনো দেশে থেকে শিয়া ছাড়া কাউকে গ্রহণ করে না, যেমন তার ঘনিষ্ঠ হচ্ছে ইরান, ইরাক ও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশের শিয়াগণ। আর কতক আহলে-সুন্নাহও তাদের বন্ধু, যারা রাফেযীদের ইতিহাস ও আহলে-সুন্নাহর ব্যাপারে তাদের আকিদা জানে না। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন মুসলিমদের অবস্থা সংশোধন করে দেন।

হিযবুল্লাহর যাঁতাকলে পিষ্ট লেবাননি মুসলিমরা কেমন আছেন?
লেবাননের আহলে সুন্নাত তথা সুন্নীরা জুলুম ও কোণঠাসার জীবন অতিবাহিত করছেন। বিশেষ করে রাফেযী ও নুসাইরিদের কারণে, তারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে ‘আহবাশ’ সম্প্রদায়কে উসকে দেয় ও তাদেরকে সাহায্য করে। ‘আহবাশ’দের ধর্ম হচ্ছে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ও তাদের ধর্মে সন্দেহ সৃষ্টি করা। এ দিকে ইরানি মদদপুষ্ট হিযবুল্লাহ রাফেযী তো তাদের ঘাড়ে চেপে বসে আছেই। রাফেযী, আহবাশ ও নুসাইরিরা হাজার হাজার কিতাব ফ্রি বণ্টন করে, যাতে তাদের আকিদা ও ধর্মের দাওয়াত রয়েছে, অথচ আহলে সুন্নাহ নিজেদের ঈমান-আকিদা সুরক্ষার জন্য কিতাব ছাপাতেও ভয় পায়, যার মাধ্যমে তারা অন্যদের উত্তর দিবে। তারা জেলের ভয় করে, বিশেষ করে যদি তাদের কিতাবে রাফেযী আকিদার প্রতিবাদ থাকে, হোক তা ইংগিতে, যেমন «لله ثم للتاريخ» “আল্লাহর জন্য অতঃপর ইতিহাসের জন্য” কিতাবের ক্ষেত্রে ঘটেছে। প্রকাশককে জেলে নিক্ষেপ করা হয়েছে, আর যাবতীয় কপি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অনুরূপ ঘটেছে আলুসি রচিত «صب العذاب على من سبَّ الأصحاب» কিতাব প্রকাশকের ক্ষেত্রে। ছাপাখানার মালিককে বলে দেওয়া হয়েছে, যদি দ্বিতীয়বার এ কিতাব ছাপানো হয়, তাহলে তারা ছাপাখানা জ্বালিয়ে দিবে। লেবাননে আহলে সুন্নাহর অবস্থা এতটাই সঙ্গিন যে, তারা বলির পাঁঠা, কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, বোমা বাজি অথবা যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটুক, তার জন্য আহলে সুন্নাহকে দায়ী করা হয়, বরং কখনো অপ্রমাণিত ঘটনার কারণে বছরের পর তাদেরকে জেলে রাখা হয়। লেবাননে এখন এরূপই ঘটছে, আল্লাহ তাদের সাহায্যকারী।
জাবালে লেবানন প্রদেশের মুফতি ড. মুহাম্মদ আলি জুজু«فجر الإسلام» [‘ফাজরুল ইসলাম’] ম্যাগাজিনে আল্লাহর নিকট আহলে সুন্নাহর উপর হিযবুল্লাহর জুলম ও অত্যাচারের অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, শিয়ারা আহলে সুন্নাহর মসজিদ পর্যন্ত দখল করে নিচ্ছে। দক্ষিণ লেবাননে হিযবুল্লাহর আধিপত্য উল্লেখ করে বলেন: “তাদের আধিপত্যের কারণে হিযবুল্লাহর কতক যুবক দক্ষিণ লেবানন ও জাবালে লেবাননের অঞ্চলসমূহে আহলে-সুন্নাহর মসজিদ পর্যন্ত দখল করে নিচ্ছে। এ ঘটনা বারবার ঘটছে। সর্বশেষ ‘জিয়াহ’ নামক স্থানে নবী ইউনুসের মসজিদের উপর তারা আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে। ‘জিয়াহ’ প্রদেশে হিযবুল্লাহ ও আমাল উভয় মিলে শায়খ আব্দুল আমির কিবলানের নেতৃত্বে আহলে সুন্নাহর ওয়াকফকৃত সম্পত্তি দখল করার চেষ্টা করছে। শিয়াদের সর্বোচ্চ পরিষদ ‘জিয়াহ’ নামক স্থানে শিয়াদের ওয়াকফ জমির জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। অতঃপর এ কমিটি বৈরুতে অবস্থিত সুন্নী মুসলিমদের ওয়াকফ সংক্রান্ত অফিসে দাবি উত্থাপন করেছে যে, ‘জিয়াহ’ নামক স্থানের ওয়াকফ জমিতে তাদেরও হক রয়েছে। সমুদ্র তীরে অবস্থিত এ জমি চৌদ্দ হাজার বর্গ মিটার ব্যাপ্তি। তাতে একটি মসজিদ, যার নাম মসজিদে ইউনুস, একটি সরকারি মাদ্রাসা, একটি হাই স্কুল এবং কবরস্থান ইত্যাদি রয়েছে।
বর্তমান বিষয়টি লেবাননের আদালতে বিচারাধীন, এ জমিনে একটি সাইন বোর্ডও টাঙ্গিয়ে দিয়েছে তারা। এ সাইন বোর্ডের আড়ালে শিয়া পরিষদের সদস্যরা আহলে সুন্নাহকে তাদের মসজিদ ও ওয়াকফ সম্পত্তিতে সুখে থাকতে দিচ্ছে না। আহলে সুন্নাহ নতুন করে মসজিদ সংস্কার ও মেরামতের কাজে হাত দিয়েছে, কিন্তু তারা মসজিদ খারাপ করছে মর্মে আদালতের গোচরে বিষয়টি নিয়ে যায় এবং তারা মসজিদের কাজের উপর স্থগিতাদেশ নিয়ে আসে।
এভাবে তারা সাধারণ বিষয়কে সাম্প্রদায়িক বিষয়ে পরিণত করে, মসজিদের ছাদের উপর মাইক রেখে তারা আহলে সুন্নাহকে উসকানি দেয়। তারা সেখান থেকে নিজস্ব আজান প্রকাশ করে, যার মধ্যে (وأن علياً بالحق ولي الله) শব্দও রয়েছে। এ শহরে এটাই প্রথম ঘটনা। তারা ভদ্রতা ও শিষ্টাচারের ধারে না গিয়ে মারকাজে ইফতা ও আওকাফকে পর্যন্ত দখল করে নিয়েছে। তারা খুব খারাপ ভাষায় গালি-গালাজ করে, বাজারি শব্দে তাদের অন্তরের হিংসা ও বিদ্বেষ প্রচার করে, যেন মুসলিমদের উসকে দেওয়া যায় এবং তাদের মাঝে ফেতনার সৃষ্টি হয়।
এ ঝগড়া মিটানোর জন্য একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি প্রচেষ্টা করেও বিফল হয়েছেন, কারণ শিয়া সংগঠনসমূহ, যার পশ্চাতে রয়েছে হিযবুল্লাহ, আমাল ও শিয়াদের সর্বোচ্চ পরিষদ শায়খ আব্দুল আমির কিবলানের নেতৃত্বে তারা আস্তে আস্তে আহলে সুন্নাহ অধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছে, ইতিহাস বিকৃতি করছে, যেন ‘জিয়াহ’র যুবকদের মাঝে হট্টগোল বেঁধে যায়।
এতে সন্দেহ নেই যে, ‘সুন্নী ইসলামি ওয়াকফে’র নেতৃবৃন্দের নিকট জমিনের সকল দলিল ও ঐতিহাসিক কাগজ-পত্র বিদ্যমান, যা প্রমাণ করে ‘জিয়াহ’ নামক স্থানের নবী ইউনুসের ওয়াকফের কর্তৃত্বের হকদার তারাই। কিন্তু তারা চাচ্ছে কারণে বা অকারণে যেভাবে হোক আহলে সুন্নাহ ও হিযবুল্লাহর মাঝে যুদ্ধ বেধে যাক”!
লেবাননে আহলে সুন্নাহর মসজিদ দখলে তারা পায়তারা করছে, কোনটিতে তারা সফলও হয়েছে। শুধু ‘জিয়াহ’র মসজিদই নয়, বালাবাক্কায় তারা الظاهر بيبرس ‘যাহের বিবরস’ মসজিদকেও দখল করে নিয়েছে, প্রথমে তারা মসজিদের সংস্কার কাজ বন্ধ করে, পরবর্তীতে তার নাম দেয় مسجد رأس الحسين রা’সুল হুসাইন মসজিদ। অনুরূপ ‘মাশুক’ প্রদেশে ‘রুউর’ নামক স্থানের নিকট মসজিদে আলি ইবনে আবি তালিবের উপর তারা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে, তার নাম দিয়েছে তারা الوحدة الإسلامية মসজিদ, অনুরূপ ‘সুউর’ নামক স্থানের নিকটবর্তী শাবরিহা মসজিদের উপর তারা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সফল হয়, তার নাম দিয়েছে তারা মসজিদ কাজেম। তবে ‘সুউর’ এর পুরনো মসজিদ, যার নাম মসজিদ ফারুক ওমর, তার ব্যাপারেও তারা বারবার বলছে মসজিদটি শিয়াদের ছিল, খিলাফতে উসমানিয়ার সময় এটা তারা দখল করে নিয়েছে, যা থেকে প্রমাণ হয় যে, এটাও তারা ভবিষ্যতে দখল করার পরিকল্পনা করছে!
বিভিন্নভাবে বুঝা যায় যে, তারা লেবাননের প্রধান প্রধান শহরে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও সেগুলোকে সুন্নী থেকে শিয়া শহরে পরিণত করার লক্ষ্যে ঘৃণ্য ও জঘন্যতম ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, এক শতাব্দীরও কম সময়ে তারা ‘সুউর’ শহরে আধিপত্য বিস্তারে সফল হয়েছে, এখন অন্যান্য শহরে এরূপ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছে, যেমন সায়দা ও বৈরুত ইত্যাদি।
আমরা আরো বলতে চাই যে, আরব লীগ ও অন্যান্য সংগঠনের চোখ-কানের উপর সিরিয়ার সরকার লেবাননে আহলে সুন্নাহকে ক্ষমতাহীন করার পায়তারা করছে, অথচ তারা ঘাড়ের উপর হাত রেখে বসে আছে। সিরিয়া শিয়াদেরকে অর্থ ও অস্ত্র দ্বারা শক্তিশালী করছে। ইতিপূর্বে তারা লাগাতার আহলে-সুন্নাহকে হত্যা করেছে, যার শুরু হচ্ছে ফিলিস্তিনি থেকে। তাদেরকে তারা নির্দিষ্ট শিবিরে জীবন-যাপন করতে বাধ্য করছে। তারা হারকাতুল মুরাবেতিন ও হারাকাতুত তাওহীদকে নিঃশেষ করেছে এবং জামাতে ইসলামিকে ধ্বংস করে দিয়েছে আর তাকে সশস্ত্র সংগঠন থেকে রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত করেছে।
তারপর কি?
হিযবুল্লাহ লেবাননে আহলে সুন্নাহর মসজিদ দখল করছে। দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের অনেক গাফেল ভাই হিযবুল্লাহর বিজয়ে খুশি হয়, তাদের বিজয়কে ইসলাম ও মুসলিমদের বিজয় গণ্য করে। জ্ঞানের এসব ভিখারিরা জানে না, হিযবুল্লাহ মুসলিম দেশসমূহে ইরানি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়। লেবাননি হিযবুল্লাহ ইরানের জন্য আরব রাষ্ট্রসমূহে প্রবেশ করার একটি চোরা পথ। হিযবুল্লাহকে অর্থ সাহায্য তাদের ইরানী নেতৃত্ব ছাড়া আর কে প্রদান করে?


লেবানন ও অন্যান্য ইসলামি সরকার প্রসঙ্গে হিযবুল্লাহর অবস্থান
মুহাম্মদ নুমানি রচিত “আল-গায়বাহ”: (পৃ.৭২) কিতাবে এসেছে: মালিক জুহানি থেকে বর্ণিত, আবু জাফর বাকের ‘আলাইহিস সালাম বলেছেন: “কায়েম (মাহদি) এর পূর্বে যেসব ঝাণ্ডা উড্ডীন হবে, প্রত্যেক ঝাণ্ডাদার হবে তাগুত”।
মাজলিসি রচিত “বিহারুল আনওয়ার”: (খ.৫৩, পৃ.৮) গ্রন্থে এসেছে: সাদেক ‘আলাইহিস সালাম বলেছেন: “হে মুফাদদাল, কায়েম (মাহদি) এর প্রকাশ্যে আসার পূর্বে যত বায়আত হবে, প্রত্যেক বায়আত হবে কুফরি, নিফাক ও ধোঁকা, আল্লাহ তা‘আলা বায়আতকারী ও বায়আত গ্রহণকারী উভয়কে লানত করুন”। অতএব হিযবুল্লাহ গোষ্ঠী ‘দ্বাদশ ইমামিয়া শিয়া সরকার’ ব্যতীত কোনো সরকারের আনুগত্যকে জরুরি মনে করে না, তবে তাকিয়্যাহর আশ্রয়ে তারা অন্যান্য সরকারের কথা শোনে ও তাদের আনুগত্য করে”।
হুর আমেলি রচিত “অসায়েলুস শিয়াহ”: (১১/৪৬২) গ্রন্থে এসেছে, আবু আব্দুল্লাহ ‘আলাইহিস সালাম তার সাথীদের বলেন: “আহলে বাতেলের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখ, তাদের কষ্ট বরদাশত কর, খবরদার তাদের গালমন্দ করবে না, তোমাদের ও তাদের মাঝে কোনো বিষয় যৌথ হলে এবং তোমরা তাদের সাথে একত্র উঠা-বসা ও কথাবার্তায় লিপ্ত হলে তোমরা তোমাদের দীনের উপর আমল কর, কারণ তাদের সাথে বসা, একত্র থাকা ও কথাবার্তায় তোমাদের তাকিয়্যাহর আশ্রয় নেওয়া জরুরি, যার নির্দেশ আল্লাহ তোমাদের দিয়েছেন”।
হুর আমেলি বলেন, “অধ্যায়: জনসাধারণের সাথে তাকিয়্যাহর আশ্রয় নেওয়া ওয়াজিব”: আবু বাসির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আবু জাফর বলেছেন: “যখন বাচ্চাদের ন্যায় রাষ্ট্র কায়েম হয়, তখন পাবলিকের সাথে বাহ্যিকভাবে মিল রাখ ও অভ্যন্তরীণভাবে তাদের বিরোধিতা কর”।
হুর আমেলি রচিত “অসায়েলুস শিয়াহ”: (১১/৪৭১) গ্রন্থে আরো এসেছে: “অধ্যায়: তাকিয়্যাহর ভিত্তিতে সরকারের আনুগত্য করা ওয়াজিব”। এ প্রসঙ্গে তিনি একাধিক হাদিস! বর্ণনা করেন, সরকারের সাথে তাকিয়্যাহর আশ্রয় নেওয়া এবং তাদের সাথে বাহ্যিকভাবে সম্পর্ক রাখা ওয়াজিব।
শিয়াদের কেন্দ্রীয় আলেম (রিসোর্স পার্সন) মুহাম্মদ হুসাইন ফাদলুল্লাহ এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন: “অতীতে যারা ইসলামের নামে শাসন করেছে, আমরা বিশ্বাস করি না তারা ইসলাম অনুযায়ী শাসন করেছে। উদাহরণত আমরা বিশ্বাস করি না উসমানি খিলাফত ইনসাফপূর্ণ, স্বাধীন ও ইসলামি ছিল”।
আরব উপসাগরীয় দেশে হিযবুল্লাহর শাখার বর্ণনায় আমরা পূর্বে উল্লেখ করছি, হিযবুল্লাহ ও তার শাখাসমূহ তাদের সরকারের সাথে দ্বিমুখী আচরণ করে, তাদের দৃষ্টিতে সরকারগুলো তাগুত, তাদেরকে পদচ্যুত করে ইরানি সরকারের আদলে শিয়া রাষ্ট্র কায়েম করা ওয়াজিব।


মুসলিমরা কেন হিযবুল্লাহ প্রসঙ্গে ধোঁকা লিপ্ত?
আমি বিশ্বাস করি, বেশ কয়েকটি কারণে আহলে সুন্নাহ হিযবুল্লাহ দ্বারা ধোঁকা খায়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে:
১. অনেক আহলে-সুন্নাহ শিয়া রাফেযীদের আকিদা ও ইমামদের ব্যাপারে তাদের বাড়াবাড়ি সম্পর্কে জানে না। আহলে-সুন্নাহ জানে না, তারা কুরআনে বিকৃতিতে বিশ্বাসী, সাহাবি ও নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীদের কাফের বলে এবং তারা শিয়া দ্বাদশ ইমামিয়া ব্যতীত সকল ইসলামি দলকে কাফের বলে। তাদের বিশ্বাস ইমামিয়ারা একমাত্র নাজাত প্রাপ্ত, অপর দলগুলো জাহান্নামী।
২. তাকিয়্যাহ: হিযবুল্লাহ তাকিয়্যাহ ভালো বোঝে এবং তার উপর পারঙ্গমতার সাথে আমল করে। তাকিয়্যাহর সংজ্ঞা প্রসঙ্গে শায়খ মুফিদ বলেন:
«كتمان الحق وستر الاعتقاد فيه، ومكاتمة المخالفين، وترك مظاهرتهم بما يعقب ضرراً في الدين والدنيا».
“সত্য গোপন করা, নিজের আকিদা প্রকাশ না করা, অন্তরে বিরোধীদের বিদ্বেষ লালন করা এবং দীন ও দুনিয়ার ক্ষতির আশঙ্কা হলে তাদের বিরোধিতা ত্যাগ করা”।
রাফেযীদের নিকট ‘শহিদে আউয়াল’ নামে প্রসিদ্ধ মুহাম্মদ আমেলি তাকিয়্যাহর সংজ্ঞা প্রসঙ্গে বলেন:
«التقية مجاملة الناس بما يعرفون، وترك ما ينكرون حذراً من غوائلهم»
“মানুষ যা বিশ্বাস করে, তার মাধ্যমে তাদের সাথে আচরণ করা এবং তারা যা বিশ্বাস করে না সেগুলো ফেতনার আশঙ্কায় ত্যাগ করা”।
তাকিয়্যাহ একটি বড় কারণ যে, আহলে-সুন্নাহ হাসান নাসরুল্লাহর শ্লোগানে ধোঁকা খায়, যা সে টেলিভিশনের পর্দায় প্রকাশ করে, যেমন: “অতিসত্বর আমরা আকসা মুক্ত করব”। তার এমন কোনো ভাষণ নেই, যেখানে ফিলিস্তিন ও ইয়াহূদীদের আলোচনা নেই, যে কারণে মুসলিমরা তাকে বিশ্বাস করে!!
৩. প্রচার মাধ্যমের কারণেও মুসলিমরা হিযবুল্লাহ দ্বারা প্রতারিত হয়, তারা চ্যানেলের মাধ্যমে রাত-দিন বিভিন্ন ঘটনা ও হিযবুল্লাহর প্রোগ্রামগুলো পেশ করে, তাদের রয়েছে চ্যানেল ‘আল-মানার’, যা অহোরাত্র তাদের গুণকীর্তনে মশগুল। তাই এ ময়দানে তাদের সফলতা দ্রুত আসে। এ কল্যাণে হিযবুল্লাহ জনসাধারণের নিকট মুজাহিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে, যার একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে দখলদার হটানো, ইয়াহূদীদের থেকে মুসলিম ভূমি পুনঃ উদ্ধার করা ও কুদস মুক্ত করা, এসব বিশেষণ দ্বারাই তারা নিজেদেরকে প্রকাশ করেছে, যদিও এগুলো তাদের প্রকৃত অবস্থা নয়, তাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে লেবানন ও ইসলামি বিশ্বে খোমেনি বিপ্লবের প্রসার ঘটানো।


