নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নাভদ

আমি সেই দিন হব শান্ত...

নাভদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

২০০১ সালের নির্যাতন গণধর্ষণের মামলায় ১১ জনের যাবজ্জীবন

০৪ ঠা মে, ২০১১ দুপুর ২:৫৪

সিরাজগঞ্জে পূর্ণিমা ধর্ষণ মামলার রায়ে ১১ জনের যাবজ্জীবন-জরিমানা

জেলা প্রতিনিধি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম











সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার চাঞ্চল্যকর পূর্ণিমা ধর্ষণ মামলার রায়ে ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত।



এছাড়া প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। এ টাকা বাদী পূর্ণিমা পাবেন।



সিরাজগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিষয়ক আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ ওসমান হায়দার বুধবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে এ রায় ঘোষণা করেন।



সাজাপ্রাপ্তরা হলেন আব্দুল জলিল (৪০), আলতাফ হোসেন (৩৫), আব্দুল মমিন (২৮), আলতাফ (২৮), জহুরুল ইসলাম (২৮), হোসেন আলী (২৮), লিটন মিয়া (২৮), ইয়াসিন আলী (৩৭), আব্দুর রউফ (৩০), আব্দুল মিয়া (২৮), বাবলু মিয়া (২৮)।



১১ জনের মধ্যে ৫ জন পলাতক এবং বাকিরা জেল-হাজতে রয়েছেন।



পলাতকরা হলেন আব্দুল মমিন, আলতাফ, জহুরুল, আব্দুল মিয়া ও বাবলু মিয়া।



মামলার নথি থেকে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার জের ধরে ২০০১ সালের ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় উল্লিখিত আসামিরা সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ব দেলুয়া গ্রামের পূর্ণিমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার বাবা-মা-ভাইকে বেধড়ক মারপিট করে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।



পরে পূর্ণিমাকে জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে হাটখোলার পাশে একটি কচুক্ষেতে ফেলে দিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়।



এ ঘটনায় পূর্ণিমার বাবা অনীল চন্দ্র শীল বাদী হয়ে ১৬ জনের বিরুদ্ধে উল্লাপাড়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।



পুলিশ তদন্ত শেষে ১৭ জনের নামে অভিযোগ পত্র দাখিল করে।



দীর্ঘ দিনের বিচার কাজ শেষে বুধবার আদালত ১১ জনকে যাবজ্জীবন এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৬ জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।



পূর্ণিমার বাবা মামলার বাদী হলেও তার মৃত্যুর পর পূর্ণিমা নিজেই মামলাটির বাদী হন।



বাংলাদেশ সময়: ১৩৪৮ ঘণ্টা, মে ০৪, ২০১১



======================================



পূর্ণিমা গণধর্ষণ মামলায় ১১ জনের যাবজ্জীবন



সিরাজগঞ্জ, ৪ মে (শীর্ষ নিউজ ডটকম): দেশব্যাপী আলোচিত সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার পূর্ণিমা রাণী শীল ধর্ষণ ও নির্যাতন মামলার রায় দেয়া হয়েছে। রায়ে ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ- ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের কারাদ- দেয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ পূর্ণিমাকে দেবার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ওসমান হায়দার আজ বুধবার দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।



দ-প্রাপ্তরা হলেন- আব্দুল জলিল, আলতাব, আব্দুর রউফ, হোসেন আলী, লিটন, ইয়াসিন আলী, মোমিম, আব্দুল মিঞা, আলতাব (২), জহুরুল ইসলাম ও বাবলু। এর মধ্যে প্রথম ৬ জন জেলহাজতে রয়েছে। বাকিরা পলাতক।



এর আগে মামলার ৩ জন তদন্ত কর্মকর্তা ও ১ জন চিকিৎসকসহ ১২ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। আসামি পক্ষে সাবেক পিপি এডভোকেট শামসুল হক এবং বাদিপক্ষে সিনিয়র এডভোকেট জাহিদ হোসেন, নারী ও শিশু আদালতের বিশেষ পিপি শেখ আবদুল হামিদ লাভলু, এপিপি কায়সার আহমেদ লিটন, আনোয়ার পারভেজ লিমন মামলাটি পরিচালনা করেন।



২০০১ সালের অক্টোবরে নির্বাচনের পর পাশবিক নির্যাতের শিকার হয়েছিলো পূর্ণিমা। এ ঘটনায় ওই সময় দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সে সময় এ নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে গোটা দেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। পূর্ণিমার বাবা অনীল চন্দ্র শীল ২০০১ সালের ৯ অক্টোবর উল্লাপাড়া থানায় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। কিন্তু সে সময় স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রভাবে মামলাটি ভিন্নখাতে চলে যায়। পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এটি আবার গতি ফিরে পায়। উল্লাপাড়া থানা পুলিশ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদান করে।



(শীর্ষ নিউজ ডটকম/ প্রতিনিধি/ এআই/সস/ ১৩.০০ঘ)



======================================

২০০১ সালের নির্যাতন: গণধর্ষণের মামলায় ১১ জনের যাবজ্জীবন



সিরাজগঞ্জ, মে ০৪ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- ২০০১ সালের নির্বাচনের পর সিরাজগঞ্জের এক স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণের দায়ে ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে।



সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক ওসমান হায়দার বুধবার এ দণ্ডাদেশ দেন।



আসামিদের মধ্যে পাঁচ জন পলাতক। অন্য ছয় জনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।



২০০১ সালে নির্বাচনের পর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘু ও ভিন্ন রাজনৈতিক মতের মানুষের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়, তারই অংশ হিসেবে নির্যাতনের শিকার হয় অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী পূর্ণিমা।



ওই ঘটনায় গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন কয়েকদিন আগেই তাদের প্রতিবেদন দিয়েছে। নির্যাতনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতার মদদ ছিলো বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।



==========================



2001 violence on Hindus: 11 get life for raping schoolgirl



Sirajganj, May 4 (bdnews24.com)—A Sirajganj court has handed down life term to 11 people for gang-raping a female school student during the post-elections violence in 2001.



Judge Osman Haider of Sirajganj Woman and Child Repression (Prevention) Tribunal delivered the verdict.



Five of the convicts are on the run while six were present in the dock when the judgment was announced.



Grade-8 student 'Purnima' was one of the Hindus who had been victim of the violent repression the BNP and its allies reportedly unleashed on the minorities and political rivals immediately on winning the Oct 1 national elections.



A judicial inquiry into the attacks said several top BNP and Jamaat-e-Islami leaders had directly incited the grisly attacks.



The report was submitted to the government last month.



bdnews24.com/corr/bd/1319h

=================================



পূর্ণিমা ধর্ষণ মামলায় ১১ জনের যাবজ্জীবন





সিরাজগঞ্জ, ০৪ মে (আরটিএনএন ডটনেট)-- ২০০১ সালে নির্বাচন পরবর্তীতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময় নির্যাতনের শিকার বহুল আলোচিত উল্লাপাড়ার পূর্ণিমা রানী ধর্ষণ মামলার রায়ে অভিযুক্ত ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা বাদীকে দেয়া হবে।



বুধবার দুপুরে ৬ জন আসামির উপস্থিতিতে সিরাজগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ওসমান হায়দার এ রায় ঘোষণা করেন।



দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- তছির আলীর ছেলে আব্দুল জলিল (৪০), ফজল আলীর ছেলে আলতাফ হোসেন (৩৫), সেতল আলীর ছেলে আব্দুল মোমিন (২৮), লালচানের ছেলে আলতাফ হোসেন (২) (২৮), জিল্লার আলীর ছেলে জহুরুল ইসলাম (২৮), রহমত আলীর ছেলে হোসেন আলী (২৮), তছির উদ্দিনের ছেলে লিটন সেখ (২৮), দিদার আলীর ছেলে ইয়াছিন আলী (৩৭), নেজাবত আলীর আব্দুর রউফ (৪০), আজগর আলীর ছেলে আব্দুল মিয়া (২৮), নেজাবত উদ্দিনের ছেলে বাবলু মিয়া (২৮)।



