নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভাগ্যক্রমে আমি এই সুন্দর গ্রহের এক বাসিন্দা! তবে মাঝেমধ্যে নিজেকে এলিয়েন মনে হয়। তবে বুদ্ধিমান এলিয়েন না কোন আজব গ্রহের বোকা এলিয়েন!

নূর আলম হিরণ

ভাগ্যক্রমে আমি এই সুন্দর গ্রহের এক বাসিন্দা! তবে মাঝেমধ্যে নিজেকে এলিয়েন মনে হয়। তবে বুদ্ধিমান এলিয়েন না কোন আজব গ্রহের বোকা এলিয়েন!

নূর আলম হিরণ › বিস্তারিত পোস্টঃ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন আর বৃটেনের লাভ ক্ষতি।

২৫ শে জুন, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:২৬

বৃটেনের ইউরোপ ইউনিয়ন থেকে বাহির হয়ে যাওয়াতে কিছু মানুষের জ্ঞান ভরা বক্তব্য দেখে মনে হচ্ছে বৃটেন মনে হয় বিশ্ব মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাবে! তাদের অর্থনীতি সূচক নেমে যাবে মোজাম্বিক এর কাছাকাছি! আর ইউ ক্রেজি ম্যান? ৫২% লিভ ভোট দেওয়া মানুষকে আপনি হাদারাম বলছেন! তারা কি না বুঝেই ভোট দিসে? আসলে আমদের আগে বুঝতে হবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে ব্রিটিশরা কি কি সুবিধা পেতো আর কি কি দিতো? দেওয়া আর নেওয়ার ভারসাম্য কতটুকু?
২য় বিশ্বযুদ্ধের পরে ইউরোপের বেশিরভাগ দেশেরই অর্থনৈতিক অবস্থা ভয়াবহ আকারে খারাপ হতে থাকে। এরপরেই বেশ কয়েকবার আরব ইসরাইল যুদ্ধ লাগে যার ফলে মধ্যপ্রাচ্য উন্নত দেশ গুলোর উপর তেল অবরোধ দেয় মানে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেয়। যার প্রভাব সরাসরি ইউরোপের দেশ গুলির জীবন যাত্রার উপর পড়ে। দেশ পরিচালনা কারীরা সত্যিকার অর্থেই বিচলিত হয়ে পড়ে! বৃটেনের অবস্থা আরো খারাপ ছিল। এই সময় ইউরোপ ইউনিয়ন এর সাথে যুক্ত  ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম, ইতালি তাদের অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে উঠতেছে আর তার সাথে যোগ দেয় নেদারল্যান্ড আর লুক্সেমবার্গ। বৃটেনও তখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ যোগ দেওয়ার জন্য তখনকার প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ গণভোট এর আয়োজন করে এবং ব্রিটিশরা আনুষ্ঠানিক ভাবে ১৯৭৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ যোগ দেয়। এবং তারা তাদের অবস্থার উন্নতি করতে থাকে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এর সাথে যোগ দিলেও তারা বেশ কিছু ব্যাপারে নিজেদের গুটিয়ে রাখে সবাই একক মুদ্রা ইউরো গ্রহণ করলেও তারা তা করেনি বরং তাদের পাউন্ড /স্টালিং চালু রেখেছে। বাকিরা সীমান্তে দিয়ে চলাচলের প্রক্রিয়া সহজ করলেও তারা এই নীতি গ্রহণ করে নাই! ইউরো জোনের জন্য সম্মিলিত বাজেট চালু হওয়ার পর থেকে বৃটেন এতে উল্লেখযোগ্য ভাবে অবধান রাখে গত ২০১৫ ইউরো বাজেটে তারা ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড দেয়! ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বাহির হওয়ার জন্য যারা লিভ ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভোট দিসে তারা এটাকে একটা ফ্যাক্ট ধরেছে।
এই ব্রিটিশরা আগা গোড়ায় এক ভন্ড জাতি বেশ সুবিধাবাদীও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যখন শরণার্থী সমস্যায়, গ্রীসের দেউলিয়াত্ব নিরসনের সমস্যায়, অভিবাসন সমস্যায়, উগ্র মৌলবাদী সমস্যায় তখনি তারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাচ্ছে। আমেরিকার সাথে হাত মিলিয়ে যখন লাখ লাখ লোক কে শরণার্থী বানিয়েছিল তখন খেয়াল ছিল না এদের। বাকী ২৭ দেশকে বিপদে রেখে তারা আস্তে করে সরে গিয়েছে! যেন কিছুই তাদের করার নেই! সত্যি বলতে ইউরো জোন থেকে ব্যবসায়ী ফায়দা লুটার সুযোগ ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে দেওয়ার চেয়ে নেওয়ার আবদার বেশি তাই তাদের এই প্রস্থানের কারন!
ব্রিটিশরা যে কি পরিমাণ অসভ্য তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা পৃথিবীর নানা দেশ এরা দখল করে শাসন, শোষণ, নিপীড়ন আর সব নিঃশেষ করে তারা গনতন্ত্রের দোহাই দিয়ে চলে যায়।
তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বাহির হওয়াতে তাদের যে বড় সমস্যা হবে তা হচ্ছে বিশ্ব মানচিত্রে হয়তো অচিরেই দুই একটা নতুন দেশের আবির্ভাব হতে পারে। এছাড়া তাদের অর্থনৈতিক ক্ষতিসাধনের যে ব্যাপার বলা হচ্ছে সেটা খুব বড় আকারে দেখা দিবে না।
এন.আলম
২৫/০৬/২০১৬

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.