নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সোজা কথা

সমাজ থেকে সকল বৈষম্য দূর হোক।

সুমন এম রহমান

আমি একটি দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক।

সুমন এম রহমান › বিস্তারিত পোস্টঃ

ভারত বিরোধী মনোভাবের ইতিহাস ও বঙ্গবন্ধু জিয়া সম্পর্ক

০৩ রা আগস্ট, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:৪৮

আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে থেকে ১৯৭৪ সাল ch©š— সেনাবাহিনীর অধিকাংশ অফিসার এর সাথে বঙ্গবন্ধুর সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল। একটু একটু একটু অসন্তোষ অবশ্য আগে ই শুরু হয়েছিলো । ১৯৭৪ সালে ভারতীয় সীমান্ত উম্মুক্ত করে দেয়া হয়। এদিকে দেশে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। সেই সাথে ব্যাপক মুদ্রাস্ফীতি । বঙ্গবন্ধুর কেবিনেট ছিল যথেষ্ট অনভিজ্ঞ, অদক্ষ, ও দুর্নীতিবাজ । বঙ্গবন্ধু অসহায় হয়ে পড়েছিলেন, যথেষ্ট আন্তরিকতা থাকলে ও তিনি দুর্নীতি কমাতে পারেন নি। এ অবস্থায় ভারতীয় সীমান্ত উম্মুক্ত করে দেয়ার ঘটনার ব্যাপক বিরধিতা করে রব ও জলিলের জাসদ। তারা সীমান্ত রক্ষায় সেনাবাহিনী ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু সেই দাবি সরকার মেনে নেয়নি। সেনাবাহিনী ও নিজেরা কোন সিদ্ধান্ত নিতে সাহস করেনি। এর আগের কিছু অভিজ্ঞতা সেনাবাহিনীর সদস্যদের মধ্যে আলাদা মনভাব তৈরি করে দিয়েছিল। সেনাবাহিনীর মধ্যে জারা মুক্তিযোদ্ধা তারা দু বছরের সিনিয়রিটি পাওয়ায় যারা পাকিস্তানে আটকা পড়েছিল এবং সিনিয়রিটি পায়নি তাদের সাথে একটা দূরত্ব আগে থেকেই তৈরি হয়ে ছিল । উপরন্তু সিনিয়রিটি পাওয়াদের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৫ শতাংশ। তাদের দাপট ই বেশি ছিল। একই সময়ে ভারতীয় সেনাবাহীনির লুটপাটে বাধা দেয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডার মেজর জলিলকে গ্রেপ্তার করে মুজিব সরকার। এদিকে কর্নেল জিয়াউদ্দিন (জিয়উর রহমান নন) ্রকটি পত্রিকায় সরকারের সমালোচনা করে বাহিস্কৃত হন।

স্বাধীনতার পূর্বে পাকিস্তানি সাশকগোষ্ঠি ও জনগন আমাদের দেশের মানুষের সাধে অমানুষের মত ব্যবহার করত । এদেশের মুসলমানদের বলত মালাউন।এসব কারনে ভারতীয়দের প্রতি এদেশের জনগনের একটি সিমপ্যাথি ছিল যে পাকিস্তানিরা অহংকারী এবং খারাপ সেই তুলনায় ভারতীয়রা বেশ ভাল।কিন্তু ভারতীয়দের প্রতি সেই মনোভাব ৭৩-৭৪স এ এসে কিছুটা কমতে শুরু করে।

মুজিব প্রশাসন স্পস্টত ভারতের পক্ষ নেয়ায় সেনাবাহীনির মধ্যে দুটি গ্রুপিং তৈরি হওয়াটা অবধারিত ছিল। জেনারেল ওসমানীর সাথে জিয়ার কিছু বিষয়ে মতানৈক্য থাকলেও ভারতীয় এসব কর্মকান্ডের বিরোধীতায় দুজনেই একাট্রা ছিলেন। জেনারেল ওসমানী তো ইন্দিরা গান্ধির নামই শুনতে পারতেন না। এমনকি পরবর্তী সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউল্লাহ , খালেদ মোশাররফ, জেনারেল মনজুর কেউই ভারতকে ভাল চোখে দেখতেন না। মুক্তিযুদ্ধের পরে ভারতীয়দের মাতব্বরি ও লুটপাট এদের সবাইকে ক্ষেপিয়ে তোলে। এদিকে মুজিব বাহিনীর সদস্যদের সেনাবাহীনিতে নিতে সেনাবাহীনি আজত্তি তোলে। বঙ্গবন্ধু এদর দিয়ে একটি প্যারামিলিটারী বাহিনী ( রক্ষীবাহীনি) গঠন করেন। এরা সারাদেশে লুটপাট ও হত্যা ধর্ষন, গুম, ব্লাকমেইল ইত্যাদির মাধ্যমে এক ধরনের ত্রাসের রাজত্ত কায়েম করে। এ সবকিছুর জন্য সেনাবাহীনি ভারতকে মদদদাতা হিসেবে মনে করে।ফলে ভারত বিরোধীতা আরো বাড়তে থাকে। সেনাবাহিনীর সিনিয়রদের মধ্যে শফিউল্লহ ও খালেদ মোশাররফ পুরোপুরি শেখ সাহেবের অনুগত ছিল। এরা খুব ঘন ঘন তার সাতে দেখা করতে পারতেন । কিন্তু জিয়াকে বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করতে গেলে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হত। খালেদ মোশাররফ ও শফিউল্ল্হা দুজনেই বাকশাল এ নাম লিখিয়েছিলেন। জিয়া তখন ক্যান্টনমেন্টে অনেক প্রভাব রাখতেন। বএবং কেউ কেউ বঙ্গবন্ধুর কছে গিয়ে জিয়ার বিরুদ্ধে নালিশ করতো। বঙ্গবন্ধুও জিয়ার প্রতি একটু ক্ষেপে গিয়েছিলেন। তিনি জিয়াকে আর ক্যান্টনমেন্টে রাখতে চাননি। তাকে জার্মানী অথবা বেলজিয়ামে রাষ্ট্রদূত করে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালের জানুয়ারী থেকেই জিয়া আশংকা করেছিলেন যে তার চাকরী পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ে ন্যাস্ত করা হতে পারে।

