নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নূর মোহাম্মদ নূরু (পেশাঃ সংবাদ কর্মী), জন্ম ২৯ সেপ্টেম্বর প্রাচ্যের ভেনিস খ্যাত বরিশালের উজিরপুর উপজেলাধীন সাপলা ফুলের স্বর্গ সাতলা গ্রামে

নূর মোহাম্মদ নূরু

দেখি শুনি স্মৃতিতে জমা রাখি আগামী প্রজন্মের জন্য, বিশ্বাস রাখি শুকনো ডালের ঘর্ষণে আগুন জ্বলবেই। ভবিষ্যৎকে জানার জন্য আমাদের অতীত জানা উচিতঃ জন ল্যাক হনঃ ইতিহাস আজীবন কথা বলে। ইতিহাস মানুষকে ভাবায়, তাড়িত করে। প্রতিদিনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা কালক্রমে রূপ নেয় ইতিহাসে। সেসব ঘটনাই ইতিহাসে স্থান পায়, যা কিছু ভাল, যা কিছু প্রথম, যা কিছু মানবসভ্যতার অভিশাপ-আশীর্বাদ। তাই ইতিহাসের দিনপঞ্জি মানুষের কাছে সবসময় গুরুত্ব বহন করে। এই গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে সামুর পাঠকদের জন্য আমার নিয়মিত আয়োজন ‘ইতিহাসের এই দিনে’। জন্ম-মৃত্যু, বিশেষ দিন, সাথে বিশ্ব সেরা গুণীজন, এ্ই নিয়ে আমার ক্ষুদ্র আয়োজন

নূর মোহাম্মদ নূরু › বিস্তারিত পোস্টঃ

হেফাজতের ঢাকা অবরোধের পঞ্চম বার্ষিকী আজঃ হেফাজতের বিরুদ্ধে করা ৫৪টি মামলার তদন্তে নাই কোন অগ্রগতি

০৫ ই মে, ২০১৮ রাত ৯:০১


৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরের ঘটনার ৫ম বার্ষিকীতেও কোনো কর্মসূচি নেই হেফাজতে ইসলামের। তবে ওই ঘটনার পঞ্চম বার্ষিকী উপলক্ষে গত ৩ মে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুরানা পল্টনের মাওলানা আতহার আলী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত নেজামে ইসলাম পার্টি একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে। সহ-সভাপতি অধ্যাপক এহতেশাম সারোয়ারের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সাধারণ সম্পাদক মুফতি আবদুল কাইয়ুমের পরিচলনায় অনুষ্ঠিত সভায় হেফাজতের ঢাকা অবরোধ ও মহাসমাবেশের বিভিন্ন দিকের ওপর আলোকপাত করে আরো বক্তৃতা করেন, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা শেখ লোকমান হোসেন, সহকারী মহাসচিব আলহাজ মো: ওবায়দুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এ কে এম আশরাফুল হক, প্রচার সম্পাদক মাওলানা মমিনুল ইসলাম, দফতর সম্পাদক পীরজাদা সৈয়দ মো: আহসান, ইসলামী ছাত্রসমাজের সভাপতি মো: নুরুজ্জামান ও মাহমুদ হাসান বাঙ্গালী প্রমুখ। আলোচনা সভায় ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামী বলেছেন, ৫ মের শাপলা চত্বরের শাহাদত শুধু একটি হৃদয়বিদারক ও মর্মস্পর্শী ঘটনামাত্র নয়, বরং এক শিক্ষণীয় ও অনুসরণীয় ঘটনা। এর এক দিকে রয়েছে শোকাবহ অশ্রুসজল কাহিনী, অপর দিকে মহান আত্মত্যাগের প্রেরণা এবং সেই সাথে ন্যায়, সত্য ও সততা প্রতিষ্ঠার দৃঢ়প্রত্যয়। সেদিনকার অতুলনীয় শাহাদত কোনো পরাজয়ের প্রতিফলন নয়, বরং পরম বিজয়ের সঙ্কেত।
উল্লেখ্য ২০১৩ সালের ৫ মের ঘটনায় হেফাজতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে রাজধানীসহ সারা দেশে ৭০টি করা হয়। এর মধ্যে রাজধানীর ৫৩টি মামলার মধ্যে রমনা থানায় ৩টি, শাহবাগ থানায় ৪টি, কলাবাগান থানায় ২টি, শেরেবাংলা নগর থানায় ১টি, মতিঝিল থানায় ৬টি, পল্টন থানায় ৩৩টি, রামপুরা থানায় ১টি ও যাত্রাবাড়ী থানায় ৩টি মামলা হয়। এতে হেফাজতের অর্ধশতাধিক কেন্দ্রীয় নেতাসহ কয়েক হাজার জনকে আসামি করা হয়। রাজধানীতে দায়ের করা মামলাগুলোর মধ্যে রমনা থানার ১টি, শাহবাগ থানার ১টি ও কলাবাগান থানার ২টি মামলায় চার্জশিট দেয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের ৯টি মামলার মধ্যে ৭টি মামলায় চার্জশিট হয়নি। চট্টগ্রামের ৩টি মামলা তদন্তাধীন ও বাগেরহাটের ৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ৭০টি মাতলার মধ্যে ২০১৪ সালে ১৬টি মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা হয়। যদিও সেগুলোর বিচারে তেমন কোনো অগ্রগতি নেই। ১৬টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হলেও বাকী ৫৪টি মামলাগুলোর তদন্তে একেবারেই অগ্রগতি নেই। কবে নাগাদ তদন্ত শেষ হবে তাও কেউ স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না। শুধু তাই নয়, মামলার মূল আসামিদের কারও কারও বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকলেও তারা প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। উল্লেখ্য ঢাকার সব মামলাতেই হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ নেজামী এবং যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির নেতাকর্মীদের মামলার আসামি করা হয়। তবে কোনো মামলাতেই হেফাজতের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে আসামি করা হয়নি।