এদের মধ্যে আব্দুল মোমিন, আলতাফ (২), জহুরুল ইসলাম, আব্দুল মিয়া ও বাবলু মিয়া পলাতক রয়েছেন। ভিকটিম ও দণ্ডপ্রাপ্তরা সকলেই উল্লাপাড়া উপজেলা বড়হর ইউপির পুর্বদেলুয়া গ্রামের বাসিন্দা।



প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জয়লাভের পর ৮ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী পূর্ণিমা রানীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে। এ ঘটনায় পূর্ণিমার বাবা অনিল শীল ১০ অক্টোবর প্রথমে উল্লাপাড়া থানায় ১৭ জনের নামে মামলা করেন।



কিন্তু সকল আসামি তৎকালীন সরকারদলীয় নেতা-কর্মী হওয়ায় পুলিশ মামলা নিয়ে নানা টাল-বাহানা করে। পরে ২৪ অক্টোবর পুর্ণিমা রানী শীল নিজে বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জের আমলি আদালতে ১৬ জনের নামে মামলা দায়ের করেন। এরপর আদালতের আদেশে পুলিশ পূর্ণিমাকে নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষা করায়।



এরপর উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেখ আতাউর রহমান, ইসরার শামীম দেওয়ান ও উপ-পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম মামলার তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ৯ মে আদালতে ১৭ জনকে আসামি করে চার্জশিট দেন।



পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মামলার বর্ধিত তদন্তের আদেশ দেয়া হয়। এ আদেশ পেয়ে সিআইডির তৎকালীন ইন্সপেক্টর শেখ শহীদুল্লাহ সম্পূরক চার্জশিট প্রদান করে। এতে মূল আসামিদের রেখে পূর্ণিমাকে সহায়তাকারী আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি (বর্তমান প্রয়াত) আব্দুল লতিফ মির্জা, আব্দুর রহমান, পৌর মেয়র মারুফ বিন হাবীবসহ ৬ জনকে আসামির তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়। তবে মামলার বাদী পূর্ণিমার বাবা অনিল শীল এ সম্পূরক চার্জশিটের বিষয়ে আদালতে নারাজি পিটিশন দাখিল করেন।



এমনই অনেক আইনি লড়াই শেষে ২০০৭ সালের নভেম্বরে মামলা মূল ধারায় ফিরে আসে। বাতিল হয়ে যায় সম্পূরক চার্জশিট। এর মধ্যে মূল আসামিরা জামিন নিয়ে পালিয়ে যায়।



বিচারিক আদালত থেকে ৬ এজাহারভুক্ত আসামির অব্যাহতি দেয়া হয়। মামলা চলাকালে ৩ তদন্ত কর্মকর্তা, একজন চিকিৎসকসহ মোট ১২জন আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।



রায় ঘোষণার পর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান রানা, স্পেশাল ট্র্যাইব্যুনালের পিপি আব্দুল হামিদ লাভলু জানান, ঘোষিত রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত জোট বিশেষ ধর্মের অনুসারীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েছিল এ রায়ে তা প্রমাণ হলো।



এ বিষয়ে বিবাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেটড শামসুল আলম জানান, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

মন্তব্য ৯ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৯) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা মে, ২০১১ রাত ৯:৩৬

নাভদ বলেছেন: Eleven sentenced to life for Bangladesh gang rape


BBC

A court in Bangladesh has sentenced 11 people to life imprisonment for gang raping a female school student during post-election violence in 2001.

A judge in the town of Sirajganj delivered the verdicts on Wednesday.

Six of those convicted were in court to hear their sentences, but five are still on the run and were convicted and sentenced in their absence.

The court heard that the victim was a Hindu. There were several attacks at the time against religious minorities.

A judicial commission in April concluded that more than 200 Hindu women had been raped following the 2001 parliamentary election. It was won by the Bangladesh Nationalist Party (BNP) and its Jamaat-e-Islami allies.

Both parties have steadfastly denied any link to the rapes.

Many terrorised Hindu families were forced to flee Muslim-majority Bangladesh at the time to India, the commission said.

All of those convicted on Wednesday were members of the BNP, which is now in opposition.

২| ০৫ ই মে, ২০১১ রাত ১:১৩

নাভদ বলেছেন:
11 jailed for life for rape of Sirajganj schoolgirl




These six criminals along with five absconding others get life term yesterday for gang raping schoolgirl Purnima Rani Shil in Ullapara upazila of Sirajganj district on October 8, 2001.

Photo: STAROur Correspondent, Sirajganj


A court here yesterday sentenced 11 people to life-term imprisonment for violating schoolgirl Purnima Rani Shil in 2001.

District Women and Children Repression Prevention Tribunal judge Osman Haidar pronounced the verdict in the afternoon.

The court also fined Tk 1 lakh each for compensation to the victim's family.

Six accused were present at the court during the verdict while the other five remained absconding since filing of the case.

The convicts who were present are Abdul Jalil, Altaf Hossain (1), Hossain Ali, Abdur Rauf, Yeasin Ali and Liton Sheikh, all hailing from East Delua village.

According to the prosecution, the convicts took Purnima Rani Shil, a schoolgirl of the same village, forcibly to a lonely place and gangraped her on October 8, 2001.

The criminals also beat up the family members of Purnima as they protested the incident.

Later, Anil Chandra Shil, father of the victim, filed a case accusing 17 people with Ullahpara police station in this connection.

In Kurigram, police on Monday arrested Hafizul Islam Hapu, 24, son of Abdul Wahed of Kuti Payaradanga village under Nageswari municipality on charge of raping a teen-age girl.

Police said, Hazera Begum, 19, daughter of Abdus Sattar was living in his house at Kuti Payaradanga for the last few months due to a quarrel with her in-laws at Pateswari.

One Sunday while she was going to purchase kerosene oil from a shop about 300 metres far from her father's house, Hapu took her to a lonely place by force and raped her.

On Monday night, she along with her mother came to Nageswari police station and filed a case against Hapu and police arrested him the same night.

৩| ০৫ ই মে, ২০১১ রাত ১:১৫

নাভদ বলেছেন:
পূর্ণিমা ধর্ষণ মামলায় ১১ জনের যাবজ্জীবন

লেখক: সিরাজগঞ্জ সংবাদদাতা | ইত্তেফাক | বুধ, ৪ মে ২০১১, ২১ বৈশাখ ১৪১৮

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতা গ্রহণের পর নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় গণধর্ষণের শিকার ও দেশের বহুল আলোচিত সিরাজগঞ্জের উল্ল­াপাড়ার পূর্ণিমা রাণী ধর্ষণ মামলার রায়ে অভিযুক্ত ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা বাদিকে দেয়া হবে।

গতকাল বুধবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ওসমান হায়দার চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলো- আব্দুল জলিল (৪০), আলতাফ হোসেন (৩৫), আব্দুল মোমিন (২৮), আলতাফ হোসেন (২) (২৮), জহুরুল ইসলাম (২৮), হোসেন আলী (২৮), লিটন সেখ (২৮), ইয়াছিন আলী (৩৭), আব্দুর রউফ (৪০), আব্দুল মিয়া (২৮) ও বাবলু মিয়া (২৮)। এদের মধ্যে আব্দুল মোমিন, আলতাফ (২), জহুরুল ইসলাম, আব্দুল মিয়া ও বাবলু মিয়া পলাতক রয়েছে।

রায় ঘোষণার পর পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান রানা ও স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের পিপি আব্দুল হামিদ লাভলু জানান, ঘোষিত রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি- জামায়াত জোট দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের উপর যে নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েছিল এ রায়ের মধ্য দিয়ে তাই প্রমাণিত হলো।

বাদি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট জাহিদ হাসান, এপিপি আনোয়ার পারভেজ লিমন ও কায়সার আহমেদ লিটন।