শিয়ারা কী কখনো ইসলাম ও মুসলিমের পক্ষাবলম্বন করে প্রতিরোধ করেছে?
রাফেযীরা সর্বদা মুসলিম উম্মার পিঠে ছুরি ও বিষাক্ত বর্শার মতই ছিল, এখনো আছে। খ্রিস্টানরা যখন কোনো ইসলামি রাষ্ট্রকে পদানত করতে চেয়েছে তাদেরকে ব্যাবহার করেছে। আমরা সকল রাফেযীদের চ্যালেঞ্জ করে বলছি: আমাদেরকে একজন শিয়া নেতার নাম বল, যে কোনো একটি মুসলিম রাষ্ট্র বিজয় করেছে!!
উম্মতে মুসলিমার সাথে শিয়াদের কতক গাদ্দারি:
এ কথা সর্বজন স্বীকৃত যে, শিয়ারা তাদের ধর্মীয় কেন্দ্র ‘কুম’ ব্যতীত কাউকে আনুগত্য প্রদান করে না। তারা তেহরান সরকার ব্যতীত কারো সাথে রাজনৈতিক সখ্যতা গড়ে না। শিয়া নেতৃবৃন্দের কথাবার্তা যারা জানে, তাদের নিকট বিষয়গুলো স্পষ্ট।
ইয়াহূদী এরিয়েল শেরুন স্বীয় ডাইরিতে বলেন: “দীর্ঘ ইতিহাসে কখনো দেখিনি শিয়াদের সাথে ইসরাইলের শত্রুতা রয়েছে”।
এ থেকে আমরা উত্তর পাই যে, কেন ইসরাইল হিযবুল্লাহর পিছু নেয় না, যেরূপ পিছু নেয় হামাস ও অন্যান্য ইসলামি সংগঠনের। যেমন তারা শায়খ আহমদ ইয়াসিনকে অপহরণ করেছে, ড. আব্দুল আজিজ রানতিসি ও ইয়াহইয়াহ আইয়াশকে গুম করেছে এবং ড. খালেদ মিশআলকে অপহরণ করার ব্যর্থ চেষ্টা করেছে। (কিন্তু তারা কখনো কোনো শিয়া নেতাকে হত্যা করে নি)
শিয়াদের গাদ্দারির আলোচনা আমি দীর্ঘ করব না, বরং তাদের গাদ্দারির দিকে ইশারা করব এবং অনুসন্ধিৎসুর জন্য তার স্থান বাতলে দিব:
১. আমিরুল মোমেনিন আলি ইবনে আবি তালিবের সাথে তারা গাদ্দারি করেছে, ফলে আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু তাদের তিরস্কার করেছেন ও তাদের কর্ম থেকে নিজেকে মুক্ত ঘোষণা করেছেন।
২. হাসান ইবনে আলির সাথে তারা গাদ্দারি করেছে। শিয়ারা তাকে বর্শা মেরেছে ও তার নামকরণ করেছে مذلَّ المؤمنين তথা ‘মোমেনদের অপমানকারী’।
৩. হুসাইন ইবনে আলির সাথে তারা গাদ্দারি করেছে। তারা তাকে চিঠির মাধ্যমে আহ্বান করে তার হাতে বায়আত করার ঘোষণা দেয়, কিন্তু যখন তিনি আগমন করেন, তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় ও তাকে হত্যা করে। হুসাইন রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু তাদের গাদ্দারির কারণে তাদের উপর বদদোয়া করেন।
৪. শিয়া মন্ত্রী আলি ইবনে ইয়াকতিন হারুনুর রশিদের যুগে জেলখানার ছাদ ফেলে ৫০০-সুন্নী মুসলিমকে হত্যা করেছে।
৫. ফাতেমি সরকারগুলো সুন্নত ধ্বংস ও শিয়া মাজহাব প্রচারের ক্ষেত্রে গাদ্দারির আশ্রয় নিয়েছে।
৬. শিয়া কারামাতাহ সম্প্রদায় হাজিদের হত্যা করে তাদের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে।
৭. শিয়া ‘বুওয়াইহী’দের গাদ্দারি ও আহলে সুন্নাহর উপর তাদের জবরদস্তি মূলক আধিপত্য অনেকেরই জানা।
৮. আব্বাসিয়া খিলাফতের রাজধানী বাগদাদে তাতারিদের অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে শিয়া মন্ত্রী আবু তালিব মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আলকামি রাফেযীর সক্রিয় অংশ গ্রহণ ও গাদ্দারি ঐতিহাসিকদের নিকট প্রসিদ্ধ।
৯. তাতারিরা যখন দামেস্কে প্রবেশ করে, তখন রাফেযীরা তাদের পক্ষ নেয় এবং তাদের অধীনে কাজ করে।
১০. হালাকু যখন হালবে (আলেপ্পো) প্রবেশ করে অনেক মুসলিম হত্যা করে, তখন রাফেযীরা মুসলিমদেরকে হালাকুর নিকট আত্মসমর্পণ ও তার সাথে যুদ্ধ না করার দাবি জানায়।
১১. নাসিরুদ্দিন তুসি রাফেযী খিয়ানত করে আহলে সুন্নাহকে হত্যা করেছে, তাদের সম্পদ দখল করেছে ও তাদের ঐতিহ্যকে নিঃশেষ করেছে।
১২. ইমাম মুজাহিদ সালাহুদ্দিনকে হত্যার পরিকল্পনায় শিয়াদের খিয়ানত ও প্রচেষ্টার কোনো ঘাটতি ছিল না।
১৩. সালাজেকা সুন্নী সরকারের সাথে শিয়ারা খিয়ানত করেছে ও তাদের বিপক্ষে ক্রুসেডদের সাহায্য করেছে।
১৪. শিয়া দ্বাদশ ইমামিয়াদের লেবাননে আহলে সুন্নার বিরুদ্ধে গাদ্দারি করা ও তাদের বিরুদ্ধে খ্রিস্টানদের সাহায্য করার ঘটনা প্রসিদ্ধ।
১৫. শিয়া সরকার ইউরোপে খিলাফতে উসমানিয়ার বিজয়কে বয়কট করেছিল। তারা খিলাফতের উসমানিয়ার বিপক্ষে খ্রিস্টানদের সাথে জোট গঠন ও পরামর্শ করেছে।
১৬. শিয়া দ্বাদশ ইমামিয়ারা আরব উপসাগরীয় দেশে খ্রিস্টানদের সাথে মিলে ইরাকের বিরুদ্ধ ষড়যন্ত্র করেছে, যা তাদের আলেম সিসতানি ও হাকিম প্রমুখদের মুখের স্বীকারোক্তিতে প্রমাণিত।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও ইরাকে আমেরিকার প্রতিনিধি ‘পল ব্রেমার’ গ্রন্থ عام قضيته في العراق ‘ইরাকে আমার এক বছর’ থেকে ইরাক দখলে শিয়া ইমামিয়া কর্তৃক আমেরিকাকে সাহায্য করার লোমহর্ষক কাহিনী জানা যায়। তিনি বলেন: “অনেক শিয়া আমেরিকার উপর অসন্তুষ্ট যে, আমেরিকা এখনো হত্যাযজ্ঞ বন্দ করেনি, এতদ সত্যেও শিয়া নেতৃবৃন্দ, যাদের মধ্যে আয়াতুল্লাহ সিসতানিও আছেন, তাদের অনুসারীদেরকে ইরাককে সাদ্দাম মুক্ত করার আন্দোলনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমেরিকাকে সাহায্যের নির্দেশ দিয়েছেন, আমরাও তাদের সাহায্য হারানোর ঝুঁকি নিতে পারি না”।
ইরাকে ইসলামি (শিয়া) বিপ্লব পরিষদের সর্বোচ্চ নেতা আব্দুল আজিজ হাকিম সম্পর্কে তিনি বলেন: “আব্দুল আজিজ তার রঙিন চশমা দিয়ে আমার দিকে খুব ঘনিষ্ঠভাবে দৃষ্টি দেন ও বলেন: মহামান্য রাষ্ট্রপতি, আপনি বলেছেন নতুন সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব দিবে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, কারা হবে সে কর্মকর্তা? তার আরবি উপাধি উল্লেখ করে আমি তাকে বললাম: আপনাকে ওয়াদা দিচ্ছি যে, নতুন এ বাহিনীর প্রধান হবে শিয়া। অতঃপর বলেন: নিশ্চয় আমেরিকা তার ওয়াদা পুরোপুরি পূর্ণ করেছে”।
তিনি আরো বলেন: “সিসতানি আমেরিকার সৈন্যদের সাথে একযোগে কাজ করে, কিন্তু সে প্রকাশ্যে আমেরিকার কোনো বাহিনীর সাথে মিলতে নারাজ। আমেরিকার প্রতি তার সাহায্য ও যোগাযোগ অব্যাহত থাকার কারণে প্রতিনিধির মাধ্যমে তিনি তার ভুয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন: “ইরাককে সাদ্দাম মুক্ত করার পর আয়াতুল্লাহ উজমা এক টিভি চ্যানেলে বলেন: তিনি আমেরিকার সাথে কোনো সমঝোতায় যাবেন না। এ কথা শুনে আমিও তাকে কোনো প্রকার চাপ দেইনি, কারণ আমার ইচ্ছা ছিল তার সাথে সাক্ষাত করা, যখন তার সাথে সাক্ষাত করলাম সকল সংশয় দূর হয়ে গেলো। নিশ্চয় সে ইসলাম ও আরব বিশ্বকে ভালো করেই জানে। এ জন্য তার পক্ষে সম্ভব ছিল না দখলদার আমেরিকার সৈন্যদের প্রকাশ্যে সাহায্য করা, এ ক্ষেত্রে ১৯২০ই. সাল ও তার পরবর্তী কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতাও ছিল। আবার মুকতাদা সদরের ন্যায় উগ্রপন্থীদের থেকেও তার দূরে থাকা জরুরি ছিল। মুদ্দাকথা: আয়াতুল্লাহ আমাদের সাথে কাজ করবে, আর আমরা উভয়ে মিলে নিজেদের স্বার্থ ভাগ করে নিব”।
রাফেযীদের নিফাক ও মুসলিম উম্মার সাথে তাদের প্রতারণার সাক্ষী দেখুন, ‘পুল ব্রেমার’ বলছেন: “যখন আরবি ও পশ্চিমা মিডিয়াগুলো আয়াতুল্লাহ সিসতানি ও আমেরিকার সাথে সম্পর্কহীনতার ঘোষণা দিচ্ছে, তখনো আমি ও আয়াতুল্লাহ সিসতানি প্রতিনিধির মাধ্যমে ইরাকি বিষয়গুলো সুরাহা করতাম, ইরাকে আমেরিকার দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তার সাহায্য ও সহযোগিতা বহাল ছিল।
গ্রীষ্মের প্রথম দিকে সব সন্দেহ দূর হয়ে যায়, যখন সে আমাকে চিঠি লিখে জানায় যে, আমি আমার অবস্থান গ্রহণ করেছি আপনাদের সাথে দুশমনির কারণে নয়, বরং আমি আয়াতুল্লাহ বিশ্বাস করি, বাহ্যিকভাবে সম্পর্ককে এড়িয়ে চলে গোপন সম্পর্ক কায়েম রাখা আমাদের উভয়ের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য অধিক উপকারী। দখলদার আমেরিকার সাথে যদি প্রকাশ্য সম্পর্ক রাখি, তাহলে আমাদের অনেক উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। যেভাবে অনেক শিয়া ও কমিউনিস্ট সুন্নী আপনাদের সাহায্য করছে। আর শিয়াদের বড় বড় নেতৃবৃন্দ তো আপনাদের সাথে আছেই”
গ্রন্থকার বলেন: এরপরও কি খিয়ানত হতে পারে!

প্রিয়পাঠক, দেখলেন তো, রাফেযীদের বড় আলেম প্রকাশ্যে মানুষকে দেখাচ্ছে আমেরিকা বিরোধী, কিন্তু ভেতরে ভেতরে তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেছে, তারাও তার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেছে নিয়মিতভাবে, কারণ তাদের উভয়ের উদ্দেশ্য ইরাকের উপর কর্তৃত্ব হাসিল করা ও তার সম্পদকে বণ্টন করে নেওয়া। এ জাতীয় আচরণ শিয়াদের পক্ষে অসম্ভব নয়, তাদের পিতামহ ইবনে আলকামিও এরূপ করেছে, যেমন ইরাকে এ যুগে করেছে আব্দুল মজিদ খুঈ, মুহাম্মদ বাকের হাকিম ও আলি সিসতানি। তারা দখলদার আমেরিকাকে ইরাকে সাহায্য করেছে এবং অন্যান্য মুসলিম দেশেও তাকে যুদ্ধ করার পথ সুগম করে দিয়েছে। আল্লাহই সাহায্যকারী।


ইরাক ও আফগানিস্তান পতনে ইসলামি (!!) প্রজাতন্ত্র ইরানের ভূমিকা ও আমেরিকার সাথে তার গোপন চুক্তি কি ছিল?
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইরান পর্দার আড়াল থেকে ইরাক ও আফগানিস্তানের যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব আঞ্জাম দিয়েছে। ঘটনার শুরুতে, মাঝে ও শেষে কোথাও তার অংশ গ্রহণ কম ছিল না। প্রকৃতপক্ষে আমেরিকার সাথে সেই প্রথম ইরাক ও আফগানিস্তান দখলের পরিকল্পনা করে, আমেরিকার স্বার্থে ইরান নিজের সামর্থ্য ব্যয়ে এতটুকুন কার্পণ্যও করেনি, কারণ উভয় দেশের পতন ঘটানোর পিছনে লক্ষ্য এক। পার্থিব স্বার্থ হাসিল করা ও শিয়াদের প্রতিষ্ঠিত করা। এ বিষয়গুলো আমেরিকা নিজেও স্বীকার করে যে, যদি ইরান না হত তাহলে এত দ্রুত তালেবানদের হটানো সম্ভব হত না। একটি প্রবাদের মাধ্যমে ইরানের ভূমিকাকে স্বীকার করা হয়েছে এভাবে: “হে পারস্যের ব্রাদার, যদি তোমরা না হত, তাহলে কাবুল ও বাগদাদের পতন হত না”।
সন্দেহ নেই, ইরাকের যুদ্ধে আমেরিকাকে সাহায্য করে ইরান তার স্বার্থ উদ্ধার করেছে। শিয়াদের বিরাট সংখ্যা সরকারে অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে, যা বাস্তবায়ন করেছে খোদ আমেরিকা। এ জন্য ইরাকের নতুন সরকারকে সমর্থন দানকারী রাষ্ট্রের মধ্যে ইরান অগ্রগামী, যদিও তার প্রকৃত বৈধতা এখনো হাসিল হয়নি। ‘মুজাহিদি খলক’ অর্গানাইজেশনকে প্রতিরোধ আন্দোলন থেকে সরিয়ে গায়েব করা হয়েছে। অনুরূপ আমেরিকাও ইরানকে অনেক ছাড় দিয়েছে, বর্তমান পারমানবিক কেন্দ্র স্থাপনার ক্ষেত্রেও তাকে ছাড় দিচ্ছে আমেরিকা। অচিরে পুরনো সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার লক্ষ্যে গোপন যোগাযোগের ভিত্তিতে উভয় বিরাট চুক্তি করবে।
আমেরিকা-ইরাকের যুদ্ধে ইরান সম্পৃক্ত ছিল না, এ কথা মোটেও সঠিক নয়। কারণ, সকল প্রমাণ দ্বারা স্পষ্ট যে, ইরান অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ইরাক যুদ্ধে শতভাগ সন্তুষ্ট ছিল। যদিও ভবিষ্যতে ইরানের সীমানায় আমেরিকান সেনাবাহিনী থাকার প্রয়োজন হয়, যাদেরকে সে ‘শয়তানে আকবর’ বলে।


হিযবুল্লাহর লক্ষ্য মুসলিমদের মাঝে রাফেযী আকিদা প্রচার করা
হিযবুল্লাহ তাদের নিজস্ব চ্যানেল “আল-মানার” এর বদৌলতে ইসলামি বিশ্বে সুন্নিদের মাঝে শিয়া আকিদা প্রচারের ক্ষেত্রে বিশেষ সফলতা লাভ করেছে। এ চ্যানেলকে শিয়াদের মিম্বার বলা হয়, তাকিয়্যাহর লেবাস পরিধান করে তার সামনে তারা উপস্থিত হয়। এতে তারা এমন কথা বলে না, যার দ্বারা মুসলিমদের অন্তর আঘাত প্রাপ্ত হয়, বরং তারা সর্বদা মুসলিম ঐক্য ও ইয়াহূদীদের সাথে যুদ্ধের কথা বলে। হিযবুল্লাহর লিডার হাসান নাসরুল্লাহ সুন্নী ও শিয়াদের মাঝে ইখতিলাফি বিষয়গুলো আলোচনাতে আনে না, কারণ ইয়াহূদীদের থেকে লেবানন ও মসজিদে আকসা মুক্ত করার জন্য সে নিজেকে প্রতীক হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। তাই অনেক মুসলিম তার কথায় ধোঁকা খেয়েছে, তারা তাকিয়ে আছে যে, হিযবুল্লাহ তাদেরকে ইসরাইল মুক্ত করবে!
হিযবুল্লাহ স্বীয় কর্মকাণ্ড ও নিজেদের স্বার্থে ইসরাইলের দিকে নিক্ষিপ্ত মিসাইলকে শিয়া আকিদা প্রচারের উত্তম মাধ্যম হিসেবে নিয়েছে। হিযবুল্লাহর লিডার হাসান নাসরুল্লাহ তার গুরু খোমেনির উপর রহম প্রেরণ করে, অথচ সে ইরানে ব্যাপকহারে আহলে সুন্নাহকে হত্যা করেছে। নাসরুল্লাহ খোমেনির পদাঙ্ক অনুসরণ ও তার নীতির উপর চলতে আহ্বান করে, খোমেনির মৃত্যুর পর ইরানি বিপ্লবের অভিভাবক খামেনির কাছে নাসরুল্লাহ নতুন করে বায়‘আত করে। ফলে কোনো কোনো আহলে সুন্নাহ মনে করে বসেছে যে খোমেনী ও খামেনী বুঝি দ্বীনে ইসলাম ও তার অনুসারীদের সাহায্যকারী, তাই খোমেনি ও খামেনি উভয়ের ছবি হিযবুল্লাহর প্রত্যেক জায়গায় দেখা যায়, বরং হিযবুল্লাহ উন্নত কাগজে তাদের কিতাব ছাপানো, বিতরণ করা ও বিশ্বের সকল মুসলিমের নিকট পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিয়োজিত।
আরব দেশ থেকে হিজরত করে পশ্চিমা দেশে প্রস্থানকারী অনেকের ব্যাপারে শুনেছি, তারা হিযবুল্লাহ দ্বারা প্রভাবিত, তাদের বিশ্বাস হিযবুল্লাহ ইসলামের ঝাণ্ডা উত্তোলনকারী এবং দখলদার ইয়াহূদীদের তাড়াতে বদ্ধ পরিকর। বরং শুনেছি অনেকে তাদের রাফেযী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, কারণ তারা রাফেযীদের বাতেনি (গোপন) আকিদা সম্পর্কে জানে না।

