নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

চলছে চলবে

হাসান কালবৈশাখী

আমি দুর্বার, আমি ভেঙ্গে করি সব চুরমার। আমি কালবৈশাখীর ঝড়! আমার ফেসবুকইডি www.facebook.com/norwstorm

হাসান কালবৈশাখী › বিস্তারিত পোস্টঃ

টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে। এটা কি নতুন শুনলেন?

২০ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ২:৩৭



বাংলাদেশ থেকে এ জাবৎ নয় লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।
সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কিছুদিন আগে স্বীকার করেছেন যে এজাবৎ ৫ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে।
এছাড়া একটি আন্তর্জাতিক মনিটরিং সংস্থা Money Laundering - Financial Action Task Force (FATF) বছরখানেক আগের রিপোর্টে ৭৫ বিলিয়ন ডলারের মত পাচার হয়েছে বলা হয়েছিল। বাংলাদেশ থেকে।

টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে এটা কি নতুন শুনলেন?
স্মাগলার, ঘুশখোর, ব্যাঙ্কলোন নিয়ে ফেরত না দিয়ে, জমি দখলদার মাস্তান। এদের কালো টাকা। ধরা না পরলে কালোটাকার মালিকরা টাকা দিয়ে কি করবে? টাকার কব্বর বানিয়ে পুজো দিবে? নাকি নিরাপদ যাগায় রাখবে। যাদের বিদেশে একটা অবস্থান আছে বিদেশে পাঠাবে।

দেশে কি কালো টাকা নেই?
দেশে এমন সুদিন এখনো আসেনি যে অবৈধ টাকা থাকবে না, কালো টাকা থাকবে না।
তত্তাবধায়ক সরকারের আমলে একটা সুযোগ দেয়া হয়েছিল। সেই সুবিধা নিয়েছিলেন অনেক অবৈধ টাকার মালিক।
তৎকালিন অর্থমন্ত্রী সাইফুর, খালেদা জিয়া, হাসিনার দলের অনেক ব্যাবসায়ী নেতা কালো টাকা সাদা করেছেন।
অর্থাৎ রাজনিতিকদের, রাজনিতিক ব্যাবসায়ী ও দুর্নিতিবাজ আমলাদের কালটাকা থাকে। এটাই সত্য।

এরপর আছে মৌলবাদিদের ফান্ডিং, জঙ্গি ফান্ডিং, ভারতীয় জামাতিদের জন্য ফান্ডিং ভায়া মমতা দিদির জন্য ফাইনান্সিং তো রেগুলার চলছে, আইএসআই, উলফাদের অস্ত্র কিনতে ফান্ডিং ভায়া বাংলাদেশ। অনেক আগে থেকেই তো চলে আসছে, চলছে।

এখন আসেন যারা ভদ্র, বৈধ টাকার মালিক।
বাংলাদেশ থেকে বৈধ টাকা বৈধভাবে বিদেশে পাঠানোর ব্যাংকিং চ্যানেল নেই কোন আইন নাই।
অবৈধ টাকাও বিদেশে পাঠানোর কোন ব্যাংকিং চ্যানেল নেই উপায় নেই।
সুধু আমদানি করতে এলসির মাধ্যমে ব্যাঙ্ক টু ব্যাঙ্ক বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো যায়।

আপনি বিদেশ থেকে যত ইচ্ছা ডলার আনতে পারেন, বেশী পরিমান হলে কাষ্টমসকে ও ইমিগ্রাশনকে একটু জানাতে হয়। কেউ গুনেও দেখবে না। পকেটে করে আনেন, ব্যাঙ্কিং চ্যানেলে আনেন, ওয়েষ্টার্ন ইউনিয়নে .. ইত্যাদি যে ভাবেই হোক।
এয়ারপোর্ট বা ব্যাঙ্কে ডলারের সুত্র বৈধ না অবৈধ, কেউ কোন প্রশ্ন করবে না।

কিন্তু বৈধ ভাবে আপনি ৫ ডলার দামের একটি বই, বা ১ ডলার দামের কোন পন্যের দামও পাঠাতে পারবেন না।
ওয়েষ্টার্ন ইউনিয়নের বা যে কোন মাধ্যমে ১ ডলারও স্বজনদের বা বন্ধুদের গিফট পাঠাতে পারবেন না।
সুধুমাত্র বৈধ ভিসা ও কনফার্ম টিকেট থাকলে হাতখরচ হিসেবে অল্প কিছু ডলার/ইউরো, তাও পাসপোর্টে ব্যাঙ্ক মারফত এন্ডোর্স করে নিতে হবে।

অন্য সব দেশে এত কঠিন নিয়ম নেই, সুধু বাংলাদেশেই এই নিয়ম।

দ্রুত বাড়ন্ত উদিয়মান অর্থনীতির দেশেটির বাইরে দেড় কোটি প্রবাসী, বাড়ী গাড়ী কিনে স্থায়ী। লেনদেন কি হবে না?

হচ্ছে তো চোখের সামনেই।
আমার নিকটাত্নিয়, স্থায়ী আমেরিকা প্রবাসী। ঢাকার বাড়ী বিক্রি করলেন ৮ কোটি টাকায়। শর্ত ছিল টাকার একটি অংশ পেমেন্ট হবে আমেরিকায়ই।
মনিটরদের দৃষ্টিতে ইহা নিশ্চিতই পাচার। কিন্তু কিছু বললে বলবে - "আমার টা আমি নিছি, টাকা কি তর বাপের"?

ব্যাবসায়ীরা কি সব পেমেন্ট এলসি বাদে অন্যভাবে পে করবে না?

ব্রীফকেস ব্যাবসায়ীদের কথা বাদ দিলাম।
বার্মার সাথে মাছ, পিয়াজ-রসুন আমদানি বেশিরভাগই নন ব্যাঙ্কিং চ্যানেল। বাট বৈধ ব্যাবসা। কিন্তু আন্তর্জাতিক মনিটরদের কাছে এটা পাচার হিসেবেই গন্য হবে। হচ্ছে।

বড় গার্মেন্টস কাঁচামাল ইমপোর্টের ক্ষেত্রে ওভার ইনভয়েসিং রফতানির সময় আন্ডার ইনভয়েসিং
আপনি বিদেশ থেকে ১০০ কোটি টাকার জিনিস কিনবেন বলে ইনভয়েস করলেন। আসলে আপনি কিনলেন ২০ কোটি টাকার জিনিস।
কারন আপনার জরুরি ৮০ কোটি টাকা বাইরে দরকার, নিজস্য চ্যানেলে চাইনিজ মোবাইলের লট আনবেন।
আপনারই টাকা, কিন্তু এই ৮০ কোটি টাকা পাচার হসেবে গন্য হলো।

বৈধ ব্যাবস্থা না থাকলে মানুষ বিকল্প খুজবেই।
আরো ব্যাবস্থা আছে।
গার্মেন্টস বা অন্যান্ন এক্সপোর্টের ক্ষেত্রে মেলা সুযোগ আন্ডার ইনভয়েসিং:
শশুর আমেরিকায়। টাকা দরকার বাড়ি কেনার ডাউনপেমেন্ট দিবে
আপনার ৫০ লাখ টাকার জিনিস রপ্তানি করার কথা। কিন্তু আপনি নয়ছয় করে ২০ লাখ টাকার ইনভয়েস দেখালেন। আর মাল পাঠালেন ৫০ লাখ টাকার। দেশ থেকে মাল গেল ৫০ লাখ টাকার। দেশে ঢুকলো ২০ লাখ টাকা। বিদেশে থেকে গেল কত? মাত্র ৩০ লাখ টাকা। আপনারই বৈধ ডলার শশুরকে ধার দিলেন। আপনারই বৈধ ডলার, কিন্তু পাচার হিসেবে গন্য।

এর উলটোটাও আছে।
আপনি বিদেশ থেকে মাল কিনলেন। দেশের একাউন্টে টাকা কম, তাই বিদেশে পেমেন্ট করলেন বিদেশ সোর্স থেকে। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হলো না, কিন্তু মাল আসলো টাকা আপনার মালও আপনার। দেশের লাভ। তবু আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং মনিটরদের কাছে এটা পাচার।

আবার দেশে হুন্ডির মাধ্যমে পরিশোধ করে বিদেশে মাল পাঠিয়ে দিলেন। হুন্ডির মাধ্যমে আপনি ডলারের বদলে টাকা পেলেন পরিশোধিত টাকার অংক রাষ্ট্র জানে না। এটা অবস্য বৈধ ভাবেই আনা যেত, তবে ডলারের রেট একটু কম পাওয়া যেত। অল্পকিছু বেশি টাকার আসায় কাজটা করলেন।
কাজটা এমনভাবে করলেন যে, বাংলাদেশ ব্যাংক আপনার কিছুই টের পেল না। কামের কাম কী হলো? দেশে রেমিট্যান্স ঢুকলো না। কিন্তু দেশি টাকায় (হুন্ডি) পরিশোধ হলো।

২০/৩০ লাখ স্টুডেন্ট দেশের বাইরে পড়ালেখা করে। ১ দেড় কোটি বাংলাদেশী দেশের বাইরে থাকে, অনেকেরই বাড়িগাড়ী আছে।
তারা কি করবে? কিভাবে তাদের বৈধ টাকা বিদেশে নিবে? বিশাল অংকের টিউশন ফি কে দেবে?

