নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

কি বলা যায়! কিছু কথায় নিজেকে ব্যক্ত করা সম্ভব না আমার পক্ষে। তাই একটা সিরিজে কিছু কিছু করে সবই বলছি।

সামু পাগলা০০৭

আমি অতিআবেগী, আগে ব্যাপারটা লুকানোর চেষ্টা করতাম। এখন আর করিনা।

সামু পাগলা০০৭ › বিস্তারিত পোস্টঃ

তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (১১) - মায়ের বিদেশী ক্লাসমেট্স, কালচার শক এবং বাবার জেলাসি!

১৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৮:৪৪

পূর্বের সারসংক্ষেপ: অনেক বুঝিয়ে মা কে ক্লাসে নেওয়া হলো। প্রথম দিন বেশ কঠিনই গিয়েছে মায়ের জন্যে কেননা সে ভাষা বুঝতে পারেনি। তবে বাবার কোন অসুবিধা হয়নি। মা আর যেতে চায় না ওখানে, বাড়ির কেউও জোর করবে না সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পূর্বের পর্বগুলোর লিংক:
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (১) - প্রথমবার প্রবাসে প্রবেশের অনুভূতি!
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (২) - জীবনের গল্প শুরু হলো এইতো!
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (৩) - সুখে থাকতে কিলায় ভূতে! (কুইজ বিজেতা ঘোষিত)!
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (৪) - বাংলাদেশ ভার্সেস কানাডার দোকানপাট, এবং বেচাকেনার কালচার! (কুইজ সলভড)!
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (৫) - কেমন ছিল কানাডিয়ান স্কুলে ভর্তি হবার প্রস্তুতি পর্ব?!
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (৬) - কানাডিয়ান স্কুলে ভর্তির ইন্টারভিউ অভিজ্ঞতা!
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (৭) - কানাডার স্কুল ভ্রমণ এবং দেশীয় মফস্বলের স্কুলের টুকরো স্মৃতি!
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (৮) - কানাডার প্রথম খারাপ অভিজ্ঞতা!
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (৯) - আবারো দুটিতে একসাথে, প্রেমের পথে... :`> (কুইজ সলভড)
তুষার দেশে এক বাংলাদেশী কিশোরীর দিনরাত্রি - পর্ব (১০) - লাভ বার্ডসের প্রথম কানাডিয়ান ক্লাসের অভিজ্ঞতা....
পূর্বের সিরিজের লিংক: কানাডার স্কুলে একদিন এবং কানাডার স্কুলে একেকটি দিন

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

ক্লাস থেকে আসার পরে মায়ের কথা শুনে কেউই আশা করেনি যে মা আর ক্লাসে যাবে। মা যেহেতু একদমই এনজয় করেনি, আমি আর বাবাও মাকে অস্বস্তিকর পরিবেশে ফেলতে চাইনি। তাই মেনে নিলাম খুশি মনেই।

সকালবেলায় সেদিন উঠতে একটু দেরী হয়ে গেল কিভাবে যেন। উঠে দেখি মা বাইরে যাবার পোশাক পরে আছে। বেশ অবাক হলাম! কি ব্যাপার? কোথাও যাবে নাকি? বাবা তো ক্লাসে যাবে, সে একা কোথায় যাচ্ছে?

অবাক হতে হতে হাতমুখ ধুয়ে এসে দেখি, মা ক্লাসে যাবার ব্যাগটিতে দুপুরের খাবার, খাতা কলম ভরছে! আমি অবাক! মা যাচ্ছে ক্লাসে! কেমতে? বাবা জোর টোর করেনি তো?
আমি জলদিই বাবার কাছে গেলাম, বললাম, বাবা, মা ক্লাসে যাচ্ছে, রাতে তো বলল যাবে না আর।
বাবা: কি জানি, আমি তো কিছু বলিনি, তোর মা নিজে থেকেই যাচ্ছে! এতদিন সংসার করেও তার মন মেজাজ আর বুঝলাম কোথায়?

মা বেশ স্মার্টলি বাবার সাথে ক্লাসে বের হয়ে গেল, আমার আর বাবার অবাক চেহারাকে পাত্তাই দিল না। আমরাও তাকে ঘাটালাম না।

সেদিন মা কে নিয়ে ভীষন চিন্তা হচ্ছিল। গত ক্লাসের ওয়ার্কশিটটা ঠিকমতো পূরণ করতে পারেনি জার্মান টিচারের একসেন্ট না বোঝার কারণে। আজকে নিশ্চই সেটা নিয়ে টিচার ফিডব্যাক দেবে! ইশ! মাকে কি যে বলবে!

এই চিন্তায় পায়চারি করতে করতে তাদের অপেক্ষা করতে শুরু করলাম! নিয়ম মতো ঘড়ির কাঁটা থেমে গেল, কেননা অপেক্ষা যখন তীব্র হয়, পৃথিবীর সকল ঘড়ি একসাথে নষ্ট হয়ে যায়! তবুও, আস্তে আস্তে তাদের আসার সময় হয়েই এলো।
বাবা মা এলো, আগের দিনের মতোই বেশ ক্লান্ত লাগছিল দুজনকে। আমি সাথে সাথেই জিজ্ঞেস করে ফেললাম, মা ক্লাস কেমন হলো?

মাও জলদি জলদি বলতে লাগল, "এই, জানিসস, উনি সবাইকে ওয়ার্কশিট ফেরত দিলেন। কোন মার্ক নেই, কমেন্ট নেই। কাউকে কিছু বলেনওনি! ওটা একটা প্র্যাকটিস ছিল, উনি সবার লেখা পড়ে সবার ইংলিশ লেভেল এবং কানাডিয়ান জব এনভায়রনমেন্ট সম্পর্ক জ্ঞান দেখতে চেয়েছিলেন। এতে ওনার সুবিধা হয়, উনি বুঝে যান পুরো ক্লাস কোন পর্যায়ে আছে, কিভাবে শেখাতে হবে! কাকে বেশি সাহায্য করতে হবে, কে অন্যদেরকে সাহায্য করতে পারবে! আমারটা পড়ে মনে মনে নিশ্চই ভেবেছে আমি কিছু পারিনা! কিন্তু আমি ভয় পাচ্ছিলাম সবার সামনেই অপমানিত হব, তা হতে হয়নি। উনি যখন এসব কথা বলে নতুন লেকচার শুরু করলেন, মনে হলো প্রাণে বাঁচলাম।"

আমি বললাম, আজও কি ওয়ার্কশিট দিয়েছে?
বলল, "না, আজ শুধু নোট তুলতে বলল! আজ সবদিক দিয়ে বেঁচে গেছিরে!"
আমি বললাম, যাক, আলহামদুলিল্লাহ! যাও যাও, তোমরা ফ্রেশ হয়ে রেস্ট নাও!
মা বলল, "যাচ্ছি মা!"
মা এমনি আদর করে মা বলে, কিন্তু তখন আমি যে টোনে মা বলি, সে টোনে বলল! আমার সাথে ফাজলামি! ভেংচি কেটে নিজের ঘরে চলে এলাম!

সারাদিনের চিন্তা শেষে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। জীবনও অদ্ভুত! যেসব জিনিস নিয়ে আমরা সবচেয়ে বেশি চিন্তা করি সেখানে সব ঠিক থাকে, আর ভাবনার বাইরের কোন জায়গা থেকে বিপদ এসে থমকে দাড়ায়! লাইফ ইজ এ জার্নি হোয়েআর উই শুড এক্সপেক্ট দ্যা আনএক্সপেক্টেড!

