নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মঞ্জুর চৌধুরী

আমি ঝন্ঝা, আমি ঘূর্ণি, আমি পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’। আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ, আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ। আমি হাম্বার, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল, আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’ পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’ ফিং দিয়া দিই তিন দোল; আমি চপলা-চপল হিন্দোল। আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা, করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পান্জা, আমি উন্মাদ, আমি ঝন্ঝা! আমি মহামারী আমি ভীতি এ ধরিত্রীর; আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ন চির-অধীর! বল বীর - আমি চির উন্নত শির!

মঞ্জুর চৌধুরী › বিস্তারিত পোস্টঃ

সনজিদা খাতুনের শেষকৃত্য

২৭ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ১০:০৪

আমি যেমন একজন মুসলিম, আমি যখন মারা যাব, আমার এক্সপেক্টেশন থাকবে আমাকে গোসল দিয়ে কাফনে মুড়িয়ে জানাজার নামাজ পড়ে আমাকে কবর দেয়া হবে। আমি খুবই ধন্য হবো যদি জানাজার নামাজের ইমামতি আমার কোন ছেলে করে। ইসলামী মতে একজন বাবা বা মায়ের জন্য পরম সৌভাগ্যের ঘটনা এইটা যে ওর জানাজার ইমামতি তাঁরই সন্তান করছে।
আমারও ইচ্ছা এটাই, বাকিটা আল্লাহর উপর।
তেমনই আমার খ্রিষ্টান কলিগ যখন মারা যায়, ওর ফিউনারেল চলে ওর ধর্মমতে। আমেরিকার আসার পরে দেখেছি ক্যাথলিকরা যেভাবে ফিউনারেল করে, প্রেসবাইটেরিয়ানরা একটু ভিন্নভাবে করে, আবার মেথোডিস্টদের ফিউনারেল হয় একটু ভিন্নরকম। সবার ঘটনাই এক, শুধু সূক্ষ্ম কিছু পার্থক্য ছাড়া। কেউ মরলে তাই আগে জানতে চায় ও কোন চার্চের অনুসারী ছিল। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা হয়।
হিন্দু কেউ মারা গেলে সে নিশ্চই কামনা করবে না জানাজা পড়িয়ে কাফনে মুড়িয়ে ওকে মুসলিম গোরস্থানে দাফন করা হোক। যেমনটা কোন মুসলিম চায়না মৃত্যুর পরে চিতায় পুড়তে।
আমাদের দেশে "অভিশ্রুতি" নামের এক মেয়ে কয়েক বছর আগে আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছিল। সে জন্মগত মুসলিম হলেও পরে নাকি হিন্দু হয়েছিল। তখন ওর ফিউনারেল নিয়ে গোল বেধেছিল। বাবা মা চায় কবর দিতে, হিন্দু সমাজ চায় সৎকার। সমাধান হচ্ছে, সে যদি হিন্দু হয়ে যায়, তাহলে ওকে হিন্দু মতেই আগুনে পুড়াতে হবে। ওকে যদি যমযম পানিতে ডুবিয়ে কাবার গিলাফে মুড়িয়ে জান্নাতুল বাকি গোরস্থানেও কবর দেয়া হয়, তবুও ওর কোন লাভ হবেনা।
তেমনই কেউ একজন বেঁচে থাকতে যদি ধর্মকর্ম না করে থাকেন, আল্লাহ, ভগবান/ঈশ্বর বিশ্বাসী না হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁর মৃত্যুর পরে জানাজার নামাজ আদায় করা, দাফন, কাফন, কুলখানি, দোয়া মিলাদ মাহফিল ইত্যাদি পালন করা একপ্রকার ভণ্ডামি এবং ওর বিশ্বাসের প্রতিই অসম্মান। ইসলামিক মতে পরকাল নিয়ে কিছু করতে চাইলে বেঁচে থাকতেই করতে হবে। বরং ওর পরিবারের উচিত ওর মতানুসারেই ওর শেষকৃত্য পালন করা।
বহু নাস্তিকের অবস্থা এই দেখেছি যে জীবিতাবস্থায় ঈমান, আল্লাহ, রাসূল, ফেরেস্তা, আখিরাত, জান্নাত জাহান্নামের প্রতি বিশ্বাস না রাখলেও যখন সে মারা যায়, ওর পরিবার, আত্মীয়, স্বজন, বন্ধুবান্ধব একদম শরিয়া অনুযায়ী ওর দাফন কাফনের জন্য ব্যস্ত হয়ে ওঠে।
আবার একই সাথে, জুলাই আন্দোলনের আবু সাঈদ, যতদূর শুনেছি জীবিতাবস্থায় ও মঙ্গল শোভাযাত্রার বিরোধিতা করলেও মৃত্যুর পরে এখন শুনছি এই বছরের মঙ্গল শোভাযাত্রায় ওরই প্রতিমা/মূর্তি/পুতুল নিয়ে শোভাযাত্রা করা হবে। এইসব কি রে ভাই?
শিল্পী সনজিদা খাতুনের পরিবার, আত্মীয়, বন্ধুবান্ধব যেটা করেছেন, সেটাই ঠিক। উনি যা চেয়েছেন, যে বিশ্বাস ধারণ করতেন, সেটাই করা হয়েছে। আমারও বরাবরেরই বিশ্বাস, যারা নাস্তিক, পরকালে বিশ্বাসী নন, তাঁদের উচিত মরণোত্তর দেহ দান করে যাওয়া। ওদের কিডনি, লিভার, চোখ সহ অন্যান্য অর্গান কারোর চিকিৎসায় কাজে লাগে। এবং তাদের দেহ, কংকাল মেডিকেলের ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার কাজে লাগে। সবচেয়ে বড় কথা, এর ফলে কবর থেকে লাশ চুরির প্রয়োজনও ফুরায়।
কোন জীবিত মানুষকেই যেখানে জোর করে মুসলিম বানানোর উপায় নেই, বাঙালি সেখানে একজন মৃতাকে ধর্মপ্রাণ মুসলিম বানানোর জন্য হাহাকার করছে।
হযরত আলীর (রাঃ) বাবা এবং আমাদের নবীজির (সঃ) প্রিয়তম চাচা আবু তালিব যখন মারা যান, তখন তাঁর শেষকৃত্য কুরাইশ পৌত্বলিক নিয়মেই পালিত হয়েছিল। আলী (রাঃ) সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তবে কোন "পৌত্তলিক ইবাদতে" বা "ধর্মীয় রীতিতে" অংশ নেননি।
কালকে তসলিমা নাসরিন মরলে ওরও কি জানাজা/কবর ইত্যাদি হবে? কতটা হাস্যকর হবে ঘটনাটা!