যেহেতু বাংলাদেশ থেকে বৈধ টাকা বৈধভাবে বিদেশে পাঠানোর কোন আইন নেই। তাই সবাই ভিন্ন চ্যানেলে (হুন্ডি), নিজস্য লোকদের চ্যানেলে ডলার পাঠাচ্ছে।
নৈতিক ভাবে এসব বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো বৈধ হলেও আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং মনিটরদের চোখে ইহা সবটাই 'টাকা পাচার' হিসেবে গন্য হচ্ছে।
পাসপোর্টে এন্ডোর্স করা ডলার/ইউরো বাদে পাঠানো সব ডলারই অবৈধ পাচার হিসেবে গন্য হচ্ছে।
তাই পাচারকৃত টাকার অংক বিশাল।

পাচার প্রাপ্ত ইউওরোপ আমেরিকার মত তথাকথিত উন্নত দেশগুলো চাইলেই বড় অংকের পাচার সম্পুর্ন বন্ধ করা সম্ভব।
উন্নত দেশগুলোতে নিজ দেশে কঠিন মানি লন্ডারিং আইনের কারনে ওভার ইনভয়েসের মাধ্যমে অভ্যন্তরিন হস্তান্তর অসম্ভব।
কিন্তু অজ্ঞাত কারনে বিদেশথেকে আগত ওভার ইনভয়েসের মাধ্যমে আগত টাকার ব্যাপারে ওনাদের আইন একচক্ষু বন্ধ।

দেশে টাকা রেমিটেন্স আসার আইন আছে, পাঠানোর আইন নেই। তাই যাই পাঠাবেন সবই পাচার হিসেবে গন্য আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং তদারকি সংস্থার চোখে।

তাই এত উতলা না হয়ে আপনি পারলে ঘুষখোর স্মাগলার হুন্ডি ব্যাবসায়ীদের ধরিয়ে দিন, জঙ্গি ফান্ডিং দাতা চিহ্নিত করুন। অবৈধ টাকার মালিকদের চিহ্নিত করুন। দুদকের চ্যানেলে, ৯৯৯ ফোনে, কাউন্টার টেররিজম এপের মাধ্যমে বা যে কোন মাধ্যমে জানান।

অযথা "হায় আল্লা কোন দেশে আছি! দেশের সব টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে, দেশের সব শেষ হয়ে গেল! .. .. আমাদের কি হবে? হায় আল্লাহ" বলে চ্যাঁচালে কোন লাভ হবে না।

মন্তব্য ২৮ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (২৮) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৩:০১

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:




হাসান কালবৈশাখী ভাই, আজ এই মাত্র শুনলাম আপনার লেখা পড়ে জানলাম মাত্র !!!
আর ডক্টর ইউনুস সাহেব তার নোবেল পুরস্কারের টাকা ঢাকা মেডিকেল কলেজে দান করবেন কি? একজন ব্যাংকার মানুষ অর্থনীতি রেখে শান্তিতে নোবেল পেয়ে বিতর্কিত হয়েছেন এটি বোঝার জন্য ক্লিনটন আর হিলারী ক্লিনটনের কাছে যেতে হবে? প্রিয়া সাহা আপনি কোথায়? একটি বাস, অথবা একটি টেম্পু অথবা একটা রিক্সা নিয়ে এয়ারপোর্টে চলে আসুন !!!

বাংলাদেশের ভাগ্য ভালো হিলারী ক্লিনটন পাশ করেন নি, নয়তো বুঝতে পারতেন ডঃ ইউনুস সাহেব বাংলাদেশকে কি কি ভাবে ক্ষতি করতেন - অজানাই রয়ে গেলো।

ডঃ ইউনুস সাহেব গ্রামীন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা এটি জানতাম কিন্তু তিনি যে বাংলাদেশের গদীনশীন কামেল পীর এটি জানতাম না! তার ভক্ত আশেক মুরিদান অনেক। আরামবাগ গিয়ে দেওয়ানবাগ নিয়ে যেমন তেমন কথা বলে কেউ আস্ত আসতে পারবেন না ঠিক তেমনি ডঃ ইউনুস নিয়ে কথা বলে ব্লগে কেউ আস্ত থাকবেন না।

ডঃ ইউনুস সাহেবের নোবেলে সমস্যা না! - সমস্যা ডঃ ইউনুস সাহেবের ঘিলুতে। তিনি দুর্নীতি করে মহান হয়েছেন। মহান হওয়ার সংজ্ঞা পাল্টে গেছে জনাব ডঃ ইউনুস সাহেব।

২১ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ২:০৬

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
ভাগ্য ভালো হিলারী ক্লিনটন পাশ করেন নি, নয়তো বুঝতে পারতেন ডঃ ইউনুস সাহেব বাংলাদেশকে কি কি ভাবে ক্ষতি করতেন - অজানাই রয়ে গেলো।

হিলারী পাস করলে বাংলাদেশের অবস্থা ভেনুজুয়েলার মত অবস্থা হত।
৪-৫ বছর আগেও ভেনিজুয়েলা ধনী দেশের কাতারে ছিল। তেল সম্পদের পরিমান সৌদিয়ারবের চেয়ে বেশী ছিল। এখন দেউলিয়া অথর্ব রাষ্ট্র। মানুষ আসেপাশের দেশে চলে যাচ্ছে।
ভেনিজুয়েলাতে এখন ১ কেজি টমেটু কিনতে এক সুটকেস বোঝাই টাকা লাগে।

বাস্তবতা হছে ড. ইউনুস হাসিনার ক্ষতি করে যেয়ে বাংলাদেশের দুটো বড় ক্ষতি করেছেন।
১। পদ্মাসেতুর বিশ্বব্যাঙ্ক লোন বন্ধ করেছেন।
২। বাংলাদেশী এক্সপোর্টারদের GSP সুবিধা বাতিল করিয়েছেন।

সবকিছু প্রমান করা যাবে না তবে পদ্মাসেতুর লোন বন্ধ করার প্রমান উইকিলিক্স ও হিলারির ফাসকৃত ইমেইল থেকে সহজেই প্রমান করা যায়।


ডঃ ই্উনুস সাহেব শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। বাংলাদেশ কে গর্বিত করেছেন। ভাল কথা

কিন্তু উনি শান্তির জন্য কি করেছে বুঝে আসে না।
নোবেল পুরস্কার পাওয়ার সময়টায় শান্তির জন্য কি করেছেন?
২০০১ এর পর একটা সময় একটানা বিএনপি-জামাতের লেজুড়বৃত্তি করে গেছেন। পরে তত্তাবধায়কের সময়ও সেই সামরিক সরকারকে বিএনপি-জামাতের দিকে ডাইভার্ট চেষ্টা করে গেছেন। পরে তত্তাবধায়ক সামরিক মদদে নিজেই একটা রাজনৈতিক দল 'প্রিন্স পার্টি' করে সামরিক সরকারের ব্যাকিংএ বছরব্যাপি দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। ব্যার্থ হয়ে এরপর লাপাত্তা।

উনি অর্থনীতিতে নোবেল পেলে আমার আপত্তি ছিলনা, ক্ষুদ্রঋন দেশের দারিদ্র বিমোচনে ভুমিকা রাখে।
যদিও ওনার ক্ষুদ্র ঋন ব্যাবস্থাপনা নিয়ে আমার আপত্তি আছে।

গ্রামিন ব্যাঙ্কের জন্য দেন দরবার করে বিদেশ থেকে বড় বড় ডোনেশন এনে বা ১% সুদে বিদেশী ঋন এনে গ্রামিন মহিলাদের লোন দিয়ে প্রতি মাসে কিস্তি আদায় ৩১% সুদ খাটানো (যেখানে আমেরিকায় বাড়ী গাড়ী কিনতে ৪-৫% সুদ, প্রথম দুই বছর ০ ইন্টারেষ্ট, সুদ বিহীন কিস্তি বিহীন)
গ্রামিন ব্যাঙ্কের এজেন্টরা কিস্তি আদায়ে ব্যার্থ হলে গরু ছাগল বাজেযাপ্ত করে ঘর থেকে টিন খুলে নিয়ে যাওয়া

গ্রামীন ফোন পল্লিফোন দরিদ্র মহিলাদের কাছে ৫০ টাকার সিম ২০,০০০ টাকায় গ্রামীন পল্লি ফোনের জন্য সিম বিক্রি ও ৩১%
চক্রবৃদ্ধি সুদে কিস্তি আদায়।
এসব কোনটাই দারিদ্রবিমোচনের জন্য, শান্তির জন্য অর্থনীতির জন্য বা নোবেল পাওয়ার জন্য ভাল উদাহরন না।

২১ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ২:২৭

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
ওনার গ্রামীন ফোন কেড়ে নেয়া হয়েছে!


অনেকেই এই ভুলটা করেন।

ওনার গ্রামীন ব্যাঙ্ক সরকার কেড়ে নেয় নি।
ওনাকে শুধু গ্রামীন ব্যাঙ্ক এমডি পদ থেকে অপসারন করা হয়েছে বয়েসের কারন দেখিয়ে।
ব্রীটিশ আমলের কম্পানী আইনে ব্যাঙ্ক এমডির বয়স লিমিট আছে ৬৫।
উনি ড. কামালের মত বাঘা বাঘা আইনজীবি নিয়ে আদালতে গেছিলেন, সুপ্রিম কোর্ট আপিলেট ডিভিশনের সিনহা সাহেবও কিছু করতে পারে নি। কারন কম্পানী আইন।

এমডি পদ না থাকলেও ওনার গ্রামীন ব্যাঙ্ক আগের মতই আছে। ব্যাঙ্কের ওনার বড় একটি অংশের মালিকানা অটুট আছে। একাউন্টের টাকা ইত্যাদি সবই ঠিক আছে
গ্রামিন ফোনের ৩৫% মালিকানা,( বাকি ৬৫% অংশ টেলিনোরের) অন্যান্ন (টেক্সটাইল, সৌর বিদ্যুৎ, টাওয়ার নির্মান, ইত্যাদি) সকল প্রতিষ্ঠানের মালিকানা এখনো বজায় আছে। ব্যাবসা বাড়ছে।

২| ২০ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৩:১৬

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন: বাংলাদেশে যখন যেই সরকার ক্ষমতায় থাকেন তিনি তার সাংসদ ও তার পরিবার পরিজন, তার সান্ডা পান্ডা, কমিশনার চেয়ারম্যান মেম্বার, সরকারী কর্মজীবি, ব্যাবসায়ী সহ ছাত্রছাত্রী সবাই টাকা হুন্ডি করেন, কে নন?