এভাবে আরো কয়েক ক্লাস গেল।

প্রতিদিন মা ক্লাস করে এসে বাড়িতে গল্পের ঝুলি নিয়ে বসত।

একদিন বলল, "আল্লাহ জানিসসস! সেই বয়স্ক মহিলা টিচারের কথা বলেছিলাম না? কোন লজ্জা শরম নেই! এক ক্লাস মানুষের সামনে বলল, "ওয়ান্স আই ডেটেড এ গাই হু ওয়াজ আ লয়ার! হি ওয়াজ আর্নিং টনস অফ মানি, বাট ডিডন্ট লাভ হিজ জব! তাই আমার কাছে তাকে রিচ মনে হয়নি, জীবনে সবসময় এমন ক্যারিয়ার বেছে নেওয়া উচিৎ যা তোমার মনকে খুশিতে পূর্ণ করবে!"
মা চোখ মুখ কুঁচকে বলল, "ভাবতে পারিস? বুড়ি মহিলা কবে কোন বয়ফ্রেন্ড ছিল সে গল্প করছে মানুষের সামনে! এখানে ইয়াংদের নাহয় লজ্জা শরম নেই, অর্ধেক পোশাক পড়ে, বড়রাও এমন হবে?"
এরপরে সেই মহিলা যতবার তার কোন না কোন বয়ফ্রেন্ডের কথা বলেছে গল্পে গল্পে, মা বাড়িতে এসে ততই বিরক্তি ঝেড়েছে। মা শুধু হিসেবে করত ওনার কতগুলো বয়ফ্রেন্ড ছিল!

আমি মায়ের কথাবার্তায় হেসে কুটিপাটি হতাম!

তবে মা টিচারকে ভীষন পছন্দও করত। উনি মাকে খুব আদর করতেন। মা ওনার কথা মোটামুটি ভালোই বুঝত, উনি নাকি সবার সুবিধার্থে ধীরে ধীরে বলতেন। কিছু কিছু শব্দ না বুঝলে বাবা তো ছিলই ট্রান্সলেটরের কাজ করার জন্যে।

এতো গেলো টিচারের কথা! এরপরে ক্লাসমেটদের কথা বলি তারই মুখে।
একদিন বলল, "আমাদের ক্লাসের কানাডিয়ান ছেলে হিউয়ের কথা বললাম না? বাচ্চা একটা ছেলে! ক্লাসে সবাইকে জিজ্ঞেস করা হলো কে কেমন জব চায়, সে বলে সুপারস্টোরের ম্যানেজার হওয়াই তার আলটিমেট গোল! তুই ভাববব! এইটুক ছেলে, কোথায় পড়াশোনা করবে, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হবে, না তার জীবনের এইম হচ্ছে স্টোর ম্যানেজার হওয়া!
শ্রমের মর্যাদা দেওয়া ভালো, তাই বলে এ আবার কেমন ভাবনা? শোন, তোর স্কুল শুরু হলে, এসব ছেলেদের সাথে মিশবি না! যারা পড়ুয়া হবে, জীবনে ভালো কোন গোল থাকবে শুধু তাদের সাথে মিশবি। পড়ুয়া ছেলেরা সব দেশেই ভালো হয়!"

আমিও মাথা নাড়লাম মায়ের কথায়। এটা ভেবে চিন্তাতেও পড়ে গেলাম যে গার্লস স্কুল থেকে কোএডে কিভাবে সামলাব? তাও আবার ভিনদেশী ছেলে! স্কুলে যাবার দিন ঘনিয়ে আসতে আসতে নানা ধরণের দুঃচিন্তা ও ভয়ে আমার প্রানের পানি শেষ হয়ে আসতে লাগল!

মা বলে যেতে লাগল, "এই জানিসস, ক্লাসে একটা থ্যাবড়া চেহারার মেয়ে আছে, কোরিয়ার, তার শ্বাশুড়ি কোরিয়ায় থাকে, ওদেশ থেকেই ফোনে ফোনে সংসার কন্ট্রোল করে! সবসময় ওকে এটা সেটা এডভাইস দিয়ে কাজে খুঁত ধরে! বদ মহিলা!"
আমি ভাবছি, একতো আমার মায়ের ভাঙ্গাচূড়া ইংলিশ, তারপরে সেই এশিয়ান মহিলার ইংলিশও নিশ্চই সুবিধার না, কিন্তু দুজনে মিলে এসব মেয়েলি বিষয় নিয়ে ঠিকই কথা বলে ফেলল! আর ভাবার বিষয়, সব দেশেই কি শ্বাশুড়ি বউ সম্পর্কে কেউ একজন ভিলেন হয়ই?

দু একটি বান্ধবী জুটিয়ে ফেললেও, পড়াশোনা মায়ের জন্যে স্ট্র্যাগল ছিল। বিশেষ করে জার্মান টিচারের ক্লাসে মা কিছুই বুঝতে পারতনা, আর তিনিও নাকি মায়ের দিকে ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে থাকতেন। যদিও আমার মনে হয়, এটা মায়ের ভুল ধারণা। সে যাই হোক, মা ক্লাসটিকে যমের মতো ভয় পেতো।

কিন্তু কোনভাবে দিনগুলোকে ম্যানেজ করে নিচ্ছিল। এবারে বাবার কথা বলি। পড়ুয়া মানুষ, ক্লাস পড়াশোনা কোনটাই সমস্যা না। তার সমস্যা অন্যখানে!

একদিন বাবা মা বাড়িতে এল, বাবাকে দেখলাম বেশ রাগ রাগ চেহারা করে আছে, আর মা হেসে গড়িয়ে পড়ছে।
আমি মায়ের দিকে ইশারা করলাম কি ব্যাপার?
মা বলল, "আর বলিস না, টিচার আজ চার জন তিন জন করে গ্রুপ করে দিল। আলোচনা করতে হবে কোন একটা টপিক নিয়ে। তোর বাবা আর আমি আলাদা গ্রুপে পড়লাম। আমার গ্রুপে কানাডিয়ান ছেলেটা, আর একটা জাপানিজ ভদ্রলোক ছিল। তার ইংলিশ কিন্তু বেশ ভালো। সে আমার পোশাকের খুব প্রশংসা করল। খুব ভালো ব্যবহার। আমাকে জিজ্ঞেস করল আমি ম্যারিড কিনা, আমি তোর বাবাকে দেখিয়ে বললাম আমার হাসব্যান্ড। উনি বলল, ও! গ্রেইট কাপল! আমি ওনার কথার প্রতিউত্তরে হেসে দিলাম। ব্যাস তোর বাবা রাগ করে বসল!"

বাবা বলল, "আরেহ! আমি কি বুঝিনা তোর মাকে কেন ম্যারিড কিনা জিজ্ঞেস করল? তোর মা কি কচি খুকি? তার বয়সী নারী তো ম্যারিডই হবে। শয়তান ব্যাটা, অন্যের বউয়ের দিকে নজর দেয়! আর তোর মাও তো ভালোই হাসে সবার কথায়, আর আমার কথায় মেজাজ দেখায়!"

মা এসব কথা শুনে বাবার সাথে কিছুক্ষন ঝগড়া করল, আর আমার দিকে তাকিয়ে বলল, "এ বয়সে এসব ছেলেমানুষি ভালো লাগে বল?"(মায়ের হাসি দেখে বুঝলাম, খুববব ভালো লাগে!)

অন্য পোশাক ও সাজগোজে থাকা স্ট্রং ব্যক্তিত্বের অধিকারী আমার মা ক্লাসে সবার কাছে বেশ কদর পেত। আর বাবা সেটাতে টিনেজসুলভ জেলাসি ফিল করত!

