নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\n

মা.হাসান

মা.হাসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

কিরপিনের থাইল্যান্ড ভ্রমন (প্রথম পর্ব)

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০০

কিরপিনের ড্রিম লাইনার


পূর্বকথাঃ
চাকরি জীবনে পদার্পনের পর থেকে রোজার ঈদে বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ খুব একটা হয় না, তবে চেষ্টা থাকে কোরবানি ঈদে দেশের বাড়িতে যাওয়ার। আমার এলাকায় যেতে বাসের বা ট্রেনের ঈদের টিকিট পাওয়া দুঃসাধ্য। বিমানের রিটার্ন টিকেটের দাম দেখলাম প্রায় সাড়ে ষোল হাজার টাকা। বাড়ির কাছের এয়ারপোর্ট থেকে আমার বাড়ি প্রায় আরো পাঁচ ঘণ্টার পথ। কাজের পরিকল্পনা করেছিলাম ঈদের ছুটিতে দক্ষিণ ভারতে যাব। সে মত কয়েকটা হোটেল বুকিং দিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু আমার ভাতৃপ্রতিম ভারতিয় সুহৃদ আলাপকালে জানালেন যে এবারে জয় শ্রীরাম ওয়ালাদের দাপট ভালই দেখা যাচ্ছে, আপাতত ভারত যাত্রা প্রোগ্রাম পেছানোই ভালো হবে। থাই লায়ন এয়ারের ঢাকা-ব্যাংকক রিটার্ন টিকিটের দাম ঢাকা হায়দ্রাবাদ রিটার্ন টিকিট এর দামের চেয়ে বা ঢাকা আমার দেশের বাড়ি রিটার্ন টিকেটের দামের চেয়ে কম হওয়ায় ব্যাংকক যাওয়া যায় কিনা সে কথা চিন্তা করছিলাম। শ্রদ্ধেয় ব্লগার জনাব খায়রুল আহসান এবং জুনাপার ব্লগে থাইল্যান্ড ভ্রমনের বিবরণ শুনে থাইল্যান্ডে যাওয়ার বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহ আগে থেকেই ছিল। এই অবস্থায় স্ত্রী ও উসকে দিলেন যে এশিয়ার মধ্যে ভারত বাদে আর কোন জায়গায় আমার যাওয়া হয়নি। যেহেতু ছুটি আছে থাইল্যান্ডে যাবার এই সুযোগ যেন হাতছাড়া না করি ( জগতে এমন স্ত্রী ও আছেন যারা স্বামীকে থাইল্যান্ড যেতে উদ্বুদ্ধ করে!!) সব বিবেচনা করে ১১ দিনের জন্য থাইল্যান্ডে যাওয়াই ঠিক করে ফেললাম।

টিপসঃ
থাই ভিসা-- বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীদের থাইল্যাণ্ডে যেতে স্টিকার ভিসা দরকার হয়। ভিসা প্রসেসিং এর কাজ বাড্ডা লিংক রোড এর কাছে, হোসেন মার্কেটের উল্টা দিকে ভিএসএফ গ্লোবাল এর অফিস থেকে করা হয়। ভিএসএফের ফি সহ ভিসা প্রসেসিং ফি ৩৭৪০ টাকা, প্রসেসিং সময় সাত দিন। বাংলাদেশ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭-৮ টার মতো ফ্লাইট ঢাকা ব্যাংকক রুটে সরাসরি যাতায়াত করে, এর বাহিরে কিছু ফ্লাইট কোলকাতা/সিঙ্গাপুর/মালয়েশিয়া হয়েও যায় । সেই হিসাবে ডাইরেক্ট ফ্লাইটেই প্রতিদিন দু হাজারের বেশি লোক ব্যাংকক যেতে পারার কথা , কিন্তু আশ্চর্যজনক বিষয় হল থাই এম্বাসি দিনে ৩০০ টিরও বেশি ভিসা অ্যাপ্লিকেশন গ্রহণ করে না। বিমান সংস্থাগুলো কিভাবে এই রুটে ব্যবসা করে তা আমার মাথায় আসে নাই। যেহেতু দিনে মাত্র ৩০০ টি ভিসা অ্যাপ্লিকেশন গ্রহণ করা হয়, ভিসা অ্যাপ্লিকেশন কারীদের মধ্যে মারামারি- ধাক্কাধাক্কি নৈমিত্তিক ব্যাপার। লাইনে সিরিয়াল পেতে গেলে আপনাকে ভোর সাড়ে পাঁচটার আগে এসে লাইনে দাঁড়াতে হবে। ঝামেলা এড়াতে চাইলে কোন ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে পাসপোর্ট দিয়ে দেবেন, এরা সামান্য ৫০০ টাকা অতিরিক্ত ফি নিয়ে আপনার হয়ে লাইনে দাঁড়াবে এবং ভিসা সংগ্রহ করে দেব।

------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
আয়তন-- বাংলাদেশের প্রায় চার গুন বড়।
লোক সংখ্যা - প্রায় ৭ কোটি।
ভাষা- থাই, কিন্তু সব টুরিস্ট ডেস্টিনেশনেই ইংরেজি বোঝার এবং কিছুটা বলার লোক পাওয়া যাব.
কারেন্সি - বাথ, ১ বাথ = প্রায় ৩ টাকা।
আবহাওয়া- প্রায় সারা বছরই গরম শীতের তীব্রতা নেই, উত্তরে ডিসেম্বর-জানুয়ারীতে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত শীত পড়ে। যথেষ্ট বৃষ্টি হয়।
বর্ডার- বার্মা, লাওস, কম্বোডিয়া এবং সামান্য কিছু অংশে মালয়েশিয়া।
সময়: বাংলাদেশে যখন সকাল ৬ টা তখন থাইল্যান্ডে সকাল সাতটা।
---------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

যাত্রা হলো শুরুঃ রাত একটা বা বিলাতি নিয়মে সকালে একটায় আমার ফ্লাইট। আমার পরিকল্পনা ছিল এয়ারপোর্টে এগারোটার মধ্যে পৌঁছানো। রাত নটা চল্লিশের মধ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লাম। বিভিন্ন কাজের চাপে রাতে ভরপেট খাওয়ার সুযোগ হলো না। ইচ্ছে ছিল পাশের দোকান থেকে কিছু খাবার কিনে নেব, যেয়ে দেখি খাবার শেষ। কাজেই পেটে কিছুটা খিদে নিয়েই রওনা দিয়ে দিলাম। বাস ড্রাইভার মনে হলো প্রতিজ্ঞা করেছে যে রাস্তায় যত লোক দেখবে সবাইকেই জিজ্ঞাসা করবে- ভাই ভালো আছেন? আসেন, একসঙ্গে যাই।-- বাধ্য হয়ে দু কিলোমিটার পথ যাবার পর বাস বদল করে ফেললাম। যমুনা ফিউচার পার্ক পর্যন্ত ভালোমতো এসে দেখি এখান থেকে বিশাল জ্যাম। গুগল ম্যাপ দেখাচ্ছে কুড়িল ফ্লাইওভার পর্যন্ত জ্যাম।ম্যাপ অনুসারে এখন এখান থেকে এয়ারপোর্ট রেল স্টেশন পর্যন্ত গাড়ীতে যেতে ৫০ মিনিট লাগবে, বাসে আরো কিছু সময় বেশি লাগার কথা । ঘড়িতে এখনই দশটা তিরিশ। দুশ্চিন্তা এবং সারাদিনের ক্লান্তির কারণে আমার অল্পঅল্প মাথাব্যথা শুরু হয়ে গেল। এর মাঝে উঠলেন এক ক্যানভাসার। তিনি তিরিশ বছর ধরে গাড়িতে জামবাক বিক্রি করে আসছেন। তিনি জানালেন বেশ কয়েক বছর ধরে তার কোম্পানি জাম্বাক এর দাম বাড়েনি, তবে কোম্পানি কৌটায় জামবাক এর পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে।



এরকম কম পরিমাণে জামবাকওয়ালা কৌটা বিক্রি করতে তার খারাপ লাগে, কিন্তু তার করার কিই বা আছে। বাস এখনো জামে আটকা পড়ে আছে, টেনশনের সাথে মাথা ব্যথা একটু একটু করে বাড়ছে। আমি ফোন খুলে চেক করতে থাকি উবারের মোটরসাইকেল নিলে কতক্ষণে যাওয়া সম্ভব। আশেপাশে কোন মোটরসাইকেল দেখা যাচ্ছে না। মাথাব্যথা আরো বাড়ছে। জাম্বাক মাখলে ভালো হতো, কিন্তু এর মধ্যে জামবাক ওয়ালা বাস থেকে নেমে গেছে। ভাগ্য একটু সুপ্রসন্ন হচ্ছে মনে হলো, গাড়ির বহর ধীরে ধীরে সামনের দিকে চলা শুরু করেছে। রাত এগারোটা পাঁচ নাগাদ ফ্লাইওভারের গোড়ায় এসে পৌছালাম। এখান থেকে গাড়ি মোটামুটি তুফান গতিতে ছুটে চলল , এগারোটা কুড়ির আগেই পৌঁছে গেলাম এয়ারপোর্ট স্টেশন এর কাছের বাস স্ট্যান্ডে, সাড়ে এগারোটার মাঝে এয়ারপোর্টের ভিতরে।

আমি এখন ঢাকা এয়ারপোর্টের ভিতরেঃ
দেরিতে আসায় চেক ইন কাউন্টারের সামনে তেমন লম্বা লাইন ছিল না। লাইনে আমার ঠিক সামনের জন অতিরিক্ত লাগেজের জন্য অনলাইনে পে করেছে, কিন্তু সামনের নবিশ অপারেটর এটা হ্যান্ডেল করতে পারছেনা । কাজেই আমাকে পাশের লাইনের পিছনে গিয়ে দাঁড়াতে হলো। বোর্ডিং পাস এর পর ইমিগ্রেশনে মাত্র কয়েক মিনিট লাগলো। কয়েক ঘণ্টা আগে এবছরের মতো হজের শেষ ফ্লাইট ঢাকা থেকে ছেড়ে গিয়েছে, এয়ারপোর্ট মোটামুটি শুনশান।

