| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন
সর্বস্বত্ত লেখকের
আপাত দৃষ্টিতে মূল্যবোধ ও নৈতিকতার মধ্যে কোন পার্থক্য সাধারনের নজরে পড়েনা। শুধু সাধারন নয় , বিজ্ঞলোকেরাও অনেক সময় বিষয় দুটোকে এক করে ফেলেন। কিন্তু মূল্যবোধ ও নৈতিকতার মাঝে স্পষ্টতই সুনির্দিষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান। দুটো ভিন্ন মাত্রার জিনিস। মূল্যবোধ শুধুমাত্র সুনির্দিষ্ট সমাজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। স্থান, কাল পাত্রভেদে এর পরিবর্তন, পরিবর্ধন, বিয়োজন, পার্থক্য বিদ্যমান। এর প্রভাব ক্ষুদ্র বলয়ে সীমাবদ্ধ। কিন্তু নৈতিকতা বিরাট বিষয়। এর প্রভাব সর্বজনীন। পৃথিবীর সর্বক্ষেত্রে, সর্বস্থানে এর প্রায়োগিক বিষয়টিতে কোন পার্থক্য করা যায় না। এতে বিয়োজন, পরিবর্তন, পরিবর্ধন গ্রহণযোগ্য নয়, সম্ভবও নয়। বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
মূল্যবোধ বলতে সাধারন ভাষায় সুনির্দিষ্ট কোন সমাজে প্রচলিত অথবা সমাজ কর্তৃক চাহিত কাংখিত জীবনব্যবস্থাকে বুঝায়। এর প্রভাব শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সমাজ, নির্দিষ্ট বলয়ে বিদ্যমান। পশ্চিম ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকার সমাজে যে মূল্যবোধ বিদ্যমান তা উপমহাদেশের সমাজে বেমানান। সেখানকার সমাজে লিভ টুগেদার, বিবাহ বহির্ভূত সন্তানলাভ, মদ্যপান খুবই স্বাভাবিক এবং অবশ্যই নিন্দিত নয়। কিন্তু আমাদের উপমহাদেশের সমাজে এ সমস্ত কার্যকলাপ শুধু নিন্দিতই নয় বরং যেকোন মূল্যে প্রতিরোধযোগ্য। তেমনি আরব সমাজে প্রচলিত বহুবিবাহ, অধিক সন্তানলাভ প্রভৃতি প্রথা দূরপ্রাচ্য এমনকি আমাদের উপমহাদেশের সমাজেও গ্রহণযোগ্য নয়। ভুটানে কোন পরিবারের বড় বোনকে বিয়ে করলে সে পরিবারের অন্য কন্যারাও যিনি বড় বোনকে বিয়ে করেছেন তার পাত্রী হিসেবে পরিগনিত হন। সে কারণেই ভুটানের রাজা ওয়াংচুক আপন চার বোনের স্বামী। কিন্তু মুসলিম সমাজে একই সাথে আপন দু'বোনকে বিয়ে করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
মূল্যবোধ যে স্থানভেদে পরিবর্তিত হয় তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে মহাভারতের একটি ঘটনাকে উপস্থাপন করা যেতে পারে। হস্তিনাপুরের রাজসভায় দুর্যোধন ও তার মামা শকুনীর কাছে জুয়ার হেরে যুধিষ্ঠির ও তার চার ভাই ১৩ বৎসরের জন্য বনবাস ও এক বছরের জন্য অজ্ঞাতবাসে যেতে বাধ্য হন। বনবাস অবস্থায় অর্জুন শ্রীকৃষ্ণের পরামর্শে স্বর্গাধিপতি ইন্দ্রের কাছ থেকে যুদ্ধবিদ্যায় অধিক পারদর্শীতা অর্জন ও বর প্রাপ্তির জন্য স্বর্গে গমন করেন। স্বর্গে অবস্থানকালে উর্বশী নামক এক অপ্সরা অর্জুনকে প্রেম নিবেদন করেন। তো স্বর্গের প্রেম পৃথিবীর লায়লা-মজনুর প্রেমের মতো নিরেট আত্মিক প্রেম নয়। এটা স্রেফ যৌনতা। অর্জুন পৃথিবীর মানুষ। বিবাহ বহির্ভুত যৌনতা তার মূল্যবোধের বিরুদ্ধ কাজ। সেই বিবেচনায় সে উর্বশীর প্রেমকে অস্বীকার করেন। কিন্তু উর্বশী স্বর্গের জীবনে অভ্যস্ত। অবাধ যৌনতা কিংবা স্বর্গের বাসিন্দাদের ইচ্ছানুযায়ী যৌনসঙ্গ প্রদান করা তার মূল্যবোধ বিরুদ্ধ নয়। তাই অর্জুনের এই 'অস্বীকার' করাকে সে স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। তার আবেদন অস্বীকার করার কারণে সে অর্জুনকে অভিশাপ দেয় এবং অভিশাপের কারণে অর্জুন পৃথিবীতে ফিরে আসার পর এক বছর নপুংশকের জীবনধারণে বাধ্য হন। অভিশপ্ত জীবনটা অর্জুন হাসিমুখে বরণ করে নিয়েছেন তথাপি তার মূল্যবোধকে বিসর্জন দেননি। এক্ষেত্রে অর্জুন ও উর্বশী দু'জনই তাদের মূল্যবোধ বিবেচনায় সঠিক। স্বর্গের অবাধ যৌনতায় অভ্যস্ত উর্বশী অর্জুনের অক্ষমতাকে কাপুরুষতা হিসেবে দেখেছে। তাই সে তাকে অভিশাপ দিয়েছে। অন্যদিকে পৃথিবীর জীবনে অভ্যস্ত অর্জুন 'নপুংশক' জীবনকে বেছে নিয়েছেন। তবুও তার মূল্যবোধকে বিসর্জন দেননি।
মূল্যবোধ সময়ের বিবর্তনেও পরিবর্তিত হতে পারে। আজ থেকে পঞ্চাশ কিংবা একশ বছর আগে সমাজে সামন্ত প্রভুদের যে প্রভাব ছিল, মোল্লাতন্ত্রের যে দৌরাত্ম ছিল, মেয়েদের বা মুক্তচিন্তাকে অবদমিত করে রাখার যে প্রয়াস ছিল তা কিন্তু এখন অনেক কমে গেছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এবং আশা রাখি আগামী পঞ্চাশ বছরে এই অবদমন করে রাখার প্রয়াসটি একেবারেই বিলুপ্ত হবে।
সমাজের সকল ব্যক্তির উপরও একই মূল্যবোধ প্রযোজ্য নয়। মূল্যবোধ অবশ্যই ব্যক্তির সামাজিক অবস্থান ও পারিপার্শ্বিকতার উপর নির্ভর করে এবং প্রেক্ষিত বিবেচনায় এর ধ্রুবক পরিবর্তিত হয়। ষাট বৎসরের বৃদ্ধের কাছ থেকে আপনি যে আচরণ আশা করেন তা একজন পরিপূর্ণ যুবকের কাছ থেকে আশা করা কোন অবস্থায়ই যৌক্তিক নয়। বাবার আচরণ ও পুত্রের আচরণ কখনই এক হবেনা। শিক্ষক ও ছাত্র দুজনের কাছ থেকেই একই মূল্যবোধ আশা করা বোকামি। তেমনি একজন রাষ্ট্রপধান যতটা শালীন ও সংযমী হবেন সেই একই রকমের শালীনতা ও সংযম সাধারনের কাছ থেকে আশা করার কোন মানে নেই।