কয়েকদিন বেশ ভালোই গেল বাড়িতে স্বাধীন আমার। কিন্তু একটা পর্যায়ে বোরড হয়ে গেলাম। ঘরের মধ্যে কতক্ষন একা একা ভালো লাগে? ইউটিউবে যত গান, অনুষ্ঠান আছে সব বোধহয় শোনা ও দেখা হয়ে গিয়েছে। একদিন অপেক্ষা করছি বাবা মা আসার। বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা হয়ে গেল, তাদের আসার নাম নেই! খুব একা লাগতে লাগল, সাথে সাথে চিন্তাও হচ্ছিল। ফোন করতেও ভয় হচ্ছিল, যদি ক্লাসে থাকে? এক্সট্রা কোন ক্লাস শুরু হলো নাকি! ভেবে ভেবে ফোনও করতে পারলাম না।
চারিদিকে অন্ধকার নামতে শুরু করেছে ব্যাস, সেসময়ে বাবা মা এলো। দেরীর কারণ তাদের হাত ভর্তি বাজারের ব্যাগ থেকেই বুঝে গেলাম! ক্লাস থেকে সোজা সুপারস্টোরে চলে গিয়েছিল।
মা এসে বলল, "সরি মা, কিছু বাজার না করলেই চলত না, তাই দেরী হয়ে গেল!"
আমি বললাম, আরেহ মা ব্যাপার না। যাও ফ্রেশ হও তোমরা, রেস্ট নাও।

সেদিন রাতে শুয়ে শুয়ে ভাবলাম কালকের দিনটিও আজকেরই রিপিটেশন হবে! সারাদিন ঘরের মধ্যে পায়চারি, আর গান শোনা! এভাবে ভালো লাগে? ইশ! যদি এক্সাইটিং কিছু করা যেত! ভাবতে ভাবতে বিদ্যুৎ এর ঝলকের মতো মাথায় একটা মারাত্মক দুষ্টু আইডিয়া খেলে গেল! বেশ রিস্কি, কিন্তু একঘেয়েমি কাটানোর জন্যে মরিয়া আমি যেকোন কিছুই করতে পারি! উত্তেজিত মনে ছক কাটতে শুরু করে দিলাম.....

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

শেষকথা: আমার বাবা মায়ের একঘেয়েমি সংসার জীবন কানাডায় গিয়ে হুট করে অন্যরকম প্রেমে ভরে ওঠে। জাফর ইকবাল স্যার বলেছিলেন, যে উনি ওনার ওয়াইফের কাছে কৃতজ্ঞ, কেননা তিনি স্যারের দেশে আসার সিদ্ধান্তে সাপোর্ট করেছিলেন যেটা সাধারণত প্রবাসী নারীরা করেন না।
স্যারের কথা ঠিক, প্রবাসে অনেক পুরুষ আছেন, যারা দেশের টানে মাঝেমাঝে বলে ওঠেন যে চলো দেশে ফিরে যাই, কিন্তু নারীরা সেটা চান না! না চাইবার অনেক কারণ থাকে। একটা বড় কারণ, দেশে স্বামী নামক মানুষটি বিদেশে এসে বন্ধু হয়ে ওঠে। অন্য দেশের আধুনিক চিন্তার কলিগ ও বন্ধুদের দেখাদেখি, দেশীয় ছেলেদের মধ্যেও পরিবর্তন আসে। এখানে তো সবাই সব কাজ করে ভেবে রান্নাঘরে সাহায্য করে। এখানে তো মেয়েরা ঘরে বসে থাকে না ভেবে বউকে কাজে উৎসাহ দেয়। মানে পরিপূর্ণ জীবনসঙ্গী বলতে যা বোঝায় তা হয়ে যায়। আমাদের দেশের পারিপার্শ্বিকতায় বউয়ের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা মানে তার গোলাম হয়ে যাওয়া এবং সেটা ভীষনই লজ্জার ব্যাপার! এমনও হয় যে স্বামীর কোন সমস্যা নেই বউ চাকরি করলে, কিন্তু পরিবারের চাপে কিছু বলতে চাচ্ছেনা। কিন্তু বিদেশে এসে দেশী ছেলেরা খোলামনে নিজের ভালোবাসা, সম্মান ও সাপোর্ট দিয়ে যায় বউকে। এই পরম সুখ কোন মেয়ে হারাতে চায়না। দেশে থাকলে বাপের বাড়ি, শ্বশুড় বাড়ির নানা তৃতীয় হাত জেনে না জেনে অনেক সমস্যা তৈরী করে। পরিবারের সবার মন জুগিয়ে চলতে গিয়ে মেয়েটি নিজের অস্তিত্ব ভুলতে বসে। আর পুরুষ বাড়ির কাজ করবে না, নারী বাইরের কাজ করবে না এমন স্টেরিওটাইপেও দুজনের দৈনন্দিন জীবনে দূরত্বের সৃষ্টি হয়। পথচলার সাথী, অন্য পথে গিয়ে দাড়িয়ে থাকে। এসব ছোট ছোট কারণ ছাড়াও রাস্তাঘাটে বাসে শরীরে পুরুষের হাত, অফিসে ভালো করলে, "নিশ্চই বসকে অন্যভাবে খুশি করে সাকসেস পেয়েছে" এমন অত্যাচার ও অপমানে অনেকে মেয়েরই দেশীয় জীবনের ওপর থেকে ভক্তি শ্রদ্ধা উঠে যায়। এন্ড ইউ ক্যান্ট ব্লেম দেম! ইউ জাস্ট ক্যান্ট!

না, আমি বলছিনা যে আমাদের দেশে ভালো শ্বশুড়বাড়ি, ভালো স্বামী কোন মেয়ের ভাগ্যে জোটে না। জোটে, অনেক মেয়ে ভীষন সুখে আছে। আবার অনেক মেয়ে সব পেয়েও কদর করেনা, নিজেই নিজের সংসারে ঝামেলা তৈরি করে। এসব মানলাম, তবে ওভারঅল কিছু ব্যাপারে আমরা পিছিয়ে আছি। সেজন্যেই নানা বাংলাদেশী নারী ভিনদেশী মাটিতে বেশি স্বস্তি অনুভব করছে। সমস্যা আছে কি নেই সেটা নিয়ে মিছে তর্ক না করে, মেনে নিয়ে পুরুষ নারী সকলে দেশীয় মূল্যবোধ, চিন্তা ও চেতনার জায়গাটি এত মজবুত করুক যেন প্রবাসে থাকার পরে দেশের টানে দেশে ফিরতে মনে ভয় জেগে না ওঠে! অথবা প্রবাসে যাওয়ার প্রয়োজনই না পরে!

-----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------

পাঠকের জন্যে কুইজ: আপনাদের কি মনে হয়? দুষ্টু বুদ্ধিটা কি ছিল?
এর উত্তর কমেন্টে নয়, পরের পর্বে আসবে!

মন্তব্য ৪২ টি রেটিং +১১/-০

মন্তব্য (৪২) মন্তব্য লিখুন

১| ১৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৮:৪৭

সিগন্যাস বলেছেন: আহা এতো তাড়াতাড়ি পড়ে ফেললাম B-)

১৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৮:৫১

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: ও ম্যান! দিজ ওয়াজ ফাস্ট! শেষ কথার জন্যে আজকে পর্বটি বেশ বড়ই ছিল।

আচ্ছা আপনি যখন জলদি জলদি পড়েন, তখন কি প্রচুর ডিটেইল বাদ পড়ে যায়? নাকি আরো সূক্ষ্মভাবে পড়ার ক্ষমতাও আপনার আছে?

২| ১৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৮:৫৫

মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন: আমার আপুমণির এই পোস্টটি খুব উপভোগ করলাম।

১৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৮:৫৬

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: সাজ্জাদ ভাইয়া! খুব ভালো লাগল পোস্টে পেয়ে।

ভীষন খুশি হলাম জেনে। উৎসাহ পেলাম। ধন্যবাদ।
শুভকামনা!

৩| ১৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৮:৫৫

সিগন্যাস বলেছেন: উঁহু কোন কিছু বাদ-টাদ দেই না । সম্পূর্ণ লেখা পড়ে তবেই ক্লান্ত হয় । আমি মহামানব । আমার সাথে কারো তুলনা চলে না

১৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৮:৫৭

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: আমি মহামানব । আমার সাথে কারো তুলনা চলে না
যে নিজের এত প্রশংসা করতে পারে তাকে আর কিইবা বলার প্রয়োজনীয়তা থাকে? :)

৪| ১৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:০০

সিগন্যাস বলেছেন: আহা আমি তো এইসব বলি লোকে যাতে না ভুলে যায় যে আমি মহামানব

১৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:০৩

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: ওহো! আপনি চিন্তা করবেন না, আপনি বলেন না বলেন, লোকের কাছে মহামানব স্ট্যাটাস কোনভাবেই পাবেন না! এত সহজ না, হুমমম! :P

৫| ১৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:০৭

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: দারুন! দারুন! দারুন!

