নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\n

মা.হাসান

মা.হাসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

শেফালী বানুর সোনার সংসার

৩০ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ৯:৩৮



বাবুল মিয়া ফুূচুত ফুচুত করিয়া তাহার ঘাড়ে এবং পাঞ্জাবির বগলে সুগন্ধি স্প্রে করিল। আজ পশ্চিম পাড়ায় চৌধুরী সাহেবের বাসায় তাহার নিমন্ত্রণ আছে। ইহাকে ঠিক নিমন্ত্রণ বলা যায়না, বলা যায় সে এক প্রকার কিছুটা জোর করিয়া কিছুটা ঘুষ দিয়ে ওই স্থানে উপস্থিত থাকিবার উপায় বাহির করিয়াছে। শেফালী বানুর চোখে যুগপৎ ভয় এবং জিজ্ঞাসা দেখিয়া মনে মনে গালি দিল --'মর *গি। তোর কারনেই আমার এই দুর্দশা।' মেয়েছেলের চিন্তা করিয়া লাভ নাই, বাবুল মিয়া শেফালী বানুর কথা বাদ দিয়া চৌধুরী সাহেবদের কথা ভাবা শুরু করিল। ওনাদের এক সময় এই এলাকায় যথেষ্ট প্রভাব প্রতিপত্তি ছিল। ওনার দাদার চার পুরুষের জমিদারি ছিলো। জমিদারি না থাকিলে ও ঠাটবাট এখনো খুব একটা কম নাই। এলাকার এখনো অনেকে স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বারের বদলে চৌধুরী সাহেবের বাড়িতে যাইয়া সুবিচার প্রত্যাশা করে।
শেফালী বানু ভয়ে ভয়ে স্বামীর দিকে তাকাইলেন। স্বামী কামাই রোজগার কিছুই করে না বরং তাহার রোজগার হইতে নিয়মিত খাবলা মারিয়া লইয়া যায় , মাঝে মাঝেই এমনকি বলিবারও প্রয়োজন বোধ করে না। সে একখানা গার্মেন্টস এ সপ্তাহের সাড়ে নয় দিন কাজ করে। তাহার একার রোজগারে সংসার চালানো বড়ই কষ্ট সাধ্য কিন্তু সে কখনো অভিযোগ করে না। স্বামী মাঝে মাঝে এদিক ওদিক হইতে ধার-কর্জ করে যাহা শেফালি বানুকেই শোধ করিতে হয়। এরপরেও মাথার উপরে ছাতা হিসেবে স্বামী থাক সে এই কামনাই করে। লোকটা মাঝে মাঝেই কোন কিছু না জানাইয়া কয়েকদিনের জন্য উধাও হইয়া যায়। ভাব দেখিয়া মনে হইতেছে আজও কয়েকদিনের জন্য যাইতেছে। ছোট ছেলেটার শরীর খারাপ। কয়েকদিন ধরিয়া জ্বর। গায়ে ব্যাথার কথাও বলে। ডেঙ্গু হইল কিনা তাহা খোদা জানেন। বাবুল মিয়ার মাঝে কখনো সে অপত্য স্নেহের কোন নমুনা দেখে নাই। বড় মেয়ে দুইজন তাহার আগের পক্ষের। উহাদের প্রতি বাবুল মিয়ার কোন স্নেহ থাকিবে তাহা সে আশা করে না , কিন্তু ছেলে তো বাবুল মিয়ার নিজের ঔরসজাত। কাজ হইতে ছুটি পাওয়া অসম্ভব ব্যাপার। গার্মেন্টসের সুপারভাইজার বড় খারাপ মানুষ, ছুটি চাহিলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। অতীতে দু এক বার ছেলেকে ফেলানীর দাদীর নিকট রাখিয়া গিয়াছে, কিন্তু সেই বুড়ি এখন আবার দিনের বেলা ভিক্ষা করে। গাজীপুরের এই এলাকায় ভিক্ষা করিলেও দিনে অন্তত এক দেড়শত টাকা থাকে। বুড়ি ভিক্ষা বাদ দিয়া তাহার ছেলেকে শুধু শুধু দেখিবে কেন? আর কিছু না হইলেও দুপুরের খাওয়ার এবং অন্তত ৫০ টা টাকা তাহাকে দিতে হইবে। সাহস সঞ্চয় করিয়া সে শুষ্ক মুখের স্বামীকে জিজ্ঞাসা করিল-' কোথাও বাহির হইতেছেন?'
