| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
অনেক দিন থেকেই ভাবছি বাংলাদেশের অনলাইন পত্রিকা নিয়ে কিছু লিখবো। কিন্তু হয়ে উঠছিল না। আজ একটু সময় করে লিখেই ফেললাম। যদিও শিরোনামে একটি প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করেছি এবং এটিই আসল কথা, তদুপরি বাংলাদেশের অনলাইন পত্রিকাসহ অপরাপর পত্রিকা/টিভিগুলোর বিষয়েও কিঞ্চিৎ আলোচনা করেছি।
বাংলাদেশের প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া অনেক আগে থেকেই ধনিক শ্রেণীর অবৈধ টাকার পাহাদার বলে স্বীকৃতি পেয়েছে। সেইসব পাহারাদারদের অনেকেই অনলাইন পত্রিকাও চালু করেছে সময়ের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাওয়ানোর অভিপ্রায়ে। সেটাতেও পাহারা মজবুত হয়েছে বটে! জনমানুষের লাভ-ক্ষতির বিষয়টি বরাবরই উপেক্ষিতই থাকছে। তবে লাভ এটুকুই হয়েছে যে, আমাদের বন্ধু, আত্মীয়, প্রতিবেশি, পরিচিত বিভিন্নজন সস্তা শ্রমের বিনিময়ে দিনগুজার করছে! নতুন নতুন অনেক অনলাইন বাজারে আসছে প্রায় প্রতিনিয়ত। বড় বড় হাউজগুলোতে বরাবরই বড় পুজির সমাবেশ ঘটছে বিধায় তাদের পক্ষে চাইলেও জনগনের পক্ষে কথা বলা অসম্ভব। আমাদের আমজনতা এর মধ্যেই যেটুকু পাই সেটাকেই সাধুবাদ না জানিয়ে নিরুপায়! যদিও আমি মনে করি এগুলোর অনেকটাতেই রয়েছে তারুন্যের তাজা রক্তের প্রবাহতা। একঝাক উচ্ছল ও উজ্জ্বল তরুনের শ্রম, মেধা ও ত্যাগ তাদের লক্ষ্যপানে যেতে যে কোন অন্তরায়কে তুচ্ছ জ্ঞান করবে এতে আমার অন্তত কোন সন্দেহ নাই। কিন্তু তাদেরকে পরিচালনাটাই আসল বিষয়। সেখানেই ঘটে বিপত্তি! কেননা, গোপন কোন স্বার্থের রক্ষক হলে সেখানে ত্যাগী, মেধাবীদের মুল্য কী বা কাজই কী? তারপরেও আমি মনে করি ‘বাধা আসলে বাধবে লড়াই’ এমনতর তেজোদীপ্ত কলমযোদ্ধার অভাব নেই। কিন্তু এদেরকে রুখে দিচ্ছে খোদ বেচে থাকার চাহিদা। এইসব অত্যান্ত সহজ ও সরল সমীকরনের যোগফলের ভিত্তিতে স্বাভাবিকভাবেই স্বিদ্ধান্তে পৌছা যায়, অন্যায়ের শেকল ভেদ করে সোনালী দিন আসতে অনেক দেরি!। শুভকামনা রইল যারা অনলাইন পত্রিকার উদ্যেক্তা তাদের জন্যে। শুভকামনা অনলাইনের জয়যাত্রায়।
পৃথিবীতে অনলাইনের শুরুঃ পৃথিবীতেই অনলাইন পত্রিকার উদ্ভব খুব বেশি দিনের নয়। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র জন্মের আরো অনেক পর থেকেই এটির প্রচলন শুরু হয়েছে। অন্যান্য অনেক বিষয়ে তাবৎ পৃথিবী থেকে অনেক দূরে থাকলেও এইক্ষেত্রে আমরা প্রায় পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সমবয়সী। ১৯৫৭ সালে মহাশুন্যে রাশান স্পুটনিক উৎক্ষেপনের মাধ্যমে যে যোগাযোগ উপগ্রহের সুচনা ঘটে সেটির উপর ভর করেই বর্তমান পৃথিবী চলছে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি নামক যোগাযোগ উপগ্রহের মাধ্যমে তথ্য আদান প্রদানের ভিত্তিতে। এক্ষেত্রে ঘনিষ্ট ভুমিকা