নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মঞ্জুর চৌধুরী

আমি ঝন্ঝা, আমি ঘূর্ণি, আমি পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’। আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ, আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ। আমি হাম্বার, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল, আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’ পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’ ফিং দিয়া দিই তিন দোল; আমি চপলা-চপল হিন্দোল। আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা, করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পান্জা, আমি উন্মাদ, আমি ঝন্ঝা! আমি মহামারী আমি ভীতি এ ধরিত্রীর; আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ন চির-অধীর! বল বীর - আমি চির উন্নত শির!

মঞ্জুর চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

জীবনের ছোটছোট ঘটনা ও মিরাকেল।

১৭ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১১:০০

একটা অতি ছোট ঘটনা বলি। বড় ঘটনা একারনেই বলছি না যাতে উদাহরণটা একদম ঠিকঠাকভাবে ফিট করে।
রমজান মাস শেষ হবার পরে আমাদের মুসলিমদের জন্য বেশি সোয়াব কামাবার জন্য একটি দুর্দান্ত অপশন খোলা থাকে। সেটি হচ্ছে, পুরো মাস রোজা রাখার পরে রমজান পরবর্তী শাওয়াল মাসের যেকোন ছয়দিন (প্রথম দিন বাদে, কারন ঐদিন ঈদ এবং ঈদে রোজা রাখা হারাম) রোজা রাখলে পুরো বছরে রোজা রাখার সাওয়াব পাওয়া যায়। মাত্র ছয়দিন রোজা রাখা এমন কোন কঠিন কর্ম না, কিন্তু পুরস্কার হিসেবে পুরো বছরের সাওয়াব অনেক বড় কিছু।
লোভনীয় এই অফারটা প্রতিবছর নেয়ার চেষ্টা করে থাকি। এইবারও ব্যতিক্রম ছিল না। প্রথম পনেরো তারিখের মধ্যেই পাঁচটা রোজা রাখা শেষ হয়ে যায়, এবং তারপরেই ঢিলামি করতে শুরু করি। একটা রোজাইতো রাখতে হবে, দিনতো কম নেই।
পরে দেখা গেল মাসের একদম শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি। বলতে গেলে একদম শেষ দিনে এসে রাখলাম রোজা। এবং কী দুর্ভাগ্য! অফিসে যাবার
জন্য গাড়িতে উঠতে যাব, এই সময়ে এক দুর্ঘটনায় আঘাত পেলাম এবং গলগল করে রক্ত গড়িয়ে পড়লো। রোজা ভেঙে গেল। মনে মনে হায় হায় করে উঠলাম। ছয় নম্বরটাতে এসেই এটা ঘটতে হলো? এবং তাও একদম শেষ দিনে?
মনটা খারাপ হয়ে গেল।
টেকনিক্যালি শাওয়াল মাস তখনও শেষ হয়নি। ২৯ তারিখ চলছে। সন্ধ্যায় চাঁদ দেখা না গেলে পরবর্তী দিন আরেকটা অপশন পাওয়া যাবে। নাহলে এবারের মতন চান্স হাত থেকে গেল।
মনে মনে দোয়া করছি, আজ যেন চাঁদ দেখা না যায়। আমাকে যাতে আরেকটা সুযোগ দেয়া হয়!
মাগরেবের সময়ে নামাজ পড়ারও আগে দুরুদুরু বুকে একবার পশ্চিম আকাশে চোখ বুলালাম। চাঁদ নেই!
নামাজ শেষে আরেকবার চোখ বুলালাম। নাই!
কী আনন্দ! এশার নামাজের আগে আগেও আরেকবার দেখলাম আকাশে। চাঁদ নেই! মানে আগামীদিন আমি আরেকটা সুযোগ পেলাম! আল্লাহু আকবার!
এখন মনে মনে আমি খুশি হতে পারি এই ভেবে যে শুধুমাত্র আমার জন্যই আল্লাহ পুরো বিশ্বের ক্যালেন্ডার পাল্টে দিলেন। ব্যাপারটা কিন্তু ফেলনা নয়। আমি আল্লাহর কাছে তেমনই স্পেশাল কেউ!
এইভাবে ভাবলে টেকনিক্যালি খুব একটা ভুলও হবেনা, কারন প্রতিটা সৃষ্টিই আল্লাহর কাছে স্পেশাল। নবী রাসূলগণ যেমন, তেমনি রাস্তায় হেঁটে যাওয়া ভিখারিও তেমন। এমনকি চিনির দানা নিয়ে হেঁটে যাওয়া যে পিঁপড়া - সেটিও কিন্তু ফ্যালনা নয়।
নিজেকে কখনই কোন অবস্থাতেই abandoned ভাববেন না। তাঁর কাছে আপনি নিজেও কিন্তু আসলেই স্পেশাল।
আবার এভাবেও চিন্তা করে দেখুন, সাধারণভাবে ছয়টা রোজা রাখলে আমার জীবনে কোন তরঙ্গ ঢেউ তুলতো না।
"যাক! ছয়টা রোজা রাখার কথা, রেখে ফেলেছি - এখন রিওয়ার্ড পেলেই ভাল।"
কিন্তু এই যে ছোট্ট একটি ঘটনা, শেষ মুহূর্তে চরম নাটকীয়তা, একটি নফল রোজা রাখার জন্য একটি এক্সট্রা দিন উপহার পাওয়া আমার মনের মধ্যে যে কী আনন্দ এনে দিয়েছে সেটা বুঝাতে পারবো না। রমজানের পুরো মাস রোজা রাখা বা অন্যান্য অনেক ঘটনাতেই এতটা আনন্দিত হইনি কখনও। এই ঘটনা (আমার দোয়া করা) না ঘটলেও এমনিতেও কিন্তু সেদিন আকাশে চাঁদ উঠতো না, ব্যাপারটা ছিল পূর্বনির্ধারিত, আল্লাহর কদর। কিন্তু সেই ঘটনার সাথেই আমাকে আল্লাহ এমনভাবে জুড়ে দিলেন, আমি নিজেকে স্পেশাল ভেবে বসলাম। অনুভব করলাম তিনি আমাকে কতটা ভালবাসেন। আলহামদুলিল্লাহ!