মন্তব্য ৯ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৯) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ১০:২৭

চেংগিস খান বলেছেন:



তসলিমা জীবিত আছেন, উনাকে শতকোটী মানুষ সন্মান করেন। উনার সম্পর্কে আপনার কোন ধারণাই নেই। আপনার সম্পর্কেও আপনার ধারণা সঠিক নয়।

২| ২৭ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ১০:২৮

চেংগিস খান বলেছেন:



হযরত আলীর বাবার মৃত্যুর পর কিভাবে কি হয়েছে, উহা ইতিহাসের কোথায়ও নেই।

৩| ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ১:১৬

ঋণাত্মক শূণ্য বলেছেন: এ বিষয়ে আপনার আর আমার মতামত মিলে যায়। আমিও এমনটিরই পক্ষে।

বাংলাদেশে একাধিক নাস্তিককের মৃত্যুর পর তাকে ইসলামী কায়দায় দাফন-কাফন করা হয়েছে। আমি প্রতিবারই বলেছি এটা তার প্রতি চরম অন্যায় ও চুড়ান্ত অপমান করা হয়েছে। যে ইসলেমেই বিশ্বাস করে না, তাকে তার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দাফন-কাফন করাটা তার উপর অন্যায় ও তাকে অপমান করা।

৪| ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ১:৫৯

বাকপ্রবাস বলেছেন: আবু সাইদ এর পরিবার প্রথম থেকেই বলে আসছে তারা ধর্মপ্রাণ, তাদের ছেলের কোন মূর্তি, প্রতিক এসব চায়না, এবং শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়ে শোভাযাত্রা বন্ধ করা হয়েছে।
কবির সুমন এর কথা মনে পড়ল, তিনি মরনোত্তর তার দেহ দান করে দিয়েছিলেন কিন্তু সম্প্রতি মত পাল্টিয়ে কবর দিতে বলেছেন।

৫| ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ রাত ২:২২

ফিনিক্স! বলেছেন: সুন্দরভাবে বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করেছেন, আমিও আপনার সাথে একমত। ধন্যবাদ।

৬| ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ সকাল ১১:০৮

শায়মা বলেছেন: একদম ঠিক লিখেছো ভাইয়া!

আমাদের দেশের মানুষের মাঝে মাঝে মনে হয় ফোপর দালালী ছাড়া চলেই না....

৭| ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ দুপুর ১২:১৩

রাজীব নুর বলেছেন: আপনি সব কিছুর সাথে ধর্ম মিলান কেন?

৮| ২৮ শে মার্চ, ২০২৫ দুপুর ১:৩৯

রাসেল বলেছেন: সহমত পোষণ করছি। প্রত্যেকেই তার নিজস্ব ধর্মীয় রীতিনীতি অথবা ধর্মহীনতা অনুসরণ করবে। আমরা যা করি তা হলো, অন্যের ধর্মকে মিথ্যা অপবাদ দেই।

৯| ২৯ শে মার্চ, ২০২৫ দুপুর ২:০৯

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
মৃত্যুর পর কোন কায়দায় দাফন-কাফন করা নিয়ে কটাক্ষ করা ঠিক নয়।
জানাজা কবর ইত্যাদি নিয়ে মুসলমানদের গর্ব করার কিছু নেই।
ইসলামও বিভক্ত হয়রছে হজরত মোহম্মদ (স) বেচে থাকতেই। ৭২ ভাবে বিভক্ত হয়েছিল। এখন শতাধিক।
নবীকে দলীয় কোন্দলে বিষপ্রয়গে হত্যা চেষ্টাও হয়েছিল। বিষের দীর্ঘ বিষকৃয়ায় যন্ত্রনায় ওনার মৃত্যু, অনেকের ধারনা হাদিসেই আছে।
নবীজির মৃত্যুর পর গোত্র বিরোধে ৩ দিনেও কোন জানাজা দেয়া সম্ভব হয় নি। লাশ ছিনতাই এর ভয়ে। লাশে পচন শুরু হলে বেড রুমেই জানাজা বিহীন বিছানার নীচেই মাটিখুড়ে কবর দেয়া হয়েছিল।
এত বিশাল ধর্মিয় নেতা, ইসলামের সবচেয়ে বড় নবী। কিন্তু জানাজা পেলেন না। শেষ বিদায়ে মক্কায় লাখো মানুষের উপস্থিতিতে বিশাল জানাজা ওনার প্রাপ্য ছিল। কিন্তু হয় নি। গোত্র বিরোধে দলীয় কোন্দলে।
গর্ব করবেন না। গর্ব করার কিছু নেই।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.