| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
কদিন আগে একটা ফোন নিতে হয়েছে। আগের ফোনটা তিন বছরের মত সার্ভিস দিয়েছে। তবে টাচস্ক্রিনে সমস্যা দেখার কারণে সেটা ঠিক মত ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। নতুন ফোন বলে সেটা ব্যব হারও বেশি বেশি হচ্ছে। গান শোনা, ভিডিও এবং গেম সব চলছে একভাবে। গতকাল ছুটির দুপুরের দিকে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর কোনো কাজ করার মতো ছিল না। বিদ্যুৎ গেলে ওয়াইফাই বন্ধ হয়ে যায়, তখন সময় চলে অতি ধীরে। যদিও কিছু ডাটা প্যাক কেনা আছে, তবে বাসায় বসে সেই ডাটা খরচ করে গান শোনার মতো ইচ্ছে জাগে না মনে। কিন্তু আমার তখন হঠাৎই গান শুনতে ইচ্ছে হলো। ফোন নেড়েচেড়ে বিস্ময়ের সাথে আবিষ্কার করলাম যে আমার ফোনে কোনো গান সেভ নেই। আমি চটজলদি আমার আগের ফোনটা সার্চ করে দেখলাম এবং একইভাবে আবিষ্কার করলাম যে সেই ফোনটাতেও কোনো অডিও এমপিথ্রি গান সেভ করা নেই। অর্থাৎ প্রায় তিন বছরের বেশি সময় ধরে আমি কোনো অডিও গান আমার ফোনে রাখি নি। ব্যাপারটা দুই কারণে আমার মনে বিস্ময় জাগাল। এক, আমি নিয়মিত গান শুনি, কিন্তু আমার ফোনে কোনো গান সেভ নেই। আমি যে নিয়মিত গান শুনছি সেটার সম্পূর্ণটাই অনলাইনে। আর দুই, আমি যে আমার অফলাইনের গান শোনা থেকে পুরোপুরিভাবে অনলাইনভিত্তিক গানের ওপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছি, এটা আমি টের পর্যন্ত পাই নি। বিদ্যুৎ আসার পরে পিসির হার্ডডিস্ক সার্চ করে দেখলাম, সেখানে একটা অডিও গান নেই। এমন কি একটা ভিডিও গান পর্যন্ত নেই। কোনো মুভি নেই। কিছু না! কিন্তু আমি নিয়মিত গান শুনি, মিউজিক ভিডিও দেখি, মুভি সিরিজ দেখি। ইভেন এখন যে এটা লিখছি, তখনও একটা গান বাজছে।
একেবারে ছোটবেলা থেকেই আমাদের বাসায় একটা মাঝারি ক্যাসেট প্লেয়ার ছিল। আমার আব্বা একসময়ে গান শোনার ব্যাপারে বেশ সৌখিন মানুষ ছিলেন। এরপর বাসায় একটা বড় মাপের ডেসসেট প্লেয়ার এল। গান শোনার পরিমাণটা আরও বাড়ল। সেই ছোটবেলাতেই আমি দেখতাম আমাদের শোকেজের বড় একটা ড্রয়ারভর্তি ফিতার গানের ক্যাসেট ছিল। একটু বড় হলে গানের ক্যাসেট আমি নিজেই কিনে আনতাম। বিশেষ করে ব্যান্ড সংগীত আমার পছন্দের ছিল।
এরপর সিডি, ভিসিডি এবং ডিভিডির যুগ এল। সেই সময়ে অডিও এবং ভিডিও ডিস্ক কিনে আনতাম আমি নিজেই। নিজের কাছে বিশাল এক গানের কালেকশন ছিল। কোনো গান একবার আমার পছন্দ হলে সেই শিল্পীর অ্যালবাম আমি নিজের কাছে জমা করে রাখতাম। কলেজে ওঠার পরে ছোট এমপিথ্রি প্লেয়ারের চল এল। সেটা কেনা হলো। ছোট একটা ডিভাইসের ভেতরে কতগুলো পছন্দের গান ভরে শোনা যেত।
তারপর মাল্টিমিডিয়া ফোন এল ২০১০ সালের দিকে। তখন সব গান থাকত ফোনের মেমোরি কার্ডের ভেতরে। পিসি কেনার পর পিসির হার্ডডিস্ক ভর্তি হতে লাগল নানান ধরনের অডিও আর ভিডিও গানে, সেই সাথে নানা রকম মুভি-সিরিজ দিয়ে।
তারপর হঠাৎ করেই সবকিছু বদলাতে শুরু করল। হাই-স্পিড ব্রডব্যান্ড এবং কমদামি অ্যান্ড্রয়েড ফোন হাতে আসার পরে সবকিছু নেটে পাওয়া যেতে শুরু করল। তখন মনে হতে লাগল, যে জিনিস এক ক্লিকেই আমি শুনতে পাচ্ছি, নিজের হার্ডডিস্ক কেন আমি ভরে রাখব। আস্তে আস্তে আমার পিসি এবং ফোনের মেমোরি খালি হতে থাকল।
এখন নেটফ্লিক্স আর প্রাইমের কল্যাণে কোনো মুভি আর নামাতে হয় না। কোনো মুভি ডাউনলোড করে রাখতে হয় না আগের মতো। একইভাবে ইউটিউব আর স্পোটিফাইয়ের কল্যাণে একটা গান সেভ করে রাখার দরকার পড়ে না। এক ক্লিকেই সব শোনা যায়। কী দরকার ফোনের মেমোরি ভর্তি করে!
