নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি বাপু নিরীহ নিপাট ভদ্দরলোক

জাহিদ অনিক

ভালোবাসি কবি ও কবিতাকে

জাহিদ অনিক › বিস্তারিত পোস্টঃ

একজন গোপালভাঁড় বিজ্ঞানী, জর্জ গ্যামো।

১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ সকাল ৯:৫৫



বিজ্ঞানী জর্জ গ্যামোর কথা আমরা খুব অল্পই জানি।

১৯০৪ সালের ৪ মার্চ জন্ম নেন এই রাশিয়ান বিজ্ঞানী। জন্মেছিলেন নীলস বোরদের সময়েই । সমসাময়িক বিজ্ঞানী হলেও অতটা খ্যাতি তিনি পাননি। শখের বসেই গবেষণা করেছিলেন নীলস বোরের সাথে।
বিজ্ঞান সমাজ এই বিজ্ঞানীকে ডাকেন গোপালভাঁড় বিজ্ঞানী বলেই। ইনি বিজ্ঞানকে নিয়ে গেছিলেন হাস্যরসের পর্যায়ে।


শুরুতে ইনি একবার কসমোলজি নিয়ে একটা পেপার জমা দিতে চেয়েছিলেন। তিনি মূলত বিগ ব্যাং নিয়েই একটা পেপার জমা দিতে চেয়েছিলেন। অবশ্য তিনি বিগ ব্যাং শব্দটা কোথাও উচ্চারণ না করলেও ধারনা করা হয় তিনি বিগ ব্যাং নিয়েই গবেষণা করছিলেন। তার সাথে সহযোগী ছিলেন তারই ছাত্র আলফার।

নিজের নাম গ্যামো আর ছাত্রের নাম আলফার । উনি যেহেতু রসিক মানুষ তাই নিজেদের নাম থেকে খুঁজতে থাকলেন তার গবেষণা পেপারের না। নিজের ও ছাত্রের নাম থেকে তিনি পেয়ে গেলেন আলফা আর গামা , বাকী রইল বিটা। তিনি ঠিক করলেন তার পেপারের নাম দিতে হবে “আলফা বিটা গামা পেপার”।

সেজন্য তিনি ভাবলেন তাদের এমন একজন বিজ্ঞানী দরকার যার নাম তাদের নামের সাথে মিল রেখে হতে হবে অর্থাৎ নাম হতে হবে “বিটা” বা বিটা জাতীয় কিছু। তাহলেই তাদের পেপারের নাম "আলফা বিটা গামা পেপার" রাখতে আর কোন সমস্যাই রইবে না।


মজার কথা হল, খুঁজে খুঁজে পেয়েও গেলেন অপর বিজ্ঞানীকে, যার নাম হ্যান্স বেনথার । ব্যাস হয়ে গেল। বেনথার নাম থেকেই তিনি নিয়ে নিলেন “বিটা” অংশটি । বেনথার কে কিছু না জানিয়েই পেপারে তার নাম দিয়ে সাবমিট করে দিলেন বিখ্যাত “আলফা বিটা গামা পেপার”।

পরবর্তীতে অবশ্য বেনথার জেনেছিলেন যে তার নাম তাকে না জানিয়েই যুক্ত করে দিয়েছিলেন পাগলা বিজ্ঞানী গ্যামো ।


এরপরে বিজ্ঞান মহলে তার খ্যাতি কিছুটা বেড়েছে। একবার রাশিয়া থেকে ভ্রমণের সুযোগ পান মার্কিন নগর ঘুরে দেখার। তিনি যে ক’দিনের ভিসা নিয়ে গেছিলেন সে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও তিনি আমেরিকা ছেড়ে আসতে চান নি। তার নাকি আমেরিকা খুব ভাল-লেগেছিল। পরে অবশ্য জোর করেই তাকে দেশে ফিরিয়ে নেয়া হয় ।


দেশে ফিরে দেখলেন, তার ছাত্র আলফার তার অধীনেই পি এইচ ডি করার আবেদন করেছেন । তিনি তো মহা আনন্দে ছাত্রের আবদার রক্ষা করে দিলেন । ওদিকে বিপদে পড়ল ব্যাটা আলফার। এক পাগলাটে অধ্যাপকের অধীনে গবেষণা করছেন বলে তাকে কেউই তেমন গুরুত্ব দিত না । সবাই বলত পাগলা অধ্যাপকের অধীনে পিএইচডি করছে আর এক পাগল ।
এমনকি তার পিএইচডি ডিগ্রী নিয়েও অনেকে হাসি তামাশা করত ।


এই পাগলাটে মজার বিজ্ঞানী গ্যামো একবার হিসেব করে বের করেছিলেন যে আমাদের গ্রহ থেকে ঈশ্বরের দূরত্ব মাত্র ৯০ আলোকবর্ষ !

