নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কুমিললা

কুয়াশা১৩৮

কুয়াশা১৩৮ › বিস্তারিত পোস্টঃ

পে স্কেল-২০১৫

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:০৭

সিএনজি বাঁ অটো রিক্সায় শেয়ার করে উঠলে ৫ টাকা আর রিক্সায় উঠলে ১৫ টাকা ভাড়া। অফিস থেকে ফেরার পথে বাস থেকে নেমে ক্লান্তি থাকা সত্ত্বেও রিক্সায় উঠি না।বন্ধু বান্ধবরা দেখে ফেলার ভয়ে মাথাটা নিচু করে রাখি। একজন প্রথম শ্রেণির সরকারী কর্মচারী হয়েও শেয়ারে অটো চরছি একটু হীনমন্যতায় ভুগি। প্রতিদিন সকাল বিকাল ১০ টাকা করে বাচানো মানে মাসে ৫০০ টাকা।ভাবি ডিপিএস টার জন্য কিছু টাকা বাচানো গেল। বন্ধুরা যখন সবাই মিলে মাঝে মধ্যে ফাস্ট ফুড বাঁ রেস্টুরেন্টে যেতে চায় আমি বিভিন্ন অজুহাতে এড়িয়ে যেতে চাই। আমি জানি বন্ধুরা আমাকে বিল দিতে বলবে না। কিন্তু মাঝে মধ্যে যদি আমি অন্তত মাসে একবার বিল দেই আমার মিনিমাম ৫০০/৬০০ টাকা খরচ হবে। তাই বন্ধুদের এড়িয়ে গিয়ে মাঝে মধ্যে স্ত্রী আর ছোট্ট মেয়েটাকে নিয়ে যাওয়াই উত্তম মনে করি। সখের অনেক কেনা কাটা যেমন সিডি, ডিভিডি এরকম আরও অনেক কিছু কবেই ছেড়ে দিয়েছি মেয়েটার জন্য মাঝে মাঝে খেলনা আর পুতুল কেনার জন্য। ফটোগ্রাফি টা ছিল অনেক সখের। একটা এসএল আর ক্যামেরা কেনার অনেক ইচ্ছে ছিল। আমি জানি এই ইচ্ছেটা শুধু সপ্নই থেকে যাবে। আর ভয়ে থাকি বিয়ের বাঁ জন্মদিনের দাওয়াতের।
আমি একজন প্রথম শ্রেণির সরকারী কর্মচারী। প্রতিমাসে পিএফ এর টাকা কাটা যাওয়ার পর অ্যাকাউন্টে ১৮,৬২৮ টাকা জমা হয়। মাসে বাড়ি ভাড়া দিতে হয় ৭৫০০ টাকা, অফিসে আসা যাওয়া বাবত যানবাহন খরচ হয় ২৫০০। এই ১০০০০ টাকা আমার ফিক্সড কষ্ট। বাকি থাকে ৮৬২৮ টাকা। বাজারখরচের কথা এখনও বলিনি। বলিনি এখন ও অবসরপ্রাপ্ত বাবা মায়ের জন্য কিছু কেনাকাটার কথা। বলিনি কোন মাসে ডাক্তারের কাছে যাওয়ার কথা। বলিনি এমন আরও অনেক খরচের কথা। অথচ আমি একজন প্রথম শ্রেণির নাগরিক যার কাছে রিক্সা চড়াটাই বিলাসিতার পর্যায়ে পরে।