--'তোমাদের মতো তো সারাদিন মোবাইল টিপিলেতো আমার চলিবে না। কাম আছে । বাহিরে যাওয়ার লাগবো। ৬০০ টা টাকা দাও।' তাহার নিজের সাধ্য নাই মোবাইলে টাকা ভরিয়া কথা বলে। মেজ মেয়েটা তাহাকে মাঝে মাঝে মাসে-পনেরো দিনে একবার ফোন করে। মোবাইল টিপার খোটা সেইখান হইতে আসিল। মেজ মেয়েটার কথা ভাবিয়া তাহার চোখে পানি আসে যায়। ইহাই গরিবের নিয়তি। চোখের পানি সংবরণ করিয়া সে বলিল- 'ছাওয়ালটার জ্বর।'
--'ছাওয়াল টার জ্বর তা আমি কি করিবো ? আমি কি ডাক্তার না কবিরাজ?'
--'না, বিশু ডাক্তারের হোমিও ওষুধ তো কয়দিন ধরিয়া চলিতেছে, যদি একটু সরকারি হেল্থ সেন্টারে লইয়া যাইতেন, আমি তো এই সব বুঝি না।'
--'টাকা দাও, দিরং হইয়া যায়। আমারে দিয়া না পোষায় তো আগের ভাতারের কাছে যাও।'
তাহার আগের পক্ষ ছিল রাস্তার এক মাস্তান। তাহাকে এক প্রকার জোর করিয়া উঠাইয়া লইয়া গিয়াছিল। তাহার দরিদ্র পিতার পক্ষে সম্ভব হয় নাই বাধা দেওয়ার। শুধু মাস্তানের পা জড়াইয়া তাহার পিতা কান্নাকাটি করিয়া বলিয়া ছিল--'আমার মেয়েটাকে রাস্তায় ছুড়িয়া ফেলিয়া দিয়েন না, অন্তত পক্ষে ঘরের বউ করিয়া তুলিয়া নিন।' পিতার থাকিবার মধ্যে আড়াই শতক জমির উপর একখানা মাটির ঘর ছিল। রিক্সা চালাবার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় পিতার মৃত্যুর পর ওই ঘর বিক্রি করিয়া টাকা আনিয়া দেওয়ার জন্য আগের পক্ষ তাহার উপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালাইতো। একদিন মারপিট করিয়া রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলিয়া দেয়। প্রতিবেশীরা মৃত ভাবিয়া পুলিশে খবর দিলে পুলিশ আসিয়া তাহার আগের স্বামীকে ধরিয়া লইয়া যায়। লোকটা জেলে থাকিতেই মরিয়া গিয়াছে। বাবুল মিয়ার পিতার নিকট তাহার পিতার কিছু কর্জ ছিল। নারীর মাথার উপর ছাদের মত স্বামী থাকা দরকার। সমাজপতিরা নির্ধারণ করিয়া দিয়াছে বাবুল মিয়ার সহিত তার বিবাহ হইবে। ইহা তাহার নিয়তি । ইহা সে মানিয়া লইয়াছে। আগের পক্ষের বড় মেয়ের বয়স যখন পনেরো বছর ঐ সময়ে এক হিরোইন খোরের সহিত বাবুল মিয়া তাহার বিবাহ দিয়া দেয়। স্বামীর অত্যাচারের সেই মেয়েও মারা গিয়াছে অনেক বছর। বাবুল মিয়ার সহিত তাহার বিবাহের পর বাবুল মিয়া নির্দেশমতো পিতার ভিটা বিক্রি করিয়া দিয়াছে। আড়াই লক্ষ টাকা আসিয়াছিল। বাবুল মিয়া ঐ টাকা তাহার মেজ মেয়েকে মধ্যপ্রাচ্যে চাকুরিতে পাঠানোর খরচ বাবদ লইয়া লইয়াছে। নিন্দুকেরা বলে মেয়েকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাইতে বাবুল মিয়ার কোন টাকা খরচ হয় নাই, বরং দালালের নিকট হইতে আরো টাকা লইয়াছে। নিন্দুকের কথায় শেফালী বানু কান দেয় না। তাহার নিয়তিতে যাহা আছে তাহাকে সে অতিক্রম করিতে পারিবে না। আগের পক্ষের সহিত তার সম্পর্ক বলিতে আছে ওই মেজো মেয়ে। মেয়ে তাহার নিকট কখনো কোনো অভিযোগ করে না, তবে গলার স্বর শুনিয়া বুঝিতে পারে মেয়ে ভালো নাই, অত্যাচার এর মধ্যে আছে। কিন্তু তাহারই বা কি করিবার আছে?