কেননা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির এক পাদ্রী ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা করেছিলেন দেশে যেন শান্তি আসে । সেই যুদ্ধের ৯০ বছর পরে দেশে শান্তি ফিরে এসেছিল।

মানে পাদ্রীর করা প্রার্থনা যদি আলোর বেগেও ঈশ্বরের নিকট পৌছায় তবে তাতে সময় লেগেছিল ৯০ বছর এবং প্রার্থনা ঈশ্বরের নিকট পৌঁছানোর পরপরেই হয়ত ঈশ্বর ঐ দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছিলেন !


এখানেই শেষ না । এই গোপালভাঁড় বিজ্ঞানী গ্যামো বাচ্চাদের জন্যও লিখেছেন শিশুতোষ বিজ্ঞান কল্প-কাহিনী । তার এমন এক কল্প-কাহিনীতে তিনি এমন এক গ্রহের কথা লিখছিলেন যে গ্রহে সাধারণ বাই-সাইকেলের বেগ আলোর বেগের থেকে বেশী ! ফলে সেখানকার মানুষ ইচ্ছে করলেই সাইকেল চালিয়ে আলোর বেগকে কাটিয়ে সময়ের অতীতে বা সময়ের সামনে যেতে পারত ! অর্থাৎ সাইকেল চালিয়েই সেই গ্রহের মানুষেরা টাইম ট্রাভেল করে ফেলতে পারত।

যাকে নিয়ে এতক্ষণ ধরে বকবক করলাম সেই পাগলাটে , গোপালভাঁড় বিজ্ঞানী জর্জ গ্যামোর মৃত্যু বার্ষিকী আজ ১৯ই আগস্ট।


@জাহিদ অনিক,
১৯শে আগষ্ট, ২০১৬

@তথ্য সূত্র:
১) শূন্য থেকে মহাবিশ্ব: অভিজিৎ রায়
২) উইকিপিডিয়া

মন্তব্য ৩৪ টি রেটিং +৬/-০

মন্তব্য (৩৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ সকাল ১০:১৭

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: হিহি হাহা!

১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ দুপুর ২:৪৩

জাহিদ অনিক বলেছেন: নিজে এক পাগল আসছে আরেক পাগলা বিজ্ঞানীর জীবনীতে হা হা হি হি করতে ! B-)

২| ১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ সকাল ১০:৩৬

রানার ব্লগ বলেছেন: বিজ্ঞানীরা একটু পাগলাটে হয়ই। তাদের এই খ্যাপাটে আচারনের কারনেই তারা আলাদা।

১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ দুপুর ২:৫৬

জাহিদ অনিক বলেছেন: রানার ব্লগ , ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য । আমরা সবাই কম বেশি পাগল একটু আধটু ।

৩| ১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ সকাল ১০:৪৩

আহা রুবন বলেছেন: বেশ মজা দিলেন অনিক ভাই =p~

১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ দুপুর ২:৫৭

জাহিদ অনিক বলেছেন: রুবন ভাই । আহা । অনেক দিন পরে আপনাকে ব্লগে পেলাম। কেমন আছেন ? ভাল আশা করি।

৪| ১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ দুপুর ১২:০২

শাহাদাৎ হোসাইন (সত্যের ছায়া) বলেছেন: বিজ্ঞানীরা কোন কিছু আবিস্কারের সময় অনেক কর্ম সাধিত করেন। তার মধ্যে কিছু মজার কর্মও থাকে।

১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ দুপুর ২:৫৯

জাহিদ অনিক বলেছেন: তার মধ্যে কিছু মজার কর্মও থাকে। আসলে শুধু বৈজ্ঞানিক না, সব ধরনের আবিষ্কারের মধ্যেই মজার কর্ম থাকে ।

ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা শাহাদাৎ ভাই।

৫| ১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ দুপুর ১:১১

শাহরিয়ার কবীর বলেছেন: হুমম,পড়লাম .......













(ফিরছি )

১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ বিকাল ৩:০০

জাহিদ অনিক বলেছেন: বিজ্ঞাপন বিরতি এখনো শেষ হয় নাই ? B-)

৬| ১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ বিকাল ৫:০৮

উম্মে সায়মা বলেছেন: আসলেই গোপালভাঁড় =p~

১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ বিকাল ৫:২৬

জাহিদ অনিক বলেছেন: B-) কেমন আছেন সায়মা আপু ? অনেকদিন পরেই দেখলাম মনে হয় !
আপনার পিঁপড়াদের নিয়ে আর গল্প হল না ?