২১ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৩:০৯

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
ধন্যবাদ ঠাকুরমাহমুদ ভাই।
আমি সেটাই পোষ্টে বলতে চেয়েছি।


সাংসদ ও তার পরিবার পরিজন, তার সান্ডা পান্ডা, কমিশনার চেয়ারম্যান মেম্বার, সরকারী চাকুরে, এরা সবাই দুর্নিতি করে যাচ্ছে। সবচেয়ে দুর্নিতিবাজ সরকারি আমলারা, হাসপাতাল ডিজিরা, মন্ত্রনালয়ের কর্তারা, চামচারাও ভাগ পাচ্ছে।
এদের উপদেশ দেয়া আর অরন্যে রোদন সেইম।

সত্যিকারের দুর্নিতি বন্ধ করতে হলে বড় যাগায় হাত দিতে হবে। বাংলাদেশের সকল দুর্নিতির হোতা আমলারা।
ডিসি টিএনো উপসচিব যুগ্ন সচিব ডিজি কত বাহারি বাহারি নাম .. দুএকটা চুনোপুটি ধরেও লাভ হবে না।

ফ্রান্স, ইরান, কিউবা, ভিয়েতনামের মত ভাল মন্দ সকল আমলা (উচ্চপদস্থ ক্যাডার) ও উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্তাদের সবাইকে ১ দিনের নোটিসে বর্খাস্ত করতে হবে। সরকারি আমলা ছাড়া দেশ ৬ মাস চলতে পারে এটা বহু দেশে প্রমানিত হয়েছে।

আমেরিকায় ফেডারেল ও স্টেট আমলাদের মেয়াদ ৪ বছর, আমলারা বাসা থেকে যাওয়া আসার কোন গাড়ী পায়না, পিয়ন ড্রাইভারও পায় না। পাবলিক ট্রান্সপোর্টে বা নিজের কেনা গাড়ি নিজেই চালিয়ে আসে, গাড়ীর তেল নিজেই ভরে। অফিসের কাজে কোথাও গেলে যাতায়াত ভাতা পায়, ৪ বছর পর অটো বর্খাস্ত।
সিস্টেম অনুযায়ী নবনির্বাচিত সরকার আসার আগেই পরিক্ষা দিয়ে পাস করা ওয়েটিং একটি প্যানেল থেকে বাছাই করে আমলা নিয়োগ করে, বাছাই করে নবনির্বাচিত রাজনৈতিক নেতা রা।

বাংলাদেশেও উচ্চপদে সরকারি কর্তাদের চাকুরি স্থায়ী হওয়া উচিত নয়।
দেশে উচ্চশিক্ষিত তরুন কাজ জানা যোগ্য লোকের কোন অভাব নেই।
নতুনভাবে বিসিএস পরিক্ষার মাধ্যমে মেধাবী তরুন-তরুনিদের বাছাই করে দক্ষ ক্যাডার নিয়ে খালি পদ পুরোন করতে হবে।
এই উচ্চপদে বিসিএস আমলাদের চাকুরির মেয়াদ হবে ৫ বছর,
এর মাঝে নতুন নিয়গ পাওয়া এই বিসিএস আমলাদের দুর্নিতির অভিযোগ পাওয়া মাত্র বর্খাস্ত হয়ে প্যানেল থেকে আরেকজন আসবে। তরে তদন্তে নির্দোষ প্রমানিত হলে প্যানেলে ওয়েটিংএ থাকবে। প্যানেলে থাকে সবাইকে একটা ভাতা দেয়া যেতে পারে।
৫ বছর পর মেয়াদ শেষে অটো বর্খাস্ত হবে। পুরোনো আমলারা নতুনদের সাথে পরিক্ষা দিয়ে আসতে হবে।
এভাবে একটা সিষ্টেম থাকলে বালিশ দুর্নিতির মত ডাকাতি বন্ধ হবে।

হাসিনার বয়স হয়ে গেছে, এখন সাহস করে একটা বড় একটা ডিসিশন নেয়া উচিত।

৩| ২০ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫:২০

বিচার মানি তালগাছ আমার বলেছেন: আমি যখন দেশে থাকতে কম্পিউটার এক্সেসরিজ আমদানীর ব্যবসা করতাম তখন আমার বন্ধু চায়নাতে পেমেন্ট করত দুবাই'র বন্ধুদের মাধ্যমে...

২২ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ২:০৯

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
ঠিক বলেছেন। এমনটা এখনো অনেকে করছে।

৪| ২০ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫:৫৩

চাঁদগাজী বলেছেন:



আপনি শুনেছেন যে, মুহিত ৫ লাখ কোটীর বেশী টাকা পাচারের কথা বলেছিলো; টাকা পাচার বন্ধের জন্য কি কি পদক্ষেপ মুহিত নিয়েছিলো বলে আপনি শুনেছেন ?

২৭ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১২:০২

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
মুহিত একটা ইডিয়েট মাল।
মুহিত ৫ লাখ কোটীর বেশী টাকা পাচারের কথা বলেছিলো। কিন্তু কেমনে কি কিছুই জানে না। টাকা পাচার বন্ধের জন্য কি বলার আছে।

ঋনখেলাপি, রিজার্ভ লুট, টাকা বিদেশে পাচারের দায় ঢালাও ভাবে আওয়ামী সরকারের উপর দোষ দেয়াটা অন্যায়।
ঋনখেলাপি, মুলত এরা সবাই ব্যাবসায়ী, এদের কিছু আওয়ামীলীগের সদস্য থাকলেও এরা মুলত ব্যাবসায়ী।
এরা অনেকেই গ্রেফতার, বা দুদকের মামলার আওতায় আছে।

রিজার্ভ লুট আওয়ামী সরকার করেনি। আওয়ামী সরকারের কেউ লাভবান হয় নি। FBI তদন্ত রিপোর্টে উঃ কোরিয়ার এক হ্যাকার ভায়া ফিলিপিনো ব্যাঙ্ক করেছে বলা হয়েছে। একটি মামলাও চলমান।

টাকা বিদেশে পাচারের টাকা কিভাবে পাচার হচ্ছে, টাকার অংক এত বিশাল কেন? এটা আমার পোষ্টেই বিস্তারিত বলেছি।

৫| ২০ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ৮:১২

ঢাবিয়ান বলেছেন: কেন বাংলাদেশ থেকে বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানোর আইন নাই? কারন এই দেশে মুদ্রা পাচারকারী স্মালালাররাই বরাবর ক্ষমতায় গেছে। এরশাদ , খালেদা, হাসিনা সবাই একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। এদের সবার উদ্দেশ্যই হচ্ছে দেশীয় সম্পদ লুটপাঠ করে বিদেশে টাকা পাচার করা। এই কারনেই ব্যাংকিং সেক্টরকে উন্নত করা হয় নাই এবং অবৈধ হুন্ডি প্রক্রিয়া চালু করে সেই মারফত বিদেশে টাকা পাচার অতীতেও হয়েছে ,এখনও হচ্ছে।

ব্যবসা বা বিদেশে পড়াশোনার করার টাকাও অবৈধ হুন্ডি পথে পাঠানো ছাড়া উপায় নাই। তবে সেই টাকা যদি পাচারের মধ্যে পড়েও তবে তার দায়ও অবস্যই দেশের সরকারের।

২১ শে অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ১০:৪৩

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
বাংলাদেশ থেকে বৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানোর আইন নাই?