রাখছে ১৯৬৯ সালে প্রাথমিকভাবে যাত্রা শুরু করা যোগাযোগ প্রযুক্তি ইন্টারনেট যা স্নায়ুযুদ্ধের পরে জনগনের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ইন্টারনেটে তখন ‘ওয়েব’ নামে একটি সেবা চালু করা হয় আমেরিকা ও কানাডাতে ১৯৯০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর ‘অনলাইন টুনাইট’ নামে একটি টকশো প্রকাশের ঘোষনা দেওয়া হয়। যা ১৫ অক্টোবর Rocky Mountain News নামের মেইনফ্রেম ভিত্তিক ভিডিও টেক্সট হিসেবে প্রচারিত হয়েও ১৫ ডিসেম্ভর বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৯০ সালের ১৩ ডিসেম্ভর আমেরিকার Albuquereque Tribune প্রথম কম্পিউটার ভিত্তিক সংবাদপত্র ‘দি ইলেক্ট্রনিক ট্রাইব’ প্রকাশ করেন। ১৯৯১ সালেই অনেকগুলো পত্রিকা ইন্টেরনেট ভিত্তিক প্রচারের স্বিদ্ধান্ত নিয়েও অনেকেই আবার পিছিয়েও যায়। ১৯৯২সালে শিকাগো অনলাইন চালু হয়। রাশিয়াতে ‘গ্যাসনেট’ এবং ‘রেলকম’ এর মাধ্যমে টিভিতে সংবাদ প্রচারের আগেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংবাদ প্রচার করতে শুরু করে। তখন আমেরিকা ও কানাডাতে আরো কিছু সাপ্তাহিক, মাসিক পত্রিকা তাদের অনলাইন প্রচার শুরু করে। এই বছরের ৫ জুন মার্কিন কংগ্রেস ইন্টারনেটের বানিজ্যিক ব্যবহারের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে ১৯৯৩ সালে ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় ‘মোজাইক’ নামক গ্রাফিক্যাল ওয়েব ব্রাউজার প্রকাশ করে। এভাবেই ১৯৯৪ থেকে আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়াসহ ইন্টারনেট ভিত্তিক সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।
বাংলাদেশে অনলাইনের শুরুঃ বাংলাদেশে অনলাইন মিডিয়ার আগমন ঘটে ১৯৯৭ সালে The Daily Star পত্রিকার প্রথম ‘ই-পেপার’ এর মাধ্যমে। ১৯৯৮ সালে বাংলা নতুন দৈনিক পত্রিকা ‘প্রথম আলো’ অনলাইনে নতুন সংযোজিত হয়। ২০০০ সালে আরো কিছু প্রথম সারির দৈনিক অনলাইনে যুক্ত হয়। তবে এগুলোর কোনোটাই সার্বক্ষনিক আপডেট ছিলনা। ২০০৬ সালের অক্টোবর থেকে একটি স্বতন্ত্র অনলাইন পত্রিকা হিসেবে যাত্রা শুরু করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম(bdnews24.com)। এটিও প্রথমে একটি সংবাদ সংস্থা হিসেবে জন্ম নিলেও পরবর্তীতে একটি স্বতন্ত্র ও সার্বক্ষনিক আপডেট সম্পন্ন পত্রিকায় উন্নীত হয়। ঠিক কাছাকাছি সময়েই আগে থেকেই প্রিন্ট হয়ে প্রকাশিত পত্রিকাগুলোও তাদের অনলাইন ভার্সন দেওয়া শুরু করে। সেক্ষেত্রে বলা যায় প্রায় অর্ধ যুগেরও কম সময় ধরে বাংলাদেশে অনলাইনের জয়যাত্রা। তবে অল্প সময়েই শিক্ষিত ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের নিকট ছাপানো পত্রিকার কদর যে হারে কমেছে ঠিক বিপরীতভাবে অনলাইনে পত্রিকা পাঠকের সংখ্যাও সেই হারে বেড়েছে। অবশ্যই ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা যত বাড়বে অনলাইন পত্রিকার চাহিদাও ততই বাড়বে বলে আশা করা যায়। যে কারনে এখন অনেক প্রিন্ট মিডিয়াই তাদের অনলাইন ভার্সনের পাশাপাশি আলাদা করে অনলাইন পত্রিকাও প্রকাশ করছে। এতেই অনলাইনের গুরুত্ব ও চাহিদা অনুধাবন করা যায়। শুধু স্বতন্ত্র অনলাইন পত্রিকার সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। অদুর ভবিষ্যতে এটির চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এমন বিশ্বাস থেকেই দ্রুত এই মাধ্যমটি এগিয়ে চলছে। এখনো যেহেতু আইনী তেমন ঝামেলা নেই তাই অনেকেই খুব অল্প পরিসরে ওয়েবসাইট বানিয়ে পরিচালনা করছেন। সুযোগ সুবিধামতো বড় পরিসরে প্রকাশ ঘটানোর অভিপ্রায়ে।
এখনো অনলাইন মাধ্যমের উপর সরকারীভাবে কোনো আইন আরোপ না হওয়ায় অনেকেই এই মাধ্যমকে আইনের আওতায় আনার জন্য এবং আইনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলছেন। এর সঙ্গে সম্প্রতি যোগ হয়েছে খোদ সাংবাদিকদের একাডেমিক সনদের বাইরেও একটি নিয়ন্ত্রন সংস্থার বিষয়টি। কয়েকদিন আগে বিডিনিউজে ব্লগার ও কলামিষ্ট আরিফ জেবতিক এই বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছেন। অস্বীকার করার উপায় নেই যে, বাস্তবতা দেখে শুনে প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। জনাব আফিফ জেবতিক ডাক্তার বা একাউন্ট্যান্টদের মতো সাংবাদিকদেরও সাংবাদিক হিসেবে নথিভুক্ত করার জন্য একটি আলাদা প্রতিষ্ঠান থাকার যৌক্তিকতা বেশ গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেছেন। এসব ক্ষেত্রে আমি মনে করি, সমগ্র বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা করেই করনীয় ঠিক করা উচিত হবে।
আমাদের দেশের মানুষ বরাবরই শ্রুত কথায় অগাধ আস্থা স্থাপন করে থাকে। সংবাদ মাধ্যমগুলো মুলত সেসব শ্রুত কথাগুলোর সত্যাসত্য নিরুপনে অধিক মনযোগ দিবে এটাই প্রত্যাশা। নতুন শুরু হওয়া অনলাইন সংবাদ মাধ্যমটি এক্ষেত্রে কার্য্কর ভুমিকা রাখতে পারবে বলেই আমার বিশ্বাস।
প্রত্যাশিত বিষয়ঃ লেখার শিরোনামে যে প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করেছি এখন সেটার বিষয়েই আলোচনা করবো। ব্যক্তিগতভাবে ইতিহাসের পাঠ্যাভাস থাকায় অনেকদিন ধরেই একটি অভাব অনুভব করে আসছি। অনলাইন পত্রিকা বা প্রিন্ট পত্রিকার অনলাইন ভার্সন শুরু হওয়ার পর থেকে যেসব সংবাদ বা তথ্য অনলাইনে আপলোড করা হয়েছে সেসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য গুগলে সার্চ দিলেই মোটামুটি অনেকগুলো দেশি/বিদেশি লিঙ্ক পাওয়া যায়। এতে করে তথ্য পাওয়া খুবই সহজ হয়েছে। যা বিগত শতকের মানুষ উদ্ভাবিত সেরা আবিষ্কারগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি অধ্যায়। বহির্বিশ্বে অনলাইন পত্রিকার যাত্রা খুব বেশি দিন আগে না হলেও অন্তত আমাদের চেয়ে একটু আগে শুরু হয়েছে, ফলে