আসলে জীবন কাটায় সবাই; উপভোগ করতে পারে অল্প কিছু ভাগ্যবানে!
আর তার প্রকাশ করতে পারে হাতেগোনা ক'জনে!
সখি সবগুলোতেই ভাগ্যবতী :)

প্রতিটা পর্বই যেমনি ধারাবাহিক, তেমনি স্বাতন্ত্রে ভরপুর :)
কাহিনী, গতি, টুইস্ট, রোমাঞ্চ, টেনশন, এডভেঞ্চার (কামিং সুন ;) নেক্সট পর্বে )
যেন মুভিতে দেখছি এক ধারাবাহিক জীবন ছবি :)

শুভকামনা বাক্যে আর কি করব প্রকাশ
যখন হৃদয়ে তা নিত্য নি:শ্বাস বিশ্বাস :)

১৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:৫৮

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: দারুন! দারুন! দারুন! এমন অসাধারণ মন্তব্য পড়ে আমারো তাই মনে হলো!

কত গুছিয়ে, প্রেরণা মিশিয়ে, অন্যরকম ভাবে একেকটি মন্তব্য করেন! শুধু আমার নয়, যে কারো ব্লগ পড়তে গেলে আপনার মন্তব্য আমি বিশেষ ভাবে পড়ি। অন্যরকম একটা স্বাদ আছে আপনার মন্তব্যে। আপনার মন্তব্য থেকেই, ভীষন এক আগ্রহ তৈরি হয় লেখার প্রতি, লেখকের প্রতি! আপনার প্রকাশভঙ্গি এমনই!

হাহা, জীবনের গল্প দিয়েই তো মুভি হয়! :)

শুভকামনা বাক্যে আর কি করব প্রকাশ
যখন হৃদয়ে তা নিত্য নি:শ্বাস বিশ্বাস

বাহ! লাইনগুলো মনে থাকবে বহুদিন। আমারো মনের কথা, তাই আর আলাদা করে শুভকামনা জানালাম না। :)

৬| ১৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:৪৪

অচেনা হৃদি বলেছেন: উফফ, আপু খেলাটাও দেখতে দিবেন না! আপনি খেলা দেখেন না? এই সময়ে পোস্ট করে দিলেন!! আপনার লেখা ফেলে খেলার দিকে তাকাতে পারলাম না।
সবাই যেভাবে বলে, 'ঘুমুচ্ছি, পরে পড়ে মন্তব্য করব'- আমি এটাও বলতে পারলাম না! :(

নারীদের দর্শন নিয়ে চমৎকার কথা বলেছেন আপু। আপনার লেখাটা পড়তে পড়তে আমি ভাবছিলাম আমার মা বাবাকে এভাবে দূর পরবাসে পাঠিয়ে দিতে যদি পারতাম তাহলে ভালো হত। :(
বাদ দিন এসব কথা।

আজ সাহস করে কুইজে আন্সার করব, আন্সার কারেক্ট হোক বা না হোক। আমার আন্সার হল- আপনি একঘেয়েমি কাটাতে সামু ব্লগে লেখালেখি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। :)

ভালো লাগলো আজকের পর্ব! পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম। :)

১৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:০৪

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: হৃদি আপু! অনেক খুশি হলাম মিষ্টি বোনটাকে পোস্টে পেয়ে।

আমি ওয়ার্লডকাপ রিলিজিয়াসলি ফলো করছিনা, ব্যাস একটু পরে পরে স্কোর কার্ড দেখি।

আচ্ছা বাদ দিলাম।

হুমম, দেখা যাক, পরের পর্ব পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে উত্তর জানতে!

ধৈর্য্য ধরে, অন্যকিছুকে একপাশে সরিয়ে পড়ার জন্যে এবং কুইজটি নিয়ে ভাবার জন্যে থ্যাংকস এ লট!
শুভকামনা সকল।

৭| ১৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:৫৮

অচেনা হৃদি বলেছেন: খেলায় হাফ টাইম চলে, :)
আপু আগের মন্তব্যে আবেগে বেশি কথা বলে ফেলেছি, প্লিজ কিছু মনে করবেন না।
আগের মন্তব্যে কুইজের আন্সটা শুধু দেখুন। বাকি কথাগুলোর জন্য আমি লজ্জিত। :P

১৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:১১

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: আরেহ মনে করার বা লজ্জার কি আছে? এটা তো খুবই স্বাভাবিক একটা মন্তব্য ছিল। আর বোন বোনের কাছে আবেগ দেখাতেই পারে, ব্যাপারস না! :)

টেক কেয়ার!

৮| ১৫ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১১:৩১

চঞ্চল হরিণী বলেছেন: শেষ কথাগুলো খুবই ভালো লাগলো। তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্য।

মেয়েরা ভাষা না বুঝলেও মেয়েলি কথা শুরু করে দেয়, কি যে এক অভ্যাস =p~

আমার মনে হচ্ছে কোন কিছু রান্না করার অথবা একাই বাসার সামনে থেকে একটু ঘুরে আসার দুষ্ট বুদ্ধি মাথায় চেপেছিল।

অনেক সুন্দর করে লেখো তুমি, একটানে পড়ে ফেলা যায়। ( তুমি বললে বেশি কাছের মনে হয় #:-S )

বাই দা ওয়ে, ওই বুড়ির কয়টা বয়ফ্রেন্ড ছিল ? :P

১৬ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১২:২৮

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: ধন্যবাদ শেষ কথার অংশটুকু নিয়ে কিছু বলার জন্যে। কথাগুলো মনের খুব কাছের।

হাহা, আসলেই, আর সব দেশে মেয়েদের কিছু কমন স্বভাব থাকেই থাকে, দেশ, জাত, ধর্ম যাই হোক না কেন।

অনেক ধন্যবাদ কুইজের উত্তর দেবার চেষ্টা করায়, পরের পর্বে জেনে যাবেন ঠিক উত্তর।

আপু, অবশ্যই তুমি বলবেন। আমার অনেক ভালো লেগেছে।

হাহা, কি জানি! প্রতিদিনই শুনতাম একটা করে বয়ফ্রেন্ডের গল্প করছে! হয়ত উনি নিজেও গুণে শেষ করতে পারবেন না! ;)

পুরো লেখাটা নিয়ে ধাপে ধাপে ভীষন সুন্দর একটি মন্তব্য করেছেন। এমন মনোযোগী পাঠক পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। আন্তরিক ধন্যবাদ আপু।
ভালো থাকবেন।

৯| ১৬ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:২৪

রাজীব নুর বলেছেন: পড়ে যাচ্ছি নিয়মিত।।

১৬ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:৪৪

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: থ্যাংকস এ লট প্রতি পর্বে সাথে থেকে উৎসাহ দিয়ে যাবার জন্যে।
ভালো থাকবেন।

১০| ১৬ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:৪০

আবুহেনা মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন: এই পর্বটা অসাধারণ হয়েছে। লিখন শৈলীর গুনে এটা অন্য পর্বগুলিকে ছাড়িয়ে গেছে। এই সিরিজের সব গুলো পর্ব তোমার অবশ্যই ভালোভাবে সংরক্ষণ করা উচিৎ। একই কথা রিপিট করলাম বলে বিরক্ত হবে না আশা করি।

এখন তোমার আম্মুর সেই বয়ফ্রেন্ড-পাগল টিচারের কথা বলি। এই ধরণের নারী বা পুরুষের মধ্যে অতীত জীবনে না পাওয়ার বা অতৃপ্তির কিছু ঘটনা থাকে। অতীত রোমন্থন করে সে সেসব থেকে মুক্তি পেতে চায়। অবশ্য সবাই তা' করে না। বিশেষ করে ইন্ট্রোভার্ট টাইপের মানুষরা তা' করে না। এই ভদ্রমহিলার ক্ষেত্রে আমার এই মতামত ভুলও হতে পারে।