হ্যা। বছর দেড়েক আগে একটা আইন দেখেছিলাম, বিদেশে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় ভর্তি ফি দেয়ার একটা ব্যাবস্থা করা হয়েছিল। ব্যাঙ্ক মারফত। তবে আজস্র ডকুমেন্ট জমা দেয়ার ঝামেলায় এরপর আর জনপ্রীয় হয়নি। তেমন প্রচারও দেখিনা।
তবে রেগুলার টিউশন ফি দেয়ার কোন ব্যাবস্থা নেই। হাত খরচ পাঠানোর ব্যাবস্থার তো প্রশ্নই আসে না।

তবে ব্যাঙ্কিং সেক্টর যথেষ্ট পরিবর্তন হয়েছে। সম্পুর্ন ডিজিটাল হয়ে আমুল সংস্কার হয়েছে। বিশ্বমানের বলা যায়।

যে কোন বড় এমাউন্ট ট্রান্সফার অটো ভাবে বাংলাদেশ ব্যাঙ্কে ভেরিফাই হওয়ার পর ছাড় হচ্ছে। মানি লন্ডারিং ইনটেলিজেন্স, জবাবদিহিতা বেড়েছে, ব্যাড লোন দেয়া হলে , বা হলমার্কের মত ভুয়া এলসির মাধ্যমে আত্নসাত হওয়ার আগেই অটো ভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক জানতে পেরে থামিয়ে দিচ্ছে। সফটওয়েআর থামিয়ে দিচ্ছে।
তবে এটিএম গুলো সেই হারে সংস্কার হচ্ছে না। হয়তো দিন দিন ক্যাশটাকার ব্যাবহার কমে আসছে ভেবে, বা অন্যকিছু।

৬| ২০ শে অক্টোবর, ২০১৯ রাত ১০:১৩

রাজীব নুর বলেছেন: বিশ্বাস করুন ভাই, আমি একটাও বিদেশে পাচার করি নাই।
এমন কি দেশের কোনো ব্যাংকেও আমার টাকা পয়সা নাই।

২৩ শে অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ৭:৪২

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
একদম পাচার করেন নি, কেমনে বলি?
পরি কে অষ্ট্রেলিয়া পাঠাইছেন, এন্ডোর্সড এর বাইরেও কিছু ডলার দিছেন।
আর বইনেরে কইছেন আসার সময় একটা এইচপি ল্যাপটপ আনতে। এইডা তো পাচারের সামিল।

৭| ২১ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৪:০৬

আখেনাটেন বলেছেন: ‘টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে? এটা কি নতুন শুনলেন?’-- কথাটির দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যারা বিদেশে অর্থ পাচার নিয়ে সমালোচনা করছেন তাদেরকে সুক্ষভাবে তিরস্কার করলেন লেখক? পক্ষান্তরে অর্থ পাচারকারীদের হাল্কার উপর ঝাপসা ক্লিনচিট দিলে দিলেন কি? কেন? কেন? বড়ই রহস্যময় মানব চরিত্র।

এই ভুলে ভরা ও মিথ্যা তথ্যে সয়লাব লেখাটিকেও দেখছি মাননীয় মডু নির্বাচিত পাতায় স্থান দিয়েছেন।

ভুলগুলো খুঁজে দেখিঃ

১। লেখক লিখেছেন,’বাংলাদেশ থেকে বৈধ টাকা বৈধভাবে বিদেশে পাঠানোর ব্যাংকিং চ্যানেল নেই কোন আইন নাই।’-- মিথ্যা তথ্য। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্পষ্ট করে বলে দেওয়া আছে কীভাবে বৈধভাবে টাকা বিদেশে নেওয়া যাবে সীমিত পরিসরে।
আবার লেখক লিখেছেন, ‘অবৈধ টাকাও বিদেশে পাঠানোর কোন ব্যাংকিং চ্যানেল নেই উপায় নেই’- অদ্ভুত কথা। অবৈধ টাকাই তো অবৈধ। এটি কীভাবে লিগাল্ভাবে বিদেশে পাঠানো যাবে। তারমানে লেখক কি চাচ্ছেন যে এ দেশের কালো টাকার মালিকেরা কাড়ি কাড়ি কালো টাকা বৈধভাবে বিদেশে নিয়ে যাক। এ সুযোগ দিলে তো এক বছরের মধ্যে দেশের বারোটা...।

২। “সুধু আমদানি করতে এলসির মাধ্যমে ব্যাঙ্ক টু ব্যাঙ্ক বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো যায়”--ভুল। তাহলে বিডাই নথিভুক্ত যে বিদেশীরা এদেশে চাকরী করছে তারা কীভাবে টাকা তাদের দেশে রেমিটেন্স হিসেবে নিয়ে যায়? কথা হচ্ছে সেজন্যও বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নীতিমালা রয়েছে, যেটা লেখক অজ্ঞতাপ্রসূত কিংবা প্রপাগন্ডাবশত জানেন না কিংবা জানাতে চান না। এছাড়া শর্তসাপেক্ষে ইদানিং বিদেশেও বৈধভাবে বিনিয়োগের সুযোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ। যেমন, ডিবিএল গ্রুপের ইথিওপিয়াই বিনিয়োগ।

৩। “আপনি বিদেশ থেকে যত ইচ্ছা ডলার আনতে পারেন, বেশী পরিমান হলে কাষ্টমসকে ও ইমিগ্রাশনকে একটু জানাতে হয়।”-- এখানে “একটু” বলে লেখক বিদেশ থেকে ডলার আনার ব্যাপারটাকে হাল্কাভাবে দেখাতে চেয়েছেন। কিন্তু ব্যাপারটি মোটেও এত হাল্কা নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা রয়েছে। নিবাসী বাংলাদেশী হিসেবে বিদেশ থেকে ৫০০০ ডলারের বেশি অর্থ আনলে বাধ্যতামূলকভাবে তা কাস্টমসকে জানাতে হবে এবং এক মাসের মধ্যে সে অর্থ টাকাতে রূপান্তরের জন্য ডিলার/ব্যাংক ইত্যাদির মাধ্যমে করা বাধ্যতামূলক।

৪। “কিন্তু বৈধ ভাবে আপনি ৫ ডলার দামের একটি বই, বা ১ ডলার দামের কোন পন্যের দামও পাঠাতে পারবেন না।“ -- মিথ্যা তথ্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যক্তি পর্যায়ে বিদেশে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট করে বলা আছে বিদেশের সাইটে অনলাইন কেনাকাটা ইত্যাদির জন্য অনধিক ৩০০ ডলার পর্যন্ত ব্যয় করা যায় আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে।

৫। “সুধুমাত্র বৈধ ভিসা ও কনফার্ম টিকেট থাকলে হাতখরচ হিসেবে অল্প কিছু ডলার/ইউরো, তাও পাসপোর্টে ব্যাঙ্ক মারফত এন্ডোর্স করে নিতে হবে।” -- মিথ্যা তথ্য। যদিও এই অল্প কিছু মানে ১২,০০০ হাজার ডলার। এছাড়াও শর্তসাপেক্ষে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালার আওতায় নানাভাবেই বৈধভাবে অর্থ পাঠানো যায়। যেমন, অনলাইন কেনাকাটা, বিভিন্ন ফি ইত্যাদি।

৬। “অন্য সব দেশে এত কঠিন নিয়ম নেই, সুধু বাংলাদেশেই এই নিয়ম।” -- প্রপাগণ্ডা। মিথ্যা তথ্য। বিশবের অনেক দেশেই, বিশেষ করে তৃতীয় বিশবের দারিদ্র পীড়িত দেশগুলো থেকে অর্থ পাঠানোতে কড়াকান্তি রয়েছে। পাশের ভারত-পাকিস্তানেও কঠোর নিয়ম রয়েছে। ফলে দুর্নীতিগ্রস্ত এ দেশগুলো থেকে অবৈধভাবে অর্থ পাচারের হার বেশি।

৭। “২০/৩০ লাখ স্টুডেন্ট দেশের বাইরে পড়ালেখা করে।” -- মন গড়া তথ্য। লেখক সোর্স দিয়ে উপকৃত করুন।

৮। “দেশে টাকা রেমিটেন্স আসার আইন আছে, পাঠানোর আইন নেই। তাই যাই পাঠাবেন সবই পাচার হিসেবে গন্য আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং তদারকি সংস্থার চোখে।”--ডাহা মিথ্যা তথ্য। সীমিত পরিমাণে হলেও নানা উপায়ে বৈধভাবে টাকা বিদেশে প্রেরণ করা যায় যা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে।

৯। “বিশাল অংকের টিউশন ফি কে দেবে?” -- টিউশন ফি পাঠানোর জন্যও নীতিমালা আছে। স্টুডেন্ট ফাইল খুলে টাকা পাঠানো, ভার্চুয়াল কার্ডের মাধ্যমে টাকা পাঠানো ইত্যাদি। লেখক নিজেও নিজের লেখাতে ও প্রতিমন্তব্যে দুই রকম তথ্য প্রদান করছেন।

মোদ্দাকথা, লেখক নানাভাবে ইনিয়ে বিনিয়ে বুঝাতে চেয়েছেন যে দেশ থেকে বৈধভাবে কিংবা অবৈধভাবে উপার্জিত টাকা যেন দেশের বাইরে সহজেই স্থানান্তর করা যায়। অথচ এই সুযোগ দেওয়া হলে বাংলাদেশের মতো একটি সর্বোচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশে ফাইন্যান্সিয়াল খাতে কী পরিমাণ অরাজকতা হতে পারে তা মনে হয় লেখক বিদেশের মাটিতে বসে থেকে অনুধাবন করতে পারছেন না। হাজারো হলেও ‘সাচ্চা দেশপ্রেমিক’ বলে কথা।

২৩ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৩:০২

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
ভাই আপনে খুব মাথা গরম, সিরিয়াস হয়ে গেছেন।
আমি পোষ্টে দেশের মানি লন্ডারিং, মুদ্রা পাচার, বাংলাদেশের রক্ষণশীল বৈদেশিক মুদ্রানীতি নিয়ে একটা সার্বিক আলোচনা করার চেষ্টা করেছি।
যেহেতু এই বিষয়টি নিয়ে কেউ লিখছে না, আর আমি নিজেই ভুক্তভোগি তাই আমার নিজের জ্ঞ্যানে যতটুকু পেরেছি লিখলাম।
আমার লেখাটি কোন গাইডবুক না, হ্যান্ডবুকও না। লেখায় অসম্পুর্নতা থাকতে পারে অপ্রয়জনীয় বাহুল্য থাকতে পারে, কিছু তথ্য মিসিং হতেই পারে,
তাই বলে - ডাহা মিথ্যা ... প্রপাগন্ডাবশত .. ভুলে ভরা ও মিথ্যা তথ্যে সয়লাব ... প্রপাগণ্ডা .. ইত্যাদি বাজে কথা বলাটা দুর্ভাগ্যজনক।

বাহুল্য অতিরঞ্জন তো আপনিও কম করলেন না। বরং আমার চেয়ে বেশী করলেন।

“সুধুমাত্র বৈধ ভিসা ও কনফার্ম টিকেট থাকলে হাতখরচ হিসেবে অল্প কিছু ডলার/ইউরো, তাও পাসপোর্টে ব্যাঙ্ক মারফত এন্ডোর্স করে নিতে হবে।” -- এটা মিছা কথা হয় কিভাবে? 'অল্প কিছু' মানেই মিছা?

