নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\n

মা.হাসান

মা.হাসান › বিস্তারিত পোস্টঃ

কিরপিনের থাইল্যান্ড ভ্রমন (দ্বিতীয় পর্ব)

২৭ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১০:২৯

আগের পর্বের লিংক কিরপিনের থাইল্যান্ড ভ্রমন (প্রথম পর্ব)



মেট্রিপলিটন মিউজিয়াম

আজকের মূল গন্তব্য সামুদ প্রাখান জাদুঘর। এই বিষয়ে জুন আপার একটা পোস্ট আছে, পাঠক কে অনুরোধ করবো পড়া না থাকলে পোস্টটা পড়ে নেবেন। আমার বর্ননায় অনেক ফঁকি থাকবে।
জুন আপার পোস্টের লিংকঃ প্রাচীন শ্যামদেশ---- পৃথিবীর সবচেয়ে বড় উন্মুক্ত যাদুঘর

সকালের নাস্তার করতে করতে ডিসিশন - আজ সামুদ প্রাখান যাব। সামুদ প্রাখান যাবার বিষয়ে পড়ে প্রিপারেশন নেয়ার সময় পাই নি, মনে আছে আগের সপ্তাহে গুগুল ম্যাপে দেখেছি ব্যাংকক থেকে ১৫-২০ কিলোমিটার, সন্ধ্যা পর্যন্ত খোলা, হাতে কিছু সময় আছে, কাজেই গুগুল ম্যাপে যেয়ে বের করলাম এক্সপ্লোর নিয়ারবাই অ্যাট্রাকশন। দেখাচ্ছে দশ মিনিটের দুরত্বে মেট্রপলিটন মিউজিয়াম। হাঁটা ধরলাম। এই জায়গায় প্রচুর হোটেল, কম বাজেটের টুরিস্টদের জন্য সবচেয়ে পছন্দের থাকার জায়গার মধ্যে এটা এক, দুই বা তিন নম্বরে থাকবে। বেশির ভাগ হোটেলে ব্রেকফাস্ট ইনক্লুডেড, লোকেরা আয়েশ করে খাচ্ছে দেখতে পাচ্ছি। শুয়োর আর হাঁস প্রচুর। কিছু খাবার দোকান ও চোখে পড়লো, সকালের নাস্তা বিক্রি করছে। স্যামসন রোডে মিউজিয়াম, কোন এন্ট্রি ফি নেই। মূল মিউজিয়াম সম্ভবত অনেক বড়, এখন কিছু কাজ চলেছে- গুগুল এরকম বলছে আমি, আমি নিশ্চত না। মিউজিয়ামে ব্যাংকক নগর গড়ার পিছনে রাজাদের অবদানের কথা বিষয়টিই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।


রাজাদের ব্যবহার করা কিছু সামগ্রী।

মিউজিয়ামে ঢোকার আগে জুতা খুলে ঢুকতে হয়।এখানে অনেক জায়গায়ই এই কালচার। ভিতরে ঢুকতেই দেখি একজন বয়স্কা মহিলা মেঝেতে শুয়ে আছে। ভিতরে আমি ছাড়া আর কোন দর্শনার্থী নেই। মিউজিয়াম দেখতে বেশি সময় লাগলো না। মিউজিয়ামের বেশি ছবি দিলম না।

মিউজিয়াম থেকে বের হয়ে দুএক মিনিট হাটা হাটি করে আসপাশের দোকান গুলো দেখলাম। হঠাৎ টয়লেট ব্যবহারের প্রয়োজন হয়ে পড়লো। আশে পাশে কোন পাবলিক টয়লেট দেখছি না। একটু হাটতেই তেলের পাম্প চোখে পড়লো। ভিতরে ঢুকতেই পিছনের দিকে টয়লেট খুঁজে পেলাম। দেখি থাই ভাষায় ২০ বাথ - ২৫ বাথ কি সব লেখা। কিন্তু পয়সার দিকে সব সময় তাকানো যায় না। টয়লেট পরিচ্ছন্ন ছিল। থাইল্যান্ডে প্রায় সকল টয়লেটেই পানির ব্যবস্থা থাকে, কিন্তু টয়লেট পেপার থাকে না। এবং অনেক জায়গাতেই মনে হয়েছে এদের প্লাম্বিঙের কাজে দুর্বলতা আছে, টয়লেটের পানির নিষ্কাষন লাইনে লিক, টয়লেটের মেঝে ভেজা। যাহোক বের হবার পর পয়সা দেয়ার জন্য লোক খুঁজলাম, কিন্তু পয়সা নিলো না, মনে হলো এটা কর্মচারি ও কাস্টোমারদের জন্য করা, পয়সা নেয়ার ব্যবস্থা নেই। কিন্তু দেয়ালে ঐ দাম লেখা কথা গুলো কি বোঝা হয়ে ওঠে নি।

রাস্তায় অনেক চওড়া, রাস্তাও পরিচ্ছন্ন দেখলাম। প্রচুর গাড়ি, কিন্তু জ্যাম নেই। একজায়গায় দেখলাম ইংরেজি আই চিহ্ন দেয়া, ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন বুথ। গোটা ব্যাংককে এরকম অনেক দেখেছি। অবশ্য এই সকালে বুথে লোক দেখলাম না। আগস্ট থাইল্যান্ডে ট্যুরিস্টদের জন্য অফ পিক সিজন, ট্যুরিস্ট কম, সেজন্য অথবা এখনো বুথ খোলার সময় হয়নি বলেই হয়তো কেউ নেই।

হাটতে হাটতে দেখি বাজার মতো এলাকা, রাস্তার ধারে কাটা ফল বিক্রি হচ্ছে। ত্রিশ বাথ দিয়ে আনারস কিনে খেলাম। দুরকমের আনারস ছিল। বড় জাতের, মিষ্টি কিছু কম, ছোট জাতের-অনেক বেশি মিষ্টি। বাজারের গলিতে ঢুকতে বুঝলাম লোকালদের মার্কেট। কাপড়, জুতা, খাবার- অনেক কিছুই মাটিতে বিছানো। উপরে বাজার কতৃপক্ষের সামিয়ানা। কিছু খাবারের দোকানে আরবিতে হালাল লেখা। চেহারা দেখে আমার আগ্রহ উবে গিয়েছিল। তবে কাঁচা বাজার চোখে পড়লো। একদম কচি বেগুন, বিশাল করলা সহ অনেক কিছু চোখে পড়লো। বাজারের ঠিক বাইরে বের হয়ে চল্লিশ বাথের আম খেলাম। খুব ভালো স্বাদের।

বাজারের একটু পাশেই একটা খাল, এটা যেয়ে নদিতে পড়েছে, নদির নাম চাও ফ্রায়া নদি। খালের পানির রঙ হলদে সবুজ, বুড়িগঙ্গার ধারে কাছেও না, এরা উন্নতিতে বাংলাদেশকে ধরতে অনেক দেরী আছে । সামসেন রোড ব্যাংককের সবচেয়ে পুরানো রাস্তা গুলোর একটি। আজ থেকে কয়েকশ বছর আগে পর্তুগিজরা এখানে বসতি করে। একটা পুরাতন চার্চ আছে, আমি সময়াভাবে ঐ দিকে যাইনি ।


শুধু এটা না, ব্যাংককের সব রাস্তাই অত্যন্ত পরিস্কার অনেক রাস্তায়ই রাস্তার ধারে বাগান।

সামুদ প্রাখান কি ভাবে যাবো গুগুল ম্যাপে দেখতে মন দমে গেল। এখান থেকে দেখাচ্ছে পচিশ কিলোমিটারের বেশি, যেতে প্রায় দু ঘন্টা লাগবে। শুধু বাসে যাওয়া যাবে, তবে বাস আর স্কাই ট্রেনের কম্বিনেশনে গেলে সময় কম লাগবে। স্কাই ট্রেন কি বস্তু, হেলিকপ্টার না পেলেন জানা নাই। বাসে করে প্রথমে স্কাই ট্রেন স্টেশনে যেতে হবে। আমার বর্তমান পজিশন থেকে স্কাইট্রেনের সবচেয়ে কাছের স্টেশন হল ৩টা-- রাচাথেউয়ি, ভিক্টরি মনুমেন্ট অথবা সিয়াম।

যেটাতে বাস সবচেয়ে কম বদল করতে হবে সেই রুট ঠিক করলাম। থাইল্যান্ডের গুগল ম্যাপ পুরোপুরি ইংরেজি ভাষায় কাজ করেনা, ইংরেজি এবং থাই ভাষার মিকচার দেখায়। দুবার ভুল করে ভুল বাসে উঠে পড়লাম। ১৬ আর ১৬এ এক বাস না। এর পরের বার উল্টা ডিরেকশনের বাসে উঠে পড়েছিলাম। তৃতীয়বারে ঠিকমতো বাসে উঠলাম।

ব্যাংককে বাসগুলো খুব পরিষ্কার। দুই সিটের মাঝখানের ফাঁক অনেক বেশি , আরাম করে বসা যায় । আমি বাসে ভিড় খুব কম দেখেছি। বাসে দাঁড়ানো লোক-- এমনকি রাশ আওয়ারে ও খুব কম থাকে। বেশিরভাগ বাসে কন্ডাকটর মহিলা, তবে চালক পুরুষ। বাসে উঠতেই কন্ডাকটর মাসি হাতে একটা সিলিন্ডার টাইপের লাঠি নিয়ে আমার দিকে আসলেন। আমি ভয়ে ভয়ে গুগুল ম্যাপের পেজ খুলে তাকে দেখালাম কোথায় যেতে চাই। উনি বললেন রাচাথেউয়ি- এইট বাথ।

ব্যাংককে এত বেশি টুরিস্ট আসে যে ট্যুরিস্টদের যন্ত্রনায় এরা ইংরেজী শিখে নিয়েছে। পয়সা বের করে দিতেই উনি সিলিন্ডারটা খুললেন। এটা আসলে বড় আকারের একটা পেন্সিল বক্সের মতো। ভিতরে খোপ করে খুচরো পয়সা রাখার জায়গা আর টিকেট রয়েছে। ব্যাংককে পরে আমি শহরের ভিতরে চলার জন্য যে কটা বাসে চড়েছি, সবগুলো বাসের ভাড়া আট বাথ নিয়েছে, একবার এসি বাসে ১৫ বাথ নিয়েছে। এটা ফ্ল্যাট রেট নাকি বেশি দূরে ভাড়া আরো বেশি জানা নেই ।

রাস্তায় জ্যাম নেই তবে প্রতিটা সিগন্যালেই অনেক ক্ষণ থামতে হচ্ছে। অবশেষে গন্তব্যে পৌছলাম। বাস যেখানে নামালো এর পাশে একটা বিশাল স্কুল। স্কুল বিল্ডিং এবং বাচ্চাদের দেখে মন ভরে যায়। এর নাম EPS School, যা বুঝলাম, ইংলিশ মিডিয়াম না, বাইলিঙগুয়াল স্কুল।