তাদের আমাদের চেয়ে পুরনো তথ্যাদিও খুব সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। অপরদিকে আমাদের দেশে অন্যান্য অনেক বিষয়ের মতো এই অনলাইন সংবাদ/তথ্য মাধ্যমটির প্রচলন শুরুই হয়েছে মাত্র কয়েক বছর ধরে। অবশ্য এক্ষেত্রে পৃথিবী থেকে আমরা খুব বেশি দূরে নই। কিন্তু সরকারী ও বেসরকারী অফিস/আদালত ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া শুরু করেছে কেবল। সেজন্য আমাদের অনেক সাম্প্রতিক বিষয়াদির তথ্যও পাওয়া কঠিন এখনো। এক্ষেত্রে অপেক্ষা করার বিকল্প কিছুই নেই। সেটা একটা চলমান প্রক্রিয়া বিধায় একদিন সমাপ্ত হবে এক্ষেত্রে এটুকুই প্রত্যাশা।
কিন্তু আমার অবতারনা করা বিষয় সংশ্লিষ্ট প্রত্যাশাটি একটু ভিন্ন। আমাদের সমস্যা যেমন রয়েছে অনেক অতীতের ঘটনা প্রবাহের ধারায়, তেমনি অনেক সমস্যা রয়েছে অতীত ইতিহাসের তথ্য প্রাপ্তিতেও। দুনিয়াজুড়ে যত রকম গবেষনার কাজ হয় তার পঞ্চাশ ভাগ হয় অতীত নিয়ে বাকী পঞ্চাশ ভাগ হয় ভবিষ্যত নিয়ে। এক্ষেত্রে বর্তমান শুধুই করনীয়তে ব্যতিব্যস্ত থাকে। তবে উভয়ক্ষেত্রেই অতীত ঘটনাপ্রবাহের ইতিহাস ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। সেক্ষেত্রেই প্রয়োজন পড়ে অতীতের তথ্যের এবং সেই সব তথ্য প্রাপ্তির জন্য নির্ভর করতে হয় অতীতের কোন গ্রন্থ অথবা পত্রিকার উপর। আবার এই সব গ্রন্থগুলি লেখাতেও মূলত পত্রিকা থেকে প্রাপ্ত তথ্যই প্রধান ভুমিকা রাখে। তাহলে দেখা যাচ্ছে, অতীতের সকল পত্রিকাসমুহের প্রয়োজনীয়তা অশেষ। কয়েক হাজার বছরের বাঙালির ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং উজ্জলতম ঘটনাসমুহও বিগত মাত্র প্রায় ষাট বছরের মধ্যেই ঘটেছে। সেটা খুব বেশি দূরের বিষয় নয়। বাঙালি মধ্যবিত্তের আত্মবিকাশ, বাংলা ভাষা ও নিজস্ব সাংস্কৃতিক চেতনায় বাঙালি জাতীয়তাবাদের ক্রমবিকাশ, অর্থনৈতিক মানদন্ডের ভিত্তিতে স্বায়ত্বশাসন দাবি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ। কিন্তু অতীব দুঃখের বিষয় হলো, এই সকল বিষয়গুলো নিয়ে এখনো আমাদের মধ্যে রয়েছে পাল্টাপাল্টি কথকথা উপরন্তু মতবিরোধ। ইতিহাসের এই উজ্জলতম বিষয়গুলোকে সঠিকভাবে জানার জন্য এবং আমাদের সমাজ কিভাবে এবং কোন প্রাসঙ্গিকতায় এখানে এসেছে, সেক্ষেত্রে কাদের কী ভুমিকা ইত্যাদি জানতে সেইসব অতীতের পত্রিকাগুলো পাঠের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের এই ভুখন্ডে মুলত গত শতকের চল্লিশের দশকের শেষদিকে দৈনিক পত্রিকা আত্মপ্রকাশ করে। এর পরে পঞ্চাশের দশকে ধীরে ধীরে এই সংখ্যা বাড়তে থাকে। সে সময়ের অনেক পত্রিকাই এখন বিলুপ্ত। প্রধান পত্রিকাসমুহের মধ্যে দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক সংবাদ, ডেইলি অবজারভার এখনো প্রকাশিত হয়। দৈনিক আজাদের মতো অনেকই বিলুপ্ত হয়েছে। ষাটের দশক এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের বিরুপ ভুমিকা রাখা অন্যতম পত্রিকা ‘দৈনিক সংগ্রাম’ এখনো প্রকাশমান। স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম এবং জাতিগঠনকালে এই সব পত্রিকাগুলোর নানামুখী ভুমিকা এখনো এবং আরো বহুকাল আমাদেরকে আলোচনায় ব্যস্ত রাখবে। দেশে ও বিদেশেও আমাদের অতীতের অনেক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন রকমের গবেষনাও হচ্ছে। এ জন্য প্রায়শই পর্যাপ্ত তথ্যের জন্য বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে হয় অনেক ক্ষেত্রে পাওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়ে। উপরন্তু রয়েছে তথ্য গায়েব বা বিকৃতির মতো বিষয়। এটিও হরহামেশাই হয়ে থাকে। ইতিমধ্যে নতুন প্রজন্মের মধ্যে রয়েছে আমাদের ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জানতে চাওয়ার বিপুল আগ্রহ।
উপরোক্ত বিষয়গুলোর ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আমার প্রস্তাব থাকবে যে, বাংলাদেশে শুরু হওয়া সাপ্তাহিক ও দৈনিক পত্রিকাসমুহের এখনো যেগুলো তাদের প্রকাশনা বহাল রেখেছে তাদেরকে অতীতের সকল পত্রিকা অনলাইন ভার্সনের মধ্যমে পুরনো পত্রিকাই নতুনভাবে প্রকাশ করার ব্যবস্থা করতে। এতে অতীতের অনেক সংকটের সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা করি। খুব সহজেই আমরা পুরনো দিনের তথ্যগুলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে পেয়ে যাবো। দেশের বিভিন্ন জাদুঘর, গ্রন্থাগার এবং ন্যাশনাল আর্কাইভস হয়ত তাদের মতো করে প্রকাশিত কপি সংরক্ষন করে। কিন্তু বর্তমানে পত্রিকাগুলো যেভাবে প্রতিদিন তাদের সংখ্যাগুলো অনলাইন ভার্সন বা স্বতন্ত্র পত্রিকা হিসেবে প্রকাশ করছে ঠিক একইভাবে পুরনো দিনের কপিগুলোকে প্রকাশের ব্যবস্থা করলে বাংলাদেশের ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় নতুন ধারার সংযোজন ঘটবে এতে সন্দেহ নেই। বর্তমানে চলছে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধীদের বিচার কার্যক্রম। এক্ষেত্রে কয়েকটি পত্রিকার ভুমিকা এবং সংবাদকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে। এখন ঠিক সেই পত্রিকার পুরনো দিনের শুধু রেফারেবল সংখ্যাই নয় সকল সংখ্যাকে নতুনভাবে অনলাইনের মাধ্যমে প্রকাশ করলে দেশ বিদেশে এই বিচারের গ্রহনযোগ্যতাও অপাপবিদ্ধ হবে এবং তরুন প্রজন্ম অন্যায়কারীদের কুকাজ সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত হতে পারবে অতি সহজেই। এসবের বিবেচনায় সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন আশু জরুরী। এমনকি এক্ষেত্রে নতুন নতুন প্রকাশিত অনলাইন পত্রিকাগুলোও এগিয়ে আসতে পারে। তারাও নিজেদের উদ্যেগে এই কাজটি করতে পারে কিনা ভেবে দেখতে পারে। প্রতিদিন না হোক অন্তত বিশেষ সময়ের কপিগুলোর পুরো সংখ্যাই প্রকাশ করার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া যেতে পারে। বিভিন্ন সময়ে দেখা যায়, বহুল প্রচারিত অনেক পত্রিকাই চমক হিসেবে কখনো একটি নিদিষ্ট দিনের ঘটনার কথা উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করে থাকে। কিন্তু আমার প্রত্যাশা এখানেই শেষ নয়। ঘটনার আড়ালে যেমন নানারকম গোপন ঘটনা থাকে তেমনি ইতিহাসেরও ইতিহাস আছে। আমাদের অতীতের সকল ঘটনার আড়ালের ঘটনা এবং ইতিহাসের পিছনের সকল ইতিহাসকে আগ্রহী পাঠকের সামনে তুলে ধরতে ধারাবাহিক তথ্য ও সংবাদের কোন বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে সমাজের বিবর্তনের বিষয়টিও সহজেই চোখে পড়বে। বহিবিশ্বের কোনো দেশে এরকম আছে কিনা জানিনা, তবে সকল কিছু অন্য দেশে থাকতে হবে এমন কোন কথা নেই। বরং যারা অন্যদেরকে সবসময় রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করে তারাই পশ্চাদপদ। কেননা, অন্যেরা যা অনেক আগে শুরু করেছে আমরা কেবল তাদেরকে দেখে এখন শুরু করলাম। এমনটি আমাদের প্রত্যাশা নয় বরং আমরা আমাদের নতুনত্ব নিয়ে এগিয়ে যাবো এটাই স্বাধীন বাংলাদেশের মত প্রকাশে স্বাধীন মানুষের একান্ত প্রত্যাশা।
০৪ ঠা আগস্ট, ২০১২ বিকাল ৪:৫৭
রুমি আলম বলেছেন: আমরাতো এমনই। নিজের প্রয়োজন না হলে বা নিজে ঠেকে না শিখলে কিছুই বুঝিনা কিছুই জানিনা। বুঝতেও চাইনা, জানতেও চাইনা। আমিও আপনার মতোই।
২|
০৪ ঠা আগস্ট, ২০১২ বিকাল ৪:৩৩
সরদাররকস্ বলেছেন: View this link
০৪ ঠা আগস্ট, ২০১২ বিকাল ৪:৫৯
রুমি আলম বলেছেন: আমার দুভাগ্য যে, তখন আমি ব্লগে পয়দা হইনি।
আপনাকে স্যলুট।
৩|
০৪ ঠা আগস্ট, ২০১২ বিকাল ৫:০০
নানাভাই বলেছেন: পুরানো সাপ্তাহিক বিচিত্রা, যায় যায় দিনে এর বিশেষ সংখ্যা গুলি মিস করতাছি।
০৪ ঠা আগস্ট, ২০১২ বিকাল ৫:০৪
রুমি আলম বলেছেন: আসলে একেকজনের একেক রকম চাহিদা। তাই সবগুলোই যদি অনলাইনে পাওয়া যায় সকলের সকল চাহিদার ইতি ঘটবে।
৪|
০৪ ঠা আগস্ট, ২০১২ বিকাল ৫:৫৭
নানাভাই বলেছেন: ঠিক কইছেন।
০৫ ই আগস্ট, ২০১২ বিকাল ৪:৪১
রুমি আলম বলেছেন: আমিও তাই মনে করি।
৫|
০৪ ঠা আগস্ট, ২০১২ সন্ধ্যা ৬:৩৫
তীর্থযাত্রী বলেছেন: খুবই দরকারী
০৫ ই আগস্ট, ২০১২ বিকাল ৪:৪৩
রুমি আলম বলেছেন: ঠেকে বুঝেছি এগুলো কত দরকারী। আপনিও হয়ত তাই।
কিন্তু ব্লগে আমার এই পোষ্টের কোন আবেদনই নাই মনে হলো। দুঃখজনক।
৬|
০৫ ই আগস্ট, ২০১২ রাত ২:৪৮
বেঈমান আমি বলেছেন: গুড পোস্ট ব্রো।মন খারাপ কইরেন না।
০৫ ই আগস্ট, ২০১২ বিকাল ৪:৪৪
রুমি আলম বলেছেন: মন খারাপ আমি করিনা কখনোই।
তবে ব্লগে আমার এই পোষ্টের কোন আবেদনই নাই দেখে দুঃখ বোধ হলো। এই আর কী!
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা আগস্ট, ২০১২ বিকাল ৪:৩১
ক্লান্ত জীবন বলেছেন: হুম, মাঝে একবার আমার এই জিনিস খুব দরকার হয়ে পড়েছিল, কিছু অ্যাসাইনমেন্টের জন্য। তখন বুঝছি এইটা কত দরকারি।