| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মিম ক্লাস নাইনে পড়ে।ছোটবেলা থেকেই স্বভাবটা একটু অন্য রকমের তার।নতুন বিষয় যা শেখে বা দেখে তা থেকেই নিজের মধ্যে কিছু আবিষ্কার করার নেশা আছে।তবে একেবারেই যে মনুষ্য সমাজের বাইরে,তা কিন্তু বলা যাবে না।আর দশজনের মতই বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে সময় কাটাতে পছন্দ করে সে।দুইভাইয়ের মধ্যে সে ছোট।ভাইয়ের সাথে তার অন্তরঙ্গ ভাব।এর কারণটি হল,যখনই নতুন কিছু নিয়ে সে ভাবতে চায় বা তা থেকে কিছু আবিষ্কার করতে চায় তখনই তার প্রেরণার উৎসটি হয়ে দাঁড়ায় তার ভাই।এভাবে সময়গুলোকে বেশ গুছিয়েই পার করছে মিম।
একদিন স্কুলে ক্লাস করছিল মিম।টিচার যথারীতি ক্লাসে লেকচার দেয়া শেষ করে কাজ দিলেন সবাইকে।কাজটি ছিল এমন যে সবাইকে একটি প্রশ্নের উত্তর নিজের ভাষায় লিখতে হবে।আর তা হলঃ “মানুষ প্রকৃতপ্রস্তাবে কিভাবে অ-সুখী কিংবা সুখী হয় ?”খুব সংক্ষেপে লিখতে হবে।মিম জিনিসটিকে প্রথমে স্বাভাবিকভাবেই নিল।ক্লাস শেষ।সবাই বেড়িয়ে পরল যে যার বাসার উদ্দেেশ্য।মিমের এক বন্ধু আছে,নাম নূর।অনেক বড়লোকের ছেলে সে।স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে নূরদের গাড়ি মিমের পাশে এসে দাঁড়ালো।
-এই মিম!হাঁটছিস?গাড়িতে ওঠ,তোর বাসায় নামিয়ে দেই।
-বলছিস?ওকে,চল।
গাড়িতে যেতে যেতে নূরের সাথে কথা হচ্ছে,
-এই মিম!ঈদের শপিং করেছিস?
-না।আব্বা সেলারি পাক,তারপর হবে।তুই?
-আমরাতো সিঙ্গাপুর যাচ্ছি...
-কেন রে?ঈদ ওখানে করবি?
-আরে না ব্যাটা!শপিং করব।গতবার ঈদে যাওয়ার কথা ছিল।বাবা যায়নি দেখে মা কি রাগ!বুঝলি,পুরো ঈদটাই মাটি হয়ে গেলো।বাবা এবার আর ওই ভুল করছেন না।
-সিঙ্গাপুর যেতে পারিসনি বলে ঈদ মাটি!!!কেনোরে?তোদের আত্মীয় স্বজন নেই দেশে?
-আরে ধুর পাগল!থাকবেনা কেন?তবে প্রতিবার ঈদে একটা ভিন্নতা আনার ব্যাপার শেপার আছেতো।তাই না?
-তাই বলে ভিন্নতা আনতে না পাড়ায় ঈদের আনন্দ মাটি হল।এইতো???
-হুম।অফ কোর্স!!!
নূরের কথা শোনার পর মিম আর সাহস করলনা তাদের ঈদের বাজেট কত তা জিজ্ঞেস করার।শুধু চুপ করে ভাবতে লাগলো।গাড়ি থেকে নেমে মিম নিজের এলাকার রাস্তা দিয়ে হাঁটতে লাগলো।এমন সময় পেছন থেকে ডাকঃ ওই মিম!খাড়া,খাড়া।
পেছন ফিরে দেখল তাকে শিমুল ডাকছে।শিমুল মিমের ব্যাচমেট।তবে একি স্কুলে না।এলাকার এক সরকারি স্কুলে সে পড়ে।গরীব পরিবারের ছেলে।পরিবার বললেও ভুল হবে।বাপ-মা নাই।থাকে মামার সাথে।মামা আবার নিজেই ঠিকমতো পরিবার চালাতে পারে না।কোনরকম থাকার বন্দোবস্ত করে দিয়েছেন।খাওয়া পড়া নিজের যোগ্যতায় ম্যানেজ করতে হয়।এক শিফট কাজ করে এক চায়ের দোকানে।টাকা যা পায় তা মামাকে দেয়।তাও মামার ঝাড়ির শেষ নাই।পড়াশোনা করার স্পৃহা থেকেই মিমের সাথে শিমুলের বন্ধুত্ব।মিমেরও শিমুলকে কেন যেন ভাল লাগে অনেক।
- কিরে!চেঁচাস ক্যান শিমুল?