জিয়া কোন অবস্থাতেই দেশ ছাড়তে চাননি। তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর কাছে তদবির শুরু করেন। এতে তেমন কাজ না হওয়ায় জিয়া তার এওক অনুগত মেজরকে ইওয়ামীলীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ এর কাছে পাঠান। তোফয়েল বিষয়টি বঙ্গবন্ধুকে বুঝিয়ে বলবেন বলে আশ্বাস দেন এবং জিয়াকে বাকশালে নাম লেখাতে পরামর্শ দেণ। জিয়া তখন যে কোন মূল্যে দেশে থাকতে চাচ্ছিলেন। ফলে তিনিও বাকশালে নাম লেখালেন। কিন্তু তারপরেও তাকে বিদেশে পাঠানোর ঝুঁকি থেকে তিনি নিশ্চিন্ত হতে পানেননি ।

পুনশ্চঃ বর্তমানে এই লেখার কি প্রতিক্রিয়া হতে পারে সে সম্পর্কে আমি সচেতন। এই লেখাটা স্রেফ সঠিক ইতিহাস জানানোর একটি প্রচেষ্টা। বর্তমান ভারতের সাথে আমাদের বন্ধুভাবাপন্ন সম্পর্ক রয়েছে। এটা আরো সুদৃঢ় হোক তাই আমার প্রত্যাশা।

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +৪/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ০৩ রা আগস্ট, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:২২

মোহাইমিনুল ইসলাম বাঁধন বলেছেন: আসলে, ভিতরে আরও অনেক ঘটনা আছে এবং থাকবে এভাবেই চলে আসছে। আমরা আমজনতা এসবের খুব কমই জানি।

০৩ রা আগস্ট, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:২৫

সুমন এম রহমান বলেছেন: সঠিক বলেছেন , আমি যতটুকু জানি তাই জানানোর চেষ্টা করছি । ভাল থাকবেন।

২| ০৩ রা আগস্ট, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৩০

সাদ হাসান বলেছেন: আসলে, ভিতরে আরও অনেক ঘটনা আছে এবং থাকবে এভাবেই চলে আসছে। আমরা আমজনতা এসবের খুব কমই জানি।

৩| ০৩ রা আগস্ট, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৩২

রাইসুল জুহালা বলেছেন: ভাল লিখেছেন, খারাপ না।

০৩ রা আগস্ট, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৩৭

সুমন এম রহমান বলেছেন: আপনার প্রশংসার স্টাইলটাও খারাপ না।

৪| ০৩ রা আগস্ট, ২০১১ রাত ৮:০৬

""ফয়সল অভি "" বলেছেন: বাকশাল সহ অন্যান্য সরকার আমল নিয়ে লেখা


ইতিহাসের কালো অধ্যায়

০৩ রা আগস্ট, ২০১১ রাত ৮:৪২

সুমন এম রহমান বলেছেন: ধন্যবাদ

৫| ০৪ ঠা আগস্ট, ২০১১ রাত ১২:০৭

স্বাধীকার বলেছেন:
মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সক্রিয় সহযোগিতা এবং দেশ স্বাধীনের পর ভারতের সাথে বাংলাদেশের ২৫ বৎসরের মৈত্রী চু্ক্তি থেকে দেখলে বলা যায়, বাংলাদেশের সবচেয়ে কাছের বন্ধুই ভারত এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু ভারতের মতো একটি রাষ্ট্র কোনো লক্ষ্য ও সুবিধা কিংবা আগাম চিন্তা ছাড়াই বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেছে এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। তাই ভারত কখনোই কোনো মহৎ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করেনি-এটাই সত্য।

প্রশাসক হিসাবে দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু জনগণের সীমাহীন প্রয়োজনকে যতটা গুরুত্ব দেন, তার চেয়ে বেশী লুটপাটকে প্রশ্রয় দেয় আম্লীগ এবং তারাই দেশের মালিক, তাদের সকল কাজই ন্যায্য-এ ধরণের মানসিকতা পোষণ করার কারণেই বহু মুক্তিযোদ্ধা দেশপ্রেমিকের তা সহ্য করার কোনো কারন ছিলোনা। সিনিয়র হবার পরও জিয়াকে প্রমোশন না দিয়ে অর্থচ শফিউল্লাহকে সেনাপ্রধান করা হলে শুরু থেকেই সেনাবাহিনীর মধ্যে একটি দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির কালচার শুরু হয়। ওসমানীকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে কোনোদিনই কোনো আম্লীগারকে দেখিনি কারণ তিনি দলবাজীতে পারদর্শী হতে পারেন নি।

ভারতের আগ্রাসী এবং স্বার্থপর মানসিকতাই মুক্তিযোদ্ধে তাদের অবদানকেও আজ প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.