এই ব্যাপারটা তাহলে খেয়াল করে দেখুন। আগের থেকে আমাদের জীবন কতই সহজ হয়ে গেছে, কিন্তু আমাদের কাছ থেকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেছে। আগে একটা মুভির ডিভিডি কিনে নিয়ে আসতাম, তারপর থেকেই সেই মুভি আমি যখন ইচ্ছে তখনই দেখতে পারতাম। এখন ঠিক একইভাবে টাকা খরচ করে আমি নেটফ্লিক্সের সাবস্ক্রিপশন কিনছি। যখন ইচ্ছে তখনই আমি দেখতে পাচ্ছি মুভিটা, কিন্তু তারপরেও যেন নিয়ন্ত্রণ আমার হাতে নেই। সরকার যদি নেট বন্ধ করে দেয়, তবে আমি দেখতে পাব না। একইভাবে যদি সার্ভার সমস্যা করে, তবুও আমি দেখতে পাবো না। যদিও জানি এমনটা হবে না, নেট বন্ধ হবে না বা সার্ভার সমস্যা দেখা দিলেও সেটা ঠিক হয়ে যাবে, কিন্তু তারপরেও নিয়ন্ত্রণ কিন্তু আগের মতো আর নেই। গান শোনার ব্যাপারেও ঠিক তাই।
সামনে যত সময় যাবে, আমরা সম্ভবত একইভাবে এই প্রযুক্তির ওপরে আরও নির্ভরশীল হয়ে পড়ব, আমাদের নিজেদের হাতে থাকা নিয়ন্ত্রণ আরও কমে যাবে। যেমন—এর একটা উদাহরণ দিই। আগে আমি মুভি দেখতাম মূলত আমার যেটা পছন্দ সেই মুভি। বিভিন্ন পোস্ট পড়ে কিংবা সার্চ করে যে মুভিটা ভালো মনে হতো, সেই মুভি দেখতাম; কিন্তু এখন আমার মুভি দেখার ক্ষেত্রে নেটফ্লিক্সের বিশাল প্রভাব রয়েছে। নেটফ্লিক্সে পাওয়া যায় এমন মুভিই আমি এখন বেশি পরিমাণে দেখি। অন্য মুভিও যে দেখি না তা না, তবে নেটফ্লিক্সে যেটা সহজে পাওয়া যায় সেটাই দেখি। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবারে নতুন কিছু না কিছু এসে হাজির হয়, সেটাই দেখি। অন্য কিছু কষ্ট করে আর খুঁজতে ইচ্ছে করে না!
এত প্যাঁচাল কেন পাড়লাম কে জানে! মূলত যে গানটা শুনতে গিয়েও শুনতে পারিনি বিদ্যুৎ না থাকার কারণে, সেই গানটা আপনাদের জন্য নিচে দিলাম। গানটা কদিন থেকে একটানা শুনছি। গানটা আবার এআই দিয়ে বানানো গান। শুনলে মনে হবে না।
এই সেই গান-
১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫১
অপু তানভীর বলেছেন: অবশ্য এআই ভুত নয়, সুন্দরী অশরীরী পরী। আমার অনেক কাজে দেয় সে!
২|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:১০
অপ্সরা বলেছেন: তুমি এখন কোথায় আছো, কেমন আছো ভাইয়া??
তোমাদের সেই সবুজ ঘেরা বাড়িটার কথা মনে পড়ে!!
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:১৭
অপু তানভীর বলেছেন: আমি আছি আগের মতই যেখানে ছিলাম। সেই বাড়ি আর নেই !