জীবনে এমন অনেক উপহার আমরা পাই যার কদর আমরা কখনই করিনা। সেটা উপলব্ধি করাতেই মাঝে মাঝে আমাদের জীবনে এইরকম টোকার প্রয়োজন পরে। অমাবস্যা না এলে জোছনার কদর যেমন আমরা কখনই করতাম না - ব্যাপারটা অনেকটা তেমনই।
একারনেই আল্লাহ বলেন, তিনিই শ্রেষ্ঠ কৌশলী। পুরো পৃথিবী চলছে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায়। প্রকৃতির সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হলে হতে পারেন, কিন্তু প্রাকৃতিক নিয়ম ও কৌশলে আপনাকে নির্বাক হতেই হবে।
এখন ঘটনা অন্য দিকে মোড় নেয়ানো যাক।
ধরুন আপনার বিরুদ্ধে কেউ ষড়যন্ত্র করলো। আপনাকে বাড়ি থেকে বের করে দিল, শহর ছাড়া করলো। আপনার কিন্তু ভেঙে পড়ার কিছু নেই। মনে রাখবেন, যে যতই পরিকল্পনা করুক না কেন, সবার উপরে যিনি আছেন, তাঁকে খুশি করাটাই আপনার দায়িত্ব। তাঁর উপর ভরসা রাখুন, সীমালঙ্ঘন করবেন না, তিনি একদিন সব ফিরিয়ে দিবেন। এবং মুগ্ধ হয়ে উপলব্ধি করবেন ষড়যন্ত্রী যেই অস্ত্র দিয়ে আপনাকে ঘায়েল করার চেষ্টা করেছিল, সেই অস্ত্রই বরং আপনার ঢাল হয়ে আপনাকে পুরস্কার দান করছে।
নবীদের জীবনী থেকে উদাহরণ দিলে প্রথমেই আসে হজরত ইউসুফের (আঃ) ঘটনা। তাঁর আপন ভাইয়েরা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুয়ায় ফেলে দিল। সেখান থেকে তাঁকে ক্রীতদাস হিসেবে নিয়ে বিক্রি করে দেয়া হলো মিশরে। তারপর তাঁর মালিকের স্ত্রী ষড়যন্ত্র করে তাঁকে জেল খাটালেন। এবং তারপরে গিয়ে নানান ঘটনা শেষে তিনি মিশর সম্রাটের প্রধান এডভাইজার হয়ে গেলেন, খাদ্যমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়ে গেলেন।
সাত বছরের ভয়াবহ খরা সত্বেও প্রাণ রক্ষা পেল হাজার হাজার মানুষের কারন এককালে একটি শিশু কুয়ায় নিক্ষেপিত হয়েছিল।
আমাদের নবীর (সঃ) জীবনীতেও এমন ছোট বড় ঘটনা যা পরবর্তীতে ইতিহাস পাল্টে দিয়েছে এমন উদাহরণ প্রচুর। সবচেয়ে সহজটা হচ্ছে তাঁর হিজরতের ঘটনা। আগের রাতেও যাকে তাঁর নিজের বাড়িতে হত্যা করতে এলো তাঁর শহরবাসী - একদম নিঃস্ব অবস্থায় খালি হাতে একটি অচেনা শহরে গিয়ে উপস্থিত হলেন, সেই শহরেই তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন। ইসলামের ইতিহাস পাল্টে গেল তাঁর হিজরতের ঘটনায়। ইসলামে এই ঘটনা এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে ইসলামের ক্যালেন্ডারে দিন গণনা শুরু হলো এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই।
আপনার জীবনেও কিন্তু অনেক ছোট বড় ঘটনা ঘটে। কিছু আপনি উপলব্ধি করেন, বেশিরভাগই আপনার অগোচরে স্মৃতি থেকে হারিয়ে যায়। কখনও কী ভেবেছেন আপনি আজ যে অবস্থানে এসে পৌঁছেছেন, পেছনে কত সূক্ষ্মভাবে কেউ কিভাবে কলকাঠি নেড়ে আপনাকে এ অবস্থানে এনেছেন? হয়তো কোন একটি স্কুলে/বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাননি বলে আপনার মনে হয়েছিল জীবন শেষ হয়ে গেছে। পরবর্তীতে দেখলেন সেই ফেইলরটাই আপনার জীবনের মোড় পাল্টে দিয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাদা দীর্ঘদিন অ্যামেরিকায় বাস করে নিজ দেশে ফেরত গিয়েছিলেন, কিন্তু বেচারাকে নিজ দেশের সরকার দেশদ্রোহী খেতাব দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন। ভগ্ন মনোরথে তিনি ফেরত এসেছিলেন অ্যামেরিকা। এবং মাত্র এক জেনারেশন পরেই তার নাতি আজকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী চেয়ারে বসে আছেন।
খারাপ মানুষের উদাহরণ দিলেও ঐ যে বললাম, কেউই কিন্তু আল্লাহর চোখে ফ্যালনা নয়। ট্রাম্পকে দিয়েও তিনি এমন কিছু কাজ করাবেন, যেটা সাধারণ চোখে ভাল মানুষদের দিয়ে কখনই সম্ভব হতো না। আবু তালিবকে দিয়েই তিনি নবীর (সঃ) হেফাজত করিয়েছিলেন। ইউসুফের ইউসুফ (আঃ) নবী হবার পেছনে তাঁর ভাইদের হিংসার অবদান কোন অংশেই কম নয়। নবীজির (সঃ) হিজরতের পেছনে আবু জাহেলই দায়ী ছিল।
তাঁর কৌশলের উপর ভরসা রাখতে পারেন। সেই সাথে যে যা কর্ম সাধন করবে, সবাই তার কর্মফল পাবে।
মাঝে মাঝে ভাবতে বসুন, দেখবেন আপনার নিজের জীবনটা কোন টানটান উত্তেজনাপূর্ণ থ্রিলার উপন্যাস থেকে কোন অংশেই কম না। একসময়ে যে কষ্টের কারনে মরে যেতে ইচ্ছে হতো - আজ সেই কষ্টের কথা স্মরণ করেই আপনার ঠোঁটে হাসি ফুটে।
জীবন উপভোগ করার এইতো শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। আরও ভাল হয় যদি এইসব ঘটনা লিখে রাখতে শুরু করেন। ভালভাবে লিখলে, একদিন আপনিই হয়ে যাবেন দেশ বরেণ্য লেখক।

