| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
এক গ্রামে প্রায়ই রাতে চুরি সংঘটিত হত। চুরির ঘটনা নিয়ে গ্রামবাসী মহা বিরক্ত। সকলের ঘুম হারাম হয়ে গেছে এমন অবস্থা। নিরুপায় গ্রামবাসী চোরকে ধরতে হাঁসফাঁস হয়ে যাচ্ছে। পাহারা বসাল, অনেকেই রাত জেগে নিজেই পাহারাদার হলেন, তারপরও চুরি কমে না। বরঞ্চ দিন দিন বাড়তেই লাগল। গ্রামবাসীও বিরক্ত, পাহারাদার, পুলিশও বিরক্ত। কারণ সকলের ঘুম হারাম করেছে সংঘবদ্ধ চোরের দল। "কেউ পেটের দায়ে চুরি করে, কেউ উপরি উপার্জনের জন্য।" এত আয়োজনের পরও চুরি হয়। কয়েকজন ব্যক্তিকে চুরির জন্য সন্দেহ করলেও প্রমাণ না থাকায় কেউ তাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে পারে না গ্রামবাসী। মহামুশকিল!!
নতুন বুদ্ধি উদয় হল প্রশাসকের মাথায়। সবাই এলো প্রশাসকের ডাকে। সবার মুখে উৎকণ্ঠা কে সেই চোর? প্রশাসক বলল আমি জানতে পেরেছি কে সেই চোর। সবার চোখ বড় বড় হয়ে গেল। কিরে বাবা প্রশাসক কেমনে বের করে ফেলল?? প্রশাসক তারপর বলে আমি আরো কয়েকদিন সময় নিচ্ছি পুরো চোরের দলের নাম প্রকাশ করতে তবে এটা ঠিক যে চোর আপনাদের মধ্য থেকে কেউ একজন। এখন সবাই চলে যান।
সবাই চিন্তা করতে করতে চলে গেল। কিন্তু একজনের মন ভীষণ ভারাক্রান্ত হয়ে গেল। সে কোনভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলো না যে সে চুরির দায়ে ধরা খাবে। সমাজে তাঁর এতো সম্মান সব কিছু ধুঁইয়ে মুছে চলে যাবে চুরির ঘটনা সকলে জানার পর। দিন গেল রাত গেল মুখে কোন খাবার ঢুকল না সম্মানিত চেয়ারম্যানের মুখ দিয়ে। ভাবলেন চোরের নেতা হয়ে মস্ত বড় ভুল করলেন। কি করা যায়!! কি করা যায়! সিগারেটের উপর সিগারেট। টেনশন কমছেই না। কারণ এলাকাবাসী চিন্তার মধ্যে আনে নাই চেয়ারম্যানই চোরের নেতা। ইস কি মুশকিল!! মান-ইজ্জত সব ছাই হয়ে যাবে। সে রাতে একটা উপায় খুঁজে পেল চোরম্যান।
পরের এলাকাবাসীদের খবর দিল। তাঁর বাড়ির সামনে এলাকাবাসীর ঠাঁসাঠাসি অবস্থান। কেন ডেকেছে চেয়ারম্যান সাহেব। চেয়ারম্যান সাহেব ঘরের দরজা খুলে বাহিরে এসেই হাউমাউ কান্না শুরু করে দিল। সবাই অবাক আরে কি হল?? চেয়ারম্যান কান্দে কেন?? সবার মনও ভারী হয়ে গেল চেয়ারম্যানের কান্নাকাটি দেখে। ভারী কন্ঠে চেয়ারম্যান বলল, "আমারে আপনারা মাফ কইরা দেন, আমি অনেক বড় ভুল কইরা ফালাইছি। ও বাপরা, ও মা'রা আমারে মাফ কইরা দেন।" সবাই চিন্তা করতে লাগল কিরে ঘটনা কি? কিছুক্ষণ পর চেয়ারম্যান বলে,"আপনাগো বারিত চোর ডুকসে আমারে জানাইয়া, আমি জানতাম চুরি হইব।চুরি করসিল ফকির, করিমইয়্যা, কামালইয়্যা, তারা আমারেও ভাগ দিসে।" সবাই এই কথা শুনে একদম চুপ হয়ে গেল। যেন মাথায় বাজ পড়ল। চেয়ারম্যান কান্না করতে করতে ভিতরে চলে গেল।
সবাই ভাবতে লাগল আহারে চেয়ারম্যান আমাদের জন্য কত কি করছে। স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, রাস্তাঘাট, হাসপাতাল। চেয়ারম্যান আসলেই ভালো মানুষ আছিল কেন যে এই কামডা করল? মনরে বুঝাইয়া কুলাই উঠতে পারতিছিনা। বেটা ভালা মানুষ আছিল। তারে ক্ষমা করে দিলেই তো হয় এত জেল ফেল দিয়া লাভ কি। সে তো নিজেই কইল চুরি আর কইরব না।
কি কও মনা হেরে ক্ষেমা দিয়া কি লাভ ওইবো?? আরে কইস না ফারুক এগো রক্তে আছে খালি টেকা আর টেকা। একবার চেয়ারম্যান হইসে তারপর থেইক্কা টেকা আর টেকা। দরকার পইরলে তো গ্রামডিও বেইচ্চা দিবো। চোরের গুষ্ঠিডাই এরম। ঠিক কইছস মনা এরে জেলের ভাত খাওয়ান দরকার আছে। তারপর হালায় বুইজবো কি ভুলডা হে করসে। মাফ কইরা দিলে হালায় আবার চুরি করোন শুরু করব। চল এক্ষুনি থানায় চল। হিতার নামে মামলা করি।
ঠিক এরকম কাজটাই করেছে আশরাফুল। দলে চান্স পাওয়ার আগে ভালোই ছিল। যখন টাকার গন্ধ পেল নিজেকে আর সৎ রাখতে পারলো না। চুরি যখন করছস শাস্তি পেতেই হবে। চোর যদি চুরির পর ধরা খাওয়ার পর আমি আর চুরি করুম না বলে পাবলিকের ধোলাই থেকে বাচঁতে চায় তাহলে কি আপনার সেই চোরের প্রতি ক্ষমার অনুভুতি উদয় হবে? না কখনই না। ঠিক সেইভাবে আশরাফুলসহ অন্যান্য চোরাদের আজীবন ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করে উপযুক্ত আইনী শাস্তি প্রদান করা হোক।
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই জুন, ২০১৩ রাত ১১:০৪
রাজীব নুর বলেছেন: হুম।