নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মঞ্জুর চৌধুরী

আমি ঝন্ঝা, আমি ঘূর্ণি, আমি পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’। আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ, আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ। আমি হাম্বার, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল, আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’ পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’ ফিং দিয়া দিই তিন দোল; আমি চপলা-চপল হিন্দোল। আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা, করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পান্জা, আমি উন্মাদ, আমি ঝন্ঝা! আমি মহামারী আমি ভীতি এ ধরিত্রীর; আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ন চির-অধীর! বল বীর - আমি চির উন্নত শির!

মঞ্জুর চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

ঘুষ না খেয়ে ভিক্ষা করেই টাকা কামাক। হালাল উপার্জন।

২২ শে জুলাই, ২০২৪ রাত ১০:৫৪

প্রথমেই ডিসক্লেইমার, না আমি, না আমার পোলাপান কোন সরকারি চাকরি প্রত্যাশী। বাংলাদেশে শুধুমাত্র মিলিটারির চাকরির দিকে আমার লোলুপ দৃষ্টি ছিল, সেখানে যখন ফিজিক্যালি আনফিট হয়েছিলাম, বুঝে নিলাম ওটা আল্লাহর প্ল্যান ছিল। তাই সেসব থেকে হাত ধুয়ে ফেলেছি। কাজেই কোটা নিয়ে আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে বিন্দুমাত্র স্বার্থ জড়িত নেই। যা বলি, নিজে যা বুঝি তাই বলি। দ্বিমত করতেই পারেন, কিন্তু আগে নিজেকেই প্রশ্ন করবেন, নিজের স্বার্থের উর্দ্ধে উঠে বলছেন তো?

১. একটি দেশে কোটার প্ৰয়োজন কেন ও কখন হয়?
আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটেই ধরা যাক।
দেশ যখন স্বাধীন হলো, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অবশ্যই কোটার প্রয়োজন ছিল। উনারা জীবন বাজি রেখে, সর্বস্ব খুইয়ে, সর্বোচ্চ মূল্য দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন। দেশের প্রতি তাঁদের অধিকার সবচেয়ে বেশি।
চাকরি পাওয়ার পরেও হয়তো দেখা গেছে তাঁদের ছেলেমেয়েরা নানা দিক দিয়ে পিছিয়ে আছেন। আমি ছোটবেলা থেকেই এমন বহু সরকারি কর্মচারীদের দেখে বড় হয়েছি যারা টিনের চালার বেশি কোন সম্পদ গড়তে পারেননি। তাও ভাড়া বাসায় থেকেছেন। অথচ উনাদেরই চোর বাটপার সহকর্মীরা দেশ লুটে ফেলেছে। তাই সেসব সৎ অফিসারদের বাচ্চারা সামাজিকভাবে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকবেই। তাই তাঁদের জন্যও এই কোটার প্ৰয়োজন ছিল।
তাছাড়া উনাদের বাবা মা আমাদের জন্য স্বাধীন দেশ এনে দিয়েছেন, সেজন্য উনাদের প্রতি আমাদের সর্বোচ্চ কৃতজ্ঞতা থাকেই। ওরা অবশ্যই সরকারি চাকরি পাবেন, নিজেদের অবস্থান উন্নত করার অগ্রাধিকার পাবেন।
এখন নাতি পর্যন্ত যখন ইস্যু টানা হচ্ছে, তখন লোকে আপত্তি করছেন। কারন, বাপ, দাদা দুইজনই অগ্রাধিকার পাবার পরেও যদি তোমরা পিছিয়ে থাকো, তাহলে ব্যর্থতা সমাজের বা সরকারের না, ব্যর্থতা তোমাদের। তোমাদের দিয়ে যখন তিন জেনারেশনে কোন উন্নতি হয়নি, ভবিষ্যতেও হবেনা।
তাছাড়া, দেশে পঞ্চাশ হাজারের বেশি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার খবর পাওয়া গেছে। এইটা বিশাল সংখ্যা এবং এখানেই সবার আপত্তি। ভুয়া সার্টিফিকেট দেখিয়ে লোকে কোটা পদ্ধতির ভুল ফায়দা তুলবে, তাহলেতো সেটা প্রচন্ড অন্যায় হবে। এখন ধরা যাক আমার দাদা/নানা মুক্তিযোদ্ধা নন। কিন্তু আমার বাবা নিজের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে উনার জন্য মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে ফেলেছেন। এবং আমিও সেই সার্টিফিকেট ব্যবহার করে সরকারি চাকরি বাগিয়ে নিলাম। এখানে বিষয় এইটা না যে আমি মেধাবী নাকি অমেধাবী। বিষয়টা এই যে আমি মিথ্যা/ভুয়া সার্টিফিকেট ব্যবহার করে চাকরি বাগিয়েছি। অনেক "বুদ্ধিজীবী" যে প্যান প্যান করছেন যে "যারা ঐ পর্যায় পর্যন্ত যায়, তাঁরাতো মেধাবীই, তাহলে চাকরি পেতে সমস্যা কোথায়?" এইসব কূপমণ্ডুক বুদ্ধিজীবীরা নিজের দলীয় স্বার্থের বাইরে বিন্দুমাত্র চিন্তা করার ক্ষমতা রাখে না। নিজেদের এথিক্স নাই বলেই এথিক্সকে গণাতেই ধরে না।

