| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
রাজীব নুর
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি। কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।

সাম্প্রতিক কালে ডাক্তার জাহাঙ্গীর কবীর-
এবং প্রচলিত ডায়াবেটিক চিকিৎসকদের মধ্যে একটি জীবন মরন যুদ্ধ শুরু হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজে পাশ করা চিকিৎসকবৃন্দ অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ভাবে ক্রমাগত তাদের রোগী কমতে দেখে চলেছেন। তারা নিজেদের বঞ্চিত মনে করছেন। তারা ভাবছেন এই রোগীদের চিকিৎসা করার অধিকার একমাত্র তাদের। এই জাহাঙ্গীর কবীর কোথা থেকে উড়ে এসে তাদের বাড়া ভাতে ছাই দিচ্ছে। অন্যদিকে জাহাঙ্গীর কবীরের ব্যবসার এত রমরমা চলছে যে তিনি এখন তিন চারটি বিবির সংসার খরচ চালাতে পারছেন। চাইকি প্রত্যেক বিবির জন্য ডুবাই তে একটি করে পেন্থহাউস ও সম্ভবত কিনে দিতে পারেন। নিঃসন্দেহে ডক্টর জাহাংগীর কবির তার রোগীদের কাছে একজন আধ্যাত্মিক পীর সাহেবের মত। আমার মা এবং স্ত্রীও তার ব্যতিক্রম নন। তিনি ওনার পরামর্শ মত লাইফ স্টাইল পরিবর্তন করে (বয়সের কারণে কমই হাটেন) সুগার মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন।
জাহাঙ্গীর কবীর এবং এনার মত ফাংশনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞগন কিন্তু নতুন নন এজাতীয় চিকিৎসা পদ্ধতিতে।
মার্ক হেম্যান, উইল কোল, আসুল গুপ্ত, সামিনা মিঠা, স্টেইন একবার্গ প্রমুখ বিশ্বখ্যাত হোলিস্টিক এবং ফাংকশনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞগন বহুদিন যাবত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ফ্যাটি লিভার, পিসিওএস, আইবিএস, থাইরয়েড ইত্যাদি রোগ সমূহের প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতির বাহিরে জীবনযাত্রা পরিবর্তন, খাদ্য এবং ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রোগ নির্মূলের পথিকৃৎ। বাংলাদেশের ফাংকশনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা জাহাঙ্গীর কবীর সহ মূলত উপরে উল্লেখিত বিশেষজ্ঞগনের অলিখিত মুরিদ। এবং তারা কখনো'ই এদের অবদান স্বীকার করেন না। কারণ নিজেদের কে অসহায় রোগীদের নিকট অল স্কোয়ার পন্ডিত হিসেবে তুলে ধরতে হবে।
পূর্বে কোন ব্যক্তির ডায়াবেটিস ডায়াগনোস হওয়ার পর-
একজন ডায়াবেটোলজিস্ট বা এনডোক্রাইনোলোজিস্টের (হরমোন বিশেষজ্ঞ) শরণাপন্ন হত। যথারীতি ঔষধ এবং লাইফ স্টাইল পরিবর্তন প্রেসক্রাইব হতো। এই ডিগ্রিধারী চিকিৎসকগন কিন্তু ধরেই নিয়েছেন যে ডায়াবেটিস কখনও রিমিশান বা উপশম করা যায় না। একবার ডায়াবেটিস হলে রোগীকে সারাজীবন এই ব্যধি কে সমঝে চলতে হবে। এখানেই অন্যান্যরা যারা বিকল্প উপায়ে চিকিৎসা করেন, শত মাইল এগিয়ে আছেন। বাংলাদেশের ফাংকশনাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞগন মূলত রোগীদের এক ধরনের প্রতারিত করেন এই দাবী করে যে ডায়াবেটিস রিভার্স মানে সম্পুর্ন নির্মূল করা যায়। এই দাবী রোগীর মানসিক শক্তি বাড়িয়ে দেয়। যদিও ডায়াবেটিস নির্মূল যোগ্য রোগ নয়। তবে উপযুক্ত ডায়েট গ্রহন, জীবন যাত্রায় পরিবর্তন করে ডায়াবেটিস রিমিশান স্ট্যাটাসে আনা যায়। অর্থাৎ একজন সুস্থ্য স্বাভাবিক মানুষের মতই ঔষধ বিহীন জীবন কাটানো যায়। নিঃসন্দেহে এই অবস্থা সারাজীবন ডায়াবেটিস রোগী হয়ে থাকার চেয়ে শতগুণ উত্তম। এখানেই প্রচলিত চিকিৎসকদের ব্যর্থতা। তারা পরেছেন সেই সব চিকিৎসকদের মত ফান্দে।