বাবুল মিয়ার মেজাজ খারাপ হইতে শুরু করিল। শেফালি বেগমকে দেখিলেই তাহার মেজাজ চড়িয়া যায়। শেফালী বানু দেখিতে অসুন্দর নয় বরং আটচল্লিশ বছর বয়স হওয়ার পরেও তাহার শরীরের বাধন যথেষ্ট ভালো। তবে বাবুল মিয়া কখনো তাহার পিতার মৃত্যুর সহিত শেফালী বানুর সম্পৃক্ততা ক্ষমা করিতে পারিবে না। তাহার পিতা হাঁপের রুগী ছিল। একদিন রাতে বাবুল মিয়ার পিতার হাঁপের টান উঠিলে বাবুল মিয়া শেফালী বানুর পিতার রিকশায় করিয়া নিজ পিতাকে নিয়া হাসপাতালে উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বার বার তাড়া দেয়ার পরেও ওই বুড়া ঠিক মতো রিক্সা না টানিতে পারার কারণে হাসপাতালে আসিতে বিলম্ব ঘটে। হাসপাতালে আসিবার আধা ঘন্টা পর ডাক্তার দেখিয়া জানায় তাহার পিতা শেষ। বাবুল মিয়া নিশ্চিত, হাসপাতলে আর কয়েক মিনিট আগে আসিলে তাহার পিতা বাঁচিয়া যাইতো। তাহার পিতা দুর্দান্ত লোক ছিল। কথার দ্বারা লোককে মুগ্ধ করিয়া রাখিতে পারিতো। একবার ওয়ার্ড কমিশনারও হইয়াছিল। লোকে যদিও তার সেই ওয়ার্ড কমিশনার আমলের অনেক দুর্নাম করে, কিন্তু বাবুল মিয়া জানে তাহার পিতা কোন দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। হ্যাঁ , কিছুটা স্বজনপ্রীতি হইয়াছিল বটে, কিন্তু দুর্নীতি হয় নাই। শেফালী বানুর দিকে তাকাইলেই তাহার মৃত পিতার কথা মনে পড়িয়া যায়। খান* মা*। দেরী হইয়া যাইতেছে। চৌধুরী সাহেবেরা আগামী কাল ভোরে হাওড়ে মৎস্য বিহারে যাইবেন। পনেরো দিনের জন্য। চৌধুরী সাহেবদের বাড়ির ম্যানেজারকে বিগত কিছুদিন ধরিয়া কিছু চা-সিগারেট খাওয়াইয়া সে খুশি রাখার চেষ্টা করিতেছে । সেই ম্যানেজার বাবুল মিয়ার হইয়া চৌধুরী সাহেবের নিকট সুপারিশ করিয়াছে যে বাবুল মিয়া ভালো মাছ চেনে। চৌধুরী সাহেবের নৌকার বহরে তাহার জায়গা হইলে সমাজে তাহার প্রতিপত্তি এক লাফে অনেকখানি বাড়িয়া যায়। থাকা-খাওয়া নৌবহরের সহিতই হইবে। হয়তো চৌধুরী সাহেবরা ধূমপানের ব্যবস্থাও রাখিবে। না ও রাখিতে পারে। নিজের ব্যবস্থা নিয়ে করিয়া রাখা উত্তম, পরে পস্তাইতে হইবে না। এমনিতে সে স্টার সিগারেট খায়। কিন্তু ওই নৌবহরে সকলের সামনে স্টার খাইলে তো আর মান সম্মান থাকে না। অনেক বাবুদের ই সে বাংলা ফাইপ টানিতে দেখিয়াছে। নৌবহরে খাইলে বাংলা ফাইপ ই সে খাইবে। দিনে দুই- তিন খানা করিয়া হইলেও দুই সপ্তাহে মিনিমাম দুই প্যাকেট সিগারেট লাগে। এক প্যাকেট বাংলা ফাইপ এর দাম তিনশত টাকার কাছাকাছি। টাকা হস্তান্তরে স্ত্রীর বিলম্ব দেখিয়া সে গটগট করিয়া উঠিয়া স্ত্রীর টিনের কৌটা হইতে পাঁচশত টাকার দুখানা নোট বাহির করিয়া হাঁটা দিল। পিছন হইতে শেফালী বানুর কাতর জিজ্ঞাসা-- 'কবে ফিরিবেন?'
--'সময় হইলেই ফিরিব।'
শেফালী বানু জানে না রোম যখন পুড়ছিল নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিল।*