হিযবুল্লাহর নিকট বন্দী লেবানন কি ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত হতে থাকবে?
‘অদ্দাহ শারারাহ’ এ প্রশ্নের উত্তরে বলেন: “লেবানন যেরূপ খোমেনি আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ময়দান হিসেবে পরিণত হয়েছে, সেরূপ লেবাননকে খোমেনি আন্দোলনের লক্ষ্য বাস্তবায়নেও জ্বলতে-পুড়তে হবে। হিযবুল্লাহর সাবেক মুখপাত্র ইবরাহিম সায়্যেদ বলেন: “আমাদের দৃষ্টিতে লেবানন ইসরাইলের সাথে যুদ্ধের ভূমি ও তার ময়দান, ইসলামি স্বার্থে লেবাননের এরূপ হওয়াই উচিত”।
হিযবুল্লাহ যখন দু’জন ইসরাইলি সৈন্য অপহরণ করে, আর তার অনুসারীরা এ নাটকটি সত্য বলে স্বীকার করে, তখন ১৪ জুলাই ২০০৬ই. সালের জুমাবার হাসান নাসরুল্লাহ লেবাননি টিভি চ্যানেল “আল-মানার” এর পর্দায় দৃশ্যমান হন ও ঘোষণা করেন: “আজ থেকে যদি তোমরা উন্মুক্ত যুদ্ধ চাও, তাহলে উন্মুক্ত যুদ্ধই। যদি তোমরা ও তোমাদের সরকার খেলনার গুটি পরিবর্তন করতে চাও, তাহলে পরিবর্তন করে দেখ। তোমরা জান না, আজ কাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে, তোমরা যুদ্ধ করছ মুহাম্মদের পরিবারের সাথে, আলি, হাসান, হুসাইন ও আহলে বাইত ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবিদের সাথে। তোমরা এমন জাতির সাথে যুদ্ধ করছ, যারা ঈমানের ধারক, যে ঈমান দুনিয়ার বুকে কারো নেই। তোমরা এমন কওমের সাথে উন্মুক্ত যুদ্ধের পথ বেছে নিয়েছ, যারা তাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রগতি নিয়ে গর্ব করে। আরো রয়েছে তাদের পার্থিব শক্তি, যুদ্ধের ক্ষমতা, অভিজ্ঞতা, সুনির্দিষ্ট চিন্তা শক্তি, ধৈর্য, দৃঢ়তা ও সাহস। সামনের দিনগুলোয় আমাদের ও তোমাদের মাঝে সাক্ষাত হবে, ইনশাআল্লাহ”।
তার গলাবাজির সমাপ্তিতে সে বলে: “হে আরব সরকারসমূহ, আমি আপনাদের নিকট আপনাদের ইতিহাস জানতে চাই না, একটি সংক্ষিপ্ত কথা, আমরা আত্মত্যাগী, হিযবুল্লাহর অধীন আমরা আত্মত্যাগী, আমরা ১৯৮২ই. সাল থেকে ত্যাগ স্বীকার করে আসছি। আমরা আমাদের দেশকে, বিজয়, স্বাধীনতা, ইজ্জত ও উঁচু স্থান প্রদান করেছি। এটাই আমাদের ইতিহাস, এটাই আমাদের অভিজ্ঞতা, এটাই আমাদের ত্যাগ স্বীকার”।
এ ঘটনার পর যখন ইসরাইল ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে ও বেশুমার মানুষ হত্যা করে লেবাননের মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ক্ষতি করল, তখন সোমবার ৩/০৮/১৪২৮হি. মোতাবেক: ২৭/০৮/২০০৬ই. তারিখে লেবাননি টিভি চ্যানেল New TV এর পর্দায় উপস্থিত হয় ও বলে: “আমি যদি জানতাম যে, দু’জন ইসরাইলি সৈন্য অপহরণ করার ফলে লেবাননের এ পরিমাণ ক্ষতি হবে, তাহলে কখনো তার নির্দেশ দিতাম না”।
হাসান নাসরুল্লাহ আরো স্পষ্ট বলেছে যে, দু’জন ইসরাইলি সৈন্য অপহরণ করার ফলে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তার ১% পার্সেন্ট ক্ষতিরও আশঙ্কা করিনি, কারণ যুদ্ধের ইতিহাসে এরূপ ক্ষয়ক্ষতির রেকর্ড নেই। তিনি নিশ্চিত বলেন: দ্বিতীয়বার কখনো হিযবুল্লাহ ইসরাইলের সাথে যুদ্ধের ইচ্ছা রাখে না। হিযবুল্লাহর এ নাটকের ফলাফল: লেবাননি কয়েদি ও হত্যার সংখ্যা বর্ধিত হল, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি কর্তৃত্ব বৃদ্ধি পেল এবং তারা লেবাননকে সমুদ্র ও স্থল পথে বেষ্টন করে নিলো!
লেবননিরা কি হিযবুল্লাহর প্রধানকে এ জন্য বিচারের সম্মুখীন করাবে? কেন সে লেবাননের জন্য এতো বড় মুসিবতের কারণ হল? লেবাননি সরকারের ভূমিকা দেখে তো আমার নিম্নের কবিতাই মনে পড়ে:
ويقضى الأمر حين تغيب تيم ولا يستأمرون وهم شهود
যখন তাইম চলে যায়, তখন তারা সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্তু তাদের উপস্থিতিতে তারা পরামর্শও করে না।
একটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হচ্ছে অপর দেশের সাথে যুদ্ধের বিষয়, সেই যুদ্ধ যদি হয় দেশের কর্তা ব্যক্তিদের অজ্ঞতাসারে, তাদের পরামর্শও যদি গ্রহণ না করা হয় এবং তাদের পরামর্শ ব্যতীত যুদ্ধ শেষ হয়! তাহলে কে দেশ চালায়? কাকে কে চালায়? কোন্ সংবিধান ও নীতির বলে এরূপ ঘটে!!!?
লেবাননি সরকারের ভূমিকা কি, যার দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের নিরাপত্তা প্রদান করা, ধ্বংস হয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ করা, এত লোক হত্যা করা হল, এতো ধ্বংসযজ্ঞ পরিচালনা করা হল এবং অর্থনৈতিক এতো ক্ষতি হল, তবুও কি লেবাননি সরকার হাসান নাসরুল্লাহ কিংবা হিযবুল্লাহকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করাবে না?!
আমরা আশঙ্কা করছি, এ জন্য হিযবুল্লাহ উল্টো সরকারকেই দায়ী করবে, অথবা দক্ষিণ লেবাননে আহলে সুন্নাহকে দায়ী করবে, অথবা ফিলিস্তিন শিবিরে বসবাসকারী কাউকে দায়ী করবে, যে কোনো অজুহাতেই হোক।
এখানে আমাদের কয়েকটি প্রশ্ন: ইসরাইল ও আমেরিকা কেন হামাসের সাথে আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল? অথচ দেশের জনগণ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে হামাসকে গ্রহণ করেছে, যারা ছিল বৈধ সরকার!
পক্ষান্তরে তারা হিযবুল্লাহর সাথে সমঝোতা করে, যাকে লেবাননের সরকারের ভেতরে সরকার গণ্য করা হয়, অথবা যার কার্যক্রম একটি মাফিয়া চক্রের ন্যায়! দু’জন ইসরাইলি সৈন্য অপহরণ করে সে লেবাননের উপর ইসরাইলকে ধ্বংসযজ্ঞ পরিচালনার পথ সুগম করে দিয়েছে। এরূপ কাজ হাসান নাসরুল্লাহর পূর্বে তার উত্তরসূরি আব্বাস মুসাভিও করেছে। ১৯৮৬ই. সালে মধ্য ফেব্রুয়ারিতে দু’জন ইসরাইলি সৈন্য অপহরণ করে লেবাননে তাদেরকে হামলার সুযোগ করে দিয়েছিল, যার ফলে তারা লেবাননি সামরিক শক্তি ও তাদের অর্থ-সম্পদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে।
আমাদের দৃষ্টিতে হিযবুল্লাহ দু’জন ইসরাইলি সৈন্য অপহরণ করে ইসরাইলকে যেভাবে ইচ্ছা লেবাননে হামলার সুযোগ করে দিল। আমরা আশ্চর্য ইহ না যে, তৃতীয়বার হাসান নাসরুল্লাহ কিংবা তার উত্তরসূরি কেউ এরূপ করবে না, যদি হিযবুল্লাহকে এভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়। যিনি বলেছেন, সত্যই বলেছেন: ইসরাইলের স্বার্থ হচ্ছে হিযবুল্লাহর বেঁচে থাকা এবং হিযবুল্লাহর স্বার্থ হচ্ছে ইসরাইলের বেঁচে থাকা!


ইরাকে ক্রুসেডার খ্রিস্টানদের যুদ্ধের সময় হিযবুল্লাহ ও তার অনুসারী ইমামিয়া শিয়ারা কোথায় ছিল?
ড্যানিয়েল সোপলম্যান বলেন: “হিযবুল্লাহ আমেরিকান হামলা ও সাদ্দাম সরকারের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান শুধু গোপন করেনি, বরং একেবারে খামোশ ছিল। সর্বপ্রথম তখন মুখ খোলে, যখন হিযবুল্লাহ বলে যে, আমেরিকান সৈন্যদের মোকাবিলার জন্য ইরাকে আমরা কোনো সাহায্য প্রেরণ করিনি। পরবর্তীতে যখন বাগদাদ থেকে ঘোষণা করা হল যে, ইরাক ও সিরিয়ার বর্ডার থেকে হিযবুল্লাহর ছয়জন সদস্য গ্রেফতার করা হয়েছে, তখন হিযবুল্লাহ সাথে সাথে তার প্রতিবাদ করে বলে, তারা হিযবুল্লাহর সদস্য নয়”।
শিয়াদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব আয়াতুল্লাহ উজমা আলি সিসতানির নাজাফের বাড়িতে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, তারা আমেরিকান সৈন্যদের উপস্থিতির বিরুদ্ধে [সুন্নিদের] চলতি লড়াই প্রতিহত করবে। ‘আল-ওয়াতন আল-কুয়েতিয়াহ’ পত্রিকা বলেছে, লেবাননি হিযবুল্লাহ ইরাকে কয়েকটি ক্যাম্প করেছে। সেখানে তারা ৯০-জন সদস্য প্রেরণ করেছে, যারা সিরিয়ার বর্ডার দিয়ে ইরাকে প্রবেশ করবে। তাদের উদ্দেশ্য যুদ্ধের রসদ সরবরাহ করা এবং শিয়া মতবাদের প্রভাব বিস্তার, বিভিন্ন এলাকায় তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা ও সুন্নিদের অস্তিত্ব নিঃশেষ করার লক্ষ্যে শিয়া মিলিশিয়া যেমন ফিলাক বদর ও জায়শে মাহদি ইত্যাদি সংস্থায় সংবাদ আদান-প্রদান করা।
২০০৬ই. সালের অক্টোবর মাসে লেবাননি হিযবুল্লাহর দাওয়াতের প্রেক্ষিতে ৩৫-জন ‘জায়শে মাহদি ইরাকী’র সদস্য লেবাননে যায়, উদ্দেশ্য সামরিক সহযোগিতা ও যুদ্ধের প্রশিক্ষণ হাসিল করা; অতঃপর হিযবুল্লাহ তাদেরকে আহলে সুন্নাহদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য একটি পূর্ণ পরিকল্পনা পেশ করে, কারণ তারা (এ সুন্নিরা) ‘শিয়া হিলাল’ বা ‘নয়া চাঁদের মত’ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিরোধিতা করছে!
লেখক বলেন: হে আমার মুসলিম ভাই, দেখুন আমেরিকার বিরুদ্ধে পরিচালিত [সুন্নিদের] যুদ্ধ কিভাবে তারা প্রতিহত করে, অথচ আমেরিকা কাফের, একটি মুসলিম দেশের দখলদার!!
আমাদের প্রশ্ন: লেবাননের স্বার্থে যোদ্ধারা [হিযবুল্লাহ] জান্নাতে যাবে, আর ইরাকের স্বার্থে যোদ্ধারা [সুন্নিরা] জাহান্নামে যাবে?
ইরাক ও লেবানন কি দু’টি মুসলিম দেশ নয়?
কারণ কি এটাই যে, লেবানন রক্ষার যুদ্ধের সাথে ইরান ও সিরিয়ান স্বার্থ জড়িত, কিন্তু ইরাক রক্ষার যুদ্ধে সাথে তাদের সেই স্বার্থ নেই! এ জন্য হিযবুল্লাহ লেবাননের পক্ষে ও ইরাকের বিপক্ষে যুদ্ধ করে।


দু’জন ইসরাইলি সৈন্য অপহরণের নেপথ্যে হিযবুল্লাহর প্রকৃত উদ্দেশ্য কী?
১. পারমাণবিক স্থাপনা তৈরির কারণে ইরানের উপর থেকে বিশ্বের চাপ লাঘব করা, যেন পুরো বিশ্ব ইরান থেকে দৃষ্টি হটিয়ে লেবানন ও তার জনগণের প্রতি দৃষ্টি দেয়।
২. ইরাকের জায়শে মাহদি ও বদর সংগঠনকে সুযোগ দেওয়া, যেন তারা যেভাবে ইচ্ছা আহলে-সুন্নাহকে হত্যা করে, তাদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করে, তাদের রক্ত ও সম্পদকে বৈধ মনে করে, তাদের মসজিদের উপর আধিপত্য লাভ করে ইত্যাদি, ইরাকে এসব হচ্ছে আমেরিকার ছত্রছায়া ও ইরানি শিয়া নেতা আলি সিসতানির নেতৃত্বে।
৩. আমেরিকাকে পারমানবিক অস্ত্র প্রসঙ্গে মেসেজ দেওয়া যে, আমরা [ইরান] ইচ্ছা করলে ইরান ও উপসাগরীয় দেশ থেকে যুদ্ধকে ইসরাইল ও লেবানন পর্যন্ত প্রসারিত করতে পারি।
৪. লেবানন থেকে সিরিয়ার চলে আসা ও সেখানে তার ক্ষমতা দুর্বল হওয়ার পর লেবাননিদের মাঝে জাতীয়তাবাদ দৃঢ় হয়েছিল। এর মাঝে সিরিয়া এবং তার পশ্চাতে ইরান সেখানে তাদের ক্ষমতা পুনর্বহাল করতে চাইল। তাই তারা নতুন গুটি চালনা আরম্ভ করল। বিশেষ করে যখন বিশ্ব ও লেবাননি সরকার চাপ দিয়েছিল যে, হিযবুল্লাহ তাদের অস্ত্র ছেড়ে জাতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিবে। এটা ইরানের স্বার্থের জন্য বিরাট কাটা হয়ে দাঁড়াল। তাই দু’জন সৈন্য অপহরণ করার নাটক করল, যেন প্রতিরোধের নামে হিযবুল্লাহর হাতে অস্ত্র থাকে।
৫. ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ আন্দোলন থেকে বিশ্বের দৃষ্টি হটানো। ইসরাইল-ইরান অস্ত্র ক্রয় চুক্তির ফলে অনেকটা কোণঠাসা ছিল শিয়া-ইরান, যা ‘ইরান গেট’ ক্যালেঙ্কারি নামে পরিচিত। অনুরূপ তালেবান ও ইরাক সরকার পতনে শয়তানে আকবরের সাথে ইরানের সহযোগিতা প্রকাশ হওয়া, ইরাকে শিয়া মতবাদ ও তার সম্প্রদায়কে প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে সুন্নিদেরকে হত্যা করা, বাড়ি-ঘর থেকে তাদেরকে তাড়িয়ে দেওয়া ও তাদের উপর ইরান ও আমেরিকার যৌথ নির্যাতনের চিত্র বিশ্বের জানা-জানির প্রাক্কালে এ ঘটনা রচনা করল হিযবুল্লাহ, যেন সুন্নিরা জানে হিযবুল্লাহ ও ইরান ইসরাইল বিরোধী।
ফিলিস্তিনি লেখক গাজি তাওবা বলেন: “ইয়াহূদীদের সাথে হিযবুল্লাহর যুদ্ধ করার উদ্দেশ্য লেবানন, আরব বিশ্ব ও ইসলামি দুনিয়ায় শিয়া ও ইরানের পক্ষে প্রোপাগান্ডা করা, অপর দিকে ইরাকে সুন্নী মুসলিমের উপর পরিচালিত ইরানি নির্যাতনের উপর পর্দা টেনে দেওয়া।


