নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ছোটবেলা থেকে চেষ্টা করেও গল্পের বই পড়ার অভ্যাস করতে পারিনি। গল্পের বইয়ের চেয়ে পড়ার বই পড়তেই বেশি ভালো লাগতো। ইদানিং ডায়েরি লেখার অভ্যাস হয়েছে। ব্লগে এসেছি \"উমরাহ ডায়েরি\" লিখতে। ব্লগে কারো লেখা পড়ি না। আমার লেখা পড়ছেন তাই আপনাকে ধন্যবাদ।

Maimuna Ahmed

আমার সীমিত জ্ঞান কারো উপকারে আসলে শান্তি পাই...

Maimuna Ahmed › বিস্তারিত পোস্টঃ

ডায়েরি থেকে... (শেষ পাতা)

১৪ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ৯:০৩




*****ভিপিএন ব্যবহার করে ব্লগে ঢুকতে হলো, ব্যাপারটা দুঃখজনক *****

।১২ ডিসেম্বর ২০১৮।

ফজরের নামাজ পরে আব্বু, আমি আর পল্টু রুমে চলে এলাম। মা আর নানু রিয়াজুল জান্নাতে যাবে। সকাল আটটা বাজে, মা-নানু ফিরে এলো। নানু খু...উ...ব খুশি! ঘুরেফিরে বারবার আমাকে বলছে, "বুবু, পড়ে আসছি...তুমি যে জায়গা দেখিয়ে দিছো, সেখানেই পড়ছি... আহারে, আমারে নামাজ পড়ানোর জন্য বুবুর কি কান্না! আল্লাহ পড়াইছে...আলহামদুলিল্লাহ! " আমি নানুর উচ্ছ্বাস দেখছিলাম আর ভাবছিলাম, গতদিন ভলিন্টিয়ার যদি বাধা না দিতো আর নানু নামাজ পড়ে আসতো, এতোটা তৃপ্তি কি নানু অনুভব করতে পারতো? আলহামদুলিল্লাহ! নিঃসন্দেহে আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী।

দুপুরে আমি আর পল্টু রিয়াজুল জান্নাতে যাবো। A1 এ গিয়ে বসেছি। দোয়া-দরুদ পড়ছি। আজকে সবাইকে একটু বেশি অধৈর্য লাগছে! ভলিন্টিয়ারের কথা কেউ মানতে চাইছে না। গত দুইবারে এতো হুলুস্থুল করতে দেখিনি। ১ঃ৩০ টার দিকে পর্দার ঐপাশে মানে A2 এর গেট খুলে দিয়েছে মনে হলো। হ্যা, আজকে A2 -র মুসল্লিদের আগে যেতে দিয়েছে এবং অধৈর্য মুসল্লিদের জন্য দরজা খুলেনি। রিয়াজুল জান্নাতে যেতে না পারায় মন খারাপ হলো। আল্লাহ-ই ভালো জানেন! দোয়া-মোনাজাত করে রুমে ফিরে এলাম।

আসরের নামাজের পর একটু ঘুরাঘুরি, কেনাকাটা করলাম। মাগরিবের পরেও কেনাকাটার কথা ছিল কিন্তু আব্বু গেট নাম্বার ভুলে যাওয়ায় আব্বুকে খুঁজে পাইনি। এশার পর আবার কেনাকাটা করে রুমে ফিরলাম।

।১৩ ডিসেম্বর ২০১৮।

মন খুব খারাপ। আমাদের ১৫ রাতের উমরাহ ট্রিপের আজ শেষদিন। ফজরের পর রিয়াজুল জান্নাতে গেলাম। দুচোখ ভরে শুধু দেখলাম। মাথায় গেথে গেছে। ভুলে যাবো না ইনশাআল্লাহ!