অপরদিকে সদা সত্য কথা বলা, অন্যের ক্ষতি না করা, সম্ভব হলে উপকার করা, বাবা-মায়ের সেবা করা, বয়স্কদের সন্মান করা, নিজের দেশ ও দেশের আইনের প্রতি অনুগত থাকা এবং সর্বোপরি প্রয়োজনে দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করা নৈতিকতার অন্তর্ভুক্ত। এই নৈতিকতা সবার উপর সমানভাবে প্রযোজ্য। এর আবেদন সর্বজনীন। রাষ্ট্রপ্রধান বা সাধারনের মাঝে একে ভাগ করা যায় না। পৃথিবীর সকল স্থানেই এর প্রভাব সমান।
পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো রাষ্ট্রে মূল্যবোধের চেয়ে নৈতিকতাকে প্রতিষ্ঠিত করার উপর সবসময় জোর দেয়। মূল্যবোধগুলো ব্যক্তির ব্যক্তিগত ইচ্ছার উপরই ছেড়ে দেয়া হয়। অপরদিকে নৈতিকতাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু আমাদের দেশ এদিক থেকে ব্যতিক্রম। আমরা মূল্যবোধের আদলেই নৈতিকতাকে অর্জন করতে চাই। এতে অবশ্য দোষের কিছু ছিলনা যদি সেই মূল্যবোধ আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি হতে উৎপন্ন হত। আমাদের নীতিনির্ধারকগণ নিজস্ব সংস্কৃতিকে বিসর্জন দিয়ে রাষ্ট্রে নৈতিকতাকে প্রতিষ্টিত করার জন্য ধর্মীয় মূল্যবোধ ও শিক্ষাকে বেছে নিয়েছেন। সে কারণেই আমাদের শিক্ষব্যবস্থায় নৈতিকতা অর্জনের জন্য ধর্মীয় মাধ্যমকে বেছে নেয়া হয়েছে। পাঠ্যপুস্তকের নৈতিক শিক্ষাগুলো ধর্মভিত্তিক। এটা শুধু ধর্মীয় শিক্ষার জন্য গঠিত মাদ্রাসাগুলোর জন্যই নয়, সাধারন শিক্ষার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বিজাতীয় এ মূল্যবোধ আত্মস্থ করতে গিয়ে আমরা নিজেরা এবং আমাদের সন্তানদের সত্যিকারের নৈতিকতা অর্জন থেকে বঞ্চিত করছি এবং নৈতিকতার মুলধারণা থেকে বিচ্যুত হয়েছি। এ মূল্যবোধের শিক্ষা আমাদের নৈতিকতার সর্বোচ্চ শিখর অর্থাৎ দেশপ্রেম থেকে দূরে ঠেলে দিয়েছে। এ কারণেই শুধু মাদ্রাসায় শিক্ষায় শিক্ষিত নয়, সাধারন শিক্ষায় শিক্ষিত কাউকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় পৃথিবীতে তার প্রিয় স্থান কি তবে নিশ্চিত উত্তর আসবে মক্কা, মদীনা। নিজের দেশের কথা হয়ত রাওয়ালপিন্ডি বা ইসলামাবাদের পরে উচ্চারণ করবে। শুধু তাই নয়, এ শিক্ষার কারণেই নিজদেশের জাতীয় সংগীত পায়ের নীচের গড়াগড়ি খেলেও তারা উৎকন্ঠিত হয়না। কিন্তু আরবীতে লিখিত কোন অশ্লীল বাক্যও যদি রাস্তায় পরে থাকতে দেখে তবে তা পরম যত্নে তুলে সযতনে তুলে চুমু খায়।। এ শিক্ষার কারণেই নিজের লালন-পালনকারী পিতামাতার চাইতেও কোন এক প্রেরিত মহাপুরুষ তাদের কাছে অতি প্রিয়, যদিও সে পুরুষকে তারা কোনদিনও দেখেনি। কোনদিন দেখার সম্ভাবনাও নেই।
তবে সবচেয়ে বড় আক্ষেপ ও চিন্তার বিষয় হচ্ছে ধর্মীয় মূল্যবোধের অধিকারী এ ব্যক্তিরা শুধু দেশপ্রেমে উদাসীনই নয় বরং ধর্মকে প্রতিষ্ঠিত করার মানসে ক্ষেত্রবিশেষে দেশকে ধ্বংস করতে উদ্যত। এ কারণেই দেশের ৬৪টি জেলায় একসাথে বোমা ফাটাতে তারা পেছপা হয়না। বিচারালয়গুলো ধ্বংস করতে এবং এর সাথে সংশ্লিষ্টদের হত্যা করতে কুন্ঠিত হয়না।
অন্যদিকে আমরা যাদের মূল্যবোধ এবং সামাজিক আচরণ নিয়ে হাসি ঠাট্টা করি সেই আমেরিকার একজন খ্রীস্টান কখনই নিজের দেশের চাইতে জেরুজালেম কিংবা ভ্যাটিকানকে বড় মনে করেনা। নিজের মাতৃভাষার চাইতে হিব্রুভাষাকে বেশি মূল্য দেয়না। তেমনি করে একজন জাপানী বা ভিয়েতনামী বৌদ্ধ কখনই নিজের দেশের চাইতে লুম্বিনী বা নিজের মাতৃভাষার চাইতে পালিভাষাকে বেশি সন্মান দেয় না।
প্রকৃতপক্ষেই পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে এটা বলা যায় যে ধর্মীয় শিক্ষা বা মূল্যবোধের মাধ্যমে নৈতিকতা অর্জনের আমাদের প্রচেষ্টাটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই শিক্ষা আমাদেরকে দেশপ্রেম থেকে থেকে বিচ্যুত করে বোমাবাজ বানিয়েছে। নিজের দেশ ও সংস্কৃতিকে পর করে বিজাতীয় সংস্কৃতিকে আপন করতে উৎসাহীত করেছে। কাজেই অবস্থা বিবেচনায়, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় মূল্যবোধ ও মূল্যবোধের আলোকে নৈতিকতা অর্জনের বিষয়টি নিয়ে পুনরায় ভাবতে হবে। আমাদের নৈতিকতাকে মূল্যবোধের উপরে স্থান দিতে হবে। নিজের ভাষা, নিজের দেশ ও দেশের স্বার্থকে স্বার্থকে সর্বোচ্চ বিবেচনায় আনতে হবে। তারপরেও যদি আপনি মনে করেন আপনি নৈতিকতাকে মূল্যবোধের মোড়কে আচ্ছাদিত করেই পেতে চান তবে সে মূল্যবোধ হতে হবে একান্তভাবেই আমাদের, কোন বিজাতীয় সংস্কৃতি নয়। আমার মনে হয় এ বিষয়টি নিয়ে ভাববার মতো যথেষ্ট অবকাশ আমাদের নীতি-নির্ধারকদের থাকা উচিত।
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৩৭
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন: ধন্যবাদ। তবে পোস্ট রিলেটেড আলোচনায় অংশ নিলে বেশি খুশি হতাম তা আমার পক্ষেই হোক বা বিপক্ষেই হোক।
২|
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৪৩
প্রণব আচার্য্য বলেছেন: হুম! রাতে আসবো একবার...