সেই সমস্ত রাজনীতিবিদদের জন্য উৎসর্গ করলাম শেফালী বানুদের চিন্তায় যাদের রাতে ঘুম আসে না, আঙুলের ফাঁকে তসবি দানা অনবরত ঘুরতে থাকে।

ছবি- বরাবরের মতো চোরাই। কেরালার হাউসবোট।
*রোম পোড়ার সময়ে নিরোর বাশি বাজানোর ঘটনার ঐতিহাসিক ভিত্তি নাই, তবে ভালো শোনায় বলে এখানে অ্যাড করা হলো।

মন্তব্য ৩০ টি রেটিং +১১/-০

মন্তব্য (৩০) মন্তব্য লিখুন

১| ৩০ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১০:০২

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: উৎসর্গ পত্রে আসিয়া মন ভরিয়া গেল!
যেন ভরপেট ভোজনের পর আংরেজিতে কি যেন বলে! হু হু ডেজার্টের মতন ;)

++++

৩০ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১০:১১

মা.হাসান বলেছেন: ভৃগু ভাই, আকলমন্দ কে লিয়ে ইশারাহি কাফি ।
উৎসাহমূলক মন্তব্য ও প্লাসের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

২| ৩০ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১০:০৮

জুনায়েদ বি রাহমান বলেছেন: জীবনের গল্প। এমন কতশত শেফালী বাংলার আনাচেকানাচে মরতে মরতে বেচে আছে।

৩০ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১০:১২

মা.হাসান বলেছেন: ধন্যবাদ জুনায়েদ ভাই, আমাদের সকলের জীবনের গল্প এটা। আমরা সবাই ই শেফালী বেগম।

৩| ৩০ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১০:২২

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় মা.হাসানভাই,

তিন নম্বর কমেন্ট বুক করলাম। সঙ্গে একটি ক্লিনিক পেলাচ দিলাম।

পড়াশোনা কইরা পরে আবার আসতাছি। মাইন্ড করবেন না প্লিজ। জানেন তো আমার না পইড়া পেলাম দেওয়া স্বভাব।

৩০ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১০:৩০

মা.হাসান বলেছেন: আমি কিন্তু আবার আপনার মন্তব্য না পড়েই মন্তব্যে প্লাস দিয়ে দিয়েছি। মাইন্ড করেন নি তো ?
সময় নিন, তাড়াহুড়ার কিছু নাই। আমারও কিছু এডিট বাকি, সাত দিন বদলে পনেরো দিন করবো।