এক মিনিট হেঁটে রাচাথেউয়ি বিটিএস বা স্কাই ট্রেন স্টেশনে চলে আসলাম। স্কাইট্রেন মানে আকাশে উড়ে উড়ে যায় না। মাটির উপরে ফ্লাইওভারের মতো আছে , ফ্লাইওভার দিয়ে ট্রেন যায়। ঢোকার আগে এখানে একজন ভিক্ষুক দেখলাম। গোটা থাইল্যান্ডে ভিক্ষুক কম। ব্যাংককে কিছু দেখেছি। প্রায় সবাইকে দেখেছি ওভার ব্রিজ বা এরকম জায়গায় বসতে। কাউকে কখনো বলে না কিছু দিয়ে যাও। সামনে একটা বড় কাগজের কাপ- ফাস্ট ফুডের দোকানে যেরকম গ্লাসে পেপসি বা কোক দেয় সরকম। কেউ এদের দিকে তাকালে এরা দু হাত তুলে একটা নমস্কার করে। সমাহিত দৃষ্টি। কেউ কিছু দিলে সেটা কাপেই থাকে, কাপ খালি করে ব্যাগে ভরে রাখে না।

রাচাথেউয়ি বিশাল বড় স্টেশন। গুগুল অনুসারে আমাকে রাচাথেউয়ি থেকে স্যামরঙে যেয়ে ট্রেন বদল করতে হবে, সেখান থেকে পাক নাম স্টেশনে যেতে হবে। টিকেট কাউন্টারে যাবার পর ক্লার্ক বললো ট্রেন বদলাতে হবে না, এক ট্রেনেই পাক নাম যাওয়া যাবে, ভাড়া ৪৯ বাথ!!! :(( জিজ্ঞাসা করায় বললো ভেঙে গেলেও একই ভাড়া :(



রাচাথেউয়ি স্টেশন-- ছবি, চুরি করা।


যেতস্কাই ট্রেনের টিকেট একটা আয়তাকার কাগজ , যার মধ্যে ম্যাগ্নেটিক্যালি ডাটা প্রিন্ট করা থাকে। গেট দিয়ে ঢোকার সময় টিকেট পাঞ্চ করতে হয় , বের হওয়ার সময় পাঞ্চ করলে মেশিন টিকেটটা খেয়ে ফেলে দরজা খুলে দেয়। নির্ধারিত দূরত্বের বেশি গেলে দরজা খুলবে না। টিকেট কাউন্টার স্বাভাবিকভাবেই গেটের ঠিক বাইরে।


ট্রেনের টিকের এক পিঠ। অপর পিঠে ট্রেন লাইনের ম্যাপ।

বাস যেরকম খালি পেয়ে ছিলাম , ট্রেন সেরকম না। মূল শহর এলাকায় প্রচণ্ড ভিড়। আমাদের দেশে অফিস আওয়ারে পাবলিক বাসের ভিড়ের মত। থাইল্যান্ডের ভালো যানজট আছে, ট্রাফিক সিগনালে অনেক সময় নষ্ট হয় এজন্য লোকে স্কাইট্রেন পছন্দ করে। কোনো যানজট নেই বলে খুব দ্রুত যাওয়া যায়। একারণে ভাড়া পাবলিক ট্রান্সপোর্ট বাসের চেয়ে অনেক বেশি। ভাড়ার ব্যাপারটা আগে জানলে মিউজিয়াম বাদ দিয়ে সকালেই বাসে করে সামুদ প্রাখান চলে যেতাম। রাচাথেউয়ি থেকে পাক নাম পর্যন্ত যেতে প্রায় ৫০ মিনিটের মত লাগে; মাঝখানে কুড়িটার বেশি স্টপ। সিট খালি না থাকায় অনেকখানি রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম, মূল শহর পার হবার পর থেকে ট্রেন ফাঁকা হতে শুরু করলে বসে পড়লাম।


ট্রেন থেকে দেখা কিছু দৃশ্য।





থাইল্যান্ডে অ্যাসবেসটস এখনো প্রচুর ব্যবহৃত হয়

পাক নামে নামার পর গুগল ম্যাপ দেখাচ্ছে এখান থেকে সামুদ প্রাখান ৬ মিনিটের হাঁটা পথ। কিন্তু প্রায় দশমিনিট মতো হাঁটার পরও দেখি কিছু কমার্শিয়াল বিল্ডিং আর দূরে কিছু জলাভূমি। মিউজিয়ামের কোন নিশানাও আসে পাশে নেই। প্রিপারেশনে ফাঁকির ফল। একটা জায়গায় দাড়িয়ে জুন আপার পোস্ট আবার পড়ে গুগুল ম্যাপের সঙ্গে মিলানোর চেষ্টা করতেই ভুলটা বুঝতে পারলাম। সমস্যা বড় রকমের। সামুদ প্রাখান জায়গার নাম, যেমন ঢাকার মিরপুর। গুগুল ম্যাপ সামুদ প্রাখান নামের কোন মিউজিয়াম চেনে না। আমি যেটাকে সামুদ প্রাখান নামে ভাবছি গুগুল সেটাকে অ্যানসিয়েন্ট সিটি মিউজিয়াম বা শুধু এনসিয়েন্ট সিটি হিসেবে চেনে।

এনসিয়েন্ট সিটি মিউজিয়ামে যেতে গেলে আমাকে আবার ট্রেন স্টেশনে যেতে, হবে ট্রেন ধরে আরো তিন স্টেশন দূরে খোয়া নামের এক স্টেশনে নামতে হবে। সেখান থেকে চার কিলোমিটার, ট্যাক্সি নিতে হবে। নতুন করে স্কাই ট্রেনের টিকিটের ভাড়া কত নেবে জানি না। তারপর সময়ও নষ্ট হচ্ছে। মনটা খারাপ হয়ে গেল। পাক নাম থেমে খেয়ার টিকিট কাটার সময় বুকিং ক্লার্কের মধুবর্ষণে মন ভালো হয়ে গেল--এখান থেকে খেয়া স্টেশন পর্যন্ত টিকেট ফ্রী :) :) । এই তিন স্টেশন এর জন্য কোন পয়সা লাগে না। আমারতো মনে হলো এখানে এক দিন থেকে যাই, এই তিন স্টেশন খালি বারবার সারাদিন যাওয়া আসাই করতে থাকি। ফ্রি জিনিস আমার খুব ভাল লাগে।

খেয়ায় নামার পর দেখি ঠিক স্টেশনের পাশ থেকে টেম্পু যাচ্ছে। এরা টেম্পু কে বলে সংথাও। অ্যানসিয়েন্ট সিটি শব্দটা বুঝে টেম্পুর দালাল ইশারা করলো উঠে যাও (স্ট্যান্ডে একজন চেইনম্যান বা দালাল থাকতে দেখেছি প্রায় সব জায়গায়)। আমি জিজ্ঞেস করলাম ভাড়া কত। থাইল্যান্ডে টেম্পু/সিএনজি ভাড়া নিয়ে দুই নম্বরির অনেক ঘটনা আছে, অপরিচিত টুরিস্টকে গাড়িতে চড়িয়ে পরে ১০ বাথের ভাড়া ৩০০ বাথ আদায় করার ঘটনা অনেক ট্রাভেল ব্লগে পড়েছি। এখানে ভাড়া বলল ১০ বাথ (পরে জেনেছি ৮ বাথ আমার কাছে ২ বাথ বেশি নিয়েছিল)। এরা টেম্পু খুব জোরে চালায়, খুব ভয় লাগিয়ে দেয়।

দেখতে পাম গাছের মতো, ধরে আছে সুপারি। জিজ্ঞাসা করায় বললো কলাবাগান ভাই জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং করে তৈরি করেছেন, সুপারির মৌসুমে সুপারি, পামের মৌসুমে পাম হয়। কলাবাগান ভাইয়ের কাছ থেকে যাচাই করার সুযোগ হয় নি।

কয়েক মিনিটের মধ্যেই এনসিয়েন্ট সিটি এসে পৌছালাম।টিকেটের দামের ব্যাপারে গুগল ম্যাপে বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেওয়া আছে , জুন আপার ব্লগে দেয়া দেওয়া তথ্যই ঠিক এবং সবচেয়ে সাম্প্রতিক।


সামুদ প্রাখান

একাধিক কাউন্টারে ঘুরেও টিকিট কাটতে পারলাম না, কারণ এরা বলছে এই কাউন্টার গুলো গ্রুপ বুকিং বা অনলাইন বুকিঙের টিকেটের জন্য। অবশেষে চার নম্বর কাউন্টারে টিকিট কাটলাম। ৭০০ বাথ, প্রায় ২১০০ টাকা। ভিতরে বিশাল জায়গা ঘোরার জন্য এরা সাইকেল ফ্রি দেয়, যারা সাইকেল চালাতে পারেন এটাই সবচেয়ে ভালো অপশন। গল্ফ কার্টের ব্যবস্থা আছে, তবে ঘন্টা হিসেবে ভাড়া দিতে হয়। একটাতে চার বা ছয় জন, বসা যায়, কাজেই বড় গ্রুপের জন্য পোষাতে পারে, কিরপিনের জন্য না।

সাধারন লোকের জন্য ট্রেন আছে। আসলে উপরে দেখতে ট্রেনের মতো, নিচে বাসের চাকা লাগানো। ট্রেন ফ্রি। এছাড়া হেডফোন সহ অডিও গাইড সেট ফ্রি, একটা ম্যাপও দিয়ে দিল। তবে হেডফোনের সিকিউরিটি ডিপোজিট বাবদ এরা আমার পাসপোর্ট রেখে দিল আর সাথে ফোন নাম্বারও রেখে দিল।

ট্রেন দু ঘন্টা পর পর ছাড়ে। একটু আগে একটা ছেড়েছে। আমাকে জিজ্ঞাসা করলো পরেরটার জন্য অপেক্ষা করবো নাকি এরা আমাকে আগেরটার সাথে জুড়ে দেবে। সময় বাঁচাতে আমি পরের অপশনটাই নিলাম। আমাকে এরা গলফ কার্টে করে ট্রেন পর্যন্ত পৌছে দিয়ে গেল। ট্রেনে ড্রাইভার এর পাশে একজন গাইড থাকে। গাইডরা সংক্ষেপে যাত্রাপথের বিবরণ দিচ্ছে, কিন্তু গাড়িতে স্থানীয় যাত্রী বেশি হওয়ায় সব বিবরন থাই ভাষায়। সামুদ প্রাখান বিশাল এলাকা, দুঘণ্টায় ট্রেনের পক্ষে কাভার করা সম্ভব না। ট্রেন রুট দিয়ে শুধুমাত্র বড় রাস্তার পাশের গুরুত্বপূর্ণ কিছু জায়গায় ঘুরে দেখানো হয়। পুরা জায়গা দেখতে হলে গলফ কার্ট বা সাইকেল লাগবে বা হাঁটতে হবে।