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৪৫
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন: অপেক্ষায় থাকলাম।
৩|
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৪৫
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: প্রকৃতপক্ষেই পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে এটা বলা যায় যে ধর্মীয় শিক্ষা বা মূল্যবোধের মাধ্যমে নৈতিকতা অর্জনের আমাদের প্রচেষ্টাটি সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এই শিক্ষা আমাদেরকে দেশপ্রেম থেকে থেকে বিচ্যুত করে বোমাবাজ বানিয়েছে। নিজের দেশ ও সংস্কৃতিকে পর করে বিজাতীয় সংস্কৃতিকে আপন করতে উৎসাহীত করেছে। ..................................................................................................................................... আপনার এই কথাটির তীব্র প্রতিবাদ করছি।
ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে নৈতিকতা অর্জনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে কি? তার আগে ভাবুন আমরা কতটা যথাযথ ধর্মীয় শিক।সা দিতে পেরেছি। বা কতটুকু ধর্মী শিক্ষাকে মনে ধারন করতে পেরেছি?
আমাদেন এই ব্লগারদরে মধ্যে কতজন আছেন যিনি নামায পড়েননি? আবার কতজন আছেন যে ব্লু ফিল্ম দেখেননি? তাহলে আমরা কি নামায পড়লাম? আমাদের বাবা-মা কি আমাদের বলেছেন ওগুলো দেখ। তাও তো আমরা দেখেছি।
আসলে ধর্মের দোষ দিয়ে পার পাওয়ার এই প্রয়াস আর কত? আর কত নিজের সাথে নিজের প্রতারনা?
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৫০
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন: এটা সত্যি যে প্রত্যেকটা মানুষের মাঝেই ভাল মন্দ আছে। নিরেট সাধু কেউ নয়। এটা অর্জন সম্ভব নয়। তবে এটা কোন সমস্যাইও নয়।
সমস্যা হচ্ছে আদর্শিকভাবে যারা কট্টর এবং ভুল পথ অবলম্বন করে তাদের নিয়ে। আপনি কি এটা অস্বীকার করতে পারেন ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিতরা দেশের চেয়ে মক্কাকে বেশি ভালবাসেনা? যারা দেশের ৬৪টি জেলায় বোমা ফাটিয়েছিল তারা কি ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত নয়?
৪|
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৪৮
বাবুয়া বলেছেন: অনেক চিন্তাশীল এবং পরিশ্রমী লেখা। নিজের চিন্তা চেতনা সমৃদ্ধ করতে এমন লেখা তাতপর্যপুর্ণ তাই এই পোস্ট আমাদের সকলের সংগ্রহে থাকা উচিত বলেই আমি মনে করি।
আমার খুব ভালো লেগেছে এই পোস্ট-তাই প্রিয়তে এড করে নিলাম।।
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৫১
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন: ধন্যবাদ। তবে প্রিয় পোস্টে রাখার চাইতে পোস্ট রিলেটেড আলোচনায় অংশ নিলে বেশি খুশি হতাম।
৫|
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৫৭
বেয়াকুফ বলেছেন: অন্যদিকে আমরা যাদের মূল্যবোধ এবং সামাজিক আচরণ নিয়ে হাসি ঠাট্টা করি সেই আমেরিকার একজন খ্রীস্টান কখনই নিজের দেশের চাইতে জেরুজালেম কিংবা ভ্যাটিকানকে বড় মনে করেনা। নিজের মাতৃভাষার চাইতে হিব্রুভাষাকে বেশি মূল্য দেয়না। তেমনি করে একজন জাপানী বা ভিয়েতনামী বৌদ্ধ কখনই নিজের দেশের চাইতে লুম্বিনী বা নিজের মাতৃভাষার চাইতে পালিভাষাকে বেশি সন্মান দেয় না।
-------------------------------------------------------------------------------
বিশ্লেষণধর্মী পোস্ট, প্রতিটা লাইনের সাথে সহমত। ++
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৫৮
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন: প্লাসতো বাড়ে নাই। বরং নাহিদের মাইনাসটাই চোখে পড়তাছে।
প্লাস মাইনাস বড় না। আলোচনায় অংশ নিছেন সেটাই বড় কথা।
৬|
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:০৭
বাবুয়া বলেছেন: ফরহাদ ভাই,
কিছু কিছু ভালো লাগা সকল আলোচনার উর্ধে! যা লিখে কিম্বা বলে প্রকাশ করা যায়না। শুধু উপলব্ধি করা যায়। এই ব্লগের অনেকেরই ভালো লেখা আমি শুধু উপল্বধি করতে পারি। দুঃখের বিশয় আমি যথার্থ সমালোচনা লিখতে পারিনা-যা একান্তই আমার ব্যার্থতা!