৭| ১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ বিকাল ৫:৪১

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: গোপাল ভাঁড় বিজ্ঞানী জর্জ গ্যামোর মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ধন্যবাদ ভাই জাহিদ অনিক।

১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ বিকাল ৫:৫৯

জাহিদ অনিক বলেছেন: অসংখ্য ধন্যবাদ আবুহেনা ভাই। সুস্থ্য থাকুন, ভাল থাকুন নিরন্তর।

৮| ১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৫৮

শাহরিয়ার কবীর বলেছেন: আমাদের কবি ভাই গোপাল ভাড়ঁকে নিয়ে লিখেছেন দারুন তো !!! :P

১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ রাত ১০:০৪

জাহিদ অনিক বলেছেন: :-B :-B :-B

৯| ১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ রাত ১০:২৫

আহমেদ জী এস বলেছেন: জাহিদ অনিক ,



বিগ ব্যাং নিয়ে গ্যামোর গেম প্লে ভালো লাগলো ।

অবশ্য তিনি বিগ ব্যাংয়ের মূল প্রবক্তা । কোয়ান্টাম টানেলিং থিয়রীও তাঁরই আবিষ্কার । রসিক জন , সন্দেহ নেই ।

১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ রাত ১০:৪৬

জাহিদ অনিক বলেছেন: ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জী এস ভাইয়া। আপনার মন্তব্য বেশ ভাল লাগলো।

১০| ১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ রাত ১১:০১

শাহরিয়ার কবীর বলেছেন: এই বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণ তত্ত্বটা আমার মাথায় ডুকে না !! তবে হাবলের নীতিটা ভালো লাগে !! এই মহাবিস্ফোরণের পর থেকে তো স্থান, কাল,সময় শুরু অবাক করার একটা মত বিষয় !!

১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ রাত ১১:৩১

জাহিদ অনিক বলেছেন: আসেন হাবল টেলিস্কোপ চোখে লাগিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকি তারা দেখি আর কবিতা পড়ি।


১১| ১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ রাত ১১:৪২

আখেনাটেন বলেছেন: জানা হল অনেক কিছু।

১৯ শে আগস্ট, ২০১৭ রাত ১১:৪৭

জাহিদ অনিক বলেছেন: ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা আখেনাটেন। ভাল থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।

১২| ২০ শে আগস্ট, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৩৭

চাঁদগাজী বলেছেন:


তিনি বড় মাপের বিজ্ঞানী ছিলেন, মনে হয়; রাশিয়ান সমাজে অনেক ফানী লেখক ছিলেন, তিনি বিজ্ঞানকে আনন্দদায়ক করতে চেয়েছিলেন।

২১ শে আগস্ট, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৪৪

জাহিদ অনিক বলেছেন: রাশিয়ানদের রুশ রস বাঙালীদের কাছে বিখ্যাত।
ধন্যবাদ। শুভ সন্ধ্যা।

১৩| ২১ শে আগস্ট, ২০১৭ বিকাল ৪:০৬

উম্মে সায়মা বলেছেন: আমি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি ভাইয়া। আপনিও ভালো আছেন আশা করি। একটু ব্যস্ততায় দিন কাটছে তাই ব্লগে বেশি সময় দিতে পারছিনা।

২১ শে আগস্ট, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৪৫

জাহিদ অনিক বলেছেন: ব্যস্ততায় থাকা বেশ ভাল । ব্যস্ততাই জীবন। জ্বি আমিও ভাল আছি।
শুভ সন্ধ্যা সায়মা আপু।

১৪| ২১ শে আগস্ট, ২০১৭ বিকাল ৪:২৩

শ্রোডিঙ্গার বলেছেন: মি. গ্যামোর মত বিজ্ঞানীরা কিন্তু অনেক বেশি পড়াশুনা করে। অনেক বেশি জানে আমাদের চেয়ে।

২১ শে আগস্ট, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:৪৬

জাহিদ অনিক বলেছেন: তারা আমাদের থেকে অনেক বেশি জানেন আর আমরা তাঁদেরকে জানি ।

১৫| ২৪ শে আগস্ট, ২০১৭ রাত ৮:৪১

সোহানী বলেছেন: বিষয়টা জানা ছিল না। ভালোলাগলো জেনে....

২৪ শে আগস্ট, ২০১৭ রাত ৮:৪৪

জাহিদ অনিক বলেছেন: ধন্যবাদ :-B

১৬| ২৬ শে আগস্ট, ২০১৭ বিকাল ৫:৩৭

সুখী মানুষ বলেছেন: :) মজা'তো!

২৬ শে আগস্ট, ২০১৭ বিকাল ৫:৪৭

জাহিদ অনিক বলেছেন: ধন্যবাদ সুখী মানুষ ।

১৭| ২৬ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ৩:১৩

চঞ্চল হরিণী বলেছেন: এই পোস্ট আমি হঠাৎ কোত্থেকে পেলাম জানি না। কিন্তু পড়ে খুব মজা পেয়েছি এবং জেনেছি অনেক কিছু। ধন্যবাদ জাহিদ অনিক ভাই :)

২৯ শে জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:৩৬

জাহিদ অনিক বলেছেন:

শুভেচ্ছা চঞ্চল হরিণী

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.