নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অশি

অশি › বিস্তারিত পোস্টঃ

সহাবস্থান

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৩ রাত ২:৪৪

'নাস্তিক' কোন গালি হতে পারে না- এরাও আসলে এক ধরণের বিশ্বাসেরই অনূসরক, কারণ যুক্তি দিয়ে স্রষ্টার অস্তিত্ব আছে বা নেই কোনটাই প্রমাণ করা যায় না। কেউ নাস্তিক হলে বাংলাদেশে তার ঠাঁই হবে না, তাকে মার খেতে হবে, কিংবা খুন করে ফেলা হবে- এসব যারা বলে তাদের মনে রাখা উচিত, এসব এমনকি মুখে বলাটাও কিন্তু শাস্তিযোগ্য অপরাধ! শাহবাগে নাস্তিক্-দের আনাগোনা বেশী হলেই তাদের দাবী-দাওয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে অসঙ্গত হয়ে যাবে- এটা তাই একদম হাস্যকর যুক্তি!



তাই বলে, নাস্তিক্যের সুযোগে কারো নিজের একান্ত ঘৃণার পাত্র উপুড় করে দেয়াতেও আমার ঘোর আপত্তি আছে। একই সাথে, ধর্ম আর রাজনীতি এক সাথে আমার পছন্দ নয় বলেই অন্য কেউ ধর্ম প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করতে পারবে না, সেটাও কিন্তু ঠিক নয়। মোটের উপর আমরা তো গনতন্ত্রে বিশ্বাস করি, নাকি? ইসলামিক কোন দল যদি সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন নিয়ে সংবিধান বদলে শরিয়া আইন চালু করে তাহলে নৈতিক দিক থেকে আমি তো আপত্তির কিছু দেখি না, পাবলিক চাইলে সেটাই মানতে হবে বৈকি! এটাই গনতন্ত্র!



হ্যাঁ সেটা যাতে না হয়, সে জন্য যে কেউ তার মতো করে তার মতবাদ প্রচার করতে পারে, কিন্তু আইন করে কারো রাজনীতি বন্ধ করাটা কি যুক্তিসঙ্গত? হ্যাঁ, দলটা যদি হয় জামায়াত- যে কখনো তার দেশবিরোধী ভূমিকার কথা স্বীকার করেনি, তার কথা ভিন্ন, ইস্যুটাও আলাদা, কিন্তু এর সাথে ধর্ম নিয়ে টানাহেঁচড়া করলে তখন উদ্দেশ্যের সততা নিয়ে প্রশ্ন জাগতেই পারে!



ধর্মীয় মূর্খতার সুযোগে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের এক হাত দেখে নেয়ার সুযোগ এখন সারা পৃথিবীর সবাই নিচ্ছে। সেই একই সুযোগ আমাদের দেশের ধর্মবিদ্বেষী নাস্তিকেরা নিলে পাবলিকের আবার খুব রাগ লাগে! তাও না হয় বুঝলাম, কিন্তু সারা পৃথিবীতে ধর্মের নামে বোমাবাজী করে বেড়ানোটা বন্ধ করাটা যে বেশী জরুরী সেটা কেন পাবলিক বোঝে না?



একই সাথে এটাও অবাক লাগে যখন দেখি আমার দু-একজন বিধর্মী বন্ধু সম্প্রতি হঠাৎ সেক্যুলার হয়ে গিয়ে দেশের ইসলামিক অনাচারকে এক হাত দেখে নিচ্ছে- এদেরই অনেককে এতদিন দেখেছি তাদের পূজ্যদের স্তুতি গেয়ে আর ইসলামের চার বিয়েকে কটাক্ষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট দিতে!



হিন্দুস্তানের লোকেরা যখন তখন, যেখানে সেখানে, হিন্দি-উর্দু-ইংরেজী সব ধরণের কলামে ইসলাম বিদ্বেষী কমেন্ট করে বেড়ায়, যৎপরোনাস্তি সেটা নাহয় মানতেই হয়, কিন্তু আমারই দেশে্র ভিন্নধর্মাবলম্বীরা যখন সুযোগ পেয়ে একই কাজ করেন, তখন মনে করিয়ে দিতে ইচ্ছে হয়- যে ভদ্রলোক তো এইখানে লিখেই খালাস, কিন্তু এর খেসারত তো দিতে হয় দেশ জুড়ে থাকা অসহায়, দরিদ্র সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে! কারণ, দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে একটা বিষয় আমাদের দেশের মানুষের সবারই সার্বজনীন- সেটা হল সহিষ্ণুতার অভাব। “আহ, এই সুযোগে ব্যাটাদের ছুঁড়ে দিলাম একটা মোক্ষম পাঞ্চ” – অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বসা বন্ধুটির এই বিকৃত আত্মতৃপ্তির বলির পাঁঠা হতে হবে সাতকানিয়ার অজ-পাড়াগাঁর মন্দিরের কোন এক অসহায় পুরুতকে, সেটা কি এই স্থূলবুদ্ধির লোকটার মাথায় কোনদিন ঢুকবে?



আমাকে যারা ব্যক্তিগতভাবে চেনে, তারা সবাই জানে, ধর্মীয় বিভেদ আমার ব্যাক্তিগত জীবনকে নানা সময় নানাভাবে প্রভাবিত করেছে। ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে একটা স্তরে গেলে বোঝা যায়, আমাদের সহমর্মিতা আর সৌহার্দ্য সীমা ছাড়িয়ে কোথায় মিশে যেতে পারে! কিন্তু সেটা না করে, সাধারণতঃ আমরা আমাদের হিংসাকেই বেছে নেই, ভুলে যাই আমাদেরই মহাপুরুষেরা যুগে যুগে আমাদের ক্ষমা করতে আর ভালোবাসতে শিখিয়ে গেছেন। ধর্ম যদি এতই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে আমাদের জীবনে, তাহলে সেই ধর্মের দোহাই দিয়েই বলতে হয়- আমাদের ক্ষমা করতে এবং চাইতে শিখতে হবে, ভিন্নধর্মীদের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা পেতে গেলে আগে নিজেকে তার যোগ্য হতে হবে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.