- খুশিতে!ইশকুল বন্ধ হইসেরে!!!পুরা দুই শিফট কাম করন যাইব।
- এক্সট্রা টাকা দিয়া ঈদের কেনাকাটা করবি?
- আরে নাহ!কি কস?মামারে দিমু।মামাডার অবস্থা বেশি খারাপ।আরও পিচ্ছি পিচ্চি দুইডা বইন আছে।অইগুলানরে কিছু কিন্না দিতে পারব না মামায়।আমি দিমুনে।
- কি বলিস! তোর মামা না গতবারও ঈদে তোরে মাত্র দুইশ টেকা দিসিল?তখনতো তার টেকা ছিল।কিন্তু তুই কিছুই কিনতে পারলিনা!!!
- আরে হুন গাধা!অই দুইশ টেকায় আমার ঈদরে কত আনন্দ দিসে জানশ?
একটা সেন্ড গেঞ্জি আর একটা টুপি কিন্সিলাম একশ টেকায়।বাকিটা দিয়া পাশের বাড়ির পিচ্ছিটারে পুতলা কিন্না দিসি।ঈদে অগো কেনাকাটা এক্কেবারে হয় নাই।বিশ্বাস কর,অই পিচ্ছিটার আনন্দ দেইখা নিজে কি কিনবার পারলাম না ওই কথা ভুইলাই গেসি।ভাবলাম,ইশ!যদি গেঞ্জি আর টুপিটা না কিন্না একশ টাকাটা বাঁচাইতে পারতাম,তাইলে অরে আরও কিছু দেওন যাইত।আর এইবার পাইসি এক্সট্রা কামের সুযোগ।পিচ্ছি বইন দুইডারে জামা কাপড় কিন্না দিয়া গতবারের আক্ষেপটা একটু দূর করন লাগব।তোরে তাই ডাক দিলাম।খুব খুশি খুশি লাগতাসেরে!!!
মিম কিছুক্ষন থ হয়ে দাড়িয়ে থাকল।বাসায় ফিরল।নূর আর শিমুলের বিষয় তাকে বেশ ভাবিয়ে তুলছে।যথারীতি ভাইয়ের সাথে বিষয় দুটো শেয়ার করল সে।ভাই বলল,দেখ!তুই এমন দুটো বিষয়ের কথা আজকে বললি যেখানে দুটো মানুষ একই জিনিস লাভের আশায় ভিন্ন ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছে।তবে তাদের মধ্যে প্রক্রিয়াগত ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।একজনের সামনে আনন্দ পাওয়ার অনেক সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সে অতি সহজেই তা মাটি করতে পারে নিজের খেয়াল খুশি মত।আরেকজনের আনন্দ যেখানে প্রায় অসম্ভব,সেখানে দিব্যি সে পাহারসম আনন্দ খুজে বের করে ফেলছে।বুঝলি কিছু???
পরদিন ক্লাসে মিম তার কাজ টিচারকে জমা দিলো।টিচারের প্রশ্নের উত্তরটি মিম দিয়েছিল এভাবে,
“মানুষ তখনই সবচেয়ে বেশি অ-সুখী হয় যখন তার কাছে সুযোগ আর সম্ভাবনা থাকার পরও সে তা থেকে কোন উপকার লাভ করতে পারে না।আর তখনই প্রকৃত সুখী হয় যখন হাজারো প্রতিবন্ধকতার পরও সে সুখ অর্জনের ছোট ছোট পথগুলকে খুজে বের করতে পারে। ”
০৩ রা আগস্ট, ২০১৩ রাত ৩:৩২
রক্তিম দৈত্য ৩৭ বলেছেন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ পড়ার জন্য.।.।.।
২|
০৩ রা আগস্ট, ২০১৩ ভোর ৪:০৫
ইরফান আহমেদ বর্ষণ বলেছেন: ভালো লাগলো লেখা!!!
০৩ রা আগস্ট, ২০১৩ সকাল ১১:২৪
রক্তিম দৈত্য ৩৭ বলেছেন: ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
০৩ রা আগস্ট, ২০১৩ রাত ১:৫৮
আদার ব্যাপারি বলেছেন: আপনার লেখাটা নতুন করে ভাবতে শেখালো। ধন্যবাদ জীবনের এমন একটি উপলব্ধি শেয়ার করবার জন্য।