আর তোমার বাবা মার খুনসুটির ঘটনাগুলো (যদিও তুমি জেলাস বলেছ, আমার তা' মনে হয় না) দারুন লেগেছে। এরকম বন্ধুর মতো মেয়ে থাকলে তার সামনে সব কথা বলাই যায়। ঠিক বলেছি না?
আহা! বেশ, বেশ, বেশ।

ধন্যবাদ সামু পাগলা০০৭।

১৬ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:৫৩

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: হেনাভাই! পোস্টে পেয়ে বরাবরের মতোই আনন্দিত হলাম।

বাপরে বাপ! আপনার মতো সুলেখকের এমন সব কথায় কি যে খুশি হই! ভীষন একটা উদ্দীপনা কাজ করতে থাকে মনের মধ্যে। আমি খুব আনন্দিত জেনে যে এই পর্বটি পেছনের গুলোকে পেছনে ফেলেছে, আশা করি সামনেরটিও এর চেয়ে ভালো হবে।

আরেহ! কি বলেন! বিরক্ত কেন হব? আপনি একদম ঠিক পরামর্শ দিয়েছেন। আমার পোস্টগুলোকে সেইফ জায়গায় সেভ করে রাখা উচিৎ। সামুর কোন সমস্যা হলেও লেখাগুলো নষ্ট হবেনা।

আসলে, এটা এখানে কালচারই। আমার হাইস্কুলের টিচারদেরও দেখেছি কথায় কথায় এসব উদাহরণ টানে। অনেকে হ্যাপিলি ম্যারিড উইথ কিডস, কিন্তু তবুও এক্সদের সাথে নানা অভিজ্ঞতার কথা ভোলে না, এবং সেগুলোকে শেখানোর কাজে ব্যবহার করে। নিজেদের পুরো জীবনটাকে গল্পে গল্পে উদাহরণ হিসেবে আমাদের সামনে তুলে ধরে!

জেলাস বলতে খুবই সুইট একটা জেলাসি। আল্লাদী টাইপ! দুজনে পুরো রাস্তা এসব নিয়েই ঝগড়া করতে করতে এসেছিল। আমি যদি থাকতাম তখন, আরো মজার খুনসুটি জানতে পারতেন।

হ্যাঁ ঠিক বলেছেন।
আহা! বেশ, বেশ, বেশ।

মোস্ট ওয়েলকাম এবং আপনাকেও আন্তরিক ধন্যবাদ প্রেরণামূলক মন্তব্যে।
শুভকামনা!

১১| ১৬ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১২:৩১

কথার ফুলঝুরি! বলেছেন: হাহা! খুব ইনজয় করলাম আপু, আপনার মা এর ক্লাসের গল্পগুলো আর সাথে সাথ আপনি সেগুলো কে আপনার লেখায় কি দারুনভাবে উপস্থাপন করেছেন।

আর শেষের কথাগুলো তো অসাধারন লাগলো। আসলে আমরা নিজেরাই আমাদের সংসার জীবনটা কে একঘেয়েমি করে তুলি। দেখা যায় একে অপরের প্রতি ভালোবাসা বা প্রেম ঠিকই আছে কিন্তু সংসার আর বাইরের কাজের চাপে সেগুলো চাপা পরে যায়। তবে আমি দেখেছি আমাদের দেশের যে সব মানুষ দেশের বাইরে থাকে তাদের মন মানসিকতা অনেক বেশী উন্নত । আমরা দেশী মানুষ অনেক বেশী নেগেটিভ মাইন্ড এর হই, একে অন্যকে নিয়ে সমালোচনা, কে কি করলো, কে কি বলল, এগুলো নিয়ে এত বিজি থাকি যে নিজেদের সংসার আর ভালোবাসা, প্রেম হারিয়ে যায় তাতে।

১৬ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:৩০

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: কথা আপু! ভালো আছেন আশা করি।

থ্যাংকস এ লট। উৎসাহিত হলাম।

হ্যাঁ, ঠিক। একটা জামা নতুন নতুন খুব ভালো লাগে, পুরোন হলে বাইরে পরার জামাটি ঘরে পরার জামা হয়ে যায়, এবং আরো পুরোন হলে ঘর পরিষ্কারের কাজে ব্যবহৃত হতে শুরু করে! সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এমনই কিছু হয়ে যায়। প্রথম প্রথম প্রচুর প্রেম থাকে, নতুনত্ব থাকে, পুরোন হতে হতে জৌলুস, আনন্দ, ভালোবাসা প্রকাশের জায়গাটি ফিকে হয়ে যায়। সম্পর্কে নতুনত্ব ধরে রাখার জন্যে প্রতিটি কাপলের কিছু না কিছু করতে থাকা উচিৎ। প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে একে অপরের জন্যে স্পেশাল কিছু করবই, এমন ভাবনা রাখা উচিৎ। যেমন, প্রতিদিন একেক রং এর খাম ও কাগজে চিঠি বা কবিতা লেখা? :) কিন্তু দেশে ব্যক্তিগত সংসারের কাজ সহ, দূর দূরান্তের আত্মীয়দেরও এত দায়িত্ব থাকে দুটো মানুষের ওপরে, তারা একে অপরকে সেভাবে সময়ই দিতে পারেনা। স্পেশাল কিছু করা তো দূরের ব্যাপার!

তবে, ভালোবাসা যদি থাকে, তবে যেকোন কঠিন পরিস্থিতিতেও ভালোবাসাকে ভালোবেসে বেঁধে রাখতে হবে।

সব প্রবাসীর মানসিকতা যে উন্নত তা নয়। ভালো খারাপ দেশে যেমন আছে, প্রবাসেও আছে। তবে হ্যাঁ প্রবাসে নানা দেশের মানুষের সাথে মিশে নিজের ভাবনাকে উন্নত করার সুযোগ পাওয়া যায়। কেউ সুযোগটিকে লুফে নেয়, কেউ নেয়না।

আমরা দেশী মানুষ অনেক বেশী নেগেটিভ মাইন্ড এর হই, একে অন্যকে নিয়ে সমালোচনা, কে কি করলো, কে কি বলল, এগুলো নিয়ে এত বিজি থাকি যে নিজেদের সংসার আর ভালোবাসা, প্রেম হারিয়ে যায় তাতে।
সহমত। সবাই না, খুব কম মানুষ আছে এমন, তবে তাদের বিষটা পুরো সমাজে ছড়িয়ে পরছে। প্রতি পরিবারে এমন কিছু প্রাণী থাকে যারা নিজের সন্তানের রেজাল্টের খবর নেওয়ায় আগে পাশের বাড়ির ছেলের খবর নেয়। নিজের স্বামীর সাথে প্রতি রাতে ঝগড়া করবে, মার খাবে, আর পাশের বাড়ির ডিভোর্সি মহিলাকে নিয়ে গসিপ করবে। নিজের অফিস কলিগের প্রমোশন মানেই ঘুষ দিয়ে সামনে এগিয়েছে, মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে নয়।
মানে নিজের জীবনের ঠিক নেই, অন্যদের নিয়ে সারাক্ষন গবেষনা! আরেহ ভাই, কে কাকে ডিভোর্স দিল, কার মেয়ে গোল্ডেন এ+ মিস করল, কে সফল কে ব্যর্থ, এসবে আপনার কি? আপনার মতো গুটিকয়েক মানুষের জন্যে সমাজটাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ভালোবাসা, আন্তরিকতার বদলে জায়গা করে নিচ্ছে ভুল বোঝাবুঝি, সম্মানের অভাব। এসব মানুষকে অন্যকোন দ্বীপে পাঠাতে পারলে বদ্বীপটা বেঁচে যেত।

পাঠ ও খুব সুন্দর মন্তব্যে ধন্যবাদ আপু।
শুভকামনা!