যোহরের নামাজ পড়ে একটু হাটাহাটি করলাম। আসরের নামাজ পড়ে পার্কে ঘুরলাম, কবুতর দেখতে গেলাম। মাগরিবের পর মসজিদ থেকে বের হইনি। সন্ধ্যায় কোরআন শরীফ পড়ছিলাম। আমাদের পাশে মধ্যবয়সী আফ্রিকান মুসলিম বোনদের একটা গ্রুপ বসেছে। একবার এসে আমাদেরকে খেজুর দিয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর কফি অফার করছে। দেশে থাকা অবস্থায় পাশাপাশি বসা কাউকে বিশ্বাস করা যায় না, আর এখানে কেউ কিছু দিতে চাইলে যদি নিতে অস্বীকার করে তাহলে অপর পক্ষ খুব মন খারাপ করে। মক্কায় আমরা একটা রোজা রেখেছিলাম। ইফতার ও নামাজ শেষে আমাদের সামনে বসা দুই বয়স্ক এরাবিয়ানের কান্ড-কারখানা এখনো আমার চোখে ভাসে। কেন যেন তাদের খুব ইচ্ছে হলো আমাদেরকে কিছু দেয়ার! প্রথমে রুটি সাধলো, আমরা তখন নতুন, এসব ব্যাপার বুঝতাম না। মানা করলাম। ওরা মন খারাপ করলো। আবার চা অফার করলো। এবারও মানা করলাম, ওরা চুপসে গেল। কিছুক্ষণ পর একটা করে টিস্যু দিলো। আর অফার না, এবার শুধু দিচ্ছে। সবাইকে এরাবিয়ান তুলশী দিলো। একটা মাউথফ্রেশনার চুইংগাম বের করে মা কে অফার করছিল। আমি কোরআন শরীফ পড়ছিলাম। মা আমার দিকে ইশারা করে আমাকে ডেকে দিলো। তাকিয়ে দেখি দাতবিহীন বুড়ি মহিলাটা চাবানোর অভিনয় করছে আর চুইংগাম এগিয়ে দিচ্ছে। অনেক্ক্ষণ ধরে ওদের কাজকর্ম দেখছি। এবার আর হাসি চেপে রাখতে পারলাম না। আমার হাসি দেখে বুড়িটাও হেসে দিলো।

আমরা শুধু কয়টা জুমআ' পেলাম, সেই হিসেব করি। সোম-বৃহস্পতিবার রোজা রাখা সুন্নত। মক্কা-মদিনায় অনেকেই এই রোজা রাখেন। ইফতার হেরেমে বসে করেন আর যার যার সাধ্যমতো আশেপাশের মুসল্লিদের মধ্যে খেজুর -পানি-বিস্কুট-কেক-রুটি ইত্যাদি বিলিয়ে সবাই একসাথে ইফতার করেন।

মন খুব খারাপ। সময় কতো তাড়াতাড়ি চলে গেল! শান্তির এই দিনগুলো কেন বারবার রিপিট হতে থাকে না! এশার নামাজের জামাতে শায়খ আহমেদ তালিব শোনালেন আল্লাহু সুবহানাহু ওয়াতাআ'লার সেই বাণী, মনকে শান্ত করে দেয়ার জন্য যা যথেষ্ট। সুরা আল-বাকারা'র শেষ ৩ আয়াত। আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ শান্তি দিয়েছেন, পথ দেখিয়েছেন। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট।

।১৪ ডিসেম্বর ২০১৮।

সকাল ৮টায় হোটেলে চেক-আউট। সকালে একবার শেষবারের মতো রিয়াজুল জান্নাতে যাওয়ার ইচ্ছে ছিল কিন্তু সম্ভব হয়নি। ফজরের নামাজ শেষে পুরো মসজিদ চত্বরসহ আমাদের পছন্দের জায়গাগুলোতে হেটে, রুমে ফিরলাম। সময়মত গাড়ি চলে এলো। ড্রাইভার বাংলাদেশি, জমজম পানি কেনার জায়গা দেখিয়ে দিলেন। বিদায় নিয়ে এয়ারপোর্টের ভিতর ঢুকলাম। ইমিগ্রেশনের কাজ শেষে যখন প্লেনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম, টিভি স্ক্রিনে তখন মসজিদে নববীতে জুমআ'র নামাজের প্রস্তুতি দেখাচ্ছিল।

নানু খুব খোশমেজাজে আছে। আমাদের দুই বোনের মন খুব খারাপ, খুব খারাপ। মনে হচ্ছে সব ছেড়ে আমাদের চলে যেতে হচ্ছে। মন এতো খারাপ কিন্তু কি আজিব! আজকে চোখে পানি নেই!

ফিরে আসতে হয়, তাই ফিরে এলাম। ১৫ দিন আগে উমরাহতে যাওয়ার সময় যে বাড়িঘরের মায়ায় কান্নাকাটি করেছি, আজ ফিরে এসে কোনো জিনিসের মায়া অনুভব করছি না। এই কয়দিন ফোন, ফেসবুক, ইমো থেকে দূরে ছিলাম। কাছের মানুষগুলো তাই যোগাযোগ করতে পারেনি। আবার শুরু হলো যোগাযোগ। সবাই বাসায় এসে দেখা করে যাচ্ছিল। নাহ, মায়া তবুও জন্মে নি। মক্কা-মদিনার গল্প করতে যে পছন্দ করে একমাত্র তার সাথেই কথা বলে একটু শান্তি লাগতো। মাথায় এখন শুধু এক চিন্তা, আবার কবে যাবো? তিন বছরের মধ্যে আবার উমরাহতে গেলে অতিরিক্ত ২০০০রিয়েল/৪৬০০০ টাকা দিতে হবে। রাগ হয় না এমন নিয়ম দেখলে!!??? সৌদি হজ্জ-উমরাহ মিনিস্ট্রিতে রাগ ঝেড়ে মেইল করেছি। শান্তু এবং শান্তিতে থাকার জন্য আরো কিছু করা দরকার। তাই, ব্লগে আইডি তৈরি করলাম।

