নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কাসেম৭৬

কাসেম৭৬ › বিস্তারিত পোস্টঃ

আপেল রসের সিরকার পুস্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১০:১৪

আপেল আমাদের খুবই পরিচিত একটি ফল। আপেলের রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। আপেলে রয়েছে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-বি-১, ভিটামিন-বি-২, ভিটামিন-বি-৬, ভিটামিন-সি ফোলেট ইত্যাদি। পুষ্টিগুণের দিক দিয়ে তাই আপেল অনেক এগিয়ে রয়েছে। শুধু আস্ত আপেলেরই নয় আপেল রসের সিরকারও রয়েছে বহুমুখী উপকারিতা। আপেল রসের সিরকা একটি প্রমানিত উপকারি খাবার যা আমাদের শরীরের ভেতর এবং বাহির থেকে পুষ্টি যোগায়।

তো চলুন দেখে আসা যাক, আপেলের রসের সিরকার উপকারিতাগুলো।

১। হজমের সমস্যা দূর করেঃ
যদি হজমের সমস্যা দেখা দেয় তবে আপেল রসের সিরকার সাথে পানি মিশিয়ে সেই মিশ্রণটি পান করলে হজমের সমস্যা দূর হয়। হজমের সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য বদ হজম হবার সম্ভাবনা আছে এমন খাবার খাওয়ার আগে এক টেবিল চামচ মধু এবং এক টেবিল চামচ আপেল রসের সিরকা এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে খেতে হবে।

যদি কারও ব্যাকটেরিয়ার কারণে ডায়রিয়ার সমস্যা সৃষ্টি হয় তাহলে সেক্ষেত্রে আপেলের সিরকা এই সমস্যা দূর করতে পারে।

২। বুক জ্বালাপোড়া প্রতিরোধ করেঃ

আপেল রসের সিরকা পাকস্থলীর অম্লতার পরিমাণকে কমিয়ে বুক জ্বালাপোড়া প্রতিরোধ করে। তবে এটা খেয়াল রাখতে হবে খাবার আগে সিরকাটি ভাল করে পাতলা করে নিতে হবে কারণ সরাসরি সিরকা অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে।
এটা বলা হয়ে থাকে যে, আপেলের ভেতরে রয়েছে প্যাক্টিন নামক একধরনের আঁশ যা আপেল রসের সিরকার মধ্যেও বিদ্যমান। এই আঁশ সমস্ত পরিপাক এলাকার বিভিন্ন ধরনের সমস্যাগুলোকে উপশম করে যা পেটের ভেতরের বাষ্প, খিঁচুনি ইত্যাদি প্রতিরোধ করে।

৩। ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করেঃ
আপেল রসের সিরকার প্রধান উপাদান হল এসিটিক এসিড । এটি ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে কারণ এটা ব্যাকটেরিয়ার উৎপাদন প্রতিরোধ করতে পারে এবং ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলতে পারে। শত শত বছর ধরে আপেল রসের সিরকা জীবাণুনাশক এবং সংরক্ষক দ্রব্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

৪। রক্তে চিনির পরিমাণ কমায় এবং ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেঃ
আপেল রসের সিরকার মধ্যকার বিদ্যমান এসিটিক এসিড শর্করার পরিপাক ক্রিয়াকে ধীর করে যা রক্তের চিনিকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। এছাড়াও বিভিন্ন গবেষণায় এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, মানুষের শরীরের উপরে আপেল রসের সিরকার এন্টি-গ্লাইসেমিক প্রভাব আছে।
আমেরিকান ডায়াবেটিক সংস্থা এর একটি গবেষণায় এটা পাওয়া গেছে যে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান রয়েছে আপেল রসের সিরকার মধ্যে। অর্থাৎ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যেসব ঔষধ প্রস্তুত করা হয় সেসব ঔষধ এর দুটি উপাদান রয়েছে আপেল রসের সিরকার মধ্যে ।

৫। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ
পরিপাক ক্রিয়ায় উপকারি ব্যাকটেরিয়ার অবস্থার উন্নতি সাধনের মাধ্যমে আপেল রসের সিরকা আমাদের শরীরের পুরো রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থারই উন্নতি সাধন করে। আপেল রসের সিরকার মধ্যে ম্যালিক এসিড রয়েছে যা রোগ প্রতিরোধক হসেবে কাজ করে এবং যেটি ঠান্ডা এবং ভাইরাসজনিত অন্যান্য রোগ প্রতিহত করে।

৬। মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে সহায়তা করেঃ
আপেল রসের সিরকার রোগ প্রতিরোধক উপাদানের জন্য এটি কুলির মাধ্যমে মুখের দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া দূর করার জন্য আদর্শ উপাদান । এটি দিয়ে কুলি করলে তা মুখের দুর্গন্ধ দূরীকরণে সহায়তা করে।

এজন্য এক কাপের এক তৃতীয়াংশ পানির সাথে এক টেবিল চামচ আপেল রসের সিরকা মিশিয়ে বাসায় নিজেরাই নিজেদের মাউথওয়াশ তৈরি করতে পারা যাবে। কিন্তু এরপর এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, সিরকা দিয়ে কুলি করার পর পরিষ্কার পানি দিয়ে মুখ ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে। নাহলে সিরকা দাঁতের এনামেল নষ্ট করে দিতে পারে।

আপেল ফল হিসেবে এমনিতেই অনেক উপকারি । আপেল ফল হিসেবে খেলে যতটা উপকারি ততটাই উপকারি এর রসের সিরকা। এর রসের সিরকা নিয়ম মেনে নিয়মিত খেলে তা আমাদের বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে এবং আমাদের পরিপাক প্রক্রিয়াকে আরও উন্নত করে আমাদেরকে সুস্থ থাকতে সহায়তা করতে পারে।

তথ্যসূত্রঃ
https://www.cookingdetective.com

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১০:৫৬

কানিজ রিনা বলেছেন: আপেলের সিরকা আমিও খাই, তবে আপনার লেখায় আরও অনুপ্রেরনা পেলাম। ধন্য়বা

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.