ট্রেন রুটে বিভিন্ন পূর্ব নির্ধারিত পয়েন্ট আছে, একটা পয়েন্ট থেকে আরেকটা পয়েন্টের দূরত্ব আধা কিলোমিটার থেকে এক কিলোমিটারের মতো। সসব পয়েন্টে ট্রেন ১৫-৩০ মিনিটের ব্রেক দেয়। ব্রেকের সময়ে ওই পয়েন্ট এর আশেপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো দর্শকরা ঘুরে নেয়।

পার্কে প্রচুর টয়লেট। সব অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন। অনেক খাবার দোকান। খাবারের মধ্যে শুয়োর-মুরগি থেকে শুরু করে আইসক্রিম-লেবেঞ্চুস বিয়ার-ফান্টা সবই আছে। ব্রেক এর ফাকে এক জায়গায় জোহরের নামাজ পড়ে খাবার খুঁজলাম। চিনা বাদামের প্যাকেট নিলাম। সম্ভবত কুড়ি বাথ নিয়েছিল। ভেগান আইসক্রিম পেলাম, কয়েক ফ্লেভারের। ডুরিয়ানের নাম শুনেছি। দাম অনেক। এখন ৩৫ বাথ দিয়ে ডুরিয়ান ফ্লেভারের আইসক্রিম খেলাম। সয়া মিল্ক দেয়া। স্বাদ ভালো লাগেনি। ডুরিয়ানের গন্ধ অতি অপ্রিতিকর মনে হয় নি, তবে ভালো লাগে নি।

দু'ঘণ্টা পর ট্রেনের শেষ স্টপের আগে আমি গাইড কে বলে নেমে পড়লাম যে আমি ট্রেনের সঙ্গে আর যাব না বাকিটুকু হেঁটে দেখব।

থাইল্যান্ডের লোকেরা ধর্মকে গভীর ভাবে ধারণ করে। বার গার্ল হোক আর বাস ড্রাইভার বা আমলা, বুদ্ধ মূর্তি দেখলে নমষ্কার করার চেষ্টা করে। মঙ্করা এখানে অত্যন্ত সম্মানীয়। শ্যাম দেশে বৌদ্ধ ধর্মের আদি স্থান ভারতেরও অনেক প্রভাব আছে। নাগ বাসুকি এবং শিবের অনেক মূর্তী বা ত্রিশুলও আমি দেখেছি। এই দেশে চিন, বার্মা, লাওস, খেমার, ভারত - বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এসেছে। সবাই নিজের কালচার সাথে নিয়ে এসেছে। স্থান ভেদে বৌদ্ধ মূর্তির চেহারা ভারতীয় থেকে মঙ্গলয়েড হয়েছে, সাথে বিভিন্ন দেব দেবি যোগ হয়েছে। এসব নিয়ে এদের মারামারি নেই যে আমার বুদ্ধই আসল, বাকিদেরটা ভুয়া। গোটা শ্যাম দেশেই হাজার হাজার মন্দির। শৈল্পিক দৃষ্টি কোন থেকে এদের মাঝে বেশ কিছু মন্দির অনন্য। সামুদ প্রাখান এলাকায় আসলে থাইল্যান্ডের সমস্ত বিখ্যাত মন্দিরের রিপ্লিকা তৈরি করা হয়েছে, দু একটা ক্ষেত্রে বরং রিপ্লিকা না করে মূল স্থাপনাটাই তুলে আনা হয়েছে।


ভক্তরা ভগবানকে ফান্টা নৈবেদ্য দিয়েছে।

এই বিশাল এলাকা এক দিনে দেখে শেষ করা কঠিন। যারা আগ্রহী তাদের সকাল সকাল আসাই ভালো। যারা মন্দির বা পূরাকীর্তি দেখতে আগ্রহী না তাদের এখানে আসার প্রয়োজন নেই। এই বিশাল এলাকায় এক্সপানশনের কাজ অনবরত চলছে, কাজেই আজ যা দেখলাম দু বছর পরে তার সাথে নতুন কিছু যোগ হবে নিশ্চিত করে বলা যায়।

এখানে আমি প্রায় চার ঘণ্টা বা কিছু বেশি হেঁটেছি। তবে আমি মনে করি আমি পুরোপুরি দেখতে পারিনি, দুই বা তিনটা স্পট আমার বাদ চলে গিয়েছে। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে আরো একটা আইসক্রিক খেলাম, আম ফ্লেভারের। স্বাদ এবারেও ভালো না। সয়া মিল্কই সর্বনাশ করেছে।আইসক্রিমের দাম নিল ৩০ বাথ।


ভন্ডুল মামার বাসা


ম্যালফিসিয়েন্টের প্রাসাদ


ঘুরতে ঘুরতে আবার আগের আইসক্রিমের দোকানের দিকে চলে আসলাম। বললাম আইসক্রিমের দাম পাঁচ বাথ বেশি নিয়েছে। কেনার সময় আমার ইংরেজি ঠিকই বুঝেছিল, এবার বুঝছিল না। ফোন থেকে ট্রান্সলেটর বের করে বলার পরেও বুঝলো না। অবশেষে কুড়ি বাথ দিয়ে আমি এক বোতল জল কিনে দাম থেকে পাঁচ বাথ কম দিয়ে সমন্বয় করে দোকানদারের সাথে হাত মিলিয়ে বের হলাম (দোকানে দাম ২৫ বাথ বলেছিল)। পরে দেখেছি বাইরে এই জলের দাম ১৫ বাথ, আইসক্রিমের দাম ২০ বাথ।


মন্দিরের ভিতরের দান বাক্স। যে যা পারেন ময় মুরুব্বির নামে দান করে যান



ছেড়েদে শয়তান

হাঁটতে হাঁটতে আরো দুটো আইসক্রিম আর এক বোতল গোলাপি রঙের মিরিন্ডা খেলাম। আইসক্রিম-বাদাম-পানি-মিরিন্ডা সব মিলিয়ে আমার লাঞ্চে ২০০ বাথের মতো খরচ হয়েছিল। এটা কি খুব বেশি নাকি খুব কম না স্বাভাবিক এর জবাব ধীরে ধীরে জানা যাবে। হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে এক জায়গায় বসে জিরিয়ে নিলাম। সময় হয়েছে দেখে আসরের নামাজ পড়ে ফোনে এলার্ম দিয়ে ঠিক পনেরো মিনিট ঘুমিয়ে আবার হাঁটা শুরু করলাম। সাড়ে পাঁচটার দিকে রিসিপশন থেকে আমাকে ফোন, অডিও ডিভাইস ফেরৎ দিতে হবে। আমি বললাম সময় মতো ফেরৎ দেব। আসলে ৭০০ বাথ উশুল করতে হবে, সময়ের আগে বের হবার বেশি ইচ্ছে আমার নেই।


আর্টিফিশিয়াল পাহাড়, এর উপর মন্দির। মূল স্থাপনা কম্বোডিয়ায়, থাইরা এই জায়গা নিজেদের দাবি করেছিলো। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ঠিক হয় এটা কম্বিডিয়ার অংশ। দেশপ্রেমিক স্থপতি মনে করেন এই অংশ থাইল্যান্ডের পাওনা ছিল। মনের কষ্ট দূর করতে এই রিপ্লিকা তৈরি করেন।










আগস্টের এ সময়টায় সূর্য ডোবে ছটা চল্লিশের দিকে। আলো কমে আসছে। বের হতে যেয়ে সমস্যা বুঝলাম। সামুদ প্রাখানের মিউজিয়াম এলাকা থেকে রিসিপশন পর্যন্ত অনেক দূর। রিসিপশনের পরে অনেক খানি এলাকা টিকেট ছাড়াই দেখা যায়। সিনেমার ট্রেলারের মতো। এর পরে টিকেট অনলি এরিয়া শুরু। আসার সময়ে গল্ফ কার্টে এসেছি বলে বুঝিনি। বের হবার সময় ঠ্যালা বুঝলাম। তবে হাঁটার সুবিধা আছে, কার্ট বা ট্রেনে থাকলে অনেক কিছু চোখ এড়িয়ে যায়। বোরোবার পথে দেখলাম অনেক হল রুম এরা কনফারেন্স রুম হিসেবে ভাড়া দেয়, ভিতরে থাকার হোটেল আছে বলেও মনে হলো।

৬-৪৫এ আমি বের হয়ে গেছে এসে অডিও টেপ জমা দিয়ে আমার পাসপোর্ট ফেরত নিলাম। সূর্য প্রায় ডুবে যায় যায়। রাস্তার ধারে প্রচুর ফাঁকা জায়গা, এরকম জায়গায় মাগরিবের নামাজ পড়ে নিলাম। ফেরার টেম্পু ধরতে গেলে আমাকে রাস্তার উল্টো দিকে যেতে হবে। রাস্তায় সাঁই সাঁই করে জোরে বড় বড় গাড়ি চলছে, রাস্তা ক্রস করা খুব মুশকিল। বাংলাদেশি স্টাইলে হাত দেখিয়ে দৌড়ে আইল্যান্ড বরাবর যেয়ে দেখি দুই রাস্তার মাঝখানের ফাঁকা জায়গায় গর্ত করে পানি দিয়ে নদীর মত বানিয়ে রেখেছে। অতএব আগের পন্থায় ফিরে আসা। রাস্তার এই দিক থেকে ওই দিকে যাব কি করে আর টেম্পু ধরবো কি করে মাথায় বড় দুশ্চিন্তা। খুঁজে পেতে সামনে একজনকে ধরলাম। পাঠক বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, এই দেশে পুরুষ মানুষ খুঁজে পাওয়া আসলে খুব মুশকিল। ইশারায় তার সঙ্গে কথা বললে তিনি বোঝালেন সামনে খানিকটা গেলে ওভারব্রিজ আছে, ওভারব্রিজ দিয়ে রাস্তা পার হওয়া যাবে।

ওভার ব্রিজের আগে দেখি রাস্তার ধারে এক জায়গায় মিউজিকের তালে তালে বুড়ি ছুড়িরা নাচছে। কাছে যেতে বুঝলাম এক রকমের এক্সারসাইজ। সাত বছরের মেয়ে থেকে সত্তর বছরের মহিলা, সব এজ গ্রুপের লোকই আছে। তবে পুরুষ নেই। কারো কারো পরনে ফরমাল ব্যায়ামের পোষাক, অধিকাংশের পরনেই সাধারণ পোষাক।

ওভার ব্রিজ দিয়ে রাস্তা পার হয়ে টেম্পুতে খেয়া স্টেশন। আসার সময়ে ফোনের ট্রেইনম্যান অ্যাপে স্পীড মেপে দেখি ৮২ কিমি/ঘন্টা পর্যন্ত স্পীড ওঠাচ্ছে। যেখানে বাঁক সেখানে ৬৬, এর চেয়ে কমাচ্ছে না। রাজধানীর এত কাছে এই স্পীডে যেতে যেতে নিজেকে প্রধানমন্ত্রী মনে হচ্ছিল :) । খেয়া থেকে ট্রেনে রাচাথিউয়ি । খেয়া এ মাথার প্রথম স্টেশন, ওদিক থেকে আসার সময় শেষ স্টেশন। প্রথম স্টেশন হওয়ায় বসার সুযোগ পেলাম। সিটে গা এলাতে শরীরের অবস্থা টের পেলাম। সারাদিন হাঁটা, তার উপর আগের রাত ঘুমহীন । সারা শরীরে প্রচন্ড ব্যথা।