এখানে জেনেশুনে একটা ভুল তথ্য দিলেন। ১২ হাজার ডলার এন্ডোর্স করা যায় বললেন। ভুল।
এটা হবে ৭ হাজার। ইউরোপ ঊঃ আমেরিকা প্রভৃতি দেশে দীর্ঘমেয়াদী ভিসার বিপরিতে মাত্র ৭ হাজার। বার্ষিক লিমিট ১২ হাজার। অর্থাৎ ১২ মাসের ভেতর ২য় বার গেলে ৫০০০ এর বেশী এন্ডোর্স করা যাবে না। এই মেয়াদের ভেতর ৩য় বার গেলে ০ ডলার।
১০ দিনের ভিসায় কোলকাতা গেলে ৭ হাজার ডলার দিবে না। ১০০০ ডলার দেয় কি না সন্দেহ, আমি ২০০৭ এ গেছিলাম ৫০০ ডলার দিছিল।

অনধিক ৩০০ ডলার পর্যন্ত ব্যয় অনলাইন কেনা কাটা করা যায় আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে।
এটা তো করা যাবেই, ইন্টার্ন্যাশানাল ক্রেডিট কার্ডের টাকা তো বিদেশেই থাকে।

আরো ভুল ধরা যায়। কিন্তু খুটিয়ে খুটিয়ে লোম বাছা কোন কাজের কাজ হতে পারে না।

ধন্যবাদ।


৮| ২১ শে অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০৫

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন: আখেনাটেন ভাই কয়েক লাখ ষ্টুডেন্ট আদমের দেশ মালয়েশিয়াতেই আছে। যদি শুনি ১০ লক্ষ ষ্টুডেন্ট অবাক হওয়ার কিছু নেই মালয়েশিয়া বাংলাদেশের ১০ লক্ষ ষ্টুডেন্ট থাকলে থাকতেও পারে। এখন তারা পড়ালেখা করুক আর ষ্টুডেন্ট ভিসাতে গিয়ে কাজ করুক। হতেও পারে। মালয়েশিয়াকে পঁচায়ে ফেলেছে বাংলাদেশী।

৯| ২২ শে অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ৮:২৫

ঢাবিয়ান বলেছেন: @আখেনাটেন , ব্লগার কালবৈশাখির তথ্য পুরোপুরি যে মিথ্যা তা নয়।বাংলাদেশ থেকে বিদেশে টাকা পাঠানো আসলেই কঠিন । ব্যাংকের মারফত টাকা পাঠানোর প্রপার চ্যানেল নাই। আপন জুয়েলার্স এর কেলংকারীর সময়েও সামনে এসছিল যে বাংলাদেশের সব স্বর্নের দোকানের গোল্ড স্মাগল করা গোল্ড। পরে স্বর্ন ব্যবসায়ীরা এককাট্টা হয়ে জানায় যে বৈধ উপায়ে দেশে স্ব্বর্ন ঢোকার কোন রাস্তা নাই। এই দেশের ব্যবসায়ী্দের , বিদেশে পড়াশোনা করতে যাওয়ার সব অর্থই অবৈধ হুন্ডি পথে পাঠাতে হয়। এখন বলেন যে দেশে বিদেশে এই হুন্ডিবাজদের বসিয়েছে কারা? তাহলেই সব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন।

১০| ২২ শে অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ৮:৪৫

স্বামী বিশুদ্ধানন্দ বলেছেন: হাসান কালবৈশাখীর একথা সত্য যে, বিদেশে বৈধভাবে টাকা পাঠানো কঠিন | তবে একথা বৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যার পরিমান খুবই নগন্য | বাংলাদেশ থেকে অবৈধ পথে যে টাকা পাচার হয়ে থাকে তার সিংহভাগই হচ্ছে অবৈধ পথে উপার্জিত অর্থ | এই পাচারকৃত অর্থের মালিক বাংলাদেশের সাধারণ জনগণ - রাজনীতিবিদ/আমলা/ব্যবসায়ীদের বাপ্-দাদা বা খালার সম্পত্তি নয় |

বিদেশে বৈধভাবে টাকা পাঠানোর ডিফিকাল্টির কথা বলে জনগণের সম্পদ লুটের অর্থ পাচার করাকে জায়েজ করা কোনো দেশপ্রেমিকেরই উচিত নয় | আমাদের সবারই সাদা আর কালোকে কালো বলার মানসিকতা গড়ে তুলে উচিত, তা সে বিএনপির সমর্থকই হোক বা আওয়ামী লীগের সমর্থকই হোক | জনগণের সম্পদ লুটেরাদের আমাদের মতো চুনোপুঁটিরা হয়তো কিছুই করতে পারবো না, কিন্তু অন্তত: তাদের কর্মকান্ডকে সমর্থন না করে বরং ঘৃণা করতে তো পারি |

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:৪৭

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
দুর্নিতিবাজরা বাদেও সাধারন প্রবাসিরা আইনত কোন টাকা দেশের বাহিরে পাঠাতে পারে না।
বৈধ হোক বা অবৈধ হোক আইনত যে কোন অর্থ বাহিরে পাঠালে পাচার হিসেবে গন্য হয়।
দেড়-দুই কোটি মানুষ দেশের বাহিরে থাকে।
অনেকেই ইউরোপ ও নর্থ আমেরিকায় ভাল অবস্থান নিয়ে আছে। বাংলাদেশে যত ইচ্ছা ডলার আনা যায়। কিন্তু বৈধ ভাবে কোন অর্থই বিদেশে নেয়া যায় না।
অনেকেই বৈধ অর্থ প্রপার চ্যানেলে পাঠাতে ব্যার্থ হয়ে হুন্ডি ইত্যাদি ভিন্ন রাস্তায় পাঠায়।
পাচারের অর্থের পরিমান বড় হওয়ার এটাও একটি কারন।

১১| ২২ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১:৪২

আখেনাটেন বলেছেন: ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন: আখেনাটেন ভাই কয়েক লাখ ষ্টুডেন্ট আদমের দেশ মালয়েশিয়াতেই আছে। যদি শুনি ১০ লক্ষ ষ্টুডেন্ট...। -- দুঃখিত, ব্লগার ঠাকুরমাহমুদ, আপনিও পোস্টদাতার মতো ভুল তথ্য উপস্থাপন করেছেন।

নিচের উদ্ধৃতিগুলো পড়ুন:

'দ্যা ডেইলি স্টার' লিখেছে, ''EMGS, or Education Malaysia Global Services, is the online platform that monitors and processes all international student applications. “We have taken action against nine colleges in 2016 and 2017, so the numbers have dropped. Only 1,100 Bangladeshi student visa applications have been approved so far this year, compared to 16,000 last year and 23,000 the year before,” he added.

Still, that means over 40,000 Bangladeshi students have been accepted to study in Malaysia over the past three years..."
আবার, মালয়মেইল লিখেছে, ''The number of foreign students(সকল দেশের ছাত্র-ছাত্রী) studying at public and private learning institutions in Malaysia is expected to reach 200,000 by 2020." -- এখন নিশ্চয় বুঝতে পারছেন ২০১৯ এসে কিছুতেই বাংলাদেশী ছাত্রের সংখ্যা ঐ পরিমাণ......। :|

যে কোনো ভুল তথ্য বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে। মানুষকে মিসগাইড করতে পারে। তাই আমাদের সর্বদা ভুল/মিথ্যা তথ্য-উপাত্ত প্রদান করা থেকে বিরত থাকা উচিত বলে আমি মনে করি।

১২| ২২ শে অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ১:৫৫

আখেনাটেন বলেছেন: ঢাবিয়ান বলেছেন: @আখেনাটেন , ব্লগার কালবৈশাখির তথ্য পুরোপুরি যে মিথ্যা তা নয়।বাংলাদেশ থেকে বিদেশে টাকা পাঠানো আসলেই কঠিন । -- দুঃখিত, ব্লগার ঢাবিয়ান, আমি কোথাও লিখিনি যে উনার পুরোপুরি তথ্যই ভুল। আবার আমি কোথাও লিখি নি যে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে টাকা পাঠানো সহজ।

যে সব বাক্য পোস্টদাতা ভুলভাবে/মিথ্যাভাবে উপস্থাপন করেছেন সেগুলোই বোল্ড করে প্রতিউত্তর দিয়েছি। আমার মনে হয় এখানে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই।

বাংলাদেশ থেকে বৈধভাবে বিদেশে টাকা পাঠানো কঠিন এটি যেমন চরম সত্য, তেমনি বৈধভাবে একেবারেই টাকা পাঠানো যায় না, আইন নেই এটিও চরম মিথ্যা। আর এ কথাটিই আমি আমার সমুদ্রসম মন্তব্যে বলতে চেয়েছি।

আর আমার ঐ মন্তব্যের মূল বক্তব্যটিও আপনি ধরতে পারেন নি, যা বৃহদাকার মন্তব্যের শেষ প্যারাটিতে লেখা হয়েছে। আপনি ঐ প্যারার 'ইনিয়ে বিনিয়ে' কথাটির উপর গুরুত্ব দিলে অনেক কিছু পরিষ্কার হওয়ার কথা। না বুঝলে 'ডাল মে কুছ কালা হ্যায়'।