প্রথমে do & Don't দিয়ে কিছু লেখা লিখলাম। এরপর মনে হলো, উচিত-অনুচিত শুনতে বা পড়তে আসলে তেমন ভালো লাগে না, যেমন ভালো লাগে কারো বাস্তব ঘটনা/অভিজ্ঞতা জানতে। আমার মনে আছে, উমরাহতে যাওয়ার আগে যখন বিভিন্ন খুটিনাটি বিষয় জানতে নেট সার্ফ করতাম তখন রিয়াজুল জান্নাত সম্পর্কে খুব সাদামাটা একটা লেখা পেয়েছিলাম। এক বোনের রিয়াজুল জান্নাত খুজে পাওয়া এবং সেখানে নামাজ পড়ার ঘটনা। এতো সাধারণ একটা লেখা কিন্তু আমার কাছে কেমন যেন সবকিছু জীবন্ত লাগছিল। কল্পনায় আমিও পারি জমাতে পেরেছিলাম সুদূর মদিনায়! কমপক্ষে ১ঃ৩০ ঘন্টা আমি কান্না করেছি, আল্লাহ যেন এই সৌভাগ্য আমাকেও দান করেন সেই আশায়। আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ দিয়েছেন। দেখেছি, অনেক কিছু শিখে এসেছি। লিখেছি যা, দেখেছি তার কয়েকগুণ বেশি। লেখাগুলো কারো উপকারে আসলে লেখার কষ্ট সার্থক হবে।

সামহোয়্যারইন ব্লগে এই লেখাটি আমার ১৫তম পোস্ট এবং শেষ লেখা। আমি তো ভেবেছিলাম ব্লগে আমার লেখা কোনো পাত্তাই পাবে না কিন্তু ঘটেছে উল্টা ঘটনা। চিনি না, জানি না, তবুও সবাই কতো আন্তরিক! ব্লগে লেখার বিষয়ে এখানকার ব্লগাররা সবাই এতো উৎসাহ দিবে জানলে ছদ্মনামে ব্লগে ঢুকতাম না। ব্লগে কাটানো সময়টুকু খুব ভালো লেগেছে এবং ভালো কেটেছে। প্রশংসা ও উৎসাহ দেয়ার জন্য সবাইকে অনেক ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন সবাই। জাজাকাল্লাহ খাইরান!


ছবি - আব্বুর তোলা

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১৪ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ৯:২৮

করুণাধারা বলেছেন: সব সময় মন্তব্য করা হয়নি, কিন্তু এই চমৎকার শিক্ষনীয় সিরিজের সাথেই ছিলাম। খুবই ভালো লেগেছে, অনেক কিছু জানলাম। আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।

এই লেখা কেন আপনার শেষ পোস্ট হবে? লিখতে থাকুন! কত কিছু আছে আপনার জানা, সেগুলো আমাদের সাথে শেয়ার করুন, ভালো থাকুন।

২| ১৪ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ১০:৫০

আকতার আর হোসাইন বলেছেন: প্লিজ, বিদায় নিবেন না... লিখে যান অবিরাম...

৩| ১৪ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ১১:৫৩

মা.হাসান বলেছেন: সত্যই আল্লাহ মহাপরিকল্পনাকারি, আমরা বুঝিনা।
সুরা বাকারার শেষ তিন আয়াত আমাদের উপর অনেক বড় নিয়ামত।
আল্লাহ আপনাদের পরিবারের সকলের ইবাদত কবুল করুন।
সিরিজটি খুব ভালো ছিল।

৪| ১৫ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ১:২৮

মাহমুদুর রহমান সুজন বলেছেন: আপনার ওমরা মকবুল হউক মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি। অনেক সুন্দর লিখনী ছিল আপনার সিরিজটি।

৫| ১৫ ই মার্চ, ২০১৯ রাত ৩:৩১

মাহমুদুর রহমান বলেছেন: আল্লাহ আপনার মংগল করুন।

৬| ১৫ ই মার্চ, ২০১৯ দুপুর ২:১০

রাজীব নুর বলেছেন: শেষ পাতা আবার কি?

লেখার তো শেষ নাই। অন্য কোনো বিষয় নিয়ে লিখুন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.