কিছু দিন আগে নতুন পে স্কেল টা দেখে ভাল লাগলো। ভাবলাম ইস যদি এই পে স্কেল টা যদি পাশ হয় তবে কতই না ভাল হত। কিন্তু মনটা খারাপ হয়ে যায় যখন দেখি বিশিষ্ট জনেরা প্রশ্ন তুলে এর যৌক্তিকতা নিয়ে। আর এই বিশিষ্ট জনেরা কেউই কখনও সরকারী চাকুরী করেনি। তারা প্রশ্ন তুলে ২০ লক্ষ সরকারী কর্মচারীর বেতন বাড়লে মুদ্রাস্ফীতির কারণে বাকি ১৫ কোটি মানুষের কষ্ট হবে। কিন্তু তারা কখনও বলে না এই ২০ লক্ষ লোকের পরিবার সহ প্রায় ১ কোটি লোক এখন কষ্ট পাচ্ছে। তারা বলে সরকারী কর্মচারীরা দুর্নীতি গ্রস্ত। কিন্তু তারা বলে না এই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পরার অন্যতম বড় কারন যে সল্প বেতন। তারা বলে পে স্কেলের সাথে সাথে মুদ্রাস্ফিতি হবে। কিন্তু তারা বলে না কিভাবে বাজার নিয়ন্ত্রন করতে হবে। প্রকারান্তে কি তারা তাই বলতে চাচ্ছে সরকারী চাকুরী জীবীরা কষ্ট পাক কিন্তু বাকি ১৫ কোটি মানুষ শান্তিতে থাকুক।

মন্তব্য ১২ টি রেটিং +৩/-০

মন্তব্য (১২) মন্তব্য লিখুন

১| ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:১৪

ঢাকাবাসী বলেছেন: নদীর এপার কহে...

২| ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:১৫

ভুল্কিস বলেছেন: সরি টু সে, কেনো জানি মনে হচ্ছে আপনার দৃষ্টিভঙ্গিতে ভুল আছে :(

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১:০২

কুয়াশা১৩৮ বলেছেন: হয়তো বাঁ আমার দৃষ্টি ভঙ্গিতে ভুল আছে। কিন্তু এটাই আমার বাস্তবতা।

৩| ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:৫২

অন্য কথা বলেছেন: আপনাকে সরকারী চাকরী কে করতে বলছে ?

মেধাবী ছেলে-মেয়েরা এখন সরকারী চাকরী করে না। আপনার ভিতর প্রতিযোগিতা করে হেরে যাবার ভয় আছে বলেই সরকারী চাকরী করছেন। জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছেন। সরকারী অন্যান্য সুবিধাসহ ১৮,৬২৮ টাকায় জীবন চালানো সম্ভব । ১ বছরে বড়লোক হবার চেষ্টা করবেন না । অন্যের সাথে প্রতিযোগিতায় যাবেন না তাহলে সুখে থাকবেন।

সিএনজি বা অটো রিক্সায় শেয়ার করে উঠলে সম্মান যায় না। এটা আপনার মানসিকতার ব্যাপার। মসজিদে কুলি-মজুর-রিক্সা ওয়ালার সাথে নামাজ পড়লে কি সম্মান যায়? যদি না যায় তবে সিএনজি বা অটো রিক্সায় শেয়ার করে উঠলে সম্মান যাবে না । টাকা না, সম্মান আপনার জীবন-যাপনের কারনে আসবে। সৎ থাকুন, শোকরিয়া করুন । অনেক সৎ-মানুষ আপনার চেয়ে অনেক কম বেতনে সুখে আছেন । আশা করি ভালো থাকবেন । আল্লাহ্‌র উপর বিশ্বাস রেখে সৎ থাকুন। জীবন ভালো কাটবে ।

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১:২৭

কুয়াশা১৩৮ বলেছেন: আপনাকে সরকারী চাকরী কে করতে বলছে?-- ভাই আপনার এ কথাটির সাথে একমত হতে পারছি না। আর মেধাবিরা সরকারী চাকুরী করে না এটাও ঠিক না। বিসিএস এ দেশের সবচেয়ে মেধাবিরাই চান্স পায়। তবে তাও সত্যি অনেক মেধাবিই সরকারী চাকুরী পছন্দ করেন না কারন সল্প বেতন। আমি তো বলছি ভাল বেতন দিন মেধাবিরা আরও আসবে।

আর যারা লক্ষ লোকের পরীক্ষাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২০০০ হাজার জনের মধ্যে চান্স পায় তারা প্রতিযোগিতায় হেরে যাবার ভয় পায় না। আর চাকরীটা আমি না করলেও আমার মত আরেকজন করবেন। বাস্তবতা কি পালটাবে।