আমরা কি দখলদার ইয়াহূদীর বিরুদ্ধে জিহাদকে হারাম করে দেব?
ইমাম ইবনে কুদামাহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন : জিহাদ ফরজে কিফায়াহ, যদি কোনো এক কওম জিহাদের পক্ষে দাঁড়ায়, তাহলে অন্যদের উপর থেকে দায়িত্ব আদায় হয়ে যায়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
وَمَا كَانَ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ لِيَنفِرُواْ كَآفَّةٗۚ فَلَوۡلَا نَفَرَ مِن كُلِّ فِرۡقَةٖ مِّنۡهُمۡ طَآئِفَةٞ لِّيَتَفَقَّهُواْ فِي ٱلدِّينِ وَلِيُنذِرُواْ قَوۡمَهُمۡ إِذَا رَجَعُوٓاْ إِلَيۡهِمۡ لَعَلَّهُمۡ يَحۡذَرُونَ ١٢٢ [التوبة: 122].
“আর মুমিনদের জন্য সংগত নয় যে, তারা সকলে একসঙ্গে অভিযানে বের হবে। অতঃপর তাদের প্রতিটি দল থেকে কিছু লোক কেন বের হয় না, যাতে তারা দীনের গভীর জ্ঞান আহরণ করতে পারে এবং আপন সম্প্রদায় যখন তাদের নিকট প্রত্যাবর্তন করবে, তখন তাদেরকে সতর্ক করতে পারে, যাতে তারা (গুনাহ থেকে) বেঁচে থাকে”।
তিনটি স্থানে জিহাদ ফরজ:
১. যখন মুসলিম ও কাফের দুই দল মুখোমুখি হয়, তখন উপস্থিত মুজাহিদদের উপর জিহাদ করা ওয়াজিব, পলায়ন করা বৈধ নয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِذَا لَقِيتُمۡ فِئَةٗ فَٱثۡبُتُواْ وَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ كَثِيرٗا لَّعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ ٤٥ ﴾ [الانفال: ٤٥]
“হে মুমিনগণ, যখন তোমরা কোনো দলের মুখোমুখি হও, তখন অবিচল থাক, আর আল্লাহকে অধিক স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফল হও”।
২. যদি কোনো এলাকায় কাফেররা অনুপ্রবেশ করে, তখন তাদেরকে প্রতিহত করা ও তাদের সাথে যুদ্ধ করা ওয়াজিব।
৩. যদি ইমাম (মুসলিম শাসক) কোনো সম্প্রদায়কে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য বের হতে বলে, তখন তাদের উপর যুদ্ধ ওয়াজিব হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ مَا لَكُمۡ إِذَا قِيلَ لَكُمُ ٱنفِرُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ ٱثَّاقَلۡتُمۡ إِلَى ٱلۡأَرۡضِۚ ٣٨ [التوبة: 38 ].
“হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কী হল, যখন তোমাদের বলা হয়, আল্লাহর রাস্তায় (যুদ্ধে) বের হও, তখন তোমরা জমিনের প্রতি প্রবল ঝুঁকে পড়?”
অতঃপর ইবনে কুদামাহ রাহিমাহুল্লাহ জিহাদ ওয়াজিব হওয়ার সাতটি শর্ত উল্লেখ করেন: ১. ইসলাম, ২. সাবালক, ৩. বিবেক, ৪. স্বাধীন, ৫. পুরুষ, ৬. শারীরিকভাবে সুস্থ, ৭. জিহাদের খরচের মালিক।
কেউ হয়তো বলতে পারে, ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তোমরা কেন শিয়া ইমামিয়াদের সাথে মিল না?
আমাদের উত্তর: রাফেযীরা আহলে-সুন্নাহর সাথে কখন এক হয়েছে?
আপনি মুসলিম সেনাপতি সালাহুদ্দিন আইউয়ূবী রাহিমাহুল্লাহুর জীবনী দেখুন। তিনি আল্লাহর কালেমাকে বুলন্দ ও কুফরের কালেমাকে পরাস্ত করার জন্য জিহাদ করেছেন। এ বীর পুরুষ প্রথম শিয়া ইসমাইলিয়াকে ক্ষমতা থেকে পদচ্যুত করেন এবং তাদেরকে সরকারী কাজ ও শাসন ক্ষমতা থেকে দূরে নিক্ষেপ করেন, অতঃপর তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসকে মুক্ত করার জন্য ইয়াহূদীদের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন।
সন্দেহ নেই, ইয়াহূদীদের মৃত্যু ও তাদের দুর্যোগে আমরা খুশি হই, যে পরিমাণেই হোক। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, আমরা হিযবুল্লাহর নাটক, মিথ্যা প্রচার ও লোক দেখানো শ্লোগানে ধোঁকা খাব, যেভাবে তারা সাধারণ ও সরলমনা মুসলিমদের শিকার করে। আমরা ভালো করেই জানি, হিযবুল্লাহ লেবাননে শুধু ইরানের স্বার্থেই যুদ্ধ করে। তার উদ্দেশ্য কখনো পবিত্র ইসলামি ভূমি রক্ষা করা কিংবা বায়তুল মুকাদ্দাসকে মুক্ত করা নয়।


কয়েকটি প্রশ্ন
১. ইরান কেন লেবাননি জনগণের পক্ষে সামরিক শক্তি নিয়ে অগ্রসর হল না, অথচ ইসরাইল যখন সিরিয়ায় হামলা করে তখন সে সামরিক শক্তি নিয়ে অগ্রসর হয়?!
২. হিযবুল্লাহ কেন ইসরাইলি জেলখানায় বন্দি লেবাননি জনগণের মুক্তির দাবি করে, অথচ সিরিয়ায় বন্দি লেবাননি আহলে-সুন্নাহর পক্ষে একটি কথাও বলে না?!
৩. ইরানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ কেন হিযবুল্লাহর পাশে দাঁড়িয়ে ইরানিদেরকে ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ থেকে নিষেধ করেছে, অথচ সেই বলেছে ‘মানচিত্র থেকে ইসরাইলকে মুছে ফেলা জরুরি’।
৪. যখন হামাসের দু’জন নেতা: আহমদ ইয়াসিন ও আব্দুল আজিজ রানতিসিকে হত্যা করা হয়, তখন কেন হিযবুল্লাহ একটি মিসাইলও ইসরাইলের দিকে নিক্ষেপ করেনি, অথচ হামাস ইসরাইলের কলিজায়, তখন তারই বেশী প্রয়োজন ছিল সাহায্য, সমর্থন ও অস্ত্রের, বিশেষ করে হিযবুল্লাহ যেহেতু বারবার টিভির পর্দায় বলে: বায়তুল মুকাদ্দাস ও ফিলিস্তিন মুক্ত করা হবে?!
৫. হিযবুল্লাহ দু’টি উদ্দেশ্যে দু’জন ইসরাইলি সৈন্য অপহরণ করেছে:
ক. হিযবুল্লাহর কয়েদিদের মুক্ত করা।
খ. ফিলিস্তিনের জমিন মুক্ত করা, (নাসরুল্লার ঘোষণা মতে)।
কিন্তু ফলাফল হয়েছে তার উল্টো, ইসরাইলের অধীন আগের তুলনায় অধিক জমি চলে গেছে, অন্যান্য জমির উপর ইসরাইল কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে। ইসরাইলি জেলখানায় কয়েদিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। নাসরুল্লাহ “আল-মানার” চ্যানেলের বদৌলতে চাপাবাজি ব্যতীত আর কিছুই হাসিল করতে পারেনি?
৬. যদি হাসান নাসরুল্লাহ ও তার দল ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হত, যেমন অনেকে ধারণা করেন, তাহলে কেন হিযবুল্লাহর লিডার ইসরাইলের লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত হয় না?
৭. হাসান নাসরুল্লাহকে গ্রেফতারের জন্য কেন অর্থ ঘোষণা করা হয় না, অথচ অন্যান্য মুজাহিদকে গ্রেফতারের জন্য অর্থ ঘোষণা করা হয়?
৮. অন্যান্য ইসলামি দল ও সংগঠনের ন্যায় ইসরাইল কেন হিযবুল্লাহর সম্পদ সিলগালা করে না?
৯. আমরা অনেক শুনেছি, বারবার শুনেছি যতক্ষণ না ‘শাব‘আ’ কৃষি ভূমি ফেরত পাব, হিযবুল্লাহ ইয়াহূদীদের যুদ্ধ থেকে বিরত হবে না, অথচ এখন যুদ্ধ থেকে পিছু টান দিয়েছে, যদিও ইয়াহূদীরা লেবাননের এলাকা থেকে সরে যায়নি!
১০. আত্মসম্মান বোধ বীর-বাহাদুর নেতাদের ন্যায় হাসান নাসরুল্লাহ কেন জিহাদের ময়দানে মুজাহিদদের সাথে অংশ গ্রহণ করে না, অথচ তার অনুসারীরা স্বাদ-বিষাদের মুখোমুখি হয়, তিনি আরামে থাকেন?
১১. হাসান নাসরুল্লাহ বলে ফিলিস্তিনে ইসরাইল হেরে গেছে, যদি তাই হয় তাহলে কেন হাসান নাসরুল্লাহ তাদের উপর হামলা করে না?
১২. ইরাক যুদ্ধ ও আহওয়ায রাজধানীতে আহলে সুন্নাহকে দমন করার জন্য হিযবুল্লাহ কেন ইরানের সাথে অংশ নিয়েছে, অথচ দখলদার আমেরিকার বিরুদ্ধে কোনো উচ্চবাচ্য করেনি? হাসান নাসরুল্লাহ কেন আমেরিকান সৈন্য হত্যার ফতোয়া প্রদান করে না, অথচ তারা ইরাকের দখলদার, যেখানে রয়েছে তাদের একাধিক পবিত্র ভূমি, ইমামদের কবর ও মাজারসমূহ!?



পরিশিষ্ট
হিযবুল্লাহর সাবেক সেক্রেটারি জেনারেলের সাক্ষাতকার, যা “আশ-শারকুল আওসাত” পত্রিকা ২৯-রজব, ১৪২৪হি. মোতাবেক: ২৫-সেপ্টেম্বর ২০০৩ই. ৯০৬৭ সংখ্যায় বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে।
হিযবুল্লাহর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ‘সুবহি তুফাইলি’ “আশ-শারকুল আওসাত” পত্রিকায় দেওয়া এক ইন্টার্ভিউতে বলেন: “বিশ্বের শিয়াদের জন্য ইরান একটি হুমকি ও আমেরিকান প্রকল্প বাস্তবায়নের ঠিকাদার। লেবাননি প্রতিরোধ আন্দোলন হিযবুল্লাহ-কে হাইজ্যাক করে ইসরাইল এর সীমান্ত পাহারাদার বানিয়েছে সে।

বৈরুত থেকে ‘সায়ের আব্বাসে’র রিপোর্ট:
লেবাননি হিযবুল্লাহর সাবেক সাধারণ সম্পাদক শায়খ সুবহি তুফাইলির সাক্ষাতকারটি বালাবাক্কা জেলার দক্ষিণে বারিতাল নগরীতে অবস্থিত হুসাইনি পুরাতন বিল্ডিংয় থেকে নেওয়া হয়েছে। হিযবুল্লাহ ও লেবাননি সরকারের সাথে তার লাগাতার সমস্যা, অমিল ও ইখতিলাফের কারণে ১৯৯৭ই. সাল থেকে তিনি নেতৃত্বের আড়ালে চলে গেছেন। ইরানের সাথে তার দৃষ্টি-ভঙ্গির ভিন্নতার কারণে হিযবুল্লাহ ত্যাগ করে তার মূল্য দিতে হয়েছে, অথচ তিনি ছিলেন হিযবুল্লাহর একজন প্রতিষ্ঠাতা ও তার প্রথম সেক্রেটারি জেনারেল। এই মতভেদ হামলার রূপ নেয়, যার ফলে এক সেনা অফিসার ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি শায়খ খিদির তালিস মারা যান, যিনি তুফাইলির পক্ষাবলম্বন করে ছিলেন, সাথে আরো কয়েকজন সঙ্গীকে মারা হয় হিযবুল্লাহর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, যেন এই সুবাদে তুফাইলিকে লেবাননি আদালতে তলব করা যায়। ছয় বছর তার ব্যাপারে কখনো উপস্থিত কখনো গায়েব হিসেবে ফয়সালা দেওয়া হয়েছে, যা চিন্তা করলে খুব অবাক করার বিষয়, তবে এটা লেবাননি স্বভাব বনে গেছে। এ ছয় বছর সে দোস্ত-দুশমন সবার জানাশোনা জায়গায় ছিল। তবে কখনো কখনো তাকে কঠিন চাপের সম্মুখীন হতে হয়েছে, যদিও তাকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করা হয়নি।
আত্মগোপনের দীর্ঘ সময়ে কখনো শায়খ তুফাইলি জনসম্মুখে আসতেন। ২০০০ই. সালে তিনি বেক্কা প্রদেশের নির্বাচনে জোরালো ভূমিকা রাখেন। অনুরূপ ২০০২ই. সালে (এম.টি.বি.) এর পর্দায় হঠাৎ তাকে দেখা যেত, যা পরবর্তীতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এসব সাক্ষাতের কারণে আমাকে অপবাদ দেওয়া হয় যে, আমার কারণেই উপনির্বাচনে আমার নির্বাচিত প্রতিনিধি ‘গাবরিয়াল মুর’ জয়ী হন, পরবর্তীতে যার এমপি পদ বাতিল করা হয়েছে। এভাবে সময়ে সময়ে পর্দার সামনে আসার কারণে তুফাইলিকে অনেক খেসারত দিতে হয়েছে, যা কঠিন থেকে কঠিন হয়েছে, যার সমাপ্তি ঘটে হুসাইনি বিল্ডিংয়ের বন্দি জীবনে অবস্থান করে।
শায়খ তুফাইলি বেক্কা শহরে খুব শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব। তিনি স্বীয় সিদ্ধান্তে অটল থাকার মানুষ, তিনি “আশ-শারকুল আউসাত” পত্রিকার মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন, যদিও তার উপর তখন চাপের সীমা ছিল না।
আমরা এখানে শুধু সাংবাদিক হিসেবে তার একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব, কারণ তার মত ব্যক্তিত্বের অভিজ্ঞতা ও জানার পরিধি খুব প্রশস্ত, বিশেষভাবে যিনি হিযবুল্লাহর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি নিজ যুগে লেবাননের জমি থেকে ইসরাইলকে বের করে দিয়েছিলেন।
বিভিন্ন মতভেদ ও ইখতিলাফ সত্যেও তিনি সাংবাদিকের সাথে সাক্ষাতকার দিয়েছেন, যেখানে “আশ-শারকুল আউসাত” পত্রিকার বেক্কার প্রতিনিধি হুসাইন দরবেশ উপস্থিত ছিলেন। এতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে আলোচনা হয়। সাক্ষাতকারে তিনি ইরানের কঠোর সমালোচনা করেন, যার ভাষা ছিল এরূপ: “ইরান লেবানন ও অন্যান্য এলাকার শিয়াদের জন্য হুমকি”।
প্রশ্ন: [হিযবুল্লাহর] এখন প্রতিরোধ ও যুদ্ধের কি প্রয়োজন নেই?
উত্তর: এটা কি আলোচনার বিষয়? হিযবুল্লাহর ইসরাইল প্রতিরোধ তখনি শেষ হয়ে গেছে, যখন ১৯৯৪ই. সালের জুলাই ও ১৯৯৬ই. সালের এপ্রিলে ইসরাইলের সাথে হিযবুল্লাহর নেতৃবর্গ চুক্তি স্বাক্ষর করে। ইরানি পররাষ্ট্র মন্ত্রীর উপস্থিতিতে সম্পাদিত এ চুক্তিতে ইসরাইলি আবাসিক এলাকাকে হিযবুল্লাহর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা দেওয়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করা হয়েছে।
এ চুক্তিকে লেবাননের বিজয় জ্ঞান করা হয়, কারণ তা লেবাননি নাগরিককে সুরক্ষা ও হিযবুল্লাহর প্রতিরোধকে স্বীকৃতি দিয়েছে, যদিও এখনো সময়ে সময়ে ‘শাব‘আ’ কৃষি ভূমিসমূহে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠে, এতে সমস্যা নেই কারণ ইসরাইল খুশি। এ সমঝোতার মূল হচ্ছে হিযবুল্লাহর প্রতিরোধ থেকে পিছু হটে ইসরাইলের সাথে চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া।
ইসরাইল যেরূপ مزارع شبعا [‘মাজারে শাব‘আ’] দখল করেছে, অনুরূপ ফিলিস্তিনি অন্যান্য ভূমিও দখল করেছে, কিন্তু হিযবুল্লাহর শুধু ‘মাযারে‘ শাব‘আ’ নিয়ে মাথা ব্যথ্যা, অন্যান্য ভূমির প্রতি আগ্রহ নেই কেন, উভয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য জানেন কি? সন্দেহ নেই, অন্যান্য ভূমির প্রতি হিযবুল্লাহর অনীহা প্রমাণ করে, সেখানে তারা ইসরাইলের দখলদারিত্ব মেনে নিয়েছে। আমার নিকট ‘খিয়াম’ (লেবাননের সীমান্ত শহর) এবং ফিলিস্তিনের অভ্যন্তরে উক্কা ও হায়ফার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। উভয় আমার নিকট সমান। আমাকে খুব কষ্ট দেয়, যখন শুনি যে, যারা আমার সাথে ওয়াদা করেছিল এরাবিক অধিকৃত ভূমি মুক্ত করার জন্য মরতে হলে মরবো, তারাই আজ ইসরাইলি সীমান্তে প্রহরীর কাজ করছে। যারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাদেরকে পাকড়াও করে জেলে দেয় এবং নিকৃষ্টতম শাস্তি প্রদান করা হয়।
২. কোন জেলে?
উত্তর: আমি এ ব্যাপারে অনেক বলেছি, যারাই ইসরাইলকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে, তাদেরকে লেবাননি সরকারের নিকট সোপর্দ করা হয়, সরকার তাদেরকে কঠিনভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
৩. আপনি কি বিশ্বাস করেন, এ চুক্তির কারণ হচ্ছে লেবানন ও শামের উপর থেকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাপ কমানো?
উত্তর: আমি সুযোগ সন্ধানের বিপক্ষে নই, এটা একটা হিকমত, কিন্তু যা ঘটছে তা হিকমত নয়। আপনি সুযোগের অপেক্ষার কথা বলবেন, আমি বলি দেশীয়ভাবে এরূপ সুযোগ আসা অসম্ভব, কারণ এসব চাপ কখনো কমবে না, আমাদের সুযোগও কখনো আসবে না। আমি আমাদের প্রতিরোধকারী সন্তানদেরকে বলছি: তোমরা যা করছ তা হারাম, দুশমনের সেবা এবং গাদ্দারি। তোমরা তোমাদের অস্ত্র নিক্ষেপ করে বাড়িতে চলে যাও, অথবা বিদ্রোহী হয়ে দুশমনের দিকে আগুনের গোলা নিক্ষেপ কর। খবরদার! কোনো ফতোয়া অথবা বিলায়াতুল ফকিহর নামে কেউ যেন তোমাদের ধোঁকা না দেয়। দুনিয়ায় এমন কোনো ফকিহ নেই, যে আমাকে দুশমনের সেবার জন্য নির্দেশ দিবে। আমি খুবই দুঃখিত, যে প্রতিরোধ আমরা আমাদের শহীদদের রক্তের বিনিময়ে গড়ে তুলেছি, তা আজ দুশমনের সেবা করছে।
৪. আপনার প্রতি কখন থেকে ইরান নাখোশ, আপনাকে হিযবুল্লাহর নির্বাহী কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে ইরানের হাত আছে কি?
উত্তর: আমার সাথে কৃত সকল অন্যায় সত্ত্বেও আমি চেয়েছি, আমার ব্যক্তিগত বিষয়গুলো জাতীয় বিষয় থেকে আলাদা থাক। যেমন বর্তমান কিংবা অতীতে ইরানের সাথে আমার সমস্যার কারণে কখনো ইরানকে দোষারোপ করিনি। আমি জাতীয় কোনো বিষয়কে কখনো ব্যক্তিগত বিষয়ে পরিণত করতে চাইনি। কিন্তু যখন দেখলাম প্রতিরোধ আন্দোলনের মোড় ঘুরে গেছে এবং ইরান আমেরিকার সাথে মিশে গেছে, তখন আমি আমার নীরবতা থেকে বের হয়ে আসছি।
৫. আমরা হিযবুল্লাহর আদর্শ পরিবর্তনের দিকে ফিরে আসছি, আপনারা যখন হিযবুল্লাহর নেতৃত্বে ছিলেন, তখন হিযবুল্লাহর কিছু বৈশিষ্ট্য ছিল, যেমন দুশমনের সাথে সমঝোতা না করা, শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা ইত্যাদি, তখন হিযবুল্লাহ কিছু কঠিন কাজও করত, যেমন পাশ্চাত্যদের অপহরণ করা ইত্যাদি।
উত্তর: পশ্চিমাদের অপহরণ করা বিষয়ে অন্য সময় বলব, তবে আমরা বলতে চাই যে, তার সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। আর আপনি যে হিযবুল্লাহর আদর্শ পরিবর্তনের কথা বলছেন, তার সারাংশ হচ্ছে দু’টি বিষয়: এক. এখানে ইরানি রাজনীতি কাজ করছে, যার শুরু হয়েছে ইমাম খোমেনির মৃত্যুর পর। তখন থেকে আমরা ধারণা করেছি যে, আমাদের ইসলামি মূল্যবোধের সাথে তাদের টক্কর বাধবে। দুই. ইরানে কিছু লোক আছে, যারা আমাদের নৈকট্য পছন্দ করে না।
৬. প্রশ্ন: আপনি নিজেকে উদ্দেশ্য করছেন?
উত্তর: আমি ইরানিদের বারবার বলেছি, যদি তোমাদের স্বার্থ আমার স্বার্থের বিপরীত হয়, তাহলে অবশ্যই আমি আমার স্বার্থকে প্রাধান্য দিব। আমি কখনো ইরানের রাজনৈতিক এজেন্ট ও তার তাবেদার হব না। আমি তোমাদের ভাই ও অংশীদার, তার চেয়ে বেশী বা কম নয়। তবে এ কথাও ঠিক যে, শক্তিশালীরা অংশীদারিত্ব পছন্দ করে না, তারা এমন দুর্বলকে চায় যারা তাদের অন্ধভাবে অনুসরণ করবে। আমি আমার স্বাধীনতাকে ভূলুণ্ঠিত করতে চাই না। কোনো মুসলিম ফকিহ দুর্বল ও গরিব মুসলিমদের বিপক্ষে সাহায্যের কথা বলতে পারে? অতএব আপনি যখন সরকারের সাথে চলবেন না, আপনাকে সম্ভাব্য সকল পথে ধ্বংস করার চেষ্টা করা হবে।
৬. আপনার পরবর্তীতে হিযবুল্লাহ শুধু লেবাননের গান গায়?
উত্তর: যে বলে ইরান লেবাননে হস্তক্ষেপ করে না, সে মিথ্যাবাদী, সিদ্ধান্ত বৈরুতে নয়, সিদ্ধান্ত হচ্ছে তেহরানের হাতে।
৭. আপনার সময়েও কি এরূপ ছিল?
উত্তর: হ্যাঁ, আমার সময়েও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ছিল ইরানের হাতে। তবে ইরান আমাদের প্রতি কোনো নির্দেশ বা পরামর্শ দিলে, আমরা সেটাকে আমাদের উপর ওয়াজিব মনে করতাম না, বরং আমাদের ইচ্ছাধীন মনে করতাম। যখন ইমাম খোমেনি অথবা তার কোনো প্রতিনিধির পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশ আসত, যেমন ‘ইসরাইলের সাথে যুদ্ধ করুন’ সেটাকে আমরা নির্দেশ মনে করতাম না, বরং আমাদেরই বিবেচনাধীন মনে করতাম।
৭. খোমেনির মৃত্যুই কি ইরানের সাথে আপনার বিচ্ছেদের শুরু?
উত্তর: আমি বলছি, তখন থেকেই বৈপরীত্য শুরু।
৮. তখন সিরিয়ার অবস্থান কেমন ছিল?
উত্তর: সিরিয়া যখন দেখল যে, ইসরাইল অবশ্যই লেবাননের জলাশয়ে নামবে, তখন সে ইসরাইলকে ঘিরে ফেলার ইচ্ছা করল, কিন্তু লেবাননি সরকার তাকে ‘জাযিন’ এলাকায় সৈন্য পাঠাতে নিষেধ করে দিল, যা তাদের থেকে হাত ছাড়া হয়ে গেছে। যখন দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইল সৈন্য হটে গেল, তখন ‘শাব‘আ’ কৃষি ভূমি চাপের সম্মুখীন হল। হয়তো সিরিয়া চেয়ে ছিল যেভাবে হোক এপ্রিল চুক্তি মোতাবেক সমঝোতা করে নেওয়া, কিন্তু ইরানের চিন্তা ছিল আরেকটি, আমার মনে পড়ে তখন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আমেরিকার ইচ্ছায় চুক্তি করেন এবং হিযবুল্লাহকে যুদ্ধের ময়দান থেকে হটিয়ে দেন।
৯. আমরা দেখছি আপনি ইরাকি শিয়াদের কর্মকাণ্ডে না-খোশ, তাদের লক্ষ্য কি?
উত্তর: ইরাকে শিয়াদের অবস্থা অন্যান্য এলাকার মতই, সেখানে বিবেকের আগে অন্য কিছু তাদেরকে তাড়িত করে। ফিলিস্তিনি কিছু লোকের কর্মকাণ্ডের কারণে দক্ষিণ লেবাননের শিয়া অধ্যুষিত এলাকার লোকেরা ইসরাইলকে ফুল ও শুভেচ্ছা জানিয়ে অভ্যর্থনা দিয়েছে, যারা দু’বছর না যেতেই প্রতিরোধকারী বনে গেছে। এ জন্য আমি বিশ্বাস করি শিয়াদের অবস্থা পরিবর্তনে বেশী সময় লাগবে না। তবে সমস্যা হচ্ছে রাজনৈতিকদের নিয়ে, কারণ রাজনৈতিক অনেক কর্মকাণ্ড ইরান থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, যার সাথে রয়েছে আমেরিকার গভীর সখ্যতা। সেই শিয়া রাজনীতি নির্দেশ করে তোমরা আমেরিকার সরকার মেনে নাও এবং তার সদস্য বনে যাও।
১০. একদিকে আমেরিকার সাথে ইরানের চুক্তি, অপর দিকে পারমানবিক স্থাপনার কারণে ইরানের উপর আমেরিকান চাপের মাঝে কোনো বৈপরীত্য দেখেন কি?
উত্তর: আমরা আমাদেরকে প্রতারিত না করি। আমি বলি: ইরাক যুদ্ধের পূর্বে ইরান-আমেরিকা সমঝোতা হয়েছে এবং তার জন্যে ইসলামি বিপ্লব ইরানের সর্বোচ্চ পরিষদের একটি কমিটি ওয়াশিংটন সফর করেছে। ইরাকে যেসব কর্মকাণ্ড ইরান করছে, সেগুলো আমেরিকার পরিকল্পনা। ইরানের একজন বড় খতিব ইরানের রাজধানীতে জুমার সালাতে বলেন: যদি ইরান না থাকত, তাহলে আমেরিকা আফগানিস্তানের নর্দমায় ডুবে যেত। ইরান আমেরিকার জন্য আফগানিস্তানের পথ সহজ করেছে এবং বর্তমান পর্যন্ত তাদের থাকার বন্দোবস্ত করেছে। আর বাকি রইল ইরানি রাষ্ট্রদূতকে গ্রেফতার করা, কিংবা ইরানের পারমানবিক স্থাপনার ক্ষেত্রের আমেরিকার বিরোধিতা করা, তার মূল কারণ হচ্ছে যেন ইরান আমেরিকার সাথে কৃত শর্তগুলো যথাযথ আদায় করে, এ জন্যই তাকে চাপে রাখা। আফগানিস্তানে আমেরিকান প্রকল্প বাস্তবায়নে শিয়ারা তাদেরকে সহযোগিতা করছে। এ জন্য বিশ্বের শিয়াদের বলছি, তাদের নামে যা প্রচার করা হচ্ছে, তার সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। ইরানের এসব কর্মকাণ্ডের জন্য শিয়া এবং ইসলাম উভয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


