নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

শূন্যের মাঝে মহাশূন্য খুঁজি

আমি পৃথিবীর বাসিন্দা

মন কানা

যা নৈতিক দিক দিয়ে সঠিক নয়, তা রাজনৈতিক দিক দিয়েও সঠিক নয়

মন কানা › বিস্তারিত পোস্টঃ

এলো কলিকাল ,ছাগলে চাটে বাঘের গাল! must read

লেখক: গোলাম মাওলা রনি, এমপি

০১ লা মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৪:৫৮

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম উপমাটি শুনেছিলাম। আশির দশকে বটতলার একটি ছাত্রসভায়। বক্তা ছিলেন আজকের যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তার তখন বাবরি চুল ছিল। তিনি বাবরি চুল দুলিয়ে দুলিয়ে কাব্যিক ঢংয়ে বলতেন দেশে এলো কলিকাল, ছাগলে চাটে বাঘের গাল। অমনি ছেলেমেয়েরা বিশেষ করে সুন্দরী মেয়েরা হৈচৈ করে উঠত এবং সজোরে তালি বাজাত। কাদের ভাই আরও উদ্দীপনা নিয়ে কবিতার ঢংয়ে বক্তব্য শুরু করতেন।

আমি কিন্তু উপমাটি নিয়ে বেশ সন্দিহান ছিলাম এবং এখনো আছি। আমার বিশ্বাস কোনো কলিকালেও বাঘের গাল ছাগল চাটতে যাবে না। এমনকি কোনো ছাগল যদি পাগল হয়ে যায় কিংবা ছাগলের দুই চোখ অন্ধ করে দেওয়া হয় তারপরও সেটি বাঘের গাল চাটতে যাবে না। আমার দৃঢ় বিশ্বাসের মূলে রয়েছে নিজের কিছু ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। শৈশব ও কৈশোরে আমার অনেক ছাগল ছিল। ওদের সঙ্গে আমার খাতিরও ছিল বেশ। চৈত্রের ভরা দুপুরে গ্রামেরদুরন্ত কিশোরদের সঙ্গে আমি দৌড়াতাম। ঘর্মাক্ত শরীরে প্রিয় ছফেদা ফলতলায় গাছের সঙ্গে হেলান দিয়ে বসতাম। আমার ছাগলগুলো ম্যা ম্যা শব্দ করে দৌড়ে আসত এবং দলবেঁধে আমার পিঠ চাটত। এক অপরূপ অনুভূতি। আমি তাদের কোলে নিতাম। শিংগুলোতে তেলমাখাতাম এবং প্রায়ই চুমা দিতাম।

একবার আমাদের পাশের বাড়ির যুবকরা বড় কসরত করে একটা বাঘডাশা মারল। আঞ্চলিক ভাষায় আমরা বলতাম খাটাশ। বিলাইয়ের চেয়ে একটু বড়। গ্রামের বাচ্চারা সব দেখতে গেল। আমিও গেলাম। কোলে করে নিয়ে গেলাম অনেক ছাগলের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় বাচ্চা ছাগলটিকে। ওমা একি! মরা খাটাশের কাছাকাছি হতেই আমার কোলের ছাগলটি ভয়ে ম্যা ম্যা শুরু করল। আরও একটু কাছে যেতেই ওটি কোল থেকে নেমে দৌড় দেওয়ার চেষ্টা করতে থাকল। আমি বেশ জোর করে ওকে বুকে চেয়ে ধরলাম। বাচ্চা ছাগলটি এবার আমার বুকে কষে কামড় বসিয়ে দিল। ওরে মাগো বলে আমি ছাগলটি ছেড়ে দিলাম। ও ভোঁ দৌড় মারল। একবারও পেছনের দিকে তাকাল না। শুধু তাই নয়, পরবর্তী কয়েক দিন ছাগলটি অভিমান করে আমার কাছে এলো না।