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:২২
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন: বুঝলাম।
৭|
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:১৬
ব্রহ্মপুত্র বলেছেন: অনেক চিন্তাশীল এবং পরিশ্রমী লেখা।
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:২৩
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন: ধন্যবাদ।
৮|
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:২১
বেয়াকুফ বলেছেন: কি ব্যাপার? আমি দিলাম তো মনে হয়। এখন দেখাচ্চে আমি অলরেডি রেটিং করসি।
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:২৬
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন: রেটিংয়ের এর প্রয়োজন নাই। দেহেন না নাহিদ সাহেব আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়া কেবল মাইনাস দিয়া সরছে। কাঙাল ভাইও মাইনাস দিছে। তয় কি কারণে দিছেন এইডা হয়েতো ওনি নিজেও জানেন না।
যদি তিনি এর কারণ ব্যাখ্যা করতেন কিংবা পোস্টটা নিয়ে আলোচনা/সমালোচনা করতেন তাতে মাইনাসেও কোন আপত্তি ছিল না। বরং খুশিই হইতাম।
৯|
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৩০
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: নৈতিকতা এবং মুল্যবোধকে আলাদা করতে গিয়ে আপনি যেভাবে ধর্মের উপর দোষ চাপালেন তা শ্রেফ ধর্ম বিদ্বেষ ছাড়া কিছুই মনে হচ্ছে না। কারণ নৈতিকতা হিসেবে আপনি যা যা উল্লেখ করেছেন তার সবই ধর্ম থেকে নেয়া। - "অপরদিকে সদা সত্য কথা বলা, অন্যের ক্ষতি না করা, সম্ভব হলে উপকার করা, বাবা-মায়ের সেবা করা, বয়স্কদের সন্মান করা, নিজের দেশ ও দেশের আইনের প্রতি অনুগত থাকা এবং সর্বোপরি প্রয়োজনে দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করা নৈতিকতার অন্তর্ভুক্ত।" - এ'সবই ইসলামের নির্দেশ।
আপনি যদি ধর্ম বাদ দিয়ে এ'সব নৈতিকতার প্রশিক্ষন দেয়ার চেস্টা করেন তখন শিক্ষার্থিরা প্রশ্ন করতেই পারে -"এ'সব না মানলে সমস্যা কি? যখন সামান্য একটা মিথ্যা কথা বলে বা কলমের খোঁচায় কোটি টাকা প্রাপ্তির সুযোগ তৈরী হবে তখন তা থেকে দুরে থেকে কেন আমি কস্ট করব?" এ'সব প্রশ্নের উত্তর ধর্মই দিয়েছে এবং বলেছে যে কোন কঠিন পরিস্থিতিতেও নৈতিকতা ঠিক রাখতে হবে অন্যথায় পরকালে কঠীন সাস্তি পেতে হবে। এ'র মাধ্যমে ইসলামতো এ'সব নৈতিকতা পালনের ব্যাপারেই মানুষকে উৎসাহিত করেছে - তা'হলে সেই ধর্ম ইসলাম কিভাবে নৈতিকতার বিরোধী হল? আসল কথা হচ্ছে আমরা ইসলাম থেকে দুরে সরে গেছি - ইসলামকে যখন আমরা সঠিক ভাবে পালন করতাম তখন জ্ঞানে বিজ্ঞানে নৈতিকতায় আমরাই ছিলাম সেরা। এ'খন ইসলাম থেকে সরে যাবার কারণেই আমরা অধ:পতিত হয়েছি।
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৩:৪৭
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন:
"অপরদিকে সদা সত্য কথা বলা, অন্যের ক্ষতি না করা, সম্ভব হলে উপকার করা, বাবা-মায়ের সেবা করা, বয়স্কদের সন্মান করা, নিজের দেশ ও দেশের আইনের প্রতি অনুগত থাকা এবং সর্বোপরি প্রয়োজনে দেশের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করা নৈতিকতার অন্তর্ভুক্ত।" - এ'সবই ইসলামের নির্দেশ।
আপনার এই যুক্তিটা মানতে পারলাম না। ইসলাম এটা নতুন করে প্রবর্তন করেনি। মানুষ যখন থেকে চিন্তা করতে শুরু করেছে, যখন থেকে ভালমন্দের বিচার করতে শুরু করেছে তখন থেকে এগুলোকে মানুষ আয়ত্ত্ব করার চেষ্টা করেছে। এই আয়ত্ত্ব করার প্রচেষ্টা শুরু হয়েছে ইসলামের জন্মের অনেক আগেই। ইসলামের জন্মের আগেও মানুষ সভ্য ছিল, নৈতিক ছিল। সক্রেটিস, প্লেটো কিংবা এরিস্টটল যাদেরকে আমরা প্রায় সকল বিজ্ঞানের জনক হিসাবেই মানি তাদের জন্ম কিন্তু ইসলামের অনেক আগেই।
আপনার দ্বিতীয় যুক্তিটিও মানতে পারলাম না। প্রত্যেক মানুষ নিরাপত্তা চায়, তার সম্পদ রক্ষা করতে চায়, তার চিন্তা চেতনার বিকাশ ঘটাতে চায়। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, সম্পদ রক্ষা এবং মানুষের আত্মার বিকাশের নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাষ্ট্র গঠিত। প্রথমদিকে রাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল কেবল ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে রাষ্ট্র শুধু নিরাপত্তাই দেয় না, নাগরিকের প্রতি নাগরিক দায়িত্বও পালন করে। প্রত্যেক নাগরিকই রাষ্ট্রের নিয়ম মেনে চলে তার নিজের স্বার্থে। রাষ্ট্রের নিয়ম প্রবর্তিত হয়েছে মানুষের স্বার্থেই। কাজেই মানুষ তা মেনে চলবে নিজের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য। কোনরূপ পরকালের পুরস্কার প্রাপ্তির আশায় নয়। সমাজে একটা মানুষ ভাল থাকে বা তাকে ভাল থাকতে বাধ্য করানো হয় এই ব্যক্তির স্বার্থেই। কারণ বিপদগামী হয়ে সে যদি অন্যের ক্ষতি করে তবে যার ক্ষতি সে করছে সেও নিশ্চয় তাকে সুবিধামতো পেলে তাকে ছেড়ে দিবে না। সে অন্যকে নিরাপত্তা দেয় কিংবা অন্যে নিরাপত্তার ব্যাঘাত ঘটায় না নিজের নিরাপত্তাকে সংরক্ষিত করার জন্যই। পরকালের পুরস্কারের জন্য নয়।
