নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নেগেটিভ চার্জ নামটির সাথে নিজ ব্যাক্তিত্বের মিল অমিল আমি নিজেও খুজে বেড়াই। এর পিছনে একজন আবেগতাড়িত কাল্পনিক মহাপুরুষ এর যথেষ্ট অবদান রয়েছে।

নেগেটিভ চার্জ

তোমারেই যেন ভালবাসিয়াছি, শত রুপে শতবার....শত বর্ষ ধরে

নেগেটিভ চার্জ › বিস্তারিত পোস্টঃ

"হাসি"

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ রাত ২:২৮

গত ডিসেম্বর এ এই জায়গায় বসে ছিলাম।পাটুরিয়া ফেরীঘাট মোটামুটি ফাকা জায়গা । ফেরী থামার পল্টন আর যাত্রী উঠানামার রাস্তা ছাড়া আশেপাশের অংশগুলাতে মানুষ খুব একটা বেশি না। আমি পল্টনের এক সাইডে নদীর দিকে ফিরে বসে ছিলাম এবং লাইফের বিভিন্ন ক্রিটিক্যাল জিনিস নিয়ে গভীর চিন্তা করতেসিলাম :D । সাথে কেউ ছিলনা, আশেপাশেও কেউ ছিলনা । এইরকম পরিবেশে যেকোন বিষয় নিয়েই খুব গভীরে চিন্তা করা যায় :D

কিছুখন পরে সেদিকে প্যান্ট-শার্ট পরা এক লোক এসে কিছুখন পাইচারী করতে করতে এক সাইডে বসে পরল। হাতে একটা চটের ব্যাগ । সেখান থেকে একটা কাপড় বের করে নিচে বিছিয়ে দিল। তখন কিছু একটা নিয়ে চিন্তা করতেসিলাম। কিন্তু লোকটা আসার পর থেকে দুইটা জিনিস একসাথে ঘুরতেসিল মাথায়, অন্যমনষ্ক হয়ে চিন্তাভাবনা অন্য দিকে ডাইভার্ট হয়ে গেসিল। লোকটা কাপড়ের উপর চটের ব্যাগ টাও বিছিয়ে দিল, তার উপর রাখল একটা ওজন মাপার মেশিন যেটা ওই ব্যাগের ভিতরেই ছিল ।

এরপর সেও বসে আছে, আমিও বসে আছি । আশেপাশে কোন লোকজন নাই। একমাত্র কোন ফেরী আসলে সেদিক দিয়ে কিছু লোকজন যাতায়াত করতে পারে, তারপরেও অধিকাংশ লোক বাসের ভিতরেই থাকে ।

সেখানে বসে ছিলাম প্রায় ৪৫-৫০ মিনিট । এর মধ্যে ওই লোকের কাছে কেউ ওজন মাপা তো দূরের কথা, আশেপাশে দিয়ে যাতায়াত ই করেনাই,কোন ফেরী ও ভীড়ে নাই, যাত্রী ও নামেনাই। ওজন মাপা মেশিন নিয়ে বসে থাকা মানুষ নরমালিই অন্য মানুষের চেহারার দিকে আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে থাকে। এরা এমন এক ব্যাবসা করে, যেটার কাস্টমার এর চেয়ে মনে হয় ব্যাবসায়ী ই বেশি । মানুষের দাড়ানোর ই সময় নাই, ওজন কে মাপতে যাবে । এর মধ্যে ওই লোকের সাথে কয়েকবার চোখা-চোখি ও হইছে । সন্ধ্যার দিকে যখন প্রায় অন্ধকার, সে একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে মেশিনের পাশে রাখল। আমিও ব্যাক করার জন্যে উঠে পরলাম।

আসার সময় স্যান্ডেল খুলে ঐ মেশিনের উপর উঠলাম । নরমালি অন্য হকার রা স্কেল এর রিডিং দেখে বলে-আপনার ওজন এত কেজি এত গ্রাম... কিন্তু এই লোক কিছুই বলল না, একবার মুখের দিকে তাকাইল, আরেকবার স্কেলের দিকে । বুঝলাম এইটা সেলফ-সার্ভিস, নিজের টা নিজের ই দেখে নিতে হবে ।

এরপর মানিব্যাগ বের করে জিজ্ঞাসা করলাম- কত ??
-- ৩ টাকা
২ টাকার ২ টা নোট দিলাম।
লোকটা বলল- ১ ট্যাকা তো নাই
বললাম- আচ্ছা রাখেন

দিয়ে চলে আসতেছি ।সেই লোক ডাক দিল-ভাই , দিয়ে নিজেই উঠে আসল

--ট্যাকা টা চেঞ্জ কইরা দেন ভাই, নোট টা ছিড়া

একটা নোট কিছুটা ছেড়া ছিল । কাছে আর কোন ২ টাকার নোট ও ছিলনা । ওই লোকের কাছেও নাই । একটা ৫ টাকার কয়েন ছিল,নোট ২ টা নিয়ে সেটাই দিলাম ,বললাম- রাখেন

লোকটার মুখে হাসি ই ছিল,হতাশা ছিলনা । সেটা ৩ টাকার জায়গায় ৫ টাকা ইনকাম করার জন্যেই হোক, আর যাই হোক ।

সেটার জন্যে তাকে ১ ঘন্টা বসে থাকতে হইছে, এসব ক্রিটিক্যাল চিন্তা আমরা করি ,তারা মনে হয় করেনা । তারাও খুশি হয়, এবং হাসতে পারে...

একদিন সব হাসির ময়নাতদন্ত হবে । ফরেনসিক রিপোর্ট এ লিখা থাকবে- "সব হাসি মিথ্যা ছিলনা"

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.