| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মোহাম্মদ মোস্তফা রিপন
দুনিয়ার খবর রেখে শান্তি পাই।
আজকে বিএনপি সম্পাদকদের সাথে মতবিনিময়ে কালো আলোর সম্পাদক মতির দেওয়ার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে,বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন।
নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসবে জামায়াত ইসলামীর জন্য পরিস্থিতি ততই জটিল হয়ে উঠবে।
এর মুল কারন হলো তাদের অব্যাহত এন্টি ইন্ডিয়ান অবস্থান।বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতি জামায়াত ইসলামীর জন্য খুব সহজ মনে হলেও গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক পরিবেশ সম্পুর্ণ ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে।
জিওপলিটিকাল এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশে দুনিয়ার পরাশক্তিগুলো যার যার ইন্টারেস্টের হিসেব কষতেছে।আগে মুলত তিনটা শক্তি এখানে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের চেস্টা করতো।
১)ইন্ডিয়া(সচেতন ভাবে ভারত লেখা এড়িয়ে গেলাম)
২) লিবারেল দুনিয়া(ইউএস এন্ড ইউরোপ)
৩) চীন।
আর গত কয়েক বছরে যুক্ত হয়েছে তুর্কি।
এখন দেখা যাক এখানে কার কি ইন্টারেস্ট জড়িত।
১)ইন্ডিয়ার স্বার্থ:
Western international relations literature অনুযায়ী, বাংলাদেশ ভারতের জন্য একটি কৌশলগত প্রতিবেশী রাষ্ট্র, যার গুরুত্ব নিরাপত্তা, আঞ্চলিক প্রভাব, পানি রাজনীতি এবং চীন-সংক্রান্ত ভারসাম্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।
United Nations–এর বিভিন্ন সংস্থা দেখিয়েছে যে উজান রাষ্ট্র হিসেবে ভারত অভিন্ন নদীগুলোর ওপর কাঠামোগত ক্ষমতা (structural power) প্রয়োগ করতে সক্ষম।
অন্যদিকে, Brookings Institution ও Center for Strategic and International Studies দেখায় যে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা ও বঙ্গোপসাগর কৌশলে বাংলাদেশ একটি অপরিহার্য অবস্থানে রয়েছে।
ইউরোপভিত্তিক Chatham House এবং International Crisis Group যুক্তি দেয় যে ভারত বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের চেয়ে influence management-কে বেশি অগ্রাধিকার দেয়।
(1. United Nations Water, Transboundary Waters and Regional Stability; UNDP, Water Governance in South Asia.
2. Brookings Institution, India’s Neighborhood First Policy; South Asia Program briefs.
3. Center for Strategic and International Studies (CSIS), China, India, and the Bay of Bengal.
4. Chatham House, India as a Regional Power: Neighbourhood Strategy.
5. International Crisis Group, South Asia Briefings: Bangladesh–India Relations.)
আরো স্পষ্টভাবে বললে:
১) ভৌগোলিক ও কৌশলগত (Geostrategic) স্বার্থ,
ভারতের North-East (৭টি রাজ্য) মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত একটি সংকীর্ণ করিডোর (Chicken’s Neck / Siliguri Corridor) দিয়ে।
বাংলাদেশ:
• এই অঞ্চলের চারদিক ঘিরে থাকা রাষ্ট্র
• স্থল ও নৌ-পথে সবচেয়ে সহজ ট্রানজিট রুট
সো এখানে মুল স্বার্থ হলো:
• উত্তর-পূর্বে বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন
• নিরাপদ লজিস্টিক ও সামরিক যোগাযোগ
২) নিরাপত্তা ও সামরিক স্বার্থ:
ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ।
সো ভারতের লক্ষ্য হলো:
• বিদ্রোহী গোষ্ঠীর আশ্রয় ঠেকানো
• সীমান্তে চোরাচালান ও অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ
• বাংলাদেশ যেন শত্রু শক্তির প্রভাবাধীন না হয় বিশেষ করে চীনের।
৩) চীন-বিরোধী কৌশল (China Factor).
বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরের প্রবেশদ্বার।
চীনের আগ্রহ:
• অবকাঠামো (বন্দর, সড়ক, বিদ্যুৎ)
• Belt and Road Initiative (BRI)
ভারতের ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগ:
• বঙ্গোপসাগরে চীনের নৌ-প্রভাব
• ভারতের পূর্ব উপকূলের নিরাপত্তা
৪) অর্থনৈতিক ও ট্রানজিট স্বার্থ (বাজার ও কানেক্টিভিটি):
বাংলাদেশ:
• ১৯ কোটির বেশি মানুষের বাজার
• ভারতের জন্য ট্রানজিট করিডোর (নেপাল–ভুটান–নর্থইস্ট)
ভারতের স্বার্থ:
• রেল, সড়ক, নদীপথ ব্যবহার
• ভারতীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ
• আঞ্চলিক অর্থনৈতিক নেতৃত্ব
৫) পানি ও পরিবেশগত রাজনীতি(অভিন্ন নদী ৫৪টি):
গঙ্গা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র—সবই ভারতের ওপর নির্ভরশীল উৎস।
ভারতের অবস্থান:
• উজান দেশের সুবিধা বজায় রাখা
• বাঁধ ও পানি ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ
বাংলাদেশের বাস্তবতা:
• কৃষি, পরিবেশ ও খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি
পানি বিষয়টি ভারতের জন্য কৌশলগত লিভারেজ।
৬)রাজনৈতিক প্রভাব ও আঞ্চলিক নেতৃত্ব:
ভারত নিজেকে দেখতে চায়:
• দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান শক্তি (regional hegemon)
বাংলাদেশে ভারতের আগ্রহ:
• রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা (ভারত-অনুকূল)
• এমন সরকার, যারা
• পাকিস্তানবিরোধী
• চীনের সঙ্গে ভারসাম্য রাখে
• আঞ্চলিক ফোরামে ভারতের বিরোধিতা না করে।
৭) আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্র:
©somewhere in net ltd.