আপনি বলছেন সরকারী অন্যান্য সুবিধা সহ জীবন চালানো সম্ভব। ভাই অন্যান্য সুবিধা বলতে আপনি কি বুঝাচ্ছেন আমি বুঝতে পারছি না। কারন আমার সকল ভাতা সহ বেতন ১৮৬২৮ টাকা। আর কোন সুবিধা নাইরে ভাই যদি না আমি দুর্নীতি করি। এখানে এক বছরে কেউ বড় লোক হবার চেষ্টা করছে না। শধুমাত্র জীবন চালানোর কথা হচ্ছে।

মসজিদে কুলি-মজুর-রিক্সা ওয়ালার সাথে নামাজ পড়লে সন্মান যায় না। কারন এখানে এটাই নিয়ম। কেউ এক কাতারে দাড়িয়ে বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করতে পারবে না।
আর রাস্তায় যানবাহন চলাচলের ব্যাপারটা ভিন্ন। এখানে রিক্সা, অটো, প্রাইভেট কার, লোকাল বাস এরকম আরও অনেক কিছুই আছে। এগুলো চাইলেই সবাই ভোগ করতে পারে না। ব্যাপারটা আসলে আর্থিক সামরথের সাথে জড়িত। আর আমার হীনমন্যতার জন্য আসলে আমাদের সামাজিক বেবস্থাই দায়ী। সবার দৃষ্টি ভঙ্গি পালটালে হয়তো আমার ও খারাপ লাগতো না।

আর আপনার সুন্দর পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ।আল্লাহ্‌র উপর বিশ্বাস রেখে সৎ ভাবে জীবন যাপন করার চেষ্টা করছ।


৪| ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৩:১৪

পাজল্‌ড ডক বলেছেন: বেতন বাড়ানোয় মেধাবীরা অারো উতসাহিত হবে সরকারী চাকরীতে, বর্তমান স্কেলে সত্ ভাবে জীবন চালানো আসলেই কঠিন ।
মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে এটা নিয়ে কোন কনফিউশন থাকার কথা না, বাড়ী ভাড়া বাড়বে, জিনিস পত্রের দাম বাড়বে--এসব কতটুকু নিয়ন্ত্রণ করা যায় সেটা ভেবে দেখা দরকার ছিলো।

৫| ২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:২১

মামুন রশিদ বলেছেন: এটাও তো ঠিক, প্রতিবার পে স্কেল এর প্রভাবটা সরাসরি বাজারে প্রভাব ফেলে । আর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারির তুলনায় দেশের বাকি মানুষের সংখ্যাটা চিন্তা করুন! অল্প কিছু মানুষকে সুবিধা দিতে গিয়ে দেশের সিংহভাগ মানুষ এর বিরুপ প্রতিক্রিয়ার শিকার হয়, যাদের বেশিরভাগেরই ইনকাম আপনার বর্তমান ইনকামের একটা ক্ষুদ্র অংশ মাত্র!

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:৩৯

কুয়াশা১৩৮ বলেছেন: দেখুন মামুন ভাই আপনার কথার সাথে আমি একমত। কিন্তু একটা জিনিস খেয়াল করবেন পে স্কেল ঘোষণার সাথে সাথে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়। আর এটা করে সিন্ডিকেট বেবসায়িরা। কারন স্বাভাবিক ভাবে যে মুদ্রাস্ফীতি হবার কথা তা হচ্ছে বেতন হাতে পাবার পর তা খরচ করার মাধ্যমে। অর্থাৎ সরকারী কর্মচারীরা ১ মাস পর যখন বেতন হাতে পাবেন তার পর থেকে। কারন তখন ক্রয় ক্ষমতা বেড়ে যাবে। আর সেটাও এতো অধিক মাত্রায় হত না। সুতরাং মুদ্রাস্ফীতি রোধের জন্য দরকার সরকারের সদিচ্ছা। বাজার নিয়ন্ত্রন করা যাবে না দেখে বেতন বাড়ানো যাবে না এটাও তো সমর্থন যোগ্য না। আর এই উপ মহাদেশের অন্যান্য দেশের সরকারী কর্মচারীদের বেতন দেখুন। আমাদের চেয়ে অনেক বেশি।

৬| ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ৯:১৭

মহান অতন্দ্র বলেছেন: আমি সরকারী চাকরি করি না । তবে বেতন বাড়ানোর বিষয়টি পজিটিভ হিসেবে দেখছি । আমার মনে হয়েছে এতে "লোভে পড়ে পাপ" ব্যাপারটি কমে যাবে ।