৩|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৫৮
কলাবাগান১ বলেছেন: কবে শুনব যে বাংলাদেশ থেকে এমন প্রযুক্তি বের হয়েছে সেটা পুরা বিশ্বের সবাই ইউজ করছে যেমন আপনি করছেন গান শুনার জন্য। হোক না সে যেকোন ছোট খাট ব্যবহার যোগ্য কোন সিসটেম?? জ্ঞান-বিজ্ঞান এর প্রসার ছাড়া এসব চিন্তা করাই যায় না। সারা জীবন গ্রাহক হয়েই থাকতে হয়...বাংলাদেশে ধর্ম ভিত্তিক জ্ঞানের যে প্রসার হচ্ছে তাতে ভবিষ্যতে কোন সম্ভাবনাও দেখি না।
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭
অপু তানভীর বলেছেন: যারা নিজেদের ভবিষ্যতের নিশ্চয়তার জন্য দেশে ছেড়ে উন্নত দেশে চলে যায় তাদের মুখে আসলে দেশ নিয়ে আফসোস করা মানায় না। এই যে আপনার কথাই ধরুন, আপনি জ্ঞান বিজ্ঞানে এগিয়ে থাকা মানুষদের দলে। অথচ আপনি আমেরিকাকে সার্ভ করতেছেন। নিজেদের দেশের সেবা করার বদলে! আপনারা যদি নিজের দেশের জন্য কাজ করতেন তাহলে হয়তো দেশে অবস্থা পরিবর্তন হত! কিন্তু আপনি নিজের এবং নিজের পরিবারের কথা চিন্তা করেছেন। এখন বিদেশে উন্নত জীবন পার করে অবসর সময়ে দেশপ্রেম দেশপ্রেম খেলা করছেন!
৪|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২৭
কলিমুদ্দি দফাদার বলেছেন:
শুনশান রাত, মেঘলা আকাশ। আপাতত এই দুইটা পছন্দের গান আপাতত শুনবো।
এখন আর ফোনে গান রাখি না। নেট থেকেই শুনি। পোষ্টের জন্য ধন্যবাদ।
Barsaat
রাত নির্ঘুম
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮
অপু তানভীর বলেছেন: এখন খুব কম মানুষই ফোনে গান রাখে।
৫|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৬
অধীতি বলেছেন: আমি এখনো গোটা ত্রিশেক গান রাখি মোবাইলে এবং ল্যাপটপে। এগুলো আজীবন আমার ফেভরিট। আগে ফ্রিতে নামানোর জন্য অনকে ওয়েবসাইট ছিল এখন কমে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। শিল্পীকে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ঝামেলামুক্ত রাখার জন্য অনলাইনেই শোনা উচিত।
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:১০
অপু তানভীর বলেছেন: এক সময়ে কত গান ছিল। কিন্তু এখন একটাও নেই। অধিকাংশ মানুষের বেলাতেই এমন ব্যাপার।
হ্যা এটা সত্য বলেছেন। তবে অবশ্যই সঠিক জায়গা থেকে শুনতে হবে। যদি সঠিক জায়গা না হলে শিল্পী উপকৃত হবে না।
৬|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫৮
কামাল১৮ বলেছেন: একটিও না।
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:১০
অপু তানভীর বলেছেন: স্বাভাবিক
৭|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৮
হাসান মাহবুব বলেছেন: নাই।
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:১১
অপু তানভীর বলেছেন: আমার পরিচিত কারো ফোনেই এখন গান থাকে না আর আগের মত! বিশেষ করে যাদের কাছে নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট রয়েছে।
৮|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪
শ্রাবণধারা বলেছেন: ফোনের মধ্যে যে গান সেভ করে রাখা যায়, এটাই তো আমার জানা ছিল না!
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:১২
অপু তানভীর বলেছেন: সেকি কথা! সম্ভবত জন্ম থেকে আপনি আইফোন ইউজার এই কারণে। আমরা এন্ড্রোয়েজ ইউজার তো জানি!
৯|
১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৩
মরুভূমির জলদস্যু বলেছেন:
- ২৪১ টি গান আছে।
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:১২
অপু তানভীর বলেছেন: যাক একজনকে পাওয়া গেল যার ফোনে এখনো গান রয়েছে।
১০|
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১
কাজী ফাতেমা ছবি বলেছেন: অনেক আগে সেভ করে রাখতাম । এখন আর নাই । কত মোবাইল পাল্টাইলাম
০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২১
অপু তানভীর বলেছেন: আগেও আমার ফোনেও থাকতো অনেক গান। এখন আর সেটার দরকার নেই।
১১|
১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৪৮
খায়রুল আহসান বলেছেন: সাধারণতঃ সেলফোনে গান শুনি না। মাঝে মাঝে মন খারাপ হলে অল্প সময়ের জন্য শুনি। ল্যাপটপ খুলে বসলে ইউটিউব থেকে মনের সাধ মিটিয়ে পছন্দের গান শুনতে থাকি আর কাজ করতে থাকি।
০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২২
অপু তানভীর বলেছেন: বর্তমানে আমারও পিসি থেকেই বেশির ভাগ সময়ে গান শোনা হয়। তবে কদিন আগে আমি একটা এয়ারবার্ড কিনেছি। সেই কারণে এখন ফোনেও গান শোনা হচ্ছে।
©somewhere in net ltd.
১|
১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৪৬
শায়মা বলেছেন: ভাইয়ু
তোমার ঘাড়েও এআই এর ভূত!!!