নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

\"জীবন শেখায়, আমি লিখে রাখি। গল্প অনুভূতি আর অভিজ্ঞতার মিশেলে এটাই আমার ছোট্ট জগৎ\" গতানুগতিক সাধারণ মানুষ

মহিউদ্দিন হায়দার

শব্দে আমার আশ্রয়, লেখায় আমার মুক্তি। এখানে আমি লিখি, ভেবে দেখি, আর খুঁজি মানুষের মনের গল্প।

মহিউদ্দিন হায়দার › বিস্তারিত পোস্টঃ

গভীর রাতে বেদনা

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৫০


গভীর রাতটা নীরব নয়—নীরবতার ভেতরেও একটা আর্তনাদ লুকিয়ে থাকে। দূরে কোথাও একটা পাখি ডাকে। কী পাখি, চিনি না। চেনার দরকারও পড়ে না। কারণ সেই ডাকের ভাষা আলাদা করে শেখার কিছু নেই—ওটা কষ্টের ভাষা। খুব পুরোনো, খুব চেনা।
আমি জানালার পাশে বসে থাকি। আলো নিভে গেছে অনেক আগেই, তবু অন্ধকারটা ঘরের ভেতর থেমে নেই—ধীরে ধীরে বুকের ভেতর ঢুকে পড়ে। পাখির ডাকটা আবার আসে। মনে হয় যেন সে কাউকে খুঁজছে। হয়তো আমাকেই। কিংবা আমরা দু’জনেই কাউকে খুঁজছি—যে আর কোনোদিন আসবে না।
মোবাইলটা হাতে নিই। অভ্যাসবশত। ম্যাসেঞ্জার খুলে দেখি—নাম আছে, মানুষ নেই। ওয়াটসঅ্যাপ, ইমো—সবখানেই নীল আলো, সবুজ টিক, কিন্তু কোথাও কোনো উষ্ণতা নেই। একটা নাম্বারও নেই যাকে এই গভীর রাতে লিখতে পারি,
“শোনো, খুব কষ্ট হচ্ছে।”
লিখলেও তো কেউ পড়বে না। পড়লেও বুঝবে না। বুঝলেও সময় দেবে না।
একসময় কত মানুষ ছিল! রাত জাগা গল্প, হঠাৎ ফোন, অকারণ হাসি। তখন মনে হতো—একলা হওয়া অসম্ভব। অথচ আজ বুঝি, মানুষ আসলে সাময়িক। সবাই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের জীবন গুছিয়ে নেয়, নিজের স্বার্থটা শক্ত করে বেঁধে রাখে। আর কেউ কেউ পড়ে থাকে—খোলা জানালার পাশে, অচেনা পাখির ডাক শুনে।
হতাশাটা ধীরে নামে। ঠিক কুয়াশার মতো। প্রথমে চোখ ঝাপসা করে, তারপর বুকের ভেতর ঢুকে শ্বাস নিতে কষ্ট করে তোলে। মনে হয় আমি ডুবে যাচ্ছি—কিন্তু কোনো পানিতে না, ডুবে যাচ্ছি শূন্যতায়। এখানে হাত ধরার কেউ নেই, চিৎকার করারও জায়গা নেই।
পাখিটা আবার ডাকে। এবার মনে হয় সে কাঁদছে। নাকি আমি কাঁদছি—বোঝা যায় না। শুধু এটুকু বুঝি, এই গভীর রাতে আমরা দু’জনেই নিঃসঙ্গ। পার্থক্য শুধু একটাই—ওর ডাক শোনা যায়, আমার কষ্ট নীরব।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:১১

রাজীব নুর বলেছেন: আবেগ তৈরি হলে মানুষ এরকমটা ভাবে/লিখে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.