এ বিষয়ে বিবাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শামসুল আলম জানান, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ৮ অক্টোবর সিরাজগঞ্জের উল্ল­াপাড়ার সংখ্যালঘু পরিবারের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী পূর্ণিমা রাণীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় পূর্ণিমার বাবা অনিল শীল ১০ অক্টোবর প্রথমে উল্ল­াপাড়া থানায় ১৭ জনের নামে মামলা করেন। কিন্তু সকল আসামি বিএনপি দলীয় নেতা-কর্মী হওয়ায় পুলিশ মামলা নিয়ে নানা টালবাহানা করে। পরে ২৪ অক্টোবর পূর্ণিমা রাণী শীল নিজে বাদি হয়ে সিরাজগঞ্জের আমলি আদালতে ১৬ জনের নামে মামলা করেন। এরপর আদালতের আদেশে পুলিশ পূর্ণিমাকে নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে মেডিক্যাল পরীক্ষা করায়। মেডিক্যাল রিপোর্টে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর উল্লাপাড়া থানায় মামলার তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ৯ মে আদালতে ১৭ জনকে আসামি করে চার্জশিট প্রদান করে।

কিন্তু মামলার শুনানি চলাকালে তত্কালীন জোট সরকারের এমপি এম. আকবর আলী মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা করেন। ফলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মামলার বর্ধিত তদন্তের আদেশ দেয়া হয়। এ আদেশ পেয়ে সিআইডি’র তত্কালীন ইন্সপেক্টর শেখ শহীদুল্ল­াহ সম্পূূরক চার্জশীট প্রদান করেন। এতে মূল আসামিদের রেখে পূর্ণিমাকে সহায়তাকারী আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি (বর্তমান প্রয়াত) আব্দুল লতিফ মির্জা, অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান, পৌর মেয়র মারুফ বিন হাবীবসহ ৬ জনকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে মামলার বাদি পূর্ণিমার বাবা অনিল শীল এ সম্পূরক চার্জশিটের বিষয়ে আদালতে নারাজি পিটিশন দাখিল করেন। এমনই অনেক আইনি লড়াই শেষে ২০০৭ সালের নভেম্বরে মামলা মূল ধারায় ফিরে আসে। বাতিল হয়ে যায় সম্পূরক চার্জশিট। এর মধ্যে মূল আসামিরা জামিন নিয়ে পালিয়ে যায়। বিচারিক আদালত থেকে ৬ এজাহারভুক্ত আসামিকে অব্যাহতি দেয়া হয়। মামলা চলাকালে ৩ তদন্ত কর্মকর্তা, ১ জন চিকিত্সকসহ মোট ১২ জন আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।

৪| ০৫ ই মে, ২০১১ রাত ১:১৭

নাভদ বলেছেন:
কালের কন্ঠ

১১ আসামির যাবজ্জীবন : সিরাজগঞ্জে বহুল আলোচিত পূর্ণিমা ধর্ষণ মামলার রায়



জোট সরকারের আমলে দেশজুড়ে চাঞ্চল্যকর এবং বহুল আলোচিত পূর্ণিমা রানী শীল ধর্ষণ মামলার রায়ে ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ এবং প্রত্যেককে নগদ এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অর্থদণ্ডের পুরো টাকা ক্ষতিগ্রস্ত পূর্ণিমা রানী শীলকে দেওয়ার জন্য এ রায়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিচারক ওসমান হায়দার জনাকীর্ণ আদালতে এ দণ্ডাদেশ ঘোষণা করেন। এ সময় আসামির কাঠগড়ায় ছয়জন আসামি উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত অপর পাঁচ আসামি পলাতক। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছে উল্লাপাড়া উপজেলার পূর্ব দেলুয়া গ্রামের আবদুল জলিল, আলতাফ হোসেন (১), হোসেন আলী, আবদুর রউফ, মো. লিটন ও ইয়াসিন আলী। এ ছাড়া দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিরা হলো একই গ্রামের বাবলু মিয়া, আবদুল মিয়া, জহুরুল ইসলাম, আলতাফ হোসেন (২) ও আবদুল মোমিন। দীর্ঘ ১০ বছর পর চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় প্রদান করা হলো। পাঁচজন বিচারক পরিবর্তন শেষে বুধবার ষষ্ঠ বিচারক হিসেবে ওসমান হায়দার এ রায় দেন।

মামলার অভিযোগ

২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর হয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় পূর্ণিমা ও তাঁর পরিবার চারদলীয় জোট সরকারের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিরাগভাজন হয়। এরই জের ধরে ২০০১ সালের ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় চারদলীয় জোট সমর্থিত নেতা-কর্মীরা দলবেঁধে পূর্ণিমার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা পূর্ণিমা, তাঁর বাবা অনিল চন্দ্র শীল, মা বাসনা রানী শীল, ভাই অর্জুন শীল ও গোপাল শীলের ওপর হামলা চালিয়ে মারাত্মক জখম করে। নিরাপত্তার কথা ভেবে ওই দিন রাতেই পূর্ণিমা তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে মামার বাড়ির উদ্দেশে রওনা করেন। কিন্তু বাড়ি থেকে সামান্য কিছুদূর যেতেই আসামিরা তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা পূর্ণিমাকে ধরে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। রাতেই পূর্ণিমার বাবা ও পূর্ণিমাকে উল্লাপাড়া পূর্ণিমাগাতী স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্ েভর্তি করা হয়। পরদিন বাবা অনিল চন্দ্র শীল বাদী হয়ে উল্লাপাড়া থানায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন।

জোট সরকারের তৎপরতা

উল্লাপাড়া থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্ত শেষে পুলিশ ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে ২০০২ সালের ২ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। মামলাটি আদালতে বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ২০০২ সালের ২৭ মে তৎকালীন উল্লাপাড়া সংসদীয় আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য এম আকবর আলী মামলাটির পুনঃ তদন্তের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, চার্জশিটভুক্ত আসামিরা প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের প্রতিহিংসার শিকার। রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করতে পূর্ণিমা রানী শীলকে বাদী সাজিয়ে মিথ্যা কাহিনীর অবতারণা করে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার কোনো সত্যতা পাননি। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মামলাটি পুনঃ তদন্তের জন্য সিআইডি পুলিশকে দায়িত্ব দেয়।

আওয়ামী লীগ নেতারা হলেন ধর্ষণ মামলার আসামি

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পূর্ণিমা ধর্ষণ মামলার পুনঃ তদন্ত শেষে সিআইডি পুলিশের তৎকালীন ইন্সপেক্টর মো. শহিদুল্লা একটি সম্পূরক চার্জশিট জমা দেন। এতে পুলিশের দেওয়া চার্জশিটে অভিযুক্ত ১৭ জনের পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের ছয় নেতাকে অভিযুক্ত করে একটি সম্পূরক চার্জশিট দেওয়া হয়। এতে নতুনভাবে অভিযুক্ত করা হয় জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ মির্জা, উল্লাপাড়া আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য গাজী শফিকুল ইসলাম শফি, জেলা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান, উল্লাপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট মারুফ বিন হাবিব, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম পুন্নু ও কৃষক লীগ নেতা খোরশেদ আলমকে। কিন্তু আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকাকালে দ্বিতীয় দফায় দেওয়া সম্পূরক চার্জশিটের গ্রহণযোগ্যতার শুনানি শেষে আদালত তা অগ্রাহ্য করে পুলিশের দেওয়া চার্জশিটটি আমলে নিয়ে বিচারকার্যক্রম শুরু করেন। এ মামলার তিনজন তদন্তকারী কর্মকর্তা, একজন চিকিৎসক, মামলার ভিকটিম পূর্ণিমাসহ ১৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। মামলার চার্জ গঠনকালে আদালত ১৭ জন চার্জশিটভুক্ত আসামির মধ্যে ছয়জনকে অব্যাহতি দিয়ে বাকি ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট গঠন করেন।

পূর্ণিমার অনুভূতি

দীর্ঘ ১০ বছর পর বিচারের রায় পাওয়ায় পূর্ণিমা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি জানান, এ রায় তাঁর বাবা অনিল চন্দ্র শীল দেখে যেতে পারলেন না। মামলার রায় ঘোষণার পর তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তাঁর পরিবার প্রতিপক্ষের দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। নিরাপত্তাজনিত কারণে রায় ঘোষণার দিন তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রতিক্রিয়া