৪| ৩০ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১০:২৭

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: স্যরি!, একটু ট্যাবু হয়ে গেছে।
লিখতে চাইছিলাম,
জানেন তো আমার না পইড়া পেলাচ দেওয়া স্বভাব। তবে আমি কিন্তু কিলিনিক পেলাচ দিতাছি। দুর্গন্ধ নির্মূলে সহায়ক হবে, আগাম জানিয়ে রাখলাম।

৩০ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১০:৩৬

মা.হাসান বলেছেন: ক্লিনিক প্লাসে শুধু দুর্গন্ধই যায় না, চুলকানিও কিছুটা কমে।

৫| ৩১ শে জুলাই, ২০১৯ সকাল ৯:০৬

রাজীব নুর বলেছেন: ম্যানেজার বাবুল মিয়া ভালো মাছ চিনে।
বাংলা ফাইফ সিগারেট তো আজকাল পাওয়া যায় না।

৩১ শে জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৫:২৯

মা.হাসান বলেছেন: রাজীব ভাই, খুব ভালো পর্যবেক্ষণ। সিগারেট খাইনা বলে ভালো ধারণা নেই, তবে বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে না দেখে অনুমান করেছিলাম ওটা পাওয়া যায় না। তারপরেও কেন লিখলাম? আসলে বাবুল মিয়ার তো ঐ শ্রেণীর সাথে মেশার সুযোগ নেই, তার বাপের আমলে দেখেছে বাবুরা ৫৫৫ খায়, ওটাই তার মাথায় গেথে আছে। তাহলে দাম কি করে জানলো? নিজের সিগারেট কেনার সময় দেখে বাবুরা দামি সিগারেট প্রায় ১৫ টাকা করে শলা কেনে। কিন্তু বেনসনের নাম তো সে জানে না, ধরে নিয়েছে ওটা বাংলা ফাইভ।
বাবুল মিয়া মাছও মনে হয় ভালো চেনে না, সে সুযোগ খুজছে জাতে ওঠার, তাই ম্যানেজারকে ঘুষ দিয়ে নিজের নাম সুপারিশ করিয়ে নিয়েছে। ধরা পড়লে? অত অধ্যবসায় বাবুল মিয়ার নেই। খুটিয়ে পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

বাসার খবর কি? এখন কি ছোট ভাইয়ের স্ত্রী বাসায়? না এখনো হাসপাতালে?

৬| ৩১ শে জুলাই, ২০১৯ সকাল ৯:৪৪

নীল আকাশ বলেছেন: শেফালী নাম পছন্দ হবার কারনে লাইক দিলাম। অর্ধেক পড়েছি। বাকিটা পড়ার পর মন্তব্য করব।
লংং জার্নিতে আছি। বাসায় ফিরে এখানে আবার আসব।
ধন্যবাদ।

৩১ শে জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৫:৫৩

মা.হাসান বলেছেন: যাত্রা শুভ হোক।
বিশেষ কারণে শেফালী বেগমের নাম পাঁচ অক্ষরে হওয়া দরকার, বদলে শেফালী বানু করে দেব। আপনার মন্তব্যের অপেক্ষায় থাকবো। শেফালীর জন্ম সালটা দেখে নেবেন।

৭| ৩১ শে জুলাই, ২০১৯ সকাল ১০:২৬

ভুয়া মফিজ বলেছেন: অশিক্ষা যে আমাদের সমাজে কতোবড় অভিশাপ, তাহা শেফালীর অবস্থা দেখিয়াই যথার্থ বোধগম্য হয়। সকল কিছুতেই নিয়তিকে দোষ দেওয়া, জানোয়ার-সদৃশ্য স্বামীকে মাথার ছাদ বলিয়া গন্য করা ইহারই আলামত। শেফালী বেগমদের যদি প্রকৃত শিক্ষা থাকিত তাহা হইলে এই বাবুলমিয়াদের পশ্চাদ্দেশে লাথি সহযোগে যথাযোগ্য সন্মানের সহিত বাহিরের দরওয়াজা দেখাইয়া দিতে পারিত।

