![]() |
![]() |
নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কার্জন হলের পেছনের গেইট দিয়ে বের হয়ে হাতের বাঁ দিকের ফুটপাতে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছি। আমি যে বাসটির জন্য দাঁড়িয়ে আছি সেটা ছাড়া অন্য সব রুটের অসংখ্য বাস আসলো আমার বাসের খবর নাই। কি আর করা এদিক সেদিক হাঁ করে তাকিয়ে তাকিয়ে সময় পার করছিলাম।ঢাকার অন্য অনেক জায়গা থেকে এটা অনেক শান্ত এলাকা। লোকজনের আনাগোনা খুবই কম।বিশেষ করে দোয়েল চত্বরের গেইটের তুলনায় একে তো জনমানবহীন বলা যায়।অনেক বছর ধরে দেখছিতো প্রতিটা গাছের চেহারা মুখস্থ। গাছ দেখা শেষ হলে আমি দেখি মানুষ। যা আমার কাছে সব সময়ই বিশেষ দ্রষ্টব্য।নানা ধরনের মানুষ দেখতে যে কি মজা তা একমাত্র আমার মত লোকরাই বুঝতে পারবে।একজন মানুষের দিকে তাকিয়ে তার মাইন্ড রীড করার চেষ্টা করা আমার অনেক পুরনো খেলা।
মাসখানেক ধরে এই ফুটপাতে বাসা বানিয়েছে কিছু ছিন্নমূল মানুষ। প্রতিদিন ওদের দেখতে দেখতে গেইট দিয়ে ঢুকি আর বের হই। মাঝেমধ্য কত কিছু নিয়ে মন খারাপ হয় আহারে আমার এটা নাই ওটা নাই। ধূর কি একটা নাস্তা এটা খাব না। এসব ভেবে মেজাজ খারাপ করে এদিক দিয়ে হাঁটতে গিয়ে ওদের দেখে লজ্জা পেয়েছি। এত অসম্ভব সাধারণ জীবন এরা যাপন করে কি করে?এদের একটা বাচ্চা মেয়ে তিন কি চার বছর বয়স হবে। চেহারাটা অবিকল এই দলের এক মধ্যবয়েসী লোকের মত। নিশ্চয় মেয়েটার বাবা।তাদের দুজনের চেহারায় একটাই পার্থক্য মেয়েটার চোখদুটো এখনও নিষ্পাপ আর তার বাবার চোখের মণি মাঝখানটায় স্থির। জ্বলজ্বল করছে। নিশ্চয়ই মাদকাসক্ত। স্বার্থপর বাবা নিশ্চয় তার অপ্রাপ্তি ক্ষুধা তৃষ্ণার কষ্ট ভোলে মাদকের সুখটানে। মেয়েটার জন্য জমা করছে এক শৈশবহীন জীবন, অনিশ্চিত ভবিষ্যত।
বাস চলে আসায় আমার চিন্তায় ছেদ পড়লো।দৌঁড়ে উঠে গেলাম বাসে।বাস থেকে আমি যেখানে নামি সেখানে আছে এক অভিজাত খাবার দোকান। কাচঘেরা লোভনীয় খাবারের প্রদর্শনী। আবারও লজ্জা পাই।
©somewhere in net ltd.
১|
২১ শে মে, ২০১৩ সকাল ১০:২৬
কান্ডারি অথর্ব বলেছেন:
ভাল লাগল