উল্লেখ্য ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন রায়কে কেন্দ্র করে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চ তৈরি হয়। পরে ওই মঞ্চে নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যে রাজিব নামে একজন সন্ত্রাসী আক্রমণে খুন হলে ব্লগে ইসলাম ও মহানবীকে কটূক্তি করে তার লেখার বিষয়টি প্রকাশিত হয়। একইভাবে গণজাগরণ মঞ্চের সাথে সম্পর্কিত আরো কয়েকজন ব্লগারের ইসলাম বিদ্বেষী লেখার বিষয়েও খবর প্রকাশিত হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশে বিএনপি-জামায়াত মদদপুষ্ট কথিত ধর্মীয় সংগঠন হেফাজতে ইসলাম এবং সমমনা ইসলামি দল ও সংগঠনগুলো নাস্তিক ব্লগারদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। একপর্যায়ে বেফাকের সভাপতি ও হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শফীর নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলাম২০১৩ সালের ৯ মার্চ হাটহাজারীতে উলামা সম্মেলন করে ১৩ দফা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ৬ এপ্রিল ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ শেষে রাজধানীর শাপলা চত্বরে ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশগ্রহণে স্মরণকালের বৃহত্তম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশ থেকেই ৫ মে ঢাকা অবরোধের কর্মসূচি দেয়া হয়েছিল। আইন শৃংঙ্খলা বাহিনী সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে অবরোধে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। নানা বাধা প্রতিবন্ধকতার পরও হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজত ঢাকা অবরোধ করে। ঢাকার ছয় প্রবেশমুখে অবরোধ কর্মসূচি শেষে শাপলা চত্বরে অবস্থান নেন হেফাজতের লাখ লাখ কর্মী-সমর্থক। এ অবস্থানকে ঘিরে চরম উৎকণ্ঠায় পড়ে সরকারের উচ্চমহল। ওই দিন মধ্যরাতে পুলিশ, র্যা ব ও বিজিবির অভিযানের মুখে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হন হেফাজতের কর্মীরা।

আহমদ শফী ঘটনার দুই দিন পর ৭ মে এক বিবৃতিতে দাবি করেন, অভিযানের সময় আড়াই থেকে তিন হাজার লোক মারা গেছেন। একই রকম দাবি করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীও। কিন্তু গত ৫ বছরে এই দাবির পক্ষে তারা কোনো তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেনি। হেফাজত সূত্র জানায়, হেফাজতের আমির ও তাঁর ছেলে আনাছ মাদানির সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা এখনো নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। এ অবস্থায় সরকারের বিপক্ষে যায় এমন কর্মসূচি বা বক্তব্য দেওয়া থেকে হেফাজতের নেতারা বিরত রয়েছেন। হেফাজতের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, অভ্যন্তরীণ বিভেদ, হতাশা ও অবিশ্বাসে সংগঠনটির কার্যক্রম প্রায় বন্ধ বা থিতিয়ে পড়েছে। হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর সরকারের বিভিন্ন সংস্থার চাপ ও নজরদারি রয়েছে। এ অবস্থায় সংগঠনটি নিজেদের ১৩ দফা দাবি নিয়ে সরব অবস্থান থেকে সরে দাঁড়িয়েছে।

মন্তব্য ১৫ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১৫) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই মে, ২০১৮ রাত ৯:২২

প্রামানিক বলেছেন: হায়রে হেফাজত- - -- - -

০৫ ই মে, ২০১৮ রাত ৯:২৭

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
হেফাজত নিজেদেরই হেফাজত করতে ব্যার্থ !
জনগণের হেফাজত করবে কি করে?

২| ০৫ ই মে, ২০১৮ রাত ৯:২৮

ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন: আফসোস হেফাজত ‍যদি ভেজাল খাদ্যদ্রব্য রোধে আন্দোলন করতো ? সমগ্র বাংলাদশে তাদের সাথে থাকতো, সাথে থাকতো আরো - - - - - - - - - - - - - - -- বলে লাভ নেই কারণ হেফজত তাহা করেনি !!!
হেফাজত কিসের হেফাজত করতে চেয়েছেন তাহা পশ্নবিদ্ধ ?

