নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাইফুল্লাহ007

হতাশা আর দু;খ ব্যাথা যাদের দেখে থমকে দাঁড়ায় আজকে তাদের খুব প্রয়োজন, বিশ্ব এসে দু হাত বাড়ায়।

সাইফুল্লাহ007 › বিস্তারিত পোস্টঃ

শিক্ষকদের কাছে আমাদের মেয়েরা কতটুকু নিরাপদ?

০৯ ই জুলাই, ২০১১ সকাল ৮:১৭

আমি তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি। আমাদের স্কুলটি ছিল গ্রামে। তখন আমাদেরকে স্যারেরা ক্লাসে মুখস্ত পড়া নিতেন। আমরাও মুখস্ত করে আসতাম। আমাদের স্কুলে ২ জন শিক্ষক ছিলেন যারা মেয়েদেরকে পড়া জিজ্ঞাসা করতেন বেশি। শুধু জিজ্ঞাসা নয় বরং তাদের কাছে গিয়ে পড়া বলতে হত। মাঝে মধ্যে হাত ধরে টেনে কাছে নিয়ে পড়া জিজ্ঞাসা করতেন। আবার পড়া না পারলেও মেয়েদেরকে বেত দিয়ে না পিটিয়ে হাত দিয়ে মারতেন। আমাদের মনে তখন আক্ষেপ স্যার এমন করে মেয়েদেরকে কাছে টানেন আর আমরা কিছু বললেই দোষ। অনেকে বিশেষ করে যারা দুস্ট ছিল তারা বলত আমিও ভবিষ্যতে শিক্ষক হব(এর বিশেষ আকর্ষন হিসেবে ছিল শিক্ষকের আদর্শ!)।



আমি এসএসসি পাশ করেছি ২০০৪ সালে। এরপরও নানা কারনে বিদ্যালয়ে যেতে হয়েছে। তখন প্রায়ই শুনেছি ছাত্রীদের সাথে শিক্ষকদের অশালীন আচরনের কথা। আজ আমি খুব ভালভাবেই অনুভব করতে পারি মেয়েদেরকে কি ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। মেয়েদের বুক ফাটে তো মুখ ফোটেনা। তাই অবলীলায় সহ্য করে যায় মানুষরুপী ওই পশুদের নির্যাতন। দরিদ্রের অনেক টাকা পয়সা নেই কিন্তু আছে আত্নসম্মানবোধ, আছে মান সম্মান হারানোর ভয়। কিন্তু আজ যখন শুনি দেশের শীর্ষস্থানীয় ভিকারুন্নিসার স্কুলের কোন মেয়ে শিক্ষক কতৃক ধর্ষিত হয় তখন বিবেক আর কাজ করেনা। শুধু ভিকারুন্নিসা নয় দেশের অধিকাংশ বিদ্যালয়েই এমন ঘটনা অহরহ ঘটছে। কিন্তু মান সম্মান হারানোর ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী এমনকি পরিবার পর্যন্ত ঘটনা প্রকাশ করতে চান না। এর সূযোগ নিয়ে অনেক নরপিশাচ শিক্ষার্থীদেরকে ব্লাঙ্কমেইলও করে থাকেন । আমার জানামতে এমন ঘটনার সংখ্যা অনেক। শিক্ষক সম্প্রদায় যারা মানুষ গড়ার কারিগর তারা যদি এমন কাজ করে তাহলে আমরা জাতি হিসেবে দাঁড়ানোর মত অবস্থান আমাদের থাকবেনা এটা নিশ্চিত।

কিন্তু কেন এমন ঘটনা ঘটে? কারন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় লোক, ঘুষ খেয়ে নিয়োগ প্রদান, আত্নসার্থ হাসিল করার জন্য নিয়োগ প্রদান করা হয়। কমিটির নিয়োগদানের ক্ষেত্রে দলীয় নিয়োগ প্রদান করা হয়। কমছে জ্ঞানের কদর, তাই শিক্ষকতার মত মহান পেশায় ভালো শিক্ষার্থীরা আসছেনা। বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেখানে সবচেয়ে ভাল ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা শিক্ষক হিসেবে মহান এই পেশায় যোগদান করে আমাদের দেশে এর অবস্থা ঠিক বিপরীত। এই যদি হয় আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থার হালচাল তাহলে দেশের অবস্থা যে কি তা সহজেই অনুমেয়।