হায় জাম্বাক।


রাচাথিউই স্টেশনে নেমে দেখি ফুটপাথে খাবারের দোকানের মেলা। এর মধ্যে এক দোকানে পরোটা ভাজছে। সামনে লেখা হালাল। ছেলেটা ইংরেজি জানে। চেহারা ভারতীয়দের মত। জিজ্ঞেস করলে জানালো রোহিঙ্গা। পরোটার মাঝে কলা, নিউটেলা, ডিম বিভিন্ন জিনিস ভরে দিয়ে বিক্রি করে। আমি ডিম পরোটা চাইলাম। জিজ্ঞাসা করলাম মরিচ দিতে পারবে কিনা। বলল মরিচ হবেনা। দেখি লবণ ছাড়াই ভাজা শুরু করেছে। বললাম লবণের কথা। বলল এক্সট্রা লবণ নেই, তবে সে মাখন ব্যবহার করে, মাখনের মধ্যে লবণ আছে। পরোটা ভাজার শেষ হলে সে পরোটার মধ্যে কনডেন্স মিল্ক লাগানো শুরু করতেই আমি লাফ দিয়ে তাকে মানা করলাম। সে খুব অবাক হয়ে গেল। এখানে পরোটা কনডেন্স মিল্ক মাখিয়েই খায়।

যাহোক, আগে বলেছি থাইল্যান্ড ভ্রমণ করার সময় পকেটে লবণদানি রাখবেন, কারন এরা লবণের ব্যবহার জানে না। লবণদানি না রাখলে মিষ্টি পরোটা খেতে হবে। এই একটা ডিম পরোটার দাম এখানে ৫০ বাথ, বাংলাদেশের টাকায় প্রায় ১৫০ টাকা। দুপুরে ভাত খাইনি। এই ৫০ বাথের পরোটা খেয়ে কিছুই হলো না। এর পাশে দেখি ডাব/নারকেল বিক্রিকরছে। আমি একটা ডাব নিলাম। প্রচুর পানি। পানি খাওয়ার পরে কেটে শাস বের করে দিল। খেটে আমি হাঁটা দিতেই পিছন থেকে ডাক দিল -- সোনার চান, পয়সা দিয়ে যাও বাবা । আমি ভাব দেখালাম যেন ভুলেই গিয়েছিলাম। পয়সা দিয়ে পাশের দোকানে যেয়ে দেখি আম বিক্রি করছে। ৫০ বাথের আম খেলাম। পাশে ডুরিয়ান বিক্রি করছে । ইচ্ছে ছিল, কিন্তু দাম ১৫০ বাথ, কাজেই বাদ দিলাম।

এর পরে হোটেলে যাওয়ার পালা। গুগল ম্যাপ থেকে খুঁজে বের করলাম কোন বাস কাছাকাছি এলাকায় যাবে। আমার এখান থেকে খাওসান রোডের বাস পাব না, কাছাকাছি এলাকার বাস পাব । বাসে করে চলে এলাম প্রাচাতাই মনুমেন্ট এলাকায়। বাস থেকে নামতেই দেখি এক জায়গায় বাতাবি লেবু, তরমুজ আনারস এসব কেটে বিক্রি করছে। দুজায়গায় কুড়ি বাথ করে চল্লিশ বাথের তরমুজ আর বাতাবী লেবু নিলাম। ঢাকায় এই লেবু ৩০০ টাকা কেজি। কুড়ি বাথে অন্তত ২৫০ গ্রাম লেবু পেয়েছি। খুব সুস্বাদু । তবে এই রোডে রাত সাড়ে নটাতেই বেশির ভাগ দোকান বন্ধ দেখলাম।

হাঁটতে হাঁটতে চলে আসলাম খাও সান রোড এলাকায় । অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় আলোকসজ্জা সম্পন্ন একটা রোড। হরেক রকম দোকানে সাজানো । এই রোড গভীর রাত পর্যন্ত বা বলা চলে প্রায় ভোর পর্যন্ত জেগে থাকে । রোডের এ মাথা থেকে ও মাথা সারা বছরই খুব ভিড়। আগস্ট মাস ট্যুরিস্টদের অফ সিজন তারপরেও যত ভিড়, নভেম্বরে এখানে কিরকম হবে কল্পনা করতে পারছিনা। গায়ে গায়ে ধাক্কা খেতে খেতে এগোতে লাগলাম। বিভিন্ন দোকান থেকে লিফলেট হাতে কর্মচারিরা বের হয়ে এসেছে। বারের জন্য মাত্র ৩০০ বাথ এন্ট্রি ফি। কমেডি শো থাকবে। সাথে একটা ড্রিঙ্ক ফ্রি। বিভিন্ন মাসাজ সেলুন থেকে দোকানের কর্মচারীরা হাতে ব্যানার নিয়ে বের হয়ে এসেছে। ব্যানারে লেখা কোন মাসাজ এর রেট কত। সবার গায়ে দোকানের ইউনিফর্ম। মেরুন, হালকা আকাশী এবং সোনালি রঙের ইউনিফরম বেশি।

রাস্তার দুধারের ভ্যানে অসংখ্য খাবার দোকানে শুয়োর মুরগির মাংস সহ বিভিন্ন নুডুলস ইত্যাদি ভাজা বিক্রি হচ্ছে। এর বাহিরে রয়েছে বিভিন্ন রকম পরোটা। অসংখ্য ফলের দোকান। ফলের সাথে রয়েছে বিভিন্ন রকমের জুস। এক গ্লাস জুস খেয়ে নিলাম ৪০ বাথে। সারাদিন ভাত খাওয়া হয়নি । সকালের হালাল হোটেলটাতে ভাতের ব্যবস্থা ছিল। ওই দিকে হাঁটা দিলাম, শুকনো ভাতই খাবো। খাওসান রোডের শেষ মাথায় গিয়ে হাতের বাম দিকে টার্ন নিলেই দোকানটা। দোকানটা খোলা আছে, কিন্তু দুর্ভাগ্য আমার ভাত নেই , কোন খাবারই নেই।

তবে এখান থেকে প্রায় ২০ গজ দূরে ফুটপাতে কোনায়।অনেকগুলো দোকানে অনেক রকমের খাবার বিক্রি হচ্ছে। তার মধ্যে একজন স্টিকি রাইস এবং আম বিক্রি করছেন। স্টিকি রাইস একটু আঠালো ভাত, দলা পাকিয়ে থাকে, রঙটা আমাদের ভাতের মতো সাদা না, ইরি চাল যেরকম হলুদাভ স্বচ্ছ সে রকম রঙ। ভিতরে কি না কি মিশানো আছে আমি জিজ্ঞাসা করে জানতে চাইলেই বলল খাবার সম্পূর্ণ হালাল। সবজি বা ফল ছাড়া তার দোকানে আর কিছু নেই। মনে হলো মুসলমান। সামান্য খানিকটা ভাতের (চা চামুচের দু চামুচ) সঙ্গে অনেকখানি আম দিয়ে তার উপরে নারকেলের দুধ ঢেলে দিল। খুব সুস্বাদু। দাম ৬০ বাথ। পেট মোটেও ভরল না । আরো দুটো খাওয়া দরকার । কিন্তু পকেট এর কথা চিন্তা করে বাতিল।

ক্লান্তি এবং ব্যথায় শরীর ভেঙে আসছে। সারা গায়ে ব্যথা। ফুটপাথের খাবার দোকানের পাশে দেখি একটা দোকান, লেখা আছে সেভেন ইলেভেন- 7-11 । এটি থাইল্যান্ডের বিখ্যাত চেইন স্টোর। ট্যুরিস্টরা হোটেল বুকিং দেওয়ার সময় খোঁজে আশেপাশে আছে সেভেন ইলেভেন আছে কিনা। ভিতরে ঢুকে কিছু চিনা বাদাম, পানির বোতল আর 250ml কলার ফ্লেভার যুক্ত দুধ নিলাম। এবং খুঁজে বের করলাম টাইগার বাম। দুধের দাম ২৭ বাথ। পানির দাম হাফ লিটার ব্রান্ড ভেদে ৭ থেকে ১০ বাথ। ২ লিটারের দাম ১৫ বাথ থেকে শুরু । সেভেন ইলেভেন এর নিজেদের ব্র্যান্ডেড পানির দাম তুলনামুলক কিছুটা কম (পরে দেখেছি টেসকো কোম্পানির পানি বোতল প্রতি সেভেন ইলেভেনের পানির চেয়ে এক বাথ কম)। পিনাট এর দাম ভুলে গেছি, তবে ক্যাশু নাট দেখেছি, ছোট একটা প্যাকেট কুড়ি বাথ । টাইগার বাম এর দাম নিলো ৮৯ বাথ --প্রায় ৩ ডলারের মত, বাংলাদেশের টাকায় এটা হবে আড়াইশো টাকা।

হোটেলে মোবাইল চার্জে দিলাম। এদের এখানে লন্ড্রি সার্ভিস ফ্রি , তবে ডিটারজেন্ট নিজের। গায়ের জামাটা বেশ নোংরা হয়ে গেছে। ডিটারজেন্টের মিনিপ্যাক এখানে পাওয়া যাবে না। কাজেই বাথরুমের শাওয়ার জেল থেকে খানিকটা জেল নিয়ে ওয়াশিং মেশিনে জামা ঢুকিয়ে দিলাম। লন্ড্রী রুমে কাপড় নেড়ে দেওয়া তার দেওয়া আছে। চানফান সেরে এসে দেখি কাপড় ধোয়া হয়ে গেছে। কাপড় তারে শুকাতে দিয়ে হোটেল রেকি করতে বের হলাম।


হোটেল


তিনটা ফ্লোর। অনেক রুম। প্রতি ফ্লোরে টয়লেট- ছেলেদের আর মেয়েদেরটা আলাদা। কয়েকটা রুম মিক্সড, কয়েকটা শুধু ছেলেদের, কয়েকটা শুধু মেয়েদের (আমারটা ছেলেদের ছিল)। কমন এরিয়ায় বড় স্ক্রিনের টিভি, তবে কেউ দেখছে না। একটা মেয়ে টিভির সোফায় শুয়ে ঘুমাচ্ছে, নিজের রুমে কি সমস্যা বুঝলাম না। একটা প্রায় বাচ্চা মেয়ে ইন্টারনেট থেকে গিটার বাজানো শিখছে। আরেকটা ছেলে তাই দেখে সাহায্য করতে আসলো। কিন্তু ছেলেটার চেয়ে মেয়েটাই বেশি জানে মনে হলো। দুজনেরই চেহারা চাইনিজ, কিন্তু ভাঙা ইংরেজিতে কথা বলছে। আমার কাছএ থাই-জাপানি-কোরিয়ান-ভিয়েতনামি-কম্বিডিয়ান-লাও সব চাইনিজ মনে হয়।



