নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মিশু মিলন

মিশু মিলন

আমি বর্তমানে ইস্টিশন এবং সামহোয়্যার ইন ব্লগে লিখি। আমার সকল লেখা আমি এই দুটি ব্লগেই সংরক্ষণ করে রাখতে চাই। এই দুটি ব্লগের বাইরে অনলাইন পোর্টাল, লিটল ম্যাগাজিন এবং অন্য দু-একটি ব্লগে কিছু লেখা প্রকাশিত হলেও পরবর্তীতে কিছু কিছু লেখা আমি আবার সম্পাদনা করেছি। ফলে ইস্টিশন এবং সামহোয়্যার ইন ব্লগের লেখাই আমার চূড়ান্ত সম্পাদিত লেখা। এই দুটি ব্লগের বাইরে অন্যসব লেখা আমি প্রত্যাহার করছি। মিশু মিলন ঢাকা। ৯ এপ্রিল, ২০১৯।

মিশু মিলন › বিস্তারিত পোস্টঃ

পাঠকের প্রতি......

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:০৬

গত বছর এই সময়টায় আমরা তিন বন্ধু সান্ধ্যকালীন আড্ডা দিচ্ছি টি এস সি’তে। আমি, সৌরভ, স্বপ্না (ছদ্মনাম)। স্বপ্না সৌরভকে বললো, ‘আমাকে একটা বই কিনে দেবার কথা না তোর? চল মেলায় চল।’

ও একবার গো ধরলে আর ছাড়াছাড়ি নাই। অগত্যা তিনজনে মিলে মেলার দিকে হাঁটছি। স্বপ্না বললো, ‘অমুক বইটা কিনে দিবি।’

বইটা গায়ে-গতরে যেমনি ভারী তেমনি দামেও। কিন্তু ঐ গতরভারী-ই সই, আদতে ঢেপসি এ ব্যাপারে আমার কোন সন্দেহ নেই। আমি ভাবলাম এতোগুলো টাকা নষ্ট হবে, হোক না আরেক বন্ধুর টাকা। বললাম, ‘দোস্ত, তুই নিবি যেহেতু একটা ভাল বই নে।’

‘এইটা ভাল বই। রোজ-ই বিজ্ঞাপন দেয়।’

‘বিজ্ঞাপন দিলেই ভাল বই হয়! দোস্ত তুই টাকাটা নষ্ট করিস না। শওকত আলী, হাসান আজিজুল হক, হরিশংকর জলদাস, সেলিনা হোসনে, শাহীন আকতার এদের কারো বই নে।’

কয়েকটা বইয়ের নামও বললাম।

‘আমার দরকার নাই। আমি ঐটাই নেব।’

আমিও নাছোড়বান্দা, ‘তুই আমার কথামতো একটা বই নে। পড়ে যদি খারাপ লাগে, আমি তোকে ঐ বইটা কিনে দেব।’

‘তুই কেনগা যা। সবাই তোর মতো পাদের লেখক। নামই শুনি নাই কোনদিন!’

ও কপাল! আমি না হয় অখ্যাত পাদের লেখক,গু'র লেখক হতে পারি! তা বলে ওনারাও! ওনারা আমার কাছে একেকটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। আমায় ক্ষমা করবেন প্রিয় লেখকবৃন্দ।

ওর কথার শ্রীছাদ এমনই। আমরা কেউ মাইন্ড করি না। ওর কথা আর হাত আমাদের ওপর সমানতালে চলে। ওর হাজব্যান্ডের ওপরও! আমি বারবার পীড়াপীড়ি করেও কোন লাভ হলো না। ও ওটাই কিনলো। আর গর্বের সাথে বললো, ‘সেদিন ওমুকের অটোগ্রাফ সহ বই কিনেছি।’

সেই অমুক আরেক বিজ্ঞাপন সর্বস্ব তরুণ লেখক। সারা মাস জুড়ে চটকদার বিজ্ঞাপন দেন এবং তাতে তিনি সার্থক। আমার বন্ধুটির মতো আরো অনেককেই হয়তো সারাজীবনের মতো ফাঁদে আটকেছেন। মেলা থেকে বের হবার সময়ও স্বপ্না ঐ তরুণ লেখকের গাল ভরা প্রশংসা করছে। আমি দেখলাম মেলায় হাঁটছেন লেখক আহমাদ মোস্তফা কামাল। তাকে দেখিয়ে আমার দুই বন্ধুকে বললাম, ‘উনি ভাল লেখেন।’

আবারো স্বপ্নার একই কথা, ‘হ, তোর মতো পাদের লেখক। কেউ চেনেনা।’ আমি বুঝলাম, ওর রুচি একতারে বাঁধা পড়ে গেছে, হাজার বললেও উত্তরণ প্রায় অসম্ভব। আমার বন্ধুটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণীতে মাস্টার্স। নামী কোম্পানীতে স্বাস্থ্যকর বেতনে চাকরী করছে। আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনে মনে ভাবি, ভাগ্যিস আমি প্রথম শ্রেণী পাইনি!



