নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সবার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে আমি কোন ব্লগার নই মন চায় তাই লিখি তথ্য-উপাত্ত সবার সাথে শেয়ার করি ।ধন্যবাদ

তানজীর আহমেদ সিয়াম

তানজীর আহমেদ সিয়াম

তানজীর আহমেদ সিয়াম › বিস্তারিত পোস্টঃ

টুকানো-০১ ( আমরাই প্রথম ভ্রাম্যমান গণসংগীত )

২৯ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১২:০৯




প্রতিক্ষণে পরিবর্তিত হচ্ছে দৃশ্যপট। মনে হয় আজই ফয়সালা হবে, যে কোন সময় বসবে পার্লামেন্ট। আবার মনে হচ্ছে কিছুই হবে না, আন্তর্জাতিক কোন ষড়যন্ত্র চলছে কোথাও।
দুই মহাশক্তি সোভিয়েত রাশিয়া ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ, সবদিকে লবিং চলছে।
তবে বাংলাদেশ চলছে ৩২ নম্বর থেকে মুজিবের শাসনে।
পাকিস্তান সরকারের কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। তবুও প্রতিদিন চলছে, ইয়াহিয়া - মুজিব- ভুট্টোর মিটিং।

ভ্রাম্যমান গণসংগীত

আমাদের সব আয়োজন শেষ, ২৩ মার্চ অনুষ্ঠান। উত্তম সাজিয়েছে ট্রাক পেছনে ব্যানার লিখে দিলেন রূপায়নের মোহম্মদ আলী ভাই।
বিকেল তিনটায় রেসকোর্সের স্টেশন রোডে প্রথম অনুষ্ঠান।
সেখানে আয়োজন করছে, আমার সেই পুরনো বন্ধুরা।
আমার মামার বাড়ি সবাই এগিয়ে এলেন।
গ্রীন ফার্মেসির হাবিব মামা, বন্ধু মোস্তাফা, জহির, আজাদ, বদরুল, কুমিল্লা কলেজের শাহজাহান সাজু, ধর্মপুরের জলিল, নুরুল হক চানু, আবেদীন রেষ্টুরেন্টের আবু, রোকন মামা, মনিক মামা।
সবাই আধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা, কখোন আসবে জ্যোৎস্নার প্রতিবেশীর' ভ্রম্যমান ট্রাক, শুনবে জাগরণের গান।
ঠিক তিনটায় আমরা এসে পৌঁছাই রেসকোর্স।
স্টেশন রোড ব্লক করে, উত্তর দিকে ফ্রন্ট করে, ঠিক তিনটায় মার্চের রোদে কয়েক হাজার মানুষের সামনে আমাদের প্রথম উপস্থাপন।
২ মিনিটের স্বাগত ভাষণ দিলেন, জহিরুল হল দুলাল, হেলেন শুরু করেন মূল অনুষ্ঠানের ঘোঘনা।
প্রথমেই সমবেত সংগীত।
'আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি'
সবার চেতনায় তখন স্বাধীনতার স্বাদ,
বদরুল হাসান স্যার শুরু করলেন তাহার সেই বলিষ্ঠ কন্ঠে আবৃতি।

'বল বীর -----
বল উন্নত মম শির!
শির নেহারি আমারি নত শির ওই শিখর হিমাদ্রির!

কবিতা শুনে সবাই করোতালিতে মুখরিত করলো, কবিতা জনপ্রিয় মাধ্যম।
শামসুদ্দীন আহমেূ ভুলু ভাই নির্দেশনা সেদিনের সেই ট্রাকে ছিলেন, নাসির আহম্মদ, সানু তালুকদার, শিরিন সুলতানা বেবী, স্বপ্না রায়, শিপ্রা দাশগুপ্তা, তবলায় শেফাল রায়, গিটারে মিলন, ধারা বর্ণনায় হেলেন ও আমি, নাচে শুভ্রা আর তেমন কারো নাম মনে আসছে না,
সুকান্তে ছাড়পত্র কবিতা, 'যে শিশু ভূমিষ্ট হলো আজ রাতে -'
নজরুলের সেই গান, আমাদের সেই সময় নজরুল ছিলো প্রেরণা।
জাগো অনশন বন্দী উঠোরে যত,
জগতের লাঞ্ছিত ভাগ্যহত, জাগো
জগতের লাঞ্ছিত ভাগ্যহত, জাগো' সেই গান সেদিন অন্যমাত্রা এনেছে, এসেছে গণ জোয়ার।
৪৫ মিনিটের সেই অনুষ্ঠান সবার মন জয় করে নিলো, সবাই উজ্জিবিত।