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১২:১৪

ফেনা বলেছেন: সুন্দর++

১৮ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:০৪

মঞ্জুর চৌধুরী বলেছেন: :)

২| ১৮ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১:৫২

বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: চমৎকার লিখেছেন...

১৮ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:০৪

মঞ্জুর চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ! :)

৩| ১৮ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ৯:৪২

কাইকর বলেছেন: সুন্দর লেখা

১৮ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:০৪

মঞ্জুর চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ :)

৪| ১৮ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ৯:৫৪

রাজীব নুর বলেছেন: মানুষের প্রকৃত সৌন্দর্য ধারন করে মনের মধ্যে,আর স্বভাব কেবল তার পরিস্ফূটন করে অবয়বে,তাইতো সুন্দরের নির্ধারিত
সংজ্ঞা নেই!

১৮ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:০৫

মঞ্জুর চৌধুরী বলেছেন: ধন্যবাদ। :)

৫| ১৮ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ৯:৫৫

মোঃ মাইদুল সরকার বলেছেন:
+++++

১৮ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:০৪

মঞ্জুর চৌধুরী বলেছেন: :):)

৬| ১৯ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১২:২২

সুমন কর বলেছেন: কেমন আছেন? ভালো লিখেছেন।

১৯ শে জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:৩৪

মঞ্জুর চৌধুরী বলেছেন: আলহামদুলিল্লাহ, আমি ভাল থাকি সবসময়। :)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.