মাথাব্যথা এখনো ছেড়ে যায়নি, এর সঙ্গে নতুন উপসর্গ যোগ হয়েছে কোমর এবং পায়ে ব্যথা- কারণ সারাদিনের ক্লান্তি , আগের দু দিনের পরিশ্রম এবং এক দিনের নিদ্রাহীনতা। অফিসে ঈদের ছুটি বিকেল পাঁচটার পরে শুরু হয়েছে, আজকের দিনটা নষ্ট করতে চাই নি বলে এত তাড়াহুড়া। দুপুরে জোড়াতালি দিয়ে কিছু একটা খাওয়া হয়েছিল। এয়ারপোর্টের ভিতরে খাবারের দাম অনেক বেশি। পেটকে মানানোর জন্য ৭০ টাকা দিয়ে একটা ভেজিটেবল রোল কিনে খেলাম। (লেখা আছে ময়লা ইত্যাদি দোকানের ময়লার ঝুড়িতে ফেললে পাঁচ টাকা ফেরৎ দেবে। চাইলাম, বলে পাঁচ টাকা নেই। আপনার ওখানে খেলে খুচরো টাকা সাথে রাখবেন।) জলের বোতল সাথেই ছিল। লায়ন এয়ারের টিকিটের দাম কম কিন্তু এখানে লাগেজ শুধু হ্যান্ডব্যাগ সাথে নেয়া যাবে- ওজন ৮ কেজি পর্যন্ত । জলের বোতল সহ আমার লাগেজ ছিল ৬ কেজির কাছাকাছি, এরমধ্যে ব্যাগের নিজের ওজন সাতশো গ্রামের মত। বিশেষ কারণে শীতের জামা নিয়েছি, একটা জ্যাকেট (কারণ পরে ব্যাখ্যা করা হবে)। ভ্রমণের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ব্যাকপ্যাক হালকা রাখাই আমার পছন্দের। ডিসপ্লে বোর্ডে প্লেনের কোন খবর দেখছি না। অনলাইনে চেক করে দেখলাম প্লেন লেট। ব্যাংকক থেকে আসবে, এরপরে ঢাকা থেকে ছাড়বে। ব্যাংকক থেকে ছাড়াতেই ডিলেই হয়েছে। সাথে পাওয়ার ব্যাংক নেই, ফোনটা ফুল চার্জ করে রাখা দরকার । ৮০ পার্সেন্ট এর মতো চার্জ আছে। অনেকগুলো ভাঙাচোরা চার্জিং পয়েন্ট এর মধ্যে একটা ভালো খুঁজে পেয়ে সেখানে ফোনটা চার্জ করতে শুরু করলাম। ডেঙ্গু আতঙ্কে সব জায়গায় মশা মারা শুরু হয়েছে। এয়ারপোর্টও তার ঐতিহাসিক মশা প্রজনন ক্ষেত্র গুলো দূর করে বেশ মশা নিধন করেছে বোঝা গেল। এর মাঝে দু একটা মশা ঘুরঘুর করতে দেখলাম, এগুলো সম্ভবত নর্থ বা সাউথ সিটি কর্পোরেশনের মশা না, বিদেশ থেকে বিনা টিকিটে চলে এসেছে। নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘন্টা পর বোর্ডিং শুরু হলো। এর আগে কখনো ঢাকা এয়ারপোর্টে সিকিউরিটি গেটে জুতা খুলতে হয়নি, এবার স্যান্ডেল খুলতে হলো।

কিরপিন এখন প্লেনেঃ
বোর্ডিয়ের সময় দেখলাম অধিকাংশ যাত্রী ভারতীয়। মাত্র পনেরো কুড়ি জন দেখলাম মঙ্গলয়েড চেহারার- চিনে বা এরকম কিছু হবে। বাজেট এয়ার লাইনে খাবার দেয় এটা আগে দেখি নি। এরা খাবার এবং পানি দিল।


সামান্য খাবার, ক্ষুধার্ত থাকায় আমার কাছে অসামান্য ছিল। চিজ-সবজি সহ একরকম ব্রেড রোল। খাবার সম্পূর্ণ ভেজিটেরিয়ান-- বিভিন্ন ধর্মের খাবার নিয়ে রেস্ট্রিকশনের বিষয়ে এদের ধারণা আছে। ঢাকা-ব্যাংকক ফ্লাইং টাইম আড়াই ঘন্টা। ড্রাইভার খুব ভালো ছিল, অথবা রাস্তায় জাম মনে হয় কম ছিল, প্রায় সোয়া দুঘন্টায় ব্যাংকক পৌছে গেলাম। কিন্তু দুই নম্বরি সব জায়গায়। লায়ন এয়ারের কমদামের টিকিটের মর্ম বুঝলাম। ব্যাটা ড্রাইভার রাতেরবেলা আমাদেরকে ব্যাংকক না নামিয়ে বহুদূরে নামিয়ে দিয়েছে। ল্যান্ডিং এরিয়া থেকে এয়ারপোর্ট টার্মিনাল এ বাসের পৌঁছাতে প্রায় ১০ মিনিটের মত লাগলো। আমার দেখা অন্যতম বড় এয়ারপোর্ট।

জ্ঞানের কথাঃ
ডন মুয়েঙ এয়ারপোর্ট পৃথিবীর সবচেয়ে পুরাতন এয়ারপোর্ট গুলোর মধ্যে একটি। এর বয়স ১০০ বছরেরও বেশি । প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরুর সামান্য কিছুদিন আগে এটি চালু হয়। ২০০৬ সালে এটি রিনোভেশন এর জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল, ২০০৭ সালে আবার খুলে দেওয়া হয়। ২০০৬ সালে বন্ধ হওয়ার আগে এটি পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যস্ত এয়ারপোর্ট এর মধ্যে ১৪ নম্বরে ছিল। এখন ব্যাংককের সবচেয়ে বড় এয়ারপোর্ট সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্ট। এয়ার এশিয়া এবং লায়ন এয়ারের মত লো কস্ট এয়ার লাইনগুলো ডন মুয়েঙ এয়ারপোর্ট ব্যবহার করে। ফ্লাইট টিকিট সার্চ করার জন্য ব্যাংক সুবর্ণভূমি এর জন্য BKK এবং ডন মুয়েঙ এয়ারপোর্টের জন্য DMK কোড ব্যবহার করতে হবে।

ডন মুয়েঙ এয়ারপোর্টেঃ
এয়ারপোর্ট মেন বিল্ডিংয়ে পৌঁছলাম ভোর ৫-৫০ এ। ফজরের নামাজের খুব বেশি সময় বাকি নেই। দৌড়াতে দৌড়াতে একটা টয়লেট খুঁজে পেয়ে ওযুর কাজ সেরে নিয়ে নামাজের জায়গা খুঁজছিলাম। প্লেনে চীনে ম্যান চেহারার যে সহযাত্রীরা ছিল তাদের মধ্যে একটা বড় গ্রুপ ছিল ইন্দোনেশিয়ান মুসলিম। এয়ারপোর্টের এক কর্মচারী আমাদেরকে বারান্দায় জায়গা দেখিয়ে দিল বলল এখানে নামাজ পড়লে কোন সমস্যা নেই। (ডন মুয়েঙ এয়ারপোর্টে মসজিদ আছে, তবে তা ইমিগ্রেশন পার হবার পর।) ফজরের নামাজ জামাতে পড়তে পেরে ভালো লাগলো। নামাজের পর ইন্দোনেশিয়ার গ্রুপ জাকার্তায় কানেক্টিং ফ্লাইট ধরার জন্য আলাদা হয়ে গেল, আমি চলে গেলাম ইমিগ্রেশন কাউন্টারের দিকে। পথে অনেকগুলো কারেন্সে এক্সচেঞ্জ বুথ। রেট- ১ ডলার= ২৯.৩৪ বাথ। আমি জানি এই এরিয়ায় এক্সচেঞ্জ রেট কিছুটা কম থাকে, বের হবার পরে এক্সচেঞ্জ করবো ঠিক করলাম। ইমিগ্রেশনের লাইনে যত লোক দেখলাম দেখলাম তার শতকরা ৮০ ভাগের বেশি চিনে চেহারার। থাইল্যান্ডে আসা ট্যুরিস্টদের মধ্যে সম্ভবত চীন থেকে আসা টুরিস্টের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। আমার লাইনে আমার সামনে তিন চারজন বাংলাদেশী পাসপোর্ট ধারী ছিলেন। প্রথমজন মোটামুটি দ্রুত বের হয়ে গেলেন। দ্বিতীয়জন ইংরেজি একেবারেই বোঝেন না, থাই ভাষা জানার প্রশ্নই ওঠে না। ব্যাটা এমন চিজ, দেখলাম সাইন ল্যাঙ্গুয়েজও বোঝে না। ওনার সামনে ডিসপ্লেতে ছবি ভেসে উঠছে কিভাবে কোন আঙ্গুলের পর কোন আঙ্গুল রেখে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যান করাতে হবে। কিন্তু উনি কিছুই বুঝছেন না। আমার সামনের ভদ্রলোক উনার বোনের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থাপন করতে চেয়ে কিছু বক্তব্য দেওয়ার পরে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হল এবং প্রায় ৬-৭ মিনিট লাইনে থাকার পর ওই ভদ্রলোক ইমিগ্রেশন ক্রস করলেন । আমার সিরিয়াল আসলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেওয়ার পর আমার পাসপোর্টে ভিসা তে একটা ইউজড লেখা স্টাম্প মেরে দিয়ে ইমিগ্রেশন অফিসার ছেড়ে দিলেন। এপারেও অনেক কারেন্সি এক্সচেঞ্জ বুথ । সবগুলোতেই রেট সমান, ভিতরে যা, এখানেও তা :( । এরা ডলারের ছোট বিলও গ্রহণ করে। তবে ভিতরে বাইরে সব বুথে পরিষ্কার করে লেখা আছে ছোট ডলারের বিলের জন্য এক্সচেঞ্জ রেট কিছুটা কম (১ ডলার =২৯.২৬ বাথ)। শহরে কারেন্সি এক্সচেঞ্জ করলে কিছুটা ভালো রেট পাবো, আমার এখানে এক্সচেঞ্জ করার আগ্রহ কম। ইনফরমেশন লেখা ডেস্ক এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম এই এক্সচেঞ্জ বুথ গুলোই কি সব নাকি বাহিরে আরো আছে । ওখানে কর্মরত মহিলা খুব সুন্দর করে আমাকে বুঝিয়ে দিলেন এই কাস্টমস চ্যানেল এলাকা পার হলে আরো কয়েকটা কারেন্সি এক্সচেঞ্জ বুথ আছে। ওদিকে দৌড়ে যেয়ে দেখি ওখানেও একই রেট :( । আমার আপাতত এখান থেকে শহরে যাবার বাস ভাড়ার মতো টাকা লাগবে, বেশ কয়েকটা এটিএম বুথ, একটা থেকে কিছু টাকা তুলে নেই, শহরে যেয়েই না হয় টাকা বদল করবো। ও হরি! এখানে ক্যাশ মেশিন থেকে টাকা তুলতে গেলে ২২০ বাথ (সাড়ে ছয়শত টাকার মতো) ক্যাশ উইথড্রয়াল চার্জ কেটে নেয়!! সে যত টাকা ই তুলি না কেন, ফ্ল্যাট রেট ২২০ বাথ। বুঝলাম কিছু করার নেই ধরা খেয়ে গেছি, এই রেটেই ভাঙাতে হবে।

