নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মাম

হাই

আশিফ ইকবাল

এক আভাগা

আশিফ ইকবাল › বিস্তারিত পোস্টঃ

আনন্দ

১২ ই অক্টোবর, ২০১৩ সকাল ১১:২৮

তিনদিন ধরে দিনগুলো বেশিই হৃদয়স্পর্শী, ক্ষণে ক্ষণে তোমার অনুপস্থিতি মনে করিয়ে দেবার মতো। প্রিয় ছবির হাট, টিএসসি, চাষাড়া মোড়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা -পুরোটা জুড়েই দেখি ইতিহাসের ফ্ল্যাশব্যাক।



মনে পড়ে, একদিন তোমাকে বলেছিলাম, আমি চে গুয়েভারা কিংবা সুকান্তকে পাইনি, কিন্তু তোমাকে পেয়েছি। তুমি কি অবাক হয়ে গিয়েছিলে! চোখ দু'টো যেন বেরিয়ে আসবে, এমন ভাব করে বলেছিলে, "তুমি কি বুঝতে পারছো তুমি আমাকে কাদের পাশে দেখছো? উনারা কত বড় মাপের দুই জন মানুষ, আর আমি তো শুধু এই নগণ্য মানুষটা!" আমি শুধু একটু হেসেছিলাম। তুমি কিন্তু ভেবো না আমি তোমাকে তাঁদের সাথে তুলনা করেছি। ওঁরাও অতুলনীয়, এবং সেই সাথে তোমার তুলনাও তুমি নিজেই। আমি তোমাকে সে কথা বলেছিলাম, কারণ আমার মানবধর্মের দীক্ষা, কিংবা সাম্যবাদের পাঠ..দু'টো তোমার কাছ থেকেই আমার প্রথম পাওয়া।



আমি রাজপুত্রের মত সুন্দর, টাকার প্রাসাদে বাস করা কোন মানুষকে চাইনি। মাটির কাছাকাছি একজনকে চেয়েছিলাম। আমি তোমাকে পেয়েছি। আমি মাটিকে পেয়েছি। আমি মাকে পেয়েছি। একজন পুরুষও যে কখনো মাতৃরূপে আবির্ভূত হতে পারে, তোমাকে না পেলে বোধ হয় সেটা আমার কখনো জানাই হতো না।



তুমি হেসে বলতে পারো, প্রেমের সাথে মাতৃরূপের সম্পর্ক কেনো? জানো তো, আমি মানুষটা বাইরে যেমন অচঞ্চল, ধীর ; ভেতরে ভেতরে ঠিক ততটাই অশান্ত, উত্তাল। অজানা সময় থেকে নারীর বন্দনা করা হচ্ছে, প্রশান্তির আধার হিসেবে নারী পরিগণিত হচ্ছে। আমি ভাবি, তারা কি আমার মতো অস্থিরমতী নারী? দিন শেষে আমারই যেখানে ''পাখির নীড়ের মতো চোখ্" প্রয়োজন, সেখানে আমি কি ''বনলতা সেন্" হয়ে উঠতে পারি? এমন একটা অকিঞ্চিৎকর মেয়ের জন্য তোমার মমতা, সহিষ্ণুতা আর গাঢ় অন্ধকারে মাঝসমুদ্রের লাইট-হাউজ হয়ে ওঠাকে মা ছাড়া আর কার সাথেই বা তুলনা করা যায়?



মহাকালের পথে আমরা হাত ধরে হাঁটা শুরু করেছিলাম,আজ থেকে ঠিক তিন বছর আগে। দিনতারিখ মনে রাখার মাজেজা বিশেষ কিছু না, তবে মনে থাকলেই নস্টালজিয়া বসে পড়ে টেবিলের পাশে। একটা বুড়িয়ে যাওয়া কিশোরী কিভাবে প্রজাপতি কিংবা আলোর ফুল হয়ে ওঠে, সেই কাহিনী এখন অবশ্য ইতিহাসবিদের বিবেচনার বিষয়।



ভালোবাসা রূপ বদলায়, বদলে যায় চাওয়া-পাওয়ার ধরণ। আরো ছোট থাকতে তোমার হাত ধরার কথা ভাবলেও মুখে ভোরের আকাশ দেখা যেতো। এখন, সংকোচেরা বদলে গেছে গভীর স্পষ্টতায়। তাই জড়তাহীন চোখে, রক্তে শেকড় ছড়ানো সংস্কারের বিদ্রোহী মূর্তি হয়ে আমি বলতে পারি, আকাশে চিড় ধরানো এক বৃষ্টির দিনে তোমার ঠোঁটে এঁকে দিতে চাই গাঢ় চুম্বন। ঝড়ো বাতাসের কেন্দ্রস্থলে আমরা হবো নাল পয়েন্ট; স্থির, শান্ত, গভীর!



জীবনের সবকিছু ভালো থাকার জন্যই। তাই, এ ভালোবাসা বেঁচে থাকুক। ভালোবাসায় তোমার স্কেচ বুক আবারো ভরে উঠুক। কর্পোরেট জগতের অশ্লীল হৃদয়হীনতার মাঝেও তোমার কবিতার খাতায় যোগ হোক ''একটি নাইটিঙ্গেল ও অন্যান্য"-র মতো কবিতা! বেঁচে থাকুক তোমার হেঁড়ে গলার গান, আমার জ্বলন্ত বারুদের মতো রাগ। বেঁচে থাকুক রাগ নিষ্কাশিত হয়ে যাবার পর তোমার শার্টের কোণা ধরে বসে থাকা, আর তোমার চাপা হাসির মুহূর্ত। দু'জনে একসাথে কিছু করবো, মানুষের জন্য, পৃথিবীর জন্য - সম্পর্কের শুরুর দিকের এই ছেলেমানুষী প্রত্যয়টিও জ্বলতে থাকুক দিয়াবাতি হয়ে,সততা নিয়ে যতদিন একসাথে থাকা যায়, ততদিন।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.