| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
![]()
বলা হয়, পৃথিবীর চার ভাগের তিন ভাগই জল। অর্থাৎ বিপুল এ পৃথিবীর রয়েছে জলের বিশাল ভাণ্ডার। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, এত জল থাকা সত্ত্বেও এর মাত্র আড়াই শতাংশ হচ্ছে মিষ্টি। বাকিটা লবণাক্ত অর্থাৎ খাওয়ার অযোগ্য। মিষ্টিজলের এক শতাংশেরও কম পরিমাণ রয়েছে আমাদের হাতের নাগালে। বাকিটা রয়েছে জমাট বরফ হয়ে। অথচ পানীয় জলের চাহিদা দিনদিন বেড়েই চলছে। মাটির নিচের পানির স্তরও ক্রমে নিচের দিকে চলে যাচ্ছে। এ অবস্থায় চেষ্টা চলছে বিকল্প উৎসের। চেষ্টা চলছে এ লবণাক্ত পানিকে খাওয়ার উপযোগী করতে।
![]()
এটা যদি সম্ভব হয়, তাহলে পানির সমস্যা অনেকখানি লাঘব হবে বলে গবেষকরা মনে করেন। আগামীতে পানির সমস্যা আর থাকবে না। সম্প্রতি দুই মার্কিন বিজ্ঞানী সমুদ্রের লবণাক্ত পানি থেকে খাওয়ার উপযুক্ত মিষ্টি পানি তৈরির এক নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। সমুদ্রের লবণাক্ত পানি পরিশোধন করে পানযোগ্য করার উদ্যোগ অনেক আগেই শুরু হয়েছে। স্পেনে সমুদ্রের পানি থেকে লবণ দূর করে তা বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃতও হচ্ছে। সিঙ্গাপুর প্রতিবেশী দেশ মালয়েশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমাতে এ কাজটি করছে। ইসরায়েল বছরে সমুদ্র থেকে প্রায় পঞ্চাশ কোটি বর্গমিটার লবণাক্ত পানি পরিশোধন করে কাজে লাগাতে চাচ্ছে। এতদিন তারা গেনেজারেথ হ্রদ থেকে পানি পাম্প করে ব্যবহার করেছে। তবে বিজ্ঞানীরা আশার বাণী শোনাচ্ছেন, ২০১৬ সাল পর্যন্ত গোটা বিশ্বে প্রায় তিন হাজার আটশ' কোটি বর্গমিটার লবণাক্ত পানি পরিশোধন করে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মেনাখেম এলিমেলেশ বলেন, নীতিগতভাবে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি শোধনের মাধ্যমে সহজেই উন্নতমানের মিষ্টি পানি সংগ্রহ করা সম্ভব। আর কোনো ক্ষতি ছাড়াই বিশাল মহাসাগর থেকে এ অফুরন্ত মিষ্টি পানি জোগাড় করা যেতে পারে।
![]()
লবণাক্ত পানি শোধনের আধুনিক প্রক্রিয়াটির নাম দেওয়া হয়েছে 'রিভার্স অসমোসিস'। লবণাক্ত পানি পলি-অ্যামিড মেমব্রেন নামে একটি পাতলা পদার্থের উপর প্রচণ্ড বেগে নিক্ষেপ করা হয়। পানির অণুগুলো তা ভেদ করে অপর প্রান্তে বেরিয়ে আসে। কিন্তু লবণের বড় অণুগুলো পর্দার অপর প্রান্তে আটকে যায়। এভাবেই শোধন করা হয় পানি। বর্তমানে প্রতি বর্গমিটার মিষ্টি পানি পেতে তিন থেকে চার কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। এক বর্গমিটার পানি প্রায় এক হাজার লিটারের সমান। নদী বা অন্য কোনো উৎস থেকে পানি শোধন করতে বিদ্যুৎ লাগে এর এক- তৃতীয়াংশ। অনেকে লবণাক্ত পানি শোধনের জন্য সৌর বা বায়ুশক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছেন। এতে কার্বন নির্গমন তো হবেই না, হলেও মাত্রা থাকবে খুব কম। সমুদ্রের পানিতে লবণ ছাড়াও সামুদ্রিক উদ্ভিদের ক্ষুদ্র অংশসহ অনেক পদার্থ থাকে। যে মেমব্রেন বা ছাঁকনির সাহায্যে লবণ আলাদা করা হয়, তার মধ্যে দিয়ে পানি সহজেই প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু এবং কোনো জৈব পদার্থের সংস্পর্শে এলে সেই পর্দার কার্যক্ষমতা কমে যায়। তখন তার ওপর জৈব পদার্থের স্তর জমতে শুরু করে।
![]()
রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার এড়াতে প্রকৌশলীরা একটি নতুন ধরনের ছাঁকনি তৈরি করার চেষ্টা করছেন। এ ছাঁকনির ওপর কোনো জৈব পদার্থের স্তর জমবে না। সমুদ্রের পানি থেকে যে ঘন লবণের স্তর আলাদা করা হয়, তা আবার সমুদ্রেই ফেলে দেওয়া হয়। এর ফলে সমুদ্রের উদ্ভিদ ও প্রাণিজগতের কোনো ক্ষতি হয় না। অবশ্য এমন যুক্তির সপক্ষে কোনো প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সমুদ্রের লবণাক্ত পানিকে পান করার উপযোগী করতে এটাই হবে উত্তম ও সফল প্রযুক্তি।
সূত্রঃ
Reverse Osmosis Water Filters
©somewhere in net ltd.