১০|
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:০৬
অনিশ্চিত বলেছেন: আপনার লেখায় মানবতা বিষয়টিও আসলে ভালো হতো। তিনটের মিশেলে পূর্ণাঙ্গ বিষয়টা দাড়াতো বলে আমি মনে করি।
যা হোক। ধর্মের সাথে শুধু মূল্যবোধ বা নৈতিকতা নয়, আমি মনে করি প্রচলিত ধর্মের মাধ্যমে জাগতিক কোনো সমস্যার সমাধান করা যাবে না, সেই চেষ্টার করাও উচিত নয়। প্রচলিত ধর্মগুলো একটি নির্দিষ্ট সময়ে মানুষের মঙ্গলের জন্য দিশারী হিসেবে কাজ করেছে, কিন্তু যেহেতু সময় পরিবর্তনশীল এবং ধর্ম অপরিবর্তনীয়, সুতরাং এক ফ্যাক্টরের সাথে আরেক ফ্যাক্টরকে কখনোই মেলানো জ্ঞানসম্মত নয়। যে কারণে ধর্ম শিক্ষার মাধ্যমে মানুষকে মূল্যবোধ ও নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়া যাবে বলে ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয় না। তাছাড়া তুলনামূলক ধর্মশিক্ষার বিষয়টিও এখানে অনুপস্থিত। ধর্মের খুটিনাটি বিষয়গুলো জানতে হলে এই তুলনামূলক ডাইমেনশনটা দরকার, যেটা নিয়ে পড়াশুনা তো দূরের কথা- কথাও বলা যায় না।
আপনার লেখার এই উদ্যোগটির জন্য ধন্যবাদ।
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:১৪
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন: এমনিতেই পোস্টটা অনেক বড় হয়ে গেছে। তার সাথে মানবতা এড করলে আরো বড় হতো। এখানে আপনার মতো কষ্ট করে বড় পোস্ট কেউ পড়েনা। তবে ভবিষ্যতে এ তিনের সমন্বয় নিয়ে লেখার আশা রাখি।
এটা সত্যি ধর্মগুলো প্রবর্তিত হয়েছিলো বিশেষ সময়ের প্রয়োজনে এবং সময়ের প্রয়োজন তারা মিটিয়েছিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে এসব ধর্মের বিশেষ করে ধর্মীয় নিয়ম কানুনগুলোর প্রয়োজনীয়তা কতটুকু এটাই প্রশ্ন। আমার মনে হয় ধর্মীয় নিয়মগুলোর অনেক কিছুই এখন অকার্যকর হয়ে গেছে। যারা ধর্ম নিয়ে কথা বলেন তারা এ বিষয়টি উপলব্ধি করলেও স্বীকার করতে চাননা। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে ধর্মীয় আইনের সীমাবদ্ধতা নিয়ে আমার একটা পোস্ট আছে। সময় হলে পড়ে দেখতে পারেন।
Click This Link
১১|
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৪:৪০
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: প্রথম বক্তব্যের জবাবে বলছি - ইসলামের শুরু মুহাম্মদ(স: ) থেকে নয় বরং প্রথম মানব আদম(আ: ) থেকে। সুতরাং ইসলামের আগে থেকে নৈতিকতার শিক্ষা চালু হওয়া সম্ভব নয়।
এবার আসি দ্বীতিয় প্রসঙ্গে - মানুষকে ভাল বানানো যদি এতই সহজ হত তাহলে দুনিয়ায় আর কোন খারাপ মানুষই থাকত না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে যে দেশ অর্থনৈতিক ভাবে যত উন্নত সেই দেশই তত বড় দুর্নিতার আখড়া। আপনি রাস্ট্রকে যেভাবে সকল কিছুর উর্ধে স্থাপন করলেন তা বেশ হাস্যকর। আচ্ছা - রাস্ট্র তো ব্যাক্তির অপরাধের সাস্তি দেবে কিন্তু রাস্ট্রের অপরাধের সাস্তি কে দেবে? আর এ'যাবত দুনিয়াতে যত বড় বড় অপকর্ম হয়েছে তার বেশিরভাগই কি রাস্ট্রীয় শক্তির জোরে হয়নি?
ধরুন হিটলারের কথা - কত মানুষকে সে হত্যা করেছে? কত মানুশকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে? তাকে কী সাস্তি আপনি দিতে পরেছেন? যদি মানুষের আদালতে তাঁর বিচার করা সম্ভবও হত তাহলেও সর্বোচ্চ মৃত্যুদন্ডই নাহয় দিতেন - এত লক্ষ লক্ষ প্রানের বিনিময়ে একবার মাত্র মৃত্যুদন্ড কি ন্যায় বিচার হতে পারে? আর এ'যুগের হিটলার মি. বুশতো ইরাক এবং আফগানিস্তানেরমত দুটি দেশের লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ স্বাধারণ মানুষ হত্যা করেও বহাল তবিয়তে আছে - কে তার বিচার করবে?
বিদেশের কথা বাদ দিন - দেশের দিকে তাকান। দেশে দুর্নিতির মাধ্যমে টাকা উপার্জন এবং মহা সুখে তা উপভোগ করা মানুষের সংখ্যা কত? তাদের মধ্যে কতজন বিচারের সম্মুখিন হয়েছে?
