নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

ভাগ্যক্রমে আমি এই সুন্দর গ্রহের এক বাসিন্দা! তবে মাঝেমধ্যে নিজেকে এলিয়েন মনে হয়। তবে বুদ্ধিমান এলিয়েন না কোন আজব গ্রহের বোকা এলিয়েন!

নূর আলম হিরণ

ভাগ্যক্রমে আমি এই সুন্দর গ্রহের এক বাসিন্দা! তবে মাঝেমধ্যে নিজেকে এলিয়েন মনে হয়। তবে বুদ্ধিমান এলিয়েন না কোন আজব গ্রহের বোকা এলিয়েন!

নূর আলম হিরণ › বিস্তারিত পোস্টঃ

আজব ভাতীয় ঋণে এগিয়ে চলছে সর্বনাশা রামপাল!

০৫ ই অক্টোবর, ২০১৬ বিকাল ৫:০৫

আজব ভাতীয় ঋণ এ এগিয়ে চলছে সর্বনাশা রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প
বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন ঘেঁষে রামপালে ভারতের তাগিদে তাদের ঋণসহায়তায় যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের বহুমুখী সর্বনাশের পথ উন্মোচিত হয়ে পড়েছে। সারা দেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। কিন্তু ভারতের প্ররোচনায় বাংলাদেশের কার্যত সরকার তবুও এই প্রকল্প নিয়ে জোরেশোরে এগিয়ে যাচ্ছে। এই প্রকল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও জীববৈচিত্র্যের যে অপূরণীয় ক্ষতি করবে, তা ভবিষ্যতে আর কোনো দিনই পুষিয়ে নেয়া যাবে না।
রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ কোম্পানি। এক দিকে ভারত নিজ দেশেই পরিবেশগত কারণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প একের পর এক বাতিল করছে, বন্ধ করে দিচ্ছে; অপর দিকে বাংলাদেশে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। আবার এই প্রকল্পের জন্য ঋণ দিচ্ছে ভারতীয় রাষ্ট্রীয় সংস্থা এক্সিম ব্যাংক। সে ঋণেরও আজব শর্ত। বাংলাদেশ ভারত থেকে ঋণ নেবে। আবার সে ঋণ চড়া সুদে পরিশোধও করবে বাংলাদেশ। তবুও ভারত শুধু শুধু এই প্রকল্পের অর্ধেকের মালিকানা পাবে। আজব শর্ত। এর অর্থটা সরল। আপনি কোনো ব্যাংক থেকে একটি গাভী কেনার জন্য ঋণ নিলেন। সে ঋণ সুদসমেত পরিশোধও করতে থাকলেন। কিন্তু সে গাভীর অর্ধেক মালিকানা থাকলো ব্যাংক কর্তৃপক্ষের। তার দুধ বা বাছুরের অর্ধেক মালিকানাও আজীবন থাকবে ব্যাংকেরই; আপনি সব ঋণ শোধ করার পরও। রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের ঋণের কাহিনী এটাই।
পরিবেশগত কারণে সারা পৃথিবীই এখন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে। ভারতও এই কাতারে আছে। অতি সম্প্রতি তারা ফারাক্কায় ২১০০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে। এমনকি ভারতও তার নিজ দেশে গত জুনে চারটি বৃহৎ কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করেছে। সেগুলো স্থাপন করার কথা ছিল ছত্তিশগড়, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র ও উড়িষ্যায়। এখানে ১৬ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা ছিল। তবুও বাংলাদেশে এই প্রকল্প স্থাপনের জন্য কেন এতটা চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে ভারত, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। উপরন্তু উভয় দেশের সরকারই রামপাল থেকে এই প্রকল্প অন্যত্র সরিয়ে না নেয়ার ব্যাপারে অনড়। যদিও দেশের নাগরিকরা অন্য কোনো স্থানে এই প্রকল্প স্থাপনের বিরোধিতা করছেন না।
ভারতের উল্লিখিত চারটি প্রকল্পের জন্য আট বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছিল দিল্লি সরকার। এর মধ্যে ছিল পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, ভূমি অধিগ্রহণ প্রভৃতি। কিন্তু স্থানীয় অধিবাসীদের বিক্ষোভ প্রতিবাদের মুখে ভারত সরকার এ প্রকল্পগুলো বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। এর মধ্যে দুটি প্রকল্প ছিল উপকূলবর্তী এলাকায়। সেখানে ভারতীয় নিম্নমানের কয়লা নয়, আমদানিকৃত অপেক্ষাকৃত উচ্চমানের কয়লা ব্যবহার করার কথা ছিল। কিন্তু তাও সম্ভব হয়নি। ভারত প্রকল্প বাতিল করেছে। এ চারটি প্রকল্পে প্রতি বছর চার কোটি ৬০ লাখ টন কয়লা ব্যবহার করার কথা ছিল। তার আবার অর্ধেকই আমদানি করতে হতো। তাতে ভারতের বাণিজ্য ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হতো। তাই ভারত এখন বিদ্যুতের জন্য অধিক মাত্রায় নির্ভর করছে সৌরশক্তি, বায়ু, ছোট ছোট পানিবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়ার উপর। কিন্তু ভারতীয় নিম্নমানের কয়লা দিয়েই চলবে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প। তাতে ভারতের সাথে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি যেমন আরো বাড়বে, তেমনি পরিবেশ আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাছাড়া পানিসঙ্কটও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের আরো একটি বড় সমস্যা।
এদিকে ভারত সরকার তার কয়লার উৎপাদন দ্বিগুণ-তিনগুণ করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গেলে পানিসঙ্কট আরো বাড়বে। ভারতের ফারাক্কায় যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, তারও অন্যতম কারণ এই পানিসঙ্কট। এই ২১০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়ার পর বন্ধ করা হয়েছে ৫০০ মেগাওয়াটের আরো একটি ইউনিট। পানিসঙ্কটের কারণে বিহার সরকার কয়লাভিত্তিক দুটি মেগা বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য পানির গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ বিদ্যুতের টারবাইনগুলোকে ঠান্ডা রাখার জন্য নদী থেকে পানি তুলে টারবাইনে দিতে হবে। আবার সেই গরম পানি বর্জ্যসহ নদীতেই ফেলে দিতে হবে। ফলে এলাকার পানি ও বাতাস যেমন দূষিত হয়ে পড়বে, তেমনি ধ্বংস হবে বন। এতে পানির প্রাণী অণু ও উদ্ভিদ অণু ধ্বংস হয়ে যাবে। খাদ্যের অভাবে মারা যাবে মাছ। ফলে প্রতিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হবে। এছাড়া কয়লা সংরক্ষণেও বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.