| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ছাত্রজীবনের পুলসিরাতে দাড়িয়ে আছি. সামনে ৩ তারিখ
এইচ.এস.সি. পরীক্ষার রেজাল্ট। রেজাল্টের গুরুত্ব কেবলমাত্র
একটা সার্টিফিকেট নয়, সামনের বড় বড়
ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার
জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ। গোল্ডেন এ+ নামক একটা কাল্পনিক
ফলাফলের
পিছনে ছুটছি আমরা অনেকেই, ছুটছি বলা ভুল
হবে বরং ছুটতে বাধ্য
হচ্ছি আমরা। রেসের ঘোড়ার মত ছুটে চলেছি আমরা,
নিজস্বতা বা সৃজনশীলতা দেখানোর সুযোগ নেই। কেবল কর্তার
ইচ্ছায় নির্দিষ্ট পথেই ছুটে চলতে হয়। আমি হলফ
করে বলতে পারি বড় গণিতবিদরাও ৩ঘন্টায় ২১
টা সমস্যা সমাধান
করতে পারবেনা কিন্তু আমাদের ছাত্রেরা ২ঘন্টাতেই
তা সমাধান
করতে পারে। কারন অদ্ভুত, বই থেকে সব কমন পাওয়া যায়।
হায়রে সেলুকাস!
রেজাল্ট করাটাও যেমন সহজ তেমনি ভাগ্যের
দোষে কোরবানী হওয়াটাও খুবই সম্ভব. আর খাতা চ্যালেঞ্জ
করে রেজাল্ট ফেরানো তো মুসা ইব্রাহীমের এভারেস্ট জয়ের
চেয়েও দু:সাধ্য।
আর কোন এক ভাবে "ভাল ছাত্র " ট্যাগ লেগে গেলে রেজাল্ট
খারাপ হওয়া খুন করার চেয়েও বড় অপরাধ, এই সময়টা খুব
চাপের।
যেখানে পাওয়ার খুব সামান্য থাকলেও হারানোর অনেক
বেশী কিছু আছে।
* শুধুই কী রেজাল্টেই থেমে থাকা যাবে!!!
এর পর আছে জীবনের এক বিভীষিকাময় অধ্যায়; ভর্তিযুদ্ধ।
বুয়েট, ঢাবি কিংবা মেডিকেলে চান্স না পেলে যে আমি কোন
প্রকার ছাত্রের জাতের মধ্যেই পরি না। উদ্ভাস-
ওমেকা কিংবা প্রাইমেট-রেটিনার বেড়াজালে জীবনটা শেষ
করে দিলেও বাবা-মার প্রত্যাশা পূরণ করতে সবাই সফল হয়
না। সিস্টেম নিয়ে প্রশ্ন তোলার
বাতুলতা আমরা দেখাতে পারি না। কারণ তোমার সিস্টেম
তোমাকে ঠিক ওই পর্যন্ত শিখিয়ে থামিয়ে দিবে,
যা দিয়ে তুমি সিস্টেম নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারবে না। আর
যদি এর বেশী শিখেই ফেলো তবে সিস্টেম
তোমাকে সেঁটে ফেলবে আর নাহলে উপড়ে ফেলবে। এই কারণেই
হয়ত বাংলাদেশ থেকে তেমন কোন আবিষ্কার আর হচ্ছে না।
কাল হয়ত এ+ এর জোয়ারে ভেসে যাবে সারা দেশ। পত্র-
পত্রিকায় কয়টা এ+ পেলো কোন বোর্ড থেকে, কিংবা কোন বোর্ড
এ মেয়েরা ছেলেদের থেকে এগিয়ে, কোন কলেজ ১ম, ২য়
হয়েছে তা নিয়ে গবেষনা হবে। কিন্তু সিস্টেম নিয়ে প্রশ্ন
তোলার কেউ সাহস পাবে না। আমি একজন
এইচএসসি পরীক্ষার্থী, আমি জানি আমি পরীক্ষার সময়
যে মানসিক চাপের মধ্যে দিয়ে গেছি তা কেউ খেয়াল
করবে না। আরে আমি পাশ করে বেরিয়ে গেলে আমি নিজেই
তো এই ব্যাপারটা নিয়ে আর চিন্তা করব না। কারণ আমার
যে কাজ শেষ। আর আমরা যে এভাবেই চিন্তা করতে শিখেছি।
ধুরর কী আবোল তাবোল বকছি।
.
রেজাল্ট তার নিজস্ব গতিতেই হবে। কোন রেজাল্টেই
হয়তো জীবন
থেমে থাকবে না। তবে রেজাল্ট ভালো বা খারাপ যাই হোক এই
পরীক্ষা পদ্ধতি ব্যাপক সংস্কার দাবি করছি.
...... আর ভালো কথা কালকে আমার রেজাল্ট দিবে, সবাই
দোয়া করবেন।
©somewhere in net ltd.