| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বিপ্লবী রিয়াজ
আমি রিয়াজ মোর্শেদ, বি.এ সম্মান (৪র্থ বর্ষ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আমি ভালবাসি- গান করা, খেলাধূলা, বই পড়া এবং চিন্তা করা সহ আরো অনেক কিছু। বিজ্ঞান, দর্শন, সাহিত্য আমার চিন্তার জগতে আন্দোলন সৃষ্টি করে। আমি প্রগতিশীলতার পক্ষে।
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার খরচের উপর আরোপ করা ভ্যাটের প্রতিবাদে যে আন্দোলন হচ্ছে তাতে আমি সহমত পোষণ করছি। খুব ইচ্ছে হচ্ছে আন্দোলনে শরিক হতে।
আসলে সরকার শিক্ষার্থীদের মান সম্মত শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলেই কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের বাবা-মায়ের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে শিক্ষার মত মৌলিক অধিকারভুক্ত উপাদান কিনে নিচ্ছে। যদিও উচ্চ শিক্ষা আমাদের দেশের মৌলিক অধিকার নয়, কিন্তু পিয়নের চাকরি করতেও যেখানে স্নাতক পাশ লাগে সেখানে উচ্চ শিক্ষার বিকল্প নাই। দেশে কিছু প্রাইভেট ইউনিভারসিটি আছে যার মান অনেক ভালো কিন্তু টাকার অংক???!!!! আসলে শিক্ষার বাণিজ্যিকিকরণ একটা ভয়ানক সংকট এনে দিবে। যারা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার তাদের কারনেই অনেক উচ্চ শ্রেণি দাবিদার স্বার্থপর অভিভাবকগণ সরকারি কলেজ বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি বিরূপ মনভাব করে থাকে। তারা বোঝেনা আন্দোলন কি? আন্দোলন কেনো? তারা ভাবে নিজেকে নিয়ে নিরাপদ থাকতে পারলেই হলো। কিন্তু তা কি সম্ভব? আপনি বাস করেন একটি সামষ্টিক পরিবেশে যেখানে ঐক্যবদ্ধ না থাকাই একটা সমস্যা। পুঁজিবাদি সমাজ ব্যবস্থায় সকল কিছুই পণ্য তা মানতে কষ্ট হয় তাইনা? কষ্ট হলেও মেনে নিতেই হবে কারন আপনার সন্তানতো প্রতিবাদের ভাষা শিখেনি, আপনারা শিখতে দেন নি।
প্রাইভেট ইউনি গুলো যখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বাজে মন্তব্য করে তখন কিন্তু মেজাজ চটে যায়। আর এরা স্বীকার করতে চায় না যে পাবলিকে পড়ার সুযোগ নেই বলেই প্রাইভেট ইউনি গুলো চলছে। এরা ভাবে আমি ফকিন্নি গুলোর সাথে কেনো পড়াশোনা করবো। আমার একটা ক্লাশ ( স্তর) আছেনা। আসলে একটা জাতীয় সমস্যা হচ্ছে পুঁজিবাদের ব্যাপক উত্থান। যখন সরকার দেখছে যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজ গুলোর প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ নেই তখন সরকারকে সরকারি কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় বৃদ্ধির প্রস্তাবটা হাস্যকর হয়ে দাঁড়ায়। আমি হলফ করে বলতে পারি যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেশনজটের পেছনে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর হাত আছে। একবার একটা প্রাইভেট ব্যাংকের সার্কুলারে দেখলাম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে না। আবার একটা ব্যাংকের সার্কুলারে লিখেছে প্রাইভেট কিছু বিশ্ববিদ্যালয় সহ কেবল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই আবেদন করতে পারবে। আর আবেদন করতে প্রাইভেট ইউনিদের লাগবে সিজিপিএ ৩.২৫ আর ঢাবির লাগবে ৩.৫০। চিন্তা করেন কত্ত বড় স্পর্ধা!!!
আমি চাই আন্দোলনকারীরা আন্দোলন চালিয়ে যাক আর সরকার শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হোক এতে এরা বুঝবে যে আন্দোলন করাটা কতটা ন্যায্য আর টিকে থাকাটা কতটা সংগ্রামের ফল। আপনারা চালিয়ে গেলে পাশে পাবেন হাজারো শিক্ষার্থীদের। চালিয়ে যান, আমরা আসছি।
©somewhere in net ltd.