১৩| ২২ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৩:১৯

ঢাবিয়ান বলেছেন: @ আখেনাটেন , ব্লগার কালবেশাখী এই পোস্টে যে সব তথ্য দিয়েছেন তা পুরোপুরি সঠিক। দৈনিক ইত্তেফাকে নিম্ললিখিত পোস্টটি পড়ে দেখুন। তবে তথ্যের সাথে ইনিয়ে বিনিয়ে লেখক কি বলতে চেয়েছেন সেই বিষয়ে নয়, আপনাকে আমি বলতে যে যে তথ্যগুলো মিথ্যা নয়।

বাংলাদেশের প্রচুর ছাত্রছাত্রী অনেক বছর ধরেই বাংলাদেশের বাইরে পড়াশোনার জন্য যাচ্ছে। বাইরের কোনো স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রাথমিক অধ্যায় হলো ভর্তির আবেদন করা। ভর্তির আবেদন করতে একটি ফি জমা দিতে হয়। হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী যারা বিদেশে পড়তে যেতে চায়, তারা ভর্তি ফি পাঠানোর সমস্যায় ভুগছে। বাংলাদেশ থেকে তারা ভর্তি ফির সামান্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও পাঠাতে সক্ষম হচ্ছে না। কেননা বাংলাদেশে কঠিন একটি বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন আছে। এ আইনটির নাম হয়তো অনেকের কাছে দুর্বোধ্য লাগতে পারে। আইনটি হলো ‘দ্য ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭’। বুঝতেই পারছেন, এ আইনটি আমাদের করা নয়, ১৯৪৭ সালে তত্কালীন ভারতবর্ষে এবং পাকিস্তানে করা হয়েছিল। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও এ আইন আজ পর্যন্ত সে নামেই চলছে। যে ভারতবর্ষে এ আইন প্রণীত হয়েছিল, সেই ভারত এবং পাকিস্তান কিন্তু এমন একটি কঠিন আইনের মধ্যে এখন আর নেই। তাদের দেশে এ আইনটি সহজ করা হয়েছে। ভারতে যে কোনো নাগরিক প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা তার ইচ্ছানুযায়ী বাইরে পাঠাতে পারছে। পাকিস্তানের মানুষও তাদের দেশ থেকে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাতে এখন আর কোনো রকম বাধার সম্মুখীন হচ্ছে না। পড়াশোনা, চিকিত্সা, ব্যবসা কিংবা যে কোনো কারণেই ভারত কিংবা পাকিস্তানের যে কোনো নাগরিক বৈদেশিক মুদ্রা বাইরে পাঠাতে কোনো রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে না। তাদের স্ব-স্ব দেশের সংশ্লিষ্ট আইন সময়ের উপযোগী করে সংশোধন করে নিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ আজও ১৯৪৭ সালে হওয়া আইনটি সেভাবেই ধরে রেখেছে। কোনো পরিবর্তন নেই, সংশোধন নেই। এ আইনের কারণে কোনো নাগরিক বাংলাদেশ থেকে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা বাইরে পাঠাতে পারবে না। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনসাপেক্ষে শিক্ষা ও চিকিত্সার জন্য বৈদেশিক মুদ্রা বাইরে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকলেও তার পরিমাণটি আবেদনকারীদের জন্য সব সময় অপ্রতুল হয়ে থাকে।

আমদানিকারকগণ আমদানি করার ক্ষেত্রে এলসি করে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাবার সুযোগ পায়। কিন্তু সেই এলসি করার সুযোগ আসে আমদানিকৃত মালামাল যখন জাহাজযোগে বাংলাদেশে পৌঁছে যায় তারপর। বিদেশি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান প্রায়শই বাংলাদেশের খদ্দেরের মালামাল প্রস্তুত করার শুরুতে অগ্রিম কিছু অর্থ দাবি করে। কিন্তু বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭ বলবত্ থাকায় সেই অগ্রিম অর্থ পাঠাবার কোনো আইনগত ব্যবস্থা বাংলাদেশের আমদানিকারকদের কাছে নেই। এর ফলে অগ্রিম অর্থ পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ায় অনেক আমদানিকারক ঠিক সময়ে মালামাল আমদানি করতে ব্যর্থ হচ্ছে। অন্যরা আবার ভিন্নপথ গ্রহণ করে অবৈধভাবে অর্থ পাঠাচ্ছে।

অন্য আরো একটি উদাহরণ দিচ্ছি এ ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে। আবুল বরকত মৃত্যুবরণ করেছেন প্রায় দশ বছর আগে। মা ছালেহা বয়সের ভারে হঠাত্ অসুস্থ। বাংলাদেশে নিকটতম আত্মীয় বলে কেউ নেই তাদের। দুভাই আমেরিকাতে থাকেন সপরিবারে। মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে ছুটে আসেন দুভাই। কিন্তু এসে আর কোনো লাভ হয় না। মায়ের সঙ্গে শেষ দেখা হলেও মাকে তারা বাঁচাতে পারেন না। কয়েক দিন শোকের ঘোরেই কাটল তাদের। তারপর একসময় আবার বাস্তবের ধাক্কায় সবকিছু গুছিয়ে নিতে চাইলেন। মা-বাবার রেখে যাওয়া বাড়িটি তারা বিক্রি করে দিতে চাইলেন। কিন্তু তারপর? বিক্রি করা টাকা তো তারা আমেরিকাতে নিতে পারবেন না। বাংলাদেশ থেকে তো কোনো বৈদেশিক মুদ্রা আমেরিকাতে নেওয়ার সুযোগ নেই। তারা এদিক-ওদিক গেলেন, আইনজীবীদের পরামর্শ নিলেন। কিন্তু না, শক্ত আইন এটি। একটি ডলারও তারা নিতে পারবেন না। তাহলে তারা কী করবেন
[link||https://www.ittefaq.com.bd/print-edition/opinion/63122/বৈদেশিক-মুদ্রা-নিয়ন্ত্রণ-এবং--বাংলাদেশের-বাস্তবতা]

১৪| ২২ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৪:৩০

আখেনাটেন বলেছেন: ঢাবিয়ান বলেছেন: @ আখেনাটেন , ব্লগার কালবেশাখী এই পোস্টে যে সব তথ্য দিয়েছেন তা পুরোপুরি সঠিক। -- অদ্ভুত আমাদের মানসিকতা। ভুল তথ্য-উপাত্ত সরবরহাকারীর কারিগরদের 'মাইনকা চিপায়' পড়ে গেলুম মনে হচ্ছে। :((

যেখানে আমি অথেনটিক সোর্স উল্লেখ করে (বাংলাদেশ ব্যাংক) জানালাম যে বাংলাদেশ থেকে সীমিত পরিসরে হলেও বৈধভাবে বিদেশে কেনাকাটা, টিউশন ফি, ভর্তি ফি, ভ্রমণ, চিকিৎসা খরচ, শর্তসাপেক্ষে ব্যবসা ইত্যাদির জন্য অর্থ প্রেরণ করার ব্যবস্থা আছে, তারপরও কীভাবে একই বিষয় নিয়ে অর্থহীনভাবে ক্যাচাল করার চেষ্টা।

ব্লগার ঢাবিয়ান আপনি কি প্রথম মন্তব্যে উল্লিখিত সোর্সটিতে ঢুকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালাটা দেখেছেন। না দেখে থাকলে দয়া করে ৯ থেকে ১৬ নং পয়েন্টগুলো দেখুন। আর দেখে থাকলে কীভাবে বলতে পারেন উনার পোস্ট পুরোপুরি সঠিক ( মানে আইন নেই, বৈধভাবে টাকা পাঠানোই যায় না, কেনাকাটা করা যায় না, টিউশন ফি নেওয়া যায় না)। ডিসগাস্টিং।

*মানি লন্ডারিং ইস্যুতে দুই বিপরীতমুখী ফরেন রেল লাইনের একই স্টেশনমুখী যাত্রা চিন্তার খোরাক যোগায় বটে! :( (পারডন)

১৫| ২২ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৪:৪০

ভুয়া মফিজ বলেছেন: আখেনাটেন বলেছেন: মানি লন্ডারিং ইস্যুতে দুই বিপরীতমুখী ফরেন রেল লাইনের একই স্টেশনমুখী যাত্রা চিন্তার খোরাক যোগায় বটে! হে হে হে.......মানুষ সদাই পরিবর্তনশীল!!! :P

বাই দ্য ওয়ে, ৯ থেকে ১৬ নং পয়েন্টগুলো দেখলাম।

২৩ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৩:২৭

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
ভুয়া মফিজ ভাই।

সবকিছুতে রাজনীতি না টানলে হয় না?