টিপসঃ
আসার সময় কিছু ছোট বিল সাথে রাখবেন। ঢাকায় যখন কিনবেন, ছোট বিলগুলোর দাম কম পড়বে। এখান থেকে পাঁচ ডলার মত ভাঙিয়ে নিলেই আপনার শহর পর্যন্ত যাওয়ার বাস ভাড়া হয়ে যাবে। ট্যাক্সিতে শহর যেতে চাইলে কুড়ি ডলার ভাঙানোই নিরাপদ হবে।


ডলার ভাঙানোর জন্য কম বয়স্কা সুন্দরি ক্লার্ক কোন কাউন্টারে আছে দেখে নিয়ে সেখানে যেয়ে আগে এক মিনিট তার রূপের প্রসংশা করলাম। তার পর জিজ্ঞাসা করলাম সে রেট একটু বেশি দিতে পারবে কি না। (এই কৌশল এর আগে এক জায়গার ব্যবহার করে সুফল পেয়েছিলাম)। খুব বিব্রত হয়ে মেয়েটি জানালো আমাকে সে বেশি দিতে পারবে না, তবে আমি চাইলে চকচকে নোট বা আমার পছন্দ মতো খুচরো নিতে পারি। কি করার। এখান থেকেই ভাঙালাম। মেয়েটা অবশ্য ১০০ ডলারের বদলে ২৯৩৪ না দিয়ে ২৯৩৫ বাথ দিয়েছিলো !:#P । এখন শহর যাত্রা, তবে আগের কাজ আগে। সবার আগে চরকা ।


চরকাঃ
এই এয়ারপোর্টে টুরিস্টদের জন্য টুরিস্ট সিম বিক্রি করা হয়। বেশ কয়েকটি কোম্পানির সিম পাওয়া যায়। ট্রিপঅ্যাডভািজার থেকে জেনেছিলাম চরকার নেটওয়ার্ক ভালো। সাত দিন মেয়াদি সিমের দাম তিনশ বাথ, ১৫ দিন মেয়াদি সিমের দাম ৬০০ বাথ। আমার থাকা ১১ দিনের। খরচ বাঁচানোর জন্য ৭ দিন মেয়াদের সিম কিনতে চেয়েছিলাম। ভাবলাম কিছু টাকা অ্যাড করে মেয়াদ বাড়িয়ে নেব। সেলস কাউন্টারের হাসিমুখো বয়স্কা মহিলা জানালেন ৬০০ বাথের সিমের ভিতরে ১০০ বাথ কথা বলার ক্রেডিট ভরা আছে, কিন্তু ৩০০ বাথের সিমে কোন টক টাইম নেই, আমাকে কথা বলতে চাইলে টাকা ভরতে হবে। কাজেই ৬০০ বাথই মেনে নিলাম। কোন ডিসকাউন্ট দিলো না :( , তবে ভদ্র মহিলা যত্নের সাথে সিম ইজেক্ট টুল দিয়ে সিম বের করে নতুন সিম ভরে সেট আপ করে দিলেন। আগের সিম কোথায় রাখবো তা নিয়ে আমার দুশ্চিন্তা বুঝতে পেরে টেপ দিয়ে নতুন সিমের প্যাকেটের গায়ে সিম লাগিয়ে দিলেন। এতে আছে ১৫ দিন মেয়াদের ৬ জিবি 4G ডাটা। ৬ জিবি শেষ হওয়ার পরেও এক মাস ডাটা ব্যবহার করা যাবে তবে তা কম স্পিডে।

শহর যাত্রাঃ
আমার হোটেল খাওসান (নাকি খাহোসান?) রোডের কাছাকাছি। গুগল ম্যাপ অনুসারে এখান থেকে কোন ডায়রেক্ট বাস নেই, আমাকে প্রায় ১৩ মিনিট হেঁটে রাস্তার উল্টো দিকের এয়ারপোর্ট রেলওয়ে স্টেশনে (স্টেশন ঠিক উল্টো দিকে দেখতে পাচ্ছি, কিন্তু ক্রস করার যায়গা নেই, ঘুরে যেতে হবে)। সেখান থেকে ট্রেনে করে শহরে যেতে হবে। শহর থেকে বাসে করে খাও সান এলাকায় যেতে হবে। মোটামুটি দু -আড়াই ঘন্টার জার্নি। অথবা আমি ট্যাক্সি নিতে পারি। ট্যাক্সিতে আনুমানিক সাড়ে তিনশ বাথ লাগবে, এক ঘন্টার কাছাকাছি লাগবে। ডন মুয়াং এয়ারপোর্ট শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূর। ভাবছি স্থানীয় কাউকে জিজ্ঞাসা করব, এখান থেকে বিকল্প কোন উপায় খাওসান রোডের কাছাকাছি বাস বদল করে বা অন্য উপায়ে যাওয়া যায় কিনা। আশেপাশে তাকিয়ে মনে হলো থাইরা অনেক আগেই ক্লোনিং আবিষ্কার করে পুরুষদের এলিমিনেট করে দিয়েছে। এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন ক্রস করার পর এখন পর্যন্ত কোনো পুরুষের দেখা পায়নি। চারিদিকে শুধু মহিলা আর মহিলা। এরমাঝেই ইউনিফর্ম পরা একজনকে জিজ্ঞাসা করতে এসে বলল যে এখান থেকেই খাওসান রোডের বাস যায়।( প্রিয় ব্লগার, থাইল্যান্ডের গেলে গুগল ম্যাপের উপর আস্থা কম রাখবেন। এটা অন্তত অর্ধেক জায়গায় আমাকে ভুল ইনফরমেশন দিয়েছে। এয়ারপোর্ট ট্রেনের কথা অন্য পর্বে আসবে।) বাসের কাউন্টার খুঁজতে দু কদম হাঁটাতেই দেখলাম এক জায়গায় বড় বোর্ডের মধ্যে লেখা আছে ওয়ান টু থ্রি ফোর বিভিন্ন বাস এবং তাদের মধ্যে একটা (৪ নম্বর) বাসা যায় খাওসান রোড এলাকায়। কিন্তু ঠিক কোন লাইনটা চার নম্বর বাসের তা বুঝে ওঠার আগেই দুটা বাস চলে গেল। অবশেষে লাইনে দাঁড়িয়ে সামনে-পেছনে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করে নিশ্চিত হলাম এটাই চার নম্বরি বাসের লাইন। লাইনে দাড়িয়ে দেখলাম গুগল ম্যাপ দেখাচ্ছে এখান থেকে শহরে যেতে দেড় ঘন্টা লাগবে। সকাল ৭ টা পার হয়ে গেছে। আজকের দিনটা আমার কাঞ্চন নগর (Kanchanaburi--থাই উচ্চারন আমার আসবে না, এটাকে কাঞ্চনবুড়ি বলা যায়, আমি কাঞ্চন নগর বলবো) যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। সকাল ৭-৫০এ কাঞ্চনগরের ট্রেন । ফ্লাইট লেট হওয়ার কারণে আমার সবকিছু লেট হয়ে গেল । কাজেই কাঞ্চনবুড়ির ট্রেন ধরা যাবে হবে বলে মনে হয় না। বিকল্প কি করা যায় তা লাইনে দাড়িয়ে চিন্তা করতে থাকলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই সুন্দর আরামদায়ক বাস চলে আসলো। সবারই বসার জায়গা হয়ে গেল। পাশে একজন হালকা গোপ ওয়ালা ব্যাটাছেলে বসেছে দেখে জানলাম থাইল্যান্ডে তাহলে ব্যাটা ছেলেরাও বাস করে। টিকিট কালেক্টর টিকিটের টাকা চাইলে ব্যাটা যখন মুখ খুলল তখন বুঝলাম ওটা ব্যাটা না , আসলে বেটি। বাসের ভাড়া ফ্ল্যাট রেট ৫০ বাথ । সামনে লাগেজ রাখার একটা জায়গা আছে, যাদের লাগেজ আছে রাখতে পারে। আমার কাছে অনেক দেশের তুলনায় ভাড়া সস্তা মনে হয়েছে। বাস বেশ তীব্র গতিতে ছুটে চলছিল । সকাল সাড়ে সাতটা। রাস্তায় অনেক গাড়ির জ্যাম দেখলাম। বাস উড়ালসড়ক দিয়ে যাচ্ছিল, বড় কোন সিগনাল বা জ্যামে পড়িনি। ধারণারও অনেক আগে, এক ঘণ্টার কম সময়ে (৪০-৪৫ মিনিট হবে) খাওসান রোডের কাছে পৌঁছে গেলাম।