এদিকে সরকার ও দলীয় লোকজন প্রচার করছে, কোটা সংস্কারীরা মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করছে। সহীহ/ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাতিরা যেন কোটা পদ্ধতির ভুল ফায়দা না তুলতে পারে, তা নিয়ে এই আন্দোলন। এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হলো কোথায়? আমরা দেখি বর্ণপ্রথা থেকে বেরোতেই পারছি না। ব্রাক্ষনের পোলা যা খুশি করুক, ওর সমস্যা নাই। শূদ্রের পোলাকে স্পর্শ করাও পাপ! কোন পর্যায়ের জাহিলী মূর্খ হলে এই যুগেও সমাজে এমন বর্ণপ্রথা ধরে রাখে! এদের এত ক্ষুদ্র মানসিকতা কেন? নাকি ইন্টেনশনাল? "ও, তুমি মাজার পূজা করো না? অমুক তমুককে আল্লাহর অলি মানো না? তাহলে নিশ্চই তুমি কাফের!" এই ধরনের উগ্র ধর্মান্ধের সাথে এই ফ্যানাটিক রাজনৈতিকের পার্থক্য কোথায়?

এখানে একটা ষড়যন্ত্র থিওরিও সামনে আসছে। সেটি হচ্ছে, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট দেখিয়ে সরকার মূলত নিজের লোকেদের প্রশাসনে বসাতে চায়, যাতে ক্ষমতা হাতের মুঠ না ফস্কায়। সার্টিফিকেটদাতা যেহেতু ওরাই, এর ফায়দাও ওরাই তুলে। গুজব হিসেবে উড়িয়েও দেয়া যায়না। যে ডেস্পারেশন ওরা দেখিয়েছে, সত্য হতেই পারে।

২. এখন কথা হচ্ছে, কোর্টতো রায় দিয়েই দিয়েছে, কোটা বাতিল। এখন কি?
সমস্যা হচ্ছে, এই রায়ের মাধ্যমে চমৎকার একটি ডিভাইড এন্ড রুল গেম খেলা হয়ে গেল।
প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠী ইত্যাদি কোটা বাতিল হওয়ায় এখন ওরা বলবে, "কোটা সংস্কারকারীরা আমাদের বারোটা বাজিয়েছে। ওদের ধর!"
সরকার ওদের কাছে গিয়ে বলবে, "আমরাতো তোমাদের পক্ষেই ছিলাম, দেখো - ওরাই তোমাদের হক বাতিল করেছে।"
সরকার হিরো হয়ে যাবে, এরা হবে ভিলেন। দেশে কেওসটা লাগবে, এবং সরকার শাসন ধরে রাখবে। ব্রিটিশরা ঠিক এই পদ্ধতিতে দুইশ বছর শাসন করেছে। আওয়ামীগতো মাত্র ১৫-২০ বছর হলো।

৩. এই ছবিটা ব্যবহার করা হচ্ছে কোটার প্রয়োজনীয়তা বুঝাতে। এখানে পিচ্চিটা, বা বেটে কিশোরটা দুইজনই দেশের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধীদের রিপ্রেজেন্ট করতে পারে, কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের নাতিদের কখনই নয়। দুই জেনারেশন ধরে কোটা পদ্ধতির ফায়দা তুলে ওরা এখন ধামরা ছাওয়াল, এখন ওদের কোটা কোটা করে কান্নাকাটি করা অনেকটা প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্দকৃত আসনে কোন সুস্থ সবল ব্যক্তির বসার আবদারের মতন অতি ফালতু আর নির্লজ্জ আবদার। মেরুদন্ড শক্তওয়ালা কেউ যার কোন স্বার্থ নেই, সে এমন আবদার করেনা। সে বলবে, আমার দুই হাত আছে, মাথায় মস্তিষ্ক আছে। আমি সাধারণ মানুষের সাথেই প্রতিযোগিতা করবো, নিজের যোগ্যতা প্রমান দিয়েই নিজের অবস্থান গড়ে নিব। যদি সরকারি চাকরি নাও পাই, নিজের পরিশ্রমে দুইবেলা খাওয়ার সক্ষমতা আমার আছে।
যার এই মেন্টালিটিই নাই, সেতো ভিক্ষুক! ফকির! বিদেশে গিয়ে "very poor country, please help" - ছাড়া আর কিছুই করতে পারবে না। এগুলিকে আমলা বানানোর মানে কি? হাইকোর্টের সামনে থালা হাতে বসে যাক। ভুয়া সার্টিফিকেট দেখিয়ে সরকারি পদে গিয়ে ঐ দুর্নীতি করারইতো মানসিকতা। বরং ভিক্ষা করেই টাকা কামাক। হালাল উপার্জন।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৩ শে জুলাই, ২০২৪ সকাল ৮:৩৭

নব অভিযান বলেছেন: ভালো লেখাগুলোতে কমেন্ট কম।

২| ২৪ শে জুলাই, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:৫৩

অক্পটে বলেছেন: এত সুন্দর লেখা কিন্তু কমেন্ট নাই। বুঝাই যায়, এটা কাদের ব্লগ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.