আমি তো সোজা বাংলায় লিখেছি।
বিদেশ থেকে বাংলাদেশে ডলার/ইউরো আনা সহজ, আনলিমিটেড এমাউন্ট, যত ইচ্ছা।
বাংলাদেশ থেকে বিদেশে সামান্য টাকা পাঠানোও অনেক অনেক কঠিন।

আমি পোষ্টটি লিখেছি যেহেতু আমি প্রায় স্থায়ী ভাবে দেশের বাইরে থাকি। দেশের রক্ষনশীল বৈদেশিক মুদ্রানিতির ভ্যাজালে কয়েকবার হোচট খেয়েছি।
ঢাবিয়ান ভাই সম্ভবত সিঙ্গাপুরে থাকে, উনিও হয়তো ভুক্তভুগি।

১৬| ২২ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৪:৫৩

আখেনাটেন বলেছেন: ভুয়া মফিজ বলেছেন: আখেনাটেন বলেছেন: মানি লন্ডারিং ইস্যুতে দুই বিপরীতমুখী ফরেন রেল লাইনের একই স্টেশনমুখী যাত্রা চিন্তার খোরাক যোগায় বটে! হে হে হে.......মানুষ সদাই পরিবর্তনশীল!!! :P -- হা হা হা; রেল লাইনও মাঝে মাঝে একমুখিশীল। :-P

*এই পোস্ট নির্বাচিত পাতায় রাখায় মডুকে নিয়েও...ডালপালা গজাইতেছে। :P উনার বক্তব্য এখনও পাই নি। অপেক্ষায় আছি। ব্যাখ্যা না পাইলে মডুরেও ছাড়ছি না। লাইনে থাকেন। X(

১৭| ২২ শে অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৫:৪২

ঢাবিয়ান বলেছেন: ব্লগার কালবৈশাখি তথ্যগুলো দিয়ে কি বোঝাতে চেয়েছে সেটা তার বক্তব্য। আমার বক্তব্য হচ্ছে '' দ্য ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭'' সংস্কার করে ভারত , পাকিস্তানে বৈধ পথে টাকা বিদেশে প্রেরন বা দেশে আগমন ( রেমিটেন্স) সহজ করা হয়েছে মানি লন্ডারিং ঠেকানোর জন্য ।আর আমাদের দেশে এই আইন সংস্কার করা হয়নি লুটপাঠের টাকা বিদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে। হাজার কোটি টাকা প্রতি বছর রাজননীতিবিদেরা দেশের বাইরে পাচার করে। বৈধ পথেতো এই টাকা পাঠানো সম্ভব নয়। তাদের এই অসৎ উদ্দেশ্যের কারনেই তারা দেশে বিদেশে হুন্ডি চক্র বসিয়েছে এবং তাদের কারনেই অনোন্যপায় হয়েই ব্যবসায়ী , রোগী বা বিদেশে পড়তে যাওয়া সবাইকেই বাধ্য হয়েই অবৈধ হুন্ডি পথে টাকা পাঠাতে হচ্ছে। আপনি বারবার যে সীমিত পরিসরের কথা বলছেন সেটা অতি অপ্রতুল। ইত্তেফাকের কলামটিতেই বিস্তারিত বলা হয়েছে।

যাই হোক আমি সবসময়ই ব্যক্তি আক্রমন এড়িয়ে যুক্তি তর্ক পছন্দ করি। ব্লগার আখেনাটেন ও ভুয়া মফিজের মত ব্লগাররাও যে যুক্তি তর্কে না যেয়ে ব্যক্তি আক্রমন এর পথে যেতে পারে তা ধারনায় ছিল না। এই পোস্টে এটাই আমার শেষ কমেন্ট । হ্যাপী ব্লগিং।

১৮| ২৫ শে জুন, ২০২১ সকাল ৯:৫৪

হাসান কালবৈশাখী বলেছেন:
টাকা পাচার হয় পাঁচ কারণে
মরিয়ম সেঁজুতি

প্রকাশিত: জুন ২৫, ২০২১ , ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ২৫, ২০২১ , ৮:৪১ পূর্বাহ্ণ
https://www.bhorerkagoj.com/2021/06/25

টাকা পাচার।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার নাকের ডগা দিয়েই প্রতি বছর ৮০ শতাংশ অর্থ পাচার হচ্ছে আমদানি-রপ্তানির আড়ালে। বাংলাদেশ থেকে এসব অর্থ যাচ্ছে পৃথিবীর ৩৬ দেশে। সবচেয়ে বেশি যাচ্ছে ১০ দেশে। যার বড় অংশই জমা হচ্ছে সুইস ব্যাংকে। মূলত অর্থ পাচারের ঘটনায় পাঁচ কারণকে চিহ্নিত করেছেন অর্থনীতিবিদরা। এর মধ্যে রয়েছে- বিনিয়োগের পরিবেশের অভাব, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা, রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর দুর্বল নজরদারি, আইনের শাসনের ঘাটতি এবং বেপরোয়া দুর্নীতি।

এদিকে, পরিমাণে অল্প হলেও, টাকা পাচারের নতুন মাধ্যম হয়ে উঠছে বিভিন্ন অ্যাপস। সম্প্রতি বিগো লাইভ ও লাইকির মাধ্যমে প্রতি মাসে শত কোটি টাকা পাচারের ঘটনাও সামনে এসেছে। দেখা গেছে, গত ৫ বছরে অর্থ পাচারের ১ হাজার ২৪টি প্রতিবেদন চ‚ড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইউ)। বিদেশি সংস্থার উপাত্তেও মিলেছে ভয়াবহ খবর। তারপরও মামলা হয়েছে হাতেগোনা। সেগুলোও আটকে আছে আইনি জটিলতায়। দুদক বলছে, মামলার ফল না আসা পর্যন্ত পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। আর বিশ্লেষকদের অভিযোগ, সরকার আন্তরিক নয় বলেই টাকা পাচার বাড়ছে। তাই এবার টাকা পাচার বন্ধে, অর্থ লেনদেনের গতিবিধি ডিজিটাল মাধ্যমে তদারকি করতে নতুন আইন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যমান কিছু আইনেও সংশোধন আনা হবে। তবে, টাকা পাচারের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবি করেছেন দুদকের আইনজীবীরা।

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর ভোরের কাগজকে বলেন, কোনো পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেয়া সম্ভব নয়। আবার ব্যাংকের মাধ্যমেও মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তাই যা করার কাস্টমসকেই করতে হবে। কেন বাড়ছে টাকা পাচার? এমন প্রশ্নের জবাবে পাঁচটি কারণ তুলে ধরেন আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, বিনিয়োগের পরিবেশের অভাব, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার শঙ্কা, রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর দুর্বল নজরদারি, আইনের শাসনের ঘাটতি এবং বেপরোয়া দুর্নীতির কারণে দেশের টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। কালো টাকা সাদা করার সুযোগে অর্থ পাচার কমছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেশ থেকে যে টাকা বাইরে চলে যায়, তা আর ফিরে আসে না। সুতরাং কালো টাকা সাদা করার সঙ্গে অর্থ পাচার কম হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই।

জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচারের ঘটনা বহুদিনের। তবে নতুন করে আলোচনায় আসে ২০১৯ এর সেপ্টেম্বরে। ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি (পরে বহিষ্কৃত) ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। তার বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুরে ২২৭ কোটি টাকা পাচারের তথ্য পায় দুদক। দেশের বাইরে টাকা সরিয়ে বাড়ি কেনার খবরও পুরনো। কিন্তু এবার নাম এসেছে সংসদ সদস্যদের। নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের স্ত্রী, জান্নাতীর নামে কানাডার বেগমপাড়ায় সাড়ে ১২ কোটি টাকায় বাড়ির কেনার খবর প্রচার হয়েছে গণমাধ্যমে। বাসিন্দা না হয়েও, কানাডায় বাড়ির মালিক হওয়া সহজ। মোট দামের ওপর মাত্র ১৫ শতাংশ কর দিতে হয়। জানাতে হয় না টাকার উৎসও। আর তাই ক্রমাগত কানাডা হয়ে উঠছে দুর্নীতিবাজদের টাকা পাচারের পছন্দের গন্তব্য। কানাডার সরকারি সংস্থা ফিনট্রাকের তথ্য- এ মহামারির মধ্যে দেশটিতে গত এক বছরে ১ হাজার ৫৮২টি টাকা পাচারের ঘটনা ঘটেছে। মূলত করছাড়, প্রশ্নবিহীন বিনিয়োগের অবাধ সুযোগের প্রলোভন দিয়ে উন্নয়নশীল দেশের টাকা নিজেদের অর্থনীতিতে নিতে আগ্রহী উন্নত দেশগুলো। অর্থ পাচারের খোঁজখবর রাখে, এমন সব বৈশ্বিক সংস্থার তথ্যউপাত্ত বলছে, বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার হয় বিশ্বের ৩৬টি দেশে। তবে, সবচেয়ে বেশি হৃষ্টপুষ্ট হয়েছে ১০ দেশের অর্থনীতি। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে সিঙ্গাপুর, কানাডা, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, হংকং ও থাইল্যান্ড। আমদানিতে মূল্য বেশি দেখানো বা ওভার ইনভয়েসিং, রপ্তানিতে কম মূল্য দেখানো বা আন্ডার ইনভয়েসিং, আর হুন্ডি টাকা পাচারের জনপ্রিয় মাধ্যম।

গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটিসহ বিভিন্ন সংস্থা বলছে, প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থ পাচার হয় এসব মাধ্যমে। কিন্তু এ কৌশল প্রতিরোধে ব্যাংকের কিছু করার নেই; বরং যা করার তা কাস্টমসকেই করতে হবে।

অর্থ পাচারে আমলারাও কম যান না। গত বছরের নভেম্বরে এমন তথ্য জানিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন নিজেই। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে সে সময় তিনি বলেন, গোপনে কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত বাংলাদেশিদের বিষয়ে খোঁজ নেয়া হয়েছে। আমার ধারণা ছিল রাজনীতিবিদদের সংখ্যা বেশি হবে; কিন্তু আমার কাছে যে তথ্য এসেছে- সংখ্যার দিক থেকে আমাদের অনেক সরকারি কর্মচারীর বাড়িঘর সেখানে বেশি আছে এবং তাদের ছেলেমেয়েরা সেখানে থাকে।