ব্যাংককের মাটিতেঃ গুগল ম্যাপ দেখাচ্ছে এখান থেকেই আমার হোটেল কাছে হবে, এখানে নেমে পড়লাম। টিকেট কালেক্টর মহিলা মনে রেখেছে আমি খাওসান রোডের কথা বলেছিলাম। আমাকে বলল খাওসান রোড আরো সামনে, এখানে আমি হেসে বললাম আমার এখান থেকেই কাছে হবে। উঠেছি Zee Thai Hostel এ।এখান থেকে হাঁটাপথে আট মিনিটের রাস্তা। বুকিং ডট কমে এদের রেটিং ৮.৭ । ভাড়া প্রতিদিন ১৭০ বাথ, প্রায় পাঁচ ইউরো বা ৫০০ টাকা, সাথে সকালের নাস্তা ফ্রি। এর চেয়ে শস্তা হোটেল আছে, রেটিং আটের উপর, কিন্তু যাতায়াত ব্যবস্থা এখান থেকেই বেশি ভালো মনে হয়েছিল। কিন্তু সমস্যা হল সব হোটেলেই চেক ইন টাইম দুপুর দুটা বা এরকম। হোটেলের চেক ইন কাউন্টারে যেয়ে অনুরোধ করতেই আমাকে লকার রুম খুলে দিল। আমার ব্যাকপ্যাক ওখানে রেখে বেরিয়ে আসলাম। পেটে প্রচন্ড ক্ষুধা, গায়ে পায়ে ব্যথা ।

হায় জামবাক :(


গুগুলে হালাল ফুড নিয়ার মি টাইপ করতেই দেখিয়ে দিল যেখানে বাস থেকে নেমেছিলাম তার ঠিক পাশেই হালাল খাবারের দোকান।


বাস থেকে নামার সময় একটা বাগান মতো দেখেছিলাম। এবার দেখি কর্পোরেশনের গাড়ি বাগানে জল ঢালছে। ছবি তুলে নিয়ে ভেতরে ঢুকলাম, বাগানটা ভালো করে দেখতে। দেখি এটা আসলে একটা পাবলিক টয়লেট! জায়গাটা পার হয়ে ম্যাপ অনুসারে একটু খুঁজতেই পেয়ে গেলাম খাবার দোকান। আমার ঠিক পিছন পিছন কজন আমেরিকান টুরিস্ট ঢুকলো, মেনু দেখে অর্ডার করলো চিকেন বিরিয়ানি। কাগজের মেনুর পাশাপাশি দেওয়ালে বড় বড় করে খাবারের ছবি আঁকা। ওয়েটারকে ভেজিটেরিয়ান কি আছে জিজ্ঞাসা করতে কয়েকটা আইটেমের কথা বললো। একটা ছবির দিকে দেখিয়ে জিজ্ঞাসা করতে সে জানালো সালাদ- দাম ৪০ বাথ। শসা লেটুস ডিম এসব দেখা যাচ্ছে। ওয়েটারকে বলতেই দুমিনিট বাদে সালাদ এসে হাজির। কিন্তু সালাদের উপর কি একটা যেন ঘন বাদামি রঙের ঝোল ছিটিয়ে দিয়েছে। মুখে দিতেই বমি এসে গেলো। বিদঘুটে একটা গন্ধ এবং মিষ্টি মিষ্টি স্বাদ। পেটে প্রচন্ড খিদা। কিন্তু এ খাবার খাওয়া সম্ভব না। ওয়েটারকে এক বোতল ঠান্ডা পানি আনতে বললাম। আমার ব্যাগে পানি ছিল, কিন্তু আনতে ভুলে গেছি; যার কারণে ১০ বাথ আক্কেল সেলামি দিতে হবে। ওয়েটারকে দেখলাম একটা শক্ত , সূচালো স্ট্র নিয়ে সেটা পানির বোতলের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাড়াতাড়ি তাকে হাত উঠিয়ে মানা করলাম, বললাম এমনি পানির বোতল দিয়ে যেতে। থাইল্যান্ডে পানির বোতল কিনলে সব সময় সাথে স্ট্র দেয়। যে কোন সুপার মার্কেট বা রেস্টুরেন্টেই এই রীতি দেখেছি। কোন কোন স্ট্র বেশ শক্ত ও সূচালো, বোতল ফুটো করে ফেলা যায়। পানি দিয়ে সালাদ গিলে নিয়ে খাবার দোকান থেকে বের হলাম। কাঞ্চন নগর যাওয়ার ট্রেন ছিল সকাল ৭-৫০। এখন নটা পার হয়ে গিয়েছে। পরের ট্রেন দুপুর সাড়ে বারোটায়। ওটা ধরলে আজকে আর ফিরে আসা যাবেনা। বাসের রুট পরীক্ষা করে দেখলাম। শহরের এই মাথা থেকে বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে সেখান থেকে বাসে করে যাওয়া যায়, কিন্তু একই সমস্যা, পৌছাতে অনেক দেরি হবে, আজ ফেরা হবে না। কাজেই প্ল্যান চেঞ্জ করতে হল। আজ কাঞ্চন নগর যাবো না, আজ যাবো সামুদ পাখান

দ্বিতীয় পর্বের লিংক-- কিরপিনের থাইল্যান্ড ভ্রমন (দ্বিতীয় পর্ব)

মন্তব্য ৭৩ টি রেটিং +২৬/-০

মন্তব্য (৭৩) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০৪

ভুয়া মফিজ বলেছেন: প্রথম স্থান দখল করার একটা সুযোগ পাইলাম মনে হয়!!!!=p~

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১৩

মা.হাসান বলেছেন: অপারেশনের আগে রুগী খুব নার্ভাস। ডাক্টার সাহস দেয়ার জন্য বললো, আরে তেমন জটিল অপারেশন না, এত ঘাবড়াবার কিছু নাই। রুগীর জবাব- ডাক্তার সাহেব , আগে কখনো আমার কোন কাঁটা ছেড়া হয়নি, কোন অপরেশন হয়নি তাই একটু ভয় ভয় লাগছে।
--এটা কোন ব্যাপার নাকি? এটা তো আমারো প্রথম অপারেশন।

প্রথম হওয়া আসলেই আনন্দের, আপনাকে অভিনন্দন। আগের পোস্টের মন্তব্যে দেখলাম ব্যস্ততা ছিল। আশা করি আবার নিয়মিত আসতে পারবেন।

২| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৪

জুন বলেছেন: সালাদের উপর যাহা ছিটায় দিছে তাহা ফিস সস। জঘন্য গন্ধ। আমিও এত বছরেও সহ্য করতে পারি নাই। কোন খাবার অর্ডার করার সময় বলে দেবেন "মেদাই /মেছাই নাম প্লা "। মেদাই মানে না, প্লা অর্থ মাছ আর নাম মানে পানি বা সস। আগে জিজ্ঞাসা করে যাইবেন্না :-* ৪০ বাথ জলেই গেলো :P
বিশাল বিবরন। আর থাইল্যান্ডের এতগুলো ফ্লাইট আর ভিসার কম্বেশির কারন অনেকের ভিসার মেয়াদ থাকে। আমাদের যেমন নন ইমিগ্রান্ট ভিসা থাইল্যান্ড থেকেই দেয়া। আমাদের টিকিট কেটে চড়লেই হয়।
এখন বাকি অংশ লিখতে থাকুন আছি সাথে মা হাসান।

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪১

মা.হাসান বলেছেন: বর্ণনা একটু বড় হয়ে গেছে বুঝেছি, কাটছাট করতে ইচ্ছে হয় নি। শুধু জায়গার নাম, ছবি এসব দিয়ে সংক্ষেপে লিখতে মন চায় নি। তবে পরের পর্ব গুলোতে শুধু থাইল্যান্ডের কথা থাকবে, থাই ভ্রমনের কথা বলে বাংলাদেশের বাসযাত্রার কথা লিখবো না :`>

৪০ বাথ জলে যায় নি, কষ্ট করে গিলে নিয়েছি। গিলতে পারিনি এমন খাবার ও পেয়েছি, একবারই, বর্ননা পরে আসবে।

ইমিগ্রান্ট ভিসা বা আসিয়ান পাসপোর্ট শতকরা ৫০ জনের থাকলেও কিন্তু দিনে ৩০০ ভিসা একটু কমই দেখায়। তবে আপনার কথাও সত্য, থাই ভিসা না পাবার কারণে যেতে পারছে না এমন কথা তো শুনি নি।
লেখা শুরু করতে অনেক দেরি করে ফেললাম, বিজন রয়ের লেখায় আপনার কালকের মন্তব্যটা না দেখলে হয়তো আরো এক সপ্তাহ পিছিয়ে যেত।

৩| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৪

ঢাবিয়ান বলেছেন: কিরপিনের থাইল্যান্ড ভ্রমন চমৎকার হইসে। তবে জানুয়ারীতে গিয়ে আমি কিন্ত ভালই শীত পেয়েছি। সোয়েটার পড়ার মত শীত। জুন আপু অবস্য ভাল বলতে পারবে এই ব্যপারে।

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:৪০

মা.হাসান বলেছেন: আমার ভ্রমণ আগস্টে ছিল। শীতের বিষয়ে আমার জ্ঞান গুগুল থেকে নেয়া, কিছুটা লোনলি প্লানেট থেকে আপনার বাস্তব অভিজ্ঞতা, কাজেই আপনারটাই ঠিক হবার কথা। তবে আমাদের কাছে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস অনেক ঠান্ডা, বেশিরভাগ ইউরোপিয়ানের কাছে ১৫ ডিগ্রি মানে আরামদায়ক গরম। ব্যাংককের তাপমাত্রা শীতেও ২০ এর নিচে কম নামে, উত্তরে চিয়াং মাই বা চিয়াং রাইএ মনে হয় আরো ঠান্ডা পড়ে। আপনি কোথায় ছিলেন? আর বৃষ্টির ব্যাপারটাও মনে হয় ঠিক বলিনি, প্রচুর বৃষ্টি হয় , তবে সারা বছর না। উত্তরে নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি তুলনা মূলক শুকনা, আবার কোহ সামুই এলাকায় নভেম্বর ডিসেম্বর খুব বৃষ্টি হয়, ফেব্রুয়ারি-মার্চ কম। যাহোক, বিষয়টা একটু আপডেট করে দিচ্ছি।
ভ্রমন চমৎকার হইসে বলায় অনেক ধন্যবাদ। আশা করি পরের পর্ব গুলোতেও আপনাকে পাবো।

৪| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৮

ভুয়া মফিজ বলেছেন: রাতে এয়ারপোর্টে গিয়েছেন, মশারা কেমন আছে? বংশবৃদ্ধি কতদুর?? জামবাকের কৌটাটা বহুবছর পরে দেখলাম।