যাহা হউক শেফালীরুপী আম-জনতা আর বাবুলরুপী দুষ্ট নেতাদের কল্যানেই আমরা আগাইয়া চলিয়াছি, আর ভবিষ্যতেও চলিতে থাকিব। এর আশু পরিবর্তনের কোন নমুনা আমি আপাততঃ দেখিতে পাইতেছি না।

দরকারই বা কি? ইহাই তো আমাদের নিয়তি, নাকি ভুল বলিলাম! :(

৩১ শে জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৫:৫৭

মা.হাসান বলেছেন: আপনি যথার্থ ধরেছেন, এর আশু পরিবর্তন নাই, জবর দখলকারী ভাতার আর পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ভাতার থেকে শেফালীর নিস্তার নাই। শেফালীদের জন্মই আজন্ম পাপ।
ইহাই নিয়তি, কোন ভুল বলেন নাই।

৮| ৩১ শে জুলাই, ২০১৯ বিকাল ৪:৫২

ঢাবিয়ান বলেছেন: এরকম শেফালীদের সংখ্যা এই দেশে কোটি কোটি। গতকাল এই রকম এই শেফালিকে দশতালার বারান্দার বাইরে গ্রীলে লটকিয়ে রেখে শাস্তি দিয়েছে আরেক নারী যেই নারীর পরিচয় একজন মানবাধিকার কর্মী!!!

৩১ শে জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৫

মা.হাসান বলেছেন: গ্রিলে লটকানোর খবর কাল দেখেছি। যাকে লটকানো হয়েছে সে এক শেফালী, যে লটকেছে সেও এক শেফালী। ফুড চেইনের সবার উপরে বাবুল মিয়া। এরা সব সময় নৌ বিহার বা বসন্ত বিহারে ব্যস্ত থাকে। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় একটা গল্প লিখেছিলেন- তিমিঙ্গিল। সময় সুযোগ পেলে গুগুলে সার্চ করে দেখতে পারেন। কষ্ট করে পড়ায় অনেক ধন্যবাদ।

৯| ৩১ শে জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৯

রাজীব নুর বলেছেন: ধন্যবাদ।
শুনে ভালো লাগলো আপনি সিগারেট খান না। জাস্ট গ্রেট।
কিন্তু আমি খাই। বেনসন। ১৩ টাকা করে। সারা দিনে ১০ টা লাগে। টাকার অপচয়।

আল্লাহর রহমতে বাসার সবাই ভালো আছে। হাসপাতাল থেকে বাসায় চলে আসছে।

৩১ শে জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১৪

মা.হাসান বলেছেন: আল্লাহর কাছে শুকরিয়া সবাই বাসায়।
সিগারেট কে খাবে না খাবে এটা পুরোটাই নিজ নিজ ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে আমি মনে করি যারা ছেড়ে দেবে তাদের সন্তানেরা বাবাকে কাছে পাবে তুলনামূলক বেশি দিন। অনেক শুভকামনা।

১০| ৩১ শে জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫৯

জুন বলেছেন: বড় কষ্টের গল্প মা হাসান, আমাদের শেফালীরা মনে হয় না কোনদিন আত্ননির্ভর হতে পারবে । শিক্ষিত চাকুরিজীবি মেয়েরাও আমাদের সমাজে স্বামী ও তার পরিবার দিয়ে নিয়তই নির্যাতিত হচ্ছে তাদের খবর কে রাখে ?
আমি এক দরিদ্র মেয়েকে চিনতাম আমাদের গৃহকর্মী ছিল, সে শুধু মাথার উপর একটি ছাদের আশায় একাধিকবার বিয়ে করেছিল। প্রতিবার বিয়ে ভেঙ্গে যাবার পর সে ফিরে আসতো আমাদের বাসায়। শেষ পর্যন্ত তার সুখ জুটেনি কপালে। সবাই তাকে ফেলে গিয়েছিল আপনার গল্পের শেফালীর মতই ।
+