এ'সব নাহয় ছোট অপরাধ - মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্যতম অপরাধ যুদ্ধাপরাধীদেরও কি আমরা বিচার করতে পেরেছি? পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদেরকেতো রীতিমত চুক্তি করে মুক্তি দিয়েছি আর বাঙালী যুদ্ধাপরাধীরাতো এ'খন গাড়ীতে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে চলে।
তাহলে আপনি কীভাবে বলছেন মানুষ শুধুমাত্র দুনিয়ার বিচারের ভয়ে ভাল থাকবে? হ্যা, কিছু মানুষ আছে যারা এমনিতেই ভাল। তাদের জন্য পরকালের ভয় বা দুনিয়ার বিচার ব্যাবস্থা কোনটিই প্রয়োজন নেই, কিন্তু তাদের সংখ্যা কত - হাজারে দুই এক জনের বেশী নয়।
আল্লাহ মানুষের চরিত্র খুব ভাল ভাবেই জানেন এবং জানেন বলেই বেহেস্ত - দোযোখ বানিয়েছেন এবং মানুষকে সেগুলোর খবরও পৌছে দিয়েছেন মানুষ যাতে চরম সংকট এবং খুব বড় প্রলোভনের মুহুর্তেও নৈতিকতা সংরক্ষণ করতে পারে। সুতরাং পরকালীন বিচারের চিন্তাই অপরাধ প্রবনতা রোধে সর্বোত্তম ব্যাবস্থা।
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৮:৩১
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন: ভাই, আপনার সঙ্গে তর্ক করতে গেলে প্রধান সমস্যা হয় তর্কের ভিত্তি নিয়ে। আপনার ভিত্তি হচ্ছে বিশ্বাস। যুক্তি কিংবা স্বীকৃত ইতিহাস নয়। এমন মানুষের সঙ্গে তর্ক করা কঠিন। আদমকে আপনি পৃথিবীর প্রথম মানুষ মনে করেন বিশ্বাসের কারণে। এই বিশ্বাস তওরাত থেকে বাইবেল, বাইবেল থেকে কোরআনে হস্তান্তরিত হয়েছে। কোন সাধারণ বা যৌক্তিক ইতিহাসের মাধ্যমে আদম কিংবা তার সঙ্গিনী ইভ স্বীকৃত নন।
আপনি যে বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছেন তা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। আমার মনে হয় আমি এর প্রতিউত্তর দিতেও সক্ষম। কিন্ত আপনার মন্তব্য আর আমার পোস্টের উদ্দেশ্য এক নয়। কাজেই এসব বিষয় নিয়ে বক্তব্য দিতে গেলে আমার পোস্টের লক্ষ্য বিচ্যুত হবার সম্ভাবনা আছে।
আমার এই পোস্টে সুনির্দিষ্ট একটি বক্তব্য আছে। আমি বলেছি ধর্মীয় শিক্ষাকে ভিত্তি করে নৈতিকতা শিক্ষা দেয়ার কারণে আমরা দেশপ্রেম থেকে বিচ্যুত হয়েছি। দেশের চেয়ে, নিজের ভাষার চেয়ে, আমরা অন্য দেশকে, অন্য ভাষাকে বেশি আপন ভাবছি। অন্য একটি দেশের সংস্কৃতিকে এদেশে প্রচলন করতে চাচ্ছি। আপনি এটা অস্বীকার করতে পারেন ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত বেশিরভাগ মানুষই নিজের দেশের চেয়ে মক্কাকে, নিজের ভাষার চেয়ে আরবীকে বেশি ভালবাসে না? আপনি নিজেও কি এর ব্যতিক্রম?
১২|
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:৪০
নাহিদ মাহমুদ বলেছেন: আপনি কি এটা অস্বীকার করতে পারেন ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিতরা দেশের চেয়ে মক্কাকে বেশি ভালবাসেনা? যারা দেশের ৬৪টি জেলায় বোমা ফাটিয়েছিল তারা কি ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত নয়?.............................................................................................................................................................
কখনোই না। ধর্মীয় শিক্ষায় যারা শিক্ষিত তারা দেশের চাইতে মক্কাকে বেশী ভালবাসেন না। প্রতিটা মুসলমানের কাছেই মক্কা পবিত্র স্থান ধর্মীয় দিক থেকে। আর দেশ তো দেশ ই। আপনি কি কোনো ধর্মীয়ভাবে শিক্ষিত মানুষকে পেয়েছেন যে বাংলাদেশকে মক্কা বানাতে চায়?
আপনি একটা চমৎকার কতা বলেছেন যে, "সমস্যা হচ্ছে আদর্শিকভাবে যারা কট্টর এবং ভুল পথ অবলম্বন করে তাদের নিয়ে।" এইটাই হলো পয়েন্ট। ধর্মকে মানলেই যে কট্টর হতে হবে এমন কোন কথা নেই। ইসলামধর্ম কেন শুধু কোন ধর্মই কট্টরপন্থীতা পছন্দ করে না। কেউ যথাযথভাবে ধর্মকে জানলে কখনো কট্টর হবে না।
আপনি যারা বোমা ফাটিয়েছে তাদের কথা বলেছেন যে, তারা ধর্মীয় শিক্ষালয়ে ছিলেন সত্য। কিন্তু যথাযথভাবে শিক্ষা পেয়েছিলেন, এটই কথাটা কি সত্য? কিন্তু আজ তো এটা দিনের আলোর মত পরিস্কার যে, তারা যা বলছিলেন বা করতে চাইছিলেন তা ইসলাম সমর্থন করে না। আর তাই আজ দিন শেষে আমরা তাদের ফাসি দিয়েছি, কিন্তু কোন দেশে কি ইসলাম ধর্মকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে?
খোদ আমেরিকাতেও কিন্তু ওতো বড় ঘটনার পরে বলা হয়েছে কিছু বিপথগামী মুসলিম কাজটা করেছে।
মূল কথা হলো, দোষটা ধর্মের থেকে পাওয়া আমাদের শিক্ষার না। ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত না হয়েও কিন্তু অনেকেই টেরোনিস্ট হয়। কেন হয়? কারন জীবন সম্পর্কে যথাযথ শিক্ষার অভাব।
তাই আমি বলতে চাইছি, ধর্মশিক্ষাকে বন্ধ না বরং যথাযথ ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে এই সমস্যাটার সমাধান হতে পারে।
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৮:৪৯
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন: আচ্চা ঠিক আছে, আপনার বক্তব্য অনুসারে আমি ধরে নিলাম এই ধর্মীয় শিক্ষায় হয়তো ত্রুটি আছে (আপনার বক্তব্যানুযায়ী)। এখন আপনি কি আমাকে বলবেন ইসলামের সঠিক শিক্ষা কিভাবে দেয়া সম্ভব? চৌদ্দশত বছর পরে আদৌ এ শিক্ষার প্রয়োজন আছে কি?