আপনি মনে হয় দেশে থেকেও দেশে নাই, নয়তো বাসা থেকে আরো আগে বের হওয়া উচিত ছিল। থাই লায়ন বিমান কোম্পানী কিভাবে ব্যবসা করে আপনার মাথায় আসে নাই!! আপনি বুঝি বাংলাদেশ বিমানের ঢাকা-লন্ডন ফ্লাইটের ক্যারিক্যাচার জানেন না, কেউ কম লাভ করেও টিকে থাকে, কেউ বেশী লাভ করেও লস দেখায়। ;)

এবার আসি কিরপিনের থাই ভ্রমনে। একাই গিয়েছিলেন নাকি? তবে, ভ্রমনের শুরুটা দারুন হয়েছে। আপনার প্রথম ট্যুরিষ্ট স্পট পাবলিক টয়লেট দেখে ভালো লাগলো। বুঝতে পারছি, পুরো ভ্রমনটাই আনন্দদায়ক হবে!=p~

অনেক কিছুই বলতে ইচ্ছা করে, কিন্তু টাইপ করলে আঙ্গুল ব্যথা করে ইদানীং! :(

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৯:২৪

মা.হাসান বলেছেন: মশাদের সুখের দিন শেষ। আমার একবার মনে হয়ে ছিলো- ভুল এয়ারপোর্টে এসে পড়লাম না তো? বুটস বা লয়েডসে কি জামবাক পাওয়া যায় না? আমাজনে নিশ্চিত পাবেন।

সাধারন হিসাবে আরো আগে বের হবার কথা, তবে কোরবানি ঈদে ঢাকা একটু আগেই খালি হতে শুরু করে, সেই হিসেবে ভেবেছিলাম রাস্তায় হয়তো অত জ্যাম হবে না। অফিস থেকে ফিরে আরো কিছু ছোটখাটো কাজ সারতে দেরি ও হয়ে গেছিল ।
সব এয়ারলাইন কি আর বিমানের মতো গুনী কর্মী বাহিনী পায় বা ২০০০ কোটি টাকার ড্রিম লাইনার পায়? তবে ভাড়া কম হওয়ায় লায়ন এয়ার খালি গাড়ি নিয়ে যায় না, মোটা মুটি ভরা গাড়িই ছিল।
ভ্রমন একা ছিল, কিরপিন সিরিজে আরো লেখার ইচ্ছা আছে, সব একা ভ্রমন। পারিবারিক ভ্রমন অভিজ্ঞতা কিছু শেয়ার করলে অন্য টাইটেল দেবো। আমার ভ্রমন আনন্দ দায়ক ছিলো, লেখা কতটা আনন্দ দায়ক হবে জানি না।
আঙুল ব্যথার জন্য জামবাক চলতে পারে। তবে অনেকেই ভয়েস টু টেক্সট অ্যাপ ব্যবহার করে লেখে। আইফোনে এই অ্যাপ থাকার কথা। ফোনে ব্লগিং করা ঝামেলার, তবে ভয়েস টু টেক্সট টাইপ হয়ে গেলে ইমেইলের মাধ্যমে ডেস্কটপে ট্রানস্ফার করা সম্ভব। ছোট লেখার জন্য এই ঝামেলায় পোষায় না, বড় পোস্ট হলে পুষিয়ে যায়।

৫| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪৮

চাঁদগাজী বলেছেন:



দেখে মনে হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ের গুরুত্বপুর্ণ জাতীয় ভিজিট

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৯:২৮

মা.হাসান বলেছেন: জাতীয় জন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে লিখে দেশ-মহাদেশ উদ্ধার করার মতো বুদ্ধিজীবী ব্লগে কয়েকজন আছেন, তাঁঁরা নিয়মিত তাঁদের উন্নত চিন্তা দ্বারা জন গুরুত্ব সম্পন্ন পোস্ট প্রসব করে যাচ্ছেন। আমার ভিজিট ছিল ম্যাওপ্যাও ভিজিট।

৬| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৫৮

শাহিন-৯৯ বলেছেন:


বেশ ভাল লাগল আপনার প্রথম পর্ব।
যিনি সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ বুঝেননি উনি আবার আমাদের স্ব-দেশী নয়তো!!! :P
মিষ্টি হাসি তাহলে সবসময় কাজ দেয় না বুঝা গেল।
লিখতে থাকুন, সাথে আছি।

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৯:৩৪

মা.হাসান বলেছেন: আপনার ভালো লাগায় আমি প্রীত।
জী, উনি আমাদের দেশি ভাই ছিলেন। বোনের বিয়ে নিয়ে মনে হয় চিন্তিত ছিলেন, আমার সামনের ভদ্রলোক ওনার সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেয়ার পর উনি দ্রুত কাজ সেরে নেন।

মিষ্টি হাসি কাজে দিলো তো, এক বাথ বেশি পেলাম। B-) দোকানের কর্মচারি হলে আসলে বেশি দেয়ার ইচ্ছে থাকলেও সম্ভব হয় না। মালিক থাকলে দরাদরি কাজে লাগে।

৭| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:০২

শাহিন-৯৯ বলেছেন:


চিড়া-গুড় কি সাথে নেওয়া যায় থাইল্যান্ডে গেলে?
যদি নেওয়া যায় তাহলে বাথও বাঁচবে সাথে রুচির ঘাঠতিও হবে না। :D :D :D

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৯:৪০

মা.হাসান বলেছেন: থাই কাস্টমস খুব কড়া মনে হয় নি, চিড়া-গুড় নেয়া যায়, আপনি ভালো সাজেশন দিয়েছেন, পরের বার কিছুটা নিয়ে নেব। লাগেজ লিমিট ছিল আট কেজি, তবে এয়ার এশিয়া লাগেজের বিষয়ে ছ্যাচড়ামি করে , লায়ন এয়ার করে না, দু তিন কিলো চিড়া নেয়াই যায় B-)) । খাবার দামের বিষয়টা পরের পোস্ট গুলো থেকে আরো পরিস্কার হতে থাকবে।

৮| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:২০

আনমোনা বলেছেন: বাস যাত্রা পড়তে পড়তেই মাথা ব্যাথা শুরু হয়ে হয়ে গেলো। আপনার কাছে জামবাক আছে?

কারেন্সী এবং সিম কার্ড কেনার টিপসগুলো প্রয়োজনীয়। খাবার ব্যাপারে আগে থেকে জুনাপুর পরানর্শ নিলে ভালো করতেন।

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৯:৪৫

মা.হাসান বলেছেন: আপনার পড়তেই মাথা ব্যথা শুরু হলো, এর মধ্য দিয়ে যেতে আমার কি হয়েছিলো ভাবেন। ছবি থেকে মনে মনে জামবাক মেখে নেন, কাজ না হলে আমাজনের সাহায্য নিতে পারেন।
খাবার ব্যাপারে কি বলবো, ব্যাটাকে বললাম ভেজিটেরিয়ান অপশন, দেয়ালের গায়েও বড় করে ছবি আঁকা আছে, সেখানে কোন ঝোল নাই, এর পরেও ঐ কাজ করলো! :((

৯| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১০:৩০

রাজীব নুর বলেছেন: খুব মন দিয়ে লেখাটি পড়লাম।
ভালো লাগলো।

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১০:৪১

মা.হাসান বলেছেন: রাজীব ভাই, আপনি মন দিয়ে পড়েন জানি। তবে সব লেখা আপনার ভালো লাগে না। এটা লেগেছে জেনে আমারো খুব ভালো লাগলো।
বলেছিলেন পরী মাসের শেষের দিকে আসবে। কবে আসছে?

১০| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১০:৩০

আহমেদ জী এস বলেছেন: মা.হাসান,




ফজরের নামাজের গন্ধ গা থেকে মুছে যেতে না যেতেই কম বয়সের সুন্দরী ক্লার্ক বেছে তাদের গন্ধ গায়ে মাখলেন, আপনার তো দেখি দোজখ কনফার্ম। :( অবশ্য দোজখেও ও রকম পাবেন শিওর। ;)

কিরপিনের থাইল্যান্ড ভ্রমনে হয়তো পকেটের কিরপিনি ছিলো কিন্তু এই পোস্টে লেখায় কোনও কিরপিনগিরী (কিপ্টামী) করেন নি। মায় বাগানের মাঝে পাবলিক টয়লেটের কথাও উদার হস্তে লিখেছেন। পয়সা লাগছেনা বলেই কি ?????? :P

সেইরাম লেখা!

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১০:৪৯

মা.হাসান বলেছেন: আগে লোকে মসজিদ থেকে বের হবার সময়ে টুপি খুলে পকেটে রেখে বের হতো, এখন প্লাস্টিকের টুপি মসজিদেই রেখে আসে।
আর আমি তো প্রেম নিবেদন করিনি, সুন্দর কে সুন্দর বলেছি শুধু :P

লেখার বর্ননা একটু বড় হয়ে গেছে, খুটিনাটি বিষয় গুলো কাটছাট করতে মন চায় নি।
অর্থের ব্যাপারে কিরপিন গিরি ছিল, তবে হাড় কিরপিন হইনি, পরের পর্ব গুলোতে দেখবেন। :#)
লেখা ভালো লাগায় আমিও অনেক খুশি।

১১| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১০:৪৬

আরোগ্য বলেছেন: শ্রদ্ধেয় মা হাসান ভাই, এতো বড় পোস্ট আই এহন ফড়তারুম নয়। সময় সুযোগমত পড়িম, বলিয়া গেলুম।

আর আমার কোন হৃদয়ঘটিত সমস্যা হয়নি। এতো অল্পবয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হইতে চাই না। অকালে মরার মোর কোন জো নাই। দোয়া ও দুয়া উভয়ই চাই। ;)

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১০:৫৪

মা.হাসান বলেছেন: পোস্ট একটু বড় হয়ে গেছে, থাইল্যান্ডে না ঢুকে প্রথম পর্ব শেষ করতে চাই নি।
আপনার হৃদয় বন্ধক রাখেন নাই শুনে মনটা একটু দইমা গেল, দাওয়াত পাবো ভাবছিলাম।
ভিড্যু দ্যাখেন, পরে আসতে ভুইলেন না, মুই কিন্তু অপেক্ষা করবাম।