তাহলে মুখরোকচ এই গল্পটি শোনা যাক।
এক শহরে কোথাকার এক নাপিত (পড়ুন জাহাঙ্গীর কবীর) এসে হাজির। সে ঘোষণা দিয়ে রোগীদের ফোঁড়া কাটে। কম চিকিৎসা ফিস এবং দ্রুত আরোগ্য হওয়ার কারণে চারিদিকে নাপিতের সুনাম। নাপিতের আত্মবিশ্বাস তুংগে। এবার সে ছোটখাটো শল্যচিকিৎসা ও শুরু করে দিয়েছে (পড়ুন জাহাঙ্গীর কবীরের অন্যান্য রোগের চিকিৎসা করার সমতুল্য)। প্রচলিত চিকিৎসক এবং শল্যচিকিৎসকগন ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মত আর দুধ (রোগী) পান না। তাই তারা একদিন একটি সভা আহ্বান করলেন যে কিভাবে এই মূর্তিমান উপদ্রব নাপিতের (জাহাঙ্গীর কবীর) হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
পরিশেষে সিদ্ধান্ত হলো নাপিত কে একটি ভোজে নিমন্ত্রণ জানানো হবে। আমন্ত্রণ পেয়ে নাপিত সাহেব চলেও আসলো। ভরপেট খাবার পর ডাক্তাররা নাপিতকে হিউম্যান ফিজিওলজি সম্পর্কে বোঝাতে লাগলো। কিভাবে একটি ভুল শিরা কেটে গেলে ব্যক্তির সম্পূর্ণ অংগ বিকল হয়ে যেতে পারে। এভাবে বেশ কয়েক ঘন্টায় নাপিত সাহেব অনেক জ্ঞান লাভ করে বাসায় ফিরল। এরপর থেকে সে আর কোন রোগীর ফোঁড়া কাটতে পারে না। যখনই ফোঁড়া কাটতে যায়, আর মনে পরে যায়, এই যে এখানে জগুলার ভেইন, এই খানে পালমোনারি ভেইন, ঔযে এদিকে চলছে মিডিয়ান কিউবিটাল ভেইন ইত্যাদি। কোথা থেকে কি কাটবো আর রোগীর বারোটা বেজে যাবে। এভাবে নাপিত মহোদয় শেষ পর্যন্ত ব্যবস্যা গুটিয়ে সরে পরতে বাধ্য হয়।
আমার মনে হয় আমাদের ডায়াবেটোলজিস্টগন গল্পের শহরের চিকিৎসকগনের মত এত উদ্ভাবনী ক্ষমতার অধিকারী এবং বুদ্ধিমান নন। তারা জাহাঙ্গীর কবীরের কয়েকটি ফেইলড কেস নিয়ে উঠে পরে লেগেছে। এত হাজার হাজার রোগীর চিকিৎসা করলে কিছু ফেইলড কেস থাকবেই।
যদিও জাহাঙ্গীর কবীরের উচিত খুব গভীর ডায়াবেটিক রোগীদের চিকিৎসা না করা।
কিন্তু গল্পের নাপিতের মত অতিরিক্ত আত্নবিশ্বাসী হয়ে মারাত্মক ডায়াবেটিক রোগীদের ঔষধবিহীন জীবনযাত্রা ধরিয়ে দেয়ার মত কিছু ভুল তিনি করেছেন। এর বাহিরে তার ব্যবসায়ের একটি আগ্রাসী রুপ আমাদের চোখে পরছে। তিনি ব্যয়বহুল সব মেডিক্যাল চেক আপ করতে দেন যেখান থেকে তিনি প্রচলিত চিকিৎসকদের মতো ই কমিশন বাণিজ্য করেন। এর বাহিরে রয়েছে তার ব্যবসায়ের আর একটি উইং। তথাকথিত অর্গাণিক পণ্যের নামে তিনি তিন গুণ চার গুণ দামে রোগীদের কাছে পণ্য বিক্রি করেন। নিজেকে মোটামুটি আধুনিক মুসলিম সুফী হিসেবে উপস্থাপন করছেন রোগীদের নিকট। তার চেহারাই রোগীদের নিকট প্লাসিবোর মত কাজ করে। আজকের এই লেখার উদ্দেশ্য উভয় পক্ষের মুখোশ উন্মোচন। এরা কেউই ফেরেশতা নন।
©somewhere in net ltd.
১|
১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৪
নীল-দর্পণ বলেছেন: ইদানিং ফ্যাটিলিভার ধরা পড়েছে, মা বাবা এবং দুইদিকের রক্তের সম্পর্কের আত্নীয়দের সুবাদে ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপের ঝুঁকিতে আছি। ভেবেছিলাম ডা. জাহাংগীর কবিরের পরামর্শ মত লাইফস্টাইলে কিছু পরিবর্তন এনে দেখবো। এর মাঝেই দেখি হৈ চৈ। যদিও অনেক আগে থেকেই উনার সম্বন্ধে পজেটিভ নেগেটিভ সমান আলোচনা শুনে আসছি। কাছের কিছু মানুষকে উপকার পেতে দেখে ভরসা পাচ্ছিলাম।