আসুন আমরা শুধু পরিমল, বিপুলদের দৃস্টান্তমুলক শাস্তি নয় বরং এর সাথে মেধাবিদের শিক্ষাব্যাবস্থার প্রতি আকর্ষন করুন করে শিক্ষা ব্যাবস্থা , নিয়োগ ক্ষেত্রে দলীয় নিয়োগ রহিত করার দাবি জানাই। নইলে হয়ত কোন্ দিন হয়ত এর শিকার হবে আমার বোন, আপনার মেয়ে, আপনার স্ত্রী কিংবা খুব কাছের কোন মানুষটি। শিক্ষকের মহান পেশটি মহান মানুষদের হাতেই ন্যাস্ত করা উচিত। সকল দলীয় নিয়োগ বন্ধ করা হোক। নিশ্চিত হোক আগামীর মান সম্মত শিক্ষা......।

by........ধ্রুপদী শামীম

মন্তব্য ১৪ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই জুলাই, ২০১১ সকাল ৮:২৪

হাসান ইকবাল বলেছেন: অনেক স্কুল আছে যেখানে মোটেও নিরাপদ নয়। অনেক সময় মেয়েরা ভয়ে কিছু বলেনা। আমাদের সেখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

শুধু স্কুল নয়...বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও অনেক মেয়েরা নির্যাতনের শিকার। কিন্তু ভয়ে । সামাজিকতার খাতিরে মেয়েরা অনেক সময় মুখ খুলেনা।

২| ০৯ ই জুলাই, ২০১১ সকাল ৮:৩৪

টি-ভাইরাস বলেছেন: শুধু মালাউন শিক্ষকদের কাছে ঠিকে ধুরে থাকবেন

৩| ০৯ ই জুলাই, ২০১১ সকাল ৮:৫২

১১স্টার বলেছেন: আমরা ছোট বেলায় শিক্ষকদের দেখলে ছালাম বা আদাব দিতাম কিন্তু এখন সেটা তারা পায়না কারন শিক্ষকদের নৈতিকতার অবক্ষয়ের কারনে। টি ভাইরাস যেটা বলেছে সেটা কিছুটা হলেও সত্যি আমি যে হাইস্কুলে পড়তাম ওই স্কুলের একমাত্র ধর্মীয় শিক্ষক (হুজুর) ছিলেন মুসলীম বাকি সবাই ছিলো হিন্দু। তারা সবাই পোস্টদাতার অভিজ্ঞতার যে চরিত্র তাই।

৪| ০৯ ই জুলাই, ২০১১ সকাল ৮:৫৬

সুনজ বলেছেন:
জানিনা কেন যে এ দেশে জন্মেছি ? এ দেশে জন্ম গ্রহন করে আমি লজ্জিত।

৫| ০৯ ই জুলাই, ২০১১ সকাল ৮:৫৮

শামুক বলেছেন: সেটা যতটুকু শিক্ষকের উপর নির্ভর করে ঠিক তততুকু মেয়ে/ছাত্রীর উপরও নির্ভর করে।

৬| ০৯ ই জুলাই, ২০১১ সকাল ৯:১৩

অজানা৮৩ বলেছেন: শুধু মাত্র স্কুলে নয়, এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটছে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গুলুতে এবং সবচেয়ে বেশি মনেহয় মেডিকেল কলেজগুলিতে । কারন দেখা যায় পরাশোনার শেষ পর্যায়ে এসে পাস বা ফেলের ব্যাপারটা একটা জীবন মরনের প্রশ্ন হয়ে দারায়,আর তখন ই কোন শিক্ষক নামের পশুরা ছাত্রীদের বাধ্য করে,এবং ছাত্রীরা তা নিরবে সহ্য করে ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে।এ ব্যপারে সবাই কে সজাগ থাকতে হবে এবং ছাত্রীদের প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে ।