০৫ ই মে, ২০১৮ রাত ৯:৩৪

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
যার কাজ তার সাজে
অন্য লোকের লাঠি বাজে !!

৩| ০৫ ই মে, ২০১৮ রাত ৯:৪৪

কাওসার চৌধুরী বলেছেন: হেফাজত এখন সরকারের হেফাজতে আছে। অতএব, বিষয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না। ৫৭ ধারা আছে।
নূরু ভাই, সময়োপযোগী সুন্দর পোস্ট। শুভ কামনা আপনার জন্য।

০৫ ই মে, ২০১৮ রাত ৯:৪৯

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
আমি তাদের ব্যাপারে কিছু বলিনাই
শুধু মামলার গতিবিধির কথা তুলে ধরেছি।
ধন্যবাদ আপনাকে চৌধুরী ভাই।

৪| ০৫ ই মে, ২০১৮ রাত ১০:৪৯

শামচুল হক বলেছেন: হেফাজতরা এখন হেফাজতেই আছে

০৬ ই মে, ২০১৮ দুপুর ১২:৫০

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন
সকল নাফরমানি থেকে।

৫| ০৬ ই মে, ২০১৮ রাত ১২:২৩

আজমান আন্দালিব বলেছেন: একপর্যায়ে বেফাকের সভাপতি ও হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শফীর নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলাম ১৯১৩ সালের ৯ মার্চ হাটহাজারীতে উলামা সম্মেলন করে ১৩ দফা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।...১৯১৩ না ২০১৩?

০৬ ই মে, ২০১৮ দুপুর ১২:৫০

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
২০১৩ সালের ৯ই মার্চ

৬| ০৬ ই মে, ২০১৮ সকাল ১০:০৬

রাজীব নুর বলেছেন: হেফাজতদের আমি পছন্দ করি না।
ওরা দুষ্টলোক।

০৬ ই মে, ২০১৮ দুপুর ১২:৫২

নূর মোহাম্মদ নূরু বলেছেন:
সবার মাঝেই ভালো মন্দ আছে,
তাই বলে মানুষকে ঘৃনা করতে নাই।

৭| ০৬ ই মে, ২০১৮ দুপুর ১:০৪

আবু আফিয়া বলেছেন:

৮| ০৬ ই মে, ২০১৮ দুপুর ১:২৫

আবু আফিয়া বলেছেন: ৬ই মে মহাসমারহে উদযাপন করুন
আজ ৬ই মে ২০১৮। ৫ বছর আগে এই দিনে হেফাজতে ইসলামের কওমী মাদ্রাসার ছাত্ররা শিক্ষকদের ডাকে বাধ্য হয়ে ধর্ম রক্ষার জেহাদে অংশগ্রহণ শেষে ‘বিজয়ী’ মুজাহিদরূপে নিজ নিজ বাড়ী ফিরে গিয়েছিল।

এরপরে নায়েবে রসূলরা এ মহান জেহাদে আড়াই/তিন হাজার মুজাহিদ শহিদ হয়েছেন বলে দাবি করেন এবং দেশব্যাপী গায়েবানা জানাযা পড়ান। তবে ৫৭ জনের বেশি সন্ত্রাসী এ যুদ্ধে মারা গিয়েছিল বলে প্রমাণিত নয়। কথিত শহিদদের অনেককে জীবিত খুঁজে বের করে তাদের সাক্ষাতকারও প্রকাশিত-প্রচারিত হয়েছে সংবাদমাধ্যমে।

৬ই মে কেবল হেফাজতী মুজাহিদদের ‘বিজয়ী’ হবার দিন নয় বরং ইসলামের ইতিহাসে প্রথমবার কমপক্ষে ২৪৪৩ জীবিত মুসলমানের জানাযা পড়ানোর দিন। ইসলামের এ অভূতপূর্ব করেছিলেন হেফাজতী হুজুররা। এখানেই শেষ নয়। গত বছর ১৭ই এপ্রিল গণভবনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে হেফাজতী আমীর আহমদ শফীগংরা সৌজন্য সাক্ষাত করে আবারো প্রমাণ করেছেন তারা কত সৎ এবং সত্যবাদী।

তাদের ঘোষণামতে ২৫০০ মানুষ হত্যার যিনি হোতা তারই কাছে ধর্ণা দিয়ে ধর্ম রক্ষা করেছেন হিফাজতীরা। তাই ৬ই মে কোন সাধারণ দিন নয়। এটি সত্যমিথ্যা উদঘাটনের দিন। এটি হেফাজতীদের মুখোশ উন্মোচনের দিন। চলুন, সবাই মিলে মহাসমারহে এ দিনটি উদযাপন করি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.