৩১ শে জুলাই, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৫

মা.হাসান বলেছেন: কষ্টের কথা লিখতে ভালো লাগে না।
আমার অফিসের জানাল দিয়ে বাইরে বস্তি দেখা যায়। বস্তিবাসিদের কারো সঙ্গতি নেই ডেঙ্গু হলে চিকিৎসা করাবে। এরা মরলে তা খবরের কাগজেও খবর হয় না। মন্ত্রীরা উন্নয়নের সফরে ব্যস্ত। এই যন্ত্রনা থেকেই লেখা। আমার নিজের দেখা, কাজের মেয়ের বাবা নিজের দশ বছর বয়সের কাজের মেয়েকে কাজথেকে ছাড়িয়ে নিয়ে গেলেন, বিয়ে দেবেন। আমাদের ঐ এলাকায় বিয়ে দিলে মেয়ের বাবারা অনেক ক্ষেত্রেই পাত্রপক্ষের কাছ থেকে টাকা পান। ওনারা বলেন 'মেয়ে বেচে খাইছি'। শশুর বাড়িতে দরকার ছিল একটা কাজের লোকের। পার্থক্য এই, আগে কাজের বিনিময়ে মেয়েটা তিন বেলা খাবার পেত পেট ভরে (সব বাসায় পায় না যদিও), বেতন পেত (বাপ নিয়ে যেত); বিয়ের পর সারাদিন কাজ করে পেট ভরে খাবার পেত না। কিছুদিন পর ছাড়াছাড়ি, মেয়ের নতুন বিয়ে। যত দিন বয়স কম এরকম হাত বদল। শিক্ষিতদের জীবনেও ঘটনা হয়তো খুব সামান্য আলাদা। আমার এক দূর সম্পর্কের ভাবি একদিন বলছিলেন ৩৫ বছরের চাকরি জীবনে সবসময়েই বেতনের টাকা পেয়ে ভাইয়ের হাতে দিয়েছেন। একটা চুলের ফিতা লাগলেও ভাই কে বলতে হয়েছে, উনি অ্যাপ্রুভ করলে পাওয়া গেছে।
মন খারাপ থেকে লিখেছিলাম, কষ্টের কথা আর লেখার ইচ্ছে নেই। আপনার সহৃদয় মন্তব্যের জন্য অনেক শ্রদ্ধা ও ধন্যবাদ।

১১| ৩১ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ৮:৪৩

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



দেশের হাজারো শেফালীর গল্প এটি। ভালো লাগা রইলো। +++

০১ লা আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৩:১৩

মা.হাসান বলেছেন: কাওসার ভাই, পুরো দেশটাই একজন শেফালী। আপনাদের ভালো লাগাই আমার আনন্দ। অনেক শুভকামনা।

১২| ৩১ শে জুলাই, ২০১৯ রাত ১০:৪৯

আরোগ্য বলেছেন: নিরক্ষরতার চেয়ে আমি সামাজিক অবকাঠামোকে দায়ী করি নারীদের এই দুর্গতির জন্য। কারণ সমাজ এখনো নারীদের কেমন যেন পণ্য বা দাসী হিসেবেই দেখে। অবরোধবাসিনী... নামক পোস্টে আমি এই দিকটা একটু তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলাম।
গল্পে ভালোলাগা। যাই আমার পোস্টের উত্তর দেই।

০১ লা আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৩:১৯

মা.হাসান বলেছেন: আরোগ্য ভাই, আপনার নানুর শরীর ভালোর দিকে জেনে মন থেকে ভার নেমে গেছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া।

আপনার অবরোধবাসিনী পড়া হয় নি, আগামীকাল ছুটির দিনে কিছু পুরাতন পোস্ট পড়ার চেষ্টা করবো।