১২| ১৬ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ১:৫০

মোস্তফা সোহেল বলেছেন: শুধু ভাললাগা টুকু জানিয়ে গেলাম।
হেনা ভাইয়ের মন্তব্য ভাল লেগেছে।

১৬ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:৩১

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: শুধু কেন বলছেন? ভালোলাগাটাই তো সব! আন্তরিক ধন্যবাদ পাঠ ও মন্তব্যে।

হ্যাঁ, হেনাভাই খুব সুন্দর কমেন্ট করেছেন।

শুভেচ্ছা।

১৩| ১৬ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ২:০৫

গড়ল বলেছেন: দুষ্ট বুদ্ধি আর কি হবে, সুপার স্টোর বা শপিং মলে ঘুরতে যাওয়া। যাই হোক খুবি সত্যি কথা যে বিদেশে গেলে মহিলারা স্বাধিনতা পায় সেটাই ভাল লাগার মূল কারণ। কিন্তু আমি এই কথা আমার বউরে বুঝাতে পারলাম না। আমার চার বন্ধু ইমিগ্রেশন নিয়ে কানাডা চলে গেল কিন্তু আমি অ্যাপ্লাই করতে পারলাম না বউ এর বিরোধিতার কারণে। বিদেশে গেলে নাকি ছেলেরা খারাপ হয়ে যায়, সুন্দরী সুন্দরী মেয়ে দেখে নাকি মাথা নষ্ট হয়ে যায়, সংসার টিকে না.......... =p~

১৬ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:৪০

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: কুইজের উত্তর ট্রাই করার জন্যে ধন্যবাদ। পরের পর্বে জেনে যাবেন আপনি ঠিক নাকি ভুল?

স্বাধীনতা একটি কারণ, আরো একটি ব্যাপার হচ্ছে সম্মান। বাড়িতে ও বাইরে, "তুমি মেয়ে" তাই একটু বেশি মানিয়ে চলতে হবে, সেই কথাটি মেয়েটির আত্মসম্মানবোধকে আঘাত করে। রাস্তাঘাটে যেকোন সময়ে যেকোন বাজে স্পর্শ তাকে অপমানিত করে। এখানে সেসব সমস্যা ওভাবে নেই। হ্যাঁ এখানকার মেয়েরাও সেক্সুয়ালী এবিউজড হয়, তবে একেবারে দিনে দুপুরে বাসে, রাস্তায় নয়!

ওমা! ভাবী তো ভীষন সুইট! সব সুযোগ সুবিধার চেয়ে আপনিই তার কাছে সবচেয়ে জরুরি! হুমম, প্রবাসে এসে কদিন ছেলেরা বিদেশী মেয়েদের দিকে হা করে তাকিয়ে ঠিকই থাকে (খারাপ নয় অবাক দৃষ্টিতে), তবে একসময়ে চোখ সওয়া হয়ে গেলে সবাই বেশ ভদ্র আচরণই করে। তবে এমন কেসও আছে, যে দেশী বউকে রেখে বিদেশী মেম বিয়ে করে ফেলল। কিন্তু সেটাতো দেশেও হতে পারে। যার খারাপ হবার সে খারাপ হবেই, যার ভালো থাকার সে ভালো থাকবেই, দেশ যাই হোক।
তবে ভাবীর মাথায় যেহেতু এমনকিছু অলরেডী আছে, কোনদিন যদি বিদেশে যান, আপনি ম্যানিকুইনের দিকে তাকালেও আপনার চোখ গেলে দেবে! :D

পাঠ ও মন্তব্যে ধন্যবাদ।
আপনার আর ভাবীর জন্যে শুভেচ্ছা রইল।

১৪| ১৬ ই জুলাই, ২০১৮ দুপুর ২:৪২

লাবণ্য ২ বলেছেন: বরাবরের মতই সুখপাঠ্য।

১৬ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:৪১

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: লাবণ্য আপু, বরাবরের মতোই মন্তব্যে উৎসাহ দেবার জন্যে ধন্যবাদ।
ভালো থাকবেন।

১৫| ১৬ ই জুলাই, ২০১৮ বিকাল ৪:৩৬

সিগন্যাস বলেছেন: কি অবস্থা হে সামু পাগলা =p~

১৬ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:৪২

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: অতিমানবীয় নয়, সাধারণ মানবীয় অবস্থা! ;)

১৬| ১৬ ই জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:০১

রাজীব নুর বলেছেন: লেখক বলেছেন: থ্যাংকস এ লট প্রতি পর্বে সাথে থেকে উৎসাহ দিয়ে যাবার জন্যে।
ভালো থাকবেন।

যেহেতু সামুতে আছি- তাই আমার দায়িত্ব ব্লগ পড়া। মন্তব্য করা।

১৬ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৯:৪৫

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: জ্বি অবশ্যই, সহমত। তবে সবার তো সব লেখা পড়ার সময় সুযোগ হয়না। যেটা ভালো লাগে বা সমালোচনার যোগ্য মনে করা হয়, সেটাতেই মন্তব্য করেন সবাই। আমার লেখাটিকে যোগ্য মনে করেছেন, সেজন্যেই ধন্যবাদ জানিয়েছি।

শুভেচ্ছা।

১৭| ১৬ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৮:৪৩

কামালপা বলেছেন: কানাডার এত প্রশংসা করে লাভ নেই। ওদের সংসার টিকে না। দুদিন পরপর বন্ধু বান্ধবী বদল করে। আমাদের বাবা-মায়েদের মত সম্পর্কের গভীরতা, পারিবারিক আবহ ওদের মধ্যে নেই।

১৬ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:০১

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: আপনি যেসব কথা বললেন, সেগুলো নিয়ে আমি লিখেছি। কানাডার সেক্সুয়াল এবিউজ, ডোমেস্টিক ভোয়োলেন্স এন্ড এবিউজ নিয়ে নানা পর্বে লিখেছি। এখানকার নারীদেরও কিছু অসহায়ত্ব রয়েছে। আমি সবসময় কানাডার প্রশংসা করি তা নয়। বরং সেভাবে করিইনা। "কানাডা অসাধারণ দেশ, সবার কানাডায় আসা উচিৎ" এমনকিছু আমি কোন পর্বেই বলিনি। লেখার মধ্যে, আমার অভিজ্ঞতায় কানাডার নানা সুযোগ সুবিধা উঠে আসে, সেটা তো আমার দোষ নয়। কানাডার কিছু কিছু জিনিস অনেক ভালো, আবারো খারাপও আছে অনেককিছু। সবকিছু নিয়েই লেখা হয়েছে। একটি পর্বে ক্লিয়ারলি আপনার কথাই লিখেছি, যে আমাদের দেশের প্রেম ও পারিবারিক বন্ধন যেমন মজবুত, এদেশে নয়। শেষকথায় কখনো কানাডার সমস্যা নিয়ে বলি, কখনো বাংলাদেশের।

যাই হোক, আরেকটি জরুরী কথা। আমি এখানে যেসব সমস্যার কথা বলেছি সেসব কানাডায় নেই। এখানে দিনে দুপুরে বাসে, রাস্তায়, ফুটপাতে ভীরে কোন মেয়েকে নোংরা স্পর্শ সহ্য করতে হয়না।
আর সংসার না টেকা, বিএফ জিএফ পরিবর্তন করা নিঃসন্দেহে ভালো কিছু নয়, তবে সেটা মিউচুয়ালি হলে অন্যায় অত্যাচার তো বলতে পারিনা। দুটো মানুষের ডিসিশন!
কিন্তু যদি স্বামী বউকে মারধোর করে, আর বউ ডিভোর্স নিতে গেলে মানুষজন বলে যে তোমাকে সমাজে সবাই খারাপ চোখে দেখবে তবে সেটা কেমন বিচার? আবার একটি ছেলে প্রতিদিন দেখছে, বউ তার মায়ের সাথে বাজে ব্যবহার করছে, কিন্তু সমাজের ভয়ে সংসার টিকিয়ে রাখার জন্যে দাঁতে দাঁত চেপে অশান্তি সহ্য করে যাচ্ছে। সংসার টেকা মানেই যে সুখে থাকা, তা নয়। অনেকসময় সেটাও সমাজের অন্ধ কিছু মূল্যবোধের পরিচায়ক!

