নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শিক্ষক, সাংবাদিক ও সাহিত্যিক। ফেসবুকে যুক্ত হোনঃ www.facebook.com/dev.d.nipun (DEV DULAL GUHO)

...নিপুণ কথন...

সময়ের সাথে দৌঁড়ে পারিনা, জীবনের দৌঁড়েও পিছিয়ে আমি!খুঁজে ফিরি আপন মানুষ, মাঝে মাঝে হই বেহুঁশ...হৃদয়ে অবিরাম স্বপ্ন গাঁথন, বলব আজ নিপুণ-কথন।

...নিপুণ কথন... › বিস্তারিত পোস্টঃ

কবি বাবু ফরিদী ও বন্ধুসেবক ব্রহ্মচারীর লাশের উপর দাঁড়িয়ে শ্রীঅঙ্গনে উৎসব মিলেছে!

০৫ ই মে, ২০২৩ রাত ১০:০১



বাড়ীর পাশেই শ্রীঅঙ্গনে উৎসব হচ্ছে, মেলা হচ্ছে, অষ্টকালীন লীলাকীর্তন হচ্ছে। কিন্তু আমরা মা-ছেলে বাড়ীতে। হামলার শিকার হয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি, হামলাকারীরা গ্রেপ্তার হয়নি। মন আর শরীর কিছুই ভালো নেই। ঐ শ্রীঅঙ্গন কমিটির ইন্ধনেই প্রভাবশালীদের নির্দেশে আমাদের উপর আবারও হামলা হয়েছে গত মঙ্গলবার। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচেছি। মাকে টিটেনাসের টিকা দিতে হয়েছে হামলার শিকার হয়ে। তাই মন থেকে এসব উৎসব, আনন্দ, ভক্তিশ্রদ্ধা উঠে গেছে।

প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দরের প্রতি শ্রদ্ধা থেকে আমার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত এ্যাডভোকেট কমল কৃষ্ণ গুহ ওরফে কবি বাবু ফরিদী উৎসবের কদিন নিরামিষ খেতেন। যেহেতু পাশেই শ্রীঅঙ্গন, তাই মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষার্থে এই কদিন আমাদের বাড়ীতে কোনো আমিষ রান্না হতো না। গত মঙ্গলবার হামলার শিকার হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা এই কদিন নিরামিষ খেতাম। কিন্তু মঙ্গলবার আমার চাকুরীর ৭ম বর্ষে পদার্পণের দিন সহকর্মীদের সাথে মিলিত হয়ে অনেকটা মনের ক্ষোভ থেকেই সেই নিরামিষ ব্রত ভাঙতে বাধ্য হই। কী লাভ এসব করে? দিনশেষে আমাদেরকে তো নাস্তিক ট্যাগ দিয়ে একঘরে করেই রেখেছে! তবে বাড়ীতে মা এখন নিরামিষ খান, আমিষ রান্না হচ্ছে না উৎসবের কদিন। তাঁকে কিছুতেই বুঝানো যায় না, এতটাই সহজসরল আর ধার্মিক আমার মা।

আমার বাবা উক্ত শ্রীঅঙ্গন কমিটির কার্যকরী সদস্য ছিলেন আজ থেকে প্রায় ৩০ বছর আগেও, তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক অমর বন্ধু ব্রহ্মচারীর আমলে।একাত্তরে শ্রীঅঙ্গনের লুট হয়ে যাওয়া বিশাল সাইজের কড়াইগুলো আমার বাবাই ফিরিয়ে এনেছিলেন তুলাগ্রামের বিভিন্ন লুটেরার বাড়ী থেকে। আমরা ফরিদপুর সদরের কৈজুরি ইউনিয়নের তুলাগ্রামের জমিদার ছিলাম। শ্রীঅঙ্গনের মুক্তিযুদ্ধকালীন ধ্বংসযজ্ঞ ও সাধু হত্যার ঘটনা প্রথম উঠে আসে আমার বাবার 'কমলের একাত্তর' বইতেই। শ্রীঅঙ্গনের আজকের এই অবস্থানের পিছে আমার বাবার অবদান অনস্বীকার্য হলেও জমি নিয়ে বিরোধের কারণে মূলত সেগুলো মন্দির কমিটি স্বীকার করে না। ২০০৮ সালে আমার বাবার রহস্যজনক মৃত্যু হয় এই শ্রীঅঙ্গন দক্ষিণ পল্লীতেই প্রতিবেশীর বাসায় রহস্যজনকভাবে, আমাদেরকে মামলা করতে দেয়নি। মন বলে উক্ত মৃত্যুর পিছে শ্রীঅঙ্গন কর্তৃপক্ষ জড়িত।