একটি মরা খাটাশ দেখে যদি বাচ্চা ছাগলের এ অবস্থা হয় তাহলে প্রাপ্ত বয়স্ক ছাগলের কি অবস্থাহবে জ্যান্ত বাঘ দেখলে। এই কথা মনে হতেই আমার হাসি পায়। ভীষণ হাসি। মাননীয় যোগাযোগমন্ত্রী যদি তার মন্ত্রিত্বও দিয়ে দিতে চান তবুও কোনো ছাগলকে জীবন্ত বাঘের গাল চাটা তো দূরের কথা মরা বাঘের গালও চাটাতে পারবেন না। মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে যখনই আমার দেখা হয় তখনই কথাটি মনে হয়। ফলে আমি খিলখিলিয়ে হেসে উঠি। উনি আমাকে ভীষণ পছন্দ করেন। কিন্তু তাকে দেখলে আমি কেন যে এত হাসি তা তিনি কল্পনাও করতে পারেন না।

আলোচ্য-উপমাটি একটি হালকা উদাহরণ। কিন্তু সাধারণ সিরিয়াস কিছু বোঝানোর জন্য আমরা উপমাটি ব্যবহার করে থাকি। সরল বাংলায় এটির ভাবার্থ হলো এই যে, অযোগ্য লোক শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে যোগ্য লোকদের শাসন করার চেষ্টা করে। আবার কখনো কখনো নেহায়েতই অযোগ্য লোককে যোগ্য লোক বানানোর অপচেষ্টা করা হয়। একটি উদাহরণ দিলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। ধরুন আমি একজন সংসদ সদস্য কিংবা মন্ত্রী। কিন্তু আমার ছেলেমেয়ে বা আত্দীয়স্বজন কিংবা আস্থাভাজন ব্যক্তিবর্গ খুবই নিম্ন চরিত্রের অযোগ্য লোক। এখন যেহেতু আমার ক্ষমতা আছে সেহেতু আমি সাধারণ মানুষকে বাধ্য করতে পারি আমার ওইসব অযোগ্য-অথর্ব প্রিয়ভাজনের অন্যায় আবদার মেনে নেওয়ার জন্য। ঠিক যেন অনেকটা নিজের ঘোড়ার জন্য একটি ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদানের অনুরোধের মতো। এ ধরনের ঘটনা যখন যেভাবে এবং যার দ্বারাই ঘটুক না কেন ফল কিন্তু ভালো হয় না। অযোগ্য লোককে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসালে যে মারাত্দক ক্ষতিরসম্মুখীন হতে হয় তা ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড় কিংবা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। বরং ক্ষেত্রবিশেষে বেশি হয়।

আমাদের সমাজে আরও একটি অসঙ্গতি প্রায়ই দেখা যায়। আর তা হলো অযোগ্য লোককে যোগ্য বানানোর ব্যর্থ চেষ্টা। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে প্রতিটি মানুষ ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য বিশেষ ধরনের গুণাবলী নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। কেউ হন কবি। আবার কেউ অভিনেতা। কেউবা নেতা বা মহানেতা। অনেকে বিজ্ঞানী হন। অনেকে আমলা। আবার চিত্রশিল্প, সংগীত, যন্ত্রকৌশল বা স্থাপত্য বিদ্যায় কারও কারও একাগ্রতা উৎকর্ষতার স্বর্ণশিখরেনিয়ে গেছে। যে রাষ্ট্রনায়কের সন্তান নাপিত বা লম্পট হতে চায় তাকে দেশের নেতা বানাতে গেলেই শুরু হয় বিপত্তি। ইতিহাসের চাকাউল্টোপথে ঘোরানোর চেষ্টার মতো প্রলয়ঙ্করী ধ্বংসযজ্ঞ আর হতে পারে না। ইসলামের অন্যতম সাহাবি এবং জ্ঞানতাপস হজরত আমির মাবিয়া(রা.) এহেন চেষ্টা করেননি তার কুপুত্রকে সুপুত্র বানানোর জন্য। কিন্তু তা হয়নি। কিন্তু পুত্র স্নেহে অন্ধ হয়ে তিনি মুসলিম খেলাফত লম্পট ছেলের হাতে দিয়ে যাওয়ার কারণে এখনো মুসলিমবিশ্ব তাকে দায়ী করে। অন্যদিকে হজরত ওমর (রা.)-এর একজন ছেলে ছিল। সে কিনা একবার প্রকাশ্যে মদ্যপানকরার অপরাধে খলিফার ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হয়। খলিফা ১০০টি বেত মারার হুকুম দেন। ৯০টি মারার পর ছেলের মৃত্যু হয়। বাকি ১০টি খলিফা মৃত সন্তানের কবরে মারার হুকুম করেন।কেবল ন্যায়বিচারের কারণে কুলাঙ্গার সন্তানের জন্য কোনো মানুষ গত চৌদ্দশত বছরে একবারের জন্য হজরত ওমরকে দায়ী করেননি।