এখন বিজ্ঞাপনই সব। বিজ্ঞপনই লেখক চেনার মাধ্যম, লেখা নয়। সবকিছু নষ্টদের হাতে যেতে কি আর কিছু বাকি আছে!



প্রিয় পাঠক, আপনার কষ্টের টাকায় কেনা বই কেনার আগে একটু ভেবে কিনুন। আমার বন্ধুটির মতো আবর্জনা কিনে বুক সেলফ ভরছেন না তো! ভবিষ্যতে যদি কখনও আপনার রুচি কিংবা চিন্তার গতি পাল্টায়, বাসা বদলের সময় এই আবর্জনা কিন্তু আপনাকেই টানতে হবে! নিজের বাড়ি হলেও জায়গা তো দখল করে!



*দোস্ত, তুই আমাকে বহুবার পাদের লেখক বলেছিস। আমি মাইন্ড করিনি।এই লেখাটা তোর চোখে পড়লে তুইও মাইন্ড করবি না আশা করি। আমাদের বন্ধুত্ব অটুট থাকবে নিশ্চয়। পাদের হলেও, লেখক-কবি তো সত্য কথা বলবেই।

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৪৫

বিদ্রোহী বাঙালি বলেছেন: লেখক যেমন লেখালেখির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে থাকেন, পাঠকও বই নির্বাচনের ব্যাপারে তার পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করবে এটাই স্বাভাবিক। তবে চটকদার বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট না হয়ে নিজের রুচি সম্মত বই কেনার পক্ষেই আমি মত প্রকাশ করছি। সেই বই প্রবীণ লেখকের হতে পারে, আবার নবীন লেখকেরও হতে পারে। প্রবীণ লেখকদের পাশাপাশি একটা হলেও নবীন লেখকের বই কেনা উচিৎ। কারণ নবীন লেখকরা যদি পাঠকখরায় ভুগেন, তাহলে তারা লেখালেখির ক্ষেত্রে উৎসাহ হারিয়ে ফেলতে পারেন। তাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠকদেরও একটা ভুমিকা রাখা উচিৎ। প্রয়োজনে যারা টুকটাক ব্লগিং করেন, তারা নূতন লেখকদের বইয়ের উপর রিভিউ লিখলে সেটা নবীন লেখকদের জন্য বিরাট সহায়ক হবে। সৃজনশীল নবীন লেখকরা সেটা থেকে নিজের ভুলত্রুটি শুধরে নিয়ে লেখার মান উন্নয়ন করতে পারবেন।

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ রাত ১০:২৬

মিশু মিলন বলেছেন: যারা চার-পাঁচ দশক ধরে লিখছেন, যারা আমাদের সাহিত্যের স্তম্ভ, তারাই আমাদের অধিকাংশ পাঠকের কাছে উপেক্ষিত আর নতুন লেখকের কথা তো বলাই বাহুল্য!

তবে মিডিয়ার দাক্ষিণ্য, বিজ্ঞাপন এবং তোষামোদির মাধ্যমে এক শ্রেণীর তরুণ লেখক পাঠকের কাছে পরিচিতি পাচ্ছে। যেন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। যেমনটি আমাদের আগের প্রজন্মের ক্ষেত্রে দেখেছি। প্রকৃত লেখকরা উপেক্ষিত থেকেছেন আর কলমবণিকরা দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। এখনও দেখি সেই একই ধারা বইছে। সম্প্রতি জীবনানন্দ দাশ পুরস্কার প্রদান তার বড় উদাহরণ ।

এটা বাস্তব সত্য আমাদের এখানে ভাল বইয়ের পাঠক কম। একজন ভাল পাঠক নবীন, প্রবীন দেখেন না, চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে আকৃষ্ট হন না। তিনি গুরুত্ব দেন বইটিকে। সেই পাঠকের বড্ড অভাব!

ধন্যবাদ প্রিয় বাঙালি নবীনদেরকে গুরুত্ব দিয়ে চমৎকার মন্তব্য করার জন্য। ভাল থাকুন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.