অর্থনৈতিক ভাবে সরকারী কর্মকর্তারা স্বাবলম্বী হলে দুর্নীতি প্রবণতা কমে যাবে ।

৭| ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:০৪

অপূর্ণ রায়হান বলেছেন: বেতন বাড়ুক, সাথে বাজার ব্যাবস্থাও নিয়ন্ত্রিত হোক। ভালো থাকুক সবাই, এই কামনাই করি।

ভালো থাকবেন।।

৮| ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:২১

সোমহেপি বলেছেন: আজকাল ১৫০০০-২০০০০ হাজার টাকা রাস্তায় ডিম বিক্রি করেও আয় করা যায়। যারা আয় করেন অনেকেই এখন সরকারী চাকুরেদের চেয়ে বেশি টাকা আয় করেন। বেতন বাড়ালে দাম বেড়ে যাবে বলে বেতন আড়ানো যাবে না এটা একটা বাজে কথা। দাম যাতে ন্ বাড়তে পারে সেদিকে নজর দিতে হবে। প্রয়োজনে ৬ মাসে ক্রমান্বয়ে বাড়ান। বাজারে এর প্রভাব যাতে না পড়ে। দুর্নীতি কমানো যাদের কাজ বেতন বাড়ানোও তাদেরই কাজ। বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে ৩গুণ বেতন বেশি দিলেও সমস্যা নাই। সব সমস্যা হয় সরকারীদের বেলায়! আমার মনে হয় যারা বাড়ায় তারা ক্রেডিট নিতে গিয়ে বহুল প্রচার চায় বলেই দামটা বাড়ে। সবকিছুর মত এটা একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হলেই এত কাবজাব বন্ধ হবে।

৯| ১৭ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১০:৪৩

ট্যামটেমি বলেছেন: অন্য কথা বলেছেন: আপনাকে সরকারী চাকরী কে করতে বলছে ?

মেধাবী ছেলে-মেয়েরা এখন সরকারী চাকরী করে না। আপনার ভিতর প্রতিযোগিতা করে হেরে যাবার ভয় আছে বলেই সরকারী চাকরী করছেন। জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছেন। সরকারী অন্যান্য সুবিধাসহ ১৮,৬২৮ টাকায় জীবন চালানো সম্ভব । ১ বছরে বড়লোক হবার চেষ্টা করবেন না । অন্যের সাথে প্রতিযোগিতায় যাবেন না তাহলে সুখে থাকবেন।

হাঃ হাঃ হাঃ, আপনার প্রশ্ন শুনে মনে হচ্ছে, সরকারী চাকরী খোলাম কুচির মতো ছড়ানো ছিটানো থাকে, চাইলেই কুড়িয়ে নেয়া যায়! তাই প্রশ্ন করেছেন, "আপনাকে সরকারী চাকরী কে করতে বলেছে?" সরকারী চাকরী এতোটা হেলাখেলার বস্তু এ ধারণা আপনার কোত্থেকে হলো বলতে পারবো না। তবে আপনি যে সারাজীবন সাধনা করলেও একটা সরকারী চাকরী জোটাতে পারবেন না, সেটা বেশ বোঝা যাচ্ছে। কারণ প্রাইভেট চাকরী পাওয়া তুলনামূলকভাবে সোজা! (রাগ করবেন না, আসলেও তাই) আমার পরিবারের কম করে হলেও একডজন ছেলেমেয়ে অনেক চেষ্টা করেও সরকারী চাকরী না পেয়ে প্রাইভেট চাকুরী করে, তাই কথাটা বললাম, এটা বাস্তব অভিজ্ঞতা। আর প্রাইভেট চাকরীতে যা হয়, সেটা প্রতিযোগিতা নয়, কামড়াকামড়ি। হয় টিকে থাকো, নয় পাছায় লাথি, পরদিন থেকে আবার অফিসে অফিসে ধর্ণা, "আমার সিভিটা রেখে গেলাম, একটু দেখবেন" জাতিয় কাতড়ানি, চীনা জিনিসের মতো, টেকে কম। কিন্তু সরকারী চাকরী, সেটা পাওয়া যত কঠিন, যাওয়া তারচেয়েও কঠিন, জাপানী জিনিসের মতন, লাইফ গ্যারান্টি! যদি সে সৎ থাকে। সেজন্যেই যদি ক্যাপাবিলিটি থাকে, সরকারী চাকরী পাওয়ার চেষ্টাটা করা উচিৎ।

তবে কেন মেধাবীরা এরকম গ্যারান্টেড চাকরী না খুঁজে ওরকম কামড়াকামড়ির প্রাইভেট চাকরী হন্যে হয়ে খোঁজে? এখানেই তো কবি নীরব! কারণ সরকারী কর্মচারী কর্মকর্তাদেরকে সরকার তো মানুষই মনে করে না। অথচ তাদের কাছ থেকে সরকার যন্ত্র পরিচালনার সেবাটা চায় ষোল আনা! তাই বেতন দিতে চান না, দিতে চান ধমক! আজ দেশের যত দুর্নিতী সবের মূলে হলো প্রশাসন, এখানে পুলিশ থেকে শুরু করে সচিব, আমলা সবাই সরকার যন্ত্রের সেবক, মানে সরকারী কর্মচারী। অথচ এদের বেতন দেখুন, সংসারের নামক চাকাটাকে একটা মাস সচল রাখতে গলদঘর্ম হতে হয়। একজন ট্রাফিক পুলিশ সারাটা দিন যে সেবা দেন, তার বেতনের কথা শুনলে হাসি পায়, তো সে বেটা ঘুষ খাবে না তো কি বিষ খাবে?

পে কমিশনের সাথে সংশ্লিষ্টদের কাছে অনুরোধ, গত পে কমিশনগুলোর মতো গাধাকে মূলো দেখাবেন না, সত্যি যদি কিছু করার থাকে সেটুকু করুন। অহেতুক গাল গপ্পো মেরে দেশের আপামর জনতাদের কষ্টে ফেলবেন না। কারণ সরকারী কর্মচারীদের পে স্কেল দিলে বাজার বেড়ে যায়, এটা সবাই জানে। তাই এরকম প্রচারণা চালাবেন না।

আপনারা বেতন স্কেলের হিসেব কষে ঘোষণা দিচ্ছেণ, এতো পারসেন্ট বাড়ছে, এ কথা শুনে সাধারণ জনতা মনে করছে, হুঁ সত্যিই তো, সরকারী কর্মচারীদের বেতন ডবল হয়ে যাচ্ছে। আসলেও কি তাই হচ্ছে? যেমন আমার কথাই ধরুন, আমি একজন সরকারী কর্মচারী এবং বর্তমানে আমি ১০ম গ্রেডে আছি। বর্তমানে আমার মূল বেতন ১৩৬০০ টাকা। ১০ ম গ্রেডের স্কেল শুরু ৮০০০ টাকা থেকে। এখন এই ৮০০০ টাকাকে যদি ২০১৫ এর পে স্কেলে ডবল করে ১৬০০০ ও করা হয়, আমি কি ২৭২০০ টাকা পাবো? না কি ১৬,০০০? তাহলে কি আমার বেতন ডবল হলো? যদি সত্যিই বেতন ডবল হতো তাহলে ২০১৫ এর পে স্কেলের পর আমার মূল বেতন হওয়ার কথা ১৩৬০০+(২০% মহার্ঘ্য) ২৭২০ টাকা= ১৬৩২০ টাকার ডবল ৩২৬৪০ টাকা! কিন্তু আমার বেতন ১৭০০০ টাকাও হবে কিনা সন্দেহ। তাহলে যারা, বিশেস করে মিডিয়া এবং সংবাদপত্র, না জেনে না বুঝে সরকারী কর্মচারীদের বেতন ডবল হচ্ছে বলে চিৎকার করে গলা ফাটিয়ে বাজার উর্ধ্বকরণের জন্যে গলা ফাটাচ্ছেন, তারাই কি মূল দায়ী নন? হ্যাঁ, সত্যিকার অর্থেই নতুন পে কমিশনে বেতন ডবল হবে তাদের, যারা চাকরীতে নবীন। এদের সংখ্যা কত শতাংশ? একটু ভেবে দেখবেন কি?

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.