আমাদের ভারতবর্ষেও আপন পরিবার-পরিজনের প্রতি কঠোর ন্যায়বিচার প্রয়োগ করার ভূরি ভূরি উদাহরণ রয়েছে। প্রথমে আসি মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব প্রসঙ্গে। তাকে বলা হতো জিন্দাপীর। ইসলামের চার খলিফা এবং হজরত ওমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহ.)-এর পর কোনো মহান শাসক আওরঙ্গজেবের মতো এত ধর্মপরায়ণ, ন্যায়বিচারক, সাহসী, সুপণ্ডিত এবং অনাড়ম্বর জীবনাচরণের অধিকারী ছিলেন না। এত কিছুর পরও তার কয়েকজন সন্তান ছিল মদ্যপ এবং লম্পট প্রকৃতির। তার ৫১ বছরের সুদীর্ঘ শাসনামলে তিনি এসবকুলাঙ্গার সন্তানকে কারারুদ্ধ করে রেখেছিলেন। এদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু কারাগারেই হয়।

[[aj bangladesh protidin a prokasito hoyese, valo laglo, tai mobile e likhesi, tai 5000 space er besi dite na paray comnt a dite hoyese, pore pc hote edit kore dibo]]

next cmnt 1

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০১ লা মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৫:০২

মন কানা বলেছেন: Mul আজকের বলিউডের অন্যতম অভিনেত্রী প্রীতি জিনতার প্রেমিকের নাম নেসওয়াদিয়া। ভারতের বিখ্যাত বোম্বে ডায়িং গ্রুপের মালিক তারা। নেস ওয়াদিয়ার দাদি হলেন পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর একমাত্র মেয়ে। অবিভক্ত ভারতে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ যখন মুম্বাই থাকতেন তখন নেস ওয়াদিয়ার দাদার সঙ্গে প্রণয়ে জড়িয়ে পড়েন এবং এক সময় বিয়ে করেন। নেস ওয়াদিয়ারা জন্মগতভাবে অগি্নউপাসক এবং পারস্য দেশের আদিবাসিন্দা। ফলে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ তার একমাত্র কন্যার সঙ্গে সারা জীবনের জন্য সম্পর্ক ছেদ করেন। একইভাবে ভারতের জাতির পিতা মহাত্দা গান্ধীও তার এক সন্তানকে ত্যাজ্যপুত্র ঘোষণা করেছেন। মন্দকে ত্যাগ করার মধ্যেকোনো লজ্জা নেই। বরং এক ধরনের মহত্ত্ব প্রকাশ পায়। অন্যদিকে মন্দ ব্যক্তিকে কেবল আত্দীয় বা প্রিয়জন হওয়ার কারণে ভালো বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টার পরিণতি হয় ভয়াবহ। এটি যেমন জাতীয় জীবনের রাজনীতি, অর্থনীতিএবং সমাজব্যবস্থায় প্রযোজ্য, তদ্রূপ ব্যক্তিজীবনেও প্রযোজ্য।বাংলা ভাষায় ব্যঙ্গ করে বলা হয়,কাকের ময়ূর সাজার অপচেষ্টা বা কাকের কণ্ঠে কোকিলের সুর। আমার পরিচিতজনের একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি একেবারে মন্দ হবে না।
ভদ্রলোকের কাল্পনিক নাম ইমরান। দক্ষিণাঞ্চলের বরগুনা জেলায় বাড়ি। বয়সে আমার চেয়ে ২-৩ বছরের বড়। খুবই গরিব ঘরের সন্তান। টেনেটুনে কোনো মতে এসএসসি পাস করেছেন কি না সন্দেহ। দেখতে বেশ ফর্সা এবং ১৩৩টি ইবলিস শয়তানের বুদ্ধি তার মাথায় গিজগিজ করে সারা দিন। এহেন অপকর্ম নেই যা সে না করেছে বা করতে পারে। ঢাকায় এসে সে একটি স্বনামধন্য গ্রুপ অব কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ব্যক্তিগত পিয়নের চাকরি নেয়। পরে জাল সার্টিফিকেট ম্যানেজ করেপ্রথমে পিএ এবং পরে পিএস হয়। ৮-১০ বছরের মধ্যে বিভিন্ন অনিয়ম করে কোটি কোটি টাকা আত্দসাতের মাধ্যমে ঢাকাতে একাধিক বাড়ি, গাড়ি এবং জায়গা-জমির মালিক হয়। অফিসে তার অনিয়ম ধরা পড়ে এবং সঙ্গে সঙ্গে চাকরিচ্যুত হয়।এরপর সে শুরু করে ব্যবসা এবং আরও টাকার মালিক বনে যায়। এখন তার দরকার আভিজাত্যের। প্রথমে নজর দেয় স্ত্রীর দিকে। গ্রাম্য মেয়ে। বিদঘুটে কালো এবং লেখাপড়া নবম শ্রেণী পর্যন্ত। নাম শেফালী। আধুনিক বানানোর জন্যশেফালীর ফ বাদ দিয়ে নতুন নাম দেয় শেলী। রং-বেরঙের শাড়ি, পার্লারে পাঠিয়ে হেয়ার স্টাইল এবং বাসায় শিক্ষক রেখে শুদ্ধ ভাষায় কথা বলানোর তালিম দেওয়া শুরু হয়। নিজেও ভালো ভালো জামাকাপড় কেনার পাশাপাশি আরও কয়েকটি সার্টিফিকেট জোগাড় করে। এর কিছুদিন পর একটি ডক্টরেট ডিগ্রিও ম্যানেজ করা হয়। সব ধরনের অনুষ্ঠানে শেলীরূপী শেফালীকে নিয়ে যাতায়াত শুরু করে। অনুষ্ঠানের অভ্যাগতরা বুঝতে পারে ময়ূরের বেশ ধরে কাক এসেছে কিন্তু কিছু বলে না। চুপ মেরে যায়। এভাবেই চলে বেশ কিছুদিন। ইতোমধ্যে ইমরান-শেলী দম্পতি বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে তারা সত্যিকার অর্থেই আধুনিক হয়ে গেছে।
এভাবেই চলছিল বেশ। কিন্তু বিপত্তি বাধল একদিনের এক ককটেল পার্টিতে। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই আচ্ছামতো মদ খেল। যারা দাওয়াত করেছিল। বমি করে তাদের কার্পেট নষ্ট করে দিল। এরপর স্বামী-স্ত্রী মিলে বরিশালী ভাষায় শুরুকরল ঝগড়া এবং তারপর গালাগালি। এ নিয়ে বিরাট উপন্যাস লেখা যাবে। আমি কেবল শেলীর কয়েকটি গালির বর্ণনা করে অন্য প্রসঙ্গে যাব। শেলী বলছে, গোলামের পো (চাকরের বাচ্চা) চাইয়া দ্যাখ! ম্যাট্রিকপাস কর নাই। ভুয়া ডাক্তার ওইছো। মদ খাইয়া মোর লগে বাহাদুরি দ্যাহাও। গায়ে হাত দ্যাও! মুই চহিদারের মাইয়া। মুহি দিয়া তোরজামির দাঁত ফ্যালাইয়া দিমু (ঘুষি দিয়ে মাড়ির দাঁত ফেলে দেব)। এ ঘটনার পর ইমরান-শেলী দম্পতি আর এক সঙ্গে বাইরে যায়নি বটে। কিন্তু তাদের ব্যক্তিগত নৈতিক চরিত্র ভ্রষ্টাচারের সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে গেছে। একে-অপরের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তারা প্রতিনিয়ত অনৈতিক কাজ করে যাচ্ছে। অন্যের কথা বলার পর এবার নিজের কথা না বললেই নয়। গ্রামের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে আমার জন্ম। ভীষণ গোঁড়াপন্থি এবং ধর্মভীরু মুসলিম পরিবার। আমাদের পরিবারে স্বামী-স্ত্রীকে কখনো ঝগড়া করতে দেখিনি। ছোটরা কখনো বড়দের সামনে মাথা উঁচু করে কথা বলে না। লেখাপড়া, নামাজ, কালাম এবং বড়দের হুকুম মতো চালচলন যেন জীবনের অমোঘ নিয়ম। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে হঠাৎ করেই ঘটল ব্যতিক্রম।
আমি বিয়ে করলাম অন্য একটি জেলায় এবং স্ত্রীদের পারিবারিক পরিবেশ আমাদের থেকে ভিন্নতর। আমাদের পরিবারে স্ত্রীরা স্বামীর সঙ্গে আপনি আপনি করে কথা বলেন। আমার স্ত্রী আমাকে তুমি বলা শুরু করল। দাদি তখন জীবিত। প্রবল বাধা দিলেন। ফলে প্রকাশ্যেসে আমাকে কিছুই বলত না। কিন্তু রাত হলে তুমি তুমি বলত। লোকজনের সামনে ঘোমটা দিয়ে মাথা নিচু করে থাকত এবং উঠতে বসতে আমাকে সালাম করত। এভাবে কিছুদিন করার পর সে সত্যিই আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্যের সঙ্গে একীভূত হয়ে গেল।এভাবে বেশ ভালোই চলছিল। কিন্তু বিপত্তি বাধল আমার বিলেত ফেরতের পর। বিলাতে গিয়ে দেখলাম স্বামী-স্ত্রী দিবারাত্র কলহ করে। অবশ্যগায়ে হাত তুলে মারামারি করে না। ওদের ঝগড়াঝাটি দেখে আমারও ঝগড়াকরতে ইচ্ছা করত। স্বামী-স্ত্রী একে-অপরের নাম ধরে ডাকত এবং বন্ধুর মতো সবকিছু শেয়ার করত। আমি জিজ্ঞাসা করতাম তোমরা ঝগড়া কর কেন! ওরা বলত ঝগড়া না করলে স্বামী-স্ত্রীর মহব্বত বাড়ে না।তাছাড়া ঝগড়ার ফলে বুদ্ধিও বাড়ে। বলে কি? বুদ্ধি বাড়ে। যে বুদ্ধির জন্য আমি এত দূর এলাম সেইবুদ্ধি যদি ঝগড়া করে পাওয়া যায় তাহলে এখানে থেকে লাভ কি। আমি দেশে যাব এবং বউয়ের সঙ্গে ঝগড়া করে বুদ্ধি বাড়াব।
যেমন কথা তেমন কাজ। দেশে ফিরে স্ত্রীকে ঢাকায় নিয়ে এলাম। কারণ বাড়িতে বসে বাবা-মার সামনে ঝগড়া করা যাবে না। ঢাকাতে ভাড়াবাসায় থাকি এবং সময় পেলেইঝগড়া করি। প্রথম প্রথম স্ত্রী দীর্ঘদিনের সংস্কার ও পারিবারিক শিক্ষার কারণে ঝগড়া করতে চাইত না। কিন্তু আমি খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে তাকে বাধ্য করলাম। প্রথম দিকে সে আমার সঙ্গে পারত না। next cmnt 2

২| ০১ লা মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৫:০৪

মন কানা বলেছেন: Cmnt 1 er por কিছু বললেই ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদত এবং বলত তুমি একটা তোফায়েল আহমেদ। তোফায়েল সাহেব যেমন বিএনপির সঙ্গে ঝগড়া করে তেমনি তুমিও আমার সঙ্গে কর। আমাকে তোফায়েল ভাইয়ের সঙ্গে তুলনা করার কারণে আমি খুবই প্রীত হতাম। মাথা ঠাণ্ডা রেখে ধীরে ধীরে ঝগড়া করতাম। আর সে আমার সঙ্গে ঝগড়ায় না পেরে কেঁদে কেটে একাকার হতো। স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করা আমার জন্য ছিল একটি চমৎকার বিনোদন। কিন্তু আমার এই বিনোদন বেশি দিন চলল না। আমার স্ত্রী অচিরেই ঝগড়া করার ক্ষেত্রে আমার দক্ষতাকে হার মানিয়ে শিরোপা জিততে আরম্ভ করল।পৃথিবীর অন্যান্য সম্মানিত রমণীর মতো আমার স্ত্রীও ঝগড়ার সময় আমার বাবা-মা, ভাইবোন তথা আমার দুর্বলতম এবং শ্রদ্ধার জায়গাগুলোতে আঘাত করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা শুরু করল। আমি উপায় খুঁজতে থাকলাম কিভাবে ঝগড়া বন্ধ করা যায়। অন্যদিকে ঝগড়া লাগানোর জন্য সে নিত্যনতুন ফন্দি অাঁটতে থাকল। এ অবস্থার মধ্যে আব্বা একদিন বেড়াতে এলেন। তার সামনেই আমরা ইউরোপীয় স্টাইলে বুদ্ধি বাড়ানোর তর্ক এবং বাংলাভাষায় ঝগড়া শুরু করলাম। আব্বাকে যমের মতো ভয় পেতাম। তিনি মুচকি হেসে তার বউমার পক্ষ অবলম্বন করলেন। ঝগড়া থামল। আব্বা বিকালে চলে যাবেন। আমি যথারীতি অন্যবারের মতো তার ব্যাগটি নিজ হাতে বহন করেনিচতলার গ্যারেজ পর্যন্ত আসলাম। গাড়িতে ওঠার আগে আব্বা বললেন, আমি চমৎকার একটি মেয়েকে তোমার বউ করেছিলাম। তোমার নির্বুদ্ধিতা ও ব্যক্তিত্বহীন আচরণ তাকে বাধ্য করেছে তোমার অবাধ্য হতে। আমি তোমার মতো কাপুরুষের বাবা হতে পেরে সত্যি আনন্দিত। ভালো থাক, সুখে থাক এবং নতুন উদ্যমে ঝগড়া কর। আব্বা চলে গেলেন। আমি সিঁড়ির ওপর বসে পড়লাম। প্রায় এক ঘণ্টা পর বাসায় ফিরলাম। ওই দিনের পর ২০টি বছর চলে গেছে। কিন্তু আমাদের মধ্যে তেমন অপ্রীতিকর ঘটনা আর ঘটেনি। আব্বা আমাদের একটি সুখী দম্পতি হিসেবে দেখেই ইন্তেকাল করেছেন।
আমার মনে হয়, আমরা যারা সমাজে দ্বন্দ্ব-ফ্যাসাদ করি তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে না বুঝেই করি। কেউ কেউ আবার এমনি এমনি করে অনেকটা হরলিকস খাওয়ার বিজ্ঞাপনের মতো। নেহায়েত খেলতে খেলতে আমরা ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগিয়ে যাই।নিজের জীবনকে বিপন্ন করি। তেমনি অন্যের জীবনকেও বিপন্ন করে ফেলি।নিজের কর্তৃত্ব ও ক্ষমতাকে জাহিরকরার জন্য আমরা বেশির ভাগ সময় অন্যের প্রতি জুলুম করি। প্রতিটিজুলুমবাজ জালেম মূলত খুবই নিম্নমানের মানুষ। উচ্চমার্গের মানুষ কখনো অত্যাচার করে না। প্রকৃতিতে এর অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে। বনের কুকুর কিংবা শুয়োরচলাফেরার সময় অকারণে ঘেউ ঘেউ কিংবা ঘ্যাৎ ঘ্যাৎ শব্দ করে। কিন্তু বাঘ-সিংহ চলে নীরবে। প্রয়োজন ছাড়া শিকার করে না। কোনো প্রাণী এমনকি স্বজাতির সঙ্গেও দ্বন্দ্ব-ফ্যাসাদে জড়ায় না। সমাজের সিংহ হৃদয়ের মানুষরা দলমত ও শত্রুমিত্র নির্বিশেষে সবাইকে তাদের উত্তম মানবিক গুণাবলি দ্বারা বিমোহিত করে। অন্যদিকে নিম্নমানের মানুষের উৎপাতে আশপাশের পশুপাখিও অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। এবার মূল প্রসঙ্গে কিছু বলে লেখা শেষ করব। শিরোনামটি ব্যবহার করা হয়েছে কেবল অযোগ্য লোকের গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল কিংবা মন্দ মানুষ কর্তৃক ভালো মানুষকে শাসন করার প্রসঙ্গ বুঝানোর জন্য।যারা এসব কাজকর্ম করেন তারা এর মাধ্যমে এক ধরনের পৈশাচিক আনন্দ উপভোগ করার চেষ্টা করেন। কেউ মুখ ফুটে কিছু বলতে পারে না বটে কিন্তু নির্যাতিতদের অন্তরের ঘৃণা ও অভিশাপে তাদের করুণ পরিণতি ডেকে নিয়ে আসে। শাসকরা প্রায়ই চেষ্টা করেন তাদের নির্বোধ ও অযোগ্য সহযোগী এবং তেলবাজ আত্দীয় ও প্রিয়জনকে জনগণের ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চাপিয়ে দেওয়ার জন্য। কোনো কোনোমহান শাসকও এই ভুল করেন। কিন্তু তাদের প্রজ্ঞা দ্বারা তারা সহজেইভ্রান্তি থেকে বের হয়ে সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করে ফেলতে পারেন। এমনি এক মহান শাসকের উদাহরণ দিয়ে আজকের লেখাটি শেষ করব।
দিলি্লর মহান শাসক কুতুবউদ্দিন আইবেকের ৪০ জন প্রভাবশালী দাস ছিল। এরা প্রায় সবাই ছিলেন অতি উচ্চ শিক্ষিত, দক্ষ সেনাপতি, বিশ্বস্ত মন্ত্রী এবং সুলতানের অত্যন্ত আস্থাভাজন। এই দাসদের মধ্য থেকে বেশ কয়েকজন আবার দিলি্লর সুলতান হিসেবে অধিষ্ঠিত হন এবং তারা খুবই নামকরা শাসক ছিলেন। কুতুবউদ্দিন নিজেও সুলতান মাহমুদের ক্রীতদাস ছিলেন। কুতুবউদ্দিনের ক্রীতদাসদের মধ্যে ইলতুৎমিশ, গিয়াসউদ্দিন বলবন বিভিন্ন কারণে ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন।
একদিন সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেক তার খাস কামরায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। অন্য একজন মন্ত্রী তার পাশে বসে কথা বলছিলেন এবং পা টিপছিলেন। এমন সময় ইলতুৎমিশ যিনি কিনা একজন মন্ত্রীও ছিলেন, সেখানে ঢুকলেন। তারই মতো একজন মন্ত্রী কর্তৃক সুলতানের পা টিপতে দেখে তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লেন। তিনি মহামান্য সুলতানের কাছে নির্ভয়ে কিছু বলার অনুমতি চাইলেন। অনুমতি মঞ্জুর হলো। ইলতুৎমিশ বললেন, আলমপনা মন্ত্রীপদধারী ওই লোকটি আপনার পাটিপে আপনাকে চরমভাবে অপমানিত করছে। পা টেপা কোনো খানসামার কাজ। লোকটি প্রমাণ করার চেষ্টা করছে যে আপনি কোনো যোগ্য লোককে মন্ত্রী পদে নিয়োগ দেওয়ার মেধাসম্পন্ন ব্যক্তি নন। আপনার রুচি এবং আভিজাত্য নাপিত বা খানসামার পর্যায়ভুক্ত। আপনি নিম্নশ্রেণীর মানুষ দিয়ে উচ্চমার্গের কাজ করার প্রবৃত্তি দেখালে আপনার সালতানাত ধ্বংস হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। ইতিহাস সাক্ষী_ এ ঘটনার পর ইলতুৎমিশকে প্রধানমন্ত্রী বানানো হয়েছিল যিনি কিনা কুতুবউদ্দিন আইবেকের মৃত্যুর পর দিলি্লর সুলতান হয়েছিলেন। অন্যদিকে ওই পা টেপা মন্ত্রীকে রাজধানী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। যিনি পরবর্তীতে চীন দেশে পালিয়ে গিয়ে মোঙ্গলদের প্ররোচিত করেছিলেন ভারতবর্ষ আক্রমণ করার জন্য।

লেখক : রাজনীতিক ses

৩| ০১ লা মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৫:৫৬

আলাপচারী বলেছেন: দুঃখিত ভাই, আপনার লেখার মূল ভাবটি বুঝলাম, ইঙ্গিতটা ধরতে পারলাম না।
কাকে নেগেটিভ চরিত্র কাকে পজিটিভ চরিত্র নির্দিষ্ট করলেন ? ও.কে. না রণি ?
নাকি এই লেখকই রণি ? বক্তা / লেখক কে বোঝা গেল না।

৪| ০১ লা মার্চ, ২০১৩ বিকাল ৫:৫৯

মন কানা বলেছেন: লেখকই রনি

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.