আর প্রবাসী নারীরা দেশে নিরাপদ বোধ করেনা, দেশের নারীরাও করছেন না, এটা একটা সমস্যা! আমি লেখাতেও বলেছি, মিছে তর্ক করে লাভ নেই। কানাডা বাদ দিন, এই পৃথিবীর অনেক দেশ আছে যারা সবদিকে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে! সো হোয়াট? আমরা আরো উন্নত হবার চেষ্টা করব না? অবশ্যই করব। কানাডাকে ফলো করে নয়, নিজস্ব মূল্যবোধেই আমরা এই সমস্যাকে ওভারকাম করি। আমি লেখায় বলেছি, "দেশীয় মূল্যবোধের জায়গাটিকে মজবুত করতে!" আমি এটা বলিনি, কানাডিয়ান মূল্যবোধকে ধারণ করতে। আমাদের সংস্কৃতিতেই তো নারীর সম্মান অনেক ওপরে। একজন পুরুষ একজন অচেনা নারীকে আপু, ভাবী এসব নামে ডাকে, নাম ধরে ডাকে না। এই ডাকগুলোর সম্মান করা উচিৎ। নারী মানেই কারো মা, কারো বোন, কারো স্ত্রী সেই শিক্ষার সম্মান করা উচিৎ। আমরা নিজের সংস্কৃতি থেকে সরে এসে একটা খিচুড়ি কালচার ফলো করছি সেটা বন্ধ করতে হবে।

পাঠ ও মন্তব্যে ধন্যবাদ।
শুভকামনা!

১৮| ১৬ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১০:১৮

কি করি আজ ভেবে না পাই বলেছেন: এসে গেছি,লেটে সরি
চোখে পড়ে দেরিতে;
আজকাল সদা লেট
যেই পড়ি পিরিতে।

কার তরে?কিভাবে তা?
জানোইতো সবি তা;
লাগছেনা চোখে আর
রেখা হেমা ববিতা।

সে যাগগে,এ'লা কই
পোষ্টে যা পড়েছি;
বাবা মা'র প্রেম দেখে
হায় হায় মরেছি।

কি রোমান্স,কি হে প্রেম
সেকি সুইট জুটিগো;
মাইয়াটা ক্যান তাগো
এত ঝগড়াটিগো?

সেই সে ক'দিন ধরে
লেগে আছি পিছুতে;
যত কই,বিধি বাম
বুঝেনা সে কিছুতে।

সেও যাক,বর্ণনে
কি দারুন লেখনি;
প্রকাশক হলে আমি
ছাপাতেম এখুনি।

সহজিয়া প্রাঞ্জল
ঝকমকে গদ্যতে;
পড়ে লাগে ঘুরে এনু
ক্যানাডাই সদ্যতে।

হৃদি সে পাষান,তবে
লেখক সে পাক্কা;
না চিনুক,যে পড়ুক
খাবেই সে ধাক্কা।

সাধেই কি কই বাবা
সামুতে সে রাণী হে;
আগডুম লিখি,তবে
সেরাটা কে জানি হে।

ইয়ে,ভারি পেনু এক
লাইন পড়ে কষ্ট;
না না থাক না লুকিয়ে
কয়েই দি পষ্ট।

মা'যে কলো মিশবিরে
ছেলে দেখে পড়ুয়া;
আতন্কে সেই থেকে
প্রাণ উড়ু উড়ুয়া।

আমিতো পড়ুয়া না হে
মাল নন-মেট্রিক;
দু'মিনিট কথা ক'লে
বুঝে সবে ঠিক ঠিক।

মোর সনে মিত্রতা
মা'রে প্লীজ কইয়ো না;
মা কি তা সইবে কও
মিছে গালি খাইয়ো না।

মেলা হলো আগডুম
এ বেলায় যাইগো;
ভালো থেকো প্রিন্সেস
'সায়োনারা' 'বাই' গো।

১৬ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ১১:১২

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: জানি জানি বাঁদরামি
একই কথা সবজনে
বিশ্বাস করব সরলমনে
অতো বোকা নই আমি! ;)

বাবা মার প্রেম তো
সত্য, সুন্দর, শাশ্বত
তাদের কাছে শেখার আছে
মিছে ফ্লার্টি এ কিইবা আছে? ;)

বাবা ভালোমানুষ, মা টিও লক্ষ্মী
দুজনে মিলে বেশ, উড়ে চলা প্রেম পক্ষী
আপনার মতো দুষ্টু, বাঁদর এলে সামনে
শান্ত, ভালো মেয়েও ;) ঝগড়া করে সমানে।

কি করিব? কিভাবে পারিব বুঝিতে?
কতজনেই থাকেন লেগে
কাউতেই পারেন না মন ভরাতে
সারেনা যে আপনার জটিল প্রেমরোগে। ;)

প্রশংসা করলেন এত
যোগ্য কিনা জানিনা
ধন্যবাদ থ্যাংকিউ ফরমাল সেতো
থাক ওসব বাদ, বন্ধুত্বে মানায়না। :)

বড্ড আবেগী, পাষান একদমই নয়
সত্য, আপনাকে দিচ্ছি ঔষুধ তিতা
বাঁদরামির রোগ আছে যে আপনার, তা
জানে ব্লগের লোকে, কথা আমার মিছে না! ;)

রাণী হতে নাহি চাই
প্রচুর সে দায় দায়িত্ব
প্রিন্সেস হয়ে থাকতে চাই
সবর্দা, বললাম মনের কথা সত্য!

হাহা, আপনি নন-মেট্রিক? যাহ!
হয়না বিশ্বাস একদমই তা
অন্যসব কথার মতো চাপা, দুষ্টা হয়ত
আপনার ফাজলামির শেষ নেই তো!

নন-মেট্রিক হয়েও এমন
শিক্ষিতের মতো আচরণ! বেশ
কি আর লাভ তবে পড়াশোনা করে শেষ?
সফললোকের প্রচুর উদাহরণ আছে যেমন! ;)

ভয় নাই, ভয় নাই
রইলাম মিত্র চুপি চুপি
সাথে যে বান্দর মানুষরূপী ;)
এ কথা দেব বলে, অতো বোকা নই!

আগডুম নয় সে, প্রেরণাই প্রেরণা
সময় নিয়ে লিখলেন এত
ভরল মন কৃতজ্ঞতা ও আনন্দে যত
কোন ভাষায় কি বলা উচিৎ জানিনা।

যাই নয়, বলুন আসি
থাকলাম অপেক্ষায়
পরের কোন পোস্টে
দেখা হোক মজ মাস্তিতে!

প্রিন্সেস? ঠিক বলেছেন তো
হ্যাঁ আমি তা বটে :P
লাভ নেই ফ্লার্টিং করে এত
আপনি সেই লাকি প্রিন্স নন মোটে! :D

১৯| ১৭ ই জুলাই, ২০১৮ সকাল ১০:২২

নাজিম সৌরভ বলেছেন: প্রবাসী দম্পতিদের সাইকোলজি নিয়ে দারুন একটা মত প্রকাশ করেছেন। তবে ব্যতিক্রম তো সব ক্ষেত্রেই আছে, আমার এক আপু ডিভি ভিসা পেয়ে হাজবেন্ড সহ আমেরিকা গিয়েছিলেন। সেখানে তিন বছরের মাথায় উনাদের পরিবার ভেংগে যায়। অবশ্য আপু এখন একদম ইয়াং একটা ছেলেকে বিয়ে করে সুখে আছেন। :)

বরাবরের মত ভালো লাগলো! ভালো থাকুন।

১৭ ই জুলাই, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৩০

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: তবে ব্যতিক্রম তো সব ক্ষেত্রেই আছে
এক্স্যাক্টলি। প্রবাসেও যে সব নারী সুখ খুঁজে পেয়েছেন তা নয়। আমি ব্যাস মেজোরিটির কথা বলছি। আর এখানে প্রবাসী দম্পতিদের মধ্যেও নানা কারণে বিয়ে ভাঙ্গে। তবে আপনার পরিচিত আপুটি সুখে আছেন, সেটাই প্রধান ব্যাপার। দুটো মানুষের সমাজের কথা ভেবে কম্প্রোমাইজ করে একে অপরকে সহ্য করে অসুখী হবার চেয়ে, বিচ্ছেদে যদি সুখ খুঁজে পায় তবে কার কি ক্ষতি হয়?