আদালতের রায় ঘোষণার পর জেলা জজ আদালতের পিপি আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আবদুর রহমান জানান, বিগত জোট সরকার আমলে কিভাবে নির্যাতন চালানো হয়েছে, পূর্ণিমা ধর্ষণ মামলা এরই প্রমাণ। এই রায়ের দ্বারা জোট সরকার আমলে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন করার ঘটনা প্রমাণিত হয়েছে। এ সময় অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ লাভলু, অ্যাডভোকেট বিমল কুমার দাস, অ্যাডভোকেট গোলাম হায়দার, অ্যাডভোকেট জাহিদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

৫| ০৫ ই মে, ২০১১ রাত ১:২০

নাভদ বলেছেন:
সেই পূর্ণিমা ধর্ষণ মামলা ॥ ১১ জনের যাবজ্জীবন

ঘটনাটি '০১ নির্বাচন পরবর্তী বিএনপির সংখ্যালঘু নির্যাতনের একটি দৃষ্টান্ত

বাবু ইসলাম, সিরাজগঞ্জ ॥ দীর্ঘ ১০ বছর পর বিএনপি-জামায়াত জোটের নির্যাতনের শিকার দেশব্যাপী বহুল আলোচিত উল্লাপাড়ার পূর্ণিমা রানী ধর্ষণ মামলার রায় হয়েছে। সিরাজগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ওসমান হায়দার বুধবার দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় প্রদান করেন। মামলার রায়ে অভিযুক্ত ১১ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- দেয়া হয়। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার এই টাকা পূর্ণিমাকে প্রদানেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে রায়ে। এ সময় দ-প্রাপ্তদের মধ্যে ৬ জন কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ছিল। ৫ জন ছিল অনুপস্থিত। রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষ ছিল নীরব নিস্তব্ধ। বিচারক রায় পাঠ করে এজলাস ত্যাগ করার সঙ্গে সঙ্গে আদালতের পরিবেশ পাল্টে যায়। দ-প্রাপ্ত আসামি ও তার পরিজনের কান্নার রোল পড়ে। পূর্ণিমার পরিবার এই রায়ে সনত্মোষ প্রকাশ করেছে। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে পূর্ণিমা অভিমত ব্যক্ত করেছে। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত জোট দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের ওপর যে নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হয়েছিল এ রায়ের মধ্য দিয়েই তা প্রমাণিত হলো।

দ-প্রাপ্ত আসামিরা হলো- আব্দুল জলিল (৪০), আলতাফ হোসেন আব্দুল মোমিন, জহুরম্নল ইসলাম হোসেন আলী, লিটন সেখ ইয়াছিন আলী আব্দুর রউফ আব্দুল মিয়া (২৮), বাবলু মিয়া ও আলতাফ হোসেন, আব্দুল মোমিন, আলতাফ (২), জহুরম্নল ইসলাম, আব্দুল মিয়া ও বাবলু মিয়া। এদের মধ্যে ৫ জন পলাতক রয়েছে। দ-প্রাপ্তরা সকলেই উলস্নাপাড়া উপজেলার বড়হর ইউনিয়নের পূর্বদেলুয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং বিএনপি দলীয় স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী। মামলা চলাকালে ৩ তদনত্ম কর্মকর্তা, ১জন চিকিৎসকসহ মোট ১২জন আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।

দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর পর ২০১০ সালের মার্চ মাসে সিরাজগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবু্যনালে এজাহারভুক্ত ১৭ জন আসামির মধ্যে ১১ জনের বিচার শুরম্ন হয়। বাকি ৬ জনকে এর আগে বিচারিক আদালত থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ২০১০ সালের ১৬ মার্চ পূর্ণিমা রানী সিরাজগঞ্জে এসে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক ওসমান হায়দারের কাছে তার জবানবন্দী প্রদান করে। জবানবন্দীতে পূর্ণিমা রানী মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের নাম উলেস্নখ করে কিভাবে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে অকথ্যভাবে নির্যাতন করা হয়েছে তার বিসত্মারিত বর্ণনা দেয়। তবে মামলা চলাকালে আদালত থেকে ৬ আসামিকে অব্যাহতি দেয়ায় পূর্ণিমা অসনত্মোষ প্রকাশ করে।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় জোট সরকারের নেতাকর্মীরা আনন্দ উলস্নাসের অংশ হিসেবে সিরাজগঞ্জের উলস্নাপাড়ার পূর্বদেলুয়া গ্রামের সংখ্যালঘু পরিবারের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী পূর্ণিমা রানীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করে। এ নিয়ে প্রথমে পূর্ণিমার বাবা অনীল চন্দ্র শীল ১০ অক্টোবর উলস্নাপাড়া থানায় মামলা করে। আসামি করা হয় ১৭ জনকে। কিন্তু সকল আসামি বিএনপি দলীয় নেতাকর্মী হওয়ায় পুলিশ মামলা নিয়ে নানা তালবাহানা করে। পরে ২৪ অক্টোবর পূর্ণিমা রানী বাদী হয়ে সিরাজগঞ্জের প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭/৯ (১)/১০(১)/৩০ ধারায় মামলা করে। এর পরে আদালতের আদেশে পুলিশ পূর্ণিমাকে নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে মেডিক্যাল পরীক্ষা করায়। মেডিক্যাল রিপোর্টে ধর্ষণের ভয়ঙ্কর চিত্র ফুটে ওঠে। উলস্নাপাড়া থানা পুলিশ মামলার তদনত্ম শেষে ২০০২ সালের ৯ এপ্রিল আদালতে ১৭ জনকে আসামি করে চার্জশীট প্রদান করে। কিন্তু মামলা শুনানি চলাকালে তৎকালীন জোট সরকারের এমপি আকবর আলী মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা করে। আদালতের নথিপত্রের চেহারাও পাল্টে দেয়ার অপকৌশল করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মামলার বর্ধিত তদনত্মের আদেশ দেয়া হয়। এ আদেশ পেয়ে সিআইডির তৎকালীন ইন্সপেক্টর শেখ শহীদুলস্নাহ সম্পূূরক চার্জশীট প্রদান করে। এতে মূল আসামিদের রেখে পূর্ণিমাকে সহায়তাকারী আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি (বর্তমান প্রয়াত) আব্দুল লতিফ মির্জা, এ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান, তৎকালীন পৌর মেয়র মারম্নফ বিন হাবীবসহ ৬ জনকে আসামির অনত্মভর্ুক্ত করা হয়। তবে মামলার বাদী পূর্ণিমার বাবা অনিল শীল এই সম্পূরক চার্জশীটে না রাজি পিটিশন দাখিল করে। এমনই অনেক আইনী লড়াই শেষে ২০০৭ সালের নবেম্বরে মামলা মূল ধারায় ফিরে আসে। বাতিল হয়ে যায় সম্পূরক চার্জশীট। মূল আসামিরা জামিন নিয়ে পালিয়ে যায়। বিচারিক আদালত থেকে ৬ এজাহারভুক্ত আসামির অব্যাহতি দেয়া হয়।
বুধবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবু্যনালের বিচারক ওসমান হায়দার জনাকীর্ণ আদালতে চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় প্রদান করেন। রায়ে অভিযুক্ত ১১ জনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদ- দেয়া হয়। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার এই টাকা পূর্ণিমাকে প্রদানেরও নির্দেশ দেয়া হয়েছে রায়ে। রায় ঘোষণার পর টেলিফোনে মামলার বাদী পূর্ণিমা আবেগাপস্নুত ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘ ১০ বছর পরে হলেও আদালতে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে রায় ঘোষণার পর জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট কেএম হোসেন আলী হাসান, শহর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক দামিউল হক দামি ও শহর আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সম্পাদক আহসারউল কবির দুলাল পৃথক পৃথকভাবে তাঁদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে প্রায় অভিন্ন সুরে বলেছেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও আদালতের রায়ে দোষীরা শাসত্মি পেয়েছে এবং এজন্য তাঁরা সবাই সন্তুষ্ট।

পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান রানা, স্পেশাল ট্রাইবু্যনালের পিপি আব্দুল হামিদ লাভলু জানান, ঘোষিত রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত জোট দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের ওপর যে নির্যাতন-নিপীড়ন চালানো হয়েছিল এ রায়ের মধ্য দিয়েই তা প্রমাণিত হলো।

এ বিষয়ে বিবাদী পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট শামসুল আলম জানান, এ রায়ের
বিরম্নদ্ধে উচ্চ আদালতে আপীল করা হবে।

মামলায় সরকার পক্ষে জেলা জজ আদালতের পিপি আব্দুর রহমান রানা, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবু্যনালের বিশেষ পিপি শেখ আব্দুল হামিদ লাবলু, এপিপি কায়সার আহমেদ লিটন, আনোয়ার পারভেজ লিমন, সিনিয়র আইনজীবী জাহিদ হোসেন, আসামি পক্ষে শামসুল হক ও শামসুল আলম এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে সরকার নিয়োজিত গোলাম হায়দার মামলা পরিচালনা করেন। এদিকে পূর্ণিমা রানী ধর্ষণ মামলার ঘোষিত রায়ে প্রতিক্রিয়ায় ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে এদেশে যে নারকীয় নির্যাতন চালিয়েছিল আদালতের রায়ের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হয়েছে। তাদের উলঙ্গ চেহারা উন্মোচিত হয়েছে। বিএনপি আমলে এ মামলা নিয়ে অনেক নাটকীয় ঘটনা হয়েছে। তাদের আমলে বিচার হয়নি। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে আদালতের রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

৬| ০৫ ই মে, ২০১১ রাত ২:০০

নাভদ বলেছেন:


জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছে বাদীর পরিবার:: পূর্ণিমা ধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ৬ আসামি


সমকাল (বৃহস্পতিবার | ৫ মে ২০১১ | ২২ বৈশাখ ১৪১৮ | ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩২)


সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার পূর্ণিমা ধর্ষণ মামলার রায়ে ১১ জনকে যাবজ্জীবন

কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। আদালত সাজাপ্রাপ্তদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন। জরিমানার অর্থ আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত পূর্ণিমাকে দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ৫ জন পলাতক। সিরাজগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিচারক ওসমান হায়দার গতকাল বুধবার দুপুরে এক জনাকীর্ণ পরিবেশে এ রায় ঘোষণা করেন। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে মামলা পরিচালনায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ১৩ সাক্ষীর সাক্ষ্য নেয়। রায় ঘোষণার সময় আদালতে পূর্ণিমা বা তার পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। তবে পূর্ণিমা ও তার মা রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সমকালের কাছে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। মোবাইল ফোনে তারা বলেন, ধর্ষকদের যাবজ্জীবন না হয়ে ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল। পাশাপাশি তারা নিজেদের নিরাপত্তা দাবি করেছেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের পরিবারের লোকজন বলেন, তারা ন্যায়বিচার পাননি। রায়ে দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বাবলু মিয়া, আবদুল মিয়া, জহুরুল ইসলাম, আলতাফ হোসেন, আবদুল মমিন, আবদুল জলিল আলতাফ, হোসেন আলী, আবদুর রউফ, ইয়াসিন আলী ও লিটন মিয়া। তাদের মধ্যে মমিন, আলতাফ, জহুরুল, রউফ, আবদুল মিয়া ও বাবলু পলাতক।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে পোলিং এজেন্ট হওয়ায় একই বছরের ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় উল্লাপাড়ায় পূর্ণিমার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। আসামিরা পূর্ণিমার বাবা, মা ও ভাইকে বেধড়ক মারধর করে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। পরে পূর্ণিমাকে পাশের একটি কচুক্ষেতে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় পূর্ণিমার বাবা বাদী হয়ে ঘটনার ২ দিন পর ১০ অক্টোবর উল্লাপাড়া থানায় ১৬ জনকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১৭ জনের নামে চার্জশিট দেন। দীর্ঘ শুনানির পর আদালত ১১ জনকে অভিযুক্ত করেন। পূর্ণিমার বাবার মৃত্যুর পর পূর্ণিমা নিজেই মামলার বাদী হন।

প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে পূর্ণিমা সমকালকে বলেন, 'ধর্ষকদের ফাঁসি হলে ভালো হতো।' বিশেষ করে মামলার ১ নম্বর আসামি আবদুল জলিল ও ২ নম্বর আসামি আলতাফের ফাঁসির পক্ষে পূর্ণিমা। দেশের প্রত্যেকটি মানুষ, সাংবাদিক, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন, আইনজীবী, প্রশাসন, বিচারক ও সরকারের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন পূর্ণিমা। তিনি বলেন, দেশের কোনো নারী যেন এ ধরনের অবস্থার শিকার না হন। আর হলেও তাদের বিচার পেতে যেন ১০ বছর সময় না লাগে। পূর্ণিমা বলেন, আমি গরিব ঘরের সন্তান। স্রোতে ও নদীর পাঁকে পড়ে আছি। সবসময় আতঙ্ক তাড়া করায় স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব হয় না। সরকারের কাছে যথাযথ নিরাপত্তার ব্যবস্থার দাবি জানান এই নির্যাতিতা। পূর্ণিমার মা সমকালকে বলেন, 'কমপক্ষে দু'জনের ফাঁসির আশা করেছিলাম, তা হয়নি। এমনকি আমার সাক্ষ্য নেওয়ার সময় আরও ৪ জনের নাম বলেছিলাম, তাদের অভিযুক্ত করা হয়নি। বরং ১৭ জন থেকে ৬ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে।' পূর্ণিমাসহ অন্য ৩ ছেলেমেয়ের নিরাপত্তার দাবি করেন তিনি।

পূর্ণিমার মেজ ভাবি বলেন, থানা থেকে রায় শুনেছি। পূর্ণিমার যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ হওয়ার নয়। তারপরও এ সরকারের আমলে রায় হয়েছে, সাজা যা-ই হোক, এটাই তো অনেক।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পিপি শেখ আবদুল হামিদ লাভলু, এপিপি আনোয়ার পারভেজ লিমন ও কায়সার আহম্মেদ লিটন। আসামিপক্ষে ছিলেন সাবেক পিপি মোঃ শামসুল হক। পিপি শেখ আবদুল হামিদ লাভলু বলেন, জোট সরকারের আমলে যে নির্যাতন-নিপীড়ন হয়েছিল, পূর্ণিমা ধর্ষণ ঘটনা তারই সাক্ষ্য বহন করে। উল্লাপাড়ার সাবেক সাংসদ এম আকবর আলী মামলাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহের জন্য নানা ধরনের অপচেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। রায় পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি আবদুর রহমান বলেন, দেশে যে আইনের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, পূর্ণিমা রায়ই তার প্রকৃত উদাহরণ। জোট সরকারের সন্ত্রাসী ও মৌলবাদীদের হাতে ১১-১২ বছরের শিশু পূর্ণিমা ধর্ষিত হওয়ার পর দ্বারে দ্বারে ঘুরেও বিচার পায়নি। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ্যাডভোকেট কেএম হোসেন আলী হাসান বলেন, জোট সরকারের উলঙ্গ চেহারা পূর্ণিমা ধর্ষণ ঘটনায় প্রকাশ পেয়েছিল।

৭| ০৫ ই মে, ২০১১ বিকাল ৫:০৬

নাভদ বলেছেন:

৮| ০৬ ই মে, ২০১১ বিকাল ৪:০৭

নাভদ বলেছেন:
প্রথম আলো সম্পাদকীয় (৬/৫/১১)

৯| ০৯ ই মে, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:২০

নাভদ বলেছেন:
জনকন্ঠ (৯/৫/১১)