বিছানায় এশার নামাজের পর সারা গায়ে টাইগার বাম মেখে শুয়ে পড়লাম। ৮৯ বাথে দেশে দশটা জামবাক কিনতে পারতাম X(( । আপনারা ব্যাকপ্যাকিঙে গেলে জামবাক নিতে ভুলবেন না।

কাল যাবো কাঞ্চনবুড়ির দেশে।

তৃতীয় পর্বের লিঙ্কঃ কিরপিনের থাইল্যান্ড ভ্রমন (তৃতীয় পর্ব)



মন্তব্য ৫৮ টি রেটিং +১২/-০

মন্তব্য (৫৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১২:১২

স্বামী বিশুদ্ধানন্দ বলেছেন: খাওয়া নিয়ে ভালোই ভুগছেন দেখছি | ফাস্ট ফুডগুলোতে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই ট্রাই করতে পারেন | আমি এরকম সমস্যায় ফ্রেঞ্চ ফ্রাই দিয়ে চালিয়ে দিতে চেষ্টা করি ( যদিও আমি ভাতের পাগল :P ) |

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১২:৩৩

মা.হাসান বলেছেন: ঠিক ধরেছেন, শুরুর দুদিন একটু সমস্যা হয়েছে। দুদিন পরে খাওয়া সমস্যার সমাধান হয়েছিল, ৩য় বা ৪র্থ পর্বে সে কথা আসবে। :)

খাবার বিষয়ে একটু বেশি খুঁতখুঁতে আমি। যেখানে নন হালাল খাবার সার্ভ করে সেখানকার খাবার এড়িয়ে যাই।কাছাকাছি হালাল ফাস্ট ফুড শপ দেখিনি। ২য় পর্বে সাথে থাকার জন্য অনেক ধন্যবাদ। :#)

২| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ৯:৩৩

রাজীব নুর বলেছেন: ভিন দেশে গেলে আমাদের বাঙ্গালীদের খাবার নিয়ে খুব সমস্যা হয়।
আমি নিজেই শুধু বার্গার আর কোক খেয়ে থাকি।

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৩:১৫

মা.হাসান বলেছেন: ধন্যবাদ রাজীব ভাই, বার্গার এক দু বেলা খেতে খারাপ লাগে না, তবে পর পর কয়েক বেলা ভাত না খেলে আমার মনে হয় না খেয়ে আছি। তা ছাড়া যে এলাকায় ছিলাম, সেখানে হালাল বার্গার দেখিনি। ভাতের সমস্যার চেয়ে কিরপিনের কাছে দামের সমস্যা বড় ছিল :(

৩| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ৯:৪৪

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
থাই লোকজনের চলাফেরা চরিত্র অনেকটা আমাদের দেশের মতই।

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৪:২৪

মা.হাসান বলেছেন: ওদের পারিবারিক মূল্যবোধ ভালো, আমাদের সঙ্গে বেশ মিল আছে। ধর্মীয় সহিষ্ণুতা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি, গত ত্রিশ-চল্লিশ বছরে আমাদের ধর্মীয় চিন্তার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আমার স্বল্প সময়ের ভ্রমনের অভিজ্ঞতায় এর চেয়ে বেশি বলাটা অনুমান নির্ভর হবে।

৪| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ৯:৫৫

জুন বলেছেন: খুব সুন্দর বর্ননা মা হাসান। আমি কিন্ত আমার পোস্টে লিখেছি খেহা স্টেশনে নামতে। রাচাথিভি স্টেশন থেকে আপনি সোজা খেহাতে যেতে পারতেন।
মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম না দেখে আপনি থাইল্যান্ডের প্রধান মিউজিয়ামটি দেখতে পারতেন যেখানে আপনি ছিলেন খাওসান রোডে। সেটা কিন্ত অনেক সমৃদ্ধ। ২০০ বাথ টিকিট। আমি একাই দেখতে গিয়েছিলাম সারাদিন লাগিয়ে।
সানফেট প্রাসাত থর্ন হল কিন্ত পুরোটাই আদি আকারে তৈরি। বর্মী সৈন্যরা একে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছিল।
আপনি ওই সেভেন ইলেভেন থেকে আপনার চলার জন্য প্রতিটি জিনিসই পেতেন। ডিটারজেন্টতো অবশ্যই। ট্যুরিস্টদের জন্য অনেক কিছুই মিনিপ্যাকে মিনি সাইজে আছে।
ভেজিটেবল খেতে চাইলে সোমতাম ( কাচা পেপের সালাদ) ভালো। শুধু মরিচ আর ফিস সস ছাড়া অসাধারণ খেতে।
যাইহোক গতরাতে আমার খুটিয়ে খুটিয়ে দেখা দুটো দেশ মিশর আর থাইল্যান্ড নিয়ে আপনি আর আখেনাটেন লিখছেন। যেটা আমার খুব ভালোলাগছে। লিখতে থাকুন সাথে আছি। আর কাঞ্চনাবুরি দেখার আগে আমার ব্রিজ অন দ্যা রিভার কাওয়াই পোস্টটা পড়বেন। অনেক কিছু সহজ হবে তখন।
ভালো থাকুন আর আমার লেখাটি উল্লেখ করার জন্য অশেষ ধন্যবাদ আপনাকে।

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৩:৩২

মা.হাসান বলেছেন: আপনার বর্ননায় সব ছিল, সমস্যা আমার, গুগুল নির্ভরতা বেশি ছিল বলে ঝামেলায় বেশি পড়েছিলাম, এজন্য প্রথম পর্বে সম্ভাব্য ট্রাভেলারকে সাবধান করে দিয়েছি গুগুলে আস্থা না রাখার জন্য।
ছুটি পূর্ববর্তী কাজের সমন্বয়ের জন্য অফিসের চাপ ছিল, ছুটি শুরুর আগে হোম ওয়ার্ক করার সুযোগ পাইনি, শুধু কাঞ্চনাবুরি আর কোহ সামুই সম্মন্ধে কিছু পড়ে নিয়েছিলাম। আমার প্লানে সামুদ প্রাখান ২য় দিনে রাখা ছিল। ইচ্ছে ছিল প্রথম দিন কাঞ্চনাবুরি ঘুরে রাতে সামুদ প্রাখান সম্পর্কে হোম ওয়ার্ক করবো।
আখেনাটেনের লেখা আমার কাছে অসাধারণ লাগছে।
থাই ভ্রমনের পরের পর্ব কাল সকালে দেয়ার ইচ্ছে, কোয়াই ব্রিজ থাকবে। আপনার কোয়াই ব্রিজের পোস্ট অনেক পুরোনো, ঐ সময়ে বাংলা ব্লগ কি তাই আমি জানতাম না। আগে দেখা হয়নি, আজ দেখলাম।
পেপের সালাদ ভালো, তবে খালি পেটে খেলে আমি নিজেই না হজম হয়ে যাই এই ভয়ে পেপের সালাদের দিকে তাকাই নি। খাওসান রোডের মিউজিয়ামের বিষয়টা জানা ছিল না, গুগুল ষড়যন্ত্র করেছিল।
আপনার লেখাটি উল্লেখ না করা হলে বড় অন্যায় করা হতো, আমার থাই ভ্রমনের পিছনে আপনার ঐ পোস্ট এবং জনাব খায়রুল আহসানের দুটি পোস্টের অবদান সবচেয়ে বেশি। আপনার পোস্ট প্রথম দিন পড়ার পর প্রিয়তে নিয়েছিলাম, কাজে লাগাবো একারণেই নিয়েছিলাম।

৫| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১২:২৯

ফয়সাল রকি বলেছেন: খাওয়া নিয়ে খুব একটা সমস্যায় পড়েছেন বলে তো মনে হলো না! বরং কম-বেশি ভালোই খেয়েছেন ;)
যাইহোক, কখনো যদি এসব জায়গায় ঘুরতে যাই, তাহলে জুনাপুর ব্লগ ভালো মতো পড়ে তারপর যাবো B-)
লেখায় +++

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৩:৩৬

মা.হাসান বলেছেন: হা হা হা, ঠিক ধরেছেন। তবে ভাতের কষ্ট বলে একটা কষ্ট আছে। এছাড়া লক্ষ্য করে দেখুন, প্রথম দিন আমার খাওয়ার পিছনে প্রায় ৫০০ বাথ বের হয়ে গেল। দেশে থাকলে কিরপিনের এই টাকায় ১০ দিন চলে যায়। খাওয়ার আরো বর্ননা আসবে, সুযোগ পেলে পরের পর্ব গুলো পড়বেন অনুরোধ থাকলো।

৬| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১:৪৪

মোহামমদ কামরুজজামান বলেছেন: কিরপিনের থাইল্যান্ড ভ্রমণ কিছু সমস্যা সহ চমৎকার ভ্রমণ।

দেশের বাইরে বাংলাদেশীদের জন্য খাবার একটি বড় সমস্যা ।

তারপরেও, এগিয়ে যান এবং নিজের যাত্রা উপভোগ করুন ।

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৩:৪০

মা.হাসান বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই কামরুজজামান। খাবার নিয়ে খুঁতখুঁতে বলে এমনকি নিজ দেশে কোথাও গেলেও আমার খাবার সমস্যা হয়, তবে এটাকে আমি বড় করে দেখি না। ব্লগে লেখায় অনেক অপ্রয়োজনীয় বর্ননা ইচ্ছে করেই দিয়েছি এই ভেবে যে কারো কাজেও লাগতে পারে। আমার যাত্রা সত্যিই উপভোগ্য ছিল।

৭| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৩:০৮

ভুয়া মফিজ বলেছেন: এক প্যাকেট কাজু বাদাম নিয়ে আপনার ভ্রমন কাহিনী পড়তে বসেছিলাম, বাদাম শেষ.....তাও লেখা শেষ হয় না। :((

ফ্রী জিনিস সবারই ভালো লাগে। প্যরিসের নটরড্যাম গির্জাতে যীশুর সামনে জ্বালানোর জন্য মোমবাতি ফ্রিতে পাওয়া যায়। আমি তিনটা নিয়ে এসেছিলাম, জ্বালাই নাই যদিও! এই পাপেই কিনা জানিনা, বের হয়ে এক গাছের নীচে দাড়িয়ে একটু বিশ্রাম নিচ্ছিলাম, এক নচ্ছার পাখী ঘাড়ের উপর টাট্টি করে দিয়েছিল। পান্চ লাইন হলো, সবার ফ্রী সহ্য হয় না। :(

পাক নাম স্টেশানে পাকনামী করে সুবিধা করতে পারেন নাই দেখলাম। ওটার নাম বদলে দেয়ার জন্য আবেদন করে দেখতে পারেন। 'পাক' নাম এর স্থলে 'রাজাকার' নাম হবে। :P

টু ইন ওয়ান গাছের অদ্যোপান্ত জেনে ভালো লাগলো। ছবি দেখে আরও ভালো লাগলো।

রুমে ৪টা বেড দেখছি.....সাকুল্যে কয়টা ছিল? আপনি দোতলায় ছিলেন নাকি নীচ তলায়?