এই গল্পের অন্য একটা মিনিং আছে, এখানে বলা যাবে না, নীল আকাশ ভাইয়ের কমেন্টের জবাবে কিছু হিন্টস রেখেছি।
অনেক শুভকামনা।

১৩| ০২ রা আগস্ট, ২০১৯ রাত ৯:০৮

চাঁদগাজী বলেছেন:


আমার যখন গল্প পড়তে ইচ্ছে হয়, আমি রবী ঠাকুরের ও মার্ক টোয়েনের গল্প পড়ি

০৩ রা আগস্ট, ২০১৯ রাত ১:১২

মা.হাসান বলেছেন: ওনারা কি সামুতেই লেখেন? ওনাদের নিক কি?

১৪| ১৩ ই আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৩:৪৭

মাহের ইসলাম বলেছেন: আপনার লেখা আমার খুব পছন্দ হয়েছে।
কি সুন্দর করে, গতি ধরে রেখেছেন। আমি যদি ঘটনার মধ্যে এমন গতি আনতে পারতাম!!

চৌধুরীদের নৌবহরের গল্প শোনার অপেক্ষায় রইলাম।

ভালো থাকবেন। শুভ কামনা রইল।

১৪ ই আগস্ট, ২০১৯ সকাল ৯:১৬

মা.হাসান বলেছেন: মাহের ভাই আপনার অনুপ্রেরণামূলক মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। আমি মূলত লেখক না, পাঠক। ওই সময় বিশেষ একজন ক্ষমতাবান লোকের উদাসীনতার কারণে মন খারাপ ছিল বলে এই পোস্টটি দিয়েছিলাম।
চৌধুরীরা নৌ বহর করে অভ্যস্ত, তবে ম্যাঙ্গো পিপলের সমস্যা তখন হয় যখন বাবুল মিয়া শেফালী বানুর টাকায় নৌবহরে অংশ নেয়।
ভ্রমন জনিত সমস্যার কারণে টাইপ করা বড় কষ্টকর। ১৬ তারিখে আপনার পোস্টগুলোতে কমেন্ট করার ইচ্ছা আছে । অনেক শুভকামনা।

১৫| ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৪:১৩

খায়রুল আহসান বলেছেন: আপনি একটি পরিস্থিতিকে চটজলদি সম্যক অনুধাবন করতে সক্ষম এবং অসাধারণ ভাষা-চাতুর্যে তা সাধারণের বোধগম্য করে তুলতে পারঙ্গম।

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:২১

মা.হাসান বলেছেন: আপনার মতো সুলেখকের মন্তব্য আমার জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণা দায়ক।
এক সময়ে খুব বোকা ছিলাম। ছাত্র জীবনের শেষের দিকে এবং কর্মজীবনের শুরুতে সহপাঠি এবং সহকর্মিদের সৌজন্যে কিছু বাস্তব জ্ঞান পেয়েছি যার ফলে অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি বুঝে উঠতে পারি, তবে কর্মজীবনে ট্যাকট ফুল হয়ে উঠতে পারিনি, যদিও সহানুভূতিশীল সহকর্মিদের কারণে অনেক বিপদ এড়াতে পেরেছি। কাজেই 'অসাধারণ ভাষা-চাতুর্যে তা সাধারণের বোধগম্য করে তুলতে পারঙ্গম' এই অংশের সাথে বিনয়ের সাথে দ্বিমত করতে হচ্ছে। আসলে গল্পটি লেখার পর একজন ভাল লেখকের কাছে মতামত যাচাই করতে দিয়েছিলাম। উনি মন্তব্য করেছিলেন যে ঘটনার বর্ণনা যে রকম করেছি তাতে পাঠকের জন্য বোঝা মুশকিল হবে যে শেফালী বানু কাকে প্রতিনিধিত্ব করে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন এই যে বাবুল মিয়া কাকে প্রতিনিধিত্ব করে।
প্লাসের জন্য অনেক কৃতজ্ঞতা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.