হাসান নাসরুল্লাহ ও তার অনুসারীদের থেকে সতর্ক থাকুন
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্যে এবং সালাত ও সালাম নাযিল হোক তার বান্দা ও রাসূল, আমাদের নবী মুহাম্মদের উপর এবং তার পরিবার ও সকল সাথীর উপর। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ وَأَنَّ هَٰذَا صِرَٰطِي مُسۡتَقِيمٗا فَٱتَّبِعُوهُۖ وَلَا تَتَّبِعُواْ ٱلسُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمۡ عَن سَبِيلِهِۦۚ ذَٰلِكُمۡ وَصَّىٰكُم بِهِۦ لَعَلَّكُمۡ تَتَّقُونَ ١٥٣ ﴾ [الانعام: ١٥٣]
“আর এটা তো আমার সোজা পথ, সুতরাং তোমরা তার অনুসরণ কর এবং অন্যান্য পথ অনুসরণ কর না, তাহলে তা তোমাদেরকে তার পথ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিবে। এগুলো তিনি তোমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর”। অন্যত্র তিনি বলেন:
﴿ وَمَن يُشَاقِقِ ٱلرَّسُولَ مِنۢ بَعۡدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ ٱلۡهُدَىٰ وَيَتَّبِعۡ غَيۡرَ سَبِيلِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَ نُوَلِّهِۦ مَا تَوَلَّىٰ وَنُصۡلِهِۦ جَهَنَّمَۖ وَسَآءَتۡ مَصِيرًا ١١٥ ﴾ [النساء : ١١٥]
“আর যে রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে তার জন্য হিদায়েত প্রকাশ পাওয়ার পর এবং মুমিনদের পথের বিপরীত পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে ফেরাবে যেদিকে সে ফিরে এবং তাকে প্রবেশ করাব জাহান্নামে। আর আবাস হিসেবে তা খুবই মন্দ”।
সত্যকে গোপন করে ও সত্যের সাথে বাতিলকে মিশ্রিত করে মানুষকে গোমরাহ করতে আল্লাহ তা‘আলা নিষেধ করেছেন। তিনি ইরশাদ করেন:
﴿ وَلَا تَلۡبِسُواْ ٱلۡحَقَّ بِٱلۡبَٰطِلِ وَتَكۡتُمُواْ ٱلۡحَقَّ وَأَنتُمۡ تَعۡلَمُونَ ٤٢ ﴾ [البقرة: ٤٢]
“আর তোমরা হককে বাতিলের সাথে মিশ্রিত করো না এবং জেনে-বুঝে হককে গোপন করো না”। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন:
«تركت فيكم أمرين لن تضلُّوا ما تمسكتم بهما: كتاب الله وسنة رسوله».
“আমি তোমাদের নিকট দু’টি বস্তু রেখেছি, যাবত তা আঁকড়ে থাকবে গোমরাহ হবে না: আল্লাহর কিতাব ও তার রাসূলের সুন্নত”। তিনি অপর স্থানে বলেন:
«سيأتي على الناس سنوات خداعات يُصدَّق فيها الكاذب ويكذب فيها الصادق ويؤتمن فيها الخائن ويُخوَّن فيها الأمين وينطق فيها الرويبضة» قيل: وما الرويبضة؟ قال: «الرجل التافه يتكلَّم في أمر العامة».
“মানুষের উপর একটি যুগ আসবে ধোঁকায় পরিপূর্ণ, যেখানে সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদী এবং মিথ্যাবাদীকে সত্যবাদী বলা হবে, যাতে খিয়ানতকারীকে আমানতদার আর আমানতদারকে খিয়ানতকারী গণ্য করা হবে। আর তাতে কথা বলবে: ‘রুআইবাদাহ’। বলা হল: ‘রুআইবাদাহ’, তিনি বললেন: ইতর শ্রেণীর লোক, সে জাতীয় বিষয়ে কথা বলবে”। এসব আয়াত ও হাদিস এতটাই স্পষ্ট যে, ব্যাখ্যার কোনো অবকাশ রাখে না।
সাহাবায়ে কেরাম যেভাবে কুরআন ও হাদিস বুঝেছেন, সেভাবে কুরআন ও হাদিসকে আঁকড়ে ধরার তাগিদ বহু আয়াত ও হাদিসে এসেছে। নানাভাবে তার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। কখনো কারো সাথে বন্ধুত্ব ও সম্পর্ক ছিন্নের ক্ষেত্রে কুরআন-হাদিসকে আঁকড়ে থাকার আহ্বান করা হয়েছে। কখনো কুরআন-হাদিস ব্যতীত কারো কথা, কর্ম, মতামত ও বন্ধুত্বকে প্রত্যাখ্যান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সিরিয়ার (শাম) অঞ্চলে ইয়াহূদী ও এক শ্রেণীর লোকের সাথে দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধের নামে যা চলছে, যারা নিজেদেরকে ‘হিযবুল্লাহ’ অথবা ‘ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন’ বলে, এগুলো অবশ্যই ফিতনা ও পরীক্ষার বস্তু, যার মাধ্যমে আল্লাহ মুসলিমদের আকিদা এবং কিতাব ও সুন্নার সাথে তাদের সম্পর্ককে যাচাই করছেন, যার উপর ছিল এ উম্মতের পূর্বসূরি ও তাদের অনুসারীগণ।
এ ফেতনায় অনেকে নিমজ্জিত হয়েছে। তারা ধোঁকা খেয়েছে হাসান নাসরুল্লাহ ও তার অনুসারীদের ইয়াহূদীদের সাথে যুদ্ধের নামে প্রতারণাপূর্ণ বক্তৃতা শ্রবণ করে অথবা তার নাটক দেখে। যারা তাওহীদ, ইসলাম এবং সম্পর্ক রাখা ও ছিন্ন করার নীতি জানে না, জানে-না হাসান নাসরুল্লাহ ও তার দলের আকিদা-বিশ্বাস, তারাই বেশী ধোঁকা খেয়েছে।
রাফেযীদের ফিতনা খুব কঠিন, যার সামর্থ্য আছে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো জরুরি, তাদের মুখোশ উন্মোচন করা ও তাদের প্রকৃত অবস্থা বলে দেওয়া জরুরি। আল্লাহ ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু উপর সন্তুষ্ট হোন, তিনি বলেছেন:
لست بالمخادع ولا يخدعني المخادع
“আমি ধোঁকাবাজ নয়, কোনো ধোঁকাবাজ আমাকে ধোঁকা দিতে পারে না”। ইবনুল কাইয়্যেম রাহিমাহুল্লাহ বলেন:
«فكان عمر  أورع من أن يَخدَع، وأعقل من أن يُخدع»
“ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু মুত্তাকী ও পরহেজগার ছিলেন, এ জন্য তিনি কাউকে ধোঁকা দিতেন না, আর তিনি খুবই বুদ্ধিমান ও হুশিয়ার ছিলেন, এ জন্য তাকে কেউ ধোঁকা দিতে পারত না”।
হলুদ সাংবাদিকতার কারণে অনেক ঘটনাই পাল্টে যায়, মানুষ তার প্রকৃত অবস্থা জানতে পারে না, তাদের মাঝে ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়, যাতে জনসাধারণ ব্যতীত শিক্ষিতরাও আক্রান্ত হয়, বরং দীনদার লোকদেরও তা প্রতারিত করে। আমরা দেখছি জিহাদ ও মুজাহিদ সম্পর্কে সংবাদগুলো কিভাবে পরিবর্তন করা হয়। আমরা দেখছি, যেসব মুজাহিদ অধিকৃত দেশ, আফগানিস্তান ও চেচনিয়ায় যুদ্ধ করছে, তাদেরকে বলা হয় সন্ত্রাসী ও জঙ্গিবাদ। অথচ দক্ষিণ লেবাননে হিযবুল্লাহর নেতৃত্বে পরিচালিত যুদ্ধকে শরয়ী ও বৈধ জিহাদ বলা হচ্ছে। নিশ্চয় এটা অপবাদ, এতে কোনো সন্দেহ নেই। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্যই বলেছেন, যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি, তাতে রয়েছে:
«إن وراءكم سنوات خداعات يصدَّق فيها الكاذب ويكذَّب فيها الصادق ويؤتمن فيها الخائن ويخوَّن فيها الأمين...» الحديث.
“নিশ্চয় তোমাদের পশ্চাতে রয়েছে ধোঁকায় পরিপূর্ণ যুগ, যেখানে সত্যবাদীকে মিথ্যাবাদী এবং মিথ্যাবাদীকে সত্যবাদী বলা হবে। খিয়ানতকারীকে আমানতদার এবং আমানতদারকে খিয়ানতকারী গণ্য করা হবে...”।
হিযবুল্লাহ ও হাসান নাসরুল্লাহ নামে মুসলিমদের উপর যে আপদ ও ফেতনা চেপে বসেছে, তা প্রকাশ করার জন্য কয়েকটি উদাহরণ পেশ করছি:
প্রথম ধাপ:
আমরা পূর্বে যে আয়াত ও হাদিসগুলো উল্লেখ করেছি, তার দাবি হচ্ছে আমরা আমাদের আকিদা, সমঝ, চিন্তা ও গবেষণার কেন্দ্র বানাবো কুরআন ও সুন্নাহকে। কুরআন ও সুন্নাহকে যে আঁকড়ে ধরবে ও তার নুরে পরিচালিত হবে, সে কখনো গোমরাহ হবে না, ডান-বামের ফেতনায় পতিত হবে না।
তাদের অবস্থা দেখে আমাদের অবাক লাগে, যাদের সাথে রয়েছে কুরআন-সুন্নাহ ও সাহাবিদের আমল, তারা কিভাবে তা ত্যাগ করে আবেগ ও প্রবৃত্তি দ্বারা পরিচালিত হয়?!
كالعيسِ في البيداء يقتلها الظما والمـاءُ فوق ظهورها محمولُ
“মরুভূমিতে তৃষ্ণার্ত উটের ন্যায়, পিপাসা যাকে হত্যা করে, অথচ পানি তার পিঠের উপরই রাখা ছিল”।
আমরা নিম্নে কিতাব ও সুন্নাহর আলোকে, তাওহীদ ও শিরকের আলোকে এবং হিদায়েত ও গোমরাহির আলোকে ফেতনা সৃষ্টিকারী হাসান নাসরুল্লাহ ও তার দল সম্পর্কে সামান্য আলোচনা করছি, যাতে আমাদের সামনে হাসান ও তার দলের প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হয়। আসলেই কি সে সত্যের উপর আছে, যা আল্লাহ ও তার রাসূল পছন্দ করেন, কিংবা বাতিলের উপর আছে, যার দিকে শয়তান ও তার দলবল আহ্বান করে?! সাথে সাথে আমরা তার ও তার দলের জিহাদ এবং ইয়াহূদীদের সাথে তাদের শত্রুতার বাস্তবতা সম্পর্কেও জানব... সে আসলেই আল্লাহর রাস্তায়, না তাগুতের রাস্তায়?! আল্লাহ তাওফিক দাতা:
নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা তার নবীকে কুরআনুল কারিম ও স্পষ্ট নুর দ্বারা প্রেরণ করেছেন, যেন মানুষ এক আল্লাহর ইবাদত করে, যার কোনো শরীক নেই। তার ভিত্তিতেই তিনি সম্পর্ক ছিন্ন ও সম্পর্ক রাখার বিধান রচনা করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা এবং তার রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও মুমিনদের সাথে সম্পর্ক দৃঢ় রাখতে হবে; শির্ক ও মুশরিকদের থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। তিনি তাওহীদের দাওয়াত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং শির্ক থেকে সতর্ক করেছেন। এ জন্য তিনি জিহাদের বাজার তৈরি করেছেন, যেন শির্ক না থাকে এবং একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করা হয়।
হিযবুল্লাহ ও হাসান নাসরুল্লাহর দাওয়াত কি কুরআনের দাওয়াত, যার জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার সাহাবিগণ জিহাদ করেছেন?!
এ প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য প্রয়োজন হাসান নাসরুল্লাহ ও তার দলের আকিদা জানা, তাদের সম্পর্ক যাদের সাথে, তাদের মূল উদ্দেশ্য জানাও জরুরি।