চলতে থাকুক। আমি শেষবার ব্যাংকক গিয়েছিলাম ২০০১ সালে। এখন অনেক বদলে গিয়েছে নিশ্চিত। পরের বার গেলে আপনার আর জুন আপার পোষ্ট মুখস্থ করে যাবো।=p~

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৩:৫৪

মা.হাসান বলেছেন: আপনি যদি মাইক্রো সাইজের কাজুর প্যাকেট নিয়ে বসেন তা হলে আমার লেখারে দোষ দিয়ে কি লাভ। একটা আধা কেজির কৌটা নিয়ে বসবেন।
আপনারে দেইখাই কোন কোন পাখির পটি করার ইচ্ছা জাগে, স্থান কাল পাত্র বোঝে না। এইটা আমরা সবাই বুঝতেছি। আপনি সাথে ডায়াপার রাইখেন, পাখি দেখলে পরাইয়া দিয়েন, নিজের ইয়েতে যত পটি করে করুক। B-))
স্টেশনের নামের কারনেই এই ভোগান্তি সত্য। আমার ক্ষমতা থাকলে নাম বদলায়া মানবিক চেতনা করে দিতাম।
সুপারি গাছের বিষয়ে আমার মনে এখনো কিছু প্রশ্ন আছে, বিষয়টা ভেরিফাই করার সুযোগ হয় নাই।
বেড ঐ রুমে চারটাই ছিল। পরে অন্য জায়গায় ছয় রুমের বেডেও ছিলাম। প্রথম দিন উপরে ২য় দিন নীচে,- ভালো কথা জিজ্ঞাসা করেছেন, পরের পর্বে বিষয়টা লিখে দেব।
ব্যাংকক ১৮ বছরে কতখানি বদলেছে কোন ধারনা নেই । বাংলাদেশে শেষ কবে এসেছিলেন? প্রতিদিনই দেশ বদলাচ্ছে , উন্নয়নের নতুন ছোয়া লাগছে । আপনি যদি গত ছমাসে দেশে না এসে থাকেন তবে এর পরের বার দেশে আসলে গাইড নিতে ভুলবেন না, গাইড ছাড়া চলতে পারবেন না।

৮| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৩:১৯

ঢাবিয়ান বলেছেন: বিদেশে সব জায়গায় হালাল ও পরিচিত স্বাদের খাবার পাওয়াটা একটা বিড়াট সমস্যা এই কারনে আজকাল সবাই অনলাইনে হোটেল বুকিংং দেবার সময় নিজ দেশী রেস্টুরেন্ট কাছাকাছি এলাকায় হোটেল বুকিং দেয় ।এতে খাবার নিয়ে বিড়ম্বনায় কম পড়তে হয় ।

বর্ননা পড়ে অনেক স্মৃতি মনে পড়ে গেল। ব্যাংককের সিএঞ্জি অনেক সুন্দর। আমদের দেশের বদ্ধ জেলখানার মত সিএঞ্জি নয়।
ব্যাংককের বিখ্যাত থ্রী ডি ছবি গ্যালারিতে যান নি?

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৪

মা.হাসান বলেছেন: নিজ দেশি খাবার পাওয়া যায় এমন এলাকায় বুকিং না দেয়ায় একটু উপকারই হয়েছিল, শেষ পর্বে ওটা বলা যাবে। যারা পড়বে, ব্যাংকক গেলে যেন পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়ে যায় এজন্য বর্ননায় খাবারের প্রসঙ্গটা বারে বারে এনেছি।
সিএনজি বা টুকটুক ব্যাংককের ঐতিহ্যের মধ্যে একটা। আমেরিকান টুরিস্টদের মাস্ট ডু এর লিস্টে থাকে টুকটুক চড়া। আমাদের দেশের সিএনজি একটু চাপাচাপির মধ্যে হলেও শুরুতে এরকম খাঁচার মতো ছিল না। উন্নয়ন বাড়ার সাথে সাথে ছিনতাই ও বাড়লে পরে ওরকম জেল খানার মতো গ্রীল লাগানো শুরু হয়। ব্যাংককের উন্নতি হলে হয়তো টুকটুকেও গ্রিল লাগবে :-B
থ্রি-ডি গ্যালারীর বিষয়টা জানা ছিল না, পরের বার গেলে মাথায় রাখবো।
অনেক ধন্যবাদ মূল্যবান মন্তব্যের জন্য।

৯| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৩:৪৩

ফয়সাল রকি বলেছেন: সেটাই, খরচ হয়ে গেলো, পেট খানিকটা ভরলেও মন ভরলো না।
পরের পর্ব গুলোর জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৪:৩৬

মা.হাসান বলেছেন: এক দম মনের কথা :)
সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। ৩য় পর্ব কাল সকালে দেয়ার ইচ্ছা আছে।

১০| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫:২৬

জুন বলেছেন: মা হাসান আমার মন্তব্যে একটা অক্ষর বাদ পরে গেছে জাতীয় মিউজিয়ামের অবস্থান নিয়ে । মিউজিয়ামটি খাওসান রোড থেকে হাটা দুরত্বে রয়েল প্যালেসের পাশে , রাজকীয় চত্বর সানাম লুয়াং এর দিকে মুখ করে নির্মিত । ব্যংকক মিউজিয়াম নিয়ে একটা পোষ্ট দেয়ার ইচ্ছে আছে ।
আর ব্রিজ অন দ্যা রিভার কাওয়াই লেখাটি পুরনো হলেও ব্রীজ তো আর নতুন না :|| সেটাতো সে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সময়ই তৈরী হয়েছিল নাকি :|| :)
আমার লেখায় কিছুটা হলেও উপকৃত হয়েছেন জেনে খুব খুশী হয়েছি মা হাসান ।

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০৬

মা.হাসান বলেছেন: রয়েল প্যালেস এবং এর আশ পাশ গিয়েছিলাম , কিছু ছবিও তুলেছিলাম, অনেক ছবিই ফোন থেকে পিসিতে ট্রানসফারের সময় হারিয়ে ফেলেছি। প্রাসঙ্গিক ছবি দিতে পারবো না বলে এই বিষয়গুলো এড়িয়ে গিয়েছি। পরের বার অবশ্যই রয়েল মিউজিয়াম দেখে আসবো। আন্তরিক মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

১১| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৫২

চাঁদগাজী বলেছেন:



বোরিং

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:১২

মা.হাসান বলেছেন: জ্ঞানী লোকদের পোস্ট হইতে জ্ঞান চুইয়া চুইয়া পড়ে বলে তাদের পোস্ট বোরিং মনে হয় না। আমার আপনার মতো জ্ঞান নাই, কাজেই পোস্ট বোরিঙ হওয়াই স্বাভাবিক। আগে আপনি বারংবার আসিতেন এখন এক দুই বার আসিয়া আর আসেন না, কাজেই বুঝিতে পারি পোস্ট আকর্ষনীয় হইতেছে না। তবে আপনার মতো জ্ঞানীকে বোর করিতে পারাটাও বিরাট সাফল্য।

১২| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৮

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় মা.হাসানভাই,

পোস্টটা গত রাতে কখন দিয়েছিলেন টের পাইনি। সম্ভবত আমি নিজের পোস্টে ব্যস্ত থাকার জন্য আপনার পোস্টটি ওভারলুক হয়ে থাকতে পারে। এখন আলোচিত ব্লগে আসাতে চোখে পরলো। মারাত্মক খাবারের সমস্যায় ভুগছেন। সঙ্গে অমানুষিক পরিশ্রম। তোর এত কষ্ট করে ভ্রমণ বিনোদন কিনা আমার সন্দেহ। আপাতত সংক্ষিপ্তাকারে কমেন্ট করলাম, পরে আবার আসছি।

শুভকামনা জানবেন।

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:৪২

মা.হাসান বলেছেন: কেউ যদি চিনেদের দেশে যেয়ে ডাল ভাতে আলু ভর্তা আর লংকা ডলে খেতে চেয়ে না পেয়ে হা পিত্যেশ করে তবে সেটা চিনেদের দেশের দোয না, যে মর্কট এমন আসা করে তার দোষ। খাওয়া কিন্তু কম হয়নি। খাওয়ার কষ্টের চেয়ে কিরপিনের কাছে পয়সাট কষ্টই বড় ছিল। আর জামবাক থাকলে পরিশ্রম কোন ব্যাপার না।

ব্লগ ব্লক মুক্ত হওয়ায় আগের চেয়ে পোস্ট অনেক বেশি আসছে, ভালো পোস্টও অনেক আসছে। পোস্ট দেয়ার পর এখন দুঘন্টার মধ্যে পিছনের পাতায় চলে যায়, কাজেই পোস্ট দেখতে না পাওয়া স্বাভাবিক। আমি আগের মতো করে রাত দশটার পর পোস্ট দিয়েছি, যা ভুল ছিল। এখন বেশি ব্লগার দিনে থাকে। পরের পর্ব দিনে দেয়ার চেষ্টা করবো। অনেক শুভ কামনা।

১৩| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪০

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: স্যরি আরেকটা কথা বলতে ভুলে গেছি। গত পোস্টে ছবি চেয়েছিলাম। সে দিক দিয়ে পোস্টে প্রচুর ছবি দিয়ে আমাদের ঘরে বসে
থাই দর্শনকে সম্ভব করে তুললেন। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে। পরে আবার আসতেছি।

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:৪৮

মা.হাসান বলেছেন: কিছু ভালো ছবি মুছে যাওয়ায় ওগুলো দেয়া যায় নি। আর আমার ফোন অত্যন্ত কম দামের ফোন, ক্যামেরা দূর্বল বলে ছবি খুব ভালো হয় নি, বরং মেঘলা দিনে দার্জিলিঙের ছবি ভালো এসেছিল, সেবার ভালো ক্যামেরা ছিল। আপনার অপেক্ষায় থাকবো কিন্তু।

১৪| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:৪১

আরোগ্য বলেছেন: যে যা পারেন ময় মুরুব্বির নামে দান করুন। এ কোন মুরুব্বি? :P

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৯:০১

মা.হাসান বলেছেন: আমনে তো মোরে কডিন সমেস্যার মইদে ফালায়া দিলেন। চেন্তা বাবনা কইরা দ্যাখলাম মুই ঠিক লিখিনাইক্কা।

আমনে কারে মুরুব্বি মানেন মুই পুরা পুরি জানি না, তয় অনুমান করতে পারি।
কেউ কেউ কিন্তুক আছে কইলাম যারে মুরুব্বিরাও মুরুব্বি বইলা মানে। সেই মুরুব্বিগো মুরুব্বি যদি দান বাসকের সামনে যায়, তয় কার নামে দান করবো? কাজেই ঐ হানে পড়েন- যে যা পারেন ময় মুরুব্বির নামে এবং চামুচ উন্নয়ন ফান্ডে দান করুন।

১৫| ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:৫৫

চাঁদগাজী বলেছেন:



ব্লগে ভ্রমণের যাঁরা পোষ্ট লেখেন, তাঁদের বেশীর ভাগই নিজের ভ্রমনের বর্ণনা দেন, ইহা বোরিং; ব্লগে এমনিতে কম আসছি