কিংবা আপনি যে সত্যিকারের ইসলামী শিক্ষার কথা বলছেন তা চৌদ্দশত বছর আগেও কার্যকর ছিল কি? আমি জানি না আপনার উত্তর কি হবে, তবে আমার উত্তর না।
আপনি যাকে স্বর্ণালী সময় বা ইসলামী শিক্ষার ভিত্তি বলেন সেই খোলাফায়ে রাশেদীনের তিনজনই আততায়ীর হাতে নিহত হয়েছেন। একমাত্র ওমর ছাড়া বাকি দু'জন মুসলমানের হাতেই নিহত হয়েছেন। যারা তাদেরকে হত্যা করেছে বা এর সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল তাদের অনেকেই রাসুলের সহচরও ছিলেন। উষ্ট্রের যুদ্ধে রাসুলের জামাতা আলী ও তার স্ত্রী আয়েশা পরস্পরের সাথে যুদ্ধ করেছেন। এটাই কি ইসলামী শিক্ষা? আপনি কি এই শিক্ষারই অভাব বোধ করেন? শুধু তাই নয় সে যুদ্ধের সময় যুদ্ধের ময়দান ত্যাগ করার সময় আলীর বাহিনী তালহা এবং যুবায়ের নামে রাসুলের দুই সাহাবীকে হত্যা করেন। আপনি কি এই হত্যার শিক্ষারই অভাব অনুভব করেন।
সিফফিনের যুদ্ধে রাসুলের জামাতা আলী এবং একসময়ে রাসুলের ব্যক্তিগত মুয়াবিয়া অস্ত্রধারণ করেছিলেন। রাসুলের দুই ঘনিষ্ঠ সহচর হওয়া সত্ত্বেও কেন তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করেছিলেন? এটাই কি ইসলামের শিক্ষা? আপনি কি এই শিক্ষারই অভাব বোধ করেন? শুধু তাই নয় বংশ পরম্পরায় এদের বংশধরেরা পরস্পরের বিরোধীতা করে গেছে। তাদের বংশধরেরা কারবালার নৃশংস ঘটনার জন্ম দিয়েছে। কোন মুশরিক কিংবা কাফের নয়। আপনি কি এই ইসলামী শিক্ষারই অভাব বোধ করেন?
১৩|
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ বিকাল ৫:৪১
প্রণব আচার্য্য বলেছেন: অনলাইনে আমি তাৎক্ষনিত প্রতিক্রিয়া লিখতে পারিনা... তাই আলোচানকর ইচ্ছা থাকলেও আলোচান করতে পারিনা... এটা আমার নিজস্ব স্বীমাবদ্ধতা।
এর আগে একটা কমেন্ট করেছিলাম, মন্তব্য প্রকাশ করতে দেখি আমি লগ আউট... মন্তব্যটি মুছে গেলো।
আপনার লেখাটির মধ্যে স্বদেশ, মাতৃভাষা, নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতি অকৃত্রিম টান সত্যি মুগ্ধকর; এবং পরবর্তি আলোচনা এই পোষ্টকে আরও ঋদ্ধ করেছে; আরও আলোচনা দেখার প্রত্যাশা করছি...
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১০:২৪
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন: অনেক, অনেক ধন্যবাদ।
১৪|
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৮:৫৩
১৯৭১ আমার চেতনা বলেছেন: মূল্যবোধ ও নৈতিকতা এবং তা অর্জনে সর্বত্তম উপায় হচ্ছে ধর্মীয় শিক্ষা।
+
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৯:১৩
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন: একবার বান্নারে বলদ বানাইছিলাম, এবার বানাইলাম তোমারে।
কিছু পড়ালেখা কর। না পইড়া হুদাই নারায়ে-তকবীর ধ্বনী দিলে হইবো?
১৫|
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৯:২৪
১৯৭১ আমার চেতনা বলেছেন: বলে রাখা ভাল, আমার+ দেয়া এই বিষয় নিয়ে লেখার জন্য।
@স্বপন ভাই
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৯:২৬
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন: ১৯৭১ আমার বেদনা, মিয়া পোস্টটা পড়।
১৬|
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:২৫
কাঙ্গাল মুরশিদ বলেছেন: আপনি আদম(আ: ) কে মানুন আর নাই মানুন এটা নিশ্চিত যে আপনি যেসব নৈতিকতার কথা বলেছেন তার সবগুলিই সকল ধর্মের মুল শিক্ষায় পাওয়া যাবে যেগুলোকে আপনি ধর্ম বাদ দিয়ে নিজের বলে দাবি করছেন। ধর্মই মানুষকে শিখিয়েছে কোনটি নৈতিক আর কোনটি অনৈতিক। মুহাম্মদ(স: ) প্রতিস্ঠিত ইসলাম হচ্ছে আল্লাহর কাছ থেকে আসা সর্ব শেষ বিধান। এর পুর্বেও আল্লাহ বহু নবী রাসুলের মাধ্যমে মানুষকে শিখিয়েছেন কোনটি নৈতিক আর কোন টি নয় - যা অন্যান্য প্রাচীন ধর্মীয় গ্রন্থ গুলোতে পাওয়া যায়। আপনি যদি ধর্মকে বাদ দিয়ে নৈতিকতা শিখাতে চান তাহলে এমন কিছু বলুন যা কোন ধর্মে বলেনি। তা না হলে ধর্মের শিক্ষাকেই ধর্মহীনভাবে প্রতিস্ঠিত করতে গেলে তার পরিনতি খুব একটা ভাল হয় না। পৃথিবীর প্রথম ধর্মহীন রাস্ট্র আলবেনীয়া সম্পর্কিত এই পোস্টটি দেখতে পারেন।
Click This Link