কে এই হাসান নাসরুল্লাহ?
হাসান নাসরুল্লাহ ২১ আগস্ট, ১৯৬০ই. সালে লেবাননে জন্ম গ্রহণ করেন। অতঃপর শিয়া জাফরি ধর্ম শেখার জন্য ইরাকের ‘নাজাফ’ সফর করেন। ১৯৮২ই. সালে লেবাননের বেক্কা প্রদেশে ‘হরকতে আমালে’র রাজনৈতিক দায়িত্বশীল ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচন করা হয় তাকে। অতঃপর অল্প দিনের মাথায় ‘হরকতে আমাল’ থেকে পৃথক হয়ে ১৯৮৫ই. সালে হিযবুল্লাহয় যোগদান করেন ও বৈরুতে তার দায়িত্বশীল নির্বাচিত হন। অতঃপর ১৯৮৭ই. সালে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সামরিক শাখার নির্বাহী নির্বাচিত হন। অতঃপর ১৯৯২ই. সালে হিযবুল্লাহর সেক্রেটারি জেনারেল আব্বাস মুসাভিকে অপহরণ করা হলে তিনি পরিপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অতঃপর ১৯৯৩ই. ও ১৯৯৫ই. সালে দু’বার তাকে পুনঃনির্বাচিত করা হয়।
হাসান নাসরুল্লাহর সংক্ষিপ্ত জীবনী থেকে আমাদের সামনে কয়েকটি জিনিস স্পষ্ট হয়, সে শিয়া, রাফেযী ও আহলে সুন্নাহর বিদ্বেষ লালনকারী। তার ধর্ম হচ্ছে জাফরি দ্বাদশ ইমামিয়াহ, ইরানে যে ধর্মের প্রাধান্য রয়েছে। সে তার পক্ষাবলম্বন করে ও তার দিকেই দাওয়াত দেয়। তাই তাকে আরবের খোমেনি বলা হয়। কারণ সে আরবের ভূমিতে রাফেযী রাষ্ট্র কায়েম করার স্বপ্ন দেখে, যেরূপ খোমেনি ইরানে কায়েম করেছে। জাবালে লুবনানের সুন্নী মুফতি বলেন: “হিযবুল্লাহ হচ্ছে আরব রাষ্ট্রে প্রবেশ করার ইরানি রাস্তা”।
আমরা যদি জাফরি দ্বাদশ ইমামিয়া মতবাদ সম্পর্কে না জানি, তাহলে তার সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান অসম্পূর্ণ থাকবে, কারণ এটাই হাসান নাসরুল্লাহর দীন, যার প্রচার ও দাওয়াতের জন্য সে জিহাদ করে।
এ মতবাদের ভিত্তি হচ্ছে শির্ক ও কুফরির উপর, যারা তাদের কিতাব ও হাদিস সম্পর্কে জানে, তাদের নিকট এসব স্পষ্ট। অনুরূপ তাদের ওয়েবসাইট এবং হুসাইনি জশনে-জুলুস ও বাৎসরিক প্রোগ্রামগুলো দেখলে তাদের ব্যাপারে সহজেই সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। তাদের কতক আকিদা ও হাসান নাসরুল্লাহর বিশ্বাস নিম্নে পেশ করছি:
১. জাফরি শিয়া দ্বাদশ ইমামিয়াদের বিশ্বাস তাদের ইমামগণ মাসুম ও নিষ্পাপ। ইমামদের ব্যাপারে তারা বাড়াবাড়ি করে, আল্লাহ ব্যতীত তাদের ইবাদতও করে। হজের নিয়তে তারা ইমামদের কবরে যায়, তওয়াফ করে ও তাদের নিকট ফরিয়াদ তলব করে। তাদের বিশ্বাস ইমামগণ গায়েব জানেন এবং পৃথিবীর প্রতিটি অণু তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন।
২. তারা বিশ্বাস করে, কুরআনে বিকৃতি ঘটেছে, কুরআন অসম্পূর্ণ, প্রকৃত কুরআন তাদের অদৃশ্য ইমাম মাহদির নিকট আছে। তিনি যখন আসবেন, কুরআনও তখন আসবে। বর্তমান তারা আহলে সুন্নাহর কুরআন তিলাওয়াত করছে, তাদের আলেমদের নির্দেশ তারা এটাই তিলাওয়াত করতে থাকবে, যতক্ষণ না তাদের কুরআন বের হয়।
কেউ হয়তো বলতে পারেন: কুরআনে বিকৃতি ঘটেছে, এ কথা তারা স্বীকার করে না। আমরা বলি: এ আকিদা তাদের মৌলিক কিতাবে বিদ্যমান, যেমন কুলাইনি রচিত “আল-কাফি” এবং তাবরাসি রচিত “ফাসলুল খিতাব”। কুলাইনি ও তাবরাসি তাদের ইমাম। যদি তারা কুরআনে বিকৃতির আকিদা অস্বীকার করে, তাহলে তাদের সাথে তারা সম্পর্ক ছিন্ন করুক, যারা বলে কুরআনে বিকৃতি রয়েছে, যেমন এ দু’টি কিতাবের লেখকসহ অন্যান্য শিয়া আলেম। তাদেরকে তারা কাফের বলুক, কিন্তু এটা তারা কখনো বলেনি, বলবেও না!
তারা সাহাবিদেরকে গালমন্দ করে ও কাফের বলে, বিশেষ করে আবু বকর, ওমর ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রীগণ, তাদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা যিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সবচেয়ে বেশী প্রিয়। তারা তাকে কাফের বলে ও তাকে অশ্লীলতার অপবাদ দেয়। আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করুন, তারা কিভাবে এতো মিথ্যা রচনা করে!
৪. তাদের পুরাতন ও নতুন ইতিহাস সাক্ষী তারা ইয়াহূদী, খ্রিস্টানদের পক্ষ নেয়, মুসলিমদের বিরুদ্ধে তাদেরকে সাহায্য করে। মুসলিম দেশে হামলার জন্য তারা যুগে যুগে কাফেরদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছে ও তাদেরকে পথ দেখিয়েছে। আব্বাসি খিলাফতের যুগে বাগদাদে হামলার জন্যে শিয়াদের গুরু ইবনে আলকামি তাতারিদের সাথে যোগাযোগ করেছে ও তাদেরকে আক্রমণ করার জন্য প্ররোচিত করেছে। অনুরূপ বর্তমান যুগে ইরাক ও আফগানিস্তান দখল ও তাতে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে আমেরিকান সৈন্যদের সাথে তারা যা করেছে, তাও কোনো সচেতন লোকের নিকট অস্পষ্ট থাকার বিষয় নয়। তারা এখনো আমেরিকার পক্ষে গোয়েন্দাগিরি করে, তাদের নিরাপত্তা দেয় ও তাদের সাথে নিয়ে আহলে-সুন্নাহকে হত্যা ও গুম করে।
তাদের এ সকল কর্মকাণ্ড এখন আর গোপন নয়, পূর্বে যেরূপ গোপন ছিল। এখন তাদের নিজেদের স্বীকৃতিতে তারা লাঞ্ছিত হচ্ছে, অথবা তাদের গোপন চুক্তিগুলো ফাঁস হওয়ার কারণে, কারণ এতে তাদের তাকিয়্যাহ ও মিথ্যা প্রকাশ পেয়ে যাচ্ছে। দ্বাদশ ইমামিয়া শিয়া রাফেযীদের এসব ঘটনা এখন স্পষ্ট, তাদের সাথেই সম্পৃক্ত হাসান নাসরুল্লাহ ও তার লাঞ্ছিত দল। অতএব এ ব্যক্তি ও তার দলের শ্লোগানে ধোঁকা খাওয়ার কোনো অবকাশ নেই। কখনো সে মুসলিম উম্মার পক্ষে প্রতিরোধ করে না, কখনো সে মুসলিম উম্মার স্বার্থে ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে না, সে কখনো ইয়াহূদী রাষ্ট্রের জন্য হুমকি নয়, সে কখনো আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে না।
এ ব্যক্তি এসব শির্কি আকিদাসহ যদি সুযোগ পায় –আল্লাহ তাকে সে সুযোগ না দিন- সে অবশ্যই রাফেযী ও শিয়া রাষ্ট্র কায়েম করবে, যার ভিত্তি হবে বড় শির্ক, সাহাবিদের গালমন্দ করা, আহলে-সুন্নাহকে কাফের বলা, তাদের ধ্বংস ও নির্মূল করা, বর্তমান ইরাকে যেরূপ হচ্ছে। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন:
كَيۡفَ وَإِن يَظۡهَرُواْ عَلَيۡكُمۡ لَا يَرۡقُبُواْ فِيكُمۡ إِلّٗا وَلَا ذِمَّةٗۚ يُرۡضُونَكُم بِأَفۡوَٰهِهِمۡ وَتَأۡبَىٰ قُلُوبُهُمۡ وَأَكۡثَرُهُمۡ فَٰسِقُونَ ٨ [التوبة: 8].
“কীভাবে থাকবে (মুশরিকদের জন্য অঙ্গীকার)? অথচ তারা যদি তোমাদের উপর জয়ী হয়, তাহলে তারা তোমাদের আত্মীয়তা ও অঙ্গীকারের ব্যাপারে লক্ষ্য রাখে না, তারা তাদের মুখের (কথা) দ্বারা তোমাদেরকে সন্তুষ্ট করে, কিন্তু তাদের অন্তর তা অস্বীকার করে। আর তাদের অধিকাংশ ফাসিক”।
এদত সত্যেও মুসলিমদের অনেক সন্তান আছে, যারা তাদেরকে বিশ্বাস করে, তাদের শরণাপন্ন হয় এবং তাদের বিজয়ের কামনা করে!..
আমরা কখন আমাদের অবচেতনা থেকে হুশিয়ার হব? কখন আমরা সম্পর্ক রাখা ও না-রাখা এবং মহব্বত ও বিদ্বেষের ভিত্তি কুরআনকে বানাবো?! কখন আমরা আবেগী শ্লোগান, মিথ্যা প্রোপাগান্ডা, অপপ্রচার ও অসত্য থেকে মুক্ত হবো?!..