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৯:০৭

মা.হাসান বলেছেন: আপনার অনুপস্থিতির কারনে অনেক ব্লগ বন্ধ হয়ে গিয়েছে শুনেছি। অনুগ্রহ করে সামুর দিকে সুদৃষ্টি দিয়েন, বেশি বেশি করে উপস্থিত থেকেন। আপনার কল্যানে ব্লগ তুমুল গতিতে চলুক।
আপনার কথাই থাক, নিজের ভ্রমনের বর্ননা দেব না, আপনার ভ্রমনের একটা বর্ননা আমাকে ইমেইল করে দিন, ওটা পোস্ট করে দেব। ইমেইলের ঠিকানা [email protected]

১৬| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১২:০২

আখেনাটেন বলেছেন: এক গাছে সুপারী ও পাম। মজার তো।

বুড়ি-ছুড়ির সাথে একটু নেচে নিতে পারলেন না। ;)

২৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৪:১৮

মা.হাসান বলেছেন: দু একটা ছোড়া দেখলে সাহস করে ঢুকতাম, শুধু ছুড়ি বলে সাহস করি নি।
সুপারি-পামের ব্যাপারটা ইয়ে ভাইয়ের সাথে কথা না বলে নিশ্চিট হতে পারছি না। :-B
সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

১৭| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১২:৩৫

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:



এক নিশ্বাসে পড়লাম। চমৎকার। +++

২৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৪:২১

মা.হাসান বলেছেন: আপনার কাছে বিচার দিলাম, যেই লেখা এক নিশ্বাসে পড়া যায়, তা পড়তে যেয়ে যদি কারো কাজু বাদামের প্যাকেট শেষ হয়ে যায় তবে কিরপিন কি আমি নাকি ঐ সাইজের কাজুর প্যাকেট যে কিনেছিল সে? :-P

সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ।

১৮| ২৯ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১১:৪৫

এমজেডএফ বলেছেন: ব্লগ উন্মুক্ত হওয়ার প্রাক্কালে কয়েকদিন ব্যক্তিগত ঝামেলার কারণে ব্লগে আসতে পারি নাই। এখন এসে দেখি প্রতি মিনিটে আসছে নতুন নতুন পোস্ট! একটা পড়া শেষ না হতেই ৭-৮টা ঢুকে যাচ্ছে। আপনাদের সাম্প্রতিক লেখাগুলো খুঁজতে গিয়ে বাঁধভাঙ্গা পোস্টের বন্যায় নিজেই হারিয়ে গেলাম! অবশেষে অনলাইন ব্লগারের তালিকাতে নাম দেখে ক্লিক করে শর্টকাটে চলে আসলাম।

কিরপিনের থাইল্যান্ড ভ্রমন - প্রথম ও দ্বিতীয় পর্ব পড়লাম। অনেক কিছু জানলাম। প্রথম পর্বের শেষে ২য় পর্বের একটা লিঙ্ক দিলে আমাদের মতো অনিয়মিত পাঠকদের জন্য শর্টকাটে আসতে সুবিধা হয়। পর্বের সংখ্যা বাড়িয়ে পোস্টের আকার আরো ছোট করলে মনে হয় পাঠকেরা আরো ধীরে-সুস্থে পড়তে পারতো। তবে সবচেয়ে আকর্ষনীয় মনে হয়েছে - এক গাছে দুই ফল! সুপারির মৌসুমে সুপারি, পামের মৌসুমে পাম!

৯ লক্ষ রোহিঙ্গার কারণে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন উজাড়, তাছাড়া বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য আসামের ১৯ লক্ষ বাঙালির তালিকা প্রস্তুত, পশ্চিম বাংলায়ও তালিকার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। বাংলার আকাশে আজ দুর্যোগের ঘনঘটা। চারিদিক থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষের আগ্রাসী থাবায় বনতো উজাড় হবেই, বাড়ির আঙ্গিনায় আম, জাম, কাঁঠালের যে কয়েকটা গাছ আছে সেগুলোর অস্তিত্বও হুমকির সন্মুখীন হবে। এই অবস্থায় একই গাছ থেকে ছয় ঋতুর ফল - আমের মৌসুমে আম, জামের মৌসুমে জাম, কাঠালের দিনে কাঁঠাল—এই ধরনের একটা প্রজেক্ট দেশ ও জাতির অস্তিত্বের জন্য খুবই জরুরি। কলাবাগান ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করে প্রজেক্টটা হা্তে নিতে পারেন।

ভলো থাকুন, আগামী পর্বে দেখা হবে।

৩০ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১২:০৫

মা.হাসান বলেছেন: কলাবাগান ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করে প্রজেক্টটা হা্তে নিতে পারেন। =p~ =p~

আপনাকে পেয়ে ভালো লাগলো।
আসলেই, পোস্টের ভিড়ে দিশেহারা বোধ করছি।
আগে , ব্লক চলা কালিন সময়ে, একটা পোস্ট দিলে ১২ ঘন্টা এমন কি একটা পোস্টে দেখেছি ২৪ ঘন্টার বেশি সময়ও (রোজার শেষের দিকে) তা প্রথম পাতায় ছিল। এখন দু-তিন ঘন্টায় পেছনে চলে যাচ্ছে। আমার হিসেবে এখন নতুন পোস্ট যা আসছে তার বেশি অংশই ভালো পোস্ট, কাজেই দিশেহারা অবস্থাও এনজয় করছি।

পোস্টের শেষে পরের পর্বের লিংক দেয়ার ইচ্ছে ছিল, ২য় পর্ব শুরু করার সময়ে ভেবেছিলাম ও, কিন্তু পরে ভুলে গেছি। এখনই যোগ করে দেব।
মনের মধ্য একটা দ্বন্দ্ব কাজ করে, একটু বড় হয়ে গেলেও একদিনের ঘটনা একটা পোস্টে দিয়ে দেই যাতে পাঠক কোন পর্ব মিস করলেও সমস্যা না হয়; নাকি পোস্টের আকার ছোট করে ফেলি, একদিনের ঘটনা দুই পোস্টে চলে যাক, কিন্তু সেক্ষেত্রে নতুন পাঠক বা আগের পর্ব মিস করা পাঠক কিছুটা সমস্যায় পড়বে। ব্যক্তিগত ভাবে আমার সুবিধা হয় একটু ছোট করে দিলেই। আপনার বিষয়টা মাথায় রাখছি।
সাথে থাকার জন্য অনেক ধন্যবাদ। ইচ্ছে ছিল ২৯ তারিখ ৩য় পর্ব দেব, কিন্তু সময় বের করতে পারি নি, আশা রাখি ৩০ তারিখ দুপুরে বা বিকেলে দিতে পারবো।
আপনার জন্যও অনেক শুভকামনা।

১৯| ৩০ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১০:০৩

রাজীব নুর বলেছেন: আমার মন্তব্যের উত্তর দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

একটা পারিবারিক পোষ্ট দিয়েছি। পড়ুন।

৩০ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১০:৩০

মা.হাসান বলেছেন: রাজীব ভাই, অনেক ধন্যবাদ।
পরীর বাসায় আসতে আসতে বারোটা-একটা বাজতে পারে বলেছিলেন। এয়ারপোর্ট কখন যাবেন?
আপনার জীবন আনন্দে ভরে উঠুক, অনেক শুভ কামনা।

২০| ৩০ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১০:৩৭

আহমেদ জী এস বলেছেন: মা.হাসান,




এই লেখাটাও ফ্রি তে পড়লুম। ফ্রি তে সব কিছুই ভালো লাগার কথা তবে ফ্রি তে পড়তে পেলে ভালো লাগে বেশী। :)

হোটেলের রুম সম্পর্কে লিখেছেন - "আমারটা ছেলেদের ছিলো" :|| তা আপনি কি মেয়ে যে মেয়েদের রুমে থাকবেন ? :-P
ওকথা লেখার কি দরকার ছিলো ? :( সাধু.....সাধু.............

৩০ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১০:৫৮

মা.হাসান বলেছেন:
সাধু সাজতে চেয়েছিলাম, ধরা পড়ে গেলাম B:-)

হোটেল ওয়ালারা কিছু মিক্সড ডর্ম রাখে, রুম যেন কম খালি যায় এই পলিসি। ডাল সিজনে অসুবিধা হয় না, কিন্তু পিক সিজনে আগে থেকে বুকিং না দিলে শেষে দেখা যায় মিক্সড রুম ছাড়া কিছু খালি নাই। তবে ডাল সিজনেও আমাকে মিক্সড রুমে থাকতে হয়েছে, চার নম্বর দিনে- সে কথা সময়ে আসবে।

২১| ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১২:৪৭

বলেছেন: বাহ ..........

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১২:৫৩

মা.হাসান বলেছেন: ধন্যবাদ ল ভাই।
কিছুটা ব্যস্ততার কারণে আজ ৩য় পর্ব দিতে পারলাম না, আশা করি কাল পাবেন।
অনেক শুভকামনা।

২২| ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৪:৪০

করুণাধারা বলেছেন: গত পর্বের মতো এই পর্বটিতেও খুঁটিনাটি অনেক জিনিস বলে গেছেন যা একটানে পড়ে গেছি। মন্তব্য করতে এত দেরী হলো... সেটা অন্য কারণে।

প্রতি দিনের ঘোরাঘুরি নিয়ে কি আলাদা আলাদা পর্ব দেবেন? শুরুটা যদি এমন হত, আজকের (২য় দিনের) মূল গন্তব্য সামুদ্ প্রাখান জাদুঘর, তাহলে কবে কোথায় গেলেন হিসাব রাখতে পারতাম, এই আর কি!

স্কাই ট্রেন জিনিসটা কি আমাদের মেট্রোরেলের মতন বলে মনে হয়? রাচাথেউয়ি বিটিএস দেখে ভাবনায় পড়ে গেলাম। মেট্রোরেল আর স্কাইট্রেন একই জিনিস হলে, আমাদের এমন স্টেশন বানাবে কোথায়ৃ!!

পরের পর্ব দিয়ে দেন তাড়াতাড়ি।

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫:২১

মা.হাসান বলেছেন: আপনার মন্তব্যের জন্য অনেক ধন্যবাদ। পর্ব হিসেবে আগে কখনো লিখি নি, কি লিখবো- কি ভাবে লিখবো- বুঝে উঠতে একটু কষ্ট হচ্ছে। আমি চাইনা পদাতিক ভাইয়ের লেখার মতো সাসপেন্স তৈরি করতে। চাই কেউ যদি শুধু এক পর্বও পড়ে , আগের বা পরের পর্ব না পড়লেও যেন সমস্যা না হয়। উপরে ফারুক ভাই (এমজেডএফ) যা বলেছেন তা মাথায় রেখেছি, আপনারটাও মাথায় রাখলাম।
থাই স্কাই ট্রেনের ইউটিউব ভিডিওর লিংক দিলামঃ





আমাদের এমন স্টেশন বানাবে কোথায়!! --- যতদূর জানি, আমাদের উন্নয়নের জন্য লাস ভেগাস মডেল ফলো করা হচ্ছে। থাইল্যান্ড এত উন্নত না, ওদের ফলো করবো কেন? আপনি দুশ্চিন্তা করবেন না, জয়নাল হাজারী সহ আর যারা উপদেষ্টা আছে চিন্তা করার ভার তাদের দেন।

বিদগ্ধ পন্ডিতদের কাছ থেকে ইমেইলের আশায় বসে ছিলাম, এজন্য ৩য় পর্ব দেরি হয়ে গেল। আজ দেব আশা করি । অপেক্ষায় রাখার জন্য দুঃখিত।

২৩| ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫:১৬

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: খুব সুন্দর বর্ণনা আর ছবি আমার চাইতে কম সুন্দর হাহাহাহহাহা

বুড়িগঙ্গার পানি সব দেশে চেয়ে সেরা হাহাহাহা উন্নতিতে বাংলাদেশের ধারে কাছেও না।

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়াররে বাংলাদেশে পাঠায় দেন। পামের সময় পাম আর সুপারির সময় সুপারী বাহ্ :)

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫:২৬

মা.হাসান বলেছেন: সাড়ে পাঁচটার সময়ে আপনি অফিসে কি করেন!!