আর আপনার স্বাধারণ জ্ঞান বা ইতিহাস এখনও দুটি গুরুত্বপুর্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি -১. বিশ্ব জগত এবং মানুষের সৃস্টি রহস্য। এই বিশাল বিশ্ব ব্রক্ষ্মান্ড কি কোন উদ্যেশ্ব ছাড়া এমনি এমনি তৈরী হয়েছে? মানুষও কি আর দশটা কীট পতঙ্গের মত প্রাকৃতিক নিয়মে জন্ম নিয়েছে আবার কিছুদিন পর মাটির সাথে মিশে যাবে? না কি মানব জীবনের কোন সুনির্দিস্ট লক্ষ আছে? যদিও প্রশ্নগুলো শুনতে হালকা বা অপ্রয়োজনীয় মনে হচ্ছে কিন্তু বাস্তবে এর উত্তরের উপর মানুষের সামগ্রীক চরিত্র এবং কর্মতৎপরতা বির্ধারিত হয়। কারণ একজন মানুষ যখন বিশ্বাস করে এই জগত সৃস্টির কোন সুনির্দিস্ট উদ্যেশ্ব নেই, মানুষও আর দশটা পশু পাখিরমত এমনি এমনি জন্ম নিয়েছে আবার মৃত্যুর পর মাটির সাথে মিশে যাবে - তখন তাঁর যে চিন্তাচেতনা, আচার ব্যাবহার এবং চরিত্র হবে তার সাথে সেই ব্যাক্তির চরিত্র কখনই এক হতে পারে না যে নিজেকে এক মহান স্রস্টা আল্লাহ রব্বুল আল আমীনের সর্বশ্রেস্ঠ সৃস্টি মনে করে।
২. মানুষের জীবন এই জগতেই শেষ কি না। নাকি এর পরও অন্য কোন জগত আছে। এটিও একটি অন্যতম কঠীন প্রশ্ন। যদি মানুষের জীবন এখানেই শেষ হয় তাহলে প্রশ্ন আসবেই "কেন আমি এই একমাত্র জীবনে কস্ট করে সৎ থাকব?" আর এটা আমি আগের কমেন্টে দেখিয়েছি যে অসততা বা অপকর্মের জন্য এই জগতে খুব সামান্য সংখ্যক মানুষই সাস্তি ভোগ করে। সুতরাং শুধুমাত্র এই জগতের স্বাস্তি থেকে বাঁচার জন্য সততা নৈতিকতা ধরে রাখা আসলেই কস্টকর।
হ্যা, আমি জানি মানুষ মাত্রই সৎ এবং সে সৎ থাকতে চায়। কিন্তু এই স্বাধারণ সততার একটা সীমা থাকে - একজন হয়ত এক হাজার টাকার জন্য দুর্নীতি করবে না, কিন্তু সেই দেখাযাবে এক লাখের ক্ষেত্রে আর সৎ থাকতে পারছে না। অনেকের সততার মাত্রা হয়ত লাখেরও উপরে, কিন্তু কোটির অংকে গিয়ে তার পক্ষেও নিজেকে সামলান কঠীন হয়ে পরে। আবার প্রয়োজন বা সংকটের দিকটাও দেখতে হবে - যখন ঘরে অসুস্থ সন্তান আর অফিসে লক্ষ টাকা ঘুষের অফার, তখন কিসের ভরসায় মানুষ সৎ থাকবে? হ্যা, ভরসা হচ্ছেন আল্লাহ এবং পরকালে জাববদিহীতার ভয়।
যতদিন আপনার বিজ্ঞান এই দুটি প্রশ্নের সুনির্দিস্ট জবাব প্রয়োজনীয় প্রমানসহ দিতে পারবে না ততদিন ধর্মই একমাত্র ভরসা। আর সকল ধর্মের মধ্যে ইসলাম হচ্ছে সর্বশেষ এবং সর্ব শ্রেস্ঠ। সুতরাং নৈতিকতার জন্য ইসলামের সঠিক শিক্ষা এবং ব্যাপক চর্চার কোন বিকল্প নেই।
আমার একটা বিষয় ভাবতে বেশ অবাক লাগে - আপনারা মানুষকে ভাল বানানোর জন্য পুলিশ, আদালত, রাস্ট্রীয় ব্যাবস্থা সবকিছুর ভয় দেখাতে পারেন, কোন সমস্যা হয় না - আর ইসলাম দোযোখের ভয় দেখিয়েছে বলেই আপনাদের কাছে তা অগ্রহনযোগ্য। আপনি যদি বলতে চান যে মানুষকে নৈতিকতা শিক্ষা দেয়ার জন্য কোন কিছুর ভয় দেখানোর প্রয়োজন নেই - তাহলে পুলিশ এবং আদালত ব্যাবস্থা তুলে দিন - তারপর দেখুন মানুষ কতটা ভাল থাকে। বাস্তবতা হচ্ছে ধর্মহীন কমিউনিস্ট রাস্ট্রে পুলিশি ব্যাবস্থা আরো কঠোরভাবে প্রতিস্ঠা করতে হয়। আর সেই সাথে এটাও বাস্তব সত্য যে পুলিশী ব্যাবস্থা দিয়ে কোন দেশে কোন কালে সকল অনৈতিক কাজ বন্ধ করা সম্ভব হয়নি।
আপনি যে পশ্চিমা সমাজের চোখ ধাঁধান অর্থনৈতিক উন্নতী দেখে বিমোহিত হয়ে সে দিকেই যেতে চাচ্ছেন - একটু গভীরে তাকিয়ে দেখুন সেখানেও অনৈতিক কাজের কোন কমতি পাবেন না। আর দেশ প্রেম - যা নিয়ে আপনি খুব চিন্তিত মনে হয় - একান্তই আপেক্ষিক ব্যাপার এবং তা সবসময় সর্বাবস্থায় ভাল একথাও বলা যাবে না। হিটলার বা বুশ দেশপ্রেম এবং নিজ দেশের নিরাপত্তা ও উন্নতির দোহাই দিয়েই পৃথিবীটাকে নরক বানানোর কাজ করছে। আবার একজনের কাছে যা দেশপ্রেম অন্যের কাছে তাই দেশদ্রোহীতা - যেমন কাশ্মীর, ফিলিস্তিনসহ সকল স্বাধীনতাকামী এবং তাদের দখলকারী রাস্ট্রের কাছে দেশপ্রেমের সংগা সম্পুর্ণ বিপরীত। সুতরাং শুধুমাত্র দেশপ্রেম বিশ্ব মানবতার মুক্তির উপায় হতে পারে না। আর নৈতিকতার মধ্যে থেকে, অন্যের ক্ষতি না করে দেশের উপকারের জন্য যে দেশপ্রেম তাকে তো ইসলামে ইমানের অংগ বলা হয়েছে - তাহলে সেটাকেই বা আপনি ধর্মের বাইরে নিতে চাচ্ছেন কেন?
অনেক কথা বলে ফেল্লাম - হয়ত আপনি বিরক্ত হচ্ছেন। যাই হোক আপাতত বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ আপনাকে সঠিক বুঝ দিন - আমীন।
০৬ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ১:৫৭
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন: আপনি আমার পোস্টের বক্তব্যের আলোকে আপনাকে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করেছিলাম। আমি সত্যিই দুঃখিত আপনার এই বিশাল মন্তব্যে আমি একটি প্রশ্নেরও উত্তর পাইনি।
১৭|
০৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১০:০৩
কেএসআমীন বলেছেন: মূল্যবোধ আর কালচার কি এক?
০৭ ই অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১০:১০
ফরহাদ উিদ্দন স্বপন বলেছেন: হ্যা, আমার মতে এক।
©somewhere in net ltd.
১|
০৫ ই অক্টোবর, ২০০৮ দুপুর ২:৩৫
প্রণব আচার্য্য বলেছেন: