নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

তোমার আর আমার দূরত্ব রাস্তার এপার ওপার।তুমি দাড়িয়ে আছো আমার আশায়আমি অপেক্ষায় আছি যাবো কখন!waiting for a loyal heart!

মেঘ প্রিয় বালক

একটা কৃষ্ণচূড়া গাছ। শুষ্ক অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে গেলেও, নাতিষীতোষ্ণ অঞ্চলে এটি চিরসবুজ।

মেঘ প্রিয় বালক › বিস্তারিত পোস্টঃ

স্বার্থহীন ভালোবাসা

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ৮:২৪


দৃশ্যপট:-(০৯)
আজ ৫ বছর পর দূর প্রবাস সৌদি আরব থেকে বাড়ি ফিরার পালা।
বাড়িতে কাউকে না জানিয়েই ফিরছি মায়ের কাছে,আমার আসাটা শুধু আমার বন্ধু হাসান জানে,হাসানকে অনেক আগেই বলে রেখেছি ও যেন গাড়ি নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলে আসে।
একটি বিমানের টিকেট আর ৭ ঘন্টার ব্যবধানে আমি নিজ মাতৃভূমি তে।
সবকিছু ঠিকঠাক মতই হলো,হাসানের সাথে কোলাকুলি করে গাড়িতে উঠে নিজ গ্রামের দিকে রওয়ানা হলাম।
চোখ জুড়ানো সবুজ মাঠ ঘাট দেখে মনের ভিতর শান্তি অনুভব করছি,
প্রবাসে যখন ছিলাম,তখন ভাবতাম কবে দেশে যাবো,কবে ধারদেনা পরিশোধ করে নিজের নামে জায়গা কিনবো,সেই জায়গাতে বাড়ি উঠবে। বাড়ির নাম হবে হোসাইন মন্জিল।
৫ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে আজ নিজের জায়গাতে নিজের নামে ভিলা দাঁড় করালাম।
কতই না কষ্ট প্রবাসে,ফজরের আযানের আওয়াজে একজন প্রবাসির ঘুম ভাঙ্গে।
ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাসতা না করেই কর্মস্হলে যেত হয়,৮ ঘন্টার ডিউটি শেষে বাসায় এসে আবার খাবার রান্না করে খেতে হয়,খাওয়া দাওয়া শেষে বিছানায় শুয়ে একটু বিশ্রাম না নিয়েই আবার বাহিরে গিয়ে কাজের সন্ধান করি এই ভেবে যে ,এ মাসে দেশে রেমিটেন্সের পরিমানটা একটু বেশি হয়।
বাবার ঔষুধের টাকা,বোনের পড়ালেখার খরচ,ছোট ভাইয়ের একটা মোবাইলের আবদার সবার খরচের টাকা যেন এ মাসে দিতে পারি।
পিছনের এসব স্মৃতিচারণ করতে করতে আমার নিজ গ্রামে চলে আসলাম।
গাড়ির ভিতর থেকেই আমি দূর থেকে দেখতে পাচ্ছি,আমার মমতাময়ী মা বাড়ির সামনের গেইটে দাঁড়ানো।
আমি হাসানকে বললাম গাড়িটা একেবারে আমার মায়ের সামনে নিয়েই দাঁড় করাবি,মা যেন আমাকে দেখে অবাক হয়ে যায়।
হাসান গাড়িটা যতই সামনে আগাচ্ছে,আমার ভিতরে হার্টবির্ট ততই বাড়ছে।
এ যেন এক অন্যরকম অনুভূতি।
গাড়ীটা থামনোর পর আমার আম্মুর নজর হলো গাড়ির ভিতরে কে???
আমি নামতে দেখেই আমার মায়ের চোখের জল আর কে ধরে রাখে?
দূর থেকেই দুই হাত বাড়িয়ে মা বলতেছে আমায়,আমার বাবা চলে এসেছে,আমার বাবা চলে এসেছে।
ইমোশনালেরর আঘাত এতটাই যে, আমার মত কঠিন মানুষটার চোখের জল অটোমেটিক ঝরতে থাকলো!
মায়ের কপালে চুমু দিলাম,মা ও আমার কপালে চুমু দিয়ে বলতে লাগলো,আমার বাবা।
৪/৫ মিনিটের ভিতর ঐ খানে ২০/২৫ জনের উপস্হিতি,তাদের মাঝে কেউ কাঁদছে কেউ হাসছে।
মাকে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নাতে বিভোর দুজন।
এ কান্না হলো খুশির কান্না।
অথচ এর চাইতে বেশি কেঁদেছিলাম যখন নিজ দেশ ও মায়ের বুক ছেড়ে পাড়ি জমাই প্রবাসে ।।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মাকে জড়িয়ে ধরে দীর্ঘ ৫ মিনিটের কান্না,বিমানবন্দরে অবস্হানকৃত আশে পাশের সবাই মা ছেলের বিচ্ছেদের কান্না দেখছে।
এ কান্নাটা ছিলো দুঃখের কান্না।
মাঁকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে করতেই ঘরে উঠলাম।
এদিকে মা চলে গেল রান্নাঘরে,আমি সাথে করে নিয়ে আসা আমার লাগেজ গুলো খুলতে শুরু করলাম।
ধীরে ধীরে সবাই উপস্হিত,ছোট ভাই বলতেছে,ভাইয়া আমার মোবাইল আনছো??
বড় বোন, ভাই আমার বোরকা আর তোর দুলাভাইয়ের ল্যাপটপ এনেছিস?
আদরের ছোট ভাগনি,মামা আমার কানের দুল কই???
হাজারো চাওয়া,হাজারো আবদার ব্যাগ খোলার আগেই।
একটি বড় নিঃশ্বাস নিয়ে বললাম,সবাই কিছু না কিছু পাবে।
নিরাশ কেউ হবেনা।
ঐদিকে আম্মু খাবারের জন্য ডাকতেছে!
আমি গিয়ে খাবারের টেবিলে বসলাম,অল্প সময়ের ভিতর মা অনেক কিছুই রান্না করলো।
আমি ভাতের নলা মুখে নেই,আর আম্মু আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে,আমার পেটের দিকে তাকায়,আবার আমার চোখের দিকে দেখে,আর অঝোর ধারায় চোখ দিয়ে পানি ঝরায় আমার মা,আর বলে কতদিন যেন না খেয়ে কাটিয়েছিলি,কত রাত যেন না ঘুমিয়ে পার করেছিলি?
অথচ আমি ফোন দিলে ঠিকি বলেছিস,হ্যাঁ দুপুরের খাবার খেয়েছি,যখন বলতি তখন আমার মন ছটফট করতো?
আমি জানি তুই তখন মিথ্যা বলতি, না খেয়েই বলতি হ্যাঁ মা,আমি খেয়েছি।
অাজ সকাল থেকেই তোর মায়ের মনটা ছোটফট করেছে,কারন খুজে পাইনি কেন এমন হচ্ছে আজ?
এখন বুঝলাম।
অবশেষে আমি মাকে প্রশ্ন করলাম,মা সবাই তো জিজ্ঞেস করলো,কার জন্য কি এনেছি,তুমি তো কিছুই চাইলেনা?
মা আবারো কান্না করে বলতে লাগলো,আমার ছেলে আমার বুকে চলে এসেছে,,আমার জন্য পৃথিবীর বুকে এর চাইতে বড় আর কি চাওয়া হতে পারে,?
সবাই সবার আবদারকৃত জিনিস নিয়ে চলে গেলো,আমার পাশে শুধু মা রয়ে গেল।
পৃথিবীতে ১০০% খাঁটি স্বার্থহীন ভালবাসা মা ছাড়া আর কেউ করেনা।
স্বার্থছাড়া কেউ কাউকে ভালবাসেনা,কিন্তুু মায়ের ভালবাসা স্বার্থহীন,খাদহীন খাঁটি।
প্রবাসীদেরকে কখনো গালি দিবেন না,তাদের নিয়ে বাজে মন্তব্য করবেন না।তারাই হলো দেশের অর্থনীতির চাকা,তাদের পাঠানো রেমিটেন্সের টাকায় দেশের উন্নতি হচ্ছে।

একটি দৃশ্যপট।

মন্তব্য ১০ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১০) মন্তব্য লিখুন

১| ২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৪২

কালীদাস বলেছেন: লেখাটা সহজ-সরল এবং খুবই টাচি। সুন্দর :)
প্রচুর টাইপো আছে লেখাটায়, প্লিজ এডিট করুন।

৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:২২

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: যেটুকু পেরেছি, এডিট করেছি,বাংলা সাহিত্যে আমি অনেক কাঁচা।দুঅা করবেন যেন আরো ভালো পোস্ট করতে পারি ব্লগে।

২| ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:১৫

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: মোবাইলের কি বোর্ড দিয়ে লেখা,আর এডিট করার চেস্টা করতেছি,,কিন্তুু হচ্ছেনা/ লগইন করার পর ভিজিটারদের মত show করছে আমার ব্লগ। সমস্যাটা কি বুঝতেছি না।
অার টাইপো গুলো একটু ধরিয়ে দেন প্লীজ/

৩| ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:৩৩

হাবিব স্যার বলেছেন:



মন্তব্যের উত্তর করতে ক্রস চিহ্নের পাশে থাকে তীর চিহ্নে ক্লিক করুন। যে বক্স আসবে সেখানে আপনার উত্তর লিখুন.......

মন্তব্য প্রকাশ করুন" বাটনে ক্লিক করে আপনার উত্তর দিতে পারবেন.......

১৯ শে মে, ২০১৯ বিকাল ৪:০৭

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: বুঝলাম

৪| ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:৩৪

আর্কিওপটেরিক্স বলেছেন: মোবাইলে এডিট করার আগে কিবোর্ড বেছে নিন থেকে English সিলেক্ট করুন।
দেন রিদ্মিক দিয়ে টাইপ করুন।

ক্রোম ব্রাউজারে মোবাইল ভার্সন আসলে সবার নিচের Full version এ ক্লিক করুন। না হলো ডেস্কটপ ভিউ অন করুন।

কম্পিউটারের মতো সামুর সাইট আসবে....

কমেন্টের রিপ্লাই দিতে সবুজ তীরে ক্লিক করে লিখুন....

৫| ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:৩১

যোখার সারনায়েভ বলেছেন: প্রবাসীদের সম্মান জানাই সবসময় !

০১ লা জানুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ২:৩২

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই।

৬| ১০ ই মে, ২০১৯ রাত ২:২০

বলেছেন: লেখাটি ভালো লাগলো -- টাচি

১০ ই মে, ২০১৯ রাত ২:২৮

মেঘ প্রিয় বালক বলেছেন: ধন্যবাদ ভাই পিছনের পোস্ট পড়ার জন্য। ভালবাসা নিবেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.