ছবির বিষয়ে আপনার সাহা্য্য লাগবে, পরে কোন এক সময় বলবো। তাছাড়া আমার স্যামসং গ্যালাক্সি এস নাইন বা এ সেভেন নাই :(

ইঞ্জিনিয়ার সাহেব কবে দেশে আসবেন জানি না, আসলে গাছ পালার উপর কাজ করবেন নাকি মানুষের উপর (চেতনার জিন কারেকশনের কাজ) কাজ করবেন তাও নিশ্চিত না। ওনার সাথে কথা বলে জানতে হবে।

২৪| ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫:২৮

কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: ইন্নালিল্লাহ হেইয়া কী কইলেন
অফিস তো ৬ টায় ছুটি ..... :( অবশ্য বিষ্যুতবার তো অফিস প্রায় ফাঁকা
আমার বাসা কাছে ৮/১০ মিনিট হাইটা যাইতে লাগে। তাই নামাজ পড়ে বাসায় যাই।

অবশ্যই ছবি বিষয়ে সাহায্য করবো ইনশাআল্লাহ।

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৯:৩৪

মা.হাসান বলেছেন: সবার ছুটি পাঁচটায়, আপনাদের ছুটি ৬ টায়-- এক ঘন্টা ফোন কইরা অন্য ব্যাংকের উপর মাতবরি করেন নাকি!!
বিষ্যুৎবার ব্যাংক ফাঁকা-- ভল্টের অবস্থা কেমুন? আসি যদি, খরচ পোষাইবো, নাকি আপনারা আগেই সাফা কইরা দিছেন?

২৫| ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২২

জুন বলেছেন: কি অবস্থা মা হাসান? সকাল থেকে কিরপিন ৩ এর আশায় পথ চেয়ে আছি :|| কাঞ্চনাবুড়ির কিচ্ছা নিয়ে জলদি জলদি আসেন /:)

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৩৪

মা.হাসান বলেছেন: খুব দুঃখিত, এডিট হচ্ছে, আশা করি আর পনেরো মিনিট।

২৬| ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:৫৬

আনমোনা বলেছেন: প্রথম পর্বে জামবাক না পেয়ে সেই যে মাথা ধরেছিলো, এবার টাইগার বাম পেয়ে একটু কমলো। একবারে দুই পর্ব পড়লাম।
আপনি যে কিরপিন, সগিন্নী ভ্রমন না করেই তার প্রমান দিয়েছেন, তাই বলে আধপেটা ভাত খেয়ে থাকতে হবে? অনান্য খাবার ভালোই খেলেন দেখছি। 'ছেড়ে দে শয়তান' ছবির পিছনের গল্পটা কি?

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৯:৪৪

মা.হাসান বলেছেন: আপনার মাথা ব্যথা গেছে শুনে ভালো লাগলো। পোস্টে বামের ছবি অ্যাড করে দিলাম। পারলে টাইগার বামের দাম কিছু শেয়ার করলে আমার বুকের ব্যথা একটু কমবে!
ভাইরে, নতুন লোকের ভাতের সুলুক-সন্ধান পেতে একটু সময় লাগছিলো আরকি। ৩য় দিনের শেষে রাতে ভাত পেয়েছিলাম।
অন্য খাবার বিষয়ে নজর দিয়েন না বললাম কিন্তু!
ছেড়েদে শয়তানের গল্প কইতে নইজ্জা লাগে :``>> , আপনি একটু খুঁজে দেখুন না, পেয়ে যাবেন। ওখানকার আরো দুটা ছবি দিলাম।

২৭| ০৩ রা নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ২:০২

নীল আকাশ বলেছেন: গত পর্বের মতো এই পর্বটিতেও খুঁটিনাটি অনেক জিনিস বলে গেছে তবে আমি এখানে যাব নাকি সে ব্যাপারে সন্দেহের মধ্যে আছি।
খাবার দাবার নিয়ে ঝামেলা আমি কোনভাবেই পছন্দ করিনা। তারপর আবার বৌ আন্ডাবাচ্চা নিয়ে চরকির মতো ঘুরে বেড়াবো খাবার পাবার জন্য! নাহ, পোশাবে না।
আমার কেন জানি মনে হচ্ছে ভাবী থাকলে আপনার এত বোর লাগতো না।
ছেড়ে দে শয়তানের নায়িকা তো জোস দেখতে!!!
স্কাই ট্রেইন আর এর স্টেশন আমার কাছে অনেকটা দুবাই এর মেট্রো রেলের মতো লাগলো।
দেরি করে এসে পড়লাম।
যাই পরেরটা পড়ব এখন।

০৪ ঠা নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১:১০

মা.হাসান বলেছেন: খাবার সমস্যার সমাধান ৩য় দিন থেকে হয়ে গেছিলো, ওটা কোন বড় ব্যাপার ছিলো না।
থাইল্যান্ড এত সুন্দর যে বাসস্ট্যান্ডে যেয়ে সামনে যে বাস পড়বে সেটাতেই উঠে পড়লেও আপনি টুরিস্ট হিসেবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন না, এই দেশের যে কোন জায়গাই দেখার মতো।
দুবাই মেট্রো রেল দেখা হয় নি, মিরপুরেরটা দেখা আছে :P । মিরপুরেরটা অনেক আধুনিক।

আমার মতো ভিলেনের কাছে সব নায়িকাই সিরাম মনে হয় :(

আমার কেন জানি মনে হচ্ছে ভাবী থাকলে আপনার এত বোর লাগতো না।
মানবতার দোহাই, এমন কুলক্ষুনে কথা আর মুখে আনবেন না।

২৮| ০৫ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:৪৪

পদাতিক চৌধুরি বলেছেন: প্রিয় মা.হাসানভাই,

বড় জাতের মিষ্টি কম, ছোট জাতের মিষ্টি বেশি-আনারস প্রসঙ্গে প্রথমেই কথাটিতে চমক লাগলো।
আম চল্লিশ বাথ, কিন্তু পরিমাণটা কতটা লিখলেন না।
চাও ফ্রায়া নদীর রং হলদে সবুজ, বুড়ি গঙ্গার ধারে কাছে না; এরা উন্নতিতে বাংলাদেশকে ধরতে অনেক দেরি আছে-স্বদেশ সম্পর্কে চমৎকার আত্মোপলব্ধি।
গুগল ম্যাপ অনুসরণ করে সামুদ প্রাখনে জ্বর জন্য দুবার ভুল বাসে উঠে অবশেষে তৃতীয়বারে ঠিক বাসে উঠলেন। এখানে প্রমাণ হলো বিশ্ব ঘুরে দেখার জন্য একাধিক ভাষা জানার দরকার নাই। একটি ভাষা জানলেই সেটিকে ট্রান্সলেট করে গোটা বিশ্ব পরিভ্রমণ সম্ভব। আর দুর্বোধ্য ইংরেজি ভাষা জানার তো কোনো প্রয়োজনই দেখিনা... সেক্ষেত্রে আপনার মত গোলকধাঁধায় ঘুরতে হবে বৈকি। হাহাহা .....
রাঁচাথেউরি স্টেশনের ছবিটি বেশ লাগলো, অনেকটা মেট্রো স্টেশনের মত। ট্রেন থেকে দেখা দৃশ্যগুলোর ছবি গুলোও খুব সুন্দর।

পাক নাম থেকে খেয়ার পর্যন্ত তিনটি স্টেশনের ভাড়া লাগেনা-বিষয়টি বেশ ইন্টারেস্টিং লাগলো। একটু আগে বললেন লন্ড্রি ফ্রী। আসলে ফ্রি জিনিস আমারও ভীষণ ভালো লাগে। যে কারণে আপনার ফ্রি বিনোদন আমিও সমধিক উৎফুল্ল হয়েছি হাহাহা...
সময় নিয়ে আবার চতুর্থ পর্বে যাব। শুভ রাত্রি।

০৬ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১:৪০

মা.হাসান বলেছেন: কষ্ট করে পড়ার জন্য অনেক ধন্যবাদ, আপনি আমাকে কষ্ট দিতে চান না বলে ৩৩ নম্বর পর্ব দিচ্ছেন না বুঝছি। X((
রাচাথেউয়ি আসলে কোলকাতা বা দিল্লির মেট্রো স্টেশনের মতোই , বাংলাদেশে এখনো মেট্রো নেই বলে ওভাবে লিখতে হয়েছে। আমাদের এখানে দুজাতের আনারস পাওয়া যায়, বড়গুলো একটা কেজি বা তার চেয়ে বেশি। ছোট গুলো ২০০ গ্রাম মতো। থাইল্যান্ডে ছোট গুলো আমাদের দেশের সাইজের মতো, বড় গুলো হয়তো আমাদের দেশের সাইজের চাইতে সামান্য ছোট হবে। আমের পরিমান আসলেই বলা দরকার ছিল। পরের পর্ব গুলোতে মাথায় রাখবো, এবং সুযোগ মতো এখানেও এডিট করে দেব। কিরপিন ফ্রির ভক্ত হবে, তা স্বাভাবিক, আপনি কেন? B-))

অনেক শুভ কামনা।

২৯| ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ বিকাল ৩:২৩

আরাফআহনাফ বলেছেন: বিস্তারিত বলছেন বলে বেশ ভালো লাগছে - সুন্দর বর্ণনা।

কিরপিনের ফ্রী পছন্দ , তাই তার জন্য একটা ফ্রী মন্তব্য করে গেলাম। :P

ভালো থাকুন।

০৭ ই নভেম্বর, ২০১৯ রাত ৮:৪৯

মা.হাসান বলেছেন: আহনাফ ভাই, অনেক ধন্যবাদ আপনার ফ্রী মন্তব্যের জন্য। আরো মন্তব্য করবেন, ফ্রী যে কোন জিনিসের জন্য কিরপিন বড় কাতর :D

সুযোগ পেলে বাকি পর্ব গুলো পড়ে দেখার অনুরোধ থাকলো।

আপনার জন্যেও অনেক শুভ কামনা।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.