১২| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১০:৫৮

আরোগ্য বলেছেন: ঐ মিয়া কি লিংক দিসেন? আন্দার ছাড়াা কিচ্ছু দেহন যায়না। :||

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১১:১২

মা.হাসান বলেছেন: সেই সম কি আর ব্লুরে আছিলো? আর অঞ্জু ঘোষের নাচ দ্যাখলে পথথম পথথম অনেকেই চউখে আনধার দ্যাখে।
যা হউক, বেশি আনধার দ্যাখলে ম্যাচবাতি জালাইয়া লন


১৩| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১১:১৭

আরোগ্য বলেছেন: তওবা তওবা। এই ছেড়ির ছবি দেইখাই চক্ষু চড়কগাছ। ভিডিও আর কি দেহুম। আস্তাগফিরুল্লাহ। :((

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১১:৩৫

মা.হাসান বলেছেন: এইডা সপরিবারে দ্যাহার ভিড্যু, এইডার মইদে আপনে খারাপ কিছু ক্যামতে পাইলেন :(

১৪| ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১১:৫৩

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: অবশেষে পাইলাম আপনার থাই ভ্রমণ। বিশাল পোস্ট: পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা। মাত্র চারটি ছবির মধ্যে একটি মাত্র ভ্রমণের, মন ভরল না। আমরা আরো ছবি আশা করেছিলাম।
বর্ণনার সঙ্গে ছবি দিলে পোস্টটি আরও উপভোগ্য হতো। রূপের প্রশংসার বিষয়টি বেশ লাগলো। তার অগোচরে অন্তত একবাথ তো আপনি বেশি পেলেন। হালাল খাবার অবশেষে পেলেন সালাদ দাম 40 বাত। তাও আবার বিদঘুটে গন্ধ। হাহাহা আজিব দেশ।
তাহলে সেদিন আর কাঞ্চননগরে যাওয়া হলো না। আমরাও আপনার সঙ্গে চললাম সামুদ পাখানে.


২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১২:০৫

মা.হাসান বলেছেন: সালাদ সহ আরো কিছু ছবি ফোন থেকে পিসিতে ট্রান্সফারের সময় ভুল করে মুছে ফেলেছি। পরের পর্বে ছবি বেশি থাকবে।
১ বাথ বেশি অগোচরে না, জ্ঞাতসারেই হয়েছে, ওরা মানি ট্রান্সফারের সময় প্রিন্টেড রিসিট দেয়। বর্ননা একটু বেশি হয়েছে, দুঃখিত, তবে কাটতে ইচ্ছে করছিলো না, থাইল্যান্ডে পা না রেখে শেষ করতে ইচ্ছেও করছিলো না। আমি অনুমান করেছিলাম গন্ধের বিষয়টা আমার একার সমস্যা, কিন্তু জুন আপার মন্তব্য থেকে বুঝলাম বাঙালি রসনার জন্য ঐ বস্তু (ফিশ সস) উপাদেয় না। সাথে থাকার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

১৫| ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১:২৪

বলেছেন: জাতিয় হেভিওয়েট ভিজিট -- মাইরি।।

টুকরো টুকরো প্যারা দিয়ে ভালোই প্যারাময় পোস্ট দিলেন।।

চলুক..

ফডো দিয়েন।।।

২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১:৩১

মা.হাসান বলেছেন: হা হা হা জাতিয় হেভিওয়েট ভিজিট তো হেভিওয়েট ব্লগার এখানে করে গেলেন, আগে জানলে গেট সাজায়ে লাল গালিচা অভ্যর্থনা দিতাম।
পরের পর্ব গুলোতে ফটো বাড়বে, দুর্ঘটনা বশতঃ প্রথম দিনের কিছু ছবি মুছে ফেলেছি। আপনাকে আজ অনেক আগে দেখলাম, আপনিতো সাধারণতঃ আরো একটু পরে আসেন, নাকি আমারি ভুল হয়ে গেল।
অনেক শুভকামনা।

১৬| ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ ভোর ৫:৪৯

চাঁদগাজী বলেছেন:


লেখা থেকে পরিস্কার যে, ইহা রাষ্ট্রীয় সফর।
ওদের খাবার পানির দরকার থাকতে পারে, ফেনী নদীর পানি সুপেয়।

২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:৩৩

মা.হাসান বলেছেন: আপনার দৃষ্টি পরিষ্কার হইয়াছে জানিয়া জাতি বিমোহিত । ব্লগের এই স্বর্ণালী সময়ে প্রচুর পোস্ট আসিতেছে। এই সময়ে আপনার শ্যেনদৃষ্টির বড় প্রয়োজন ছিল।
ফেনী নদীর জলে শ্যামবাসীর উপকার কম হইবে, হাডসন নদীর পবিত্র জল প্রয়োজন।

কলোরাডোতে দেওয়াল তোলার বক্তৃতা খুব চমৎকার হইয়াছে, যিনিই ড্রাফট লিখে থাকুন না কেন ধন্যবাদ পাইবার যোগ্য।

১৭| ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ ভোর ৬:৫২

স্বামী বিশুদ্ধানন্দ বলেছেন: অনেক খুঁটিনাটি সাবলীলভাষায় প্রসব করিয়াছেন যাহা পড়িয়া বড়োই আনন্দ পাইলাম | থাইল্যান্ড আমার পছন্দের জায়গাগুলোর একটি | চালিয়ে যান - আপনার সাথে আছি |

২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:৩৪

মা.হাসান বলেছেন: আপনাদের আনন্দ লাগাই আমার ভালোলাগ। সাথে থাকার জন্য অনেক ধন্যবাদ ।

১৮| ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ৯:৫৩

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: রাজীব ভাই, আপনি মন দিয়ে পড়েন জানি। তবে সব লেখা আপনার ভালো লাগে না। এটা লেগেছে জেনে আমারো খুব ভালো লাগলো।
বলেছিলেন পরী মাসের শেষের দিকে আসবে। কবে আসছে?

এই চলতি সপ্তাহে বুধবার আসবে। দোয়া করবেন।

২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:৩৬

মা.হাসান বলেছেন: অবশ্যই রাজীব ভাই , পরীর জন্য অনেক দোয়া আর আশির্বাদ । অনুরোধ থাকলো পরী ফেরার পর শুধু পরী এবং ওর ছবি নিয়ে নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েন।

১৯| ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ১০:০১

নগরসাধু বলেছেন: দারুন বিস্তারিত ভ্রমন।
ভবিষ্যতের পর্যটকদের জন্য অনেক দিশামূলক

বিস্তারিত লেখা আমাদের মতো না দেখা মানুষদের জন্য বড়উ অনুেপ্ররণা মূলক :)
ভাল লাগলো ভ্রমন কাহিনী

২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:৩৮

মা.হাসান বলেছেন: সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। সুন্দর জিনিস যে শুধু দেশের বাইরে আছে এমন না , দেশের ভিতরেও অনেক সুন্দর জায়গা আছে । সুযোগ পেলে দেশের ভিতরের ভ্রমণ নিয়ে পোস্ট দেয়ার ইচ্ছা আছে।

২০| ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১২:২৮

কিরমানী লিটন বলেছেন: দারুন ভ্রমন কাহিনি - সুন্দর সুখপাঠ্য...

২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:৩৯

মা.হাসান বলেছেন: কিরমানী লিটন ভাই, অনেক ধন্যবাদ ।

২১| ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১:৩১

করুণাধারা বলেছেন: দারুন ভ্রমন কাহিনী!! এত বড় কাহিনী, কিন্তু এক টানে পড়ে যেতে হল; এমনই ভাল লিখেছেন। আগামী পর্ব এভাবেই লিখবেন খুঁটিনাটি সবকিছু সহ, আর অবশ্যই ছবিসহ।

একটা জিনিস বুঝতে পারছি না, আপনার বাড়িতে কি পতির পুণ্যে সতীর পুণ্য ব্যবস্থা চালু আছে? লয়ে রশারশি, করি কষাকষি, বাক্স-পেটরা বাঁধি- গৃহিণী বললেন, "যান, একাই ব্যাংকক ঘুরে আসেন"! এমনটা কিন্তু কখনো দেখিনি, শুনিওনি!!

২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:৪১

মা.হাসান বলেছেন: বেশি বড় হয়ে যাচ্ছেনাকি ভয়ে ছিলাম , আপনার কথায় আশ্বস্ত হলাম । চেষ্টা করব পরের পর্বগুলোও খুটিনাটি সহ লেখার জন্য।

আমার চাকরিতে ছুটির পরিমাণ বেশি , গিন্নির চাকরিতে ছুটি কিছুটা কম। এপ্রিল , আগস্ট , এবং ডিসেম্বরের অর্ধেক এর পর আমি কিছু ছুটি পাই যেগুলো পরিবারের সঙ্গে ব্যয় করি। থাইল্যান্ড ভ্রমণের এক সপ্তাহ পরেই পারিবারিক ট্যুর ছিল। পারিবারিক ট্যুরে থাকার সময় অনেক ক্ষেত্রেই আমি ব্লগ থেকেও দূরে থাকি। কাজেই বুঝতে পারছেন আমি একজন গৃহপালিত লক্ষী ছেলে। B-)

২২| ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ২:৪৯

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



"জগতে এমন স্ত্রী আছে যারা স্বামীকে থাইল্যান্ড যেতে উদ্বুদ্ধ করে" এটা মনীষীদের বাণীর মর্যাদা পাওয়ার দাবী রাখে! শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এরকম দারুন কিছু রিউমার লেখাটিকে সমৃদ্ধ করেছে। ভ্রমণ কাহিনী আমার বরাবরই পছন্দের। আর থাইল্যান্ড কখনো যাইনি বলে এর সুন্দর/সুন্দরীদের প্রতি আলাদা টান অনুভব করি! দেখি পর্যাপ্ত বাথের (ভাত নয়) সংকুলান করতে পারি কিনা?

চলুক কাহিনী, আগমন ঘটুক সুন্দরী থাই সুন্দরীদের! সেই আশায় রইলাম!!