আমার মা ডা. কৃষ্ণা মিত্র (Krishna Guho) দীর্ঘ উনিশ বছর মাত্র ৩শ থেকে ৫শ টাকা মাসিক বেতনে শুধু এই শ্রীঅঙ্গনের দাতব্য চিকিৎসালয়েই মানবসেবা করে গেছেন, অন্য কোথাও চেম্বার দেননি। অন্যায়ভাবে উক্ত চেম্বার ভেঙে ফেলা হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীনে আমার বাড়ীর সামনের মন্দিরে মায়ের শিক্ষকতাও বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। অথচ কয়েকবার দক্ষিণ অঞ্চলের সেরা শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন মা এই বুড়ো বয়সেও। গত ৩+ বছর ধরে মাকে কর্মহীন করে রেখেছে, হতাশা আর নির্যাতনের শিকার মা দ্রুত বৃদ্ধ হচ্ছে আমার চোখের সামনে আর আমি কিছুই করতে পারছি না। শ্রীঅঙ্গন আমার সরকারি হয়ে যাওয়া জমিতে আদালতের আদেশ অমান্য করে অন্যায়ভাবে মার্কেট, ভক্তাবাস করে যাচ্ছে একের পর এক আর আমি প্রশাসন-পুলিশকে জানিয়ে যাচ্ছি শুধু প্রতিকারের আশায়।

২০১৯ সালে শ্রীঅঙ্গনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বন্ধু সেবক ব্রহ্মচারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয়। লাশের পা মাটিতে ছিলো আর রুমের দরজা বাইরে থেকে খোলা-বন্ধ করা যায়। বুঝাই যায় এটা আত্মহত্যা নয়। তারপরেও উক্ত মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে। তখন আমার নেতৃত্বে স্থানীয়রা প্রতিরোধ গড়ে না তুললে লাশটা গুম করে ফেলত এমপি ঘনিষ্ট প্রভাবশালীরা। আমাদের দাবির মুখে Bandhu Sabok ব্রহ্মচারীকে প্রভু জগদ্বন্ধুর সামনেই সমাহিত করা হয়। কিন্তু মামলা দিতে বাধ্য হলেও থলের বিড়াল বেরিয়ে আসার ভয়ে শ্রীঅঙ্গন কর্তৃপক্ষ উক্ত অপমৃত্যুর মামলা সঠিকভাবে এগিয়ে নেয়নি। তখন আমি সেখানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়দের সমর্থনে রুখে না দাঁড়ালে শ্রীঅঙ্গন সে যাত্রায় জনপ্রতিরোধ থেকে বাঁচত না এত সহজে একজন আইনজ্ঞ এলএলবি সাধুর মৃত্যুর দায় থেকে(বিস্তারিত কমেন্টের লিংকে)। আমি হত্যাকারীর বিচার চেয়ে শ্রীঅঙ্গন কর্তৃপক্ষকে নিজের অজান্তেই কালক্ষেপণ করে সেইফ এক্সিট নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছি! নাহলে অন্য ধর্মাবলম্বীরা এসে এর বিচার চাইতো, এত সহজে পাড় পেত না তারা। তখন মামলা হলেও পরে তা কালক্ষেপণ করে প্রভাব খাটিয়ে ডিসমিস করে দেওয়া হয়েছে। সেবক মামার ভাই উক্ত মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন করতেও ভয় পান।

এসব কারণেই গত ৩ বছর ধরেই শ্রীঅঙ্গনে যাই না আর। কেউ আমাকে মনেও রাখেনি। কিন্তু আমার মা সারাটা জীবন কাটিয়েছেন এখানে, তাই শত নির্যাতন-কটূকথা হজম করেও না গিয়ে থাকতে পারেন না। প্রভু যদি সত্যিই থাকতেন ওখানে, তাহলে এত অন্যায়-অনিয়ম-লুট-অবিচার-লাশের মিছিলের বিচার করতেন। বিচার করতেন আমাদের ঘর ভেঙে রাখার, সংস্কার করতে না দেওয়ার, আমার চাকরির ক্ষতি করার, আমাদের জীবন ধ্বংসকারীদের। প্রভু যদি থাকতেন ঐ মন্দিরে, তবে কত সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশের এই আঙিনাকে এভাবে এত অট্টালিকাঘেরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে দিতেন না। এখন যারা শ্রীঅঙ্গনে যায়, তারা কেউ যায় ব্যবসার স্বার্থে, কেউ যায় অবৈধ অর্থ থেকে সামান্য দান দেখিয়ে বাহবা পেতে, কেউ যায় শহরে ঘুরতে যাওয়ার তেমন জায়গা আর নেই বিধায়। আমার মনে হয় খুব সামান্যই আছেন যারা ঈশ্বরকে ভালোবেসে, প্রভুকে ভালোবেসে ওখানে যান। প্রভুকে দেখতে তাই ভারতে যাই সুযোগ পেলেই।

-- দেব দুলাল গুহ

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই মে, ২০২৩ রাত ১০:০৩

...নিপুণ কথন... বলেছেন: বন্ধুসেবকের হত্যা পরবর্তী ফেসবুকে দেব দুলাল গুহ আইডির লাইভ ভিডিও ফুটেজের সংকলন-- https://youtu.be/XG9_PTpMX7o

২| ০৫ ই মে, ২০২৩ রাত ১০:০৩

...নিপুণ কথন... বলেছেন: সাম্প্রতিক হামলার বিস্তারিত-- Click This Link

৩| ০৬ ই মে, ২০২৩ বিকাল ৩:০৭

রাজীব নুর বলেছেন: দুঃখজনক।

৪| ০৭ ই মে, ২০২৩ সকাল ১১:৪৬

মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
- কয়েক বছর আগে এখানে গিয়েছিলাম আমি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.