নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পিয়ালী পিয়া

পিয়ালী পিয়া › বিস্তারিত পোস্টঃ

এ জার্ণি বাই বোট

০৫ ই মে, ২০১৪ বিকাল ৩:৩২

শুশুক:

বাড়ি থেকে ৩ মিনিট লাগে স্কুলে যেতে, তবু ভালো স্কুলে পড়ে ভালো রেজাল্ট করা লাগবে- আব্বা এই অজুহাতে পাশের উপজেলার এক নাম করা স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেন। বন্ধু-বান্ধব ছেড়ে যেতে হবে ভেবে মন তো ভিষন খারাপ।আবার মাটির মেঝে আর টিনের বেড়ার স্কুল ছেড়ে দোতলা স্কুলে যাবো ভেবে একটু গর্ব ও হলো। পাঁচ কিলো পথ হাঁটতে হলে ও রোজ তো খেয়াপাড়ি দিয়ে স্কুলে যাবো ,এই খুশিতে তখন আমি সাড়ে এগারোখানা !! ডেইলি প্যাসেন্জার হিসেবে আমাদের খেয়া ভাড়া ছিল অর্ধেক অর্থাৎ আট আনা। আর ঘাটে যে লোকটা ঘাটের পয়সা নিত সে ছিল আমার দাদুর মামা বাড়ির লোক, সেই হিসেবে আমি তো পুরাই ফ্রি.. । খেয়া তে উঠে অপেক্ষা করত হতো কখন ১২ জন লোক হবে আর কখন খেয়া ছাড়বে। হাফ ভাড়া বলে মাঝি আমাদের ( আমি আর আমার বন্ধু ) বাদ দিয়ে লোক হিসাব করত। এক জন লোকের অভাবে মাঝি আধা ঘন্টা বসিয়ে রাখলে ও কখনো পুরো একটাকা ভাড়া দিতে রাজি হয়েছি এমন ঘটনা সেই ইতিহাসে কখনোই ঘটেনি!!:P:।খেয়ায় উঠেই আমাদের প্রথম কাজ ছিল নদীর ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ হাত ধুয়ে নেয়া। আর হঠাৎ হঠাৎ ভেসে ওঠা শুশুক দেখার আশায় উদগ্রীব হয়ে থাকা। আমারা যখন তীরেরকাছাকাছি তখন সে হয়ত মাঝ নদীতে, আর আমরা যখন মাঝ নদীতে সে তখন তীর ঘেঁষে ভুশ করে ভেষে উঠত:#। (কাছ থেকে শুশুক দেখার সে ইচ্ছে আমার আজ ও পূরন হয়নি)। ক্লাসে যেদিন জার্ণি বাই বোট রচনা পড়া দিল , আমি তো পড়ে পুরাই অবাক। আজব তো !! -#।যে রচনাটা লিখেছিল সে চেয়ে চেয়ে নদীর তীরে বউ-ঝি দের স্নান সেরে কলসি কাঁখে পানি নেয়া দেখল অথচ নদীর বুকে হুট-হাট ভেসে ওঠা শুশুকের দিকে ফিরে ও চাইলো না!!!!



কুমড়ো গড়াগড়ি:

সেদিন সকালে নদীতে ভাঁটা হয়ে গেছে। ওপার নেমে পিচ্ছিল খাড়া পখ বেয়ে আমরা লাইন দিয়ে তীরে উঠতেছি। হঠাৎ দেখি আমার পাশ দিয়ে কুমড়ো গড়াগড়ি দিতে দিতে কয়েক পাক খেয়ে ঝপাস করে কে যেন নদীতে পড়ল।আমার হা হা হি হি তো থামেই না। পাশে তাকিয়ে দেখি আমার স্বাস্থ্যবতী ( মোটু বললে মাইন্ড খায়) বন্ধু উধাও!! সে তখন নদীর পলি মাটি সারা গায়ে মেখে নিচ থেকে আমার দিকে অগ্ণি দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে। ঘাট ভর্তি সবাই হাসছে তাতে কোনো দোষ নেই , আমার দাঁত দেখানোর অপরাধে সেদিন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে গেল!! কি আর করা ,সে আমার যাত্রা পথের এক এবং অদ্বিতীয় সাথি । তাই অপরাধ স্বীকার করে , আমার এমন কোন দুরবস্থায় তাকে পরান খুলে হাসার অগ্রিম লাইসেন্স দিয়ে সেদিনের মতো ক্ষেমা পেলাম।









মন্তব্য ৬ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ০৫ ই মে, ২০১৪ বিকাল ৩:৫১

ডার্ক ম্যান বলেছেন: কখনো খেয়ায় চড়া হয় নি। আর শুশুক কি জিনিস???

২| ০৫ ই মে, ২০১৪ বিকাল ৪:০৪

পিয়ালী পিয়া বলেছেন: ডলফিন চিনেছেন তো? ওটাই শুশুক। উপকূলীয় অন্চলের নদীতে আগে দেখা যেত, এখন অবশ্য বিলুপ্ত প্রায়।

৩| ০৫ ই মে, ২০১৪ বিকাল ৪:৩৯

নীল ভোমরা বলেছেন: আপনার স্কুলের পাশে কোন নদী...সেটা-তো বললেন না?! শুশুক হচ্ছে এক ধরণের ডলফিন...নদীর ডলফিন (গ্যানজেস ডলফিন)। ছোট বেলায় গড়াই নদীতে আমিও অনেকবার শুশুক দেখেছি!....কিন্তু ভালভাবে মালুম করা যায়না...ভুশ করে ভেসে উঠেই ডুব দেয়..শুধু কালো পৃষ্ঠদেশ দেখা যায় ক্ষণিকের জন্য! নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় এখন অনেক নদীতেই আর শুশুক দেখা যায় না!

শুভকামনা!

৪| ০৫ ই মে, ২০১৪ বিকাল ৪:৪৭

পিয়ালী পিয়া বলেছেন: বিখ্যাত কোন নদী না তাই না বলিনি, ওটা বিষনা নদী।শুশুক দেখা যেত না বলেই কাছ থেকে দেখা্র খুব ইচ্ছা ছিল। আমাদের নদীতে ও এখন আর দেখা যায় না!!

৫| ০৫ ই মে, ২০১৪ বিকাল ৫:৪৭

সিকদারভাই বলেছেন: নদীতে শুশুক থাকার কথা না । আপনি যে টাকে শুশক বলছেন সেতা শাপলা মাছ ইংলিশে স্টিং রে বলে । ওটার লেজ লম্বা । লেজের মাথায় কাটা আছে। যার আঘাতে কয়েক বছর আগে একজন বিখ্যাত লোক মারা গেছে ।

৬| ০৬ ই মে, ২০১৪ সকাল ১০:০১

পিয়ালী পিয়া বলেছেন: সিকদার ভাই, আমার জানা মতে শুশুক (Ganges river dolphin) ডলফিনের একটা প্রজাতি যা উপকূলীয় অন্চলের নদীতে ও দেখা যেত।যেটার কথা নীল ভোমরা ও বলেছেন। ‍‍‌‌‌Steve Irwin যেটার আঘাতে মারা গেছেন সেটা আর এটা এক না।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.