পূর্ণিমা কিভাবে আমাদের চড় মেরেছিল: মুনতাসীর মামুন


এগারো বছর আগের সেই ছবিটি লাফ দিয়ে চোখের সামনে এসে দাঁড়াল। চোখে পানি চলে এলো। এ ছবিটি দেখলেই আমার চোখ ভিজে যায়। আজ চোখ ভিজে গেলেও মনে মনে সন্তুষ্টও হয়েছি। একযুগ সংগ্রাম করতে হয়েছে, কিন্তু আমরা জিতেছি তো। মনটা একটু বিষণ্ন্ন হলো এ কারণে যে, ওয়াহিদুল হক নেই। থাকলে তার চেয়ে বেশি খুশি কেউ হতো না। খুশি এ কারণেও যে, শাহরিয়ার কবির ও নির্মূল কমিটির অনেকে বেঁচে আছেন, যাঁরা একযুগ একপাল নরপশুর বিরম্নদ্ধে জীবনবাজি রেখে লড়াই করেছিলেন। এজন্যই কি বলা হয়_ সত্য এক সময় প্রতিষ্ঠিত হয়।

ঘটনাটি আপনাদের অনেকের হয়ত মনে নেই। না থাকারই কথা। প্রতিদিন নতুন ঘটনা আগের দিনের খবরকে সরিয়ে দিচ্ছে কাগজের পাতা থেকে। গত ৫ মে সংবাদপত্রের পাতায়ই খবরটি শিরোনাম হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি, প্রথম পাতায় হয়ত ছিল। এখানেই বর্তমান সংবাদপত্রের ঝোঁক কোন্দিকে তা বোঝা যায়। জনকণ্ঠ, ভোরের কাগজ ও সংবাদেই ঘটনাটি শিরোনাম হয়েছিল। গরিব কাগজগুলো এখনও গরিবের কথা বলে। কমিটমেন্টটা বজায় রেখেছে। বড়লোকের কাগজ শুধু সুশীল সমাজকেই গুরুত্ব দেয়।

২০০১ সালের অক্টোবর মাসের ৮ তারিখে ঘটনাটি ঘটেছিল। অক্টোবরের মাঝামাঝি ঘটনাটি খবরে এসেছিল। সেই সময়ও এ তিনটি কাগজই আবার শিরোনাম করেছিল। বড়লোকী কাগজগুলো তখন তা এড়িয়ে গেছে। কারণ তখন তারা মাত্র খালেদা-নিজামীকে ৰমতায় এনেছে। তখন এই জনকণ্ঠেই (২৪-১০-২০০১) আমার একটি ভাষ্য প্রকাশিত হয়েছিল, নাম 'কাফ্্ফারা সবাইকে দিতে হবে আগে অথবা পরে।' ঐ সময়টা মনে আছে আপনাদের? পাকি-বাঙালীদের নেতৃত্বে তখন খালেদা-নিজামী। তাঁরা সবেমাত্র লুট, ধর্ষণ, জ্বালাও-পোড়াওর রাজনীতি শুরু করেছেন। ঐ সময়টি মনে করিয়ে দেয়ার জন্য সেই ভাষ্যের খানিকটা উদ্ধৃতি দিচ্ছি_

"ছবিটি অনেকে দেখেছেন, জনকণ্ঠ বা সংবাদের পাতায়। সংবাদের প্রথম পৃষ্ঠার ঐ ছবিটি পূর্ণিমার, যখন চোখে পড়ল সকালে, তখন আপনা-আপনি চোখে পানি চলে এলো। কিন্তু কেন? এত বছর_ এত বিপর্যয়, এত হুমকির মুখেও তো কখনও বিপর্যস্ত বোধ করিনি। খানিকপর অনুধাবন করলাম, আমার বা আমাদের বন্ধুদের অনেকের তো একটি পূর্ণিমার বয়সী এবং আমি ভেবেছিলাম, এ ছবিটি তো আমার মেয়েরও হতে পারত, যাঁরা মুক্তিযুদ্ধের দিনগুলোতে বেঁচে ছিলেন, তাঁদের অনেকে সমষ্টিগত ডিপ্রেশনে ভুগছেন। পূর্ণিমার একটি ছবি মুখঢাকা দু'হাত দিয়ে কিন্তু কী সাহস, এসে হাজির হলো আমাদের সামনে, যেন চড় মেরে গেল বাংলাদেশকে। আমরা কেউ তা বুঝি না....

১৯৭১ সালের ডিসেম্বরেও দৈনিক পত্রিকায় ঠিক এমন একটি ছবি বেরিয়েছিল। মুখঢাকা এক কিশোরীর। সে ছবি দেখেও অনেকে কেঁদেছিল। পাকি কর্তৃক ধর্ষিত বিধ্বস্ত বাংলাদেশের ছবি। কোন অমিল নেই ছবি দু'টির।...."

অমিল না থাকার কারণ তখন ছিল পাকি ও তাদের সহযোগী জামায়াতে ইসলামী ও মুসলিম লীগের পাকি-বাঙালীরা। তখন (২০০১-০৬) পাকিরা না থাকলেও ছিল তাদের সহযোগীদের উত্তরসূরিরা, যাদের সমষ্টিগত নাম বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী ঐক্যজোট প্রভৃতি। পাকিরা ইসলামের নামে ৩০ লাখ হত্যা ও ১০ লাখ ধর্ষণ করেছিল। ২০০১-০৬ সালে পাকি-বাঙালীরা ঐ পরিমাণ না হলেও খুন-ধর্ষণ কম করেনি, যার একজন ছিল ১৩ বছরের হিন্দু বালিকা পূর্ণিমা শীল। তারাই এ বিএনপি-জামায়াত- জাতীয় পার্টি সংবিধানে 'বিসমিলস্নাহ' ও 'রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম' করেছিল। এবং ইসলামের নামে বিসমিলস্নাহ বলে আওয়ামী লীগ, অসাম্প্রদায়িক মানুষ আর সংখ্যালঘুদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বিধর্মী বলে। পূর্ণিমার কী ঘটেছিল এবং কী হয়েছিল তা আপনাদের জানা দরকার।

সিরাজগঞ্জ জেলার উলস্নাপাড়া উপজেলার বড়হড় ইউনিয়নের পূর্ব দেলুয়া গ্রামের অনীল শীল তাঁর স্ত্রী ও কন্যা পূর্ণিমাকে নিয়ে বাস করতেন। তাঁর ছিল একটা সেলুন। নিহায়ত গরিব পরিবার। ৮ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় খালেদা-নিজামী-আমিনীর অনুগতরা জোটের জয়ের আনন্দ উপভোগ করতে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী পূর্ণিমাকে তুলে নিয়ে যায়। তখন গ্রামগঞ্জে খালেদার বাহিনী এ কাজ করছে। ভোলায় একটি গ্রামের ৭০টি মেয়েকে নিয়ে তা-ব করেছিল এ মুসলমানরা। আমাদের বাংলাদেশের সুশীল সমাজের মুসলমানরাও তখন ভেবেছিলেন হিন্দুরা হচ্ছে গনিমতের মাল। কয়েকদিন পর যখন মুসলমান মেয়েদেরও তুলে নিতে লাগল তখন সুশীল মুসলমানরা শঙ্কিতবোধ করেছিলেন।

যাক, ঘটনাটি এবং এ ঘটনাগুলো সংবাদপত্র ও মিডিয়া তখন প্রায় বস্ন্যাকআউট করে দিয়েছিল। সিরাজগঞ্জের ইত্তেফাকের প্রতিবেদক আমিনুল ইসলাম যিনি যুক্ত ছিলেন নিমর্ূল কমিটির সঙ্গে তখন এ বিষয়ে একটি রিপোর্ট করেন এবং শাহরিয়ারকে জানান। ইত্তেফাক রিপোর্টটি ছেপেছিল ১৬ অক্টোবর। শাহরিয়ারের নেতৃত্বে নিমর্ূল কমিটির দল চলে যায় উলস্নাপাড়া পূর্ণিমাদের বাসায়। সেখানে সরেজমিনে তারা সব দেখে। অবস্থা তখন খুবই প্রতিকূল। নিমর্ূল কমিটির পৰ থেকে পশুরূপী মানুষদের বিরম্নদ্ধে লড়াই চালিয়ে নেবার সিদ্ধানত্ম হয়। পূর্ণিমার পরিবার এতে সম্মতি জানায়। এ লড়াইয়ে তাদের ওপর আবারও জুলুম হতে পারে, এ কথা জানানো হলে পূর্ণিমার মা জানান, আমাদের তো সব গেছে আর কী যাবে? শাহরিয়ার তখন পূর্ণিমাকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। অবস্থা কেমন ছিল তার একটি উদাহরণ দিই। ফেরার ঠিক আগের মুহূর্তে শাহরিয়ার জানতে পারেন যে, পরিবারটি তিন দিন ধরে উপোস আছে। তখন সবার কাছে যা ছিল তার পুরোটা পরিবারটিকে দিয়ে আসেন।