দ্বিতীয় ধাপ:
কেউ বলেন: হাসান নাসরুল্লাহ ও তার দল বর্তমান ইয়াহূদীদের মোকাবেলায় রুখে দাঁড়িয়েছে, যখন সকল রাষ্ট্র ও দল হাত গুটিয়ে নিয়েছে। তারা ইয়াহূদীদের ক্ষতি করছে, যা খোদ ইয়াহূদীরা স্বীকার করে। আমরা কিভাবে তাদের বিরুদ্ধাচরণ করি, অথচ তারা উম্মতে মুসলিমার পক্ষে দুশমনের সাথে লড়াই করছে?! আমরা কি ইয়াহূদীদের ক্ষতিতে খুশি না?!
এটা সংশয়, বরং ফেতনা কোনো সন্দেহ নেই। যারা বাহ্যিক অবস্থা দেখেন, আবেগি হৃদয় নিয়ে ভাবেন এবং হিযবুল্লাহর নীতি, আকিদা ও লক্ষ্য জানেন না, তাদের ব্যতীত কেউ এসব কথায় ধোঁকা খেতে পারে না।
এ সন্দেহ দূরীকরণে একটু ব্যাখ্যা করে বলছি:
প্রথমত: ইয়াহূদীদের যে অনিষ্টই স্পর্শ করুক তাদের ব্যক্তিতে ও সামরিক ঘাটিতে আমরা তাতে খুশি। তবে প্রতারিত হয়ে, ইতিহাস ভুলে ও আবেগে তাড়িত হয়ে এভাবে বলা ঠিক নয়: “যে কেউ ইয়াহূদীদের মারুক, তারা আমাদের ভাই ও বন্ধু”। বরং কে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে, কে তাওহীদ ও সুন্নতকে প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেমন ফিলিস্তিনে আমাদের ভাইয়েরা রয়েছে, তাদেরকে পৃথক করব, তাদের সাথে বন্ধুত্ব ও সখ্যতা গড়ে তুলব, পক্ষান্তরে যে তাওহীদের উপর নেই, তাওহীদ ব্যতীত দ্বিতীয় কোনো লক্ষ্য লালন করে, আমরা তার সাথে বন্ধুত্ব করব না এবং তাকে সাহায্যও করব না। যদিও শত্রুকে মারার কারণে খুশি হব, কারণ শত্রু দুর্বল হচ্ছে, অনুরূপ শত্রুপক্ষ তাকে মারার কারণেও খুশি, যেন শির্ক ও কুফর দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়। আমাদের জবান বলে: হে আল্লাহ তুমি জালেমদেরকে জালেম দ্বারা ধ্বংস কর এবং তাদের মাঝখান থেকে তাওহীদপন্থীদের নিরাপদে বের করে আন। আমরা যখন বলি: রাফেযীদেরকে শত্রু পক্ষ মারলে খুশি হই, তার উদ্দেশ্য তাদের আস্তানা ও ঘাঁটি, সাধারণ মুসলিম, শিশু, নারী ও নিরপরাধ মানুষ কখনো নয়। এতে আমরা দুঃখিত হই, খুশি হই না।
দ্বিতীয়ত: অত্র এলাকায় ষড়যন্ত্র ও প্রতারণার খেলা চলছে, যা খেলছে ইরান ও সিরিয়া। তারা হাসান নাসরুল্লাহ ও তার দলকে সাহায্য করে এবং তারাই হিযবুল্লাহকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঠেলে দেয়। এ ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার মূল কারণ:
১. অত্র এলাকাকে কেন্দ্র করে ইরানের বিরাট পরিকল্পনা ও প্রোগ্রাম রয়েছে, সেই পরিকল্পনাই তারা বাস্তবায়ন করতে চায়। আমেরিকা, সাফাভি (ইরান) ও ইয়াহূদী সম্প্রদায় যখন থেকে ইরাক দখলের পায়তারা করছে, সেই থেকে ইরানের তৎপরতাও দ্রুত বর্ধিত হচ্ছে। কয়েক মাস পূর্বে দামেস্কে ইরান ও সিরিয়ান সামরিক সহায়তার চুক্তি হয়, তার সাথে হিযবুল্লাহ ও ফিলিস্তিনি কয়েকটি গ্রুপ যোগ দেয়। এ দিকে ইরাকের কয়েকটি শিয়া গ্রুপ তাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে। তাদের নতুন চুক্তি ক্যান্সারের ন্যায় বিভিন্ন জায়গায় জড়িয়ে পড়ছে, মুসলিম উম্মাহর উপর যার অনিষ্ট ইয়াহূদীদের থেকেও মারাত্মক। এ পরিকল্পনার পক্ষে মুসলিমদের সমর্থন লাভ ও তাদের এলাকায় দ্রুত তার প্রচারের জন্য ফিলিস্তিনি ঘটনা ব্যতীত উত্তম কোনো ঘটনা নেই। তাই ফিলিস্তিনকে তুরুপের তাস ও খেলনার গুটি বানানো হয়েছে, যার পশ্চাতে রয়েছে ইরানি সাফাভি সম্প্রদায়ের খবিস উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন, যাদের আকিদা ও মূলনীতিসমূহ আমরা ইতিপূর্বে জেনেছি। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আরবি ও ইসলামি বিশ্বে শিয়া সম্প্রদায়ের আধিপত্য বিস্তার করা, যার সূচনা হয়েছে শাম ও ইরাকের উর্বর ভূমি থেকে। অতঃপর ধীরে ধীরে পুরো বিশ্বে তার বিস্তার ঘটানো।
তৃতীয়ত: লেবাননি রাফেযী ও ইয়াহূদীদের মাঝে কেন হঠাৎ ঝগড়া বাঁধলো, তার কয়েকটি ব্যাখ্যা তারা পেশ করে:
১. ইরাকে শিয়াদের ‘সুন্নী মুক্ত আন্দোলন’ তীব্রতর করা, যা বাস্তবায়ন করছে ইরাকি শিয়া মিলিশিয়া। ফিলিস্তিনি অধিবাসীদের বিরুদ্ধে হত্যা, ধ্বংস-যজ্ঞ এবং দক্ষিণ ইরাকে সুন্নিদেরকে নির্বাসনে পাঠানোর আন্দোলন তো চলছেই, যার ফলে ‘বসরা’তে মাত্র ৭% পার্সেন্ট সুন্নী মুসলিম অবশিষ্ট আছে, অথচ কয়েক দশক আগে সেখানে মুসলিমদের আধিক্য ছিল। আমেরিকার ইরাক দখলের সময়ও সেখানে ৪০% পার্সেন্ট সুন্নী মুসলিম ছিল।
এর মাঝে ইরানের প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদের মিথ্যাচারও প্রকাশ পেল, যার বাণী ছিল: “ইসরাইলের অস্তিত্ব নিঃশেষ কর এবং শয়তানে আকবর আমেরিকার সাথে জিহাদ কর”। এ দিকে সত্যিকার মুজাহিদ আহলে-সুন্নাহ আফগানিস্তান, ইরাক ও চেচনিয়ায় যুদ্ধ করে সততার স্বাক্ষর রাখছে। অনুরূপ ফিলিস্তিনি সুন্নী মুজাহিদরা দুনিয়াকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছে যে, ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে একমাত্র তারাই যুদ্ধের ময়দানে আছে। বিশ্বের দৃষ্টিতে হিযবুল্লাহ শুধু একটি নাম সর্বস্ব সংগঠন ছিল, ফিলিস্তিনি আন্দোলনকারী মুজাহিদরা বাহাদুরি প্রদর্শন করে ইসরাইলকে অপমান করেছিল। পক্ষান্তরে হিযবুল্লাহ ইয়াহূদীদের সাথে গোপনে চুক্তি করেছিল, তারা শুধু ইসরাইলের ভাড়াটিয়া গোলাম। অতএব এমন কোনো আমল করা জরুরি ছিল, যা থেকে প্রমাণ হয় যে, হিযবুল্লাহও ইয়াহূদী বিরোধী, তারও প্রয়োজন আছে। এ জন্যই দু’জন ইসরাইলি সৈন্য অপহরণ করার নাটক করল।
২. ইরাকি প্রতিরোধ আন্দোলনকারী সুন্নিরা যখন আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত, তখন ইরান আমেরিকার সাথে সখ্যতা গড়ে তুলছে, হিযবুল্লাহও তাতে যোগ দিচ্ছে। ইরাকি শিয়া মিলিশিয়ায় হিযবুল্লাহ অনুপ্রবেশ করছে ও তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। সবাই ইরাকের আহলে-সুন্নাহকে নিঃশেষ করার চক্রান্তে লিপ্ত, ইত্যাদি বিষয়গুলো প্রকাশ হয়ে পড়েছিল।
৩. সিরিয়া ও লেবাননে শিয়া আক্রমণ নিষ্প্রাণ হয়ে গিয়েছিল, কারণ জনগণের নিকট প্রত্যাখ্যাত ইয়াহূদী ও আমেরিকার সাথে ইরানের সমঝোতা সবাই জেনে গেছে। আরেকটি কারণ ছিল, ইরাকে আমেরিকা-ইরানি স্বার্থে কিছু মতানৈক্য দেখা দিয়েছিল।
ইত্যাদি কারণে খুব জরুরি হয়েছিল এমন কোনো কাজ করা, যার ফলে বিশ্বের দৃষ্টি হিযবুল্লাহর দিকে ধাবিত হয় ও ইরাক-ফিলিস্তিনে সংগঠিত শিয়া নৃশংসতা মানুষ ভুলে যায়। অনুরূপ ফিলিস্তিনে স্বাধীনতা আন্দোলনের সফলতাও মুছে যাক, যাদের সামনে ইসরাইল অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছিল। তাই শিয়া তাবলীগী কাজকে প্রাণ দেওয়ার জন্য এরূপ করা জরুরি ছিল। অপর দিকে আহমাদিনেজাদের চটলাদার শ্লোগান: “ইসরাইল নামক রাষ্ট্র মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা জরুরি” এবং “ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা অপরিহার্য” মানুষ ভুলতে বসেছিল, পুনরায় তাও চালু করা প্রয়োজন দেখা দিল। আবার ইরাকের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থানকারী হিযবুল্লাহর অবস্থাও চাপা দেওয়া প্রয়োজন ছিল। লেবাননের পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়ে আসছিল, সেটাও বিনষ্ট করার প্রয়োজন ছিল, যার হুমকি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট দিয়েছে। এসব কারণেই একটি নাটক খুব জরুরি হয়ে পড়ে, যদিও সেটা লেবাননের বিনিময়ে... সমগ্র লেবানন... যদিও তার খেসারত সরকার ও সাধারণ জনগণ সবাইকে গুনতে হয়, তবুও এ রকম একটা ফিল্ম অবশ্যম্ভাবী ছিল। যদিও এ ফিল্ম ও খেলনা গুটি চালনার কারণে পূর্ণ লেবানন ধ্বংস হয়..!
এ জন্য... এবং এসব উদ্দেশ্য হাসিল করার নিমিত্তে হিযবুল্লাহ ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে তার দুঃসাহসিক ও দুর্দান্ত অপারেশনের মাধ্যমে ফিল্মের আয়োজন করে, কারণ সে ইরানি স্বার্থ বাস্তবায়নকারী তৃতীয় এজেন্ট!..
আমরা কি ইয়াহূদীদের বিরুদ্ধে অপারেশন পরিচালনার বিপক্ষে?!. না, কখনো না। আমরা দখলদার ইয়াহূদী অস্তিত্বে আঘাতকারী প্রত্যেক বিষয়ে খুশি হই, যা তাদেরকে দুর্বল বানায় ও মানুষের অন্তর থেকে তাদের ভীতি দূর করে। কিন্তু ধোঁকা খেতে চাই না, কিংবা চাই না ইয়াহূদীদের পরিবর্তে এমন শক্তি আগমন করুন, যারা ইয়াহূদীদের চেয়েও খারাপ। আমরা চাই না এই ফিল্মের আয়োজকরা ফিলিস্তিন নিয়ে ব্যবসা করুক, যখন বাগদাদে শিয়ারা ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে, তাদের রক্ত প্রবাহিত করছে, তাদের সম্পদ ও সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে...
আমরা কখনো বরদাশত করি না ইরান তার ঘৃণিত উদ্দেশ্যের জন্য সিরিয়া ও লেবাননের নিরাপত্তা বিনাশ করুক। আমরা বরদাশত করি না ইরানের এজেন্ডা বাস্তবায়নে হিযবুল্লাহ উসকানিমূলক কাজ করুক, আর তার বিনিময়ে ইসরাইল লেবাননের জনগণ, শিশু ও নারীদের হত্যা করুক। আমরা বরদাশত করি না নব্য ইরানিরা নিজেদের গায়ে মিথ্যার চাদর উড়াক ‘তারা প্রতিরোধকারী’, কারণ সবার সামনে ও ভর দুপুরে তারা আমেরিকান ও ইয়াহূদী লক্ষ্য বাস্তবায়নে সদা ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। আমরা চাই না, ইরানি শিয়ারা আমাদের পরিবার ও মুসলিম ভাইদেরকে ইরাকে যেভাবে তারা হত্যা করছে, তার থেকে বিশ্ব দৃষ্টি অন্য দিকে ফিরিয়ে নিক। আমরা চাই না এসব ঘৃণ্য কাজের বিনিময়ে ইরান পারমানবিক অস্ত্র তৈরিতে সক্ষম হোক, যা সে কুমতলব হাসিলের জন্য আরব ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করবে, ব্যবহার করবে তাদের দেশ, ঐতিহ্য, সম্পদ ও সম্মানের বিপরীত!..
পুরো ইতিহাস তালাশ করুন, কোথাও পাবেন না শিয়ারা কখনো ইয়াহূদীদের সাথে যুদ্ধে কিংবা তার ময়দানে অবতীর্ণ হয়েছে, অথবা পাবেন না কখনো শয়তানে আকবরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে?! পূর্ণ ইতিহাসে একটি শব্দও পাওয়া যাবে না, যা তাদের দাবির স্বপক্ষে। বরং তার উল্টো পাবেন, যা ইরানকে লাঞ্ছিত করে, তার প্রমাণ তারা ইরাকের যুদ্ধে আমেরিকান ও ইয়াহূদীদের থেকে অস্ত্র আমদানি করেছে, যা ইরানি চাপাবাজদের গালে চপেটাঘাত, “যার নাম ইরানগেট ক্যালেঙ্কারি”। ইরান নব্য শিয়াদের উসকানি দিচ্ছে, সে আমেরিকাকে ইরাকের জনগণের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলছে এবং ইরান আমেরিকাকে ইরাকে দীর্ঘ দিন রাখার জন্য সাহায্য করছে। ইরান হিযবুল্লাহর মাধ্যমে লেবাননের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে, তার শান্তি ও শৃঙ্খলাকে নস্যাৎ করছে। এ ইরান উপসাগরীয় দেশসমূহে উগ্রতার ইন্ধন দিচ্ছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের তিনটি দ্বীপ অন্যায়ভাবে দখল করে আছে। ইরান ফিলিস্তিনিদের আন্দোলনকে খেলনায় পরিণত করে, যখন ইচ্ছা তার দ্বারা সে খেলা শুরু করে, যার খেসারত দিতে হয় আরব ও ইসলামি ভূ-খণ্ডকে!
তৃতীয় ধাপ:
এই শেষ প্যারাতে আমরা আমাদের নফস ও মুসলিমদের থেকে নৈরাশ্য ও ভঙ্গুরতা দূর করতে চাই। পরিস্থিতি যদিও খুব সঙ্গিন ও দুঃখজনক, কিন্তু তা ভোর উদয়ের পূর্বাভাস। কারণ, আমরা দেখছি মুনাফিক ও অপরাধীরা ধীরে ধীরে লাঞ্ছিত হচ্ছে, মুমিনরা তার বিপরীতে সংগঠিত, শক্তিশালী হচ্ছে এবং তাদের সততার প্রমাণ দিচ্ছে। এটাই বাস্তব চিত্র, আল্লাহর সাহায্য অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে এরূপ হয়। কাফেররা ধ্বংস ও মুমিনরা শক্তিশালী হয়। তার আগে পরীক্ষা ও পরিশুদ্ধ করণের মুহূর্তগুলো পার করতে হয়, যেন সত্যিকার মুমিন কাফের ও মুনাফিকদের থেকে পৃথক হয়, আর যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, সেও যেন আলাদা হয়। যে ধ্বংস হতে চায় বুঝে-শুনে ধ্বংস হোক, আর যে জীবিত থাকতে চায় বুঝে-শুনে জীবিত থাক। এটাই বর্তমান দেখা যাচ্ছে, এই বিভাজনের পূর্বে আল্লাহর সাহায্য নাযিল হয় না।
দ্বিতীয় আরেকটি বিষয় আমাদের অন্তরে আশা জাগ্রত করে, অপরাধী ও তাদের ষড়যন্ত্রের ভয় দূরীভূত করে এবং আমাদেরকে তাদের মোকাবেলায় সাহসী করে দেয়, তা হল আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
﴿ إِنَّ ٱلَّذِينَ كَفَرُواْ يُنفِقُونَ أَمۡوَٰلَهُمۡ لِيَصُدُّواْ عَن سَبِيلِ ٱللَّهِۚ فَسَيُنفِقُونَهَا ثُمَّ تَكُونُ عَلَيۡهِمۡ حَسۡرَةٗ ثُمَّ يُغۡلَبُونَۗ وَٱلَّذِينَ كَفَرُوٓاْ إِلَىٰ جَهَنَّمَ يُحۡشَرُونَ ٣٦ ﴾ [الانفال: ٣٦]
“নিশ্চয় যারা কুফরি করেছে, তারা নিজেদের সম্পদসমূহ ব্যয় করে, আল্লাহর রাস্তা হতে বাঁধা প্রদান করার উদ্দেশ্যে। তারা তো তা ব্যয় করবে। অতঃপর এটি তাদের উপর আক্ষেপের কারণ হবে এরপর তারা পরাজিত হবে। আর যারা কুফরি করেছে তাদেরকে জাহান্নামে সমবেত করা হবে”।
এসব ঘটনার দ্বারা ইরান যে হীন স্বার্থ চরিতার্থ ও অত্র এলাকায় রাফেযীদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায়, হতে পারে ফলাফল তার বিপরীত হবে। হয়তবা শেষের শুরুটা তাদের অপরাধী কর্মকাণ্ড ও তাদের সমাপ্তির ঘোষণা হতে পারে। কারণ, আল্লাহর নীতি এটাই যে, সত্য ও তার পরিবার টিকে থাকবে এবং মিথ্যা ও তার পরিবার বিনষ্ট হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ بَلۡ نَقۡذِفُ بِٱلۡحَقِّ عَلَى ٱلۡبَٰطِلِ فَيَدۡمَغُهُۥ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٞۚ وَلَكُمُ ٱلۡوَيۡلُ مِمَّا تَصِفُونَ ١٨ ﴾ [الانبياء: ١٨]
“বরং আমি মিথ্যার উপর সত্য নিক্ষেপ করি, ফলে তা মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং নিমেষেই তা বিলুপ্ত হয়। আর তোমাদের জন্য রয়েছে দুর্ভোগ তোমরা যা বলছ তার জন্য”। অন্যত্র তিনি বলেন:
﴿ كَذَٰلِكَ يَضۡرِبُ ٱللَّهُ ٱلۡحَقَّ وَٱلۡبَٰطِلَۚ فَأَمَّا ٱلزَّبَدُ فَيَذۡهَبُ جُفَآءٗۖ وَأَمَّا مَا يَنفَعُ ٱلنَّاسَ فَيَمۡكُثُ فِي ٱلۡأَرۡضِۚ كَذَٰلِكَ يَضۡرِبُ ٱللَّهُ ٱلۡأَمۡثَالَ ١٧ ﴾ [الرعد: ١٧]
“এমনিভাবে আল্লাহ হক ও বাতিলের দৃষ্টান্ত দেন। অতঃপর ফেনাগুলো নিঃশেষ হয়ে যায়, আর যা মানুষের উপকার করে, তা জমিনে থেকে যায়। এমনিভাবেই আল্লাহ দৃষ্টান্তসমূহ পেশ করে থাকেন”।
আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি, তিনি আমাদেরকে আহলে হক ও তার সাহায্যকারী হওয়ার তাওফিক দিন। মুসলিম উম্মার কাজগুলো শুধরে দিন, যেন তার সাহায্যকারী সম্মানিত হয় ও তার দুশমন বেইজ্জত হয়। এ সমাজে যেন সৎকাজের আদেশ করা হয় ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করা হয়। সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য, যিনি দু’জাহানের প্রতিপালক।
ড. আব্দুল আযীয ইবনে নাসের আল-জুলাইল
তারিখ: ২৯/৬/১৪২৭হি.




ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ফিলিস্তিন জয় করেছেন, যাদের আকিদা ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু-কে লানত করা, তারা কখনো ফিলিস্তিন স্বাধীন করবে না।
বর্তমান মুসলিম উম্মাহ ক্রান্তিকাল ও ব্যাপক যুদ্ধাবস্থা অতিক্রম করছে, ফলে তার শৃঙ্খলা বিনষ্ট করছে ও ঐক্য টুটে যাচ্ছে। তাদের উপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিচ্ছে পাপাচারী কাফেররা, তারা মুমিনদের ব্যাপারে আত্মীয়তা কিংবা চুক্তির কোনো পরোয়া করে না।
ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমি আজ আহত, তার সকাল ও সন্ধ্যা হয় শিশুদের চিৎকার, বন্ধী জীবনের অসহায় ফরিয়াদ, নির্যাতনের আর্তনাদ, সন্তানহারাদের বিলাপ ও ইয়াতিমদের করুন কান্নার তিক্ততার মধ্য দিয়ে।
সকাল-সন্ধ্যায় ফিলিস্তিন আজ প্রত্যক্ষ করছে সারি সারি লাশ, কাঁধের উপর জানাজা, ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘর, সম্মানহানি, আরো অনেক ঘটনা, যা দেখে অন্তর ব্যথিত হয়, হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটে ও শরীর শিউরে উঠে।
দাজলা ও ফুরাত তীরের মাটি খ্রিস্টান ও রাফেযীদের যাঁতাকলে আজ পিষ্ট, আল্লাহর নিকট সে ফরিয়াদ করছে। তার বাড়ি-ঘর ধ্বংস করা হয়েছে, মসজিদগুলো ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে, তার সম্মান ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে, তার জমিনে উড্ডীন হয়েছে খ্রিস্টানদের পতাকা।
এসব ঘটনাপ্রবাহ মুসলিমদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে ও যুদ্ধের জন্য আহ্বান করছে, চিৎকার করে ডাকছে ও সাহায্য তলব করছে। কেউ কি আছ, এ ডাকে সাড়া দিবে?! কেউ কি আছে আহত ও পঙ্গুদের সাহায্য করবে?
أحلَّ الكفر بالإسلام ضيمــاً يطول به على الدين النحيبُ
فـحقٌّ ضـائع وحمى مُبــــاح وسيف قـاطع ودم صبيبُ
وكـم مـن مسلم أمسى سليباً ومسلمة لهـا حـرم سليبُ
وكـم مـن مسجد جعلوه ديراً على محرابه نُصب الصليبُ
أمـور لـو تأمَّلـهنَّ طـفــــل لـثــارَ في مفارقه المشيب
أتُسبى المسلمـات بكلِّ ثغرٍ وعيش المسلمين إذاً يطيب
أمــا لله والإسـلام حـــــق يـدافع عنه شُبانٌ وشيبُ؟
فقل لذوي البصائر حيثُ كانوا أجيبوا الله ويحكمو أجيبوا
১. কুফর ইসলামের মাঝে পেরেক ঢুকিয়েছে, তার দ্বারা সে ইসলামকে ক্ষতবিক্ষত করছে।
২. অধিকার বলতে কিছু নেই, ঘরগুলোও অরক্ষিত; তলোয়ার কেটে চলছে, রক্তও প্রবাহিত হচ্ছে।
৩. হিসেবে নেই কত মুসলিম গুম হয়েছে, আর কত মুসলিম নারীকে অপহরণ করা হয়েছে।
৪. হিসেবে নেই কত মসজিদ গির্জা বনেছে, আর কত মেহরাবে ক্রুশ উঠেছে।
৫. এমনি ভয়াবহ ঘটনা ঘটছে, যদি শিশুও চিন্তা করে তার চুল পেকে যাবে।
৬. এভাবে মুসলিম নারীদের পতিতা বানানো হবে, আর মুসলিম আরামে নিদ্রা যাবে?
৭. মনে রেখ, আল্লাহ ও ইসলামেরও হক আছে, সে হক-কি যুবক-বৃদ্ধ আদায় করবে?
৮. প্রত্যেক বিবেকী ও হুশিয়ার ব্যক্তিকে বলে দাও, আল্লাহর ডাকে সাড়া দাও, আল্লাহর ডাকে সাড়া দাও।
এসব রক্তাক্ত ঘটনা, দুঃখজনক ট্রাজেডি, চলমান বিপর্যয়ের মধ্যে মুসলিমরা বেদনাদায়ক বাস্তবতা থেকে মুক্তির পথ খুঁজছে। কোনো মুক্তিদাতা আছে কি, যে উম্মতকে অপমান ও লাঞ্ছনা থেকে মুক্ত করবে, কোনো নেতা আছে কি, যে অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, শত্রুদের হামলা ও রক্তপাত বন্ধ করবে।
এসব অবস্থায় যখন মুসলিমকে কেউ ডাকে, আবার মুসিবতও তাকে ঘিরে ধরে; তখন সে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে যায়, কে দোস্ত ও দুশমন পৃথক করতে পারে না। যে সম্মানের উপযুক্ত নয় তাকে সম্মান করে, যে সম্মানের উপযুক্ত তাকে সম্মান করে না। অতঃপর যখন অন্ধকার কেটে যায় ও সম্পূর্ণ আলোকিত হয়, তখন আফসোস করে হাতের আঙ্গুল কাটে, কিন্তু সে কাটায় কোনো ফায়দা নেই।
আমরা আহমদ শাওকির কবিতা ভুলব না, সে কামাল আতাতুর্কের প্রশংসায় কবিতা আবৃতি করেছিল, তাকে আঙ্কারার মুকুট ও আলস্য ত্যাগকারী ঘোষণা করেছিল, যে খেলাফত ও রাজত্ব ধ্বংস করেছিল। কামাল যখন গ্রীসের সাথে যুদ্ধের নাটক করেছিল, তখন আহমদ শাওকি তাকে উদ্বুদ্ধ করে বলেছিল:
الله أكبر كم فـي الفتح من عجبِ يـا خالد الترك جدِّد خـالد العربِ
يـومٌ كبدر فخيلُ الحق راقصـة عـلى الصعيد وخيل الله في السحب
“আল্লাহু আকবার, বিজয়ের মধ্যেও অনেক আশ্চর্য বিষয় আছে, হে তুর্কের খালেদ, তুমি আরবের খালেদ ইবন ওয়ালিদ বনে যাও। বদরের দিনের ন্যায় একটি দিন উপহার দাও, কারণ সত্যের ঘোড়াগুলো ময়দানে ছুটোছুটি করছে, আর আল্লাহর ঘোড়াগুলো ময়দানে প্রস্তুত রয়েছে”।
কিন্তু আহমদ শাওকি মাথায় হাত রেখে বসে পড়ল, যখন জানল যে, কামাল খালেদ ইবনে ওয়ালিদের স্মৃতি চারণের পরিবর্তে তুর্ক-আরবদের সম্মান বিনষ্ট করেছে।
এসব ক্ষেত্রে দুঃখজনক হল, মানুষ সবার কথাই শুনে, প্রত্যেক পতিত ব্যক্তিই জাতীয় বিষয়ে কথা বলে, ফলে নিজে গোমরাহ হয় ও অপরকে গোমরাহ করে, বরং যারা প্রকৃত দা‘ঈ, কিতাব ও সুন্নাহর ইলমের অধিকারী মানুষ তাদের নিয়ে উপহাস করে।
ফেতনা যতই বর্ধিত হোক, মানুষের ব্যাপারগুলো যত ঘোলাটে হোক, বাতিলপন্থীদের আস্ফালন যত বৃদ্ধি পাক, আহলে হককে সত্য বলতেই হবে, ধর্মীয় বাণী মানুষকে শুনাতেই হবে; বাতিল, বাতিলের দা‘ঈ ও তার সাহায্যকারী দ্বারা মানুষ যতই প্রভাবিত হোক। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
﴿ وَكَذَٰلِكَ نُفَصِّلُ ٱلۡأٓيَٰتِ وَلِتَسۡتَبِينَ سَبِيلُ ٱلۡمُجۡرِمِينَ ٥٥ ﴾ [الانعام: ٥٥]
“আর এভাবেই আমি আয়াতসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করি। আর যাতে অপরাধীদের পথ স্পষ্ট হয়ে যায়”। অর্থাৎ: আমি আপনাকে তাওহীদের দায়িত্ব, রিসালাতের দায়িত্ব ও আকিদার দায়িত্ব দিয়ে পরীক্ষা করব, যেন মিথ্যা থেকে হক স্পষ্ট হয় এবং বাতিল থেকে হিদায়েত পৃথক হয়। তাই প্রত্যেক দা‘ঈ, ইলম অনুসন্ধিৎসু ও আলেমের দায়িত্ব, মানুষকে তার পানীয় ও খাদ্যস্থান বাতলাতেই হবে।
সন্দেহ নেই, ফিলিস্তিন ও লেবাননে ইয়াহূদীরা যা করছে, তা কোনো শরীয়ত বৈধতা দিতে পারে না, কোনো বিবেক তা সমর্থন করতে পারে না, যার অন্তরে রূহ আছে, সে তার উপর সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে পারে না। তবুও সত্য বলে যেতে হবে, প্রতারক দা‘ঈদের থেকে সতর্ক করতে হবে, যারা হকপন্থী দা‘ঈদের অনুপস্থিতে চটলাদার শ্লোগান দেয়, কিন্তু তারা অন্তরে হিংসা, বিদ্বেষ ও কুফরি গোপন করে, তাদের থেকে সতর্ক করতে হবে।
একটি ভুল ধারণা হল, কেউ যখন রাফেযী ও তাদের অনিষ্ট থেকে সতর্ক করে, তখন মানুষ মনে করে সে ইয়াহূদীদের পক্ষ নিচ্ছে ও তাদের কাতারে দাঁড়াচ্ছে, অথবা তাদের কৃতকর্মের প্রতি সমর্থন দিচ্ছে, যারা [ইয়াহূদীরা] যুদ্ধের সময় নারী-শিশু ও বৃদ্ধদের রেহাই দেয় না। সেও তাদের ন্যায় বৃদ্ধ, নারী ও শিশুদের বিচ্ছিন্ন অঙ্গ ও তাদের রক্ত দেখে বিচলিত হয় না। এটা ভুল ধারণা, কারণ ইসলাম হচ্ছে রহমতের দ্বীন, তার অনুসারী কখনো কোনো দুশমনের সাথে হয়ে নিরপরাধ মানুষ হত্যা করতে পারে না, কিংবা যারা যুদ্ধ করে না তাদের উপর সীমালঙ্ঘন করতে পারে না।
আবু দাউদ রাহিমাহুল্লাহ আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«انطلقوا باسم الله وبالله وعلى ملة رسول الله ولا تقتلوا شيخاً فانياً ولا طفلاً ولا صغيراً ولا امرأة ولا تغلوا وضموا غنائمكم وأصلحوا وأحسنوا إن الله يحب المحسنين».
“আল্লাহর নামে, আল্লাহর তাওফিক চেয়ে এবং তার রাসূলের ধর্মের উপর রওয়ানা কর, কোনো বৃদ্ধকে হত্যা করবে না, কোনো শিশুকে হত্যা করবে না, কোনো নারীকে হত্যা করবে না, খিয়ানত করবে না, তোমরা তোমাদের গণিমতগুলো জমা কর, নিজেদের সংশোধন ও ইহসান কর, নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদের মহব্বত করেন”।
ইমাম আবু দাউদ রাহিমাহুল্লাহ রাবাহ ইবনে রবি‘ সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা কোনো যুদ্ধে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলাম, তিনি দেখলেন লোকেরা একটি ঘটনায় একত্রিত হয়েছে। লোক পাঠিয়ে বললেন:
«انظر علام اجتمع هؤلاء» فجاء فقال: على امرأة قتيل فقال: «ما كانت هذه لتقاتل» قال: وعلى المقدمة خالد بن الوليد، فبعث رجلاً فقال: «قل لخالد لا يقتلن امرأة ولا عسيفاً».
“দেখ, কি জন্য তারা একত্র হয়েছে”? তিনি এসে বলেন: একজন মৃত নারীর উপর, তিনি বললেন: “এই নারী যুদ্ধের জন্য আসেনি”। তিনি বলেন: অগ্রভাগে খালেদ ইবনে ওয়ালিদ ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন ব্যক্তিকে পাঠিয়ে বললেন: “খালেদকে বল, কোনো নারী ও মজদুরকে হত্যা করবে না”।
এ হল উদার ইসলামের শিক্ষা, এ থেকে প্রমাণিত হয় ইসলাম হচ্ছে রহমতের ধর্ম, এমনকি শত্রুর সাথেও। তারা আল্লাহর সাথে কুফরি করে বলেই আমাদের জন্য বৈধ নয় তাদের হত্যা করব, তাদের উপর জুলম করব, অথবা কোনো উপায়ে তাদের উপর সীমালঙ্ঘন করব। অতএব যে আল্লাহ ও তার রাসূলের দুশমন, তার রাস্তা থেকে মানুষদের বিরত রাখে এবং মুমিনদের কষ্ট দেয়, কিন্তু যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করে না, তাকে হত্যা করাও বৈধ নয়।
তাওহীদের আকিদা যারা জানে তাদের উপর ওয়াজিব হিযবুল্লাহ ও শিয়া সম্পর্কে মুসলিম উম্মাহকে সতর্ক করা। বিশেষ করে যখন তাদের দ্বারা সেসব মানুষ ধোঁকা খায়, যারা তাদের আকিদা জানে না; এবং যখন তারা দাবি করে, আমরা ইসলামের সুরক্ষাদানকারী, মুসলিমের পক্ষে প্রতিরোধকারী এবং তাওহীদের আকিদা ও ইসলামের জন্য যুদ্ধ করছি, যেন সত্যের সাথে মিথ্যা মিশে যায়, তখন সতর্ক করা বেশী জরুরি হয়। কারণ, অনেকে তাদের প্রতারণা দ্বারা ধোঁকা খায়, কতক জাহেল তাদের আকিদাকে সহি বলে ও তাদের প্রশংসা করে।
আমাদের এ যুগে সে অকুতোভয় আলেমের কথা স্মরণ করা শ্রেয় হবে, রাফেযীদের পূর্বপুরুষ হাকেম উবাইদির (আল-মুয়িয) সাথে যার তর্ক হয়েছিল। তিনি উবাইদির শ্লোগান, চটলাদার বক্তৃতা ও মিথ্যা আশ্বাসে ধোঁকা খাননি, তিনি সত্য কথা বলেছেন, কোনো লুকোচুরি করেননি, যদিও তার জন্য তাকে জীবন কুরবানি করতে হয়েছে।
হাফেজ ইবনে কাসির রাহিমাহুল্লাহ স্বঘোষিত ফাতেমী হাকেম উবাইদির জীবনীতে বলেন: যখন সে আলেকজান্দ্রিয়ায় অবতরণ করে, মানুষ তাকে দেখতে আসে, তিনি সেখানে বাগ্নিতাপূর্ণ এক বক্তৃতা দেন: তিনি ঘোষণা করেন আমি জালেম ও মজলুমের মাঝে ইনসাফ করব। তিনি নিজেকে ফাতেমী বলে গর্ববোধ করেন। তিনি বলেন: আল্লাহ তা‘আলা তাদের দ্বারা উম্মতের উপর রহম করেছেন, অথচ তার ভেতর-বাহির ছিল রাফেযী আকিদা। যেমনটি কাযী আবু বকর আল-বাকেল্লানি বলেন: তাদের ধর্ম হচ্ছে শুধু কুফরি, তাদের আকিদা হচ্ছে রাফেযী, অনুরূপ তার সরকারের লোক, তার অনুসারী, তার সাহায্যকারী ও তার সাথে বন্ধুত্বকারী সবাই রাফেযী, আল্লাহ তাকে ও তার সাথীদেরকে ধ্বংস করুন।
একদা তার (হাকেম আল-উবাইদী, আল-মুয়েয এর) সামনে ইবাদতগুজার আবু বকর নাবুলসিকে হাজির করা হয়। উবাইদি তাকে বলেন: আপনার সম্পর্কে আমার নিকট সংবাদ এসেছে, আপনি বলেছেন: আমার নিকট যদি দশটি তীর থাকে, তাহলে তার নয়টি দ্বারা রোমের উপর আক্রমণ করব, আর একটি দ্বারা মিসরি তথা উবাইদীদের উপর আক্রমণ করব?
তিনি বলেন: আমি এরূপ বলেনি, তখন সে (মুয়েয) ভাবল তিনি (আবু বকর আন-নাবলুসী) তার কথা থেকে ফিরে গেছেন।
সে বলল: কিভাবে বলেছেন?
তিনি বললেন: আমি বলেছি: তোমাদেরকে নয়টি নিক্ষেপ করা উচিত, অতঃপর দশমটি তাদেরকে নিক্ষেপ কর উচিত, সে বলল: কেন?
তিনি বললেন: কারণ, তোমরা উম্মতের দীনকে পরিবর্তন করেছে, নেককার লোকদের হত্যা করেছ, আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিয়েছ, যা তোমাদের অধিকার নয় তাই তোমরা দাবি করেছ”।
একথা শোনার পর সে (মুয়েয) তাকে (আবুবকর নাবলুসীকে) প্রথম দিন মানুষের সামনে উপস্থিত করার নির্দেশ দিল, অতঃপর দ্বিতীয় দিন কঠিন বেত্রাঘাত করা হল, অতঃপর তৃতীয় দিন তার চামড়া ছিলে ফেলার নির্দেশ দিল। একজন ইয়াহূদীকে নিয়ে আসা হল, সে তার চামড়া ছিলছে আর তিনি কুরআন তিলাওয়াত করছেন: ইয়াহূদী বলেন, তার উপর আমার দয়া চলে আসল, তাই যখন তার কলব বরাবর পৌঁছলাম, ছুরি দিয়ে আঘাত করে মেরে ফেললাম। আল্লাহ তাঁর উপর রহম করুন।
সেখান থেকে তাকে শহীদ বলা হয়, আর তার দিকেই সম্পৃক্ত করা হয় আজ পর্যন্ত নাবুলসের বনু শহীদকে। এখনো তাদের মাঝে কল্যাণ বিদ্যমান।
ফিলিস্তিন জয় করেছে ওমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু, যারা আকিদা ও দীন হিসেবে ওমরকে লানত করে, দ্বিতীয়বার তাদের হাতে ফিলিস্তিন মুক্ত হবে তা কখনো সম্ভব নয়।
আমি বলছি: কখনো না।
ফিলিস্তিনি ও অন্যান্য অধিকৃত মুসলিম ভূমি, একমাত্র ওমরের অনুসারীরাই মুক্ত করবে। যারা তার নামে রাদিয়াল্লাহু আনহু বলে, তার হিদায়েতের অনুসন্ধান করে ও তার অনুসরণ করে।
কিন্তু যারা সাহাবিদের শত্রু এবং যারা ওমরকে লানত করে, আল্লাহর কসম তারা উম্মতে মুসলিমার ধ্বংস ও অনিষ্টই বৃদ্ধি করবে, তাদের থেকে হতাশা ও লাঞ্ছনা ব্যতীত কিছুই আশা করা যায় না। যখন তাদের কর্তৃত্ব হাসিল হবে, তারা উম্মতকে গোস্বার দাঁত দেখাবে, উম্মতের রক্তে তারা তাদের হিংসা ও বিদ্বেষের আগুন নিভাবে, তাদের জমিনকে হালাল মনে করবে, তাদের ইজ্জতকে বিনষ্ট করবে এবং তাদেরকে তাদের বাড়ি-ঘর থেকে বের করবে। এখন যেরূপ ইরাক ও ইরানে হচ্ছে।
তখন ঘুমন্তরা জাগ্রত হবে, অলসরা লজ্জিত হবে, কিন্তু সময় শেষ হওয়ার পর।
অতএব যে তাওহীদের আকিদা জানে, ‘মুমিনদের সাথে বন্ধুত্ব করা ও কাফেরদের সাথে শত্রুতা করা’ আল্লাহর নির্দেশের উপর যার ঈমান রয়েছে, সে যেন অবশ্যই হিযবুল্লাহ থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করে, তাদের কথা ও নেতৃত্ব থেকে ধোঁকা না খায়। বাতিলপন্থীরা তাদের যতই গুণকীর্তন করুক। ইমাম আবু বকর নাবুলসি উবাইদিকে যেরূপ বলেছে, সেরূপ যেন রাফেযী হিযবুল্লাহকে বলে দেয়: আমাদের দায়িত্ব লাতের দলকে (হিযবুল্লাহকে) নয়টি তীর মারব, আর দশম তীরটি মারব ইয়াহূদীদেরকে।
ড. মুহাম্মদ আল-বারাক


[এখানে মূল কিতাবে কিছু প্রামান্য চিত্র ও দলীল রয়েছে তা দেখানো সম্ভব হলো না, প্রয়োজনে মূলগ্রন্থ থেকে দেখে নেওয়ার অনুরোধ রইল। (সম্পাদক)]

পরিসমাপ্তি
এ সংক্ষিপ্ত কিতাবে ‘হিযবুল্লাহ’ সম্পর্কে আমি যা জমা করার ইচ্ছা করেছি, তা এখানে পেশ করলাম। আশা করছি, যে হিদায়েত চায়, এতে তার জন্য হিদায়েত রয়েছে। আমি যদি লেখনীর কলমকে ঢিল দিতাম, তাহলে অবশ্যই আরো দীর্ঘ হত। তাদের গোমরাহি ও প্রতারণা আরো অন্তর্ভুক্ত হত, তবে আমি যা উল্লেখ করেছি, এগুলোই যথেষ্ট হবে অনুল্লেখ বিষয়ের জন্য। যে আরো অধিক ইচ্ছা করে, তার উচিত অন্যান্য লেখকদের কিতাব পড়া, তার অধিকাংশ ইন্টারনেটে আছে।
আমি তাকেই বলছি, যে সত্য চায় এবং যার অন্তর কল্যাণের দিকে ধাবিত হয়।
আর যে হিযবুল্লাহর বাস্তব অবস্থা থেকে চোখ বন্ধ করে নেয়, শুধু ইয়াহূদীদের সাথে তার যুদ্ধের দিকটাই দেখে, তার বিজয়ে হাতে তালি দেয় ও তার মুখে তার প্রশংসা করে, আমি তাকে বলব: হে অমুক, তুমি ইয়াহূদী রাষ্ট্র খতমের দোয়া করে ইসলাম ও মুসলিমের জন্য তার চেয়ে অধিক ভয়ঙ্কর রাষ্ট্রের জন্য দোয়া করছ।
وآخر دعواي أن الحمد لله رب العالمين، وصلّى الله وسلَّم على محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

রাফেযী দ্বাদশ ইমামী শিয়াদের আকীদা বিশ্বাস ও তাদের কালো ইতিহাস ও অধ্যায় সম্পর্কে জানতে হলে আরও পড়ুন:
1- حقيقة المقاومة؛ المؤلف عبدالمنعم شفيق.
2- خيانات الشيعة وأثرها في هزائم الأمة الإسلامية؛ المؤلف عماد حسين.
3- أثر الحركات الباطنية في عرقلة الجهاد ضد الصليبيين؛ المؤلف يوسف الشيخ عيد.
4- وجاء دور المجوس؛ المؤلف عبدالله الغريب.
5- (أمل) والمخيمات الفلسطينية؛ المؤلف عبدالله الغريب.
6- أحوال أهل السُّنة في إيران؛ المؤلف عبدالله الغريب.
7- الخميني والوجه الآخر؛ المؤلف زيد العيص.
8- الاعتداءات الباطنية على المقدسات الإسلامية؛ المؤلف كامل الدقس.
9- بروتوكولات آيات قم حول الحرمين؛ المؤلف عبدالله الغفاري.
10- الصفويون والدولة العثمانية؛ المؤلف علوي عطرجي.
11- الخمينية وريثة الحركات الحاقدة؛ المؤلف وليد الأعظمي.
12- حتى لا ننخدع؛ المؤلف عبدالله الموصلي.

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.