মজার ব্যাপার, আমাদের দেশে এবং হয়ত পৃথিবীর অনেক দেশেই এমন হয়, একটা মেয়েকে ধরেবেঁধে জোর করে একটা ছেলের সাথে বিয়ে দেয়। এগুলো সেটেলড ম্যারেজ নয় ফোর্সড ম্যারেজ হিসেবে পরিচিত এবং ইল্লিগ্যাল। এভাবে বিয়ের পরে দুজনের বনিবনা না হলে দুই পরিবার ও সমাজ আবারো বিয়েটা টিকিয়ে রাখতে ফোর্স করে! মানে পুরো জীবনটাই অন্যের ডেফিনেশন অনুযায়ী সুখ খুঁজতে গিয়ে ব্যয় হয়ে যায়। মানুষ কেন বোঝে না জীবন একটাই? কেন একটা মানুষ আরেক মানুষের জীবন নিয়ে খেলে বুঝি না।

ভালো লাগায় উৎসাহিত হলাম। আন্তরিক ধন্যবাদ।
শুভকামনা।

২০| ১৭ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৮:০৬

সম্রাট ইজ বেস্ট বলেছেন: ভালো ভালো! আপনার বাবার জেলাসির ব্যাপারটা সত্যিই উপভোগ্য! স্ত্রী কারো কথায় হাসলেই যদি কেউ জেলাসি ফিল করে তাহলে বুঝতে হবে স্ত্রীর প্রতি তার ভালোবাসা অপরিসীম।

হুম! সামু পাগলাকে সাবধানে থাকতে হবে। ওদেশের ছেলে-ছোকরাদের সাথে মেশার ব্যাপারে সাবধান! :P

১৭ ই জুলাই, ২০১৮ রাত ৮:২০

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: আপনার সাথে আড়ি ঐ পোস্টে, এই পোস্টে ঠিক আছে, তাই স্বাভাবিক ভাবে কথা বলছি। হুমম। ;)

হ্যাঁএএএ, জেলাসির ব্যাপারটা অসাধারণ মিষ্টি! খুব বেশি হলে যদিও সম্পর্কে তিক্ততা এসে যায়, তবে ঠিক পরিমাণে হলে ভালোবাসা বাড়ায়।

হাহা, সব দেশেই পুরুষমানুষ তিন প্রকার, ভালো, খারাপ, আর বেসম্ভব খারাপ। ;) যেকোন দেশেই সাবধানে থাকা উচিৎ বোধ করি।

২১| ১৯ শে জুলাই, ২০১৮ রাত ১২:৩৮

নিওফাইট নিটোল বলেছেন: হুবহু না হলেও ঠিক এরকমই ভালোবাসাময় খুনসুটি আশা করেছিলাম আপনার বাবা-মার জীবনে........কারণ এটা খুবই স্পষ্ট যে এক ক্লাসে নানারকরম স্টুডেন্ট থাকলে টক-ঝাল-মিষ্টি ঘটনা ঘটবেই......তার ওপর এই পড়ন্ত বয়সে মসলা যেন একটু বেশি-ই পড়ে যায় ঘটনার ঘনঘটায় =p~

পড়ুয়া ছেলেরা সব দেশেই ভালো হয়!
তাই নাকি? কানাডায় তাই-ই হয় নাকি? পড়ুয়ারাই কিন্তু সবথেকে শয়তান হয়- আঁতলামির আড়ালে ঢাকা থাকে সব :D

পথচলার সাথী, অন্য পথে গিয়ে দাড়িয়ে থাকে
সত্যিই এর মতো দুর্ভাগা সংসার আর হয় না......যার হাত ধরে জীবন পাড়ি দেয়ার কথা, তার হাতই যদি প্রয়োজনে কাছে না পাওয়া যায় তবে জীবনধারণ অসম্ভব হয়ে ওঠে........আমি খুব কাছ থেকেই এমন জীবন দেখেছি......এমন জীবনে যখন বদলে যাওয়ার সুর ওঠে, তখন হয় অনেক দেরি হয়ে যায়, না হলে সংসারই টেকে না। পুরুষের অসনহশীলতা যেমন আদিম, তেমনি নব্য হচ্ছে নারীর অসহিষ্ণুতা- জীবনসঙ্গীকে নিয়ে সে এত দূরে যেতে চায় যেখানে হয়তো সংসার থাকে কিন্তু বন্ধন না, ঐশ্বর্য থাকে সুখ না........দু'টোরই পরিবর্তন জরুরি- নিজ থেকেই করতে হবে, নিজেকেই বুঝতে হবে :|

টোনা-টুনিময় শুভেচ্ছা থাকল.......আপনার নতুন দুষ্টুমির অপেক্ষায় :D

১৯ শে জুলাই, ২০১৮ সকাল ১১:১৫

সামু পাগলা০০৭ বলেছেন: হেই মাস্টারসাহেব!

বাহ বাহ! লেখার আগেই আশায় আশায় সব এসে যায়! ভালোই! ;)

পড়ন্ত নয়, তাদের উড়ন্ত বয়স চলছিল তখন! :)

সেটা মায়ের ধারণা ছিল, আসলে কি হয় তা পরে আসবে। তবে হ্যাঁ কথা ঠিক। পড়ুয়ারা খুব শান্ত ভাবে বসেও প্রচুর দুষ্টুমি করতে পারে। তাদের সেই মেধা থাকে, কিছু না বলেও অনেককিছু বলে দেবার মেধা!

আমিও খুব কাছ থেকে এসব কাপলদের দেখেছি। আমাদের দেশের ডিভোর্স রেট অন্য নানা দেশের তুলনায় কম সেটা নিয়ে সবার গর্বের শেষ নেই। কিন্তু অফিসিয়ালি না ভেঙ্গেও কত সম্পর্ক ভেঙ্গে যাচ্ছে, সেটার যদি হিসেব থাকত তবে মানুষ আসল কাহিনী বুঝত।

পুরুষের অসনহশীলতা যেমন আদিম, তেমনি নব্য হচ্ছে নারীর অসহিষ্ণুতা
অসাধারণ! আজকাল বিয়ে ভাঙ্গার একটি বড় কারণ হচ্ছে নারীর হুট করে এটা বোঝা যে সে নারী! একজন মানুষ! তার স্বামীর অন্যায় সহ্য করার কোন প্রয়োজন নেই! বেশিরভাগ ডিভোর্স মেয়েরাই ফাইল করছে। সবাই যে ভালো তা নয়, অনেকে পরকীয়া করে সংসার ভাঙ্গছে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি খুব সহজ একটা হিসেব। পুরুষ মানুষটি যদি অসহনশীল হয়, আমি কেন হবো না? পুরোন দিনে নারীরা অনেককিছু মুখ বুজে সহ্য করে নিত অন্যায়কেই সমাজের ন্যায় মনে করে। সমাজ টিকিয়ে রাখতে আত্মসম্মানবোধকে বিকিয়ে দিত। কিন্তু এখন আর আদিম হলে পুরুষের চলবেনা। পুরুষ শব্দটি শুনলেই যেন মনে হয় আধুনিক, উন্নত, উদার, ভদ্র চিন্তার এক জাতির কথা! ছোট থেকে সেভাবেই গড়ে তুলতে হবে ছেলেদেরকে। আর মেয়েদেরকেও ফেমিনিস্ট নয়, হিউম্যানিস্ট বানাতে হবে।

নিজ থেকেই করতে হবে, নিজেকেই বুঝতে হবে
এটাই আসল কথা। দুটো মানুষের মধ্যের সমস্যা অন্যেরা বুঝতে পারেনা। সবাইকে সম্পর্কের ব্যাপারে সচেতন হতে হবে। বারান্দায় রাখা গাছের মতো প্রতিদিন পানি দিতে হবে।

হুমম, তখন একা করেছিলাম দুষ্টুমিটা, এবারে সবার সাথে শেয়ার করব। তাই আমিও অপেক্ষায় থাকলাম দুষ্টুমিতে আপনাদের সংগ পেতে....

শুভেচ্ছা আপনার জন্যেও।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.