২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:৪৩

মা.হাসান বলেছেন: কওসার ভাই, সরস মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। থাইল্যান্ড শুধু ললনাদের জন্য না আরও অনেক কিছুর জন্যই দর্শনীয় হতে পারে। খরচ আমার কাছে খুব বেশি মনে হয় নি। থাইল্যান্ডের ভিসা পাওয়া আমার কাছে ভারতের ভিসা পাওয়ার চেয়ে সহজ মনে হয়েছে। সুযোগ পেলে ঘুরে আসবেন অবশ্যই।

২৩| ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৩:৩০

নীল আকাশ বলেছেন: কিরপিনের থাইল্যান্ড ভ্রমন চমৎকার লাগছে। আপনার উপর ভাবীর এত বিশাল আস্থা দেখে আমি বিপুল বিমোহিত!!! এত বিশ্বস্ত জামাই কয়জনের থাকে???? ভাবীকে আনেন নি সাথে? না আনলে খুব অন্যায় করেছেন।
আমার ভিজিট ছিল ম্যাওপ্যাও ভিজিট। - ডোডো পাখি চুপ হয়ে গেল যে? কাহিনী কি?
খুটিয়ে খুটিয়ে পড়লাম। সামনে এখানে কিংবা মালায়শিয়াতে যাবার ইচ্ছে আছে দলবল সহ। লাইক সহ প্রিয় থাকলো।
লেখা চলুক। সাথেই আছি।


২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:৫১

মা.হাসান বলেছেন: বলেছেন: নীল আকাশ ভা নর্থ-সাউথ যুদ্ধে সাউথের লোকেরা বলেছিল ক্রীতদাস চাই, দাসপ্রথা চাই, কেননা ফার্মে কাজ করাতে হবে( ফার্মার রা কেমন জানেনই তো B-)) )। নর্থের লোকেরা বলেছিল - কিছু বেতন দাও, কিছু বিনোদন দাও, কিছু স্বাধীনতা দাও -চিরকালের মতো চাকর করে রাখো। এভাবে ম্যানেজ করা সহজ।

আমার স্ত্রী নর্থের লোকদের মতো দক্ষ প্রশাসক। এর চেয়ে বেশি বলা আমার জন্য নিরাপদ না, আপনার জন্য পড়াও নিরাপদ না, আমরা দুজনেই লেজ কাটা শেয়াল।

ব্লগে এখন প্রচুর ব্লগার প্রচুর পোস্ট। ডোডো একা জাতিকে হেদায়েত করার কাজে কুলাইয়া উঠিতে পারিতেছেনা। কর্মখালি বিজ্ঞাপন দেওয়া প্রয়োজন আছে মনে হয়। মাল্টিরা কোথায়?

২৪| ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫:০৪

আরইউ বলেছেন: আপনার ভ্রমন কাহীনি চমৎকার হয়েছে। পাঠক হিসেবে আমার মনে হয়নি পড়া বন্ধ করি - আগ্রহ ধরে রাখতে পেরেছেন। সম্ভবত এরকম আরো কিছু ভ্রমন কাহীনি নিয়ে (অথবা এটাই আরো বড় পরিসরে লিখে) আপনি একটা বই লিখতে পারেন।

২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:৫৪

মা.হাসান বলেছেন: ভাই আরইউ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। আপনাদের ভালো লাগলেই লেখা স্বার্থক।

কিছুদিন পূর্বেও মানুষের সর্বনাশ করার জন্য দুইটি উপায়ের কথা আমরা বলতাম-- দ্বিতীয় বিবাহের পরামর্শ দেওয়া এবং নির্বাচনে দাড়া করে দেওয়া। বর্তমানে নির্বাচন গুরুত্বহীন হয়ে পড়ায় তার জায়গা দখল করেছে বই ছাপাতে উদ্বুদ্ধ করা :-B

অনেক শুভকামনা।

২৫| ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫:২০

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন:
কিরপিনের :D থাইল্যান্ড ভ্রমণ দুর্দান্ত ভ্রমণ কাহিনী ।নতুন ভ্রমণকারীদের জন্যও সহায়ক ।
তাদের টয়লেটেকে আপনি ভাবেন যে এটি পার্ক, আর আমাদের প্রতিটি পার্কই মনে হয় এটি ডাস্টবিন ।
আপনার স্ত্রীকে বিশেষ ধন্যবাদ যিনি আপনাকে ভ্রমণে যেতে উত্সাহিত করেছেন,যার জন্য আমরা একটি দুর্দান্ত ভ্রমণ গল্প পাচিছ ।
পরবর্তী অংশের জন্য অপেক্ষা করছি :>
তবে থাই মেয়েদের সাথে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন ।

২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:৫৬

মা.হাসান বলেছেন: ভাই কামরুজ্জামান আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

আমাদের পার্ক গুলি আসলে থাই স্টাইলে করা হয় নাই, লস এঞ্জেলেস এবং প্যারিসে স্টাইলে করা হয়েছে-- এই জন্য পাবলিক মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত হয়।

কাহিনী পড়তে থাকলে দেখতে পাবেন শুধু থাইল্যান্ডে শুধু মেয়ে না, আরো অনেক কিছু সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা দরকার।

২৬| ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫:২১

ওমেরা বলেছেন: আমি শুনেছি কিরপিনেরা আনারস খেতে পারে না সেই হিসাবে আপনি তে অনেক বড় কিছু করে ফেলেছেন ।
তবে লিখাটা ফ্যান্টাষ্টিক হয়েছে । আমার অনেক ভ্রমন করা হয় কিন্ত আমি তো এত সুন্দর করে লিখতে পারি না তাই লিখা হয় না ।

ধন্যবাদ ।

২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৯:০৪

মা.হাসান বলেছেন: এত সুন্দর মন্তব্যের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার পোস্ট পড়লে কিন্তু যেখানেই থাকি না কেন, হোম সিক হয়ে পড়ি। নিজের অনুভূতি আপনি পাঠকের মাঝেও খুব ভালো ভাবেই সঞ্চার করতে সক্ষম।

আশাকরি আপনার বিষন্নতা কমেছে । আপনার ছবিসহ ব্লগ অত্যন্ত চমৎকার হয়েছে, সব সময়ে লগ ইন করা অবস্থায় থাকিনা বলে মন্তব্য করা হয় না, কিন্তু পড়ার চেষ্টা করি। পরের পোস্টে ভেজিটেরিয়ান এবং ডায়াবেটিক পেশেন্ট দের জন্যও কিছু অপশন রেখেন।

আমি আনারস খাই এবং থাই ভ্রমনের ২য় পর্বে পর্বে আনারস খাওয়ার বিষয় আসবে। আমি কিরপিন, তবে হাড় কিরপিন না।

২৭| ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫:৫২

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: দারুন ভ্রমন কাহিনী

শুরুতেই তো ফাটিয়ে দিলেন ;)

আরোগ্য ভায়ারে যা দিলেন? ;) কে বলে কিরপিন =p~ =p~

চলুক মজার ভ্রমন কাহিনী।
আপনার সাথে সাথৈই ঘুরে আসি থাইল্যান্ড :)

২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৯:০৯

মা.হাসান বলেছেন: ভৃগু ভাই, কবিতার ছন্দে মন্তব্য না দেওয়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ ;) । আরোগ্য ভাইকে অনেক বড় দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। ওনাকে সাপোর্ট করাও আমাদের দয়িত্ব। এছাড়া সপরিবারে বিনোদনেরও দরকার আছে, এইজন্য পারিবারিক বিনোদনের ভিডিও দিয়েছি। আপনিও সপরিবারে দেখে ফেলেছেন জেনে ভালো লাগলো।

সাথে থাকতে চাওয়ার জন্য ধন্যবাদ আজই দ্বিতীয় পর্ব দেওয়ার ইচ্ছা আছে।

২৮| ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৯:০৪

আরইউ বলেছেন: মন্দ বলেননি — তবে আপনার বলার ভংগিটা ভালো; শুধু তথ্য-উপাত্তে ভারী নয় লেখাটা, সাথে হিউমার আছে যা পাঠক হিসেবে আমি খুবই এনজয় করেছি। তথ্য ও রম্যের সুন্দর, সাবলীল ও পরিমিত মিশ্রণের জন্যই আমি আপনার পরের পর্বের জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করবো। ভালো থাকুন।

২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৯:১১

মা.হাসান বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ আরইউ ভাই, আজ পরের পর্ব দেয়ার ইচ্ছে, সাড়ে দশটার মধ্যে পারলে দেব, না হলে কাল সকালে।

২৯| ২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১১:১৭

আখেনাটেন বলেছেন: একেবারে ঠ্যাং টু মুন্ডু বর্ণনা মশাই। খাসা। :D

প্যারাগুলো কয়েকলাইন করে ভেঙে দিলে চোখ একটু স্বস্তি পেত মনে কয়। :)

২৬ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১১:৩৬

মা.হাসান বলেছেন: আখেনাটেন ভাই অনেক ধন্যবাদ এত প্রেরণাদায়ক মন্তব্যের জন্য।
২য় পর্বের প্যারাগুলো একটু ভেঙে দেয়ার বিষয়টা মাথায় রাখবো। পরে প্রথম পর্বটাও এডিট করে দেব। আজ ২য় পর্ব দেয়ার ইচ্ছে ছিল, শেষ করে উঠতে পারি নি। কাল দিতে পারবো আশা করি।

৩০| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫:৫০

জোবাইর বলেছেন: আপনার ভিন্ন স্টাইলে লেখা ভ্রমণকাহিনী ভালো লেগেছে। থাইল্যান্ডে একবার গিয়েছিলাম, তাও ট্রানজিট হিসাবে মাত্র একদিন ছিলাম। সুতরাং এটা ভ্রমনের পর্যায়ে পড়ে না। সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর সম্পর্কে জানতাম। ডন মুয়াং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্পর্কে আপনার লেখায় জানলাম। মনে হলো গুগল ম্যাপ আপনার চলার পথের নিত্য সঙ্গী! তাই ভ্রমণে আপনার অবস্থানগুলো গুগলের ম্যাপের স্ক্রীনশট দিয়ে পোস্টে উল্লেখ করলে আমাদের বুঝতে আরো সুবিধা হতো।

আপনার ভ্রমণের শেষ পর্ব পর্যন্ত সাথে আছি। ভ্রমন শুভ ও আনন্দময় হোক।

২৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৯:২১

মা.হাসান বলেছেন: জোবাইর ভাই ধন্যবাদ আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য। অপরিচিত জায়গায় গেলে ম্যাপের সাহায্য নেই, বাধ্য হয়েই। ইউরোপে কলিন্স বা A-Z ম্যাপের মতো অনেক ম্যাপ পাওয়া গেলেও এশিয়ার বেশিরভাগ যায়গায় এরকম কিছু নেই। বিনে পয়সায় গুগুলই মনে হয় সবচেয়ে সহজ। গুগুল পার্সোনাল তথ্য সংগ্রহ করে বলে আমি এর বেশির ভাগ সর্ভিস এভয়েড করি, তবে ম্যাপের ক্ষেত্রে বিকল্প কম। কিছুটা পরিচিত জায়গা হলে বিঙ ম্যাপ ব্যব হারও করে দেখেছি। গুগুল ম্যাপের আরেকটা সুবিধা হলো ট্রান্সপোর্ট অপশন গুলো দেখা যায়। পরের পর্বগুলোতে চেষ্টা করবো গুগুল ম্যাপের স্ক্রিন শট দেয়ার। সাথে থাকার জন্য অনেক ধন্যবাদ। আপনার পাঠও আনন্দ দায়ক হয়ে উঠুক।

৩১| ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১০:০৩

শায়মা বলেছেন: কিরপিনের প্রথম পর্ব পড়লাম! ভাইয়া একা একা গেলে কেনো?