৭| ০৯ ই জুলাই, ২০১১ সকাল ৯:১৭

ksyk03 বলেছেন: amader coolege ekjon moddhobyosko teacher silen jini classe dhukei chair tene nia meyeder sider samne gia bosten and bivinno usilai oder sue diten!!! they r really lost their humanity againgst the bestiality!!!

৮| ০৯ ই জুলাই, ২০১১ সকাল ৯:১৮

পলাশ আহমেদ বলেছেন: Durjon biddan holeo poritajjo.

৯| ০৯ ই জুলাই, ২০১১ সকাল ৯:৩৪

লাইলী আরজুমান খানম লায়লা বলেছেন: @হাসান ইকবাল এর সাথে সম্পূর্ণ একমত।

১০| ০৯ ই জুলাই, ২০১১ সকাল ৯:৪৫

মেঘনা পাড়ের ছাওয়াল বলেছেন: শিক্ষক নামের ধর্ষকদের পুরুষাঙ্গ উচ্ছেদ করা হোক।

১১| ০৯ ই জুলাই, ২০১১ সকাল ১০:১২

রূপকথার রাজকন্যা বলেছেন: @অজানা৮৩ আপনার ধারনা ঠিক ই। আপনি মেডিকেলে ছিলেন কিনা জানিনা। আমি আমার মেডিকেলে চরম নোংরা পরিবেশ দেখে এসেছি। আমাদের পেডিয়াট্রিক ডিপার্টমেন্টে একজন এসোসিয়েট প্রফেসর উনি মেয়েদেরকে পারলে জড়িয়ে ধরে ক্লাশ করাতেন। প্রথমে বলতেন পেশেন্ট এর লিভার পালপেট কর। লিভার পালপেট করতে গেলে না না হচ্ছেনা আমি দেখাই বলে হাত ধরে ঘারের উপরে এসে পালপেট করা দেখাতেন। এরকম আরও কিছু শিক্ষক ছিলেন। এরা আবার সবাই এক গ্রুপ। কোনো মেয়ে যদি বলার চেষ্টা করত উনি এরকম করে বাকি শিক্ষকরা বলত এই মেয়ের তো আমার সাথেও সেম প্রবলেম সো মেয়ের ই দোষ। আবার শিক্ষিকারাও দেখতাম ছাত্রীদের পক্ষ নিতে পারতেন না চাকরীর ভয়ে । আর কিছু শিক্ষিকা তো ছিলেন ই হোসনে আরা টাইপ। অন্য মেডিকেলের কথা বন্ধুদের কাছে শুনি। ওরাও একই টাইপ কথা বলে।

১২| ০৯ ই জুলাই, ২০১১ দুপুর ১:০৭

সমকালের গান বলেছেন: যর্থাথ বলেছেন।

১৩| ১০ ই জুলাই, ২০১১ রাত ৩:৩৬

অজানা৮৩ বলেছেন: @ রূপকথার রাজকন্যা আপনি ঠিক ধরেছেন,আমি মেডিকেলের ছাত্র ছিলাম বলেই কিছু সুযুগ সন্ধানি শিক্ষকের অনৈতিক ব্যবহারের সাথে পরিচিত। আর মেডিকেলের পড়াটা যেহেতু মানুষের শরীর সম্পর্কীয় বুজতেই পারছেন.......... । মেডিকেলে এ রকম অনৈতিক ঘটনার সংখ্যা অনেক বেশী । আমাদের দেশের নারীরা এই একবীংশ শতাদ্বীতেও বেশ অসহায়, আমাদের সমাজ ব্যবস্থার কারনে,কারন এ ঘটনার কথা কাউকে তারা বলতে পারেনা ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.