মোগলটুলি

সেই ট্রাক চলে যায় মোগলটুলি অঞ্ছারিয়া হোটেলের সামনে, সেখানে অপেক্ষায় রয়েছেন আনসার ভাই সাথে, মোস্তাক, মিলন কালীর মিজান, রাখী গুহ, জুয়েল ভাই, মেসকোর নিজামুদ্দিন, নজির, আরো অনেকেই। বিকাল ৫ টায় হলো মোগলটুলির অনুষ্ঠান। আমাদের আপ্যায়িত করলেন আনসার ভাই, মিজান ভাই।

চকবাজার

চকবাজারে তেলিকোণা চৌমুহনীতে হলো ৩য় শো।
রৌফ ভাই, আউয়াল ভাই, শহাআলম, মহিউদ্দিন,শাজাহান অনেকেই ছিলেন।
সেই সময় তেলিকোণার মতো জায়গায় অনুষ্ঠন ভাবাই যায় না, সন্ধ্যা সাতটায় সেই অনুষ্ঠানে অনঅগ্রসর এলাকার ঘরের মেয়েরাও উপস্থিত হয়ে ছিলো।
ভীষণ সাড়া পরেছিলো চকবাজার এলাকায়।

টমসম ব্রীজ

৯ টায় টমসম ব্রীজে, সেখানে সেদিন অনেকেই ছিলো। শাহজাদা লাকী, সফিউল আলম বাবুল, মনসুর আহম্মেদ সহ অনেকেই সহযোগিতা করেছে। রাত নয়টা তবুও অনেক লোকের সমাগম, আমরা ক্লান্ত হলেও সবার উৎসাহ দেখে, সব ক্লান্তি শক্তিতে, সানিত হলো।

কান্দিরপাড়

শহরের কেন্দ্রবিন্দু, রাত তখন ১১ টা, লোকে লোকারণ্য, ভ্রম্যমান আয়োজন দেখার জন্য। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের সামনে, সবচেয়ে বড় আয়োজন করি।
বদরুল হাসান স্যারের কন্ঠ আরো শানিত হলো।
সেদিন ট্রাকে বসে দেখেছি, মানুষের ভালোবাসা, দেশপ্রেম,
বুঝতে পেরেছি জয় বাংলার জয় হবে।
সাতই মার্চের পর থেকে দেখা হলে, আমরা পরস্পর, জয় বাংলা বলে সম্বোধন করি।

ঝাউতলা

আমরা জ্যোৎস্নার প্রতিবেশী' কার্যালয়ের সামনে, রাত ১ টায় আমরা, শেষ অাযোজন, সবাই জানে এখানেই শেষ হবে।ঝাউতলা আসার পর সবাই বাসায় নেমে ফ্রেস হই। কিছু পানাহার করে আবার ট্রাকে উঠি।
রাত ১ টায়, অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেই ঐতিহাসিক ভ্রাম্যমান, গণসংগীতের, আয়োজন।
সেদিনের ঝাউতলার অনুষ্ঠানে আমার এলাকার নারী পুরুষ সবাই এসেছে, আমদের অনুষ্ঠান উপভোগ করতে।
নাসির ভাই, ঝাউতলার অনুষ্ঠানে নির্ধারিত গান পাল্টেদিয়ে, গাইলেন অন্য গান।
এদিকে মুজিব - ইয়াহিয়া- ভুট্টো, দফায় দফায় ব্যর্থ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন, সেই খবরও জানছি, কুমিল্লা শহরে আমাদের প্রচেষ্টা সফল হয়েছিলো।
নাসির ভাই বললেন, আমি নির্ধারিত গান না গেয়ে একটা ভালোবাসার গান গাইবো বলে গেয়ে উঠলেন।

' আজ জ্যােস্না রাতে সবাই গেছে বনে, বসন্তেরই মাতাল সমীরনে'

শওকাত
#যে_ম্মৃতি_ধূসর_হয়নি

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ২৯ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ২:৩৯

রাজীব নুর বলেছেন: ৭১ গান গেয়ে অর্থ সংগ্রহ করে মুক্তিযোদ্ধাদের দিতেন।

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৯ সকাল ১০:৩১

তানজীর আহমেদ সিয়াম বলেছেন: আর সেই টাকা দিয়া অস্ত্র কিন্তো :)

২| ২৯ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৪:৩০

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: ভালো লাগলো পিছনের কথা।

০৪ ঠা জুলাই, ২০১৯ সকাল ১০:৩১

তানজীর আহমেদ সিয়াম বলেছেন: ধন্যবাদ :)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.