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১০:৪৭

মা.হাসান বলেছেন: বউ এর ছুটি ছিলোনা, বললো একা একা যেতে-- তাই একাই গেলাম, আমি বউএর কথা কখনো অমান্য করি না। :`>

২য় এবং ৩য় পর্ব পোস্ট করা হয়েছে কিন্তু ।

৩২| ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১০:২৩

চাঙ্কু বলেছেন: সেইরাম ভ্রমন কাহানী! পড়া মাত্র শুরু করলাম।

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১০:৪৯

মা.হাসান বলেছেন: ২য় এবং ৩য় পর্ব কিন্তু দিয়েছি, পড়ার অনুরোধ থাকলো। আপনার প্রোপিকও তো সিরাম, অনেক অল্প বয়সেই পড়ালেখা শেষ করে ফেলেছেন!!

৩৩| ০৫ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৩

মোস্তফা সোহেল বলেছেন: খুব সুন্দর করে বর্ননা দিয়েছেন।পড়ে বেশ আরাম পেলাম।

০৫ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৫:৪৬

মা.হাসান বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই, আপনি চতুর্থ পর্ব থেকে কষ্ট করে ঘুরে প্রথম পর্বে এসেছেন, খুব ভালো লাগলো।
অনেক শুভ কামনা।

৩৪| ০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ সকাল ৯:৪৪

ইসিয়াক বলেছেন: অসাধারণ লাগলো ।
মোশতাক গুণ্ডা.......।হা হা হা
সন্তোষের দোকানের কথা মনে আছে ?তার সামনে রাস্তার বিপরীত পাশে পুকুর সংলগ্ন খোলা মাঠ স্যানিটারী পাইপের কারখানা সহ বিশাল দোতালা বাড়ি । ওটাই আমার নানা বাড়ি ছিলো ।৫জি টি স্কুল রোড[পি টি আই রোড ।ষষ্ঠীতলা যশোর ।

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৯:০৭

মা.হাসান বলেছেন: ইস্তিয়াক ভাই, অনেক ধন্যবাদ।

মামার বাসায় শেষ গিয়েছি ১৯৯৮। মামাও এর পরে ঢাকায় থিতু হন। সন্তোষের দোকানের কথা মনে নেই, তবে পুকুর সংলগ্ন খোলা মাঠের কথা মনে আছে। বড় একটা দোতলা বাড়ির কথাও মনে আছে। ওখানে কি একটা তিন তলা ফ্লাট সিস্টেমের বাসা- প্রতি তলায় দু ইউনিট-- ছিলো? যতদূর মনে পড়ে ওরকম একটা বাসায় আমার মামা থাকতেন। আমার অনেক গুলো মামাতো বোন ছিলো, কয়েকজন খুব বেশি সুন্দরী, ঐ সময়ে আপনার বয়স কত ছিল জানি না, উপযুক্ত বয়সের হলে ওদের কাউকে কাউকে চিনবেন ;) । পিটিআই স্কুলের ভিতরেও দু-একবার গিয়েছি মনে হয়। যে স্মৃতি সবচেয়ে বেশি মনে আছে তা হলো একটা মাটির তৈরি হাতির মূর্তি, মোস্তাক ইলেকশনের জন্য তৈরি করেছিলো। অনেক পুরানো কথা মনে করিয়েদিলেন।
অনেক শুভকামনা।

৩৫| ০২ রা ডিসেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৩৭

খায়রুল আহসান বলেছেন: "জগতে এমন স্ত্রীও আছেন যারা স্বামীকে থাইল্যান্ড যেতে উদ্বুদ্ধ করেন!!!!" - যোগ্য পাত্রেই তিনি আস্থা রেখেছেন বলে মনে হয়।
১ বাথ = প্রায় ৩ টাকা! ১৯৮৬ সালে আমি যখন প্রথম থাইল্যান্ডে যাই, তখন ১ বাথের মূল্য ১ টাকারও কম ছিল। অর্থাৎ বাথের চেয়ে টাকার মূল্য বেশী ছিল। বিমান বন্দরের লোকজন, দোকানের মালিক-কর্মচারী, পুলিশের লোকজন, এদের কেউই তখন ইংরেজীতে কথা বলতে পারতো না, তবে এখন অনেকেই বেশ পারে।
এমন কি আড়াই বছর আগে যখন গিয়েছিলাম, তখনো বাথ এর বদলী মূল্য ২ টাকার কিছু বেশী ছিল।
"মেদাই /মেছাই নাম প্লা " - অর্থসহ একটা প্রয়োজনীয় বাক্য শেখা হলো জুন এর কল্যাণে, ভবিষ্যতে যা কাজে লাগতে পারে।
এ পোস্টটাকে অনেকেই বড় হয়েছে বলেছেন। কিন্তু আমার কাছে তো এটাকে মোটেই বড় হয়েছে বলে মনে হলোনা। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠকের আগ্রহ ধরে রাখতে পেরেছেন। তবে ফ্লাইট মিস হয়ে যাবার একটা সম্ভাবনা মাথা চাড়া দিয়ে উঠছিল বলে প্রথম দিকে পড়তে একটু টেনশন হচ্ছিল।
চমৎকার পোস্টে ২৬তম প্লাস রেখে গেলাম। + +

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৫

মা.হাসান বলেছেন: যোগ্য পাত্রেই তিনি আস্থা রেখেছেন বলে মনে হয়।
আমার চাকরি জীবনের দ্বিতীয় দিনে চাকরির প্রথম সবক পাই-- বস ইজ অলওয়েজ রাইট। এটা মেনে চলার চেষ্টা করি। বিবাহিত জীবনে স্ত্রীকে সব সময়ে বস জেনে এসেছি :P

বাথের মূল্যঃ দেশ স্বাধীন হবার সময়ে ১ ডলার ছিলো দশ টাকার কিছু কম। ১৯৮৬তে আপনি যখন প্রথম থাইল্যান্ড যান তখন ১ ডলার= কুড়ি টাকার মতো। সাইফুর রহমান ১৯৯১এ অর্থ মন্ত্রী থাকার সময়ে ১ ডলার = ৩২ টাকার মতো। এখন ১ডলার = প্রায় ৮৬ টাকা। ডলারের বিপরীতে থাই বাথের মুল্য ১৯৭০-১৯৯৬ পর্যন্ত খুব বেশি পরিবর্তন হয় নি, ১ ডালার = প্রায় ২০-২২ বাথের মতো ছিলো। কিন্তু ১৯৯৭ সালে গোটা এশিয়ার অর্থনীতিতে একটা ধাক্কা লাগে, সামান্য কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ১ ডলার= ৩০ বাথ থেকে ৪৭ বাথে চলে যায়। পরে এটা আবার আগের ভ্যালুর কাছাকাছি আসার চেষ্টা করছে। এখন ১ ডলার= ২৯-৩০ বাথের মতো। আমার এক্সচেঞ্জ রেট ছিলো ১ বাথ = ২.৯২ টাকার মতো।

আমি অনুমান করি আমাদের অর্থনীতি যতটা বেগে বেড়েছে, থাই অর্থনীতি ততটা সম্প্রসারিত হয় নি। :P
"মেদাই /মেছাই নাম প্লা " - অর্থসহ একটা প্রয়োজনীয় বাক্য শেখা হলো জুন এর কল্যাণে, ভবিষ্যতে যা কাজে লাগতে পারে।
সহমত।
পোস্টের দৈর্ঘঃ ব্লগে কেউ কেউ আছেন যাদের সব পোস্টই পড়া চাই। তাদের জন্য পোস্ট বড় হলে অসুবিধা। কেউ কেউ আছেন আধা ঘন্টা বা এরকম সময় হাতে নিয়ে আসেন, তাদের জন্যেও সমস্যা। যারা সিলেক্টেড পোস্ট পড়েন- শুধু ভ্রমন কাহিনী পড়বো, তাদের জন্য সমস্যা না। আমি নিজে এখন বাছাই করা পোস্ট পড়ি, আমার জন্য বড় পোস্টে অসুবিধা নেই। বরং নীল আকাশ বা অপু তানভীরের পোস্ট আমি এনজয় করি।

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৬

মা.হাসান বলেছেন: পোস্টে লাইকের জন্য অনেক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা ।

৩৬| ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:৫২

জুল ভার্ন বলেছেন: বিশদভাবে বর্ণনা করায় ভ্রমণ কাহিনী সুখপাঠ্য হয়েছে।

১৫ ই জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:২৬

মা.হাসান বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ ভাই। পরের পর্বগুলো পড়ার আমন্ত্রন রইলো।
কিছুদিন ব্লগে অনিয়মিত ছিলাম বলে প্রতি মন্তব্যে বিলম্ব হলো, এর জন্য দুঃখিত।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.