বাসায় ফেরার পর শাহরিয়ারের মেয়ে যার বয়স তখন পূর্ণিমার থেকে খানিকটা বেশি_ সে জানায় যে, বিএনপির মানুষজন বিসমিলস্নাহ বলে যা করেছে তা বলার নয়। মেয়েটির শরীরের বিভিন্ন অংশ তারা খুবলে নিয়েছে।

নিমর্ূল কমিটির উদ্যোগে পরের দিন প্রেস কনফারেন্স হয়। এক পর্যায়ে চোখে হাতচাপা দিয়ে পূর্ণিমা কেঁদে ফেলে। সে ছবিটিই ছেপেছিল সংবাদ, জনকণ্ঠ। ঐদিন বিদেশী সাংবাদিকরাও দেখেছিল রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের নামে এবং বিসমিলস্নাহ বলে খালেদা অনুসারীরা কী করেছিল, অনেকে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। পরের দিন সারা দেশ তো বটে, বিদেশীরাও জেনে যায় দেশটিতে কী হচ্ছে? ২০০১-০৬ পর্যনত্ম এ রকম অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। এখানে বলে রাখি, আজকে যাঁরা সুশীল সমাজের প্রবক্তা, গ্রামীণ ব্যাংকের দুঃখে যাঁরা কাতরাচ্ছেন তাঁদের একজনও এগিয়ে আসেননি। এসেছিলেন একজন তিনি ওয়াহিদুল হক। 'পূর্ণিমা যাত্রা' নাম দিয়ে তিনি সিরাজগঞ্জ গিয়েছিলেন। তার কথা আসবে পরে।

এদিকে অনীল চন্দ্র ১০ অক্টোবর উলস্নাপাড়া থানায় মামলা করেছিলেন ১৭ জনকে আসামি করে। স্বাভাবিকভাবেই পুলিশ মামলা নেয়নি। ২৪ অক্টোবর পূর্ণিমা নিজে বাদী হয়ে নারী ও শিশুনির্যাতন আইনে মামলা করে। আদালতের আদেশে পূর্ণিমার মেডিক্যাল পরীৰা করার পর ধর্ষণের ভয়ঙ্কর চিত্র ফুটে ওঠে। তদনত্ম শেষে ২০০২ সালের ৯ এপ্রিল আদালতে ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশীট দেয়া হয়।
ঐ এলাকার এমপি ছিলেন তখন বিসমিলস্নাহর ও রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের সমর্থক পাকি-বাঙালী আলী আকবর। তাঁর ওপর মহান দায়িত্ব বর্তেছিল তখন ইসলাম রৰা করার। তিনি বিসমিলস্নাহ বলে কাজে নামলেন। তৎকালীন ঐ এলাকার ওসি শেখ শহীদুলস্নাহ (বর্তমান আইজিকে অনুরোধ করব তার নামটি মনে রাখার এবং এ লোকটি কোথায় আছে তা খোঁজ করার) অধিকতর তদনত্ম করে ইসলামের নামে যারা ধর্ষণ করেছিল সেই ১৭ জনকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের এমপি আবদুল লতিফ মীর্জা (প্রয়াত), পৌর মেয়র থেকে শুরম্ন করে যারা পূর্ণিমার ঘটনার রিপোর্ট করেছিল তাদের আসামি করে। পূর্ণিমার বাবা নারাজি দেন। এদিকে আসামিদের জামিন দেয়া হয়। ২০০৭ সালে মামলা মূলধারায় ফিরে আসে। কিন্তু ইতোমধ্যে ৬ আসামি পালিয়ে যায়।
আলী আকবর নামে পাকি-বাঙালীই তখন পূর্ণিমার মাকে গিয়ে বলে, ২০ হাজার টাকা দিচ্ছি, বলতে হবে শাহরিয়ার কবিররা এর সঙ্গে জড়িত। পূর্ণিমার মা বলেছিলেন, পূর্ণিমা শাহরিয়ারকে বাবা বলে। বাবার বিরম্নদ্ধে ২০ লাখ টাকা দিলেও সে কিছু বলবে না। আকবর আলীরা তখন খুবই হেনস্থা করেছিল পূর্ণিমাদের সমর্থকদের। আমার মাঝে মাঝে মনে হয় এদের পরিবারের মেয়েদেরও কেউ এমনভাবে নির্যাতন করলে তারা অখুশি হবে না।

পূর্ণিমা কিছুদিন শাহরিয়ারের বাসায় ছিল, তারপর ওয়াহিদুল হকের মেয়ের বাসায়, পরে তাকে স্কুলে ভর্তি করে হোস্টেলে রাখা হয়।

নিমর্ূল কমিটির সদস্যরা তখন পূর্ণিমার প্রাথমিক খরচ চালিয়েছে। এরপর ওয়াহিদুল হক। কতদিন তিনি পরামর্শ করেছেন আমার সঙ্গে কিভাবে পূর্ণিমার খরচ চালানো যায়। তিনি নিজেও ছিলেন প্রায় নিঃস্ব। পূর্ণিমাকে কঠিন অভিভাবকত্বে রাখা হয়েছিল। এখন সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। পড়ার খরচ বহন করতে পারছে না। তার পড়ার খরচ দু'বছর বহন করেছিল ফ্রিডম ফাউন্ডেশন এবং এরপর অধ্যাপক অজয় রায়ের মানবাধিকার সংগঠন।

এরই মধ্যে পূর্ণিমার বাবা মারা গেছেন। খালেদা-নিজামীর দোজখী শাসনের অবসান হয়েছে এবং অবশেষে পূর্ণিমার মামলার রায় বেরিয়েছে ৪ মে। বিচারক ওসমান হায়দার ন্যায্য বিচার করেছেন। আসামি ১১ জনকে (৬ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল) যাবজ্জীবন কারাদ- ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা পূর্ণিমাকে প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বলি, ভোলার যে ৭০ জনকে ধর্ষণ করা হয়েছিল তারা দেশ ত্যাগ করেছিল। সুশীল সমাজ তখন চাপা হাসি হেসেছিল ইসলাম রৰা হলো বলে। আমি যে ভাষ্যের কথা বলেছিলাম শুরম্নতে তার শেষটি উলেস্নখ করছি_

"তবে এতটুকু বুঝেছি, আলস্নাহ বলেন, ভগবান বলেন, গড বলেন, তাতে বিশ্বাস রাখেন কী-না রাখেন, মানুষের চোখের জলের একটি অভিশাপ আছে। আওয়ামী লীগ যদি মানুষের চোখের জলের (২০০১) কারণে চলে গিয়ে থাকে তাহলে আজ যারা আছে তারাও ঐ পথে যাবে। পূর্ণিমার ছবিটি আপনি ছুড়ে ফেলে দিতে পারেন, তারপর কন্যাকে আদর করে স্ত্রীকে নিয়ে পার্টিতে যেতে পারেন, কিন্তু আপনাকে আমাকে একটি কাফ্ফারা দিতে হবে। কারণ, আমরা অনেক কথা বলেছি, যা রাখিনি। শপথ করে কথা না রাখলে প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে। (সুরা মায়িদা)। এরপর আমার আপনার স্ত্রীকে যখন অপহরণ করা হবে, কন্যাটিকে তুলে নেয়া হবে, বোনটিকে গায়েব করে দেয়া হবে, তখন বুঝবেন পূর্ণিমা আসলে কি বলতে চেয়েছিল!"

কাফ্ফারা কি দেয়নি খালেদা-নিজামীরা বা গণধর্ষকরা? কিন্তু এরা এমনই জিনিস, জিনিস এ কারণে বলছি যে মানবসনত্মানদের একটি বোধ থাকে, এদের মধ্যে সেটির নিদারম্নণ অভাব।

হাইকোর্টে রিট করার ফলে আদালত আদেশ দিয়েছিল ২০০১-০৬ সালে যে নারকীয় নির্যাতন করা হয়েছে বলে তা তদনত্ম করে একটি রিপোর্ট দেয়ার জন্য। জনাব সাহাবুদ্দীনের নেতৃত্বে একটি কমিশন করা হয় এবং তিনি ১০০০ পাতার একটি রিপোর্ট দেন। যা ঘটেছে তার সামান্য অংশমাত্র তাঁরা তুলে ধরেছিলেন। বিএনপি-সনত্মানরা বলতে থাকে, এটি সঠিক নয়। এর পরপরই পূর্ণিমার রায় প্রকাশিত হলো। পূর্ণিমার মামলার আইনজীবী আবদুল হামিদ যা বলেছেন তার সঙ্গে আমরা একমত_ "২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি-জামায়াত জোট দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের ওপর যে নির্যাতন চালিয়েছিল এ রায়ের মধ্য দিয়ে তা প্রমাণিত হলো।" (জনকণ্ঠ, ৫-৫-১১)।
আমি পূর্ণিমা ও তার পরিবারটিকে শ্রদ্ধা জানাই। এতটুকু একটি মেয়ে পুরো একটা দেশের বিরম্নদ্ধে দাঁড়িয়েছিল তার অপমানের প্রতিবিধান করতে। ভাবা যায়? যে দেশে কেউ নিজেকে ছাড়া সাহায্য করে না এবং মামলায় জিতে সে প্রমাণ করল, নিজে দাঁড়াতে চাইলে সমাজের কেউ না কেউ সাহায্য করবে। পুরো সমাজটা অমানবিক হয়ে যায়নি। পূর্ণিমা ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধাদের মতো একটি প্রতীক। এ মেয়েটি সুশীলদের, আমাদের চড় মেরে বুঝিয়ে দিল আমরা মানুষ নই। কারণ আমরা নাবালিকাকে ধর্ষণ করেছি, আমরা ধর্ষিতাকে রৰা করিনি, ধর্ষকদের বিচার থেকে অব্যাহতি দিতে চেয়েছি এবং এর প্রবল প্রতিবাদ করিনি। পরিবারটিকে রৰা করতে এগিয়ে আসিনি।

এখন আবার রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও বিসমিলস্নাহ রাখার জন্য চিৎকার শুরম্ন হয়েছে। যার বাসা থেকে মদের বোতল পাওয়া গিয়েছিল সেই মওদুদ ইসলাম রৰার জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। 'বিসমিলস্নাহ' রেখে 'রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম' রাখার পর বাংলাদেশ দোজখে পরিণত করা হয় সেটি কি ভাল? যদি সংবিধানে তাই হয়, সংখ্যালঘুরা দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত হবেন। গয়েশ্বর রায়, নিতাই রায়, মির্জা ফখরম্নল, মওদুদ বা খালেদা জিয়া-আমিনী ৰমতায় এলে তারা আবার [পূর্ব অভিজ্ঞতা বলে] ইসলামের নাম করে মেয়েদের, আওয়ামী লীগারদের গণিমতের মাল মনে করবে। বুঝে দেখুন, বঙ্গবন্ধু যে ধর্মনিরপেৰতার কথা বলেছিলেন সেটি ভাল না জিয়াউর রহমানের 'বিসমিলস্নাহ' এবং এরশাদের 'রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম' ভাল?

সবশেষে দু'টি কথা বলব।

একদিকে যেমন বিচারককে ধন্যবাদ জানাচ্ছি গরিবদের ওপর ন্যায়বিচার করার জন্য তেমনি আইজিকে অনুরোধ জানাচ্ছি অন্যায় করার জন্য ওসি শহীদুলস্নাহকে বিচারের আওতায় আনা হোক। দায়মুক্তির সংস্কৃতির বিনাশ হোক।

পূর্ণিমা ও তার পরিবার এখন অনিরাপদ। এ মামলা আরও ১০ বছর চলবে। এরই মধ্যে আলী আকবররা বলতে পারে পূর্ণিমা নিজেই ধর্ষিত হতে চেয়েছিল। এবং এ স্বীকারোক্তি না দিলে সে আবারও ধর্ষিত হতে পারে এবং মৃতু্যও হতে পারে। জরিমানার টাকা পাওয়া দূরের কথা তার বেঁচে থাকাই কষ্টকর হয়ে উঠবে। সুতরাং এই পাকি-বাঙালীদের হাত থেকে পূর্ণিমা ও তার পরিবারকে বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেয়া হোক।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটা দরখাসত্ম

গত দু'বছর অসংখ্য মানুষজন এসে আমাদের কাছে ধর্ণা দেয় তারা নিঃস্ব হয়ে গেছে, চিকিৎসা পর্যনত্ম করাতে পারছে না ২০০১-০৬ সালের নির্যাতনের কারণে। তাদের অপরাধ ছিল তারা আওয়ামী লীগ সমর্থন করেছিল অথবা খালেদা-নিজামীর সমর্থক ছিল না। এই তো কয়েকদিন আগে নাটোরে জনকণ্ঠ প্রতিনিধি এসে আমাকে জানালেন দুলুর লোকজন তাঁকে কিভাবে প্রায় মেরে ফেলেছিল। এখন তিনি নিঃস্ব, চিকিৎসা খরচ চালাতে পারছেন না। আপনার এমপিদের আপনি যেমন জানেন, আমরাও কম জানি না। তাঁরা এখন অন্য ধান্ধায় ব্যসত্ম। এই নির্যাতিত লোকগুলোর আপনি ছাড়া কেউ নেই। ২০০১-০৬ সালে আমি দেখেছি আপনি কিভাবে এদের সাহায্য করেছেন। দলের এখন নৈতিক কর্তব্য একটি তহবিল গড়ে তোলা [এমপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থক ব্যবসায়ীদের টাকাই তার জন্য যথেষ্ট] যা থেকে এদের সাহায্য দেয়া যাবে। এরা আপনাকে যেভাবে ভালবাসেন আপনার নেতা বা মন্ত্রীরা মতলব ছাড়া ভালবাসেন কিনা জানি না। এদের দিকে একটু দেখুন। এরাই আপনাকে বাঁচিয়ে রাখবে। আমরা নই। এবং পূর্ণিমার পড়াশোনার ব্যবস্থাটা রাষ্ট্র থেকে দেয়ার বন্দোবসত্ম করে দিন। সে যেন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে বলতে পারে, আমাকে দেখ, বাংলাদেশে খালেদার অধিকার যতটুকু আমার অধিকারও ততটুকু। আমি এ দেশেই থাকব এবং মাথা উঁচু করে থাকব। সে আমাদের মনে করিয়ে দেবে খালেদারা বিসমিলস্নাহ বলে, নিজামী-আমিনী-এরশাদরা রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করে কি করেছিল।

আমার এ নিবেদন প্রধানমন্ত্রী পর্যনত্ম পেঁৗছাবে না। জনকণ্ঠের পাঠকরা পারলে পূর্ণিমার জন্য জনকণ্ঠে সাহায্য পাঠান। জনকণ্ঠের সম্পাদককে বলব, যদি কেউ এগিয়ে আসে, সে অর্থ দিয়ে একটি ট্রাস্ট করে দিন যাতে এ পরিবারটি বেঁচে থাকতে পারে, পূর্ণিমা বিশ্ববিদ্যালয় ডিঙ্গিয়ে একটি চাকরি পেতে পারে। ভুলবেন না তার বয়স যখন ১৩ তখন আর কেউ নয়, অল্প কয়েকজনের মধ্যে আপনারাও এগিয়ে এসেছিলেন তাকে বাঁচাতে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.