তিনি আরো বলেন, আমার কাছে ২৮টি কেস এসেছে এবং এর মধ্যে রাজনীতিবিদ হলেন চার জন। এ ছাড়া কিছু আছেন আমাদের তৈরি পোশাকশিল্পের ব্যবসায়ী। আমরা আরো তথ্য সংগ্রহ করছি। তবে পাচারে শুধু কানাডা নয়, মালয়েশিয়াতেও একই অবস্থা। তবে তথ্য পাওয়া খুব কঠিন। বিভিন্ন মিডিয়ায় যে তথ্য বের হয়, হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হচ্ছে, আসলে সংখ্যাটি তত নয়। তিনি বলেন, পাচারের দায় বিদেশি সরকারও এড়াতে পারে না। যেমন- সুইজারল্যান্ডে কে ব্যাংকে টাকা রাখলেন, সেই তথ্য আমাদের দেয় না। তারা ট্রান্সপারেন্সির কথা বলে; কিন্তু যদি বলি কার কার টাকা আছে, সেই তথ্য দাও, তখন তারা দেয় না। এটি একটি ডাবল স্ট্যান্ডার্ড।

এরপর গত ৭ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, কারা টাকা নিয়ে যায়, তালিকা আমার কাছে নেই। বিরোধী সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নামগুলো আমাদের দেন। কাজটি করা আমাদের জন্য সহজ হবে। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, এই তালিকা তো অর্থমন্ত্রীর কাছেই থাকার কথা। সরকারের বিভিন্ন সংস্থা এ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। সেখান থেকে অতি সহজেই তিনি তালিকা পেতে পারেন।

জানা গেছে, গত ৫ বছরে অর্থ পাচারের ১০২৪টি প্রতিবেদন চ‚ড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট। বিদেশি সংস্থার উপাত্তেও মিলেছে ভয়াবহ খবর। জিএফআইসহ বিভিন্ন সূত্র বলছে, ২০২০ সালে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে প্রায় ৫ লাখ কোটি টাকা। সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। ৮৪ বাংলাদেশির টাকা পাচারের তথ্য এসেছে পানামা ও প্যারাডাইস পেপার্সেও। কিন্তু মামলা হয়েছে হাতেগোনা। জানতে চাইলে দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান বলনে, ২০১৮-২০ এর মধ্যে ৭৭টি মামলা হয়েছে মানি লন্ডারিংয়ের। ৫০টি মামলা চার্জশিট হয়ে ট্রায়ালে আছে। আর বাকি ২৭টি মামলার তদন্ত হচ্ছে। এগুলো কোর্টে আসতে অনেক সময় লাগে, মমলা নিষ্পত্তি হতে অনেক সময় লাগে। প্রত্যেকটা ধাপ চ্যালেঞ্জ করা হয়। অর্থ পাচার রোধে আছে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন। সন্ত্রাসী অর্থায়ন বন্ধ ও টাকা পাচার প্রতিরোধে তথ্য লেনদেনের জোট ১৫৯ দেশের এগমন্ড গ্রুপের সদস্যও হয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, সদিচ্ছার ঘাটতি, স্বচ্ছতা ও দৃঢ়তার ঘাটতি অর্থ পাচার প্রতিরোধে ব্যর্থতার অন্যতম কারণ। যারা অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত তাদের একটা বড় অংশ রুইকাতলা জাতীয়; যারা আসলে ক্ষমতা ও রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। সে কারণে তাদের গায়ে হাত দেয়া হয় না। প্রশ্নবিহীনভাবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বহুবারই দিয়েছে সরকার। অর্থবিলের এমন বিধান টাকাকে অপ্রদর্শিত রাখার মানসিকতাকে উসকে দেয় বলে মতো আইনজীবীদের।

সুইসব্যাংকে বাংলাদেশিদের ৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা: সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ থাকার হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্প্রতি প্রকাশিত এ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০২০ সাল শেষে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশের নামে রয়েছে ৫৭ কোটি ৩ লাখ সুইস ফ্রাঁ। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ফ্রাঁ ৯৫ টাকা ধরে) যার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে ছিল ৬১ কোটি সুইস ফ্রাঁ বা প্রায় ৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। ফলে আগের বছরের চেয়ে বাংলাদেশের নামে থাকা অর্থ কিছুটা কমেছে। তবে বাংলাদেশি গ্রাহকের নামে থাকা আমানত অনেক বেড়েছে।

সুইস ব্যাংকে থাকা অর্থের একটি অংশ পাচার হয়ে থাকে বলে ধারণা করা হয়। তবে পাচার সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায় না। এমনকি আমানত হিসাবে কার কত অর্থ আছে তাও জানা যায় না। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) প্রকাশিত পরিসংখ্যান সম্পর্কে বলেছে, এসব পরিসংখ্যানের সঙ্গে সম্পৃক্ত গ্রাহকের তথ্যের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রাখা হবে। গোপনীয়তার স্বার্থে সব ডাটা সমন্বিতভাবে প্রকাশিত হয়েছে। আলাদাভাবে কোনো গ্রাহকের তথ্য নেই।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশের নামে থাকা অর্থের বেশির ভাগই বৈদেশিক বাণিজ্যকেন্দ্রিক। গ্রাহকের আমানত হিসাবে যে অর্থ থাকে, তার মধ্যে সুইজারল্যান্ডে এবং অন্যান্য দেশে যেসব বাংলাদেশি থাকেন, তাদের অর্থও রয়েছে। গ্রাহক আমানতের একটি অংশ পাচার হয়ে যেতে পারে বলে সন্দেহ করা হয়।

বিএফআইইউর কাছে এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তারা এর আগে সুইজারল্যান্ডের এফআইইউর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু ব্যক্তির তালিকা সংবলিত কোনো তথ্য তারা দেয়নি। সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, অবৈধভাবে কেউ অর্থ নিয়ে গেছে- এমন প্রমাণ সরবরাহ করলে তারা তথ্য দেয়ার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি এখন পর্যন্ত নেই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, সুইস ব্যাংকগুলোতে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি অর্থ জমা রাখতে পারেন। তবে সরাসরি বাংলাদেশ থেকে টাকা নিয়ে সে দেশে জমা করার সুযোগ নেই। কঠোর গোপনীয়তার কারণে অর্থ গচ্ছিত রাখার নিরাপদ স্থান হিসেবে সুইজারল্যান্ড অর্থ পাচারকারীদেরও নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত হতো। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চাপের মুখে সুইস ব্যাংকগুলো এ কঠোর গোপনীয়তার নীতি সা¤প্রতিক বছরগুলোতে অনেক শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে। সেখানে গচ্ছিত অর্থ যদি কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, সেক্ষেত্রে গ্রাহকের পরিচয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে তারা তথ্য দিতে বাধ্য। এ জন্য সা¤প্রতিক সময়ে অর্থ গচ্ছিত রাখার প্রবণতা কমতে পারে।

সুইস ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশিদের গচ্ছিত জমার পরিমাণ গত কয়েক বছরের মধ্যে ২০১৬ সালে সবচেয়ে বেশি ছিল। সে সময় জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৬৬ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ। ২০১৭ সালে কমলেও (৪৮ কোটি ১৩ লাখ ফ্রাঁ) সেটি আবার ২০১৮ সালে (৬১ কোটি ৭৭ লাখ ফ্রাঁ) বেড়ে যায়। এর পর ২০১৯ ও ২০২০ সালের হিসাবে জমানো অর্থের পরিমাণ কমতে দেখা যাচ্ছে।

টাকা পাচার বন্ধে আসছে নতুন আইন, মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখার দাবি: অর্থ পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের প্রথম সরাসরি আইন ‘মানি লন্ডারিং আইন-২০০২’। শাস্তি ছিল কমপক্ষে ছয় মাস, সর্বোচ্চ সাত বছর জেল। আর অপরাধের সঙ্গে জড়িত অর্থের দ্বিগুণ জরিমানা। এর পরের আইন হয় ২০০৯ সালে। কারাদণ্ডের শাস্তি একই রকম থাকলেও, অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি পুরোটাই বাজেয়াপ্তের বিধান রাখা হয়। পুরনো আইন বাতিল করে ২০১২ সালের জানুয়ারিতে কার্যকর হয় নতুন আইন। বাড়ানো হয় জেল-জরিমানা, দুটোই। কিন্তু, তাতেও সন্তুষ্ট নন আইনজীবীরা। দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, বর্তমান আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাজার মেয়াদ যথেষ্ট নয়। টাকা পাচার রোধে যাবজ্জীবন অথবা মৃত্যুদণ্ডের বিধান কার্যকরের দাবি জানান দুদক আইনজীবী। টাকা পাচার বন্ধে বর্তমান আইনের ওপর নির্ভর করতে চান না অর্থমন্ত্রী। তাই উদ্যোগ নিয়েছেন নতুন আরো একটি আইন তৈরির। সংশোধন হবে আরো কয়েকটি পুরনো আইনের।

২০১৫ সালে মানিলন্ডারিং আইন সংশোধনের আগ পর্যন্ত ২৭ ধরনের অপরাধ থেকে টাকা পাচারের অনুসন্ধান ও তদন্তের দায়িত্বে ছিল একমাত্র দুদক। এখন কেবলমাত্র একটি, শুধু ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ পাচার দুদকের এখতিয়ারভুক্ত। বাকিগুলোর দায়িত্বে এনবিআর, সিআইডি, বিএসইসি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ অধিদপ্তর।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.